এভ্রিল, একটি ভুল আর বিপুল বিদ্রোহ…কামরুল হাসান বাদল, লেখক,কবি, সাংবাদিক কলামিস্ট

পোস্ট করা হয়েছে 05/10/2017-10:48pm:    মেয়েটি সামান্য ভুল করে ফেলেছিল। সে তার জীবনের একটি অন্ধকার অধ্যায়কে ভুলে যেতে চেয়েছিল, অস্বীকার করতে চেয়েছিল। কিন্তু মেয়েটি তখনও জানত না, “মানুষের চরিত্র হচ্ছে মাছির মতো, যারা শুধু ক্ষত খুঁজে বেড়ায়।’
মেয়েটির নাম এভ্রিল। পুরো নাম জান্নাতুল নাঈম। এভ্রিল নামটি সম্ভবত সে নিজেই ধারণ করেছিল। কারণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের এই মেয়ের বাবা–মা খুব সাধারণ মানুষ। তারা এমন নামের নামও জানার কথা নয়। তারা তাদের মেয়ের নাম রেখেছিল একটি বেহেসতের নামে জান্নাতুল নাঈম। ডাক নাম আমেনা। মুসলিম পরিবারে সাধারণত যেমনটি হয়ে থাকে। চন্দনাইশের বরমা ইউনিয়নের সেরেন্দি গ্রামের জান্নাতুল নাঈম ভাবতে পারেনি তার জীবনের মাত্র আড়াই মাসের দুঃসহ ঘটনা তাকে তাড়িয়ে বেড়াবে সাড়ে চার বছর পরও। এভ্রিল তার জীবনের সিদ্ধান্ত নিজেই নিয়েছিল। আর সে জন্যে খুব অল্প বয়সে তার হাতে পায়ে পরিয়ে দেয়া শেকল সে নিজেই ছিঁড়ে ফেলেছিল। সে নিজেকে নিজে মুক্ত করেছিল। এবং তার লক্ষে পৌঁছাবার চেষ্টা করেছিল। সাফল্য তাকে ধরা দিয়েছিল। কিন্তু এই সমাজ তো একটি নারীর এই শেকল ভাঙাকে প্রশ্রয় দেবে না, মেনে নেবে না। সুযোগ পেয়ে এখন সবাই ঝাঁপিয়ে পড়েছে তার ওপর। এখন তাঁকে নগ্ন করার প্রতিযোগিতা চলছে। এভ্রিলকে টেনে হিচঁড়ে রাস্তায় ছুঁড়ে ফেলার আয়োজন চলছে। সংবাদমাধ্যমে চলছে পাঠরোচক, শ্রুতিরোচক সংবাদ প্রদানের প্রতিযোগিতা। আমাদের অবাক করে দিয়ে এ বিষয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করল ‘বদলে যাও, বদলে যাও’ োগানধারী পত্রিকাটি। এদের কেউ একবারও প্রশ্ন তুলল না, এভ্রিলের সেই বিয়েটি ছিল মূলত বাল্য বিয়ে। যা আইনত নিষিদ্ধ ও অবৈধ। যা তার মতামতকে অগ্রাহ্য করেই দেওয়া হয়েছিল। কেউ দাবি তুলল না, বাল্য বিয়ে করার, দেওয়ার ও সম্পাদনের অপরাধে তার সেই বর মোহাম্মদ মনজুর উদ্দিন বাবা–মা–তাহের মিঞা, রেজিয়া বেগম এবং সংশ্লিষ্ট কাজির বিচারের।
গত শুক্রবার রাজধানী ঢাকার বসুন্ধরার আন্তর্জাতিক কনভেনশন সেন্টারে মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ এর চূড়ান্ত প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ীর ৬৭তম বিশ্ব সুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার কথা। প্রতিযোগিতাটি আগামী নভেম্বরে চীনে হওয়ার কথা। এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছিল এভ্রিল। অন্তর শোবিজ আয়োজিত এই অনুষ্ঠানেই ঘটেছিল অনিয়মের ঘটনা। অনুষ্ঠানের উপস্থাপিকা প্রথম