নির্বাচনে কি সমস্যার সমাধান হবে? মোঃ ওসমান গনি

পোস্ট করা হয়েছে 28/02/2018-08:18pm:    . আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে চলছে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা।নির্বাচনে কোন দল অংশ গ্রহন করবে আর কোন নির্বাচনে অংশ গ্রহন করবে না,কার অধীনে নির্বাচন হবে এ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে দেশের সর্বস্তরের মানুষের ব্যাপক আলোচনা।
যার অধীনেই নির্বাচন হউক নির্বাচন নির্বাচনের গতিতে হয়ে যাবে।কিন্তু নির্বাচন হলে কি আমাদেও দেশের রাজনৈতিক যে সমস্যা সে সমস্যার কি কোন সমাধান হবে?গত সংসদ নির্বাচনের সময়ও আমাদের দেশের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চলমান রাজনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য বিভিন্ন সংগঠন বিভিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে ছিল। দুই দলের কাছে তারা সংলাপে বসার জন্য বহু অনুণয় বিনয় করে ও কোন লাভ হল না।আমাদের দেশের পাশিপাশি বিদেশী কুটনীতিকরাও চেষ্টা চালিয়ে ছিল। সাথে সাথে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে ও চেষ্টা করা হয়েছিল।
সকলের দাবী ও লক্ষ্য একটাই ছিল দুই দলকে একত্রে বসিয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে সকল দলের অংশ গ্রহণের মাধ্যমে একটি অবাধ সুষ্ঠ ও নিরাপদ নির্বাচন দেয়া।কিন্তু তা হয়নি।বিএনপি নির্বাচনে অংশ গ্রহন করল না।ক্ষতি হলো কার? ক্ষতি বিএনপিরই হলো।এখন আবার সামনে নির্বাচন। এই নির্বাচন হলে দেশের চলমান রাজনৈতিক সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করেন দেশের বিজ্ঞমহল।আসলে কি সমস্যার সমাধান হবে? মনে হয় সমস্যা থেকেই যাবে। কারন আমাদের দেশের সকল রাজনৈতিক দলের চরিত্র একই।
একের দেখাদেখি অন্যেরা অণুসরন করে থাকে। যদি তা না হতো তাহলে আজকে যারা দেশ পরিচালনা করে তারাই ১৯৯১সালে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য প্রতিজ্ঞা করে ছিল।১৯৯০ সালে এরশাদ সরকারকে ক্ষমতা থেকে হঠানোর জন্য সকল দল মিলে আন্দোলন করে ছিল। তখন দেশের মানুষ মনে করে ছিল এরশাদের পর যারা ক্ষমতায় আসবে তখন হয়তোবা দেশে
সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত করবে তারা।তাও সম্ভব হয়নি,তার কারন হল আমাদের মধ্যে স্ব”্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে। যত দিন আমাদের নিজেদের মধ্যে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা এবং সত্যিকার ভাবে আমাদের মনের পরিবর্তন না আসবে ততখন পর্যন্ত আমাদের রাজনীতির মধ্যে কোন পরিবর্তন আসবে না।বর্তমান সরকার যদি নির্বাচন দেয় তাহলে এখন যে সরকার গঠিত হবে তাদের চরিত্র কি আগের সরকারের চেয়ে ভালো হবে তার কোন নিশ্চয়তা দেয়া যাবে না।যারা বর্তমানে শুধু সরকারকে একটি অবাধও সুষ্ঠ নির্বাচনের জন্য তাগাদ দিয়ে যাচ্ছেন তারা মনে করতে পারেন নির্বাচন হলেই দেশের সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। আসলে তা হবে না।
না হওয়ার কারন হল, রাজনৈতিক দল গুলো যদি তাদের হিংসাত্মক ও সহিংস আচরনের জন্য ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রণোদনা পেয়ে থাকেন তাহলে তারা কেন বা কোন যুক্তিতে সে আচরন পরিবর্তন করবে? ক্ষমতার পরিবর্তন হলে আমাদের জনপ্রশাসনের দলীয় করা বন্ধ করা যাবে না।
