গতিহীন, নিয়ন্ত্রণহীন, গন্তব্যহীন বিএনপির রাজনীতি কামরুল হাসান বাদল

পোস্ট করা হয়েছে 02/05/2019-09:34am:    বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি এখন কার নেতৃত্বে চলছে তা বোঝা মুশকিল হয়ে পড়েছে। নেতৃত্বহীনতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং রাজনৈতিক দোদুল্যমনতা দলটিকে দিনদিন দুর্বল থেকে দুর্বলতম করে তুলছে। বর্তমানে দলটির রাজনৈতিক লক্ষ কী, কৌশল কী তা-ও বুঝতে পারছে না দেশের রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। দলকে মূলত কে নেতৃত্ব দিচ্ছেন সেটাই এখনো স্পষ্ট করতে পারেনি দেশের অন্যতম বৃহৎ এই রাজনৈতিক দলটি। দলের চেয়ারপার্সন জেলে যাওয়ার পর এবং তার আগে থেকে দলের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি তারেক রহমান লন্ডনে পালিয়ে থাকায় দলের যে নেতৃত্বশূন্যতা দেখা দিয়েছিল তা এতদিনেও পূরণ করতে পারেনি দলের অন্যান্য নেতারা। দলের এই নেতৃত্বের সংকট এবং সিদ্ধান্তহীনতার কারণে গত নির্বাচনে দলটি সংগঠিত হয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে দাঁড়াতেই পারেনি। এমনকি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ঐক্যফ্রন্টের বৃহৎ অংশ হিসেবেও। প্রতিষ্ঠার পর এত বড় বিপর্যয়ের মুখে আর পড়েনি বিএনপি নামক রাজনৈতিক দলটি, যেটি ৭৫ পরবর্তীকালের সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় গঠিত হয়েছিল। এবং গঠনের পর থেকেই দলটি মূলত দক্ষিণপন্থীদের নিয়ে রাজনীতি পরিচালিত করছিল। দলটি এমন একটি সময়ে গঠিত হয়েছিল যখন বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে রাজনৈতিক শূন্যতা বিরাজ করছিল। বঙ্গবন্ধুহীন আওয়ামী লীগ তখন অনেকটা নেতৃত্বশূন্য। কারণ দলের পরীক্ষিত ও ত্যাগী নেতারা তখন জেলে। কেউ পলাতক। এরমধ্যে জাতীয় চার নেতাকে জেলের অভ্যন্তরে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। আর মেরুদণ্ডহীন, আপোষকামী ও খন্দকার মোশতাকের অনুসারীরা তৎকালীন সরকারের অংশ হয়েছে। পরবর্তীতে তাদের অনেকে মোশতাক ও জিয়ার রাজনৈতিক শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছে।
নেতৃত্বহীনতা, দোদুল্যমনতা এবং ভুল পদক্ষেপের কারণে গত ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দলটি বড় কোনো ভূমিকা পালন করতে পারেনি।এমনকি ড. কামাল হোসেনের নেতৃত্বে ঐক্যফ্রন্টে থেকেও দলটি সারাদেশে আন্দোলন-সংগ্রাম গড়ে তুলতে পারেনি। নির্বাচনে যাওয়া না যাওয়া নিয়ে সিদ্ধান্তহীনতা, জামায়াতের সঙ্গ ত্যাগ না করা, মনোনয়ন বাণিজ্য করা এবং মনোনয়ন প্রদানে তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ ইত্যাদি কারণে নির্বাচনে দলটি কোনো প্রভাবই সৃষ্টি করতে পারেনি। এমনকি নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক কারচুপির অভিযোগ তোলার পরও সারাদেশে এর বিরুদ্ধে জনমত সংঘটনে ব্যর্থ হয়েছে দলটি।
নির্বাচনে দলটির ব্যাপক বিপর্যয় ঘটে। মহাসচিবসহ মাত্র ছয়টি আসনে জয়লাভ করে দল। নির্বাচনের পর ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে পুনরায় নির্বাচনের দাবি জানালেও তাদের কেউ সংসদ সদস্যপদ থেকে পদত্যাগ করেনি যদিও প্রথম থেকে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ না করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। অবশ্য নির্বাচনের পর ঐক্যফ্রন্টের নেতা ড. কামাল হোসেনও নির্বাচনী ফলাফল প্রত্যাখ্যান করে সংসদে যোগ না দেওয়া ও পুনরায় সাধারণ নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিলেন। কিন্তু এরই মধ্যে ড. কামাল হোসেনের গণফোরাম থেকে নির্বাচিত দুজন সুলতান মো. মনসুর এবং মুক্তাদির সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিচ্ছেন।
নব্বই দিনের মধ্যে শপথ নেওয়ার বাধ্যবাধকতার কারণে রোববার জাহিদুর রহমান এবং সোমবার আরও চারজন স্পিকারের কাছে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেন। পরে তারা পাঁচজনই গত সোমবার সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে যোগ দেন।
