মিডিয়া সন্ত্রাস এবং ইফতার অনুষ্ঠানে সিপিবি নেতৃবৃন্দা- কামরুল হাসান বাদল,লেখক,কবি, সাংবাদিক ও টিভি ব্যক্তিত্ব

পোস্ট করা হয়েছে 07/06/2018-09:08am:    ১। গত সপ্তাহে এই কলামে টেকনাফ পৌরসভার কাউন্সিলর একরামুল হকের কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা নিয়ে লিখেছিলাম। লেখাটি ফেসবুকে অনেকে শেয়ার করেছেন। আমিও আমার লেখাগুলো ফেসবুকে পোস্ট করে থাকি। আমার সে লেখার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে কমেন্টে আমার অনুজপ্রতিম একজন ইন্ডিপেন্ডেন্ট টেলিভিশনের অপরাধ বিষয়ক অনুষ্ঠান ‘তালাশ’ এর একটি ভিডিও ক্লিপ সংযোজন করে দিয়ে লিখেছিল একরামুলের বিরুদ্ধে অভিযোগ আগেও ছিল। ২০১২ সালে প্রচারিত প্রতিবেদনটি আমি প্রথমবারের মতো দেখলাম। সেখানে একরামুল হকসহ কয়েকজনকে ইয়াবার গডফাদার হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রতিবেদনটিতে একরামুলের ছবির নিচে তার পরিচয় দিয়ে লেখা ছিল তার টেকনাফে ২টি, চট্টগ্রামে ২টি ও ঢাকায় ১টি ফ্ল্যাট আছে। প্রতিবেদনটিতে একরামুলের ১টি গাড়ি থাকার কথাও বলা হয়েছে। এই লেখাটি যখন লিখছি, বুধবার সকাল, তখন পর্যন্ত দেশের কোনো গোয়েন্দা সংস্থা, সংবাদমাধ্যম একরামুলের এই সম্পত্তির বিষয়টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
একরামুল হকের কথিত বন্দুকযুদ্ধে মৃত্যুর পর চরম সমালোচনার মুখে একপক্ষ একরামকে অপরাধী অর্থাৎ ইয়াবাব্যবসায়ী বা গডফাদার হিসেবে প্রমাণ করার নানা প্রকার অপচেষ্টা চালাচ্ছে। তারাও একরামের কথিত সম্পদ নিয়ে কোনো তথ্য প্রমাণ উপস্থিত করতে পারেননি। এখন প্রশ্ন হলো তালাশের প্রতিবেদনটি কি ভুল ছিল? কোনো পক্ষ দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তালাশ নির্মাতারা কি ইচ্ছা করে একরামুলকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেছিল? সাংবাদিকতার নীতি হলো, কোনো ব্যক্তিকে অপরাধী বলার আগে কিংবা অপরাধী হিসেবে তথ্য পাওয়ার পর তার সাথে কথা বলে তার বক্তব্যও তুলে ধরা। আদালত কর্তৃক সাব্যস্ত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কাউকে আসামি, অপরাধী, দোষী ইত্যাদি বলতে বা লিখতে পারি না। তালাশের প্রতিবেদনটিতে অভিযুক্ত দুতিনজনের বক্তব্য নেওয়া হলেও একরামুলের কোনো বক্তব্য নেওয়া হয়নি। বিষয়টি সাংবাদিকতার নীতিবিরুদ্ধ।
কোথাও থেকে তথ্য নিয়ে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করা একটি গর্হিত কাজ। এটি হলুদ সাংবাদিকতা। প্রতিবেদনটি দেখে যে কারো মনে হবে প্রশাসন বা গোয়েন্দা সংস্থার সহযোগিতা না পেলে সে প্রতিবেদন তৈরি করা সম্ভব হতো না। অর্থাৎ টেকনাফে সে সময়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থায় কর্মরতদের সহযোগিতায় প্রতিবেদনটি তৈরি হয়েছিল। অনুষ্ঠানের প্রযোজক, উপস্থাপক, পরিকল্পক প্রতিবেদন তৈরিতে তথ্য নিয়েছিলেন কোথা থেকে? যারা তাদের সহযোগিতা করেছিলেন তাদের কাছ থেকে? তার মানে সে সময় তালাশকে তারা ভুল তথ্য দিয়েছিলেন? আর ইন্ডিপেন্ডেট টেলিভিশন কর্তৃপক্ষ তথ্য যাচাই না করে, অভিযুক্তের বক্তব্য না নিয়ে অনুষ্ঠানটি প্রচার করেছিলেন কেন? তারা কি আসলেই তৃতীয় কোনো পক্ষের স্বার্থে কাজটি করেছিলেন। তালাশের অভিযোগ অনুযায়ী একরামের সম্পত্তির সন্ধানতো এখনো পাওয়া গেল না। এমন ভুল তথ্য প্রদান করে একটি নিরপরাধ মানুষকে হত্যার ক্ষেত্র প্রস্তুত করার অপরাধে ওই টিভি কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি? একরাম হত্যার দায় কি এখন শুধুই সরকারের? না কি সংবাদমাধ্যমকে তার দায় নিতে হবে? মিথ্যা সংবাদ প্রচারের কারণে যদি কারো জীবন সংশয়ে পড়ে তাহলে তার কি কোনো শাস্তিই হবে না?
