নারীর অগ্রগতি, নারীর নিরাপত্তাহীনতা-কামরুল হাসান বাদল,লেখক,কবি, সাংবাদিক কলামিস্ট

পোস্ট করা হয়েছে 09/11/2017-08:01pm:    ছুটির দিনে পতেঙ্গা সমুদ্র সৈকতে বেড়িয়ে রাতে বাসায় ফিরছিলেন এক পোশাককর্মী। পতেঙ্গা থেকে ২০ কিলোমিটার পেরিয়ে পৌঁছালেন নগরীর অন্যতম ব্যস্ত এলাকা বহদ্দারহাটে। এখানে তাঁর তিন বান্ধবীসহ অন্যান্য যাত্রীরা নেমে পড়লেন। মেয়েটি নামলেন না। তিনি আর সামান্য কিছু দূর যাবেন। বহদ্দারহাট থেকে মৌলভীপুকুর পাড়। দূরত্ব সামান্য। রাত বেশি হয়নি। মাত্র সাড়ে আটটা। সড়ক এবং চারপাশে এখনো ব্যস্ত মানুষের ভিড়। যে কোনো সময় যাত্রী উঠতে পারে ভেবে মেয়েটি আর দুই কিলোমিটার পথ যেতে খুব একটা ভয় পেল না।
মেয়েটি ভয় না পেলে কী হবে! ভয়ের চেয়েও বেশি কিছু যে মেয়েটির জন্য অপেক্ষা করছিল তা তো মেয়েটি ঘুূণাক্ষরেও টের পায়নি। মেয়েটি তখনো জানে না, জীবনের সবচেয়ে তিক্ততম সময়, সবচেয়ে অপমানের সময় তাঁর জন্য অপেক্ষা করছে। মেয়েটি তখনো জানে না, একটি ব্যস্ততম নগরীর ব্যস্ততম সড়কে চলন্ত বাসে তাকে সম্ভ্রম হারাতে হবে।
বহদ্দারহাটে যাত্রী নামিয়েই বাসটি চলতে শুরু করে এবং চালকের সহকারী দ্রুত বাসের জানালা ও দরজা বন্ধ করে দেয়। জানালা বন্ধ করার সময় মেয়েটি ভেবেছিল মৌলভীপুকুর পাড় বাসটির শেষ গন্তব্য এবং আজকের মতো এটি শেষ ট্রিপ বলে সহকারী আগে থেকে সব গুছিয়ে নিচ্ছিল। কিন্তু অকস্মাৎ দরজা বন্ধ করে তাঁর দিকে যখন ছোরা নিয়ে এগিয়ে এলো তখন এরপর কী ঘটবে তা বুঝতে পারলেও তাঁর আর কিছুই করার ছিল না। মৃত্যুভয় দেখিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে সহকারী। এরপর সে চালকের আসনে বসে আর চালক উঠে এসে ধর্ষণ করে মেয়েটিকে। পুরো ঘটনাটি ঘটেছে বহদ্দারহাট থেকে কালুরঘাটমুখী ব্যস্ততম সড়কে।
গত ২৭ অক্টোবর এই ঘটনাটি ঘটলেও মেয়েটি লোকলজ্জার কারণে তা প্রকাশ করেনি। অবশেষে পরিবারের সাথে আলাপ–আলোচনার পর গত ৩ নভেম্বর চান্দগাঁও থানায় মামলা করে সে। পরদিন ওই বাসের চালক রাশেদুল ইসলাম (২০) ও সহকারী ইমতিয়াজ উদ্দিনকে (১৮) গ্রেফতার করে পুলিশ। ৪ নভেম্বর চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম নাজমুল হোসেন চৌধুরীর আদালতে জবানবন্দি দেয় চালক ও তার সহকারী।
লক্ষ্যণীয় যে, চলন্ত বাসে বা গাড়িতে ধর্ষণের ঘটনা ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। দুয়েকটি মামলায় সাজা প্রদানের ঘটনা ঘটলেও তাতে নিবৃত্ত হচ্ছে না কেউ। ২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর ভারতের রাজধানী দিল্লিতে চলন্ত বাসে এক ছাত্রীকে ধর্ষণ ও পরে হত্যা করার ঘটনায় ভারতসহ বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছিল। এর জন্য ভারত সরকার দ্রুত বিচারের ব্যবস্থা করেছিল। একইভাবে কয়েকমাস আগে টাঙ্গাইলের মধুপুরে চলন্ত বাসে রূপা নামের এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যা করে পাঁচ পরিবহন শ্রমিক। ঘটনাটি ঘটেছিল ২৫ আগস্ট। গত ১৩ সেপ্টেম্বর চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় এক গৃহবধুকে চলন্ত বাসে ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়। ২০১৪ সালে ১৩ ফেব্রুয়ারি মানিকগঞ্জে চলন্ত বাসে এক তরুণী ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় বাস চালক ও সহকারীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন আদালত। ২০১৫ সালের ১২ মে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে কর্মস্থল থেকে ফেরার পথে চলন্ত বাসে ধর্ষণের শিকার হন এক পোশাককর্মী। ধর্ষণের পর রাস্তায় তাকে ফেলে দেয় ধর্ষণকারী চালক ও সহকারী। রাজধানী ঢাকায় মাইক্রোবাসে ধর্ষিত হয় এক গারো নারী। গত বছর ২৩ জানুয়ারি বরিশালে একটি বাসে দুইবোনকে ধর্ষণ করে পাঁচ পরিবহনকর্মী। চলতি বছরের ৩ জানুয়ারি ময়মনসিংহের নান্দাইলে একটি বাসে এক কিশোরীকে ধর্ষণ করে তিন পরিবহনকর্মী। পরে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হয়।
