দুই বাড়ির দুই ধারা -কামরুল হাসান বাদল,লেখক,কবি, সাংবাদিক কলামিস্ট

পোস্ট করা হয়েছে 29/10/2017-09:03am:    কয়েকদিন আগে। একটি সরকারি অফিসে দেখা হলো আজাদ তালুকদারের সাথে। এক সময়ে একাত্তর টিভিতে কর্মরত ছিলেন। কুশল বিনিময়ের পর এখন কী করছেন জানতে চাইলে তিনি তাঁর সাপ্তাহিক একুশে পত্রিকাটি হাতে দিয়ে বললেন, আপাতত এই পত্রিকাটিই নিয়মিত বের করছি। পত্রিকাটি হাতে নিয়ে প্রচ্ছদেই চোখটি আটকে গেল। ‘৩৫০ কোটি টাকার বাড়ি চট্টগ্রামে’ শিরোনামে একটি বাড়ির ছবি ছাপা হয়েছে প্রচ্ছদে। বাড়িটি দেখে বেশ চমৎকৃত হলাম। বিস্ময় চেপে রাখতে না পেরে জিজ্ঞেসই করে ফেললাম কী আশ্চর্য এত সুন্দর বাড়ি, তা–ও চট্টগ্রামে? বাড়িটি কোথায়? কার? আজাদ বললেন হ্যাঁ চট্টগ্রামেই বাড়িটি। বাড়িটির মালিক সালামত আলী বাবুল। তাঁর পুরো পরিচয় পত্রিকাটি পড়লে জানতে পারবেন।
পত্রিকা পড়ে জানতে পারলাম, বাড়ির নাম নূর মহল। এটি বায়েজিদ থানার রূপনগর আবাসিক এলাকায়। বাড়ির মালিক সালামত আলী বাবুল ভারতের কারাগারে বন্দী সাজ্জাদ আলী খানের বড় ভাই। র‌্যাব–পুলিশের শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকায় নাম রয়েছে শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের। পত্রিকায় বলা হয়েছে চট্টগ্রামে এ ধরনের বাড়ি এটিই প্রথম। ৮ একর জমির ওপর নির্মাণ করা হয়েছে বাড়িটি। বাড়িটির বেশকিছু ছবি আছে সাপ্তাহিকটিতে। দেখে আমারও মনে হলো এমন বাড়ি চট্টগ্রামে দ্বিতীয়টি দেখিনি। বাড়িটি নির্মাণে ব্যয় হয়েছে ৩৫০ কোটি টাকা। বাড়ির মালিকের দৃশ্যমান আয় জমি বেচা–কেনা। ওই এলাকার ১১টি আবাসিক এলাকায় বিপুল জমি আছে তাঁর। পত্রিকায় উল্লেখ করা হয়েছে ওইসব এলাকায় কেউ জমি বিক্রি করতে চাইলে তা বাবুল সাহেবের কাছে তাঁর ঠিক করে দেওয়া দামে বিক্রি করতে হয়। তিনি ওই এলাকার বেশ দাপুটে মানুষ।
৩৫০ কোটি টাকা দিয়ে যিনি বাড়ি বানান তাঁর আরও কত সম্পত্তি আছে, কিংবা তিনি কত টাকার মালিক তা হয়ত আমরা সঠিকভাবে না জানলেও আন্দাজ করে নিতে পারি। তিনি কীভাবে এত অর্থবিত্তের মালিক হলেন? সে আয় বৈধ কি না, তিনি আয়কর দেন কি না? দিলে প্রকৃতপক্ষে কত দেন তা আমরা জানতে পারব না। এগুলো যাদের জানা দরকার তারাও খোঁজ রাখেন কি না সন্দেহ আছে। এদেশে কত লোকই তো রাতারাতি বড়লোক হচ্ছে। আলীশান বাড়ি, দামী গাড়ির মালিক হচ্ছেন, তাদের বৈধ আয় কী ও কত তা আমরা সাধারণ মানুষরা জানি না। সরকারি দফতরও জানে না। কী ব্যবসা করলে, কত দিনে মানুষ ৩৫০ কোটি টাকা জমিয়ে বাড়ি করতে পারে তা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের বোধগম্য নয়। তবে বলতে হয় এমন কিছু বাংলাদেশেই সম্ভব। যে কোনো সভ্য দেশে আয়ের উৎস না দেখিয়ে বেহিসাবি ব্যয় করা সম্ভব নয়।
একই দিন দুপুরের দিকে একটি মৃত্যু সংবাদ পেলাম। দীর্ঘদিন রোগে ভুগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন সরকারের জনপ্রশাসন মন্ত্রী সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রী। সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম প্রায় আট বছরের মতো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া তিনি ২০০৯ থেকে এ পর্যন্ত সরকারের মন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। তাঁকে যখন সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে এক প্রকার অব্যাহতি দেওয়া হলো তার কিছুদিন পর তাঁর মন্ত্রণালয়ও পরিবর্তিত হয়।
সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম স্বাধীন বাংলার প্রথম উপরাস্ট্রপতি এবং একই সাথে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকারী সৈয়দ নজরুল ইসলামের সন্তান। ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যা করে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা গ্রহণ করে খন্দকার মোশতাকের নেতৃত্বে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি। জাতীয় চারনেতার অন্যতম সৈয়দ নজরুল ইসলামও মোশতাকের বশ্যতা স্বীকার না করে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও নীতির প্রতি অবিচল ছিলেন। যে কারণে ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর বিশ্ব ইতিহাসের অন্যতম কলঙ্কজনক অধ্যায় জেল হত্যার অন্য তিনজনের সঙ্গে তিনিও শহীদ হন।
লক্ষনীয় বিষয় যে, সৈয়দ আশরাফের স্ত্রীর মৃত্যু সংবাদের শোক ছাপিয়ে অন্য সংবাদটি খুব আলোচিত হয়ে ওঠে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকেও ভাইরাল হয় সে সংবাদটি। তাহলো স্ত্রীর চিকিৎসা করাতে গিয়ে তিনি তার বসতবাড়ির অংশটি বিক্রি করে দিয়েছেন। সংবাদটি প্রথমে আসে এভাবে স্ত্রীর চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে যাওয়ার আগে নিয়মমাফিক তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে গিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে সে সময় বলেছিলেন, মন্ত্রী হিসেবে তাঁর স্ত্রীর চিকিৎসার ব্যয়ভার সরকার বহন করবে। প্রতিউত্তরে সৈয়দ আশরাফ বলেন তার প্রয়োজন হবে না। চিকিৎসার জন্য তিনি তার বাড়ির অংশটি বিক্রি করে দিয়েছেন। প্রথমে বলা হয়েছিল বনানীর বাড়ি। পরে অনেকে জানিয়েছেন বনানীতে তার কোনো বাড়ি ছিল না। ফলে বিক্রি করার প্রশ্নই আসে না। জাতীয় চার নেতার পরিবারকে দেওয়া গুলশানের সরকারি জায়গায় পরিবারের অন্যদের মতো তিনি যে অংশটি পেয়েছিলেন তা ভাইদের কাছেই বিক্রি করে দিয়েছিলেন। জায়গার পরিমাণ বেশি নয় তার ভাগে পড়েছিল মাত্র ২ শতাংশ। ঢাকায় তাঁর কোনো বাড়ি নেই, সরকারি প্লটও নেই। কিশোরগঞ্জের যশোফল ইউনিয়নের যশোফল গ্রামে ১৫ শতাংশ জমির ওপর পৈত্রিক বাড়ি ছাড়া ময়মনসিংহের কলেজ রোডে ৮ শতাংশ জমির ওপর একতলা একটি বাড়ি তিনি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন।
স্ত্রীর চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে তাঁকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। একবার চিকিৎসার জন্য জার্মানি নিয়ে যাওয়া অর্থাভাবে অনিশ্চিত হয়ে পড়লে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী তাঁকে টাকা দেওয়ার প্রস্তাব করেছিলেন। সৈয়দ আশরাফকে প্রধানমন্ত্রী ভালো করে চিনতেন বলে বলেছিলেন, ‘টাকাটা আমি বোন হিসেবে তোমাকে লোন দিচ্ছি।’
আবারও বলছি বিষয়টি লক্ষনীয়। তাঁর স্ত্রীর মৃত্যুর খবর ছাপিয়ে সৈয়দ আশরাফের এইসব বিষয় আলোচিত হচ্ছে কেন? কেনই বা তাঁর ঢাকায় বাড়ি থাকতে হবে? কেনই বা তাঁকে কোটি কোটি টাকার মালিক হতে হবে? তিনি তো ব্যবসায়ী নন। তিনি রাজনীতি করেন। মন্ত্রী হিসেবে বেতন যা পান তাতে এক হাজার স্কয়ারফিটের একটি ফ্ল্যাট ভাড়া করে থাকতে পারেন শুধু।
যা হওয়া উচিত, তাই তো হয়েছে। একজন রাজনীতিকের, একজন মন্ত্রীর এত এত সম্পত্তি থাকবেই বা কীভাবে? কিন্তু স্বাভাবিক এ বিষয়টি আমাদের কাছে অর্থাৎ দেশের সাধারণ মানুষের কাছে অস্বাভাবিক বা ব্যতিক্রম বলে মনে হয়েছে। তারা দেখছে, বিস্ময়ের সাথে দেখছে, পড়ছে এমন লোকও তাহলে আছে? এমন রাজনীতিকও আছেন?
