যদি মঙ্গল সন্নিকটবর্তী করতে চাই-কামরুল হাসান বাদল, লেখক,কবি, সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 11/01/2018-10:56am:   
আমার নিকটাত্মীয়। দীর্ঘ প্রায় ত্রিশ বছর সপরিবারে সৌদি আরবে কাটিয়েছেন। রাজধানী জেদ্দায় বিশ্ববিখ্যাত জার্মান কোম্পানি বিএমডব্লিউর পার্টস ম্যানেজার হিসেবে শেষের দশ বছর চাকরি করার পর তাঁকে বয়সের কারণ দেখিয়ে অবসর দেওয়া হয়। যদিও তাঁর সহকর্মী উর্ধ্বতন অনেকে সাদা চামড়ার বলে তার বয়সে বড় হওয়া সত্ত্বেও চাকরিতে বহাল থেকেছেন।
সবাই জানেন মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী কোনো ভিসার ব্যবস্থা নেই। দু’বছর পর পর ভিসা নবায়ন করতে হয়। ত্রিশ চল্লিশ এমনকি পঞ্চাশ বছরেরও অধিককাল মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নানা পেশায় থেকে হাজার হাজার বিদেশি বিশেষ করে বাংলাদেশের নাগরিকরা সেদেশকে আধুনিক রূপে গড়ে তুলতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন, প্রশংসনীয় ভূমিকা পালন করেছেন তাদেরও এক সময় সব ছেড়েছুড়ে বাংলাদেশে ফিরে আসতে হয়েছে।
আমার সে আত্মীয়ের তিন সন্তানের মধ্যে বড়, কন্যাটি এ লেভেল পাশ করে জেদ্দার একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে। সঙ্গত কারণে তখন তার বয়স আঠার পেরিয়েছে। মেয়ের আঠার বছর পেরুনো, অর্থাৎ মেয়ে প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার কারণে সৌদি আইন অনুযায়ী তাকে ভিসার জন্য আলাদা দরখাস্ত করার প্রয়োজন হয়ে পড়ে। বাবা–মায়ের সাথে জেদ্দায় থেকে লেখাপড়া করার ইচ্ছায় তার জন্য আলাদা ভিসার আবেদন করা হয়। এবং যথারীতি তা সৌদি সরকার কর্তৃক প্রত্যাখ্যাত হয়। ফলে মেয়ের পড়াশোনার স্বার্থে তিনি পরিবারকে চট্টগ্রামে পাঠিয়ে দেন এবং মেয়েকে একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেন। কিন্তু দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে মেয়েটি স্বাচ্ছন্দবোধ না করায় বাধ্য হয়ে তাকে দুবাইয়ে অবস্থিত অস্ট্রেলিয়ার মালিকানাধীন একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয়। ভদ্রলোক অনেক আবেদন–নিবেদন করেও মেয়েকে তাঁর সাথে রেখে জেদ্দা বা সৌদি আরবের অন্য কোনো শহরের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করার অনুমতি যোগার করতে পারেননি।
তাঁর মেয়েটি উচ্চ শিক্ষা শেষ করে দুবাইয়ের একটি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে চাকরি করছে।
তাঁর দ্বিতীয় সন্তানকে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করানো হয় কয়েক বছর আগে। গত ডিসেম্বরে ছিল ছেলেটির কনভোকেশন। ছেলের কনভোকেশনে যোগ দেওয়া এবং সে সাথে অস্ট্রেলিয়া ঘুরে আসার ইচ্ছায় গত ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহে সপরিবারে তিনি অস্ট্রেলিয়া যান। ছেলের কনভোকেশনে যোগ দিয়ে কয়েকদিন সিডনি ঘুরে আবার তাঁরা মেলবোণ আসেন। আসার দুদিন পর একদিন মধ্যরাতে অসুস্থতা বোধ করেন তিনি। তাঁর মেয়ে ৯৯৯ নম্বরে ফোন করার পর সেখান থেকে ঠিকানা জেনে নিয়ে বলা হয় তারা যেন বাড়ির বাইরের লাইটটি জ্বালিয়ে রাখে। ফোন করার মিনিট পাঁচেকের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স আসে এবং সাথে সাথে অক্সিজেন মাস্ক পরিয়ে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে নেওয়ার পর রোগীর স্বজনদের করার কিছুই থাকে না। একটি নির্দিষ্ট সময়ে রোগীর আপগ্রেড জানিয়ে দেওয়া হয় শুধু। পাঁচ/ছয় দিন হাসপাতালে থেকে তিনি বাসায় ফেরেন। চিকিৎসকরা বলেছেন তাঁর হার্ট অ্যাটাক হয়েছিল এবং তাঁর কিডনিরও সমস্যা আছে। মেডিক্যাল ইন্স্যুরেন্স না থাকার কারণে তাদের চিকিৎসা ব্যয় বেশি হয়েছে যা বাংলাদেশের টাকায় প্রায় ২০ লাখ টাকা। তারা কয়েকদিন আগে দেশে ফিরে এসেছেন। হাসপাতালের বিল এখনো পরিশোধ করেননি। তার ঠিকানায় বিল এলে তিনি তা পরিশোধ করবেন। দুটো দেশের মানবিক আচরণের তুলনা করতে ঘটনা দুটির উল্লেখ করলাম। সৌদি আরব একটি মুসলিম রাষ্ট্র। বিশ্বের মুসলিমদের কাছে অত্যন্ত পবিত্র দেশ কারণ এখানে রয়েছে আল্লাহর ঘর ও নবী (সা.) এর রওজা তথা মক্কা ও মদিনা। সৌদি আরব উন্নয়নে অনেক মেধাবী বাঙালির অবদান আছে যেমন আছে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশেও। সেখানে একজন বাঙালি সরকার থেকে, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ থেকে এ ধরনের মানবিক আচরণ পেতেন কিনা তা আমরা কমবেশি সবাই জানি। সৌদি আরব মুসলিম রাষ্ট্র, বাংলাদেশও মুসলিম রাষ্ট্র কিন্তু তাই বলে সেখানে ‘বেরাদরানে মুসলিম’ ধারণাটি অমূলক এবং অপমানজনকভাবে ব্যর্থ। সেখানে বাঙালিদের দেখা হয় ‘মিসকিন’ এর দৃষ্টিতে। মুসলমান হওয়ার কারণে কোনো বাঙালি কিংবা এই উপমহাদেশের কোনো মুসলিম বাড়তি কোনো সুবিধা পায় না।
আমার সে আত্মীয়কে আনতে যাওয়া অ্যাম্বুলেন্স কোনো সাইরেন বাজায়নি। এমনকি মধ্যরাত বলে লাইটও জ্বালায়নি। তারা ট্যুরিস্ট ভিসায় যাওয়া বাংলাদেশি রোগীকে হাসপাতালে আটকে রেখে হাসপাতালের বিল পরিশোধ করতেও বাধ্য করেনি। শুধু স্বাস্থ্যবিমা না থাকার কারণে তাদের সম্পূর্ণ টাকা পরিশোধের কথা বলা হয়েছে। এই বিল তারা বাংলাদেশ থেকে পরিশোধ করবেন। সৌদি আরব বা মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর কথা বাদই দিলাম। বিল বাকী রেখে রোগীর বাড়িতে চলে আসার ঘটনা তো বাংলাদেশেও সম্ভব নয়। এদেশে তো মরদেহ আটকে রেখে হাসপাতালের বিল পরিশোধে বাধ্য করা হয়। আর রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সের হৃদয় বিদারক সাইরেনের প্রসঙ্গ না–ইবা তুললাম। যার আর্তনাদে আশেপাশের স্বাভাবিক মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়েন।
এদেশের মুসলিমরা তাদের সন্তানদের উন্নত ও নিরাপদ জীবনের আশায় ইউরোপ–আমেরিকা–কানাডা–অস্ট্রেলিয়ায় পাঠায়। মধ্যপ্রাচ্য বা অন্য কোনো মুসলিম দেশে পাঠানোর কথা তারা ভাবে না, ভাবলেও যে সুযোগ তারা পায় না। তাদের সন্তানদের অনেকে সেসব দেশের সরকারের বৃত্তি নিয়ে যায়। যে দেশের সরকারের টাকায় লেখাপড়া করে সেদেশেই কর্মসংস্থান জুটিয়ে নেয়। ওখানেই অনেকে বিয়ে–থা করে স্থায়ীভাবে থেকে যায়। অনেকে দেশের সবকিছু ফেলে উন্নত ও নিরাপদ জীবনের আশায়ও যায়। এক্ষেত্রে ব্যবসায়ী শিল্পপতি ও অবৈধভাবে বিত্তবান হওয়া লোকের সংখ্যাই বেশি। তারা ওসব ইহুদি–নাসারাদের দেশে যায় কিন্তু মনে–প্রাণে সাম্প্রদায়িকতা পোষণ করে। ফলে সেদেশেই অনেকে ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ি রকম আচরণ করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়ে। ওরা সেদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে তাদের সন্তানদের পড়াশোনার জন্য ভর্তি করে কিন্তু সেদেশে শিক্ষাপদ্ধতি ও ঐতিহ্যকে অমান্য করে নিজ ধর্ম ও সংস্কার নিয়ে বিতর্কে লিপ্ত হয়। যে কারণে একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সহপাঠে শিক্ষা গ্রহণ করলেও মুসলিম শিক্ষার্থীর অনেকে মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন থাকে। আত্মকেন্দ্রিক হয়ে থাকে। বাংলাদেশি অভিভাবকরা নিজ থেকেই তাদের সন্তানদের মিথ্যা তথ্য দিতে প্ররোচিত করে এবং ছোটবেলা থেকেই শিশুদের ‘চালাক’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করে। তারা যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করে সে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নিয়মশৃঙ্খলাও ভঙ্গ করে অনেক সময়।
মুসলিমরা যে সব দেশকে সাধারণভাবে ইহুদি নাসারার দেশ বলে মনে করে এবং ইহুদি–নাসারাদের ইসলামের শত্রু বলে মনে করে যেসব দেশই তাদের সন্তানদের উচ্চশিক্ষার ব্যবস্থা করে বৈষম্যহীন শিক্ষাপদ্ধতিতে। সেসব দেশেই কয়েক বছর বসবাস করলে তাদের গ্রিনকার্ড থেকে নাগরিকত্ব প্রদান করে অথচ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিমদেশ এমনকি মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া তা করে না কখনোই।
আজ আমি পক্ষান্তরে যে ইউরোপ–আমেরিকা কানাডা–অস্ট্রেলিয়ার সুনাম করছি সেদেশগুলো যে প্রথম থেকে এমন সুসভ্য ছিল তা–ও কিন্তু নয়। বিশ্বের নিপীড়নের ইতিহাসের সাথে, শোষণ, দুশাসন, সম্পদ পাচার ইত্যাদির সাথে এই দেশগুলোর নামও উচ্চারিত হবে। বিশ্বের অনেক দেশকে শত শত বছর শাসন–শোষণ করে তাদের দরিদ্র বানিয়ে নিজেদের সম্পদ বৃদ্ধি করেছে এর মধ্যে অনেক দেশ। খ্রিস্টান ধর্মযাজকরা তৎকালে রাজা–বাদশা–শাসকদের সহযোগী হয়ে লাখ লাখ নিরীহ মানুষ হত্যা করেছে। শাসকদের শোষণ প্রক্রিয়াকে দীর্ঘ করার লক্ষে ধর্মকে নগ্নভাবে ব্যবহার করেছে। তবে তা এখন অনেকটা অতীত ইতিহাস। আজ বিশ্ব জ্ঞানে–বিজ্ঞানে যেটুকু অগ্রসর হয়েছে তারও পেছনে আছে এসব দেশের মানুষের অবদান। পৃথিবীকে সভ্য ও বাসযোগ্য করার পেছনেও এদের অবদান অগ্রগণ্য। এরা আজ অনেক মানবিক সমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হয়েছে। ধর্মকে রাষ্ট্র থেকে পৃথক করে ধর্মকে ব্যক্তিগত বিশ্বাস আর গির্জায় গিয়ে উপাসনা করার মধ্যেই সীমাবদ্ধ করেছে। ফলে তাদের রাষ্ট্র বা সমাজ এখন আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে অধিক মানবিক ও কল্যাণমুখী হয়ে উঠেছে। এর ফলে বাংলাদেশের মতো অনেক অনগ্রসর দেশের মানুষ জীবন বদলে ফেলার উদ্দেশ্য নিয়ে ওসব দেশে গিয়ে আশ্রয় গ্রহণ করেছে। বাংলাদেশের প্রচুর ব্যবসায়ী, শিল্পপতি ও বিত্তবানদের সেকেন্ড হোম হয়ে উঠেছে কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, আমেরিকা ও কিছু কিছু ক্ষেত্রে মালয়েশিয়া।
বলছিলাম, ‘বেরাদরানে–মুসলিম’ এই স্লোগান বা চেতনা ধোপে টেকে না মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম দেশগুলোতে। সেসব দেশে একজন বাংলাদেশির চেয়ে একজন ভারতীয় অনেক বেশি অগ্রাধিকার পায়। চাকরি, ব্যবসা সকল ক্ষেত্রে সেখানে ভারতীয়রা বাংলাদেশিদের চেয়ে এগিয়ে। এ সম্ভব হয়েছে যোগ্যতার কারণে। ধর্ম এখানে ফ্যাক্টর হয়ে ওঠেনি। যেমন আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রেও ধর্ম ফ্যাক্টর হয়ে ওঠে না। সেখানে প্রাধান্য পায় মূলত অর্থনীতি ও ক্ষমতা। আর ক্ষমতার জন্য ব্যবহৃত হয় ধর্ম। মূলত ধর্ম হয়ে ওঠে ক্ষমতা ও রাজনীতির এক অপরিহার্য তবে বিপজ্জনক অস্ত্র হিসেবে।