এই ঘটনাগুলো শুধুমাত্র যানবাহনে ধর্ষণের চিত্র। তা–ও পুরোপুরি নয়। কারণ সারাদেশের তথ্য জানার সুযোগ না থাকা এবং অনেকে মামলা না করায় পূর্ণাঙ্গ তথ্য ও চিত্র তুলে ধরা সম্ভব হয়নি।
বাংলাদেশসহ এই উপমহাদেশ যে ধর্ষণের চারণভূমি হয়ে উঠেছে এই ঘটনাগুলো হচ্ছে তার সামান্য কিছু প্রমাণ। এছাড়া প্রতিদিন প্রতিঘণ্টায় ঘরে বাইরে, কর্মক্ষেত্রে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অসংখ্য নারী ধর্ষিত হচ্ছে যার প্রকৃত পরিসংখ্যান প্রদান সম্ভব নয়। কারণ অনেক ধর্ষিত নারী লোকলজ্জা ও সামাজিকতার ভয়ে ঘটনাটি প্রকাশ করতে চান না। না চাওয়ার আরও কিছু কারণ আছে। ধর্ষণ মামলা করার পর সমাজে নারীটিকেই অন্য চোখে দেখা হয়। যেন অপরাধটি নারীর। ধর্ষণের জন্য দায়ী করা হয় নারীটিকেই। অন্যদিকে মামলা করতে গিয়ে নানাবিধ বিড়ম্বনা ও অপমানের সম্মুখিন হতে হয় নারীদের। যে কারণে অনেক ধর্ষণ ঘটনার মামলা হয় না। আইনি জটিলতা, বিচারের দীর্ঘসূত্রতার কারণেও অনেকে মামলা পরিচালনার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। অনেক সময় রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপে অনেকে মামলা করতে পারে না। চাপ দিয়ে বা সমঝোতার মাধ্যমে ঘটনার ইতিটানা হয়। তবে ধর্ষণ মামলার দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হলে সমাজে এর প্রভাব পড়তো বলে মনে করেন দেশের বিশিষ্টজনেরা।
চট্টগ্রামের মেয়েটি মামলা করেছিল ৩ নভেম্বর। তবে সংবাদমাধ্যমে সংবাদটি এসেছে দেরিতে। অন্যদিকে ৪ নভেম্বর একটি জাতীয় দৈনিকে একটি প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। দেশে নারীদের অগ্রযাত্রা নিয়ে প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে তথ্য নিয়ে দৈনিকটি জানিয়েছে দেশের ১০৬টি উপজেলায় নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা। সংখ্যানুপাতে এই হার ২৪ শতাংশ। কোনো কোনো জেলার বেশিরভাগ উপজেলাতে ইউএনওর দায়িত্ব পালন করছেন নারী কর্মকর্তারা। কিশোরগঞ্জের ১৩টি উপজেলার মধ্যে ৮টি এবং টাঙ্গাইলে ১২টির মধ্যে ৮টিতে ইউএনও পদে দায়িত্বে আছেন নারী। সরকারের জনপ্রশাসনে সচিব আছে ১০ নারী। এক বিভাগীয় কমিশনার ছয় জেলা প্রশাসক ও ১৬ জন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক নারী। এছাড়া বিচারপতি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন নারীরা। থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মতো ব্যস্ত ও ঝামেলাপূর্ণ কাজের দায়িত্ব পালন করছেন বেশ কজন নারী।
দেশে প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা আছেন ৫ হাজার ৭৫৯ জন। এর মধ্যে ১ হাজার ১০০ জন নারী। জনপ্রশাসন সূত্র বলছে, প্রশাসন ক্যাডার ছাড়াও সরকারি চাকরিতে নারী কর্মকর্তা–কর্মচারীর সংখ্যা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই সরকার যখন ক্ষমতা গ্রহণ করে অর্থাৎ ২০০৯ সালে সরকারি চাকরিতে নারীর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৭ হাজার ১১৪ জন। ২০১৫ সালে ওই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৩৫৪ জন।
বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম (ডব্লিউইএফ)-এর ২০১৭ সালের ‘গ্লোবাল জেন্ডার গ্যাপ’ প্রতিবেদনে বাংলাদেশের অগ্রগতির একটি চিত্র দেখিয়েছে। অধিকার আর অংশগ্রহণের প্রশ্নে নারী–পুরুষের ব্যবধান ঘোচানোর ক্ষেত্রে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সূচকে এক বছরে বিশাল অগ্রগতির খবর দিয়েছে এই প্রতিষ্ঠান। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, বাংলাদেশ এক বছরে ২৫ ধাপ এগিয়ে বিশ্বের ১৪৪টি দেশের মধ্যে ৪৭ নম্বরে উঠে এসেছে।
