শীর্ষ সংবাদ

শুধু আন্তঃনগর ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত , ‘৩১ মে থেকে

করোনা ভাইরাসের প্রাদূর্ভাব ঠেকাতে প্রায় আড়াই মাস ধরে চলমান লকডাউন (অবরুদ্ধ) শিথিল করতে যাচ্ছে সরকার। এতে আপাতত শুধু আন্তঃনগর ট্রেন চালুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়। রেলপথ মন্ত্রী নূরুল ইসলাম সুজন বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমকে বলেন, ‘৩১ মে থেকে ১৫ জুন শুধু আন্তঃনগর ট্রেন চালুর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলপথ মন্ত্রণালয়।’ অন্যদিকে স্বাস্থ্যবিধি কিভাকে নিশ্চিত করা হবে, কি কি শর্ত মেনে গণপরিবহন চলবে এ সম্পর্কে আগামীকাল শুক্রবার সিদ্ধান্ত জানাবে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। রেলপথ মন্ত্রী জানান, ট্রেনে যাত্রীদের শারীরিক দূরত্ব নিশ্চিত করতে এই সময়ে আসন সংখ্যার অর্ধেক টিকেট বিক্রি করা হবে। অনলাইন ও স্টেশনের কাউন্টার- দুভাবেই টিকেট পাওয়া যাবে। স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে জানিয়ে রেলমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী শনিবার দুপুরে রেলভবনের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে ট্রেন চালুর বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে।’ ৩১ মে থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত গণপরিবহনগুলো কীভাবে চলবে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগ নির্দেশনা জারি করবে বলে বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক আদেশে জানানো হয়েছে। এতে বলা হয়, ‘উক্ত সময়ে সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট সংখ্যক যাত্রী নিয়ে স্বাস্থ্যসম্মত বিধি নিশ্চিত করে গণপরিবহন, যাত্রীবাহী নৌযান ও রেল চলাচল করতে পারে। তবে সব অবস্থায় মাস্ক পরাসহ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের জারি করা নির্দেশনা কঠোরভাবে মেনে চলা নিশ্চিত করতে হবে।’ বৈশ্বিক মহামারী রূপ নেওয়া ছোঁয়াচে রোগ কোভিড-১৯ এর সংক্রমণ আটকাতে গত ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ দেশের অফিস-আদালত; তখন থেকে গণপরিবহনও রয়েছে বন্ধ। ঘরবন্দি থাকার এই সময়ে কিছু বিধি-নিষেধ শিথিলের পর যখন সংক্রমিত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে; তখন ঈদ কাটিয়ে ৩১ মে থেকে অফিস ও গণপরিবহন চালু হতে যাচ্ছে। সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য কর্মকর্তা আবু নাসের বলেন, ‘স্বাস্থ্যবিধি নিশ্চিত করে কীভাবে গণপরিবহন চলাচল করতে পারে সেজন্য শুক্রবার বিআরটিএ, পরিবহন মালিক ও শ্রমিক সংগঠনগুলোর সঙ্গে বৈঠক হবে। বৈঠকের পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানানো হবে।’

দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ১৫ জনে সুস্থ হয় আরও ২৩ জনের মৃত্যু

