শীর্ষ সংবাদ

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় দিন:রাষ্ট্রপতি

আজ রোববার (৭মার্চ)রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ জানান,বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ কেবল বাঙালির নয়, বিশ্বব্যাপী স্বাধীনতাকামী মানুষের জন্য প্রেরণার চিরন্তন উৎস। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তিকামী জনগণকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ওই ভাষণ ছিল এক মহামন্ত্র। একটি ভাষণ কীভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে আজ দেয়া এক বাণীতে এসব কথা বলেন তিনি। রাষ্ট্রপতি বলেন, ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে একটি অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এ দিনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে বজ্রকণ্ঠে যে কালজয়ী ভাষণ দিয়েছিলেন, তার মধ্যে নিহিত ছিল বাঙালির মুক্তির ডাক। সরকার এ দিনটিকে ‘ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ দিবস’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যা একটি যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত। এ দিনে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে, যাঁর অনন্য সাধারণ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে অর্জন করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাধীনতা বাঙালির শ্রেষ্ঠ অর্জন। তবে তা একদিনে অর্জিত হয়নি। মহান ভাষা আন্দোলন থেকে ১৯৭১ এর চূড়ান্ত বিজয় অর্জনের এই দীর্ঘ বন্ধুর পথে বঙ্গবন্ধুর অপরিসীম সাহস, সীমাহীন ত্যাগ-তিতিক্ষা, বলিষ্ঠ নেতৃত্ব এবং সঠিক দিকনির্দেশনা জাতিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছে দেয়। ১৯৭০ এর সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলেও পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ক্ষমতা হস্তান্তরে টালবাহানা শুরু করে। তিনি বলেন, এমনি অবস্থায় বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে ১ মার্চ থেকে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে অসীম সাহসিকতার সাথে রেসকোর্স ময়দানে লাখো-জনতার উদ্দেশ্যে যে ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন, তা ছিল মূলত বাঙালি জাতির মুক্তির সনদ। অনন্য বাগ্মিতা ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞায় ভাস্বর ওই ভাষণে বাঙালির আবেগ, স্বপ্ন ও আকাঙ্খাকে একসূত্রে গেঁথে বঙ্গবন্ধু বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম’, যা ছিল মূলত স্বাধীনতার ডাক। ঐতিহাসিক সেই ভাষণের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ বঙ্গবন্ধু বাঙালি জাতির বহুকাঙ্খিত স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। এরপর দীর্ঘ ন’মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে জাতি অর্জন করে স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ। আবদুল হামিদ বলেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ পৃথিবীর কালজয়ী ভাষণগুলোর অন্যতম। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভেঙে মুক্তিকামী জনগণকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে ঐ ভাষণ ছিল এক মহামন্ত্র। একটি ভাষণ কীভাবে গোটা জাতিকে জাগিয়ে তোলে, স্বাধীনতার জন্য মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উৎসাহিত করে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ তার অনন্য উদাহরণ। ইউনেস্কো বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের গুরুত্ব উপলব্ধি করে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর এই ভাষণকে ‘ওয়ার্ল্ড ডকুমেন্টারি হেরিটেজ’ এর মর্যাদা দিয়ে মেমোরি অব দ্যা ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করেছে। বাঙালি হিসেবে এটি জাতির বড় অর্জন। এ ভাষণের কারণে বিশ্বখ্যাত নিউজউইক ম্যাগাজিন ১৯৭১ সালের ৫ এপ্রিল সংখ্যায় বঙ্গবন্ধুকে ‘পয়েট অব পলেটিক্স’ হিসেবে অভিহিত করে। তিনি বলেন, ‘স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশকে একটি সুখী-সমৃদ্ধ ‘সোনার বাংলা’য় পরিণত করাই ছিল বঙ্গবন্ধুর আজীবনের লালিত স্বপ্ন। মহান এ নেতার সে স্বপ্নপূরণে আমাদের অব্যাহত প্রচেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। বাংলাদেশকে ২০৪১ সালে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশে পরিণত করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘রূপকল্প-২০২১’ ও ‘রূপকল্প-২০৪১’ ঘোষণা করেছেন। বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তীর সন্ধিক্ষণে এসব কর্মসূচি বাস্তবায়নে আমি দলমত-নির্বিশেষে সকলকে নিজ-নিজ অবস্থান থেকে অবদান রাখার আহ্বান জানাই।’

