শব্দ সন্ত্রাস এবং ধর্মের কল- কামরুল হাসান বাদল, লেখক,কবি, সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 30/11/2017-08:51am:    আজ থেকে ৫২ বছর আগে অর্থাৎ ১৯৬৫ সালে এই শহরের অবস্থা কেমন ছিল ? এমন ব্যস্ত নগরী ছিল না নিঃসন্দেহে। এত গাড়ি, এত মার্কেট, এত জৌলুস এবং এত লোকসংখ্যাও ছিল না তখন। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের রাজধানী ঢাকায় টেলিভিশন স্টেশন চালু হয়নি। চট্টগ্রাম বেতারের যাত্রা শুরু হয়েছে সবে। সে সময় দেশের মুক্তবুদ্ধি চর্চার প্রবক্তা, শিক্ষাবিদ, সাহিত্যিক আবুল ফজল তাঁর রেখাচিত্র গ্রন্থটি প্রকাশ করেন। বইটির প্রথম প্রকাশকাল ১৯৬৫ সাল। বইটির ‘স্বগত’ শীর্ষক ভূমিকার একটি অংশে তিনি লিখেছেন, “রাস্তার ধারে আমার বাড়ি। তবুও আমাকে সবচেয়ে বেশি পীড়া দেয় কোলাহল আর হট্টগোল। রেডিওর আওয়াজ আমার কানে রীতিমত যন্ত্রণা। দীর্ঘকাল আমার কোনো প্রতিবেশী ছিল না। এখন শুধু যে প্রতিবেশী হয়েছে তা নয়, অনেক দোকানপাট, হোটেল রেস্তোরাঁও হয়েছে। রেডিও বাজানো যাঁদের কারো কারো নিত্যকর্ম। প্রসিদ্ধ চিনা লেখক লিন টুয়াং লিখেছেন; বত্রিশ বছর পরে তিনি তাঁর বাসা বদলাতে বাধ্য হয়েছেন। কারণ সম্প্রতি তাঁর এক প্রতিবেশী একটি রেডিও কিনেছেন। বাসা বদলাবার তৌফিক আমার নেই, তাই ক্রমবর্ধমান যন্ত্র–সভ্যতার নির্যাতন থেকে নেই রেহাইও।”
এই শহরের একটু বয়স্করা জানেন তবে নতুন প্রজন্মের জানার সুবিধার্থে বলে রাখি আবুল ফজলের বাড়িটি ছিল সাবেক জুবিলি রোড, অধুনা নূর আহমদ সড়কে, এম এ আজিজ স্টেডিয়ামের ঠিক পূর্বপাশে। বাড়িটি এখন নেই।
গত শতকের ছয় দশকের প্রায় শুরু থেকে এ দেশে মাইক ব্যবহারের প্রচলন শুরু হয়। তখন সভা–সমিতিতে ব্যবহার ছাড়াও শুধু গান শোনার জন্যও অনেকে মাইক ভাড়া করে বাজাতেন। সে সময় চট্টগ্রামের বিয়ে–শাদিতেও মাইক বাজানো হতো। গত তিন থেকে চার দশক আগেও এমন পরিস্থিতি ছিল চট্টগ্রামে। কনে বা বরের গায়ে হলুদে সারারাত ধরে মাইক বাজানো হতো। ৪০/৫০ বছর আগে মাইক বাজানো ছিল জৌলুসের একটি অংশ। সবার অবশ্য মাইক বাজানোর সামর্থ ছিল না। অনেক স্থানে মাইক বাজানোকে ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে হারাম বা না–জায়েজ বলে আখ্যা দেওয়া হতো। মাইক বাজানোকে কেন্দ্র করে অনেক হাঙ্গামাও হয়েছে এক সময়। খুব বেশি দিনের কথা নয়। নগরীর তিনপুলের মাথা মসজিদে মাইক