বালিশ যখন মাথাব্যথার কারণ- কামরুল হাসান বাদল লেখক কবিও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 23/05/2019-10:13am:    কয়েকদিন ধরে ঘাড় ফেরাতে ভীষণ কষ্ট হচ্ছে। বুঝতে পারছি এটি স্পন্ডালাইসিসের একটি লক্ষণ । সাধারণভাবে এ সমস্যা অনেকেরই হয়। প্রচলিত একটি ধারণা বা টোটকা চিকিৎসা হচ্ছে রোদে বালিশ শুকাতে দেওয়া। সে বালিশে ঘুমালে পরে সে ঘাড় ব্যথার রোগ সেরে যায়। অনেকে তাই করে থাকেন। আমার এ সমস্যা দেখা যাওয়ার পর আত্মীয়-স্বজনের অনেকে বলছেন, বালিশ রোদে দাও। তারপর ওই বালিশে ঘুমাও। ঘাড়ব্যথা চলে যাবে । কোনো ডাক্তার লাগবে না।
রোদে বালিশ দিয়ে তাতে ঘুমিয়ে যখন ঘাড়ব্যথার চিকিৎসা চালাচ্ছি তখনই সংবাদমাধ্যমে দেখলাম রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের আবাসন প্রকল্পের জন্য কেনা বালিশ সমগ্র জাতির ঘাড়ব্যথা না রীতিমত মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সবকিছু ছাপিয়ে এখন এই বালিশ নিয়ে আমাদের সব আলোচনা বিতর্ক ঘুরপাক খাচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তোলপাড় চলছে। এই তুমুল পরিস্থিতিতে আমার ঘাড়ের ব্যথা উধাও হয়ে গেছে।
বাংলাদেশ একটি দুর্নীতিপ্রবণ দেশ। এখানে দুর্নীতি না হওয়াটাই বরং আশ্চর্যজনক ঘটনা, বিরল ঘটনা। তবে কিছু কিছু দুর্নীতির ঘটনায় তাক লেগে যায় দেখে, শুনে। ভাবি, এমন অবিশ্বাস্য ঘটনাও কি ঘটতে পারে? আমার এমন বোকামার্কা ও সরল চিন্তার খবর পেয়ে এক বন্ধু বললেন, বেকুব, এতে আশ্চর্য হওয়ার কিছু নেই। সরকারের ক্রয়-বিক্রয়ে এর চেয়েও বড় ঘটনা ঘটে, ঘটছে। সেসব তোমরা জানতে পার না। এটা প্রকাশ হয়ে পড়েছে বলে এত হৈ চৈ করছো। রূপপুর বালিশ কেলেঙ্কারীর ঘটনার পর বালিশ নিয়ে চমকপ্রদ বেশ কিছু তথ্য বেরিয়ে আসছে। বেগম জিয়া এবং হুসাইন মুহাম্মদ এরশাদ তাদের বাসভবনে ব্যবহারের জন্য কত টাকা দিয়ে বালিশ ক্রয় করেছিলেন এমন তথ্যও প্রকাশ হয়ে পড়ছে যা এতদিন সাধারণের জানা ছিল না।
যাক, রূপপুরে কী ঘটেছিল তা একবার দেখে নেয়া যাক। পাবনার রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের আবাসন পল্লীতে কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের থাকার জন্য ২০ তলা উচ্চতার ১১ টি ও ১৬ তলা উচ্চতার আটটি ভবন নির্মিত হচ্ছে। এর মধ্যে ৮টি ২০ তলা ও একটি ১৬ তলা ভবন নির্মাণের কাজ শেষ হয়েছে। নির্মিত একটি ২০ তলা ভবনের প্রতিটি ফ্ল্যাটের জন্য একেকটি বালিশ কিনতে খরচ দেখানো হয়েছে পাঁচ হাজার ৯৫৭ টাকা। আর ভবনে সে বালিশ তোলার খরচ দেখানো হয়েছে প্রতিটি ৭৬০ টাকা। অন্যান্য আসবাবপত্রের মধ্যে একেকটি খাটের দাম দেখানো হয়েছে ৪৩ হাজার ৩৫৭ টাকা। আর তা ফ্ল্যাটে ওঠানোর খরচ ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা। একটি রেফ্রিজারেটর কেনা ৯৪ হাজার ২৫০ টাকা আর তা ওপরে ওঠানোর খরচ ১০ হাজার ৭৭৩ টাকা। বিষয়টি শেষ পর্যন্ত আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। এই ঘটনায় গণপূর্ত মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটিকে প্রতিবেদন দাখিলে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। একটি বিষয় এখানে উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ভবন নির্মাণ এবং তা সুসজ্জিত করার দায়িত্ব সরকারের গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের। রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প এই কেনাকাটা বা টেন্ডারের সাথে জড়িত নয়।