সিরিয়া থেকে বিতাড়িত কিংবা মৃত্যুভয়ে পালিয়ে আসা মুসলিমদের ঠাঁই দিয়েছে ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ। জার্মান তার মধ্যে অন্যতম। তার জন্য নিজ দেশে প্রভূত বিরোধিতার সম্মুখীন হলেও মানবতার পথ থেকে পিছু সরেননি জার্মান চ্যান্সেলর আঙ্গেলা মের্কেল। মিয়ানমার থেকে লাখ লাখ বিতাড়িত রোহিঙ্গার পাশে বাংলাদেশ দাঁড়িয়েছে দ্বিধাহীনভাবে অন্যকোনো মুসলিম দেশ নয়। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মের্কেলের মতো সমালোচিত হলেও মানবতার পথ থেকে পিছু সরেননি।
নাইন–ইলেভেনের পর বিশ্ব রাজনীতি নতুন মোড় নিয়েছে। ইসলামী জঙ্গিবাদের প্রসার প্রকাশ্যে আসে। এবং এই জঙ্গিবাদের মোকাবিলা করার নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের কয়েকটি মুসলিম রাষ্ট্রে নগ্ন হস্তক্ষেপ করে। যার মধ্যে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান অন্যতম। যদিও আগে থেকেই এই দেশ দুটি মার্কিন সরকারের অনুগত হিসেবেই পরিচিত ছিল।
দুই–তিন–চার শ বছর আগেও খ্রিস্টান ধর্মযাজকরা ধর্ম নিয়ে অনেক বাড়াবাড়ি করতো। এই ‘বাড়াবাড়ি’ আচরণটি প্রত্যেকটা ধর্মই অতিক্রম করেছে এবং এক সময় তারা ক্ষান্ত দিয়েছে। অন্য ধর্মেই ‘বাড়াবাড়ি’ কাল শেষ হয়েছে। এখন চলছে ইসলাম ধর্মের সে অবস্থা। এটারও সমাপ্তি ঘটবে। এই ‘বাড়াবাড়ি’ কাল শেষ হবে এবং ধর্মকে রাষ্ট্র ও রাজনীতি থেকে আলাদা করে তোলা হবে। তবে তা করতে কত বছর লাগবে তা বলা মুশকিল। ধর্মভিত্তিক সমাজ বা রাষ্ট্রব্যবস্থা কল্যাণকর নয়, মানবিক ও সর্বজনীন নয়, তা হতে পারে না। বরং তা বিভক্ত করে। মানুষে মানুষে ঘৃণার দেয়াল তৈরি করে। কল্যাণমুখী অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ও কল্যাণ রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে হলে ধর্মকে রাজনীতি থেকে আলাদা করতে হবে।
ইসলামী জঙ্গিবাদের উত্থানের প্রতিক্রিয়ায় আজ অন্যান্য দেশেও ‘র‌্যাসিজম’ মাথাচাড়া দিয়ে উঠছে। ধর্মীয় চেতনা, বর্ণবাদ এগুলোও অন্যান্য মানবিক রাষ্ট্রে আস্তে আস্তে জনপ্রিয় হতে শুরু করেছে। ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বিশ্ব রাজনীতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। নানামুখী আক্রমণ ও আদর্শের অন্তসারশূন্যতার কারণে আইএসের পরিধি ছোট হয়ে আসছিল। জেরুজালেমকে ইসরাইলের রাজধানী ঘোষণার মধ্যদিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আবার উত্তপ্ত করে দিয়েছেন। এই অঞ্চলে আসাম থেকে বাঙালি খেদাও আন্দোলনের নামে মূলত মুসলমান খেদাও পদক্ষেপও ওই অঞ্চলের শান্তি বিঘ্নিত করবে। তাতে ইসলামী উগ্রবাদ উস্কানি পাবে এবং নতুন করে এ অঞ্চলকে অশান্তময় করে তুলতে পারে।
নিজ মাতৃভূমিকে অশান্তময় করে অন্যের মাতৃভূমিতে গিয়ে নিজেদের ধর্ম ও আদর্শ প্রচারের লক্ষে নিরীহ মানুষ হত্যার পথ থেকে বেরিয়ে না আসলে বিশ্বের নানা দেশে বসবাসকারী নিরীহ মুসলিমদের নিরাপত্তাহীনতা ও অনিশ্চয়তা রোধ করা সম্ভব হয়ে উঠবে না। ইসলামী জঙ্গিরা এই সত্য যত তাড়াতাড়ি উপলব্ধি করতে পারবে ততই মঙ্গল সন্নিকটবর্তী হবে।
Email : [email protected]

সর্বশেষ সংবাদ