মাদকবিরোধী অভিযান শুরুর কয়েকদিন পরই ফেসবুকে আমি একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলাম। লিখেছিলাম কেউ কেউ এই অভিযান ব্যর্থ করে দিতে চায়। আমার মতো অনেকেই মনে করেন একরাম হত্যা এবং সে কথিত বন্দুকযুদ্ধের অডিও রেকর্ড করা এবং তা সুসম্পাদিত করে প্রকাশ করা সবই একটি ষড়যন্ত্রের অংশ। কোনো একটি পক্ষ কথিত বন্দুকযুদ্ধের প্রকৃত অবস্থা প্রকাশ করে দিতে চেয়েছে।
আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি মাদক বিরোধী অভিযানটি সফল করা খুব সহজ হবে না। বর্তমান সরকার এর আগে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার অনেকটা সম্পন্ন করেছে। একাত্তরে মানবতাবিরোধী শীর্ষ অপরাধীদের বিচারও সম্পন্ন করেছে। এবং দেশে জঙ্গি তৎপরতাকে কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করেছে। একাত্তরের যুদ্ধাপরাধী, বঙ্গবন্ধুর হত্যাকারী এবং জঙ্গিবাদী শক্তির একটি আদর্শিক মিল রয়েছে। অর্থাৎ একই রাজনৈতিক আদর্শ ও শক্তির দ্বারাই এই কাজগুলো সম্পন্ন হয়েছে। আর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থাও অভিযান পরিচালনা অপেক্ষাকৃত সহজ হয়েছিল কারণ অভিযান পরিচালনাকারী সরকারের সহায়ক শক্তিগুলোর সাথে অর্থনৈতিক লাভালাভের সম্পর্ক ছিল না। মাদকবিরোধী অভিযানটি কঠিন হওয়ার কারণ হলো এর অর্থনৈতিক লাভালাভের প্রশ্নটি। এই ব্যবসা অব্যাহত থাকলে যাদের আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং যারা দীর্ঘকাল এই ব্যবসার কারণে কোটি কোটি টাকার মালিক হয়েছেন তারা কখনোই এই অভিযানকে সফল হতে দেবে না। আর বাংলাদেশের মানুষ মাত্রই জানেন ইয়াবা পাচারের সাথে দেশের বিভিন্ন ক্ষেত্রের অনেক ক্ষমতাবান কীভাবে জড়িত আছে।
একজন সুস্থ, স্বাভাবিক ও বিবেকবান মানুষ হিসেবে আমরা অনেকেই বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ডকে সমর্থন জানাতে পারি না। কোনো ধরনের জবাবদিহিতা ছাড়া, আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ ছাড়া কাউকে হত্যা করা সমর্থনযোগ্য নয়।
কিন্তু এরপরও বর্তমান মাদকবিরোধী অভিযানকে দেশের সাধারণ মানুষ পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। মাদকের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি, পরিবার যেকোনো উপায়ে মাদক পাচার, সরবরাহ ও এর সহজলভ্যতা বন্ধ করার পক্ষে। মাদকের কারণে ধ্বংস হয়ে যাওয়া পরিবার, পথে বসা পরিবার মনে প্রাণে ক্রসফায়ারের মতো ঘটনাকে সমর্থন করেছে। কারণ পূর্বেই বলেছি, তারা যেকোনো উপায়ে মাদকসেবন বন্ধ করাতে চেয়েছে। এটি নিয়ে তর্ক হতে পারে। একটি সভ্য সমাজে ক্রসফায়ারের মতো ঘটনা কেন ঘটবে? সাধারণ মানুষও কেন এমন অমানবিক একটি প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানাবে? খুব সংক্ষিপ্তভাবে এর জবাব দিতে গেলে বলতে হয় যে সমাজে আইনের শাসন দৃঢ় নয়, যেখানে ক্ষমতা ও সামর্থবানরা আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়, যেখানে বিচারের জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষার প্রহর গুনতে হয়, যেখানে প্রকৃত দোষীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়, যেখানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভুল রিপোর্ট ও মামলার সাক্ষীর অভাবে অপরাধীরা ছাড় পায় সেখানে মানুষ বিকল্প হিসেবে, উপায় না দেখে ক্রসফায়ারের মতো ঘটনাকেও সমর্থন করে যায়। এটি প্রচলিত আইন ও বিচার প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থাহীনতার লক্ষণ।
