মানবতা জয়যুক্ত হোক-কামরুল হাসান বাদল,লেখক,কবি, সাংবাদিক কলামিস্ট

পোস্ট করা হয়েছে 05/11/2017-07:05pm:    সামান্য লেখালেখি করি। আমার মতো সামান্য ব্যক্তির লেখায় সমাজে যে ব্যাপক প্রভাব পড়ছে তা–ও নয়। খুব যে উপকার হচ্ছে তা–ও মনে করি না। প্রশংসা করার মতো লেখাও আমার নয়। তবুও এ লেখা আমার মতোই সাধারণ দুচারজন পড়েন। পড়ে তাদের প্রতিক্রিয়া জানান। অনেকে আবার তাদের দেখা সমস্যাগুলো নিয়ে লিখতে অনুরোধ করেন। আমি তাদের অনুরোধ পালনের চেষ্টা করি। যদিও জানি আমার লেখার কারণে পরিস্থিতি সামান্যও বদলাবে না। পূর্বেই বলেছি, আমি কোনো প্রভাবশালী লেখক নই।
কয়েকদিন আগে আমার একজন ফেসবুক বন্ধু, যিনি বয়সে তরুণ, আমার ফেসবুকের ইনবক্সে একটি ঘটনার উল্লেখ করে তা নিয়ে লিখতে অনুরোধ করেছেন। এই তরুণ অত্যন্ত ক্ষোভ, বেদনা ও হতাশার সঙ্গে অভিযোগ করেছেন ‘শ’ অদ্যাক্ষরের একটি নামকরা পরিবহন বাসে যাত্রাকালে ওয়াজের অডিও চালানো হচ্ছিল। সে ওয়াজের কিছু কিছু অংশে অত্যন্ত আপত্তিকরভাবে অন্যধর্মের বিষয়ে মন্তব্য করা হচ্ছিল। তরুণটি যখন বাসের কর্মচারীকে এসব না চালানোর অনুরোধ করেন তখন তারা তরুণের সাথে অত্যন্ত বাজে ব্যবহার করে। তরুণটি লিখেছেন, দাদা, একটি বাসে তো নানা ধর্মের মানুষ ভ্রমণ করবে। এমন ওয়াজ শুনে অন্য ধর্মের মানুষের কেমন লাগতে পারে। খুব বিব্রতকর অবস্থা দাদা, আপনি কিছু লিখবেন।
একটি গণপরিবহনে এমন ধর্মীয় বয়ান প্রচার করা শোভনীয় নয়। ভদ্রতাও নয়। যদি সে বয়ানে একটি নির্দিষ্ট ধর্মের গুণাগুণ করে অন্য ধর্মকে খাটো করার উপাদান থাকে। এটি কোনো সভ্য সমাজের লক্ষণও নয়। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না এদেশে বহু ধর্মের লোক বাস করে। তাদেরও ধর্মীয় অনুভূতি আছে। তাদের ধর্মকে ছোট করলে তাদেরও খারাপ লাগার কথা। আমরা যখন যে কোন ইস্যুতে সংখ্যাগুরু হয়ে যাই তখন আমরা ভুলে যাই সংখ্যালঘু মানুষগুলোর কথা, তাদের অপমান, নিরাপত্তাহীনতার কথা। সংখ্যাগুরু সংখ্যালঘুর বিষয়টি যে শুধু ধর্মীয়ভাবে হয় তা নয় এটি ধর্ম ছাড়া ভাষা, জাতীয়তা, বর্ণ, এসব ক্ষেত্রেও হয়। একই ধর্মের ভেতরেও নানা মতের কারণে অনেকে সংখ্যালঘুতে পরিনত হন। আঞ্চলিকতা নিয়েও এমন সমস্যা হয়। যেমন চট্টগ্রামের মানুষ অন্য জেলার মানুষদের বইঙ্গা বলে কটাক্ষ করে। অনেক চাটগাঁইয়ার মধ্যে দুএকজন নোয়াখালী বা অন্য জেলার মানুষ পড়ে গেলে চট্টগ্রামের বাইরের লোকটি সংখ্যালঘুজনিত অসহায়ত্বে ভোগেন।
তবে সবকিছু ছাপিয়ে বর্তমানে ধর্মীয় বিষয়টিই বুঝি অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাচ্ছে। কথায় কথায় নব্বইভাগ মুসলমানের দেশে এটা করা যাবে না, ওটা করা যাবে না বললে অন্যদের মনে যে শঙ্কা, আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়, যে বিচ্ছিন্নতাবোধ তৈরি হয়, যে অপমানবোধ তৈরি হয় তা সংখ্যাগুরু জনগণ সহজে বুঝতে পারেন না কিংবা বুঝলেও এক প্রকার ‘স্যাডিস্ট’ মনোভাব থেকে উদ্ধত, আক্রমণাত্মক আচরণ করে থাকেন।
সংবিধানে রাষ্ট্রধর্ম থাকলেও রাষ্ট্রে সকল ধর্মের, বর্ণের, লিঙ্গের সমানাধিকার নিশ্চিত রাখার কথা বলা হয়েছে। ফলে ৯০ শতাংশ মুসলমানের যে অধিকার এদেশে, সে রূপ একই অধিকার ভোগ করবেন অন্যকোনো ধর্মে বিশ্বাসী এমন একজন লোকও যদি থাকেন।