বাজানো এবং না বাজানো নিয়ে রক্তক্ষয়ী হাঙ্গামাও হতো বছরে কয়েকবার। (আবুল ফজলের উক্ত বইটিতে তিনি আরও লিখেছেন, ১৯–৩–৬৪ গ্রামের বাড়ি (সাতকানিয়া) গিয়েছিলাম একদিনের জন্য। অজ পাড়াগাঁ। শহর থেকে প্রায় বত্রিশ মাইল দূরে। সেখানে সাধারণত হাটের দিন হাটের কাছাকাছি ছাড়া কোনো কোলাহল শোনা যায় না। গাছপালায় ছায়া–ঘেরা গ্রাম এখানে ওখানে দূরে দেখা যায় গুচ্ছ গুচ্ছ কুঁড়ে ঘর। আশেপাশে গরু–বাছুর আর হাঁস–মুরগি নিয়ে যাদের জীবন–যাদের দেখা যায় ঘরের দাওয়ায়, উঠোনে, ভিটে বাড়ি কি ক্ষেত খামারে বা পুকুরঘাটে তারাও ওই কুঁড়েঘরের মতো সাদামাটা। এখানে কোথাও উচ্চরোল নয়–জীবন চারদিকের স্তব্ধ প্রকৃতির সঙ্গে এদের জীবন এক সুরে বাঁধা।
“বাড়ির কাছাকাছি পৌঁছাতেই আচমকা দূর থেকে কানে ভেসে এলো–মাইকের কর্কশ আওয়াজ। মনে মনে যে সুন্দর কবিতাটি অবয়বিত হচ্ছিল মুহূর্তেই তারই যেন ঘটলো অপমৃত্যু–মনের প্রশান্তি ভেঙে টুকরো টুকরো। মনটা বিষিয়ে উঠল অপ্রত্যাশিত ছন্দপতনে। এখানেও যে কানফাটা গর্জন ? যার হাত থেকে শহরে আমাদের এক মুহূর্তেরও রেহাই নেই।”
‘অনেক সময় এই নরকের দুয়ার খুলে দেওয়া হয় রাতে। এমনকি গভীর রাত্রে যখন দিন শেষে আপনি নিশ্চিন্তে ঘুমিয়ে আছেন। কত বার রাত্রি তিনটার সময় আঁতকে উঠেছি কোন না কোন ‘চট্টল গৌরবের’ মৃত্যু সংবাদে। অভ্যাস বসে মৃত্যু বল্লাম বটে আসলে ওঁরা এন্তেকাল করেন, মরেন না। জীপ্‌ আর মাইকের যোগাড় করতে পারলে সাধারণ মৃত্যুও এন্তেকাল হয়ে ওঠে। বলা বাহুল্য, এখন মরে সাধারণরা আর এন্তেকাল করে অসাধারণরা। যেমন, সাধারণরা হজ্ব করলে হয় হাজী আর অসাধারণরা আলহাজ্ব।”
“এন্তেকালের খবর দিয়েও মাইক কিন্তু থামে না।বেলা ৯ ঘটিকায় লালদীঘি ময়দানে দলে দলে জানাজায় হাজির হয়ে অশেষ–সোয়াবের ভাগী হওয়ার হুঙ্কারটাও বারে বারে ধ্বনিত হতে থাকে মাইকের মুখে। এভাবে শেষ রাত্রির শান্তি আর নিস্তব্ধতা টুকরো টুকরো করে মাইক আপনার যে নাজুক ঘুমটা ভেঙে দিলো সে ঘুম সে রাত্রে আর ফিরে আসার কথা নয়।”
আজ থেকে বায়ান্ন বছর আগের আবুল ফজলের লেখার দীর্ঘ উদ্ধৃতি দিলাম শুধু বোঝাতে যে, এই সময়ের ব্যবধানে আমরা একটি স্বাধীন জাতিতে পরিণত হয়েছি, আমাদের শিক্ষার হার বেড়েছে, আমাদের নগর বিস্তৃত হয়েছে। আমরা বেশ নাগরিক হয়ে উঠেছি কিন্তু এই দীর্ঘ সময়ও কি আমাদের মধ্যে প্রকৃত কোনো পরিবর্তন, ইতিবাচক কোনো পরিবর্তন সাধন করতে পেরেছে ?