শুক্রবার (২৯ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদফতরের করোনাভাইরাস বিষয়ক নিয়মিত হেলথ বুলেটিনে এ তথ্য জানান অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (মহাপরিচালকের দায়িত্বপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা। তিনি বলেন মহামারি আকার ধারণ করা করোনা ভাইরাসে দেশে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ২৩ জন মারা গেছেন। এ নিয়ে ভাইরাসটিতে মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৮২ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত হিসেবে একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্ত হয়েছেন ২ হাজার ৫২৩ জন। এতে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ৪২ হাজার ৮৪৪। তিনি জানান, করোনাভাইরাস শনাক্তে গত ২৪ ঘণ্টায় ১২ হাজার ৯৮২টি নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরীক্ষা করা হয় ১১ হাজার ৩০১টি নমুনা। এ নিয়ে দেশে মোট নমুনা পরীক্ষা করা হলো দুই লাখ ৮৭ হাজার ৬৭টি। নতুন নমুনা পরীক্ষায় করোনার উপস্থিতি পাওয়া গেছে আরও দুই হাজার ৫২৩ জনের দেহে, যা একদিনে সর্বোচ্চ শনাক্তের রেকর্ড। ডা. নাসিমা জানান, টানা দ্বিতীয় দিনের মতো শনাক্ত রোগীর সংখ্যা দুই হাজার ছাড়াল। ফলে দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ৪২ হাজার ৮৪৪ জন। আক্রান্তদের মধ্যে মৃত্যু হয়েছে আরও ২৩ জনের। ফলে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৫৮২ জনে। গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন আরও ৫৯০ জন। এ নিয়ে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল নয় হাজার ১৫ জনে। তিনি জানান, নতুন করে যারা মারা গেছেন, তাদের ১৯ জন পুরুষ, চারজন নারী। এদের মধ্যে ঢাকা বিভাগের ১০ জন, চট্টগ্রাম বিভা‌গের নয়জ‌ন, রংপু‌র বিভাগের দুজন, সি‌লে‌ট বিভাগের একজন এবং ব‌রিশা‌ল বিভাগের একজন রয়েছেন। বয়সের দিক থেকে ১১ থে‌কে ২০ বছরের একজন, ২১ থে‌কে ৩০ বছরের একজন, ত্রিশোর্ধ্ব দুজন, চল্লিশোর্ধ্ব পাঁচজন, পঞ্চাশোর্ধ্ব পাঁচজন, ষাটোর্ধ্ব ছয়জন, সত্তরোর্ধ্ব দুজন এবং ৮১ থে‌কে ৯০ বছ‌র বয়সী একজন রয়েছেন। বুলেটিনে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষার তুলনায় শনাক্তের হার ২২ দশমিক ৩৩ শতাংশ। এখন পর্যন্ত শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ০৪ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ। ডা. নাসিমা করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে সবাইকে স্বাস্থ্য অধিদফতর ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পরামর্শ-নির্দেশনা মেনে চলার অনুরোধ জানান বুলেটিনে।

জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ বিমান

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী কার্যক্রমের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীদের বহন করতে বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাবাহী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের  একটি ফ্লাইট চাটার্ড করল জাতিসংঘ সদরদফতর। এই চাটার্ড ফ্লাইটে বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীগণ সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকে নিযুক্ত জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমের মিনুসকা মিশনে যোগ দিবেন।  নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের অমূল্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী পরিবহনে দেশটির নিজস্ব বিমান চাটার্ড করল জাতিসংঘ। এটি একটি মাইলফলক। জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশন জাতিসংঘ সদরদফতরের সাথে বিমান চাটার্ড সংক্রান্ত এই চুক্তি স্বাক্ষর, সার্বিক সমন্বয় ও নিবিড় যোগাযোগ রক্ষা করে। বাংলাদেশ সময় বৃহস্পতিবার সকালে বিমান বাংলাদেশ এয়ালাইন্সের চাটার্ড ফ্লাইটটি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর ১৭৯ জন শান্তিরক্ষীকে নিয়ে সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের রাজধানী বাঙ্গুইয়ের উদ্দেশ্যে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। এই কন্টিনজেন্টের মধ্যে রয়েছে আর্মড ইউটিলিটি হেলিকপ্টার ইউনিট এর ১২৫ জন সদস্য, কুইক রিঅ্যাকশন ফোর্স কোম্পানীর অগ্রবর্তীদলের ২০ জন সদস্য এবং কোভিট-১৯ এর কারণে আটকে পড়া মিনুসকা মিশনের ৩৪ জন শান্তিরক্ষী। বর্তমানে ৬ হাজার ৫৪৩ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী বিশ্বের ০৯টি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে ১ হাজার ৬১ জন বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী সেন্ট্রাল আফ্রিকান রিপাবলিকের মিনুসকা মিশনে দায়িত্ব পালন করছেন। জাতিসংঘের এই শান্তিরক্ষা মিশনটি ২০১৪ সালের ১০ এপ্রিল কাজ শুরু করে।