এরপরও নব্বই শতাংশ মুসলমানের দেশে বাসে, ট্রেনে, স্টিমারে, বিমানে, মাঠে ময়দানে ওয়াজ চালাতে যারা উৎসাহী তাদের কাছে সবিনয়ে জানতে চাই, এঁদের মধ্যে যাঁরা চিকিৎসার প্রয়োজনে কিংবা ভ্রমণের উদ্দেশ্যে হিন্দুপ্রধান দেশ ভারতে যান এবং সেখানে যদি একইভাবে হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীর সাথে সাথে অন্য ধর্মের প্রতি বিষোদগার বর্ষিত হতে দেখেন বা শোনেন তখন তাঁর কী পরিস্থিতি হবে? একইভাবে তা যদি হয় বৌদ্ধ প্রধান থাইল্যান্ড, নানা ধর্মের সিঙ্গাপুর কিংবা খ্রিস্টানপ্রধান ইউরোপ আমেরিকায়। অন্যের যে আচরণ আপনার ভালো লাগে না সে একই আচরণ আপনিও অন্যের সাথে করবেন কীভাবে? বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়া হয়েছে মানবিক কারণে।
বিশ্বে এখন রোহিঙ্গারাই সবচেয়ে বেশি অত্যাচারিত, নিপীড়িত, বঞ্চিত ও লাঞ্ছিত জনগোষ্ঠী তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মিয়ানমার সরকার সভ্যতার, মানবতার সকল নিয়ম ভঙ্গ করে রোহিঙ্গাদের দেশত্যাগে বাধ্য করেছে। তারা গণহত্যা করেছে। প্রশ্ন হলো, রোহিঙ্গাদেরকে কি শুধুই মানবতার খাতিরেই আশ্রয় দিয়েছি? রোহিঙ্গারা যদি মুসলমান না হতো তাহলে কি আমরা একই আচরণ করতাম? কারেনদের বিতাড়িত করা হয়েছে থাইল্যান্ডে। সেই কারেনরা যদি রোহিঙ্গাদের মতো আমাদের দেশে আশ্রয় চাইতো আমরা কি এমন মানবতা দেখাতাম? দেশের ক্ষুদ্রনৃগোষ্ঠী যাদেরকে মাঝেমধ্যে বাস্তুচ্যুত করা হয়, তাদের প্রতি অবিচার করা হয় তখন কি তাদের পাশে এমন করে দাঁড়াই আমরা? দাঁড়িয়েছি কখনো? দেশে প্রায় সময় হিন্দুদের মন্দিরের প্রতিমা ভাঙার ঘটনা ঘটে। তখন আমাদের ভূমিকা কী থাকে? নাসিরনগরের ঘটনার পর কিংবা গাইবান্ধায় সাঁওতাল পল্লী আগুন জ্বালিয়ে, পুড়িয়ে দিয়ে উচ্ছেদের পর আমরা কি এমন করে সাহায্যের হাত প্রসারিত করেছিলাম?
আমরা করিনি। কারণ আমরা এখনো সভ্য, মানবিক হয়ে উঠতে পারিনি। বাসচালক বা বাস কন্ডাক্টর সাধারণ মানের মানুষ। তারা হয়তো বোঝেওনি ওয়াজের অডিও চালানোর ফলে অন্য কারো ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগতে পারে। কারো অপমান লাগতে পারে। কিন্তু এমন কাজ যখন বিশ্ববিদ্যালয়ের উচ্চ ডিগ্রিধারী শিক্ষকরা করেন তখন তার ব্যাখ্যা দেব কোন ভাষায়।
সম্প্রতি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের প্রশ্নপত্র নিয়ে দেশে বিপুল সমালোচনা ও নিন্দার সূত্রপাত হয়েছে। গত ২৫ অক্টোবর অনুষ্ঠিত ভর্তি পরীক্ষায় ৪১ নম্বর প্রশ্নে বলা হয়েছে, ‘মুসলমান রোহিঙ্গাদের ওপর মায়ানমারের সেনাবাহিনী ও বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা সশস্ত্র হামলা চালায় কত তারিখে? ৭৬ নং প্রশ্নে আছে, ‘পৃথিবীর সর্বশ্রেষ্ঠ গ্রন্থের নাম কি? ক–পবিত্র কোরআন, খ–পবিত্র বাইবেল, গ–পবিত্র ইঞ্জিল, ঘ–গীতা।
এই প্রশ্ন নিয়ে প্রশ্ন হলো, একটি বিশ্ববিদ্যালয়, যেখানে সকল ধর্মের, সকল বর্ণের শিক্ষার্থীরা অধ্যয়ন করেন সেখানে এমন সাম্প্রদায়িক প্রশ্ন তৈরি করা হলো কোন উদ্দেশ্যে? প্রশ্নকারী পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে প্রকৃতপক্ষে কোন উত্তরটি আশা করেছেন?