আমি তো ভাবি, আবুল ফজল যদি এখনও বেঁচে থাকতেন এই নগরে তাহলে তিনি এরপর আর কী লিখতেন ? তিনি কি আদৌ এই শহরে বসবাস করতেন ? শব্দ দূষণ নিয়ে যখনই ভাবি তখনই আমার আবুল ফজলের এই কথাগুলো মনে পড়ে। মধ্যরাতে মৃত্যু সংবাদ দেওয়ার মতো অশোভন ও বিপজ্জনক প্রবণতা কি আমাদের বন্ধ হয়েছে এখনো ?
আমি থাকি মোমিন রোডে। আমার বাসা থেকে জেএমসেন হলের দূরত্ব কয়েকশ গজ। চট্টগ্রামের মানুষ মাত্রই জানেন, এই হলে সারাবছরই কোনো না কোনো ধর্মীয় অনুষ্ঠান চলে।
অধিকাংশ সময় অনুষ্ঠানে ব্যবহৃত মাইকের হর্ন রহমতগঞ্জ সড়কের মুখে পর্যন্ত স্থাপন করা হয়। জেএমসেন হলের আশেপাশে যারা থাকেন তারা শব্দ সন্ত্রাস কাকে বলে তা হাড়ে হাড়ে টের পেয়ে থাকেন। এই এলাকায় শুধু জেএমসেন হলের মাইক নয়। অনেক সময় লালদীঘি মাঠের অনুষ্ঠানের মাইকের হর্ন মোমিন রোডের মুখে পর্যন্ত স্থাপন করা হয়ে থাকে। এছাড়া সড়কে সিটি কর্পোরেশন ও সরকারি বিভিন্ন প্রচারণামূলক কর্মকাণ্ডের মাইক তো সারাদিনই বাজে।
লটারির টিকেট, ইলেক্ট্রিক বাল্ব, কসমেটিক এ ধরনের নানা দ্রব্যের বিক্রির গাড়ির সাথে হরদম ব্যবহৃত হয় মাইক। জনসভা, ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাইকিং শহরজুড়েই চলে। মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র থাকাকালীন পুরো রমজান মাসজুড়ে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলোতে মাইকে কোরআন তেলাওয়াত প্রচার করা হতো। কোনো স্থানে বিকেলে রাজনৈতিক কর্মসূচি থাকলে তার মাইক চালু করা হয় সকাল থেকে। একজন সুস্থ মানুষেরও বুক কেঁপে ওঠে মধ্যরাতে মাইকে ‘একটি শোক সংবাদ’ ‘একটি শোক সংবাদ’ শুনে। ধর্মীয় মিছিল যেদিন বের হয় নগরে সেদিনতো শৃঙ্খলাই ভেঙে পড়ে। সরকারি বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মেলা, ডেভেলপার কোম্পানির মেলা, কর বা বকেয়া বিল পরিশোধের তাগাদা দেওয়ার মাইকগুলো হরদম বাজে রাজপথে। শীতের শুরু থেকেই শুরু হবে পাড়ায় পাড়ায় ওয়াজ মাহফিলের মাইক। যা গভীর রাত পর্যন্ত চলবে। ধর্মের মাহাত্ম্য বোঝাতে বলা হয়ে থাকে,ধর্মের কল বাতাসে নড়ে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানের মাইকের অত্যাচার দেখে আমি ভাবি ধর্মের কল (মাইক) সারাদিনই বাজে।’
