রাজনৈতিক ডিগবাজি; আদর্শের না আক্রোশের কামরুল হাসান বাদল লেখক কবিও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 29/11/2018-12:52pm:    লেখাটি যখন লিখছি তখন পর্যন্ত শেষ ডিগবাজি দেওয়া লোকটি হলেন ১৯৯৬-২০০১ আওয়ামী লীগ সরকারের তথ্য প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক আবু সাইয়িদ। জাতির জনক হত্যার ২১ বছর পর পুনঃক্ষমতায় আসা আওয়ামী লীগ সরকারের এই প্রতিমন্ত্রী ওয়ান ইলেভেনের পর মাইনাস টু ফর্মূলার সমর্থক হওয়ার কারণে ২০০৮ সালের নির্বাচনে দলের মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হন। ২০১৪ সালেও তিনি চেষ্টা করেছিলেন। মনোনয়ন না পেয়ে আবু সাইয়িদ স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করে নৌকার প্রার্থী শামসুল হক টুকুর কাছে হেরে যান। ১৯৭০ সালে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে তিনি পাকিস্তান জাতীয় পরিষদের সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু তাঁকে সংবিধান প্রণয়ন কমিটির সদস্য মনোনীত করেছিলেন।
গণফোরামে যোগ দিয়ে একাদশ সংসদ নির্বাচনে পাবনা-১ আসন থেকে তিনি ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের জন্য মাঠে নেমেছেন।
একাদশ সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বেশ পরিবর্তনের হাওয়া বইতে শুরু করে। এরই মধ্যে অনেক মেরুকরণ বা পরিবর্তন জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে। মনোনয়ন প্রত্যাহারের শেষ দিন পর্যন্ত আরও যে অনেক চমক অপেক্ষা করছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। ‘রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই’ বক্তব্য প্রদান করে রাজনৈতিক ডিগবাজিতে অনেকে বিস্মিত হলেও আমি মোটেও বিস্মিত হইনি, কারণ দেশের রাজনীতি এখন যেখানে গেছে বা যেখানে নিয়ে যাওয়া হয়েছে তাতে এমন কাণ্ডকারখানায় আর বিস্মিত হওয়ার অবকাশ নেই। তাই বলেছি মনোনয়ন প্রত্যাহারের এক ঘণ্টা আগে পর্যন্ত আরও অনেক বিস্ময়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে আমাদের। আবু সাইয়িদ যে প্রথম ব্যক্তি নির্বাচনে দাঁড়ানোর জন্য দলবদল করলেন তা নয়। নতুন করে যোগ দেওয়া তাঁর দল গণফোরামের সভাপতি ড. কামাল হোসেন থেকে শুরু করে জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট গঠনের অন্যতম কুশীলবরা অধিকাংশই আওয়ামী লীগত্যাগকারী বা বহিষ্কৃত নেতা। ড. কামাল হোসেনসহ এদের কয়েকজন এখন ঐক্যফ্রন্টের মঞ্চে বঙ্গবন্ধুর কথা বলছেন, মনসুর ও কাদের মুজিবকোটও পরছেন। কাদের সিদ্দিকী আবার এক কাঠি সরেশ। মুজিবকোটের পাশে বুকের ওপর বিএনপির নির্বাচনী প্রতীক ধানের শীষের লোগোও লাগিয়েছেন। ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়ে তিনি বলেছেন, মুজিব ও জিয়া, দুজনকেই তিনি ভালোবাসেন, ক্ষমতায় গিয়ে দুজনের মধ্যে একটি সমন্বয় করবেন। পাঠকরা লক্ষ্য করে থাকবেন শুধু কাদের সিদ্দিকীই নন, ঐক্যফ্রন্টে যোগ দেওয়া বা ঐক্যফ্রন্ট গঠন করার পেছনে যাদের অবদান সবচেয়ে বেশি তাদের বক্তব্যে এক ধরনের অসংলগ্নতা আছে। মানুষের বিশেষত্ব হলো, সে যখন কোনো অন্যায় করে, অন্যায্য কোনো কাজ করে তখন সে নিজের বিবেকের কাছেই প্রশ্নবিদ্ধ হতে থাকে। ফলে সে নিজেকে নিজে শোনানোর মতো করে তার বর্তমান অবস্থানের পক্ষে কিছু যুক্তি দাঁড় করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু মুশকিল হলো, এরা বুঝতে পারেন না, সাধারণ মানুষ এতটা বোকা নন। তাদের যুক্তিগুলো অন্যদের কাছে হাসির খোরাক হয়ে উঠছে। এদের রাজনৈতিক মতলববাজী মানুষ ধরতে পারছে। এদের ডিগবাজির কারণে যে দল বা জোটটি লাভবান হচ্ছে তাদের কর্মী সমর্থক সাময়িকভাবে তাদের এই অবস্থানে খুশি হলেও এই নেতাদের প্রতি তাদের শ্রদ্ধা বা ভক্তি থাকে না। তারাও এদের গ্রহণ করেন সন্দেহ ভরা মন নিয়ে, বসন্তের কোকিল হিসেবে।
শুধু ক্ষমতার জন্য, শুধু এমপি হওয়ার জন্য যারা দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক আদর্শ পরিহার করতে পারেন, একেবারে সম্পূর্ণ বিপরীত শক্তির সঙ্গে হাত মেলাতে পারেন তারা কতটা নিবেদিত এবং ক্ষমতায় গিয়ে তারা কতটা সৎ থাকবেন তা প্রশ্ন সাপেক্ষ। কারণ নীতি ও আদর্শ জলাঞ্জলি দিয়েই তারা দলবদল করে ক্ষমতায় যাওয়ার পথ প্রশস্ত করতে চান।
দলবদলের এই সংস্কৃতি অবশ্য নতুন নয়। ১৭৫৭ সালে পলাশীর আম্রকাননে সিরাজের পরাজয় ঘটেছিল এমন দল বা পক্ষ বদলের কারণে। আর তা হয়েছিল চরম বিশ্বাসঘাতকতার মধ্য দিয়ে। লর্ড ক্লাইভও ক্ষমতা ও অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে মীর জাফর, রায় বল্লভদের সিরাজের পক্ষ ত্যাগ করিয়ে নিজের পক্ষে নিয়েছিলেন।
সেই মীর জাফরদের ভাগ্যে শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছিল তা ইতিহাসের পাঠকমাত্রই জানেন। দল ত্যাগ ও যোগদান এরপরে এই ভূখণ্ডে আরও বেশ কয়েকবার ঘটেছে। বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনীতে দেশ বিভাগের পূর্বে অবিভক্ত বাংলার রাজনীতিতে কীভাবে দলবদল করে সরকার পতন ঘটানো হতো তার বিবরণ আছে। বঙ্গবন্ধুর মতো ছাত্রনেতারা এ ধরনের রাজনীতিকদের কীভাবে পাহারা দিয়ে রাখতেন তারও বর্ণনা আছে। তবে কিছু কিছু দলবদল ও যোগদান ঐতিহাসিক কারণে ও জনগণের কল্যাণে এবং সময়ের প্রয়োজনেও ঘটেছিল। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন এবং ১৯৭০ সালের নির্বাচনের পূর্বেও এমন দলবদলের বা যোগদানের ঘটনা ঘটেছিল। তবে তা ঘটেছিল ইতিবাচকতার সূত্রে। পাকিস্তানের শাসন-শোষণে অতিষ্ঠ হয়ে, মুসলিম লীগের মতো দলের দালালীর রাজনীতি থেকে বের হয়ে বাঙালির স্বাধীকার ও স্বাধীনতার পক্ষে অবস্থান নিতে অনেকে মুসলিম লীগ ত্যাগ করে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলেন। বঙ্গবন্ধু এবং তৎকালীন