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন

আজ রোববার(৭ মার্চ)ঐতিহাসিক ৭ মার্চ উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আজ সকাল ৭টায় ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। সেখানে বঙ্গবন্ধুর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কিছু সময় নীরবে দাঁড়িয়ে থাকেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় জাতির পিতার ছোট কন্যা এবং প্রধানমন্ত্রীর ছোট বোন শেখ রেহানাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া মন্ত্রিপরিষদের সদস্য ও দলের সিনিয়র নেতারাও উপস্থিত ছিলেন। দলীয় সভাপতির শ্রদ্ধা জানানোর পর আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে লেখা গৌরবের এক অনন্য দিন। ৫০ বছর আগের এ দিন জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণে গর্জে উঠেছিল উত্তাল জনসমুদ্র। এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সংগঠন ৭ মার্চ উপলক্ষে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। দিনটি উদযাপনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

কাউন্সিলর নুরুল আমিনের অসুস্থ ছেলেকে দেখতে গেলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন

১২ নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ এর আহবায়ক ও নবনির্বাচিত ওয়ার্ড কাউন্সিলর নূরুল আমিনের পুত্র শিক্ষানবিশ আইনজীবী অসুস্থ জুনায়েদ আমিনকে দেখতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন হাসপাতালে গেলেন চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগ এর সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক চসিক মেয়র জননেতা আ জ ম নাছির উদ্দীন।এসময় তিনি তার সাথে দীর্ঘক্ষণ কথাবার্তা বলেন | তিনি কাউন্সিলর আমিনের সাথে সন্তানের চিকিৎসা নিয়ে নানামুখী আলাপ আলোচনা করেন |

ঝালকাঠিতে পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম নিলেন বর্তমান মেয়র

ঝালকাঠি প্রতিনিধিঃআসন্ন ঝালকাঠি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী বর্তমান মেয়র আলহাজ্ব মোঃ লিয়াকত আলী তালুকদার দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন। শনিবার বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেন তিনি। এ বিষয়ে ঝালকাঠি শহর আওয়ামী লীগ সভাপতি ও বর্তমান মেয়র আলহাজ্ব মোঃ লিয়াকত আলী তালুকদার জানান, কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ডের কাছে ঝালকাঠি পৌরসভার মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসাবে এককভাবে তার নাম প্রস্তাব প্রেরণ করে জেলা ও পৌর আ’লীগ। সে অনুযায়ী ঝালকাঠি আওয়ামী লীগের অভিভাবক ও জাতীয় নেতা আলহাজ্ব আমির হোসেন আমু এমপির সাথে পরামর্শ করে তিনি দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহকালে জেলা আওয়ামী লীগের কোষাধ্যক্ষ আলহাজ্ব মু: মুনিরুল ইসলাম তালুকদারসহ ঝালকাঠি জেলা ও পৌর আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।

ঠাকুরগাঁওয়ে জনসেবা ক্লিনিক সিলগালা ও আর্থিক জরিমানা

ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ আজ শনিবার (৬ মার্চ)অবৈধভাবে পরিচালনার দায়ে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার গড়েয়া এলাকার জনসেবা ক্লিনিক এন্ড ডায়াগনষ্টিক সেন্টার জরিমানা করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। আজ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এনডিসি আব্দুল কাইয়ুম খান এ আদেশ প্রদান করেন। এ সময় সদর হাসপাতালের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফারুক হোসেন, ড্রাগ সুপার জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিতে গিয়ে অনুমোদনের কোন কাগজপত্র না পেয়ে এবং অবৈধভাবে ক্লিনিক পরিচালনার দায়ে ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও ক্লিনিকটি সিলগালা করে দেয়। ইউনিয়নের কিসামত তেওয়ারীগাঁও মুন্সিপাড়ায় মূল সড়কের পাশেই গড়ে উঠা জনসেবা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দীর্ঘদিন থেকে অবৈধভাবে চিকিৎসা সেবার নামে মানুষের সাথে প্রতারনা করে আসছিল। প্রতিষ্ঠানটির নেই কোন লাইসেন্স, নিজস্ব ভবন, পর্যাপ্ত যন্ত্রপাতি ও দক্ষ জনবল। মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যাক্ট (১৯৮৩) অনুযায়ী ক্লিনিক ও ডায়াাগনস্টিক সেন্টার গড়ে তুলতে হলে প্রথম শর্ত হলো নিজস্ব ভবন থাকতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র,মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের সনদপত্র, পৌরসভা/ইউনিয়নের বর্জ ব্যবস্থাপনা চুক্তিপত্র, নিয়োগ প্রাপ্ত ২ জন মেডিকেল অফিসার, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ৪ জন নার্স, প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত টেকনিশিয়ান, সুইপার, আয়া, বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সম্মতি পত্র ও প্রয়োজনীয় আধুনিক সরঞ্জাম- এর একটিও ছিল না ওই ক্লিনিক ও ডায়াগনষ্টিক স্টোরটিতে।

ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ মার্চ উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

আব্দুল কাদের জিলানী ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণ উপলক্ষে ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিয়ে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ, চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। আজ শনিবার জেলা পরিষদ অডিটরিয়ামে ঠাকুরগাঁও জেলা প্রশাসন ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমি এই কর্মসূচি আয়োজন করেছে। এতে বিভিন্ন প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়েল অসংখ্য শিক্ষার্থীরা অংশ নেয়। এ সময় জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা জবেদ আলী, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারি শিক্ষকসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।

গাজীপুরে কারখানার গুদামে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১ আহত ১২

আতিকুর রহমান আরতিক গাজীপুর প্রতিনিধিঃগাজীপুরের শ্রীপুরে একটি কারখানার কেমিক্যাল গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে একজন নিহত ও ১২ জন আহত হয়েছেন। আজ উপজেলার দক্ষিণ ভাংনাহাটি এলাকাস্থ ঢাকা গার্মেন্টস এন্ড ওয়াশিং লিমিটেড নামের কারখানার গুদামে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। সূত্রে জানান,শ্রীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. ইমতিয়াজ মাহফুজ জানান, নিহতের নাম মাসুম সিকদার। তাঁর বাড়ি ঢাকার দোহারের কুশনহাটি গ্রামে। তিনি ওই কারখানায় দৈনিক হাজিরার ভিত্তিতে কাজ করতেন। তিনি আরও জানান, ওই গুদামে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। মুহূর্তেই নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে আগুন পুরো গুদামে ছড়িয়ে পড়ে। এসময় আগুন নেভাতে গিয়ে কারখানার শ্রমিকদের কয়েকজন আহত এবং অসুস্থ হলে তাদের উদ্ধার করে ময়মনসিংহ ও স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়। এসময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়। গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-সহকারি পরিচালক মো. আব্দুল হামিদ জানান, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই কারখানা কর্তৃপক্ষ নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নিভিয়ে ফেলে। তবে এতে কয়েকজন আহত হওয়ার খবর পেলেও কেউ মারা গেছেন কি-না, তা তিনি নিশ্চত নন বলে জানান। গাজীপুর পুলিশ সুপার (ভারপ্রাপ্ত) একেএম জহিরুল ইসলাম জানান, অগ্নিকাণ্ডে মাসুম শিকদার নামে এক শ্রমিক মারা গেছেন। মরদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে

জনগণের সাড়া না পেয়ে বিএনপি ইউনিয়ন নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে :সেতুমন্ত্রী

আজ শনিবার (৬ মার্চ) বিএনপির ৭ মার্চের কর্মসূচি ভণ্ডামি ছাড়া কিছুই নয় বলে জানান,আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।আজ আওয়ামী লীগের সম্পাদকমণ্ডলীর সঙ্গে ঢাকা মহানগর উত্তর, দক্ষিণ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের যৌথ সভায় এ কথা বলেন তিনি। ৭ মার্চের কর্মসূচি সফল করতে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে এ যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সেতুমন্ত্রী জানান,৭ মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণকে নিষিদ্ধ করে এখন বিএনপি ৭ মার্চের কর্মসূচি পালন করছে। এটা ভণ্ডামি ছাড়া আর কিছুই না।’ এ সময় রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশে একজন নেতার ঔদ্ধত্যপূর্ণ বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেন তিনি। ওবায়দুল কাদের বলেন, জনগণের সাড়া না পেয়ে বিএনপি এখন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে। এখন তারা বুঝতে পেরেছে, জনগণ তাদের প্রত্যাখ্যান করেছে।’ এ সময় বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী বাস্তবায়ন জাতীয় কমিটির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ২৬ মার্চের কর্মসূচি নেয়া হবে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।

৭ই মার্চের ভাষণে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র বাঙালিতে রূপান্তরিত হয়েছিল : তথ্যমন্ত্রী