১৯৯৬ থেকে চারবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন সৈয়দ আশরাফুল ইসলাম। ১৯৯৬–২০০১ পর্যন্ত তিনি বেসামরিক বিমান চলাচল ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী, ২০০৮ সাল থেকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী এবং এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করছেন। বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্যরা সরাসরি প্লট পান। শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ পান। অনেক সংসদ সদস্যের ঢাকায় একাধিক বাড়ি, ফ্লাট থাকা সত্ত্বেও তাঁরা এমপি হিসেবে সরকারি প্লট হাতছাড়া করেন না। অনেকে শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুবিধাদিও নানাভাবে বিক্রি করেন। এদেশে (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া) মন্ত্রী তো দূরের কথা পাঁচ বছরের জন্য একবার এমপি নির্বাচিত হতে পারলে তার উত্তর প্রজন্মকে যেন কিছু করে– টরে খেতে না হয় তেমন ব্যবস্থা করে যান সাংসদরা। শুধু সাংসদরাই নন, তার ঘনিষ্ঠজনরা পাঁচ বছরে শূন্য থেকে কোটিপতিতে পরিণত হন এমন উদাহরণ আমাদের দেশে ভূরি ভূরি। সাধারণ সম্পাদক থাকাকালীন শুধু পদ–পদবি বিক্রি করেও কয়েক’শ কোটি টাকার মালিক হতে পারতেন তিনি। এর আগে তিনি যে মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ছিলেন অর্থাৎ স্থানীয় সরকার, প্রচুর অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও কোনো অনিয়ম দুর্নীতির সঙ্গে নিজেকে জড়াননি সৈয়দ আশরাফ। যে কারণে দেশের লক্ষ কোটি আওয়ামী লীগ নেতা–কর্মীর কাছে তাঁর অবস্থান অনন্য সম্মানের, শ্রদ্ধার।
বাংলাদেশে দুর্নীতির যে বিস্তার ঘটেছে তাতে সরকারি দলের অনেকেই যেভাবে সম্পৃক্ত হয়েছেন তাতে হতাশ দেশের সাধারণ মানুষ, তরুণ প্রজন্ম। ফলে তাঁদের কাছে সৈয়দ আশরাফের এই সাদাসিধে অনাড়ম্বর জীবন ও আদর্শবাদী রাজনীতি আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর ছোটবোন শেখ রেহানারও কোনো বাড়ি নেই ঢাকায়। বঙ্গবন্ধুর ধানমন্ডীর ৩২ নং বাড়িটি তাঁরা বঙ্গবন্ধু জাদুঘরকে দান করে দিয়েছেন। স্বামীর বাড়ি সুধাসদনই শেখ হাসিনার ঢাকার স্থায়ী ঠিকানা।
শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত সততা নিয়ে কোনো প্রশ্ন নেই। প্রশ্ন নেই শেখ রেহানার ব্যাপারেও। আমি লক্ষ করেছি, আওয়ামী লীগকে সমর্থন করেন না, কিংবা পছন্দ করেন না এমন ব্যক্তিও শেখ হাসিনার দেশপ্রেম, সততা ও নিষ্ঠা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন না। আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, এটি শেখ হাসিনার জন্য একটি অত্যন্ত ভালো সুযোগ দুর্নীতির বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার। বাংলাদেশসহ বিশ্বের অনগ্রসর দেশে একটি প্রচলিত ধারা লক্ষ করি আমরা। আর তা হলো রাষ্ট্র বা সরকার প্রধান বিতর্কিত ও বিব্রত হন তাঁর পরিবারের কোনো সদস্যের কারণে। অর্থাৎ ক্ষমতাবান ব্যক্তির স্বামী, স্ত্রী, পুত্র কন্যা বা নিকটাত্মীয়ের দুর্নীতি ও অসদাচরণের দায় বহন করতে হয় ক্ষমতাবান ব্যক্তিকেই। অনেক সময় নিজে সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত থাকার চেষ্টা করলেও পরিবারের অন্যদের কারণে অনেক সময় তাঁকেই জড়িয়ে যেতে হয় বিতর্কে। এক্ষেত্রে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহেনা ভাগ্যবতী বলতে হয়। কারণ তাঁদের দু’জনের সন্তানরা বিদেশে থাকেন এবং সেখানে তাঁরা স্বমহিমা ও স্বকীর্তিতে এতই উজ্জ্বল যে, তাঁদের জন্যই বরং তাঁদের পরিবার ও জাতি গর্ব করতে পারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বেশ কয়েকবার তাঁর পরিবারের সংজ্ঞা বিশ্লেষণ করেছেন। তিনি অনেকবার স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন তিনি ও শেখ রেহানার পরিবারই তাঁর পরিবার। এর বাইরে যাঁরা আছেন তাঁরা আত্মীয়। প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের নাম ভাঙিয়ে যেন কেউ স্বার্থসিদ্ধি করতে না পারে সেজন্যই তিনি পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রী নিজেকে দুর্নীতিমুক্ত রেখেছেন। নিজের পরিবারকে পঙ্কিলতামুক্ত রেখেছেন। দুর্নীতির বিরুদ্ধে তার অবস্থানও তিনি ব্যক্ত করেছেন। এই লক্ষ থেকে ২০১২ সালে তিনি ‘শুদ্ধাচার কৌশলপত্র’ ২০১২ প্রণীত করেছেন। সরকারি এবং বেসরকারি পর্যায়ে শুদ্ধাচারের অনুশীলন করে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে দুর্নীতি কমিয়ে আনার লক্ষেই তিনি এই কৌশলপত্রটি প্রণয়ন করেছিলেন। জাতীয় শুদ্ধাচার কৌশলপত্রের মুখবন্ধে বলা হয়েছে, ‘রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ দায়িত্ব হলো নাগরিকের জন্য আইনের শাসন, মৌলিক মানবাধিকার, সমতা, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক ও সামাজিক অধিকার নিশ্চিত করা। সেই লক্ষ বাস্তবায়নেই রাষ্ট্র সুশাসন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ গ্রহণ করে। এক্ষেত্রে একটি অপরিহার্য কৌশল হলো সমাজ ও রাষ্ট্রকে দুর্নীতিমুক্ত রাখা এবং দেশে শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠা। দীর্ঘ স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত বাংলাদেশ উল্লেখিত মহান আদর্শকে রাষ্ট্রের অন্যতম লক্ষ হিসেবে স্থির করেছিল। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে ‘মানবতার মর্যাদা ও মূল্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ’ রাষ্ট্র পরিচালনায় অন্যতম মূলনীতি হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে এবং ‘অনুপার্জিত আয়’কে সর্বতোভাবে বারিত করার অঙ্গীকার ব্যক্ত হয়েছে। এই নীতির সুষ্ঠু বাস্তবায়নের জন্য রাষ্ট্র ও সমাজে দুর্নীতি দমন ও শুদ্ধাচার প্রতিষ্ঠার প্রয়োজনীয়তা অনস্বীকার্য।’
শুদ্ধাচার কৌশলপত্রটি প্রণীত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে কেউ বাধ্য করেনি। তিনি স্বপ্রণোদিতভাবেই তা করেছেন। তিনি দেশকে দুর্নীতিমুক্ত করে তাঁর পিতার স্বপ্ন সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠার লক্ষে তা করেছেন। আমি মনে করি দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ দেখাতে পারেন শুধু শেখ হাসিনাই। এবং তা তাকে করতেও হবে। সৈয়দ আশরাফুল ইসলামের স্ত্রীর শোক ছাপিয়ে যখন তাঁর সততার কথাটিই বেশি বেশি আলোচিত হচ্ছে তখন বুঝতে হবে দেশের সাধারণ মানুষ তাদের নেতা হিসেবে সৈয়দ আশরাফদের চায়। টেন্ডারবাজ–চাঁদাবাজ, আঙুল ফুলে কলাগাছ হওয়া এবং হাইব্রিড নেতাদের সামনে যা–ই বলুক না কেন, মুখে ওদের নামে োগান থাকলেও এদের অধিকাংশের বুকে আছে সৈয়দ আশরাফদের মতো নেতারা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জাতির জনকের হত্যাকারীদের বিচার করেছেন। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করেছেন। এদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঠেকাচ্ছেন। এবার দুর্নীতির বিরুদ্ধে আপনার লড়াইটা শুরু করুন। অতীতের মতো বাংলার মানুষ আপনার পাশে থাকবে। [email protected]

সর্বশেষ সংবাদ