নিশ্চয়ই কোরআন ছাড়া অন্য কিছু নয়। কোনো পরীক্ষার্থী যদি বাইবেল বা গীতা লিখতেন তাকে কি পাস নম্বর দেওয়া হতো? চারটি ধর্মের মধ্যে প্রথম তিনটির আগে পবিত্র শব্দটি যুক্ত করা হয়েছে। শুধু গীতার আগে তা করা হয়নি। তার মানে প্রশ্নকর্তার দৃষ্টিতে গীতা কি পবিত্র নয়? এই পরীক্ষা দিতে গিয়ে মুসলিম ভিন্ন অন্য ধর্মের পরীক্ষার্থীর মনে এমন সাম্প্রদায়িক প্রশ্নে কীরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হতে পারে সে কথাটি একবারের জন্যে হলেও ভেবেছে কি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ? একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে যদি এমন পরিস্থিতি বিরাজ করে, চারুকলার মতো একটি অনুষদে যদি এমন সাম্প্রদায়িক প্রশ্নপত্র করা হয়ে থাকে তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য অনুষদ বা দেশের মাদ্রাসাগুলোয় কী শিক্ষা দিচ্ছে তা ভেবে রীতিমত আতঙ্কবোধ করছি।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় এক সময় জামায়াত–শিবির নিয়ন্ত্রিত ছিল। সে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনেক রক্ত ঝরেছে। প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের অনেক নেতাকর্মীর রক্ত ঝরেছে এই সুন্দর বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে। এই বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কজন প্রগতিশীল চিন্তাচেতনার শিক্ষককে হত্যা করা হয়েছে। এর কোনোটারই সম্পূর্ণ বিচার হয়নি। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘটনা থেকে আমরা অনুমান করে নিতে পারি দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দল, যারা ধর্মনিরপেক্ষতা ও অসাম্প্রদায়িকতার কথা বলে, তারা থাকলেও আমাদের সমাজের প্রতিটি স্তরে সুনিপূণভাবে বিস্তার লাভ করেছে মৌলবাদ ও সাম্প্রদায়িকতার দীর্ঘ ছায়া। গ্রাম থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিস্তার ঘটেছে ধর্মান্ধ গোষ্ঠীর, যারা বাংলাদেশকে একটি সাম্প্রদায়িক রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায়।
এদেশে অনেকেই আছেন যাঁরা মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার। পারলে এখনই সে দেশের সাথে যুদ্ধ বাধিয়ে দেওয়ার পক্ষে। অনেকে আছেন ভারতে মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে ১০০ ভাগ সোচ্চার কিন্তু তারা সকলেই তার নিজ দেশের ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের দলনের বিষয়ে একেবারে নিশ্চুপ। সৌদি আরবের বিমান হামলায় ইয়েমেনে মুসলিম নিহত হওয়ার ঘটনায়ও তদ্রুপ নিশ্চুপ। ধর্মীয় উস্কানি হাঙ্গামা সৃষ্টি করে, মানুষে মানুষে ঘৃণা সৃষ্টি করে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার সূত্রপাত করে। ভারত বিভাগ নিয়ে এই উপমহাদেশের মানুষ সাম্প্রদায়িক দাঙ্গার বীভৎস, করুণ ও নিষ্ঠুর রূপ প্রত্যক্ষ করেছে। তারা জানে এর ফল কত ভয়ানক আর অমানবিক। কাজেই আমি মুসলমান হয়ে যদি মিয়ানমার বা ভারত বা বিশ্বের যে কোনো দেশে সংখ্যালঘু হয়ে থাকা মুসলমানের পক্ষে কথা বলতে চাই তার আগে উচিত নিজের দেশের সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা বিধান করা। তাদের পূর্ণ স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অধিকার ভোগ করতে দেওয়া।