আজ শনিবার (৬ মার্চ)বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানান,বাঙালি একটি নিরস্ত্র জাতি ছিল, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের একটি ভাষণের মাধ্যমে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র বাঙালিতে রূপান্তরিত হয়েছিল। বঙ্গবন্ধু তাঁর ভাষণে বললেন, তোমাদের যার যা কিছু আছে তাই নিয়ে প্রস্তুত থেকো, শত্রুর মোকাবেলা করতে হবে। সেদিন নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র বাঙালিতে রূপান্তরিত হয়েছিল।আজ ঐতিহাসিক ৭ই মার্চ উপলক্ষে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের বঙ্গবন্ধু হলে অনুষ্ঠিত সভায় আলোচক হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রাবন্ধিক ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক গবেষক মো. শামসুল হক। উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এমএ সালামের সভাপতিত্বে ও যুগ্ন সম্পাদক দেবাশীষ পালিতের সঞ্চালনায় আলোচনায় অংশ নেন চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শেখ মো, আতাউর রহমান, সহ সভাপতি অধ্যাপক মো. মঈন উদ্দিন, এডভোকেট ফখরুদ্দিন চৌধুরী, আবুল কালাম আজাদ, এটিএম পেয়ারুল ইসলাম, মঈন উদ্দিন রাশেদ, জসিম উদ্দিন, আফতাব উদ্দিন আহমেদ, স্বজন কুমার তালুকদার, আবদুল্লাহ আল বাকের ভুইঁয়া, উত্তর জেলা কৃষক লীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী প্রমুখ। তিনি জানান, বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ এমন একটি ভাষণ ছিল, যার লাঠি আছে সে লাঠি নিয়ে বেরিয়ে পড়েছিল, যার ঘরে দা আছে, লাইসেন্স করা বন্দুক আছে তা নিয়েই বেরিয়ে পড়েছিল। যে ভাষণ আজও যে কেউ শুনলে যেভাবে উদ্দীপ্ত হয়, গায়ের লোম যেভাবে খাড়া হয়ে যায়, এমন কোন নেতার ভাষণ বিশ্ব ইতিহাসে প্রকৃতপক্ষে কেউ দেননি। তথ্যমন্ত্রী বলেন,বঙ্গবন্ধুর মতো এমন আবেদনময় ও উদ্দীপ্ত করার ভাষণ পৃথিবীর ইতিহাসে কেউ দেননি। ৭ই মার্চের ভাষণে বঙ্গবন্ধুর কোন নোট ছিল না, তিনি একনাগাড়ে বলে গেছেন। পৃথিবীতে অনেক ভাষণ আছে অনেক অর্থবহ। কিন্তু বঙ্গবন্ধু তাঁর এ ভাষণে একটা নিরস্ত্র জনগোষ্ঠীকে সশস্ত্র জনবাহিনীতে রূপান্তর করে প্রকৃতপক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণের পর পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থার রিপোর্টে লেখা হয়েছিল, চতুর শেখ মুজিব প্রকৃতঅর্থে পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করে দিয়েছে। কিন্তু স্বাধীনতা ঘোষণা করার জন্য তাকে অভিযুক্তও করা যাচ্ছে না। এমনভাবে বঙ্গবন্ধু বললেন, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম। এর মাধ্যমে সেদিন রিপোর্টার ও তরুণদের উদ্দীপ্ত করেছিল এই ভাষণ। এখনো এই ভাষণ শুনলে মানুষ থমকে দাঁড়ায়, এজন্য বিশ^ ইতিহাসে এটি একটি বিরল ভাষণ। বঙ্গবন্ধুর এই ভাষণ অসাধারণ ও অনন্য বিধায় জাতিসংঘের বিশ^ ঐতিহ্যের প্রামাণ্য দলিল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচুর অপপ্রচার চালানো হয় জানিয়ে ড. হাছান মাহমুদ দলীয় নেতাকর্মীদের সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনের প্রচার বেশি করার পরামর্শ দিয়ে বলেন, বড়বড় স্লোগান ও ছবি তুলে ফেসবুকে দেয়ার চেয়ে বেশি প্রয়োজন হচ্ছে অপপ্রচারগুলোর বিরুদ্ধে সুপ্রচার চালানো, উন্নয়ন ও অর্জনের প্রচার করা। সরকার ও আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপ্রপচারের বিরুদ্ধে শেখ হাসিনার উন্নয়ন ও আওয়ামী লীগের অর্জনগুলো তুলে ধরা। আমরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারের ভালো প্রচার ও অপপ্রচারের বিরুদ্ধে সোচ্চার কর্মীদেরও মূল্যায়ন করবো। বিএনপি ৭ই মার্চ পালন করবে ঘোষণা দেয়ায় তাদের অভিনন্দন জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, এতদিন পরে তাদের বোধোদয় হলো। মির্জা ফখরুল সাহেব এটিও বলেছেন ৭ই মার্চ ইতিহাস, এই ইতিহাসকে আমাদের স্বীকার করতে হবে। আমি ফখরুল সাহেবদের বলবো বাকি যে ইতিহাস বিকৃতি করেছিলেন, সেটাও ভুল স্বীকার করে বাকি ইতিহাসগুলোও স্বীকার করে নেন। তাহলে জাতি আপনাদেরকে সাধুবাদ দিবে। তিনি বলেন, বিএনপির এখন নানা ধরণের মিছিল আছে : দৌড় মিছিল, চোরাগোপ্তা মিছিল, হঠাৎ মিছিল। গতকাল বিএনপির যুগ্ন মহাসচিব রিজভি আহমেদ নাকি একটি চোরাগোপ্তা মশাল মিছিল করেছেন। তাদের বলবো এভাবে চোরাগোপ্তা মিছিল ও মানুষের ওপর চোরাগোপ্তা হামলা করে লাভ হবে না। সত্যিকার অর্থে জনগণের কাছে যদি যেতে চান তাহলে ইতিহাসকে মেনে নিন, যেভাবে ৭ই মার্চকে মেনে নিয়েছেন। এতদিনের অপরাজনীতির জন্য জনগণের কাছে ক্ষমা চান। বিএনপি ও তাদের মিত্ররা মুশতাক আহমেদের মৃত্যুর জন্য মায়াকান্না করছেন, তাঁর মৃত্যুতে আমি নিজেও ব্যথিত। কিন্তু মুশতাক আহমেদ কেন গ্রেফতার হয়েছেন প্রশ্ন রেখে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তিনি করোনা মহামারি নিয়ে জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়াতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা ধরণের পোস্ট দিচ্ছিলেন। একটি পেজ থেকে নানাভাবে গুজব ছড়াচ্ছিলেন, সেই কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। জামিন কেন পাননি, সেটি কোর্ট বলতে পারবে, এই এখতিয়ার কোর্টের। তাঁর মৃত্যুটা স্বাভাবিক মৃত্যু, তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। এভাবে ছেলেধরা নিয়েও গুজব ছড়ানো হয়েছিল। আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের দেশে যখন কোন অর্জন হয়, আমরা যখন মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে জাতিসংঘের চূড়ান্ত সুপারিশ পেলাম, তখন একটি পক্ষ লেগে গেল অন্য বিষয় নিয়ে মাঠ গরম করার জন্য। অথচ এটি নিয়ে একটি অভিনন্দন তাদের মুখ থেকে আসেনি। এটি তাদের একপেশে ও চিন্তার দৈন্যতা। দেশের অর্জন যে তাদের চোখে পড়ে না, কানে যায় না সেটিরই বহিঃপ্রকাশ। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু চেয়েছিলেন একটি উন্নত রাষ্ট্র রচনা করার জন্য। সেই স্বপ্ন পূরণ করে যেতে পারেননি বঙ্গবন্ধু। তিনি যদি বেঁচে থাকতেন আজকে মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরের আগেই বাংলাদেশ নাম লিখাতো উন্নত দেশের কাতারে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ সাঁই সাইঁ করে উন্নত দেশের কাতারে নাম লেখাতে এগিয়ে যাচ্ছে। স্বল্প আয়ের দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হয়েছে। আমাদের সুবর্ণ জয়ন্তী এবং বঙ্গবন্ধুর জন্মশত বার্ষিকীর বছরে জাতিসংঘ ফাইনাল রিকমেন্ডেশন দিয়েছে বাংলাদেশকে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে। এটি আমাদের দেশের জন্য জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সবচে’ বড় অর্জন।