বিজয়ী হিসেবে নাম ঘোষণা করেছিল অন্য প্রতিযোগীর নাম। কিন্তু অন্তর শোবিজের প্রধান স্বপন চৌধুরী সে সময় মঞ্চে এসে এভ্রিলের নাম ঘোষণা করেন। এই প্রতিযোগিতায় বিচারক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিনেত্রী শম্পা রেজা, আলোকচিত্রী চঞ্চল মাহমুদ, জাদুশিল্পী জুয়েল আইচ, ফ্যাশন ডিজাইনার বিবি রাসেল এবং রুবাবা দৌলা মতিন। উপস্থাপনায় ছিলেন শিনা চৌহান।
বিতর্কের শুরু এখান থেকেই। বিচারকদের পক্ষ থেকে শম্পা রেজা অভিযোগ করেন তারা এই প্রতিযোগীকে প্রথম হিসেবে নির্বাচন করেননি। এরপর বিতর্কের ডানা মেলতে থাকে এবং এভ্রিলের অতীত জীবন তুলে ধরতে থাকে দেশের মিডিয়াগুলো। পুরুষ শাসিত এই সমাজে নারীদের তথাকথিত কেলেংকারির খবর খুব বাজার পায়। এভ্রিলের খবরটিও তাই পেয়েছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এই ধরনের প্রতিযোগিতা বা আয়োজনের প্রতি আগ্রহী নই। ফলে গত কয়েকদিন ধরে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিষয়টি ভাইরাল হলেও আগ্রহ নিয়ে পড়িনি। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কয়েকজনের ফেসবুক স্ট্যাটাস পড়ে আগ্রহ জন্মালো এবং বিষয়টি বিস্তারিত জানতে গিয়ে দেখলাম এভ্রিল, জান্নাতুল নাঈম, চন্দনাইশের এক কৃষক পরিবারের সন্তান, শুধু নিজের ইচ্ছার জোরে এবং আত্মবিশ্বাসে নিজেকে কোথায় নিয়ে গেছেন। এক লহমায় এভ্রিল আমার কাছে হয়ে উঠেছে একটি সংগ্রামের প্রতীক একটি সাফল্যের প্রতীক।
দুদিন আগে একটি টিভি চ্যানেলে তাদের বিয়ের ভিডিও দেখানো হচ্ছিল। আমি খুব মনোযোগ দিয়ে না দেখলেও খেয়াল করলাম কনেটির মুখ মলিন। তার অভিব্যক্তিতে এই বিয়েতে তার অসম্মতির প্রকাশই ঘটছিল। পরে জেনেছি মাত্র ষোল বছর বয়সে মেয়েটিকে বিয়ে দেওয়া হয়েছিল স্থানীয় এক বস্ত্র ব্যবসায়ীর সাথে। মেয়েটি আড়াই মাসের মতো স্বামীর ঘর করেছিল। তারপর সে নিজের পথ নিজেই বেছে নিয়েছিল। তার আগে সে নিজেই তালাক দিয়েছিল স্বামীকে। বিয়ের সময়ের সাথে বর্তমান এভ্রিলের চেহারার যেমন বিস্তর ফারাক আছে তেমনি ২০১৩ সালের আমেনা আর ২০১৭ সালের মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া আত্মপ্রত্যয়ী এভ্রিলের অনেক ফারাক।
মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশ এই প্রতিযোগিতার নামেই মনে করা যেতে পারে যে প্রতিযোগিতাটি শুধুমাত্র ‘মিস’দের জন্য। মানে অবিবাহিতদের জন্য। আমি জানি না প্রতিযোগিতায় ডিভোর্সি কিংবা সিঙ্গলদের অংশ গ্রহণের সুযোগ আছে কি না। কিংবা ফর্মে এমন কিছু লেখার অপশন আছে কি না। যদি না থাকে তাহলে তথ্য গোপন করার অপরাধে এভ্রিলের খেতাব প্রত্যাহার করে নেওয়া হতে পারে। সেক্ষেত্রে কাকে দেওয়া