সড়কে চলাচলের সময়েই শুধু নয়। ঘরে বসেও শোনা যায় সারাদিন অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেনের শব্দ। এই শব্দটি এত তীব্র যে, আশেপাশে প্রায় দুই তিন কিলোমিটার পর্যন্ত এর তীব্র আর্তনাদ শোনা যায়। অ্যাম্বুলেন্সের সাইরেন বাজানো হয় সড়কে সতর্কতা ও রোগীবাহী গাড়িটিকে যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। কাজেই সাইরেনের শব্দটি এত তীব্র হওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। শুধু সামনের কয়েকটা গাড়ি শোনার মতো হলেই যথেষ্ট। বাংলাদেশে অ্যাম্বুলেন্সে যে তীব্র সাইরেন ব্যবহার করা হয় তা শুনে অনেক সুস্থ মানুষও অসুস্থ হয়ে পড়েন। মধ্যরাতে যখন সড়কে কোনো গাড়িই থাকে না তখনো বেজে চলে এই সাইরেন। একজন অসুস্থ ব্যক্তিকে এই সাইরেনের শব্দ কীভাবে আতঙ্কিত করে তোলে তা একমাত্র ভুক্তভোগীরাই বুঝতে পারেন।
দেশ জুড়েই বেশ উন্নয়ন হচ্ছে। বিশেষ করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন। আপনি যে এলাকায় থাকুন না কেন সেখানেই চলছে এই উন্নয়ন। এইসব কাজে টাইলস ও অ্যালুমিনিয়াম কাটার শব্দ কী যে যন্ত্রণাদায়ক তা প্রায় সবারই অভিজ্ঞতা আছে।
পরিকল্পিতভাবে যেহেতু কিছুই হয়নি যেহেতু দেখা যায় বাসাবাড়ির আশেপাশেই গড়ে উঠেছে কমিউনিটি সেন্টার। আর এই কমিউনিটি সেন্টারে যেদিন বিয়ের লগ্ন পড়ে কিংবা গায়ে হলুদের অনুষ্ঠান হয় সে রাতে আশেপাশের মানুষের নিদ্রা বিলকুল হারাম হয়ে যাবে।
বাংলাদেশ ছাড়া আর কোথাও গাড়িতে এত তীব্র হর্ন বাজানো হয় না। এদেশে চালকরা অযথাই হর্ন বাজায়। দীর্ঘ যানজটে আটকে আছে এমন অবস্থায়ও তীব্রভাবে হর্ন বাজায় চালকরা। যদিও তারা জানে তখন হাজারো হহর্ন বাজিয়েও কোনো কাজ হবে না। গভীর রাতে বা খুব ভোরে যখন সড়কে কোনো গাড়ি থাকার কথা নয়, তখনও গাড়ির তীব্র হর্ন শোনা যায় শোবার ঘর থেকে। অর্থাৎ শব্দ যন্ত্রণা থেকে গভীর রাতে শোবার ঘরে দরজা জানালা বন্ধ করেও আমাদের নিস্তার নেই।
অধিক শব্দ কি শুধুই কানে বাজে নাকি তা আমাদের শারীরিক ও মানসিক সমস্যা তৈরি করছে তা দেখা যাক। পৃথিবীর সকল সৃষ্টির একটি নির্দিষ্ট সহনশীলতা আছে। মানুষেরও আছে তা। মানুষের বিভিন্ন অঙ্গ প্রত্যঙ্গেরও একটি সহনশীলতা আছে যার অধিক হলে অঙ্গটি বিগড়ে যেতে পারে। অত্যধিক শব্দ আমাদের শ্রবণেন্দ্রীয়কে অকেজো করে দিতে পারে। শহরে বসবাস করছেন এমন মানুষরা গ্রামে বসবাসরতদের চেয়ে কানে কম শোনেন। এই ধরনের সমস্যায় বেশি ভুগছে শিশুরা। অতিরিক্ত শব্দ রক্তচাপও বৃদ্ধি করে। হৃদরোগীদের জন্য বিপদের কারণ হতে পারে অতিরিক্ত শব্দ। এতে অনেকের মাথা ঘোরা এবং বমির ভাবও হতে পারে। একারণে বাড়ে উদ্বেগ। অনেকের মেজাজও খিটখিটে হয়ে পড়ে। সড়কে