আগামীকাল ঐতিহাসিক ৭ মার্চ

আজ শনিবার(৬মার্চ) আগামীকাল ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে এক অনন্য দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) এক বিশাল জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের ডাক দেন।এ দিন লাখ লাখ মুক্তিকামী মানুষের উপস্থিতিতে এই মহান নেতা বজ্রকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব, এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয়বাংলা।’ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের একাত্তরের ৭ মার্চ দেয়া ঐতিহাসিক ভাষণ পরবর্তীতে স্বাধীনতার সংগ্রামের বীজমন্ত্র হয়ে পড়ে। একইভাবে এ ভাষণ শুধু রাজনৈতিক দলিলই নয়, জাতির সাংস্কৃতিক পরিচয় বিধানের একটি সম্ভাবনাও তৈরি করে। বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ৭ মার্চের ভাষণকে ২০১৭ সালের ৩০ অক্টোবর বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেয় জাতিসংঘের শিক্ষা বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো। একাত্তরের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর এই উদ্দীপ্ত ঘোষণায় বাঙালি জাতি পেয়ে যায় স্বাধীনতার দিক-নির্দেশনা। এরপরই দেশের মুক্তিকামী মানুষ ঘরে ঘরে চূড়ান্ত লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিতে শুরু করে। বঙ্গবন্ধুর এই বজ্রনিনাদে আসন্ন মহামুক্তির আনন্দে বাঙালি জাতি উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। যুগ যুগ ধরে শোষিত-বঞ্চিত বাঙালি ইস্পাত কঠিন দৃঢ়তা নিয়ে এগিয়ে যায় কাক্সিক্ষত মুক্তির লক্ষ্যে। ধর্মীয় চিন্তা, সাম্প্রদায়িকতার মানসিকতা ও দ্বি-জাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে ১৯৪৭ সালে গঠিত পাকিস্তান রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ২৩ বছরের আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্যদিয়ে বাঙালি জাতিসত্ত্বা, জাতীয়তাবোধ ও জাতিরাষ্ট্র গঠনের যে ভিত রচিত হয় তারই চূড়ান্ত পর্যায়ে বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর ছাত্র-কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের বাঙালি স্বাধীনতা অর্জনের জন্য মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি গ্রহণ করে। বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে ৯ মাসের সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ী হয়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় ছিনিয়ে আনে বাঙালি জাতি। এই বিজয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্ব মানচিত্রে জন্ম নেয় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ। ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধুর ভাষণে গর্জে ওঠে উত্তাল জনসমুদ্র। লাখ লাখ মানুষের গগন বিদারী শ্লোগানের উদ্দামতায় বসন্তের মাতাল হাওয়ায় সেদিন পত্ পত্ করে ওড়ে বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত লাল-সবুজের পতাকা। শপথের লক্ষ বজ্রমুষ্টি উত্থিত হয় আকাশে। সেদিন বঙ্গবন্ধু মঞ্চে আরোহণ করেন বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে। ফাগুনের সূর্য তখনো মাথার ওপর। মঞ্চে আসার পর তিনি জনতার উদ্দেশ্যে হাত নাড়েন। তখন পুরো সোহরাওয়ার্দী উদ্যান লাখ লাখ বাঙালির ‘তোমার দেশ আমার দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ, তোমার নেতা আমার নেতা শেখ মুজিব, শেখ মুজিব’ শ্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে। তিনি দরাজ গলায় তাঁর ভাষণ শুরু করেন, ‘ভাইয়েরা আমার, আজ দুঃখ-ভারাক্রান্ত মন নিয়ে আপনাদের সামনে হাজির হয়েছিৃ।’ এর পর জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে বাংলা ও বাঙালির স্বাধীনতার মহাকাব্যের কবি ঘোষণা করেনÑ ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রামৃ, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, জয়বাংলা ।’ মাত্র ১৮-১৯ মিনিটের ভাষণ। এই স্বল্প সময়ে তিনি ইতিহাসের পুরো ক্যানভাসই তুলে ধরেন। তিনি তাঁর ভাষণে সামরিক আইন প্রত্যাহার, জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর, গোলাগুলি ও হত্যা বন্ধ করে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেয়া এবং বিভিন্ন স্থানের হত্যাকান্ডের তদন্তে বিচার বিভাগীয় কমিশন গঠনের দাবি জানান। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘ভাইয়েরা আমার, আমি প্রধানমন্ত্রীত্ব চাই না, আমি বাংলা মানুষের অধিকার চাই। প্রধানমন্ত্রীত্বের লোভ দেখিয়ে আমাকে নিতে পারেনি। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়ে দিতে পারেনি। আপনারা রক্ত দিয়ে আমাকে ষড়যন্ত্র-মামলা থেকে মুক্ত করে এনেছিলেন। সেদিন এই রেসকোর্সে আমি বলেছিলাম, রক্তের ঋণ আমি রক্ত দিয়ে শোধ করবো। আজো আমি রক্ত দিয়েই রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রস্তুত।’ তিনি বলেন, ‘আমি বলে দিতে চাই-আজ থেকে কোর্ট-কাচারি, হাইকোর্ট, সুপ্রিম কোর্ট, অফিস-আদালত, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সবকিছু অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ থাকবে। কোন কর্মচারী অফিসে যাবেন না। এ আমার নির্দেশ।’ বঙ্গবন্ধুর ভাষণের সর্বশেষ দু’টি বাক্য, যা পরবর্তীতে বাঙালির স্বাধীনতার চূড়ান্ত লড়াইয়ের দিক-নির্দেশনা ও প্রেরণার হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে। বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেব। এ দেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়বো ইনশাআল্লাহ। এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম। জয়বাংলা’। অধ্যাপক আনিসুজ্জামান তাঁর একটি নিবন্ধে লিখেছেন, বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের মাধ্যমে তাঁর রাজনৈতিক চিন্তাধারার পরিচয় দিয়েছেন। রণকৌশলের দিক থেকে এই ভাষণ অসাধারণ। এই বক্তৃতা এখনো মানুষকে শিহরিত করে। এই বক্তৃতার আগে রাজনৈতিক কর্মী ও জনসাধারণ স¦াধীনতা ঘোষণার জন্য এক ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছিলেন। কিন্তু স্বাধীনতা ঘোষণা করলে যে পাকিস্তানি সেনা শাসকরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করে তাঁদের উপর দমন-পীড়ন চালিয়ে যাবে, সে বিষয়েও তিনি অবহিত ছিলেন। আনিসুজ্জাামান লিখেন, স্বাধীনতা ঘোষণা করবেন কি-না, এমন এক প্রশ্নর জবাবে বঙ্গবন্ধু নিউজউইকের এক সাংবাদিককে বলেছিলেন ‘আমরাতো সংখ্যাগরিষ্ঠ। পশ্চিমাদের উপর নির্ভর করছে তারা বিচ্ছিন্ন হতে চায় কি-না।’ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা এবং স্ইে সভায় উপস্থিত তোফায়েল আহমেদ একটি নিবন্ধে বলেছেন, বঙ্গবন্ধু তাঁর চশমাটা সেদিন ডায়াসের উপর রেখে ১৮ মিনিটের যে ভাষণ দিয়েছিলেন, তার পুরোটাই অলিখিত। একদিকে তিনি পাকিস্তানীদের প্রতি চার দফা শর্ত আরোপ করলেন, অন্যদিকে ঘরে ঘরে দূর্গ গড়ে তুলতে বললেন। ভাতে মারার কথা বললেন, পানিতে মারার কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘৭ মার্চের আগে বঙ্গবন্ধুর বাড়ি গিয়েছিলাম। একজন তাঁকে বললেন, জনগণ কিন্তু সম্পূর্ণ স্বাধীনতা ঘোষণা ছাড়া মানবে না। বঙ্গবন্ধু বললেন, তুমি তোমার কাজ কর। আমি তাদের নেতা, আমি তাদের পরিচালিত করবো, তারা আমাকে নয়।’ বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের শ্রেষ্ঠত্বের কথা তুলে ধরে ইতিহাসের অধ্যাপক মেসবাহ কামাল বলেছেন, বঙ্গবন্ধুর এ ভাষণের পর গোটা বাংলাদেশে পাকিস্তানীদের পরিবর্তে বাঙালিদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হয়। অনেকে বিভিন্ন জায়গায় পূর্ব পাকিস্তান শব্দ মুছে বাংলাদেশ লেখে। তিনি বলেন, এ ভাষণের পর গোটা দেশ বঙ্গবন্ধুর নির্দেশনায় চলতে থাকে। এ ভাষণ গুটি কয়েক রাজাকার ছাড়া গোটা বাংলাদেশকে ঐক্যবদ্ধ করেছিলো। রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ শুধু বাঙালি জাতিকে মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান নয়। এটি সব জাতির মুক্তি সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়ার দিক-নির্দেশনা। দিবসটি উপলক্ষে স্বাস্থ্যবিধি মেনে জাতীয়ভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এ ছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

