মুক্তিযুদ্ধের স্মারক তাঁরা কামরুল হাসান বাদল,লেখক,কবি, সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 03/05/2019-09:16am:    ঘোষণা দিয়ে যুদ্ধ করে স্বাধীন হওয়ার গৌরব বিশ্বে বেশি জাতির ইতিহাসে নেই। অধিকাংশ দেশই স্বাধীন হয়েছে শেষ পর্যন্ত আলোচনার টেবিলে বসে। অনেক সময় সমঝোতার মাধ্যমে। যুদ্ধ করে পরাধীনতার শেকল ভাঙার ইতিহাস বহন করে মাত্র কয়েকটি দেশ। এর মধ্যে বাংলাদেশ অন্যতম। বাঙালির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দূরদর্শী নেতৃত্বগুণের কারণে বাঙালি সে গৌরবের অধিকারী হয়েছে। তাঁর নির্দেশে এবং তাঁর নামেই এদেশের মানুষ নয় মাস ধরে জীবনবাজী রেখে যুদ্ধ করেছে, মৃত্যুকে তুচ্ছ করেছে এবং শেষ পর্যন্ত বিজয় লাভ করেছে। আর এই বিজয় লাভের মধ্য দিয়ে বাঙালি অর্জন করেছে তাদের প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র। এর আগে অন্তত চার হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালি কখানো স্বশাসিত ছিল না।
সব জাতির জীবনে যেমন মুক্তিযুদ্ধ করার সুযোগ ঘটে না তেমনি একটি জাতির সবার পক্ষে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়ার সুযোগ ও সৌভাগ্যও জোটে না। যেমন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ। জাতি হিসেবে বাঙালি এ গৌরবের অংশীদার হয়েছে বটে কিন’ এই জাতির সব সন্তানের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণের সুযোগ হয়নি। এবং এ সুযোগ আরেকবার ঘটার সম্ভাবনাও একেবারে ক্ষীণ। কারণ আর কখনো এ দেশে মুক্তিযুদ্ধ হবে না- মুক্তিযোদ্ধাও তৈরি হবে না। কাজেই ১৯৭১ সালে বাঙালির যে সন্তানরা মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন তাঁরা সৌভাগ্যবান প্রজন্ম। তাঁরা এক অনন্য গৌরবের অধিকারী যে গৌরবের অংশীদার হওয়ার সুযোগ আর কারো হবে না। পরবর্তীতে অনেকেই অনেক কিছু হতে পারবেন বটে কিন’ মুক্তিযোদ্ধা হওয়ার গৌরব, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার নিয়ে সমাহিত হওয়ার গৌরব শুধু মুক্তিযোদ্ধাদের।
একেক জন মুক্তিযোদ্ধা মুক্তিযুদ্ধের এক একটি স্মারক। একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যু মানে মহান মুক্তিযুদ্ধের একটি স্মারক কমে যাওয়া। খুব বেশি হলে আর দশ বছর। এর পর আর কোনো জীবিত মুক্তিযোদ্ধাকে আমরা দেখতে পাবো না। সে প্রজন্মের জন্য আমার ভীষণ মায়া হয়। তখন যারা বই-চলচ্চিত্র-নাটক-গান-কবিতা-ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস পড়বে, দেখবে, শুনবে, জানবে কিন’ সে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেওয়া এদেশের অকুতোভয় সন্তানেরা কেমন ছিলেন তা দেখার সুযোগ আর থাকবে না।
আমি যখন একজন মুক্তিযোদ্ধার কথা বলি তখন প্রকৃতপক্ষে আমি সকল মুক্তিযোদ্ধার কথা বলি। আমি যখন একজন মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতে শোক জ্ঞাপন করি তখন মূলত সকল মুক্তিযোদ্ধার মৃত্যুতেই শোকের প্রতিশব্দ লিখি।
বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রয়াত স্বপন কুমার ভট্টাচার্য্যকে নিয়ে যখন লিখতে বসি তখন আমাকে বাঙালির সে অবিস্মরণীয় বীরত্বগাথা নিয়ে লিখতে হয়, বাঙালির দীর্ঘ মুক্তি সংগ্রাম নিয়ে লিখতে হয়। কারণ তিনি স্বয়ং এর অংশ ছিলেন। তিনি সে ইতিহাসের রূপকারদের একজন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা। যাদের কারণে আজ স্বাধীন বাংলাদেশ। আমরা জানি যারা যুদ্ধে যান তাঁরা আবার ফিরে আসবেন সে প্রতিশ্রুতি দিয়ে যান না। স্বপন কুমার ভট্টাচার্য্য এবং তাঁর সাথীরা যে দিন জাতির পিতার আহ্বানে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন সেদিন অক্ষত দেহে আবার ফিরে আসবেন সে ভরসায় যুদ্ধে যাননি। তাঁরা তখন জানতেন না, নয় মাসে যুদ্ধ শেষ হবে। তাঁরা অনন্ত সময়ের জন্য যুদ্ধে গিয়েছিলেন। স্বাধীনতার জন্য নেদারল্যান্ড স্পেনের বিরুদ্ধে ৩০ বছর যুদ্ধ করেছে। আমাদের মুক্তিযুদ্ধও তেমন হতে পারত। একটি নির্দিষ্ট সময় যুদ্ধ করবেন এমন সম্ভাবনা নিয়েও তাঁরা যুদ্ধে যাননি।
তাঁরা জলে-স’লে-বনে-বাদারে যুদ্ধ করেছেন। খেয়ে না খেয়ে যুদ্ধ করেছেন। এবং কোনো প্রকার সুরক্ষামূলক পোশাক ছাড়া যুদ্ধ করেছেন। তাঁরা অসম একটি যুদ্ধ করেছেন। আধুনিক প্রশিক্ষণ ও অস্ত্রে সমৃদ্ধ পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে, সে অসম যুদ্ধে তাঁদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল দেশপ্রেম।
স্বপন কুমার ভট্টাচার্য্যের মত মুক্তিযোদ্ধারা কেমন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন? তাঁর উত্তর খুঁজে পাবো বাহাত্তরের সংবিধানে। যেখানে জাতির পিতার নির্দেশ ও পরামর্শে সন্নিবেশিত হয়েছিল- গণতন্ত্র, সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতিয়তাবাদ। এই মূল চার নীতির আলোকেই বাংলাদেশ স’াপিত হয়েছিল এবং স্বাধীনতার পর পরিচালিত হচ্ছিল। কিন’ সে পথে বাংলাদেশকে চলতে দেওয়া হয়নি। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি সংবিধান থেকে সমাজতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা ও বাঙালি জাতিয়তাবাদকে বাদ দিয়েছিল। আর গণতন্ত্র ? ১৫ আগস্টের মধ্য রাতের পর জাতির পিতার বুকে গুলি চালিয়ে প্রথমেই গণন্ত্রকেই হত্যা করা হয়েছিল।
এখনো বাংলাদেশ তাঁরা নির্দিষ্ট আদর্শ ও লক্ষ্যে চলছে না। এই বাংলাদেশটি একাত্তর এর বাংলাদেশ নয়। জাতির পিতার সে স্বপ্নের বাংলাদেশ নয়। দীর্ঘদিন সাম্প্রদায়িক শক্তিকে তোষনের ফলে দেশ এখন তার আদর্শ ও লক্ষ্য থেকে যোজন যোজন দূরে সরে গেছে।
কোনো এপিটাফ নির্মাণ করে নয়। হাজার শব্দের শোকগাথা রচনা করে নয়, বর্ণাঢ্য স্মরণসভা ও স্মারকগ্রন’ প্রকাশ করে নয়, মুক্তিযোদ্ধা স্বপন কুমার ভট্টাচার্য্যের প্রতি প্রকৃত সম্মান জানানো হবে সেদিন যেদিন তাঁর এবং তাঁর মত লক্ষ মুক্তিযোদ্ধার স্বপ্নের বাংলাদেশ গঠন করতে পারব। এই দেশকে সব ধর্মের, সব বর্ণের, সব লিঙ্গের দেশে পরিণত করতে পারব। যেদিন একটি শোষণহীন-বন্ধনহীন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠা করতে পারব।
আর এটা যদি আমরা করতে না পারি তাহলে কোনো মুক্তিযোদ্ধার আত্মা শান্তি পাবে না

সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধান করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান কক্সবাজার রেড জোন,শনিবার থেকে আবারো লকডাউন এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।