আগামী ২ জুন একনেকে চারটি প্রকল্প উপস্থাপন

সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটির মধ্যে বিশেষ অনুমোদন পাওয়া চার প্রকল্প উপস্থাপন করা হচ্ছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে। আগামী ২ জুন অনুষ্ঠেয় একনেকে এই চারটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হবে। করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে একনেক বৈঠক বন্ধ থাকায় জরুরি বিবেচনায় প্রকল্পগুলো অনুমোদন করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এবার একনেক বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকল্পগুলো উপস্থাপন করা হবে। একনেকে উঠতে যাওয়া প্রকল্প চারটি হলো— বিশ্বব্যাংকের ঋণে করোনা মোকাবিলা প্রকল্প, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ঋণে করোনা মোকাবিলা প্রকল্প, প্রাথমিক শিক্ষা উপবৃত্তি প্রকল্প এবং মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম। পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘ আড়াই মাসেরও বেশি সময় পর একনেক বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হবে ভার্চুয়াল বৈঠক আকারে। গণভবন থেকে যুক্ত হয়ে এতে সভাপতিত্ব করবেন প্রধানমন্ত্রী ও একনেক চেয়ারপাসন শেখ হাসিনা

টেকনাফে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ রোহিঙ্গা নিহত,অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার

নাজমূল কক্সবাজার থেকেঃ কক্সবাজারে র টেকনাফে দুর্গম  পাহাড়ি এলাকায় র‌্যাবের সঙ্গে ‘বন্দুকযুদ্ধে’ মোঃ ইসহাক (৩২) নামে এক রোহিঙ্গা ডাকাত নিহত হয়েছে।  দুটি ওয়ান শুটারগান, ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়। নিহত ইসহাক টেকনাফ উপজেলার সাবরাংয়ে বসবাসরত রোহিঙ্গা নাগরিক ও রোহিঙ্গা ডাকাত জকির বাহিনীর সদস্য বলে জানান র‌্যাব। আজ শুক্রবার ২৯ মে দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেন কক্সবাজারস্থ র‌্যাব-১৫ এর সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ শেখ সাদী। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার ভোরে টেকনাফের খন্দকারপাড়ায় অবস্থানের খবর পেয়ে ইসহাককে গ্রেফতার করতে গেলে তার সহযোগীরা র‌্যাবকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে র‌্যাবও পাল্টা গুলি চালায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় র‌্যাবের তিন সদস্য আহত হয়েছে বলেও জানান এ কর্মকর্তা। সহকারী পরিচালক আরও বলেন, ঘটনাস্থল থেকে দুটি ওয়ান শুটারগান, ৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত রোহিঙ্গা ডাকাতের মৃতদেহ ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট আইনে টেকনাফ থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।

আজ দ্বিজেন শর্মার জন্মবার্ষিকী

আজ শুক্রবার(২৯মে)নিসর্গসখা দ্বিজেন শর্মার জন্মবার্ষিকী।তিনি মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার শিমুলিয়া গ্রামে ১৯২৯ সালের ২৯ মে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম চন্দ্রকান্ত শর্মা ও মায়ের নাম মগ্নময়ী দেবী। ২০১৭ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর ৮৮ বছর বয়সে রাজধানীর একটি হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি।  দ্বিজেন শর্মা ১৯৪৭ সালে মাধ্যমিক ও ১৯৪৯ সালে আগরতলার মহারাজা বীরবিক্রম কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন। পরে কলকাতা সিটি কলেজ থেকে জীববিজ্ঞান বিষয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৫৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন তিনি। ১৯৫৪ সালে বরিশালের ব্রজমোহন কলেজে শিক্ষকতা পেশা দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু হয়। এর পর তিনি নটর ডেম কলেজ, শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, সেন্ট্রাল উইমেন্স কলেজ ও সরকারি বাঙলা কলেজে শিক্ষকতা করেন। তিনি ১৯৭৪ থেকে ১৯৯২ সাল পর্যন্ত রাশিয়ার মস্কোতে প্রগতি প্রকাশনীর অনুবাদক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি এশিয়াটিক সোসাইটিতে যোগ দেন। প্রকৃতি ও নিসর্গবিষয়ক লেখালেখিরও পথিকৃৎ দ্বিজেন শর্মা। উদ্ভিদ ও প্রকৃতি নিয়ে লেখা তার আকরগ্রন্থ ‘শ্যামলী নিসর্গ’। তার লেখা অন্যান্য গ্রন্থের মধ্যে রয়েছে- ‘সপুষ্পক উদ্ভিদের শ্রেণীবিন্যাস’, ‘ফুলগুলি যেন কথা’, ‘চার্লস ডারউইন ও প্রজাতির উৎপত্তি’, ‘সমাজতন্ত্রে বসবাস’, ‘ডারউইন : বিগল যাত্রীর ভ্রমণকথা’, ‘নিসর্গ, নির্মাণ ও নান্দনিক ভাবনা’, ‘বাংলার বৃক্ষ’, ‘আমার একাত্তর ও অন্যান্য’, ‘প্রকৃতিমঙ্গল’, ‘বৃক্ষ ও বালিকা গল্প’ ইত্যাদি। এ ছাড়া দেড় যুগ মস্কোর প্রগতি প্রকাশনীতে কাজের সময় ৫০টির মতো বই অনুবাদ ও সম্পাদনা করেছেন। দ্বিজেন শর্মা তার কর্মময় জীবনের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০১৫ সালে একুশে পদক, ১৯৮৭ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, শিশু একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্র পদক, প্রকৃতি ও জীবন ফাউন্ডেশন পরিবেশ পুরস্কারসহ নানা সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।

আজ আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস

আজ শুক্রবার(২৯মে)আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস।আজ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী বাহিনীর কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারীদের আত্মত্যাগের ঘটনাকে গভীর কৃতজ্ঞতা ও যথোচিত সম্মানের সাথে স্মরণ করার দিন ।ইউক্রেনের শান্তিরক্ষী সংস্থা এবং ইউক্রেন সরকারের ১১ ডিসেম্বর, ২০০২ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী এ দিবসের রূপরেখা প্রণয়ন করা হয়। ২০০৩ সালে আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস প্রথম উদযাপন করা হয়। ১৯৪৮ সালে সংঘটিত আরব-ইসরাইল যুদ্ধকালীন যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণে গঠিত জাতিসংঘ ট্রুস সুপারভিশন অর্গানাইজেশন (আন্টসো) দিনকে উপজীব্য করে ২৯ মে তারিখে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এই দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন। প্রদত্ত বাণীতে রাষ্ট্রপতি জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশসহ অন্যান্য দেশের সকল শান্তিরক্ষীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।   বিশ্বের অন্যান্য দেশের ন্যায় বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণকারী বিশ্বের সকল দেশের শান্তিরক্ষীদের অসামান্য অবদানকে আজ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হবে।জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা ১৯৮৮ সাল থেকে অংশগ্রহণ করে অদ্যাবধি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী সদস্যরা সর্বোচ্চ পেশাদারি মনোভাব, আনুগত্য ও সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে চলেছেন। তাদের অনন্য অবদানের জন্য আন্তর্জাতিক পরিমন্ডলে দেশের ভাবমূর্তি বলিষ্ঠ হয়েছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অন্যতম শীর্ষ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ। পেশাদারিত্বের পাশাপাশি অর্পিত দায়িত্বের প্রতি একনিষ্ঠতা বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীদের এই সাফল্য অর্জনে ভূমিকা রেখেছে। সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সাথে দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে আমাদের শান্তিরক্ষী সদস্যরা আগামী দিনগুলোতেও বিশ্বশান্তি, সম্প্রীতি ও সৌহার্দ প্রতিষ্ঠার এই ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হবে – এ প্রত্যাশা করি। বিশ্বশান্তি রক্ষার মহান দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে আত্মোৎসর্গকারী বীর শান্তিরক্ষী সদস্যদের পরম শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করেন এবং দিবসটি উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন।বাণীতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতিসংঘের আহবানে বাংলাদেশের শান্তিরক্ষীগণ যাতে আরো আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে সাড়া দিতে পারেন সেজন্য সকল প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। বাংলাদেশ আজ সর্বাধিক শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশসমূহের অন্যতম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জাতিসংঘ মিশন এবং বহুজাতিক বাহিনীতে শান্তিরক্ষীদের অনন্য অবদান বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের ভাবমূর্তিকে উজ্জ্বল করেছে এবং এদেশকে বিশ্বের বুকে একটি মর্যাদাসম্পন্ন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে।প্রধানমন্ত্রী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা গর্ব ভরে স্মরণ করেন’শান্তিরক্ষা মিশনে কর্মরত বাংলাদেশের সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান তিনি। গত দুই দশকের অধিক সময়কাল ধরে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সক্রিয় অংশগ্রহণ করে আসছে। এর মাধ্যমে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি ইতিবাচক ভাবমূর্তি প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। একবিংশ শতাব্দীতে এসে বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থে জাতিসংঘের সর্ববৃহৎ সেনা প্রদানকারী দেশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেছে। ১৯৮৮ সালে ইউএন ইরান-ইরাক মিলিটারি অবজারভেশন গ্রুপ (ইউনিমগ) মিশনে ১৫ জন সেনা পর্যবেক্ষক প্রেরণের মাধ্যমে বাংলাদেশের যাত্রা শুরু। তার পরের বছর, ১৯৮৯ সালে ২৫ জন সেনা ও ৩৪ জন পুলিশ পর্যবেক্ষক ইউনাইটেড নেশনস ট্রানজিশন্স অ্যাসিস্ট্যান্স গ্রুপ ইন নামিবিয়া মিশনে প্রেরণের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ তার দীর্ঘমেয়াদি অংশগ্রহণের সংকল্প ব্যক্ত করেন। ১৯৯০-৯১ সালে প্রথম আরব উপসাগরীয় যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে কোয়ালিশন বাহিনীতে বাংলাদেশের ২১৯৩ জন সেনা সদস্য অংশগ্রহণ করে। সেটিই ছিল জাতিসংঘের বাইরে কোনো একক দেশের নেতৃত্বে শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের প্রথম অংশগ্রহণ। ১৯৯২ সালে বাংলাদেশ জাতিসংঘের কম্বোডিয়া মিশনে প্রথমবারের মতো এক ব্যাটালিয়ন সেনা প্রেরণ করে। বাংলাদেশি সেনাদের পেশাদারি দক্ষতা, আন্তরিকতা ও পক্ষপাতশূন্যতা অল্পদিনের মধ্যেই এ দেশকে আন্তর্জাতিক খ্যাতি এনে দিতে সক্ষম হয়েছে।