সামান্য বিষয় নিয়ে কথা কাটাকাটি থেকে হাঙ্গামা এজন্যই হয়ে থাকে । যাদেরকে দিনের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ সড়ক বা সড়কের আশেপাশে কাজ করতে হয় তারা কানে কম শোনেন। যেমন ট্রাফিক পুলিশ, রাস্তার পাশে হকার, দোকানদার, গাড়ি চালক। এরা নিজেরা কম শোনেন বলে কথা বলেন উচ্চস্বরে। মাত্রাতিরিক্ত শব্দের কারণে আমাদের শিশুদের মনোবিকাশের সমস্যা হচ্ছে।
চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা মানুষের শ্রবণ ক্ষমতার কথা বিবেচনা করে শব্দের মাত্রার একক মান নির্ধারণ করেছেন। যাকে ডেসিবেল বলে। কোন এলাকায় কত ডেসিবেল শব্দ করা যাবে তাও নির্ধারণ করে দিয়েছেন তারা। বাংলাদেশে শব্দদূষণ (নিযন্ত্রণ) বিধিমালা–২০০৬ অনুযায়ী এলাকা ভেদে শব্দের মানমাত্রা স্থির করা হয়েছে। তা নীরব এলাকায় দিনে ৫০, রাতে ৪০, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ রাতে ৪৫ মিশ্র এলাকায় দিনে ৬০, রাতে ৫০ বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০, রাতে ৬০, শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫, রাতে ৭০ ডেসিবেল হতে পারে বলে বিধিমালায় উল্লেখ করা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবে কী তা একটু দেখা যেতে পারে। চট্টগ্রামের ইপিজেড মোড় এলাকায় এই মাত্রা ১৩০ দশমিক ৬, জিইসি মোড়ে ১২০, আন্দরকিল্লা ১২০ থেকে ১৩০ ডেসিবেল। টাইলস ও অ্যালুমিনিয়াম কাটার সময় নির্জন আবাসিক এলাকায় ডেসিবেল ৮০ থেকে ১৩০ পর্যন্ত ওঠানামা করে।
এ পরিস্থিতি শুধু চট্টগ্রামে নয়। সবকটি বিভাগীয় শহরে একই অবস্থা বিরাজ করছে। চট্টগ্রাম ছাড়া ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় এইমাত্রা ১৩০ দশমিক ২, সিলেটের করিমউল্লাহ মার্কেট এলাকায় ১৩০ দশমিক ৬, খুলনার নিউমার্কেট এলাকায় ১২৮ দশমিক ৯, বরিশালে কাশিমপুর বাজার এলাকায় ১৩১ দশমিক ৩, রংপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় ১৩০ দশমিক ১. ময়মনসিংহের ধোপাখোলা মোড় এলাকায় ১২৯ দশমিক ৯।
শব্দ দূষণ বিধিমালা (নিয়ন্ত্রণ) ২০০৬–এ বলা হয়েছে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অফিস আদালত বা একই জাতীয় কোনো প্রতিষ্ঠান ও তার ১০০ মিটার পর্যন্ত বিস্তৃত এলাকা হচ্ছে ‘নীরব এলাকা’ যেখানে হর্ন বাজানো সম্পূর্ণ নিষেধ। লক্ষণীয়! চট্টগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের পাশে শব্দমাত্রা হচ্ছে ১৩০ ডেসিবেল। কে শোনে কার কথা!