বর্তমান সংসদে যোগ না দেওয়ার কথা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেছেন বিএনপির সিনিয়র নেতারা। এ কারণে প্রথমে শপথ নেওযা সাংসদ জাহিদুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কারও করা হয়। রিজভী, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়রা যখন শপথ না নেওয়া এবং শপথগ্রহণকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির কথা মানববন্ধন ও সাংবাদিক সম্মেলনে প্রচার করছিলেন ও সময় অন্যদিকে ঘটে যায় নাটকীয় ঘটনা। বাকি চারজন শপথ গ্রহণ করে সাংবাদিকদের জানান দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন এবং সংসদে যোগ দিতে যাচ্ছেন।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের এই সিদ্ধান্তের খবর কি দলের মহাসচিব জানতেন না? বাকি চারজনের শপথ নেওয়ার সামান্য আগেও তো মির্জা ফখরুল বলেছেন অন্য কথা। শপথ নিয়ে স্পিকারের কক্ষ থেকে বেরিয়ে ওই চার সাংসদ যখন বললেন তারা দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সংসদে যোগ দিচ্ছেন তারপরই মহাসচিব মির্জা ফখরুলের সুর পাল্টে যায়। তিনি বলা শুরু করেন, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের নির্দেশেই দলীয় সিদ্ধান্তে চার সাংসদ শপথ নিয়েছেন। যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে একদিন আগে শপথ নেওয়া জাহিদুর রহমানকে দল থেকে বহিষ্কার করা হলো কেন? তার মানে গোটা বিষয়টি অত্যন্ত রহস্যজনক, অগোছালো ও পরিকল্পনাহীন। দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান কি কোনো শীর্ষনেতা এমন কি মহাসচিবের সঙ্গে কোনো প্রকার আলাপ-আলোচনা না করেই আকস্মিক সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিয়েছেন? এখন প্রশ্ন উঠেছে, পাঁচজনই যদি শপথ নিয়ে সংসদ অধিবেশনে যোগ দিয়ে থাকেন সে ক্ষেত্রে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাধা কোথায় শপথ নিতে এবং সংসদে যোগ দিতে। ২৯ এপ্রিল ছিল শপথ নেওয়ার শেষ দিন। মির্জা ফখরুল সাহেব এর মধ্যে শপথ নেননি। তার মানে তারেক রহমান অন্য পাঁচজনকে শপথ নিতে বললেও মির্জা ফখরুল সাহেবকে কি বলেননি? তারেক কি চান না মির্জা ফখরুল সংসদ সদস্য হিসেবে তার দায়িত্ব পালন করুক। শপথ গ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে একটি জাতীয় পত্রিকাকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, শপথ নেব কি না, সময় বাড়ানোর জন্য আবেদন করেছি কি না, সময় হলেই দেখতে পারবেন। গতকাল সারাদিন কেটেছে এই নাটকীয়তায়। সংসদ সচিবালয় সূত্র একদিকে বলছে মির্জা ফখরুল সময় বাড়ানোর আবেদন করেছেন অন্যদিকে তিনি নিজে বলছেন করেননি। অবশ্য অবশেষে শপথ না নেওয়ায় সংসদে স্পিকার তার আসনটি শুন্য ঘোষণা করেন।
এরপর মির্জা ফখরুল সাংবাদিকদের বলেন, সংসদে তার না যাওয়াও একটি রাজনৈতিক কৌশল। এরপর রাজনৈতিক দেউলিয়াত্ব কাকে বলে তা আর বিশদভাবে বর্ণনা করার দরকার পড়ে না।
ভালোই বলেছেন মির্জা ফখরুল। সময় আমাদের অনেক কিছুই দেখাচ্ছে। জাহিদুর রহমানের শপথের পর এবং বাকি চারজনের শপথ গ্রহণের সময়েই বিএনপির নেতারা দল ও ঐক্যফ্রন্টের সিদ্ধান্ত অমান্য করে শপথ নেওযা সাংসদদের গণ দুশমন ও বেঈমান বলে আখ্যায়িত করছিল। আর চার সদস্যের শপথ গ্রহণের পরপর সুর পাল্টে বলছে, জাতীয় রাজনীতির এই সংকটময় মুহূর্তে বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা, মুক্তি ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের সংগ্রামের অংশ হিসেবে আমাদের দল সংসদে অংশগ্রহণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিএনপির বর্তমান এই হাল দেখে অনেকে বলছেন, ‘শেষেতো নথ খসালি, তবে কেন লোক হাসালি’। বিএনপির এমন কর্মকাণ্ড নতুন নয়। অন্তত গত দশ বছর ধরে তাদের রাজনৈতিক গতিবিধি এবং নানা সিদ্ধান্ত পর্যালোচনা করলে বোঝা যায় দলটি কার্যত নিয়ন্ত্রণহীন গতিহীন এবং চূড়ান্তভাবে নেতৃত্বহীন।
নির্দিষ্ট আদর্শ ছাড়া আওয়ামী লীগবিরোধী নানা দলের নানা মতের নেতাদের নিয়ে গঠিত দলটির আজকের এই অবস্থা নির্ধারিতই ছিল। অনেকে অবাক হলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই। লেখক : কবি ও সাংবাদিক

সর্বশেষ সংবাদ
এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।  তথ‌্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি মহোদয়ের শুভ জন্মদিন আজ করোনায় পোশাক কারখানায় ৫৫ শতাংশ কাজ কমে গেছে: রুবানা হক