আওয়ামী লীগের নেতারা মুসলিম লীগের দুর্গে হানা দেওয়ার লক্ষ্যে মুসলিম লীগের নেতাদের শিক্ষিত ও আধুনিক সন্তানদের টার্গেট করে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে উদ্বুদ্ধ করতেন এবং দলে আত্তীকরণ করতেন। এভাবে তারা মুসলিম লীগকে দুর্বল করতে সফলও হয়েছিলেন। এর মধ্যে খুব অল্প সংখ্যক পরবর্তীতে ডিগবাজি দিলেও অধিকাংশই গণমানুষের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত থেকে গেছেন শেষ পর্যন্ত।
১৭৫৭ সালের পর রাজনীতিকদের কেনাবেচা, অর্থ ও ক্ষমতার লোভ দেখিয়ে ভাগিয়ে নেওয়ার সংস্কৃতি ফের চালু করেছিলেন জেনারেল জিয়া। ক্ষমতালিপ্সু জিয়াউর রহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও সামরিক বাহিনীর প্রধান থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক দল গঠনের লক্ষ্যে সে সময় বিভিন্ন দল থেকে নেতাদের ভাগিয়ে এনেছেন। ডান-বাম-মধ্য-মুক্তিযোদ্ধা-রাজাকার মিলে গঠন করেছিলেন জাগদল যা পরবর্তীতে জাতীয়তাবাদী দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ ঘটে। স্বাধীন দেশে প্রথমবারের মতো রাজনীতিকদের অনৈতিক সুবিধা দিয়ে দলবদল করার প্রক্রিয়া শুরু করেছিলেন জিয়াউর রহমান। পরবর্তীতে জেনারেল এরশাদও এই প্রক্রিয়ায় তার জাতীয় পার্টি নামে রাজনৈতিক দলের গোড়াপত্তন করেছিলেন।
আজ রাজনীতি নিয়ে দেশের সচেতন মহলে যে উদ্বেগ, রাজনীতিকদের মধ্যে আদর্শ নীতি, ত্যাগ, সততা ইত্যাদি নিয়ে যে প্রশ্ন ও হতাশার জন্ম নিয়েছে, রাজনীতি এখন প্রকৃত রাজনীতিকদের হাতে নেই বলে যে অভিযোগ ও আক্ষেপ করা হয়ে থাকে তাতো শুরুই হয়েছিল জেনারেল জিয়ার হাত ধরে। ক্ষমতার জন্য হেন কোনো নিকৃষ্ট কূটনীতি নেই যা তিনি করেননি। বহুদলীয় গণতন্ত্রের তথাকথিত প্রবক্তা জেনারেল জিয়ার হাত দিয়েই এদেশে মানবতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক ও ধর্মভিত্তিক রাজনীতি পুনঃযাত্রা শুরু হয়েছিল দেশে। আর এসব কিছুই করেছিলেন তিনি বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে দুর্বল ও নিশ্চিহ্ন করার হীন লক্ষ্য নিয়েই। আজকে যারা শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিএনপির সাথে গাঁটছড়া বেঁধেছেন তারা কতটুকু আদর্শ থেকে আর কতটুকু শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে করছেন তা ভাববার অবকাশ আছে। কারণ দেশের পরিবর্তন যদি হতে হয়, রাজনীতিতে পরিবর্তন যদি হতে হয় তবে তা ইতিবাচক পরিবর্তনই হওয়ার কথা। পরিবর্তন মানে তো ভালো অবস্থা থেকে অধিকতর খারাপ অবস্থায় যাওয়া নয়। একটি সহজ প্রশ্ন, শেখ হাসিনাকে হটিয়ে বা ক্ষমতাচ্যুত করে তারেক রহমানকে ক্ষমতায় আনা কেমন পরিবর্তন, কিসের পরিবর্তন? আবার জামায়াতের ক্ষমতা গ্রহণ, আবার জঙ্গিবাদ, আবার হাওয়া ভবনের প্রবর্তন করে ড. কামাল-মান্না-রব-কাদের কী ধরনের পরিবর্তন সাধন করবেন তা দেশের মানুষ বুঝতে পারছে না। বাংলাদেশের রাজনীতি দ্বিদলীয় বৃত্তের মধ্যেই আবদ্ধ। তৃতীয় কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থানের তেমন সম্ভাবনাও এখন বিদ্যমান নয়। বরং যে সম্ভাবনা ছিল তা ড. কামাল এবং মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমদের মতো নেতারা বিনষ্ট করেছেন। উল্টো এখন তারা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জামায়াত-বিএনপি জোটের ঘাড়ে সওয়ার হয়েছেন। দ্বিদলীয় রাজনীতির বৃত্ত থেকে দেশকে বা দেশের রাজনীতিকে মুক্ত করার কথা যারা বলেন তারা গত দশ বছর ডিমে তা দিয়েছেন, তাতে বাচ্চাতো ফোটেই নি এখন তারা সব দোষ আওয়ামী লীগের কাঁধে চাপিয়ে ধানের শীষের ওপর সওয়ার হয়েছেন। এখন আমার প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশের রাজনীতিতে বিএনপি ও আওয়ামী লীগ একই হলো কি না। দুদলকেই একই পাল্লায় মাপা যাবে কি না। দুপক্ষ বা দুদলকে নিয়ে ছোট্ট একটি তুলনামূলক বিচার করি-এক পক্ষ অর্থাৎ বিএনপির জন্মদাতা ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত, হত্যাকারীদের পৃষ্ঠপোষকতাকারী এবং সেই হত্যাকাণ্ডের বিচার রুদ্ধ করতে ইনডেমনিটি আইন পাসকারী। সে পক্ষ জেল হত্যাকারীদের সহায়ক, তাদের পুনর্বাসনকারী। তাদের সুরক্ষাকারী। সে পক্ষ দেশে সাম্প্রদায়িক রাজনীতির জন্মদানকারী, পৃষ্ঠপোষক ও মিত্র। সে পক্ষ ২০০১ সালের নির্বাচনের পর সারাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতনকারী। সে পক্ষ ২০০৪ সালে বঙ্গবন্ধু অ্যাভেনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে প্রকাশ্য গ্রেনেড হামলাকারী। আর অন্যপক্ষ অর্থাৎ আওয়ামী লীগ এই সমস্ত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষ। দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিদার, সুশাসন প্রতিষ্ঠার জন্য সোচ্চার সুশীলদের কাছে আমার প্রশ্ন, মাত্র এই কয়েকটি ঘটনার কারণেই দুদলকে একই পাল্লায় মাপা যায় কি না। একইভাবে বিচার করা যায় কি না?
সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের বদিউল আলম মজুমদার, সিপিডির দেবপ্রিয় বিশ্বাস, এক শ্রেণির সুশীল, ড. কামাল-রব-মান্না-কাদের-মনসুর-জাফরউল্লাহ-আবু সাইয়িদরা কি তা বোঝেন না ? অবশ্যই বোঝেন। তারা আমার মতো ছাপোষা কোনো সাংবাদিক নন। আমার চেয়ে অনেক জ্ঞানী-গুণী ও বিজ্ঞজন। প্রশ্ন হলো, বুঝেও তারা বিএনপির মতো রাজনৈতিক দলের কাঁধে সওয়ার হলেন কেন? যে বিএনপির অন্যতম মিত্র জামায়াতে ইসলামী। এরা সবাই মিলে বাম দলগুলোর সাথে তৃতীয় রাজনৈতিক একটি প্ল্যাটফর্মতো তৈরি করতে পারতেন। তারা সেটা করেননি কারণ, তারা কোনো আদর্শের জন্য, কোনো নীতির জন্য জোট গঠন করেন নি। তারা সবকিছুই করছেন ব্যক্তিগত আক্রোশ থেকে। এই আক্রোশটা কার প্রতি? শেখ হাসিনার প্রতি। এখন আমরা সামান্য বিশ্লেষণ করে দেখতে পারি এই আক্রোশটি কেন?