হবে সে খেতাব না কি পুরো আয়োজনটিই বাতিল হয়ে যায় তা আমরা জানি না। প্রথমে বিয়ের কথাটি অস্বীকার করলেও পরে এভ্রিল নিজেই তা স্বীকার করে নিয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ফেসবুক লাইভে আসে এভ্রিল। সেখানে সে বলছে ‘আমি ছোটবেলা থেকে কখনোই কোনো বাধা বিপত্তির কাছে মাথা নিচু করিনি। কখনোই না। এখনই পর্যন্ত। যখনই বাধাবিপত্তি এসেছে চুপ করে সেটার বিপরীতে গিয়ে বারবার নিজেকে শুধরে নিয়েছি। বারবার নিজেকে আমি পরিবর্তন করেছি। বিয়ে প্রসঙ্গে এভ্রিল বলেছে ১৬ বছরের একটি মেয়েকে বাবা জোর করে বিয়ে দিচ্ছে। সেই মেয়ে বিয়ের আসর থেকে পালিয়ে এসেছে। আজ সেই মেয়ে সাকসেসফুল। সেই মেয়ে তার সমাজের কোনো কথা শোনেনি। সেই মেয়ে আশেপাশের মানুষ কী বলছে সেটাও কানে নেয়নি। তার একটা উদ্দেশ্য ছিল যেখানে ১৯ কোটি মানুষের বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ একটি দৈনন্দিন যন্ত্রণার ঘটনা। সেখানে সেই বাল্যবিবাহকে আমি মানতে পারিনি। বাংলাদেশেও আইন আছে। ১৬ বছরের একটা মেয়েকে বিয়ে দিলে বিয়ে হয় না। সেটা বাল্যবিবাহ হিসেবে গণ্য। আমি চেয়েছিলাম সেটার বিপরীতে কাজ করতে। আমি প্রত্যেকটা মেয়েকে এটাই বোঝাতে চেয়েছি। একটা মেয়ে চাইলে অনেক কিছু করতে পারে।
এভ্রিল ফেসবুক লাইভে বলেছে, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে একটা মেয়ে চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। বেগম রোকেয়ার মতো একটি মেয়ে চাইলে অনেক কিছু করতে পারে। চাইলে নিজেদের অধিকার নিজেই আদায় করে নিতে পারে। সেই ডিভোর্সি হোক, সে ম্যারিড হোক। সে অন্য কেউ হোক। আমি ডিভোর্সি, ফাইন। আমি একটা মেয়ে। আমি একটা মানুষ। মানুষ হিসেবে আমার তো অধিকার আছে একটা ইন্টারন্যাশনাল প্লাটফর্মে গিয়ে নিজেকে উপস্থাপন করার। কই আমি তো নিজের জন্য কিছু চাইনি। আমি চেয়েছি দেখাতে একটা মেয়ে চাইলে কী কী করতে পারে।’
অসাধারণ! অসাধারণ! নারীদের উদীপ্ত করার মতো, সাহসী করার মতো, জাগিয়ে তোলার মতো কথামালা দীর্ঘদিন শুনিনি। মিস ওয়ার্ল্ড বাংলাদেশের মুকুট খুলে ফেলতে হবে এভ্রিলকে। তবে তার এই কথা তার এই অসাধারণ উদ্দীপনামূলক ভাষণ তাকে অন্য গৌরবে অভিষিক্ত করবে। সংগ্রামী এক নারীর প্রতীকে পরিণত হবে সে। অন্য এক অভিধা ও সম্মানে ভূষিত হবে সে। মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অপরাধে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে। অনেকে তার নিন্দায় সরব হয়েছে যেন এমন ঘটনা পূর্বে কখনো ঘটেনি। তবে হ্যাঁ এমন প্রতিযোগিতায় হয়ত ঘটেনি কিন্তু যে দেশে নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা নির্বাচন কমিশনে অহরহ মিথ্যা তথ্য দেন, যে দেশে বিত্তবানরা আয়কর ফাঁকি দেওয়ার লক্ষ্যে আয়কর বিভাগকে মিথ্যা তথ্য দিতে আইনজীবীদের লাখ লাখ টাকা বেতন দিয়ে পোষেন, যে দেশের জনপ্রতিনিধিরা অহরহ মিথ্যা আশ্বাস আর ভাষণ প্রদান করেন সে দেশে এই তথ্য গোপন করা কোনো মহা অন্যায় নয়। যে সত্য এভ্রিল মেনে নেয়নি, যে বাস্তবতা তার ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যে শেকলে তাকে বন্দি করা হয়েছিল তা অস্বীকার করা কিংবা গোপন করার মধ্যে বড় কোনো বিচ্যুতি নেই। বড় কোনো অন্যায় নেই। যে দেশে শিশুখাদ্যে ভেজাল হয়, যে দেশে জীবন রক্ষাকারী ওষুধ নকল হয়, যে দেশে খাদ্যে ভেজাল হয়, যে দেশের হাসপাতালের অপারেশন থিয়েটারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ব্যবহৃত হয় সে দেশে এভ্রিলের এই সত্য গোপন কোনো অপরাধই নয়।
যে দেশে শিক্ষক যৌন নির্যাতন করেন শিক্ষার্থীকে, যে দেশে ধর্মীয় উপাসনালয়ে বলাৎকারের ঘটনা ঘটে, যে দেশে দু’বছরের কন্যা শিশু ধর্ষিত হয়, সে দেশে এভ্রিলের এই তথ্য গোপন কোনো অন্যায় নয়। আসলে এভ্রিলের এই বিদ্রোহ, এই উত্থান, এই স্বাধীনতাকে মেনে নিতে পারছে না আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা। একটি নারী একটি প্রত্যন্ত গ্রাম থেকে উঠে এসে দেশের সেরা মোটরবাইক রেইসার হবে। সে নারী একটি মোটর সাইকেল কোম্পানির ব্র্যান্ড অ্যাম্বেসাডর হবে এটা যারা মেনে নিতে পারছেন না তারাই তাকে তাদের আক্রমণের লক্ষ্যে পরিণত করেছেন, যদিও তাদের কেউ এভ্রিলের তথ্য গোপন করার মাধ্যমে ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। আমার তো মনে হয় এবারের মুকুটটি সবচেয়ে বেশি শোভা পেতো জান্নাতুল নাঈমের মাথায়। এইসব প্রতিযোগিতা কোনো মহান লক্ষ বা আদর্শকে সামনে রেখে করা হয় বলে মনে হয় না। যদি তাই হতো, এই প্রতিযোগিতা, যদি নারীকে মানুষের মর্যাদা দেওয়ার লক্ষে করা হয়ে তাকে, নারী মুক্তি বা নারী জাগরণের উদ্দেশ্যে করা হয়ে থাকে তাহলে এই প্রতিযোগিতায় বিজয়ী তো জান্নাতুল নাঈম এভ্রিল। আর এই প্রতিযোগিতা যদি নারীদেহ প্রদর্শনী আর নারীকে আরও নারী করে তোলার উদ্দেশ্যে হয় তাহলে এভ্রিলের তাতে দুঃখ পাওয়ার কিছু নেই, কারণ এভ্রিলের জন্য অপেক্ষা করছে আরও বড় কাজ। যে নারীটি চন্দনাইশের একটি অজপাড়াগাঁ থেকে রাজধানীতে এসে মাত্র চার বছরে নিজেকে এতদূর নিয়ে আসতে পারে সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টা আর ঐকান্তিক ইচ্ছায়, সে নারীর জন্য আরও অনেক বৃহৎ কাজ, মহৎ কাজ অপেক্ষা করছে। এভ্রিল নিজেকে এমন স্থানে নিয়ে যাক যাতে এ দেশের বঞ্চিত নারীদের, অবহেলিত নারীদের অপমানিত নারী আর দ্রোহী নারীদের অনুকরণীয় হতে পারে সে।