চট্টগ্রামে আনোয়ারায় বিশেষ অভিযানে ইয়াবাসহ আটক ২

চট্টগ্রামের  আনোয়ারা উপজেলায় ২ ইয়াবা ব্যবসায়ীকে আটক করে কোষ্ট গার্ড। বৃহস্পতিবার বিশেষ অভিযানে  পতেঙ্গা বীচ এরিয়া হতে তাদেরকে আটক করা হয়। সূত্রে জানান,অভিযানে ১৬,০০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ৬৮ ক্যান বিয়ার, ০৪ বোতল স্মিতনফ ভোডকা, ০৩ বোতল হুইস্কি, ০২ বোতল রেড লেবেল, ০২ বোতল পাসপোর্ট স্কচ, ০৩ বোতল অ্যাবসল্ট সাইট্রন, ০১ বোতল অ্যাবসল্ট ম্যাঙ্গো, ০১ বোতল তারিনা ভোডকা, ০৯ প্যাকেট (মিনি) সিগারেট (৩০৩), ১৯ প্যাকেট (মিনি) সিগারেট (মারবেল), ২৭ টি (ছোট ছোট পুরিয়া) গাঁজা ও ২০০ লিটার বাংলা মদ উদ্ধার করা হয়।আটককৃতরা আনোয়ারা উপজেলার পশ্চিম রায়পুর ময়না গাজীর বাড়ির আব্দুল সাত্তারের পুত্র মোঃ ওসমান (৩০) এবং মৃত আব্দুল গফুরের পুত্র মোঃ ইকবাল (৩৫)।  গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানান,আটককৃতদের পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। আনোয়ারা পারকী এলাকায় মানুষের মুখে মুখে গুঞ্জন উঠেছে করোনা ও ঈদের ফাঁকে একাধিক ইয়াবার বড় চালান খালাস হয়েছে। সচেতন মহল মনে করেন আনোয়ারায় প্রসাশনের চেকপোস্ট বৃদ্ধি করে কঠোর নজরদারীর প্রয়োজন। কোষ্ট গার্ড পূর্ব জব্দকৃত মাদকদ্রব্যগুলো এক স্থান হতে অন্য স্থানে পাচারের উদ্দেশ্যে তারা নিয়ে যাচ্ছিল।আটককৃত মাদক পাচারকারী ও জব্দকৃত মাদকদ্রব্য পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পতেঙ্গা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।ওসমানের বিরুদ্ধে আনোয়ারা থানায় ৪টি মাদক মামলা ও ১টি মানিলন্ডারিং মামলা রয়েছে।তারমধ্যে ২টিতে ওয়ারেন্ট আছে।এবং ইকবাল হোসেনের বিরুদ্ধে ১টি মাদক ও ১টি চুরি মামলা রয়েছে।        