লাইভ টিভি

ওয়ার্ড পরিক্রমা

আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশিষ্ট বিদ্যুৎসাহী সমাজকর্মী, স্কাউট আন্দোলন এর কর্ণধার ও আলোর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা ও বসুন্ধরা শিশু কিশোর সংগঠন এর উপদেষ্টা আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা, প্রিয় স্যারের প্রতি আবু তাহের সর্দার স্মরণ সভা কমিটির উদ্যোগে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, বলেন আবু তাহের সর্দার সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকবেন। জন্মিলে মরিতে হবে এটি চিরন্তন সত্য। তবুও মানুষ তাঁর সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকতে পারে। সেজন্য যাঁরা কীর্তিমান তাঁরা তাঁদের সেবামুলক কাজের মাধ্যমে মানবসমাজে বেঁচে থাকেন বহু যুগ যুগ ধরে। তিনি বলেন, এ নশ্বর পৃথিবীতে সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ, কোনো মানুষই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে না। সেজন্য দেশ ও মানবকল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়ার মধ্য দিয়েই আবু তাহের সর্দার অমর হয়ে থাকবেন এ রাষ্ট্র সমাজে। এ জনসমাগম স্মরণ সভা থেকে তা বুঝ যায় তিনি কতবড় ত্যাগী মানুষ ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৬৩ বছর এ রাষ্ট্র সমাজের জন্য শ্রম দিয়েছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মুক্ত মনের বিস্ময় প্রতিভা মানুষ ছিলেন আবু তাহের সর্দার। বক্তরা বলেন, মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে লাঘব করতে আবু তাহের সর্দারের প্রচেষ্টা অতুলনীয়; সমাজের আলোক বর্তিকা হয়ে তিনি সমুজ্জ্বল। আবু তাহের সর্দারের কর্মজীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ বিনির্মানে তরুনদের এগিয়ে আসার শপথ নিতে হবে। অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসেম, বখতিয়ার উদ্দীন সহ মরহুমের শুভানুধ্যায়ীরা।

