রাশিয়া বিশ্বকাপে রেকর্ড ভেঙার চমক

পোস্ট করা হয়েছে 25/06/2018-09:00am:    গাজী আরাফাত চৌধুরী প্রতিবেদনঃ গোলের বিশ্বকাপ, রাশিয়া বিশ্বকাপ। জমে উঠেছে ফুটবলের এ মহাযজ্ঞ। আগের দিনই টানা ২৬ ম্যাচে গোলের রেকর্ড ভেঙেছিলো রাশিয়া। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচ পর্যন্ত টানা ৩১ টি ম্যাচেই গোল পেয়েছে বিশ্বকাপ। প্রতিটি ম্যাচেই হচ্ছে গোল। এরমধ্যে আবার গোল উৎসব করেছে রাশিয়া ও বেলজিয়াম। তবে গতকাল তাদের পেছনে ফেলল গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্বে বিদায় নেওয়া ইংল্যান্ড। হ্যারি কেইনের হ্যাটট্রিক আর জন স্টোনসের জোড়া গোলে পানামাকে ৬–১ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে গ্যারেথ সাউথগেটের শিষ্যরা। এ জয়ে গ্রুপ ‘জি’ থেকে বেলজিয়ামের সঙ্গী হয়ে দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট পেয়ে গেল সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড। একই সঙ্গে টানা দুই ম্যাচ হেরে তিউনিশিয়ার পর গ্রুপ পর্ব থেকে দ্বিতীয় দল হিসেবে ছিটকে গেল এবারই প্রথম খেলতে আসা ক্যারিবীয়ান দেশ পানামা। দিনের দ্বিতীয় ম্যাচে ২–২ গোলের ড্রয়ে নকআউট পর্বের আশা বাঁচিয়ে রাখালো জাপান ও সেনেগাল। বিশ্বকাপের আন্ডারডগ হয়ে খেলতে এসেছিলো এ দুই দল। কিন্তু এইচ গ্রুপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে শক্তিশালী কলম্বিয়া ও পোল্যান্ডকে হারিয়ে নিজেদের বীরত্ব দেখিয়েছিলো এ দুই দল। গতকাল নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে রোমাঞ্চভরা ফুটবল উপহার দিয়েছে এশিয়ার সূর্যোদয়ের দেশ জাপানের মুখোমুখি হওয়া আফ্রিকার নয়াশক্তি সেনেগাল। আগের ম্যাচে ১০ জনের কলাম্বিয়াকে ২–১ গোলে হারিয়ে দেয় জাপান। তাদের ওই বিজয়টি ছিল প্রশংসনীয়। এশিয়ার তিন দলের মধ্যে ইরান ও জাপান প্রথম ম্যাচে জয় পেলেও দক্ষিণ কোরিয়া হেরেছে। যদিও দ্বিতীয় ম্যাচে স্পেনের কাছে হেরে ইরান পিছিয়ে পরায় হতাশ হয়েছে এশিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা। অবশ্য সুযোগ এখনো শেষ হয়ে যায়নি ইরানের। গতকাল সেনেগালের বিপক্ষে দুইবার পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত ড্রয়ে শেষ ষোল’র পথেই থাকলো জাপানও। নিজনি নভগোরোদে খেলায় প্রথমার্ধে ৫–০ গোলে এগিয়ে ছিল ইংলিশরা। ম্যাচের ৮ মিনিটেই কর্নার থেকে উঠানো বলে গোল করে ইংলিশদের এগিয়ে দেন জন স্টোনস। ২২ মিনিটে পেনাল্টি থেকে গোল করে দলকে এগিয়ে দেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন। তবে এখানেই তৃপ্তির ঢেকুর তুলেননি ইংলিশরা। ম্যাচের ৩৬ মিনিটের মাথায় জোসে লিনগার্ড এবং ৩৯ মিনিটের মাথায় ফের গোল করে ইংলিশদের ৪–০ গোলে এগিয়ে দেন জন স্টোনস। প্রথমার্ধের শেষ মিনিটে ডি বক্সের মধ্যে পানামার ডিফেন্ডাররা হ্যারি কেইনকে ফেলে দিলে পেনাল্টি পায় ইংল্যান্ড। সেখান থেকে ইনজুরি টাইমে গোল করে দলকে আরও এগিয়ে (৫–০) দেন কেইন। দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল পায় ইংলিশরা। বিরতির পর ম্যাচের ৬২ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে পাওয়া বল ডি–বক্সের সামনে পেয়ে যান হ্যারি কেইন। এ সময় ইংলিশ অধিনায়কের