ঠাকুরগাঁওয়ে আরও ১৭ জন করোনা আক্রান্ত

আবদুল কাদের জিলানী ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধিঃঠাকুরগাঁও জেলায় বৃহস্পতিবার একদিনে রেকর্ড সংখ্যক ১৭ জন করোনায় আক্রান্ত বলে শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে ১৩ জন পুরুষ ও ৪ জন নারী।আক্রান্তদের মধ্যে উপজেলার আখানগর ইউনিয়নের মহেশপুরে ২ জন পুরুষ। বালিয়াডাঙ্গীর বড়পলাশবাড়িতে ৬ জন পুরুষ, ছোট লাহিড়িতে ২ নারী ও আমগাঁওয়ে ১ নারী। পীরগঞ্জের জাবরহাটে ১ নারী, কোষারাণীগঞ্জে ১ পুরুষ ও পীরগঞ্জ হেলথ কমপ্লেক্সের একজন পুরুষ কর্মচারী। হরিপুরের কাঁঠালডাঙ্গীতে ১ জন পুরুষ ও হরিপুর সদরে ১ জন পুরুষ এবং রাণীশংকৈলের বাঁশবাড়িতে ১ জন পুরুষ। এনিয়ে জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ৮৪ জনে। এর মধ্যে সদরে ১৪ জন, বালিয়াডাঙ্গীতে ২৭ জন, রাণীশংকৈলে ৭ জন, হরিপুরে ১৯ জন ও পীরগঞ্জে ১৭ জন। সিভিল সার্জন ডা. মো. মাহফুজার রহমান সরকার জানান, ঠাকুরগাঁও জেলা থেকে আজ ২৮ মে ৬৮ জনের নমুনা করোনা পরীক্ষার জন্য দিনাজপুর পাঠানো হয়েছে। এপর্যন্ত পাঠানো হলো ১৪৫০ জনের নমুনা। মৃত্যু নেই এবং ২৩ জন সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন।

শেখ হাসিনা দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করেন:তথ্যমন্ত্রী