ড. কামাল হোসেন বঙ্গবন্ধু সরকারের আইনমন্ত্রী ছিলেন, পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। ১৯৮১ সালে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতাও করেছিলেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ পরাজিত হলে দলের মধ্যে সৃষ্ট নানা কারণে ড. কামাল আওয়ামী লীগ থেকে বেরিয়ে গিয়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কৃত মোস্তফা মহসিন মন্টুকে নিয়ে গণফোরাম গঠন করেন। ১৯৮১ সালে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে দলের নেতৃত্ব গ্রহণে ড. কামালের উদ্যোগ থাকলেও তিনি এবং তাঁর মতো সিনিয়র কিছু নেতা ভেবেছিলেন শেখ হাসিনা শুধু তাদের পরামর্শেই পরিচালিত হবেন। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে দলের অভাবিত পরাজয়ে এসব নেতারা সমালোচিত হন। এদের বলয় থেকে মুক্ত হয়ে শেখ হাসিনা যেদিন থেকে তাঁর সিদ্ধান্তে দলকে পরিচালিত করছেন সেদিন থেকে আওয়ামী লীগ প্রকৃতভাবে সফল হতে শুরু করে। এরপর দীর্ঘদিন ড. কামাল গণফোরাম নিয়ে থাকলেও তিনি দলের একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি পর্যন্ত করতে পারেননি। আর শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ টানা দশ বছরসহ মোট ১৫ বছর দেশের শাসনভার পরিচালিত করেছে। কাদের সিদ্দিকী যতদিন আওয়ামী লীগে ছিলেন ততদিন তিনি মনে করেছিলেন দল তাঁর যোগ্য মর্যাদা দিচ্ছে না। নানা কারণে বিতর্কিত টাঙ্গাইলের এই সিদ্দিকী পরিবারের সন্তান কাদের সিদ্দিকীর আবদার আর অভিযোগে অতিষ্ঠ ছিলেন শেখ হাসিনা। শেষে যোগ্য সম্মান না পাওয়ায় কথিত অভিমান নিয়ে কাদের সিদ্দিকী আওয়ামী লীগ ত্যাগ করে জামায়াত থেকে জাতীয় পার্টি সব দলের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে এখন ড. কামালের পা ছুঁয়ে-তাঁর বায়েত হয়েছেন। বিভ্রান্ত, পথভ্রষ্ট আ স ম আবদুর রব স্বাধীনতার পর কী করেছেন তার সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া দুষ্কর কারণ তিনি নিজেই নিজের রাজনৈতিক আদর্শ বোঝেন নি কখনো। বঙ্গবন্ধুর মতো নেতার নির্দেশ ও প্রশ্রয়ে যতদিন রাজনীতি করেছিলেন ততদিনই তার জীবন ও রাজনীতির উজ্জ্বলতম সময়। এর বাইরে তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন রাজনৈতিক এতিম।
মাহমুদুর রহমান মান্না জাসদ রাজনীতি করলেও তিনি প্রগতিশীল ঘরানার মানুষ ছিলেন না কখনো। আওয়ামী লীগে এসেছিলেন এমপি হওয়ার আশায়। ওয়ান ইলেভেনের সময়ে বিতর্কিত অবস্থানের কারণে দলে এক সময় উপেক্ষিত হয়ে পড়েন। শেষমেশ ঢাকা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন লাভে ব্যর্থ হয়ে আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী হয়ে পড়েন। কয়েক বছর আগে সাদেক হোসেন খোকার সাথে টেলিফোনে কথোপকথনে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় চত্বরে লাশ ফেলার পরামর্শ দিয়ে জেলের ঘানি