যা হোক আমার বন্ধুটি কথায় ফিরে আসি। তিনি বললেন, সরকারি কাজে যে কেনা-কাটা হয় তাতে এমন ঘটনা অস্বাভাবিক কিছু নয়। আর গণপূর্ত মন্ত্রণালয় কতটা দুর্নীতিপরায়ণ তা সরকারি ভবনগুলোর বেহাল অবস্থা দেখে সহজেই অনুমান করা যায়। তিনি বললেন, আপনি শুধু এই মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাজউক ও চউক বা সিডিএর অবস্থা দেখুন তাতেই আন্দাজ করে নিতে পারেন।
তার কথা শুনে ভাবতে বসলাম আরে তাই তো! রাজউকের কেলেঙ্কারির তো শেষ নেই। আর অন্যদিকে সিডিএর এক প্রকল্প পরিচালকের কাহিনী তো পরশুই পড়লাম। দুর্নীতিগ্রস্ত মন্ত্রণালয়ের অন্যতম গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অধীন রাজউকের ঘটনা অন্যদিনের জন্য থাক আজ সিডিএর প্রকল্প পরিচালকের কাণ্ডটি পড়ুন। একটি স্থানীয় দৈনিকের খবর অনুযায়ী চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের পরিচালক সিডিএর নির্বাহী পরিচালক প্রকৌশলী আহমেদ মাঈনুদ্দিন। তিনি গত এক বছরে তথ্য গোপন করে ৭টি দেশে ভ্রমণ করেছেন। এই দেশগুলো আমেরিকা, চীন, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, থাইল্যান্ড, ব্রাজিল ও পানামা।
ভ্রমণকালে তিনি ব্যক্তিগত পাসপোর্ট প্রদর্শন করেছেন এবং সরকারি কাজে নিযুক্ত বিষয়টি গোপন করেছিলেন। সে পত্রিকার খবরে বলা হয়েছে জলাবদ্ধতা প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে তিনি প্রকল্পের একটি গাড়ি ব্যবহার করেন এবং যার দাম ৬০ লাখ টাকা। এর বাইরে তিনি সমপরিমাণ টাকার আরেকটি টয়োটা হেরিয়ার নামে গাড়ি ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহার করেন।
আমার বন্ধুকে এই তথ্যটি দেওয়ার পর তিনি ভীষণ ক্ষেপে গেলেন আমার ওপর। বললেন, রোজা রেখে এই গরমে এমনিতেই কাহিল। তার ওপরে তুমি ‘বাইক্কা’ আলাপ করছো? আরে বেকুব প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্পের পরিচালক হিসেবে তার উচিত দুই কোটি টাকা দামের গাড়িতে চড়া। তোমরা নিজেরা ফকির বলে চিন্তাভাবনা থেকে ফকিরগিরি বাদ দিতে পারলা না। তুমি বাংলাদেশের প্রকল্প পরিচালকদের খবর রাখো? তাদের কাছে ঘেষার সুযোগ পেয়েছো কখনো? খামোখা ৬০ লাখ টাকা দামের গাড়ি আর কয়েকবার বিদেশভ্রমণটাকে বড় করে দেখছো। মনটা বড় করো, বুঝছো। দৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত করো। বালিশের চিন্তা-ফিন্তা মাথা থেকে ফেলে দাও। তোমার “ঘেঁডি লক” ঠিক হয়ে যাবে।
আমি ভাবছি তাই তো! আমার এত ভাববার দরকার কী? Email: [email protected]

সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধান করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান কক্সবাজার রেড জোন,শনিবার থেকে আবারো লকডাউন এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।