আমাদের যদি একই ধরনের প্রতিষ্ঠান গুলোর আওতায় আমাদের রাজনীতিকে পরিচালিত করি তাহলে জবাবদিহি হীনতার পরিবেশ আমাদের রাস্ট্রব্যবস্থা পরিচালিত হচ্ছে কেবল একটি নির্বাচন হলেই সেটি রাতারাতি উধাও হয়ে যাবে না।বর্তমানে গণতন্ত্রের উন্নত ভবিষ্যত দেখতে চাইলে প্রথমে যেটা আমাদের কে স্বীকার করতে হবে তা হলো ১৯৯১সালে আমরা গণতন্ত্রের সুচনা করিনি, বরং তখন আমরা নিয়মমোতাবেক একটি ভোটদান পদ্ধতি চালু করেছি।যেটার মাধ্যমে সাধারন মানুষ তারা ভোট দিয়ে তাদের জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত করতে পারে।ঐ সময় আমরা গণতন্ত্রের যে দুটি স্তম্ভ তা আমরা প্রতিষ্ঠা করতে পারি নি।একটি রাষ্ট্রে জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার গুরত্ব কতখানি তা বোঝার জন্য আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান প্রণেতা জেমস ম্যাডিসন সংবিধান নিয়ে কি বলেছেন তা আমরা দেখতে পারি।
ম্যাডিসন বলেছেন প্রতিটি সংবিধানের লক্ষ্য হচ্ছে প্রথমত রাষ্ট্রের জন্য সে ধরনের শাসক খঁজে বের করা যারা কিনা সব চাইতে প্রজ্ঞাবান কর্তব্যপরায়ণ এবং যার মধ্যে সমাজের সার্বিক মঙ্গল নিহিত।তার পরের কাজটি হচ্ছে এমন একটি সর্বাধিক কার্যকর পূর্বসতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহন করা যাতে করে শাসকদের প্রতি জনগনের আস্থা ধরে রাখার পাশাপাশি তাদের ন্যায়নিষ্ঠতাও অক্ষুন্ন রাখা যায়।আমাদের আজকের রাজনৈতিক অচলব্যবস্থা মুলে রয়েছে আমাদের সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা । আমাদের বর্তমান সংবিধান ১৯৯০ পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক ক্ষমতার ভারসাম্য ও ক্ষমতা চর্চায় সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর উপর কার্যকর নিয়ন্ত্রন ও ভারসাম্য প্রতিষ্টা করতে পারি নি। এ প্রেক্ষাপট বিবেচনায় বিশ্বাস করি বর্তমানে কিছু বিরোধী রাজনৈতিক দলের কেবল নির্বাচন কেন্দ্রিক যে আন্দোলন তা সঠিক পথে নেই।
সময় এসেছে সার্বিক বিষয় গুলো কে পুনর্বিবেচনা করার এবং ব্যাপকতর সাংবিধানিক সংশোধনের মাধ্যমে রাজনীতির নিয়মগুলোকে নতুন করে সাজানোর । প্রশ্ন হচ্ছে, আমরা কি এ ধরনের অর্থ পুর্ন আলোচনা শুরুর ব্যাপারে আন্তরিক না প্রস্তুত ? না আমরা কেবল সেই অর্থহীন বিষয়ে বিতর্ক করে যাব যে, কে নির্বাচনে জিতবে এবং আমাদের শাসন করবে। ধরা যাক আগামীকাল আওয়ামী লীগ ও বিএনপি একটি সমঝোতায় পৌছল তখন কি হবে ? দেশে নির্বাচন হওয়ার সম্ভবনা দেখা দিবে। কিন্তু যারা রাজনৈতি সহিংতায় তাদের প্রিয়জন কে হারিয়েছে তারা কি তাদের সেই হারানো মানুষ গুলোকে ফেরত পাবে? পাবে না ।
তাদের সংসারে কোন সুখ শান্তি আসবে না।দুঃখ জনক হলেও সত্যি হয়তো কারো ই কিছূ হবে না। সুতরাং আমাদের এখন নুতন করে ভাবার সময় এসেছে যে, আমরা সম্পূর্নভাবে জবাবদিহিতা হীন একটি পরিস্থিতিতে বসবাস করছি।সরকার,বিরোধী দল,ব্যাবসায়ীরা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা,সবাই আমাদের জবাব দিহিতার উবের্ধ।যার কারনে গণতন্ত্রের নামে যে ব্যবস্থাটি গড়ে তুলেছি সেটি এখন খাদের কিনারে এসে দাড়িয়েছে।সর্বশেষ আমরা বলতে চাই আমরা যদি এখন সত্যিকারের গণতন্ত্র প্রতিষ্টা করতে চাই তাহলে আমাদের কে এখন পুরোবিতর্কটি নুতন করে শুরু করতে হবে।
বড় ধরনের একটি সাংবিধানিক সংশোধন প্রক্রিয়া সুচনা করে রাজনৈতিক ব্যবস্থার আমুল পরিবর্তনের দিকে আমাদের কে মনোযোগী হতে হবে।শুধু নির্বাচন হলে আমাদের চলমান রাজনৈতিক চলমান সমস্যার সমাধান হবে না।তাই দেশের বড় দুই রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দের কাছে অনুরোধ আপনারা অহেতুক ক্ষমতার জন্য লড়াই না করে দেশের সার্থে ও দেশের জনগনের সার্থের দিকে তাকিয়ে হলেও যে পথে আমাদেরকে অগ্রসর হলে দেশের চলমান সমস্যার সমাধান সম্ভব সেই পথে এগিয়ে গিয়ে সমস্যার সমাধান করুন। গোড়ায় গলদ রেখে সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করলে লাভ হবে না।রোগ বুঝে রোগের চিকিৎসা করলে অতি তাড়াতাড়ি ফলাফল পাওয়া যাবে।

সর্বশেষ সংবাদ