রোহিঙ্গা’ শব্দটি মুছে ফেলতে চায় মিয়ানমার -কামরুল হাসান বাদল

পোস্ট করা হয়েছে 07/12/2017-06:52pm:    লেখক,কবি, সাংবাদিক কলামিস্ট ও টিভি ব্যক্তিত্ব,

মানুষের দুর্ভাগ্য হচ্ছে সে তার প্রতিবেশী নির্বাচন করতে পারে না । প্রতিবেশী যদি ভালো না হয় তবে তা কতটা যন্ত্রণাদায়ক হতে পারে তা ভুক্তভোগী মাত্রই উপলব্ধি করতে পারেন। বিষয়টি বৃহত্তর পরিধিতে ভাবতে গেলে দেখব, এই দুর্ভাগ্য একটি রাষ্ট্রেরও হতে পারে। অর্থাৎ প্রতিবেশী রাষ্ট্রটি যদি সুসভ্য না হয় তার বিড়ম্বনা প্রতিবেশী অন্য রাষ্ট্রটিকেও পোহাতে হয়। বর্তমানে বাংলাদেশের এই দুর্ভাগ্যের নাম মিয়ানমার। দীর্ঘদিন সামরিক অপশাসনে পরিচালিত হয়ে মিয়ানমার পরিণত হয়েছে একটি বর্বর রাষ্ট্রে। আর প্রতিবেশী হওয়ার কারণে বাংলাদেশকে বহন করতে হচ্ছে এই বর্বর রাষ্ট্রের অপশাসনের ফল। রাষ্ট্র হিসেবে যেখানে বাংলাদেশের কোনো ভূমিকা ছিল না।
দীর্ঘ কয়েক দশক সারা বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন থাকার পর এই শতকের শুরু থেকে মিয়ানমার গণতন্ত্র তথা সভ্যতার পথে ফিরে আসে। বিশ্ব আস্তে আস্তে জানতে শুরু করে এই রাষ্ট্রের শাসন ব্যবস্থা ও আন্দোলন সম্পর্কে। বিশ্বের সাথে সম্পর্কের সকল দরজা-জানালা বন্ধ করে রাখার কারণে এই রাষ্ট্রের খবর বাইরের দুনিয়ায় আসার সুযোগ পেত সামান্যই। যদিও বিশ্বের আগ্রহ ও কৌতূহল ছিল সে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন ও তার নেত্রী মিয়ানমারের যার পূর্ব নাম ছিল বার্মা, জাতির জনকের কন্যা অং সান সু চির আন্দোলন সংগ্রাম ও তার নেতৃত্ব নিয়ে। পিতার মৃত্যুর পর বিলেতে পড়াশোনা করা এবং এক ব্রিটিশকে বিয়ে করা সু চি দেশে ফিরে গিয়েছিলেন গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে।
দেশে ফিরে সামরিক শাসকের রোষানলে পড়ে প্রায় একদশক গৃহে অন্তরীণ থেকে মুক্তি পেয়ে সু চি দেশে নির্বাচনে জয়লাভ করলেও রাষ্ট্রের পূর্ণ কর্তৃত্বভার গ্রহণ করতে পারেননি। বিদেশিকে বিয়ে করার কারণে মিয়ানমারের আইনে তিনি রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান হতে পারেননি। তাঁর জন্য সৃষ্টি করা হয় বিশেষ একটি পদ স্টেট কাউন্সিলর। সংসদ থাকলেও, সে সংসদে জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি থাকলেও মিয়ানমারের রাষ্ট্রক্ষমতার প্রকৃত নিয়ন্ত্রক সে দেশের সেনাবাহিনী।
১৯৬২ সালে মিয়ানমারে সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর থেকে রোহিঙ্গাদের জীবনে দুর্গতি নেমে আসে। সামরিক সরকার একে একে কালাকানুন প্রবর্তন করে রোহিঙ্গাসহ মিয়ানমারের অন্যান্য ক্ষুদ্র জাতি ও জনগোষ্ঠীর ওপর দমনপীড়ন শুরু করে। এবং তাদের দেশত্যাগে বাধ্য করে। শুধু রোহিঙ্গা নয়, মিয়ানমার সরকার সে দেশের কারেন সম্প্রদায়ের লোকসহ বেশকিছু জনগোষ্ঠীকে দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। বর্তমান মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে সে দেশ থেকে বিতারণের উদ্যোগ নিলেও ইতিহাস বলে অন্য কথা। মিয়ানমারে রোহিঙ্গা বসবাস নিয়ে সামান্য কিছু তথ্য আমরা তুলে ধরতে পারি। ধারণা করা হয় রোহিঙ্গা নামটি এসেছে, আরাকানের রাজধানী নাম ম্রোহং থেকে। যেমন ম্রোহং > রোয়াং > রোয়াইঙ্গিয়া > রোহিঙ্গা। তবে মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যে আরাকানকে ডাকা হতো রোসাং নামে। অনেকে মনে করেন রোসাং থেকেও রোহিঙ্গা শব্দটি আসতে পারে। রোহিঙ্গাদের আবাসভূমি ছিল স্বাধীন আরাকান রাজ্য। এখনকার মতো মিয়ানমার বা তৎকালীন বার্মার অধীনে নয়। ১৭৮৪ সালে বার্মার রাজা বোডপায়া এটি দখল করে বার্মার অধীন করদ রাজ্যে পরিণত করেন। আরাকান রাজ্যের রাজা বৌদ্ধ হলেও তিনি মুসলমান উপাধি গ্রহণ করতেন। তাঁর মুদ্রাতে ফার্সি ভাষায় কলেমা লেখা থাকত। আরাকান রাজসভায় অনেক বাঙালি মুসলমান কাজ করতেন। এ বিষয়ে অনেক আগেই বাংলা সাহিত্যের লেখকরা বিশদ লিখেছেন, ‘আরাকান রাজসভায় বাংলা সাহিত্য’ নামে। বাংলার সাথে আরাকানের গভীর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক ছিল।
১৪০৬ সালে আরাকানে ম্রাউক উ রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা নরমিখলা ক্ষমতাচ্যুত হয়ে বাংলার তৎকালীন রাজধানী গৌড়ে পলায়ন করেন। গৌড়ের শাসক জালাল উদ্দীন শাহ নরমিখলার সাহায্যে ৩০ হাজার সৈন্য পাঠিয়ে বর্মী রাজাকে উৎখাতে সহায়তা করেন। নরমিখলা মোহাম্মদ শাহ আলম নাম নিয়ে আরাকানের সিংহাসনে বসেন। ম্রাউক-উ রাজবংশ প্রায় ১০০ বছর আরাকান শাসন করেন। আগেই উল্লেখ করেছিলাম মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের সমাদর ছিল আরাকান রাজসভায়। তার প্রমাণ দেখতে পাই রোসাং রাজ দরবারের রাজ কবি আলাউন ও তাঁর বিখ্যাত রচনা ‘পদ্মাবতী’র মাধ্যমে। এছাড়া সতী ময়না ও লোর চন্দ্রানী, সয়ফুল মুলক, জঙ্গনামা প্রভৃতি কাব্যগ্রন্থ রচিত হয়েছিল রোসাং রাজাদের আনুকূল্যে।
ফলে, মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগরিক বলে যে এদেশে ঠেলে দিতে চাইছে তা ঠিক নয়। রোহিঙ্গারা মুসলিম হলেও এমনকি অনেকটা চট্টগ্রামের আঞ্চলিকভাষায় কথা বললেও তারা বাংলাদেশের নাগরিক নয়। অন্তত চারশ বছর আগে থেকে বাস করা রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের নাগিরক বলে ধরে নিতে হলে, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ডের বেশিরভাগ মানুষকে ব্রিটেনের নাগরিক বলে ফেরত পাঠাতে হবে।
দীর্ঘদিন সামরিক শাসনের ফলে মিয়ানমারে কোনো গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠার সুযোগ পায়নি। গড়ে ওঠেনি কোনো সুশীল সমাজ। তাদের দেশে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক ধারার বিকাশের পথও রুদ্ধ হয়ে আছে দীর্ঘদিন থেকে। ক্ষমতায় টিকে থাকতে তাই সামরিক বাহিনী নানা প্রকার ছল-চাতুরীর আশ্রয় নিয়ে থাকে। স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনকে বাধাগ্রস্ত