গত বছর এই তালিকায় বাংলাদেশ ছিল ৭২ নম্বরে। আর ২০০৬ সালে ছিল ১১৫ টি দেশের মধ্যে ৯১তম স্থানে। বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরাম তাদের লিঙ্গ সমতা সূচক প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে ২০০৬ সাল থেকে। অংশগ্রহণ, শিক্ষার সূচক, স্বাস্থ্য সেবা প্রাপ্তি এবং রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন এই চার মাপকাঠিতে নারী–পুরুষের বৈষম্য বিবেচনা করে এই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়। দক্ষিণ এশিয়ায় গতবছরের শীর্ষ অবস্থান এ বছরও ধরে রেখেছে বাংলাদেশ। এই তালিকায় মালদ্বীপ ১০৬, ভারত ১০৮, শ্রীলংকা–১০৯, নেপাল–১১১, ভুটান–১২৪ আর পাকিস্তান ১৪৪ টি দেশের মধ্যে ১৪৩তম স্থানে রয়েছে। এরপরেই আছে ইয়েমেন।
এই সূচকে টানা নবমবারের মতো শীর্ষে অবস্থান করছে আইসল্যান্ড। শীর্ষ দেশের বাকি নয়টি দেশ হলো–নরওয়ে, ফিনল্যান্ড, রুয়ান্ডা, সুইডেন, নিকারাগুয়া, োভেনিয়া, আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড এবং ফিলিপাইন। অর্থনীতিতে নারীর অংশগ্রহণের দিক দিয়ে বাংলাদেশ গতবারের ১৩৫ তম স্থান থেকে ছয় ধাপ এগিয়ে ১২৯ তম স্থানে উঠে এসেছে। শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য আরও কমে এসেছে। সূচকের ১১৪তম স্থান থেকে উঠে এসেছে ১১১তম স্থানে। তবে স্বাস্থ্যসেবাপ্রাপ্তিতে বাংলাদেশের সূচক বৃদ্ধি পেলেও অন্যান্য দেশ আরও বেশি ভালো করায় ৯৩ থেকে নেমে এসেছে ১২৫ তম স্থানে। ডব্লিউএফই বলেছে, গত এক দশকে নারী–পুরুষ বৈষম্য কমাতে বিশ্ব ভালো অগ্রগতি দেখালেও সেই গতি এখন কমে আসছে। আর এইভাবে এগোলে বিশ্ব থেকে লিঙ্গ বৈষম্য দূর হতে ১০০ বছর লাগবে।
এই প্রতিবেদন বাংলাদেশ সরকারের নয়। ফলে এখানে বাড়িয়ে বলা হয়েছে তেমন বলার অবকাশও নেই। ফলে আমরা বাংলাদেশের এই অগ্রগতির তথ্য গ্রহণ করে এর পাশাপাশি সমাজে নারীদের নিরাপত্তাহীনতার চিত্রটি তুলে বলতে চাই, নারীর এই অংশগ্রহণ, নারীর অগ্রগতি সবকিছু ব্যর্থ হবে যদি সমাজে, রাষ্ট্রে আমরা নারীদের পূর্ণ নিরাপত্তা বিধান করতে না পারি। ঘর–বাহির, কর্মস্থল, যানবাহন ইত্যাদিতে যদি নারীদের নিরাপত্তা না দিতে পারি, সমাজে যদি নারীদের প্রতি ইতিবাচক ও সম্মানজনক মনোভাব তৈরি করতে না পারি তাহলে সকল অগ্রগতি একদিন মুখ থুবড়ে পড়বে।
বাংলাদেশের সমাজ রক্ষণশীলতার দিকে ঝুঁকছে। সমাজে ধর্মীয় প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্ম–কর্ম করার লোকও বেড়েছে। কিন্তু এর পাশাপাশি মানবিক দিকগুলোর বিকাশ লাভ করেনি দুঃখজনকভাবে। আজ থেকে ৩০/৪০ বছর আগেও নারীরা অনেক নিরাপদে ছিল শহরে গ্রামে। এখন কর্মজীবী নারীর সংখ্যা বেড়েছে। নারী–শিক্ষার হার বেড়েছে। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নারীর অংশগ্রহণ অনেক গুণ বৃদ্ধি পেলেও নারীর নিরাপত্তাহীনতা বেড়েছে তার চেয়ে বেশি। নারী ধর্ষণ এমনকি শিশু ধর্ষণের মতো ঘটনা বৃদ্ধি পেয়েছে। কতটা বেপরোয়া হলে ধর্ষকরা শহরের ব্যস্ততম সড়কে চলন্ত গাড়িতে ধর্ষণ করার ঘটনা ঘটায়।
দেশের প্রধানমন্ত্রী নারী। সংসদের স্পিকার, সংসদে বিরোধী দলের নেতা, বড় আরেকটি রাজনৈতিক দলের প্রধান নারী। দশ সচিব, বিচারপতি, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, বৈমানিক ইত্যাদি পদে এত এত নারী এবং বিভিন্ন সূচকে দেশের অগ্রগতি হওয়া সত্ত্বেও দেশে নরীদের ওপর সহিংসতা কমছে না বরং তা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর কারণ কী?