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ জানান আওয়ামী লীগের সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ইতিহাসে বৃহত্তম ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। আজ বৃহস্পতিবার রাঙ্গুনিয়া উপজেলা পরিষদ হলে করোনাভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া খেলোয়াড়দের মাঝে সরকারের পক্ষ থেকে উপহার সামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, মানুষ সরকারের কাছে চায়নি, কোথাও যেতে হয়নি, টাকা খরচ ছাড়া, কোনো দেন দরবার ছাড়া, মানুষের মোবাইল ফোনে আড়াই হাজার করে টাকা চলে এসেছে। এটি কখনো কেউ ভাবেনি।ইতিমধ্যে দেশের প্রায় ৭ কোটি মানুষ নানাভাবে সরকারি সাহায্য-সহায়তার আওতায় এসেছে।দেশের সমস্ত কওমি মাদ্রাসায় ঈদের আগে দুই দফায় টাকা দেয়া হয়েছে। বিভিন্ন মসজিদে টাকা দেয়া হয়েছে। এইভাবে ত্রাণ তৎপরতা আশেপাশের কোনো দেশে হয়েছে কিনা আমার জানা নাই। ’ উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাসুদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ বণিক, থানার ওসি সাইফুল ইসলাম, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার শামসুল আলম তালুকদার, ইউপি চেয়ারম্যান ইদ্রিছ আজগর, নজরুল ইসলাম তালুকদার, ইকবাল হোসেন চৌধুরী মিল্টন, উপজেলা যুবলীগের সভাপতি আরজু সিকদার। তথ্যমন্ত্রী জানান, এটি একটি খেটে খাওয়া মানুষের দেশ। এখানে কোটি কোটি মানুষ খেটে খায়। করোনাভাইরাসের কারণে আজকে দুই মাসের বেশি সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় সমস্ত কর্মকাণ্ড বন্ধ। অনেকে অনেক শঙ্কা-আশঙ্কার কথা জানান, সেই শঙ্কা-আশঙ্কাগুলোকে মিথ্যে প্রমাণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং তার সরকার।প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে এমন বৃহত্তম ও সুপরিকল্পিত ত্রাণ কার্যক্রমে দেশের একজন মানুষও আল্লাহর রহমতে অনাহারে মৃত্যুবরণ করেনি’ বলেন তিনি।করোনাভাইরাস খুব সহসা পৃথিবী থেকে যাবে না বলে মনে হচ্ছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, দীর্ঘদিন মাসের পর মাস বন্ধ করে একটি দেশ চলতে পারে না। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মাসের পর মাস বন্ধ রেখে কোনো দেশ ঠিকে থাকতে পারে না।মানুষ কাজে ফিরে গেছে। আমাদেরকেও ধীরে ধীরে সেই কাজটি করতে হবে। তবে মাথায় রাখতে হবে সেই কাজটি করতে গিয়ে আমরা যেন আবার জনসমাগম না করি এবং শারীরিক দূরত্বটা বজায় রাখি। দেশে ছুটি শুরু হবার প্রথম সপ্তাহ থেকে আমার নির্বাচনী এলাকা রাঙ্গুনিয়া উপজেলা ও বোয়ালখালি আংশিক এলাকায় আমার পারিবারিক প্রতিষ্ঠান এনএনকে ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করা হয়। ঈদের আগের দিন পর্যন্ত খাদ্য সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। আমরা বেছে বেছে সিএনজি, রিকশা, জিপ ড্রাইভার, নৌকার মাঝিসহ সব খেটে খাওয়া পেশাজীবীদের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি।’ ‘ঈদের আগে প্রত্যেকটি মসজিদের ইমাম ও মুয়াজ্জিনের কাছে ঈদ উপহার সামগ্রী পৌঁছানো হয়েছে। এই পরিস্থিতি বিরাজমান থাকলে সেটি অব্যাহত থাকবে’ বলেন তিনি। সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে রাঙ্গুনিয়ার ৬০ হাজারের বেশি মানুষের পরিবারে ত্রাণ পৌঁছে গেছে জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আমার আহ্বানে দলের নেতাকর্মীরাও অসহায় ও কর্মহীনদের ঘরে ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছেন। এটি একটি অভাবনীয় ব্যাপার। আল্লাহর রহমতে রাঙ্গুগুনিয়ায় কোন হাহাকার নাই। অনেকে একাধিকবারও ত্রাণ পেয়েছেন।’ করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত থাকার জন্য শরীরচর্চাও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় একটা ব্যাপার। সেটি এলাকার মানুষদের উদ্বুদ্ধ করবেন খেলোয়াড়রা। কিছুদিন পরে খেলাধুলোও আমাদের সীমিত আকারে চালু করতে হবে। তথ্যমন্ত্রী বলেন, রাঙ্গুনিয়া খেলোয়াড় সৃষ্টি করার একটি কারখানা। এখান থেকে জাতীয় ফুটবল দলে বেশ কয়েকজন খেলেছেন এবং এখনো খেলছেন। বহু বছর ধরে রাঙ্গুনিয়ার ছেলেরা জাতীয় দলে প্রতিনিধিত্ব করছেন। শুধুমাত্র ফুটবল নয় অন্যান্য খেলার ক্ষেত্রেও রাঙ্গুনিয়ার ছেলেরা ক্রীড়া নৈপুণ্য প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে। এজন্য তিনি এলাকার খেলোয়াড় সমিতি ও খেলোয়াড়দের অভিনন্দন জানাই।