ভারতে মসজিদ ভাঙলে আমরা এখানে মন্দির ভাঙবো বা মিয়ানমারে মুসলিম নিধন হলে আমরা এদেশে বৌদ্ধদের মারব এই করে রাষ্ট্রে বা বিশ্বের কোথাও শান্তি স্থাপিত হবে না। বিজ্ঞানীরা বলেন, যে প্রাণি নিজেদের নিজেরা হত্যা করেছে তারা এই গ্রহ থেকে বিলুপ্ত হয়ে গেছে। ডাইনোসর হচ্ছে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ।
ধর্ম মানে শুধু ঈশ্বর বা ধর্মগ্রন্থ বিশ্বাস রাখাই কেবল নয়। ধর্ম সংস্কৃতিরই একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। যারা যত ক্ষুদ্র হয়ে পড়েন তারা ততই ধর্মকে আঁকড়ে ধরতে চান। আসলে তারা তাদের সংস্কৃতিকেই বাঁচিয়ে রাখতে চান। উন্নত জীবন, নিরাপদ জীবনের আশায় এই উপমহাদেশের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীরা যারা ইউরোপ, আমেরিকা, অস্ট্রেলিয়া ও কানাডার মতো উন্নত দেশগুলোতে স্থায়ী বসবাস করছেন তাদের পরিস্থিতি দেখলে তা ভালোভাবে অনুধাবন করা যাবে। ওইসব দেশে সভ্যতার চরম বিকাশ হয়েছে বলে ধর্মীয়ভাবে কেউ কখনো লাঞ্ছনা বা বঞ্চনার শিকার হন না। যদিও ৯/১১ এরপর বৈশ্বিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটেছে। তবুও তা এই উপমহাদেশের মতো এতটা ভয়াবহ নয়।
অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় বাংলাদেশসহ আশেপাশের দেশগুলোতে ধর্মীয় উন্মাদনা বৃদ্ধি পেয়েছে। ধর্মীয় আচার বৃদ্ধি পেয়েছে। আমাদের দেশে প্রচুর মসজিদ–মাদ্রাসা মন্দির উপসনালয় গড়ে উঠেছে। কিন্তু তাতে সুফলটা কী হয়েছে? সমাজে তো এখন পূর্বের যে কোনো সময়ের চেয়ে ঘুষ–দুর্নীতি, অবিচার, অনাচার, অমানবিকতা, নিষ্ঠুরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। মন্দিরের পূর্ণাথী আর মসজিদে মুসল্লিদের সংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে অসৎ ও দুর্নীতিবাজ মানুষের সংখ্যা। সমাজটা পূর্বের যেকোনো সময়ের চেয়ে নিষ্ঠুর, অমানবিক ও দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে পড়েছে।
এদেশে ধর্ম পালনের স্বাধীনতা সবারই আছে। তবে তার অর্থ এই নয় যে, নিজের ধর্ম পালনের মধ্য দিয়ে অন্য ধর্মের মানুষকে খাটো করে দেখা। অন্যকে তার ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানে বাধা দেওয়া। আমি পূর্বেও একাধিকবার আমার লেখায় উল্লেখ করেছি, ভারত, মিয়ানমার, পাকিস্তানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর তুলনায় বাংলাদেশের শাসকগোষ্ঠী অনেক অসাম্প্রদায়িক। এদেশের সরকার প্রধান এখনো দেশে সব ধর্মের মানুষের ধর্ম পালনের স্বাধীনতার কথা বলেন। অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র গড়ে তোলার কথা বলেন। তবে সর্বক্ষেত্রে যে তা পরিলক্ষিত হয় তেমন নয়। আমি পূর্বেও বলেছি রাষ্ট্র ক্ষমতায় ধর্মনিরপেক্ষ দল আছে বটে কিন্তু সমাজটা হয়ে পড়েছে অধিক রক্ষণশীল। অধিক সাম্প্রদায়িক। সমাজকে জামায়াতিকরণের কাজটি খুব সুচারুভাবে সম্পন্ন হয়েছে। ফলে সুযোগ পেলে এদের চেহারাটি স্পষ্ট হয়ে ওঠে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় তার সর্বশেষ প্রমাণ।
মানবতার জাগরণ তৈরি করা না গেলে এ সমস্ত সমস্যা থেকে আমাদের পরিত্রাণ হবে না। মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ, মমত্ববোধ, সহনশীলতা তৈরি করতে হলে মানবিক উন্নয়ন খুব বেশি দরকার। এরজন্য ভূমিকা রাখতে হবে দেশের প্রগতিশীল রাজনৈতিক দল, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে।
মানবতা জয়যুক্ত না হলে মানুষ হেরে যাবে। মানুষ হেরে গেলে এই গ্রহ ধ্বংসপ্রাপ্ত হবে। Email- [email protected]

সর্বশেষ সংবাদ