ধর্ষণের পেছনে কারণ কী? একটি জাতীয় দৈনিকের পক্ষে এ প্রশ্ন করা হয়েছিল বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির নির্বাহী পরিচালক সালমা আলীর কাছে। তিনি এর উত্তরে বলেছিলেন, যৌনতা মানুষের জীবনের একটি অন্যতম অধিকার। তবে এই যৌনতাকে বিকৃত করে উপস্থাপনই হচ্ছে ধর্ষণ। ধর্ষণের সঙ্গে যৌনতার চেয়েও ক্ষমতার বিষয়টি বেশি সম্পর্কিত। আমি পুরুষ, আমার ক্ষমতা আছে যে কোনো নারী বা শিশুকে ভোগ করার। একজন যৌনকর্মীর অধিকারও আছে তিনি কার সঙ্গে যৌন কাজ করবেন কার সঙ্গে করবেন না। তিনি যদি না করেন, তা মানা না হলে তা হবে ধর্ষণ। স্ত্রীর ইচ্ছার সম্মান না দিয়ে জোর করে সহবাস করাও ধর্ষণ। কিন্তু এই বিষয়গুলো সমাজে প্রতিষ্ঠিত করতে না পারার কারণে ধর্ষণের সংখ্যা বাড়ছে। তিনি বলেন, সব কিছুর মূলে আছে মূল্যবোধের অভাব। অবাধ পর্ণোগ্রাফির বিস্তার, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্বল্প পরিচয়ের পর কারো সঙ্গে বাছবিচার না করে মেলামেশা করা। বিজ্ঞাপন দেখে একটি ছোট ছেলেও জানতে পারছে, শরীরকে উত্তেজিত করতে হলে কী খেতে হবে।’
ধর্ষণ প্রতিরোধে আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার বিকল্প নেই। আমি নিজে বিশ্বাস করি সরকার কঠোর হলে ধর্ষণের ঘটনা কমিয়ে আনা সম্ভব। এ বিষয়ে আমরা অ্যাসিড সন্ত্রাসের ঘটনার কথা উদাহরণ হিসেবে নিতে পারি। সরকার এ বিষয়ে কঠোর হওয়ায় এখন অ্যাসিড নিক্ষেপের ঘটনা বন্ধ হয়েছে বলা চলে। ধর্ষণের ঘটনার বিচারে সরকারের পক্ষ থেকে কঠোর অবস্থান নিলে অগ্রগতি হওয়া সম্ভব। এর জন্য বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করতে হবে। নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের বিচারে যে সময় নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে তা মানতে হবে। অর্থাৎ ওই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিচার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। আমাদের দেশে ধর্ষণের শিকার নারী বা তার পরিবার যথাযথ নিরাপত্তা পায় না। বরং সমাজে তাদের উল্টো গঞ্জনা সহ্য করতে হয়। এই ধারা পাল্টাতে হবে। ধর্ষণের ঘটনা ঘটলে একচেটিয়া পুরুষদের গালাগাল না করে প্রচলিত সমাজ ব্যবস্থা ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে সোচ্চার হওয়া দরকার। ধর্ষণের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে নারীদের পাশাপাশি পুরুষদেরও ভূমিকা আছে। তা ভুলে গেলে চলবে না। এ বিষয়ে অগ্রবর্তী নারী, যাঁরা সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন তাদেরও এগিয়ে আসতে হবে।
মনে রাখতে হবে, পদে থাকার চেয়ে সবাই মিলে নিরাপদ ও সম্মানজনক অবস্থানে থাকা অনেক গৌরবের। Email : [email protected]

সর্বশেষ সংবাদ