এরমধ্যে গত ৫ নভেম্বর সারাদেশে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট। এর আগে শুধু রাজধানী ঢাকায় হাইড্রোলিক হ্র্ন বন্ধের নির্দেশনা ছিল। বিশিষ্ট আইনজীবী মনজিল মোরশেদের সম্পূরক আবেদনের শুনানি শেষে বিচারপতি কাজী রেজাউল হক ও বিচারপতি মোহাম্মদ উল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ও আদেশ দেন। দু সপ্তাহের মধ্যে হাইড্রোলিক হর্নের আমদানি ব্যবহার নিষিদ্ধের এ আদেশ বাস্তবায়নের বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদনও দিতে বলেছিলেন আদালত। এখনও যেসব গাড়ির মালিক চালকের কাছে হাইড্রোলিক হর্ণ রয়েছে সেগুলো ১৫ দিনের মধ্যে নিকটস্থ থানা পুলিশের কাছে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। সে সাথে পুলিশ কর্তৃপক্ষকে সেগুলো ধ্বংস করার নির্দেশও প্রদান করা হয়।
হাইকোর্টের এই নির্দেশনা ১৫ দিন পেরিয়ে গেছে। গাড়ির মালিক–চালক ও পুলিশ কর্তৃপক্ষ যে হাইকোর্টের নির্দেশনা মানেননি তা এই মুহূর্তে লেখার টেবিলে বসে প্রায় মধ্যরাতে মোমিন রোড, আন্দরকিল্লার মোড় থেকে ভেসে আসা গাড়ির তীব্র হর্ণের শব্দে বেশ বুঝতে পারছি।
আমাদের সমাজের সমস্যাটি হচ্ছে আমরা সবাই সবকিছুর ‘ভালো’ আগে বুঝি, কিন্তু নিজে তা মেনে চলি না। আমরা যখন গাড়িতে চড়ি তখন রিকশাচালকদের বিশৃঙ্খলার জন্য সমানে গালাগাল করি। নিয়ম না মানার জন্য তাদের ওপর দোষ চাপাই। আবার যখন রিকশা করে যাই তখন গাড়িওয়ালাকে জানিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করি রাস্তাটা শুধু গাড়িওয়ালাদের নয়। যার শব্দদূষণ করছে তাদের কাছে জানতে চান শব্দদূষণ নিয়ে অনেক নীতিকথা তিনি শুনিয়ে দেবেন। আর একই কাজ নিজে যখন করেন তখন যুক্তি দেখাবেন, আমি কি একাই করছি না কি?
প্রবল ধর্মীয় অনুভূতিপ্রবণ দেশে খোলাখুলি মত প্রকাশেও ঝুঁকি আছে। ধর্মীয় অনুষ্ঠানে মাইক ব্যবহার করে আশেপাশে বসবাসকারীদের জীবন অতিষ্ঠ করার মধ্যে ধর্মের কী মাহাত্ম প্রকাশ পায় তা আমার মতো এক সাধারণ মানুষের মাথায় ঢোকে না। সৃষ্টিকর্তার কর্নযুগল কি এতই দুর্বল যে তাঁর কাছে পৌঁছাতে মাইকের প্রয়োজন হবে? মাইক আবিষ্কারের আগে কি সৃষ্টিকর্তা তাঁর সৃষ্ট মানুষের প্রার্থনা শোনেননি কিংবা আমলে নেননি?
শীতের মৌসুম আসছে। সামনে ডিসেম্বর মাস। শহর থেকে গ্রামে চলবে বিজয়মেলার উৎসব। সে সাথে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব, ওরশ তো লেগেই থাকবে। আর তাতে অত্যাবশ্যকীয়ভাবে বাজবে উচ্চ স্বরের মাইক। কিন্তু এভাবে আর কতকাল। আমাদের সন্তানদের কথা ভেবে শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে অসুস্থ ও বয়স্ক লোকদের কথা ভেবে আমাদের এখন থেকে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
পুলিশ বিভাগ তার দায়িত্ব পালন করুক। উচ্চ আদালতের নির্দেশনাকে মান্য করুক। হাইড্রোলিক হর্ণ বন্ধের উদ্যোগ নিক। সমাজটি একটু বাসযোগ্য হয়ে উঠুক।

সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধান করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান কক্সবাজার রেড জোন,শনিবার থেকে আবারো লকডাউন এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।