জোরালো শট এক ডিফেন্ডারের শরীরে লেগে বল জালে ঢুকে যায়। আর এই গোলের মধ্য দিয়ে রাশিয়া বিশ্বকাপের রেকর্ড বইয়েও নাম লেখাল হ্যারি কেনরা। এটা ছিলো এখন পর্যন্ত এই বিশ্বকাপের কোনো প্রতিপক্ষের জালে সবচেয়ে বেশিবার বল পাঠানোর রেকর্ড। ওই গোলের মধ্য দিয়ে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পর এই বিশ্বকাপে দ্বিতীয় হ্যাটট্রিকের দেখা পান ইংলিশ অধিনায়ক হ্যারি কেইন। ইংল্যান্ডের ৬ গোলের অন্য গোলটি জোসে লিনগার্ডের। তবে শেষ দিকে সান্ত¦নাসূচক একটি গোলের দেখাও পায় পানামা। ক্যারিবীয়ান দেশটির হয়ে ম্যাচের ৭৮ মিনিটে গোলটি করেন ফিলিপে বালয়। এতে উল্লাসে ফেটে পড়েন পানামার খেলোয়াড়রা। একই সঙ্গে গ্যালারিতে উপস্থিত পানামার সমর্থকরাও। ৬ গোলে পিছিয়ে থাকা একটি দলের কাছে এই একটি গোল কোনো বিষয়ই না। কিন্তু পানামা এবং তাদের সমর্থকদের কাছে এই একটি গোলই যেন হয়ে উঠলো আনন্দের উপলক্ষ। বিশ্বকাপে প্রথমবার খেলেতে এসে প্রথম গোল। যেন তাদের সমর্থকরা জয় নয়, একটি গোলের জন্যই অপেক্ষা করছিল। এদিকে একাতেরিনবার্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ছোট ছোট পাসে খেলা দ্রুতগতির জাপানিজদের ঠেকাতে শুরু থেকেই সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেনেগাল। প্রতি আক্রমণে সমানতালে জবাব দিয়ে যাচ্ছিলো জাপানও। আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের মধ্য দিয়ে প্রথম সুযোগটা পায় সেনেগাল। ম্যাচের ১২তম মিনিটেই সাদিও মানের গোলে এগিয়ে যায় আফ্রিকার দেশটি। রাশিয়া বিশ্বকাপে লিভারপুল তারকার এটি প্রথম গোল। ডি–বক্সের মধ্যে থেকে গোলকে লক্ষ্য করে শট নিয়েছিলেন সেনেগালের ইউসুফ সাবালি। বলটি গোলরক্ষক ইজি কাওয়াশিমা না ধরে ক্লিয়ার করে দিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পারেননি। গোলরক্ষকের সামনেই দাঁড়ানো ছিলেন সাদিও মানে। সুযোগ পেয়ে সঙ্গে সঙ্গে বল জালে পাঠিয়ে দেন তিনি। পিছিয়ে পড়ে গোলের ক্ষুধায় আক্রমণের ধার আরো বাড়িয়ে দেয় জাপান। এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৩৩ মিনিটে তাকাশি ইনুইয়ের গোলে সমতায় ফেরে এশিয়ার দেশটি। ডি–বক্সে ভিড়ের মধ্যে বল পেয়ে তিনি শট নেন জালে। বলটি গিয়ে আশ্র্রয় নেয় জালে। ১–১ গোলে সমতা নিয়ে বিরতিতে যায় দু’দল। বিরতি থেকে ফিরে গোলের চমৎকার সুযোগ হাতছাড়া হয় জাপানের। আক্রমণভাগের খেলোয়াড়ের নেয়া শট পোস্টে লেগে ফিরে আসলে আশা ভঙ্গ হয় জাপানিদের। এরমধ্যে পাল্টা আক্রমণে ৭১ মিনিটে মুসা ওগুয়ার গোলে আবারও এগিয়ে সেনেগাল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে এটি তার প্রথম গোল। ডি–বক্সের মধ্যে থেকে দুর্দান্ত শটে গোলটি করেন তিনি। এরপর ওসাকোকে তুলে হোন্ডাকে মাঠে নামান জাপানের কোচ। ঠিক ৭ মিনিট পর গোল করে কোচের আস্থার প্রতিদান দেন কেইসুকে হোন্ডা। ম্যাচের বাকি সময়ে কোনো গোল না হওয়ায় ম্যাচটি ২–২ সমতায় শেষ হয়। আগামী ২৮ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ দিন পোল্যান্ডের মুখোমুখি হবে জাপান। আর কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে সেনেগাল। এদিনই নির্ধারিত হবে এই গ্রুপ থেকে কোন দুই দল দ্বিতীয় রাউন্ডে খেলবে।

সর্বশেষ সংবাদ