অনেকে তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েই বেশি আলোচনা করছে। ঐ পত্রিকাটি মেয়েটির গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে তার বিয়ের কাবিননামা সংগ্রহ করেছে, তার বিয়ের ভিডিওটি প্রচার করেছে কিন্তু এর পাশাপাশি এই মেয়েটির জীবন সংগ্রামের কথা লেখেনি, লেখেনি তার প্রতি পরিবার সমাজ তথা, রাষ্ট্রের অন্যায় আচরণের কথা। গতকাল পত্রিকাটি তাদের অনলাইন ভার্সনে লিখেছে, কাবিননামায় বিয়ের বয়স লেখা হয়েছিল ২৩ বছর। তাহলে এখন এভ্রিলের বয়স ২৭ বছর। বাংলাদেশে বাল্যবিয়ে দেওয়ার সময় কি প্রকৃত বয়সটি লেখা হয়? আমরা বুঝতে পারছি না যে পত্রিকাটি অদম্য মেধাবীদের কথা প্রকাশ করে, দেশের সংগ্রামী নারী–পুরুষের কথা তুলে ধরে যে পত্রিকা এভ্রিলের ব্যাপারে এমন আচরণ কেন করল? এভ্রিল যে প্রতিযোগিতায় গিয়েছিল তা ছিল মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতা। মিস ভার্জিন নিশ্চয় নয়। আমি জানি না, মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় নারীদের ভার্জিনিটির পরীক্ষাও দিতে হয় কি না? যদি তা না হয় তাহলে এভ্রিলের জন্য প্রতিযোগিতার দুয়ার খোলা থাকা দরকার।
প্রবল প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে যুদ্ধ করে এতদূর উঠে আসা এভ্রিলের পাশে দাঁড়ানো উচিত সকল মানবিকবোধ সম্পন্ন মানুষের। এই বিপর্যয়ে মেয়েটি যেন ভেঙে না পড়ে। এই পরিস্থিতি তাকে যেন হতাশ না করে। আমাদের সম্মিলিত ভালোবাসার হাত তার কাঁধ স্পর্শ করুক। আমাদের চোখের ভাষা, আমাদের উচ্চারিত প্রতিটি শব্দ মেয়েটিকে আশ্বস্ত করুক, ‘তুমি একা নও মেয়ে, আমরা অযুত মানুষ তোমার পাশে আছি। তোমার সংগ্রাম তুমি অব্যাহত রাখো, নিরলস রাখো। তোমাকে আরও অনেক দূর যেতে হবে।’
যে সমাজ নারীর উত্থান দেখতে চায় না, যে সমাজ নারীর বিজয় সহ্য করতে পারে না, যে সমাজ নারীকে মানুষের মর্যাদা দেয় না সে সমাজে তুমি একটি বিদ্রোহের প্রতীক। তোমাকে অভিবাদন, তোমাকে অভিনন্দন এভ্রিল।’ আমাকে অনেকজন এই সপ্তাহে এভ্রিলকে নিয়ে লিখতে অনুরোধও করেছিল। এরমধ্যে একটি তরুণ কবিতাও লিখে পাঠিয়েছে। সমাজে কিছু মানুষ থাকে যারা মাছির মতো, অন্যের ক্ষত খুঁজে বেড়ায়। আর কিছু মানুষ থাকে যারা পরম দুঃসময়েও ইতিবাচক কিছু খুঁজে পায়। এদের কাছেই এভ্রিলের নামটি উচ্চারিত হবে গভীর ভালোবাসা আর সম্মানের সাথে। এভ্রিলের জয় হোক।
Email:[email protected]

সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধান করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান কক্সবাজার রেড জোন,শনিবার থেকে আবারো লকডাউন এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।