লাইভ টিভি

ওয়ার্ড পরিক্রমা

আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশিষ্ট বিদ্যুৎসাহী সমাজকর্মী, স্কাউট আন্দোলন এর কর্ণধার ও আলোর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা ও বসুন্ধরা শিশু কিশোর সংগঠন এর উপদেষ্টা আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা, প্রিয় স্যারের প্রতি আবু তাহের সর্দার স্মরণ সভা কমিটির উদ্যোগে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, বলেন আবু তাহের সর্দার সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকবেন। জন্মিলে মরিতে হবে এটি চিরন্তন সত্য। তবুও মানুষ তাঁর সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকতে পারে। সেজন্য যাঁরা কীর্তিমান তাঁরা তাঁদের সেবামুলক কাজের মাধ্যমে মানবসমাজে বেঁচে থাকেন বহু যুগ যুগ ধরে। তিনি বলেন, এ নশ্বর পৃথিবীতে সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ, কোনো মানুষই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে না। সেজন্য দেশ ও মানবকল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়ার মধ্য দিয়েই আবু তাহের সর্দার অমর হয়ে থাকবেন এ রাষ্ট্র সমাজে। এ জনসমাগম স্মরণ সভা থেকে তা বুঝ যায় তিনি কতবড় ত্যাগী মানুষ ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৬৩ বছর এ রাষ্ট্র সমাজের জন্য শ্রম দিয়েছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মুক্ত মনের বিস্ময় প্রতিভা মানুষ ছিলেন আবু তাহের সর্দার। বক্তরা বলেন, মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে লাঘব করতে আবু তাহের সর্দারের প্রচেষ্টা অতুলনীয়; সমাজের আলোক বর্তিকা হয়ে তিনি সমুজ্জ্বল। আবু তাহের সর্দারের কর্মজীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ বিনির্মানে তরুনদের এগিয়ে আসার শপথ নিতে হবে। অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসেম, বখতিয়ার উদ্দীন সহ মরহুমের শুভানুধ্যায়ীরা।

খেলা

তামিম-লিটনের রেকর্ড জুটিতে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে লিটন দাস ও তামিম ইকবালের বিশ্ব রেকর্ড গড়া জুটির ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হেরে গেল জিম্বাবুয়ে।এর আগে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ১০৬ রানের ব্যবধানে হেরে যায় সফরকারী জিম্বাবুয়ে। আগামী ৯ ও ১১ মার্চ মিরপুর শেরেবাংলায় টাইগারদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে অতিথিরা। হারলেই হোয়াইটওয়াশ। এমন সমীকরণের ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ করে জিম্বাবুয়ে। সিলেট আন্তজার্তিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে রীতিমতো তাণ্ডব চালান তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস। বিকাল চারটায় বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে ৩৩.২ ওভারে ১৮২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তামিম-লিটন। দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফের যখন খেলা শুরু হয় তখন ম্যাচ নির্ধারণ হয় ৪৩ ওভারে। ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলেন লিটন দাস। বৃষ্টির আগে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেয়া লিটন ছাড়িয়ে যান দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবালকে। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিজের আগের গড়া ১৫৪ রানের ইনিংসের রেকর্ড ভেঙে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। দুই দিনের ব্যবধানে তার সেই রেকর্ড ভেঙে দেন লিটন দাস। শুক্রবার ইনিংস শেষ হওয়ার ১৩ বল আগে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। সাজঘরে ফেরার আগে ১৪৩ বলে ১৬টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ১৭৬ রানের ইনিংস খেলেন লিটন। ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের এই ইনিংস খেলার পথে শুধু তামিম ইকবালকেই নয়, কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা, রিকি পন্টিং ও কুমার সাঙ্গাকারার মতো তারকা ব্যাটসম্যানদের ছাড়িয়ে যান লিটন। লিটনের বিদায়ের আগেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৩তম সেঞ্চুরি করেন তামিম ইকবাল। ইনিংসের শুরুতে ওপেন করতে নেমে শেষ বল পর্যন্ত খেলে যান তামিম। আগের ম্যাচে ১৩৬ বলে ১৫৮ রান করা তামিম এদিন খেলেন ১০৯ বলে ৭টি চার ও ৮টি ছক্কায় ১২৮ রানের ইনিংস। লিটন-তামিমের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৩২২ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে সিকান্দার রাজার ৬১ আর ওয়েসলি মাধেভার ৪২ রানের ইনিংসে ভর করে ৩৭.৩ ওভারে ২১৮ রানে অলআউট হয়। ১২৩ রানের সহজ জয় পায় বাংলাদেশ।

সর্বশেষ সংবাদ