ও বেপথু করতে সেখানে ধর্ম বা সাম্প্রদায়িকতাকে বেছে নেওয়া হয়েছে। মিয়ানমার সরকার সে দেশে রোহিঙ্গাদের সকল অধিকার ও সুযোগ কেড়ে নিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, সাধারণ বৌদ্ধদের রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে ক্ষেপিয়ে তুলতে সরকারি গোয়েন্দা সংস্থাকে ব্যবহার করেছে। বর্তমান পরিস্থিতি দেখে মনে হয় এক্ষেত্রে সেদেশের সেনাবাহিনী সফলও হয়েছে।
ক্যাথলিক খ্রিস্টানদের প্রধান ধর্মগুরু পোপ ফ্রান্সিসের মিয়ানমার সফরকালে তিনি যেন কোনোভাবেই ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার না করেন তার যাবতীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছিল সেদেশের সরকার। অত্যন্ত তাড়াহুড়ার মধ্যে মিয়ানমার সেনাপ্রধানের পোপের সাথে সাক্ষাৎ এবং ইয়াঙ্গুনের আর্চ বিশপ কর্তৃক ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি ব্যবহার না করতে পোপের প্রতি আহ্বান মিয়ানমার সরকারের কুটিল চক্রান্তের অংশ বলেই মনে করা যায়।
আমরা স্মরণ করতে পারি যে, বেশ আগে থেকেই সু চি রোহিঙ্গা শব্দটি ব্যবহারে অনিচ্ছা প্রকাশ করেছেন এবং বিভিন্ন সময়ে এ বিষয়ে তার বিরক্তিও প্রকাশ করেছেন বিদেশি প্রতিনিধি দলের সম্মুখে। গত সোমবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে নিউ ইয়র্ক টাইমস বলেছে, ‘মিয়ানমার সরকার খুব কৌশলে রোহিঙ্গা শব্দটি মুছে ফেলতে চায়।’
মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি আলোচনার আহ্বান ও বিভিন্ন সময়ে মানবিক কিছু আবেদন রেখে পোপ ফ্রান্সিস ইতিমধ্যে বিশ্বজুড়ে নন্দিত হয়েছেন। তাঁর কিছু খোলামেলা ও সংস্কারবিহীন মন্তব্যের কারণে তিনি ইতিবাচকভাবে আলোচিত। গত ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশ সফর শেষে ঢাকা ত্যাগকালে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি উচ্চারণ না করার ব্যাখ্যা দেন তিনি। স্মর্তব্য, ঢাকায় এসে প্রথমদিন তিনি রোহিঙ্গা শব্দটি উচ্চারণ করেননি যদিও রোহিঙ্গাদের সঙ্গে দেখা হওয়ার সময় তাদের দুর্দশার কথা শুনে তিনি কেঁদেছিলেন। সিএনএন জানায়, বাংলাদেশ সফর শেষে গত শনিবার ফিরে যাওয়ার সময় সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পোপ ‘রোহিঙ্গা’ শব্দ বাদ দেওয়ার ব্যাখ্যা দেন। এশিয়া সফরের আগে এই শব্দটি বেশ কয়েকবার উচ্চারণ করেছিলেন তিনি। তবে মিয়ানমার সফরের সময় সেখানে এই শব্দটি এড়িয়ে যাওয়ার অনুরোধ করেছিলেন ইয়াঙ্গুনের আর্চ বিশপ চার্লস মং বো। মং বলেছিলেন, তাতে সহিংসতা ছড়িয়ে পড়তে পারে। আমরা আর্চবিশপের এই মন্তব্য এবং তার সাথে পোপের সতর্কতা দেখে ধরে নিতে পারি বর্তমানে মিয়ানমারে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটিকে কতটা ঘৃণিত করে তোলা হয়েছে। যদিও ইতিহাসে দেখতে পাই, বার্মার স্বাধীনতা আন্দোলন ও সামরিক শাসনবিরোধী আন্দোলনে রোহিঙ্গা নেতাদের অবদান অস্বীকার করার