টেনেছেন। মান্না অনেক হিসাব করে দেখেছেন বগুড়া থেকে জিততে হলে সবচেয়ে সহজ উপায় হলো বিএনপি করা। ফলে তিনি ধানের শীষকেই শেষ পর্যন্ত এলাহী ভরসা করে নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক ভিপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুরের অবস্থাও তাই। মাইনাস টু ফর্মুলার সমর্থক মনসুর ২০০৮ সাল থেকে কোণঠাসা ছিলেন। ন্যায়-নীতি, আদর্শ-সুষ্ঠু রাজনীতি এবং সুশাসন প্রতিষ্ঠা কোনোটিই বড় কথা নয়, মূলত এরা সবাই ব্যক্তিগত আক্রোশের কারণে শেখ হাসিনার পতন চাইছেন। ফলে সবকিছু বিসর্জন দিয়ে ধানের শীষ মার্কায় নির্বাচন করতেও এদের কোথাও বাঁধছে না। এদের একটাই উদ্দেশ্য এখন যে ঘরেই হোক আওয়ামী লীগকে পরাজিত করা, শেখ হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা।
আমরা তর্কের খাতিরে মেনে নিচ্ছি, শেখ হাসিনা পরাজিত হলেন, আওয়ামী লীগ হেরে গেল। এরপর রাষ্ট্র ক্ষমতায় কারা আসবে? ড. কামালের ঐক্যফ্রন্ট? না কি জামায়াত-বিএনপির ২০ দলীয় জোট। রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান কে কে হবেন? ২০ দলীয় জোট ঐক্যফ্রন্ট বা কামাল-মান্না-রবদের সর্বোচ্চ ৫০টি আসন ছেড়ে দেবে। সবকটিতে জয়লাভ করলেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে জামায়াত-বিএনপির ২০ দলীয় জোট। এদের অবস্থান কী হবে তখন? না কি তারেক রহমানকে প্রধানমন্ত্রী করার একটা হীন জঘন্য উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে কোনো শক্তি কামাল-মান্না-রব-কাদেরদের মাঠে নামিয়েছেন?
জাতির জনক দেশকে স্বাধীন করে একটি অসাধারণ সংবিধান উপহার দিয়েছিলেন। সে সংবিধানের শুরুতে তিনি উৎকীর্ণ করেছিলেন, ‘এ দেশের সকল ক্ষমতার মালিক হইবে জনগণ’। ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে সে জনগণ বেছে নিক তারা বিশ্ববরেণ্য নেতা শেখ হাসিনাকে চায় না কি সন্ত্রাসবাদের নায়ক তারেক রহমানকে চায়। [email protected]

সর্বশেষ সংবাদ
সোনার বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রত্যয়ে মুজিববর্ষে একাগ্রতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালনেরও আহ্বান:প্রধানমন্ত্রীর বিএনপির গণতন্ত্র হচ্ছে ‘মুখে শেখ ফরিদ আর বগলে ইট:সেতুমন্ত্রী আইসিটির সমন্বয়ক হান্নান খানের মৃত্যুতে প্রধানমন্ত্রীর শোক সবাই মিলে দিব কর, দেশ হবে স্বনির্ভর:রাষ্ট্রপতি রেল সেতুটির নির্মাণ সম্পন্ন হলে আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে:প্রধানমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত ওস্তাদ শাহাদাত হোসেন চলে গেলেন না ফেরার দেশে আজ বহু প্রতীক্ষিত বঙ্গবন্ধুর রেল সেতুর উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী ব্রেকিং নিউজ »আজ থেকে শীতের প্রকোপ বাড়ার আশঙ্কা সরকারের সরলতাকে দুর্বলতা ভাববেন না:সেুতুমন্ত্রী মিরসরাইয়ে যুবলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত