ভিক্ষুকমুক্ত দেশ চাই - মোঃ ওসমান গনি,সাংবাদিক, কলামিস্ট,লেখক

পোস্ট করা হয়েছে 13/10/2017-06:21pm:    সারাবিশ্বেরসাথে তালমিলিয়েআমাদের দেশ যখন সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন দেশের কতিপয়ব্যক্তি দেশের ভিক্ষাবৃত্তিপেশা কেজিঁইয়েরেখে তারা তাদের স্বার্থহাসিল করছে ।ভিক্ষাবৃত্তি পেশাটিএখন লাভজনক এক বাণিজ্য। আর এ বাণিজ্যের নেপথ্যে কাজ করছে বেশ কটি শক্তিশালী চক্র বা সিন্ডিকেট। রাজধানীসহসারাদেশের জেলাশহরগুলোতেএ ভিক্ষাবৃত্তির আড়ালে চলছে বাণিজ্য। দেশের ভিভিন্ন এলাকা থেকে বিকালাঙ্গ, প্রতিবন্ধী, শিশু কিশোরসহ হতদরিদ্র ও বয়োঃবৃদ্ধ নারী-পুরুষ রাজধানীতে এনে ভিক্ষা করাছে কয়েকটি সিন্ডিকেট। এসব সিন্ডিকেটের সদস্য না হয়ে কেউ ভিক্ষাও করতে পারে না। সিন্ডিকেটের সদস্যরা অবুঝ শিশু ও শারীরিক প্রতিবন্ধীদের কাজে লাগিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে লাখ লাখ টাকা। এমনকি সুস্থ মানুষকেও কৃত্রিম উপায়ে প্রতিবন্ধিত্বের কবলে ফেলে এ বাণিজ্য করছে তারা। প্রায় ৩ লাখ ভিক্ষুক এখন রাজধানীর অলি গলিসহ ব্যস্ততম প্রধান সড়ক ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভিক্ষার নামে অসাধু সিন্ডিকেট প্রতি মাসে হাতিয়ে নিচ্ছে ৬শ’ কোটি টাকা। রাজধানীতে রয়েছে শতাধিক অবৈধ ভিক্ষুক কল্যাণ সমিতি। এসব সমিতি পরিচালনা করেন প্রভাবশালী একটি মহল। তাদের সাথে আইন শৃংখলা বাহিনীর এক শ্রেণীর অসাধু সদস্যেরও রয়েছে গোপন আঁতাত। রাজধানীতে ভিক্ষুক কল্যাণ সমিতি নামে সংস্থা আছে কমপক্ষে ২০০টি। এসব সমিতিতে ভিক্ষুকদের প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০ টাকা করে চাঁদা জমা দিতে হয়। আর ভিক্ষা শুরুর আগে ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হয়। একেকটি চক্রের আওতায় রয়েছে ৪শ’ থেকে দুই হাজার ভিক্ষুক। রেজিস্ট্রেশনের পর এসব সমিতির সদস্যরাই নির্ধারণ করে দেয় কোন ভিক্ষুক বা কারা কোন এলাকায় ভিক্ষা করবে।গত বছর রাজধানীতে এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে জড়িত দু’জন গডফাদার র্যা বের হাতে গ্রেফতার হওয়ার পর তাদের স্বীকারোক্তিতে প্রকাশ পেয়েছে ভয়ঙ্কর এসব ঘটনা।সমাজকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিসংখ্যানমতে,রাজধানী ঢাকায় নিয়মিত ভিক্ষুক রয়েছে প্রায় ৫০ হাজার। তবে বিভিন্ন সূত্র মতে, রাজধানীতে বর্তমানে এ সংখ্যা অন্তত ৩ লাখ।প্রতিদিন রাজধানীতে প্রায় ২০ কোটি টাকার ভিক্ষা বাণিজ্য হচ্ছে। পুরো মাসে এই ভিক্ষার টাকার পরিমাণ দাঁড়ায় ৬০০ কোটি টাকা। ভিক্ষুক সিন্ডিকেটের সংঘবদ্ধ চক্রগুলো আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও এলাকাভিত্তিক প্রভাবশালীদের ম্যানেজ করে চালায় এ ভিক্ষা বাণিজ্য। রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে নিয়মিত ভিক্ষা করে কিছু অন্ধ ভিক্ষুক। প্রতিটি ভিক্ষুক দলের সঙ্গে থাকে একজন ম্যানেজার।যিনিভিক্ষুকদের নেতা নামে পরিচিত।তিনিএ ভিক্ষুকদের ভাগ করে ছোট বড় দল তৈরী করে ভিক্ষা করান। তার নেতৃত্বে থাকা ভিক্ষুকেরাঢাকার বিভিন্ন এলাকায় ভিক্ষা করে।ভিক্ষাবৃত্তিরঅন্তরালেচলে চাঁদাবাজিও। ৩০০ পয়েন্টে একজন করে লাইনম্যান ভিক্ষুকদের নিয়ন্ত্রণ করে থাকে।দেশেরবিভিন্ন এলাকা থেকে বাড়তি আয়ের লক্ষ্য নিয়ে তারা নানা প্রলোভনে দেশের প্রত্যন্ত এলাকা থেকে নারী-পুরুষ ও শিশুদের অগ্রীম টাকা দিয়ে ঢাকায় নিয়ে আসে। ভিক্ষার অর্ধেক টাকা দিতে হয় এ চক্রের তহবিলে।এসব সিন্ডিকেটের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে কাজ চলছে। তবে অঙ্গহানির কাজটি যারা করছে তাদের ধরতে বিশেষভাবে কাজ করছে র্যা ব।একেকজন ভিক্ষুক দিনে গড়ে আয় করে ৩০০ থেকে ৭০০ টাকা। প্রতিদিন ৫০ হাজার থেকে শুরু করে বড় সমিতিতে পাঁচ লাখ টাকা পর্যন্ত জমা হয় সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। টাকা জমা দেওয়ার পর তাদের ৬০ থেকে ১২০ টাকা দেওয়া হয় খাওয়ার খরচ বাবদ। বিপরীতে তাদের এককালীন বড় অঙ্কের টাকা দেওয়া হয়। এলাকাভিত্তিক ২০ থেকে ৩০ জনের কমিটি এসব ভিক্ষুককে নিয়ন্ত্রণ করে। তবে ভিক্ষুকদের সারা দিনের আয়ের টাকা ভাগ-বাটোয়ারা হয় রাতে। আবার বিকালাঙ্গ ভিক্ষুকদের নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেট সদস্যরা সর্বাধিক আয় করে থাকে। প্রতিবন্ধী ও হাত পা নেই, নিজে নিজে চলাফেরা করতে পারে না, এ ধরনের ভিক্ষুকের জন্য রয়েছে আলাদা থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা। এদের একজন ভিক্ষুককে থাকা খাওয়াসহ মাসে পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকা দেয়া হয়। বাকী টাকা সিন্ডিকেট সদস্যদের পকেটে যায়। নগরীর অলি-গলি থেকে শুরু করে ব্যস্ততম প্রধান সড়ক সব জায়গাতেই এখন ভিক্ষাবৃত্তির ভিড়ের দৃশ্য চোখে পড়বে। রাস্তায় ট্র্যাফিক সিগন্যাল পড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রায় প্রতিটি পয়েন্টে গাড়ির উপর হামলে পড়ে এসব ভিক্ষুকের দল। বাচ্চা কোলে নিয়ে শিশু ও মহিলা, শারীরিক প্রতিবন্ধী শিশু, অসুস্থতাসহ যে যেভাবে পারছেন সেভাবেই নিজেকে উপস্থাপন করছেন সাহায্যোর জন্য। অল্প বয়সী ওসুস্থ-সবল মানুষও নেমেছেন ভিক্ষাবৃত্তিতে। এ ভিক্ষুকদের নানারকম উৎপাত ও বিরক্তিকর আচরণে ক্ষুব্ধ অনেকেই। এ বিষয়ে ভিক্ষুকদের সঙ্গে কথা বলতে গেলে ভিক্ষা ফেলে রাস্তার মধ্যেই ছুটোছুটি শুরু হয়ে যায়। কারো কারো আবার দৌড়ে পালানোর চেষ্টা।রাজধানীতে সবচেয়ে বেশি ভিক্ষুক দেখা যায় অভিজাত এলাকা গুলশান-১ ও গুলশান-২ গোলচত্বর, কাকরাইল মসজিদ, মহাখালী রেলগেট মসজিদ, বায়তুলমোকাররম জাতীয় মসজিদ, হাইকোর্ট মাজার ও মসজিদ, মিরপুর শাহ আলী মাজার ও মসজিদ, গুলিস্তানের গোলাপশাহ মাজার, চকবাজার মসজিদ, আজিমপুরকবরস্থান, মতিঝিল, গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদ, উত্তরা ও বনানীর মসজিদগুলোর কাছে এবং রাস্তার মোড়ে মোড়ে।খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ময়মনসিংহ, কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, জামালপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, ফরিদপুর, মাদারিপুর, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আনা হয়েছে বেশিরভাগ ভিক্ষুক। তাদের থাকার জন্য রাজধানীর মিরপুর বেড়িবাঁধ ও দিয়াবাড়ি বেড়িবাঁধ, বাউনিয়া বাঁধ, উত্তর খান, দক্ষিণখান, হাজারিবাগ বেড়িবাঁধ, কামরাঙ্গীর চর, মোহম্মদপুর বেড়িবাঁধ, শনির আখড়া, আব্দুল্লাহপুরও টঙ্গীর বিভিন্ন স্থানে ছোট ছোট খুপরি ঘর ভাড়া নেয়া হয়েছে। ভিক্ষুকদের নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটই এদের থাকার জন্য ঘর ভাড়া করে দেয়। পাশাপাশি রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, বেইলী রোড, ফার্মগেট, আজিমপুর, হাইকোর্ট মাজার, মতিঝিল, কমলাপুর, ওয়ারী, ডেমরা, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, শ্যামলী, গাবতলী ও উত্তরাসহ অন্তত ২০টি পয়েন্টে কাজ করছে এ চক্র। তাদের বিভিন্ন নামে রয়েছে নিজস্ব অফিস।সমাজকল্যাণ অধিদফতরের এক পরিসংখ্যান মতে, সারাদেশে সাড়ে ৭ লাখ বেশি ভিক্ষুক রয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা শহরেই ভিক্ষুকের সংখ্যা প্রায় ৬০ হাজার।এদিকে, রাজধানীর ভিআইপি এলাকাসহ ৭টি এলাকায় গত বছর ভিক্ষাবৃত্তি বন্ধ করার উদ্যোগ নিলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি। আবারও এসব এলাকায় ভিক্ষা বন্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়।
লেখক . সাংবাদিক ওকলামিস্ট Email. [email protected]

সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধান করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান কক্সবাজার রেড জোন,শনিবার থেকে আবারো লকডাউন এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।