খেলা

আজ নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে টাইগাররা আজ মঙ্গলবার (২৩ ফেব্রুয়ারি)করোনার কারণে দীর্ঘদিন পর বিদেশ সফরে যাচ্ছে টাইগারবাহিনী।আজ বিকেলে সিঙ্গাপুর এয়ারওয়েজে চড়ে নিউজিল্যান্ডের উদ্দেশ্যে দেশ ছাড়বে জাতীয় ক্রিকেট দল। নিউজিল্যান্ড সফরে টেস্ট সিরিজ নেই। সমান তিনটি করে ওয়ানডে আর টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলবে টাইগাররা। তবে ভিনদেশি কন্ডিশনের জন্য এবার দেশ থেকে নিজেদের সেভাবে প্রস্তুত করে যেতে পারেনি বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে লড়ার আগে তাদের মাঠেই প্রস্তুতি নিতে হবে টাইগারদের। সিরিজ আগামী মাসে শুরু হলেও, কোয়ারেন্টিন জটিলতা ও কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে বেশ আগেই নিউজিল্যান্ড যাচ্ছে টাইগাররা। সেখানে দুই সপ্তাহের বেশি সময় ধরে অনুশীলন করবে বাংলাদেশ দল। এরপর ২০ মার্চ থেকে শুরু হবে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ। প্রথম ওয়ানডে হবে ডানেডিনে। এরপর ২৩ মার্চ ক্রাইস্টচার্চে দ্বিতীয় ওয়ানডে। শেষ ওয়ানডেটি ২৬ মার্চ ওয়েলিংটনে। ওয়ানডে সিরিজ শেষে ২৮ মার্চ হ্যামিল্টনে শুরু হবে টি-টোয়েন্টি সিরিজ। দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি ম্যাচটি হবে নেপিয়ারে ৩০ মার্চ। অকল্যান্ডে ১ এপ্রিল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টি। সিরিজের জন্য এরই মধ্যে ২০ সদস্যের দল ঘোষণা করেছে বিসিবি। পারিবারিক কারণে নিউজিল্যান্ডে যাচ্ছেন না সাকিব আল হাসান। তার পরিবর্তে সুযোগ পেয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। বাংলাদেশ স্কোয়াড : তামিম ইকবাল, মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত, নাজমুল হোসেন শান্ত, মুশফিকুর রহীম, মোহাম্মদ মিঠুন, লিটন দাস, মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ, আফিফ হোসেন ধ্রুব, সৌম্য সরকার, নাঈম শেখ, তাসকিন আহমেদ, আল আমিন হোসেন, শরিফুল ইসলাম, হাসান মাহমুদ, মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন, মোস্তাফিজুর রহমান, মেহেদি হাসান মিরাজ, শেখ মেহেদি হাসান, রুবেল হোসেন, নাসুম আহমেদ।

সর্বশেষ সংবাদ
ঐতিহাসিক ৭ মার্চ বাঙালি জাতির মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতার ইতিহাসে অবিস্মরণীয় দিন:রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা নিবেদন কাউন্সিলর নুরুল আমিনের অসুস্থ ছেলেকে দেখতে গেলেন আ জ ম নাছির উদ্দীন ঝালকাঠিতে পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন ফরম নিলেন বর্তমান মেয়র ঠাকুরগাঁওয়ে জনসেবা ক্লিনিক সিলগালা ও আর্থিক জরিমানা ঠাকুরগাঁওয়ে ৭ মার্চ উপলক্ষে চিত্রাঙ্কন ও আবৃত্তি প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত গাজীপুরে কারখানার গুদামে অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১ আহত ১২ জনগণের সাড়া না পেয়ে বিএনপি ইউনিয়ন নির্বাচন থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করছে :সেতুমন্ত্রী ৭ই মার্চের ভাষণে নিরস্ত্র বাঙালি সশস্ত্র বাঙালিতে রূপান্তরিত হয়েছিল : তথ্যমন্ত্রী আগামীকাল ঐতিহাসিক ৭ মার্চ