উপায় নেই। সু চির বাবা অং সানের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক সহযোগী ছিলেন একজন মুসলিম। তার নাম আবদুর রাজ্জাক। রাজ্জাক সে সময় বার্মা মুসলিম লীগের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছিলেন। জেনারেল অং সানের গঠিত বার্মার স্বাধীনতা পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন মন্ত্রিসভার শিক্ষা ও পরিকল্পনামন্ত্রী ছিলেন রাজ্জাক এবং ১৯৪৭ এর ১৯ জুলাই অং সানের সঙ্গে যে ৬ জন মন্ত্রী খুন হয়েছিলেন তাদের অন্যতম ছিলেন তিনি। এখনও মিয়ানমারে ১৯ জুলাই রাষ্ট্রীয়ভাবে শহীদ দিবস হিসেবে পালন করা হয় যেখানে আবদুর রাজ্জাকও স্মরণীয় হয়ে থাকেন। শুধু আবদুর রাজ্জাকই নন, সু চির বাবা এবং বার্মার জাতির পিতা জেনারেল অং সানের সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ রাজনৈতিক সহযোগীদের মধ্যে অনেক মুসলমান ছিলেন। বিশ্বের নানা দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসের মতো বার্মার স্বাধীনতা সংগ্রামের ইতিহাসে শিক্ষার্থীদের অবদান উল্লেখযোগ্য। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের সময় বার্মার জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের অন্যতম কেন্দ্রভূমি ছিল রেঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়। সে সময় রেঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করত অল বার্মা স্টুডেন্ট ইউনিয়ন। আর রেঙ্গুন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ যাকে সংক্ষেপে বলা হতো আরইউএসইউ। আর আরইউএসইউ-এর প্রতিষ্ঠাকালীন সাধারণ সম্পাদক ছিলেন আরেক মুসলিম ছাত্রনেতা এম. এ রশিদ। এই বিশ্ববিদ্যালয়ে রশিদ, অং সান ও উ নু ছিলেন খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু। এরাই গড়ে তুলেছিলেন ‘অল বার্মা স্টুডেন্ট ইউনিয়ন’ এবং রশিদ ছিলেন এই সংগঠনের প্রথম সভাপতি। রশিদ বার্মার সংবিধানের অন্যতম খসড়াকারী ছিলেন এবং পরবর্তীকালে শ্রমমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
১৯৪৭ সালের ফেব্রুয়ারিতে শান স্টেটের পাংলংয়ে ঐতিহাসিক জাতি সম্মেলনে অং সান বলেছিলেন, বার্মা হবে সব জাতির একটি ইউনিয়ন। সেখানে বর্মনরা এক কায়েত পেলে অন্যরাও এক কায়েত পাবে। আর এই ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির ওপর দাঁড়িয়েই কাচিন-কারেন-শান-মুসলিম সবাই বার্মা ইউনিয়নে যোগ দিয়েছিল সেদিন। আজ কী দুর্ভাগ্য সে অং সানের কন্যা, শান্তির জন্য নোবেলজয়ী সু চি বার্মাতে মুসলমান রোহিঙ্গাদের অস্বীকার করছেন। আর সে দেশের সেনাবাহিনী সে চিহ্ন মুছে ফেলার চেষ্টা করছে।
রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে ২৩ নভেম্বর বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের মধ্যে একটি সমঝোতা হয়েছে। এটিকে কেউ চুক্তি বলছেন। কেউ বলছেন অ্যারেঞ্জমেন্ট। বিবিসির বরাত দিয়ে দুদেশের স্বাক্ষরিত এই দলিলে উল্লেখিত কিছু শর্ত- ১। ৯ অক্টোবর ২০১৬ এবং ২৫ আগস্ট ২০১৭ এর পরে বাংলাদেশে আশ্রয়গ্রহণকারী ‘বাস্তুচ্যুত রাখাইন রাজ্যের অধিবাসীদের’ ফেরত নেবে মিয়ানমার। দলিল স্বাক্ষরের দুই মাসের মধ্যে প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু হবে। ২। সমঝোতা দলিল স্বাক্ষরের তিন সপ্তাহের মধ্যে দুই দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে যৌথ ওয়ার্কিং গ্রুপ গঠন করা হবে এবং মাঠ পর্যায়ে প্রত্যাবাসনের শর্তাবলী চূড়ান্ত হবে।
৩। দু’পক্ষই রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়ায় জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা টঘঐঈজ-এর সহায়তা নেবে। বাংলাদেশ এখন থেকেই সহায়তা পাবে, মিয়ানমার প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা নেবে।
দলিলে আরও শর্ত থাকলেও এখানে তা উল্লেখ করা হলো না। লক্ষণীয় যে, দলিলের প্রথম শর্তে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি না লিখে লেখা হয়েছে ‘বাস্তুচ্যুত রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী’। এই বিশেষ পরিচিতির দ্বারা আমরা দুটো ধারণা করতে পারি। প্রথমটি পূর্বেই বলেছি, মিয়ানমার সরকার ইতিহাস থেকে, তাদের ভূখণ্ড থেকে ‘রোহিঙ্গা’ শব্দটি মুছে দিতে চায়। ওই ধারণা করার যথেষ্ট যুক্তি আছে। তার কিছু কিছু বক্ষমান লেখায় উল্লেখ করেছি।
অন্যদিকে মন্দের ভালো হিসেবে ধারণা করতে পারি যে, এই জনগোষ্ঠীকে মিয়ানমার সরকার ‘বাস্তুচ্যুত রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী’ হিসেবে স্বীকার করে নিল। এর মধ্যেও দুটো বিষয় আছে, এরা ‘বাস্তুচ্যুত’ হয়েছে এবং ওরা ‘রাখাইন রাজ্যের অধিবাসী’।
বলেছিলাম, বাংলাদেশ দুর্ভাগ্যজনকভাবে একটি অগণতান্ত্রিক ও বর্বর দেশের প্রতিবেশী হওয়ার কারণে সে দেশের অভ্যন্তরীণ সমস্যার সাথে যুক্ত হয়ে গেছে। এখন এই সমস্যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর অন্যতম জটিল সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে। ১০ লাখের অধিক রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিতে গিয়ে বাংলাদেশ সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমস্যা এবং পরিবেশ ও স্বাস্থ্যগত ঝুঁকিতে পড়েছে। ফলে বাংলাদেশও চাইছে খুব দ্রুত কাঁধ থেকে এই বোঝা নামাতে। ফলে যে যাই বলুক আমি অন্তত এক্ষেত্রে বাংলাদেশ সরকারের সিদ্ধান্তকে ভুল বলে আখ্যা দিতে পারছি না।
সরকারের ওই চুক্তির পর বিএনপির সেক্রেটারি জেনারেল মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের আবাসন, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে তাদের ফেরত পাঠানো যাবে না।
মির্জা ফখরুলদের কথামতো রোহিঙ্গাদের সে দেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে গেলে কিয়ামত পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান হবে না।
লেখক : কবি ও সাংবাদিক

সর্বশেষ সংবাদ