পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত আছি তো-কামরুল হাসান বাদল লেখক কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 26/07/2018-01:00pm:    গত ত্রিশ বছরে সারা বিশ্বে যে পরিবর্তন ঘটেছে তা বিস্ময়কর। সেটি গত কয়েক শ বছরের পরিবর্তনেরও অধিক। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের ক্ষেত্রে। ত্রিশ বছর আগে যা ছিল কল্পকাহিনি এখন তা বাস্তব। খুব দ্রুত পরিবর্তনগুলো ঘটছে। প্রযুক্তির এই পরিবর্তন পাল্টে দিচ্ছে আমাদের জীবনধারা। বিশ্বাস, ধারণা এবং সম্ভবত বিবর্তন। এই পরিবর্তন যে শুধু ইতিবাচক তা নয়। প্রযুক্তির উন্নয়ন এমন একটি পর্যায়ে পৌঁছাচ্ছে যা কিছু কিছু ক্ষেত্রে মানবসভ্যতা বা এ গ্রহে মানবের বসবাসের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে। এমনিতেই বিশ্বের কয়েকটি দেশে যে পারমাণবিক অস্ত্রের মজুত আছে তা দিয়েই বিশ্বকে ধ্বংস করা যাবে অনেকবার।
আমার জন্ম ষাট দশকের শুরুতে। প্রকৃতভাবে দেখতে এবং কিছুটা বুঝতে শুরু করেছি সত্তর দশক থেকে। অন্তত গত চার দশকে যে পরিবর্তন দেখলাম তাতেই অবাক হয়ে যাই। ভাবি, আমার চেয়ে বয়োজ্যেষ্ঠ চল্লিশ, পঞ্চাশ দশকে জন্ম নিয়েছিলেন তাদের চোখে পরিবর্তন আরও বিস্ময়কর। এক সময় যে বাসায় একটি ল্যান্ড ফোন থাকতো তাদের কী ভাগ্যবান আর সুখীই না মনে হতো। কারো কাছে একটি ফোন করার ইচ্ছা নিয়ে এই শহরে কতই না ঘুরেছি। আহা একটি ফোন! সেটিও কত অধরা ছিল আমাদের মতো পরিবারের সন্তানদের কাছে। আজ টি অ্যান্ডটির সেই ল্যান্ড ফোন অনেকটা পরিত্যক্ত। ঘরের কোনো একটি কোণায় তার ঠাঁই। কালে–ভদ্রে কোনো পুরনো স্বজনের ফোন বেজে উঠলে মনে পড়ে ঘরে আরও একটি যন্ত্র আছে। ফোন ধরতে ধরতে মনে করার চেষ্টা করি শেষ কবে ফোনের বিল জমা দিয়েছিলাম। কত বছরেরই বা ব্যবধান। আজ অনেকে এক রুম থেকে অন্য রুমের কারো সাথে অনেক সময় কথা সেরে নিই মোবাইলে। একটি মোবাইল সেট বর্তমানে আপনার হাতে থাকা মানে পুরো বিশ্বের সমস্ত তথ্য আপনার হাতে থাকা। এই তো মনে হয় সেদিনের ঘটনা। মানুষের বাড়ির ছাদে ছাদে শোভা পেতো নানা ধরনের অ্যান্টেনা। এমনকি ডেকচির ঢাকনা পর্যন্ত। অনেকের বড় দায়িত্ব হয়ে দাঁড়াতো দিনে কয়েকবার সে ঢাকনা ডানে–বামে ঘোরানো আর নিচে দাঁড়িয়ে থাকা কাউকে চিৎকার করে জিজ্ঞাসা করা, ক্লিয়ার হয়েছে? দেখা যাচ্ছে? একটি সাপ্তাহিক নাটক দেখার জন্য টিভি আছে এমন প্রতিবেশীকে কত তোয়াজ করতে হতো। মোহাম্মদ আলী ক্লের মুষ্টিযুদ্ধ দেখার জন্য কত মাইল পাড়ি দিয়ে একটি টেলিভিশনের সামনে বসার সুযোগ হয়েছে। এই প্রজন্মের সন্তানদের কাছে তা গালগল্প বলেই মনে হবে।
ষাট দশকের মাঝামাঝিতে চট্টগ্রামে নির্মাণ করা হলো অত্যাধুনিক শপিংমল বিপণি বিতান বা নিউ মার্কেট। অ্যাসকেলেটর বা চলমান সিঁড়ি স্থাপিত হলো নিউ মার্কেটে, দেশে প্রথমবারের মতো। সে চলমান সিঁড়ি দেখার জন্য, তাতে ওঠার জন্য কত দর্শনার্থী ভিড় জমাতো বিপণি বিতানে। মনে হয় এইতো সেদিনের কথা। শুধু জামাইয়ের পাতে দেওয়ার জন্য ‘মোসাম্মান’ বা মহররমের ‘দুরুছ’ চিকেন গ্রিল হয়ে খাবারের দোকানে দোকানে সামনের দিকে শোভা পাবে ভেবেছিল কেউ? পরিবর্তনের বিষয়গুলো তুলে ধরে শেষ করা যাবে না। এই পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে আমাদের জন্য কী অপেক্ষা করছে তার একটি ধারণা তুলে ধরার জন্য আজকের লেখার অবতারণা।
https://www.facebook.com/798161523678107/photos/a.855216201305972.1073741828.798161523678107/981351932025731/?type=3&theater
Email: [email protected]

সর্বশেষ সংবাদ