মিয়ানমার থেকে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ইয়াবা বাংলাদেশের আনাচে কানাচে ছড়িয়ে পড়েছে। টেকনাফ থেকে সুদূর তেঁতুলিয়া পর্যন্ত এই ইয়াবা খুব সহজভাবে যেতে পারে না। ওই পাচার ও বিকিকিনির নেপথ্যে দীর্ঘদিন ধরে যে শক্তি সক্রিয় তারা মোটেও দুর্বল নয়। বিভিন্ন বাহিনী, সরকারি কর্মকর্তা, গোয়েন্দা সংস্থা, রাজনীতিক, সাংবাদিক সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই চক্রটিকে নির্মূল করা, দুর্বল–করা অনেক কঠিন একটি কাজ, নিশ্চিহ্ন করাতো দূরের কথা। ফলে এই অভিযান নিয়ে আরও ষড়যন্ত্রমূলক কর্মকাণ্ড চলবে তাতে বিস্মিত হওয়ার কিছু নেই।
২। কয়েকদিন আগে প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ইফতারে অংশ নিয়েছিলেন সিপিবি নেতৃবৃন্দ। এরপর ফেসবুকসহ নানা ক্ষেত্রে সমালোচনার মুখে পড়েছেন তাঁরা। অনেকে স্যাটায়ার করেছেন, ট্রল করেছেন, অনেকে ভীষণ আপত্তিকর মন্তব্যও করেছেন। এসব দেখেশুনে আমার কেবলই মনে হয়েছে, আমরা জাতিগতভাবে মানসিক অসুস্থ হয়ে পড়েছি। আমরা অভিমানের স্থানে ক্ষোভ প্রকাশ করছি, ক্ষোভের স্থানে মারামারি ও আক্রমণ করছি এবং শুধু মারামারির স্থানে খুনোখুনি করছি। অসহিষ্ণু, অস্থিরতা আমাদের জেঁকে ধরেছে। আমরা সবাই পরিমিতিবোধও হারিয়ে ফেলেছি। নতুবা একটা রাজনৈতিক দলের অনুষ্ঠানে আরেকটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত হওয়াকে ব্যঙ্গ করা, তাদের ব্যক্তিগতভাবে অসম্মান করে মন্তব্য করা সম্ভব হয় কী করে? সিপিবি নেতৃবৃন্দ আওয়ামী লীগের মতো একটি রাজনৈতিক দলের প্রধান এবং দেশের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে ইফতার অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছেন। তাতে দোষের কী হলো? আমি তো মনে করি এটিই সুস্থ রাজনীতির চিত্র, এটি হওয়াই স্বাভাবিক, সিপিবি নেতৃবৃন্দ যদি জামায়াতে ইসলামী, জাতীয় পার্টি বা সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদি কোনো রাজনৈতিক দলের এমন আয়োজনে উপস্থিত হতেন তাহলে হয়ত প্রশ্ন তোলা যেত। যারা সিপিবি’র কর্মী সমর্থক বা বামপন্থী হিসেবে বিএনপি–জামায়াতের চেয়ে আওয়ামী লীগকে বেশি গালাগাল করেন কিংবা একই পাল্লায় মাপেন তাদের লক্ষ্য, উদ্দেশ্য, শিক্ষা, জ্ঞান এবং মানসিক সুস্থতা নিয়ে আমার সংশয় আছে। আওয়ামী লীগ কি একটি অস্পৃশ্য দল যে তার কাছেই যাওয়া যাবে না? ১৯৭৫ সালের পর একটি গোষ্ঠী বরাবরই সিপিবিকে আওয়ামী লীগ থেকে দূরে রাখতে চেয়েছে। ফলে কী হয়েছে? এক সময় যে ছাত্র সংগঠনটি দেশের অন্যতম বৃহৎ ছাত্র সংগঠন ছিল, সিপিবি একটি অন্যতম রাজনৈতিক শক্তি ছিল তা ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়েছে। আমার এই কথায় জানি সবকিছুতো ‘ডিসকোর্স’ প্রয়োগকারীরা ক্ষেপে যাবেন। তারা প্রশ্ন তুলবেন, সিপিবি কোথায় দুর্বল হয়েছে? আওয়ামী লীগ থেকে দূরে আছে বলে দুর্বল হয়েছে? ইত্যাদি।
মুক্তিযুদ্ধের পূর্ব থেকে ১৯৭৫ সালে জাতির জনক হত্যাকাণ্ডের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সাথে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সম্পর্ক, রাজনৈতিক ও আদর্শিক ঐক্য এবং চূড়ান্তভাবে বাকশাল গঠন এক ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং প্রতিষ্ঠার পর প্রতিক্রিয়াশীল ও প্রতি বিপ্লবী অপশক্তির মোকাবেলায় এই দুই রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টার কথা এখন ভুলে গেলে চলবে না। আমার ধারণা সিপিবি’র বর্তমান নেতৃত্বের একটি অংশের প্রচন্ড আওয়ামী বিরোধিতার কারণে নতুন প্রজন্মের কর্মী ও নেতারা অনেক কিছু জানার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। তারা এখন অনেকটা বাসদের রাজনৈতিক প্রপাগান্ডায় প্রভাবিত। দীর্ঘকাল থেকে সিপিবি যে রাজনৈতিক কৌশল বেছে নিয়েছে তা এই দলটির ক্ষতিই করেছে। সম্প্রতি খুলনা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে। সমাজে যে পরিবর্তন ঘটে গেছে, সাম্প্রদায়িক শক্তির যে উত্থান ঘটেছে, ধর্মীয় আচার পালন, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি, ধর্মান্ধতা কূপমন্ডুকতা যে হারে বেড়েছে তার দায় কি শুধু আজ রাজনৈতিক দলের? বা শুধুই আওয়ামী লীগের? সিপিবি বা দেশের অন্য প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলগুলোর কি সামান্যতমও দায় নেই? তারা তৃতীয় শক্তি উত্থানের কথা বলেন। কিন্তু জাতীয় পার্টির মতো শক্তিইতো সিপিবি বাসদ এখনো অর্জন করতে পারল না। এই ব্যর্থতার দায়ও কি আওয়ামী লীগ বা বিএনপির? বা বুর্জোয়া রাজনীতির? নিজেদের রাজনৈতিক কৌশলের কোন ভুল আছে কি না তা খতিয়ে দেখার সময় হয়েছে এখন।
দেশে ধর্মভিত্তিক রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীগুলোর ক্ষমতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তারা এখন সরকার বা সরকারি দলকে নিয়ন্ত্রণ বা খবরদারির সাহস, খোলাসা করে বলতে গেলে সক্ষমতা অর্জন করেছে। তাদের চাপে সরকার অনেক ক্ষেত্রে আপোষের পথ বেছে নিচ্ছে। এ অবস্থা হতো না যদি দেশে সিপিবি বা এই ধরনের প্রগতিশীল গণতান্ত্রিক দলগুলোর শক্ত অবস্থান থাকতো।
এই মুহূর্তে সরকার গঠন করার মতো অবস্থা না থাকতে পারে কিন্তু দেশের রাজনৈতিক ক্ষেত্রে প্রভাব রাখার মতো ক্ষমতা অর্জনের কৌশল বেছে নিতে হবে সিপিবিকে। সংসদে প্রতিনিধি নির্বাচন এবং সেখানে কথা বলা বা বারগেইনিং করার মতো রাজনৈতিক শক্তি অর্জনের কথাও ভাবতে হবে। তবে ওই দল যদি মনে করে সংসদ নয় বিপ্লবের মাধ্যমে তারা রাষ্ট্রসহ সমাজের ব্যাপক পরিবর্তন সাধন করবে তাহলেও তাদের সে লক্ষে পৌঁছাবার সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি প্রণয়ন করে দলকে সেপথে পরিচালিত করতে হবে।
ছাত্রজীবনে ছাত্র ইউনিয়ন করতেন এমন এক বন্ধু আমাকে আওয়ামী লীগার হিসেবে আখ্যায়িত করে একবার বলেছিলেন, আপনার এই আওয়ামী লীগতো বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ নয়। আমি এই কথার উত্তরে আমার বন্ধুটিকে বলেছিলাম, আপনি যে কমিউনিস্ট পার্টি করছেন সেটিও তো মনি সিংহের কমিউনিস্ট পার্টি নয়।
সময়ের সাথে অনেক কিছু বদলে যায়। বদলে যাওয়া পরিস্থিতির সাথে মিলিয়ে আদর্শকে সমুন্নত রেখে রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করতে না পারলে পিছিয়ে পড়তে হবে। আর পিছিয়ে থাকাদের অনুসরণ করতে চায় না মানুষ।

সর্বশেষ সংবাদ