সুন্দরের হাতে আজ হাতকড়া-কামরুল হাসান বাদল, লেখক,কবি, সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 27/07/2017-09:21am:   
পেশায় সরকারি কর্মকর্তা হলেও ইউএনও তারিক সালমন একজন কবি। কবি বলেই তিনি সংবেদনশীল, সৃজনশীল। আর সৃজনশীল বলেই শিশুদের সৃজনশীলতা বাড়াতে, তাদের উৎসাহিত করতে তাদের আঁকা জাতির জনকের ছবি দিয়ে আমন্ত্রণপত্র ছাপিয়েছিলেন। এই কাজের জন্য তাঁর প্রশংসিত হওয়ার কথা। খুশি হওয়ার কথা বঙ্গবন্ধুর দল ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীদের। খুশি হওয়ার কথা বঙ্গবন্ধু প্রেমীদের। হয়ত কেউ কেউ হয়েছিলেন। কেউ কেউ হতে পারেননি। যারা হতে পারেননি তারা ছিলেন বোকা, নতুন চাটুকার শ্রেণির। তাঁরা কিংবা তাঁদের মধ্যে অন্যতম আওয়ামীলীগ নেতা ও আইনজীবী ওবায়েদ উল্লাহ। তিনি বঙ্গবন্ধুর বিকৃত ছবি দিয়ে নিমন্ত্রণপত্র ছাপানোর অভিযোগ এনে গত ৭ জুন বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিক সালমনের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকার মানহানির মামলা করেন। ওবায়েদ উল্লাহ সাহেব বরিশাল জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতিও। ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর জন্মদিন। দিবসটি জাতীয় শিশু দিবস হিসেবেও পালিত হয় দেশে। সে উপলক্ষে আগৈলঝড়া উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে একটি চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। প্রথম শ্রেণি থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত শিশুরা এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে। সে সময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসেবে তারিক সালমন ঘোষণা দিয়েছিলেন প্রতিযোগিতায় প্রথম ও দ্বিতীয় স্থান অধিকারীদের আঁকা ছবি দিয়ে ২৬ মার্চের আমন্ত্রণপত্র ডিজাইন করা হবে। বরগুনা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার পুরা নাম গাজী তারিক সালমন। তাঁর ডাক নাম অয়ন। বরগুনার আগে তিনি আগৈলঝড়া উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা ছিলেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি সাতক্ষীরা জেলার দেবহাটা উপজেলার কোমরপুর গ্রামে। তাঁর বাবা আবদুর রহমান একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা। প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অবসরপ্রাপ্ত ডেপুটি ডাইরেক্টর। দুঃখজনক হলো এমন এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে জাতির জনকের ছবি বিকৃতির অভিযোগে মামলা হলো, দুঘন্টার হাজতবাস হলো। যিনি স্কুলে পড়াকালীন বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে রচনা প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। অয়ন সুন্দর হাতের লেখার জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় কয়েকবার প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন।
তারিক সালমনের মামলা ও তার জামিন না হওয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে প্রচন্ড ঝড় তোলে। নিন্দার ঝড় বয়ে যায় সর্বত্র। এই ঘটনায় এত প্রতিক্রিয়া হয় যে, দু ঘন্টার মধ্যে বিচারক সালমনকে জামিন দিতে বাধ্য হন। ঘটনাটি প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত পৌঁছায়। ঘটনার বিস্তারিত শুনে তিনি চরম বিরক্তি প্রকাশ করেন। তিনি তাঁর প্রতিক্রিয়ায় সালমনের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় ঘটনা দ্রুত পাল্টে যেতে থাকে। এবং পুরো ঘটনা তদন্ত হওয়া শুরু হয়। তারিকের জামিন হয়েছে। পরে মামলা প্রত্যাহার হয়েছে। এবং বাদী অতি উৎসাহী আওয়ামীলীগারকে দল থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। দুজন জেলা প্রশাসককে প্রত্যাহার করা হয়েছে। ৬ পুলিশকে ক্লোজড করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন সালমনের পক্ষে চলে গেছে। তবে এই ঘটনা কিছু প্রশ্ন ও আশংকার জন্ম দিয়েছে। এটি কি শুধু অতি উৎসাহী এক আইনজীবীর একলা কান্ড, না কি এর ভেতরে অন্য কোনো কারণ আছে? তা খতিয়ে দেখা দরকার।
যে কোনো সরকারের শেষ বছরে এসে নানা প্রকার বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চাপ দিয়ে সরকারের কাছ থেকে অধিকতর সুবিধা আদায় এর মধ্যে অন্যতম। এটি করে থাকে সরকারি বিভিন্ন দফতর ও বিভাগ। এছাড়া রাজপথেও অনেক পেশাজীবী সংগঠন নেমে পড়ে। তারা মনে করে নির্বাচনকে সামনে রেখে সরকার পানি বেশি ঘোলা করতে চাইবে না। কাউকে অখুশি করতে চাইবে না। এমন ধারণা থেকে দাবি-দাওয়া আদায়ের হিড়িক লক্ষ করা যায় সরকারের শেষ সময়ে। কার্ড ছাপানো হয়েছিল ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে। ওবায়েদ উল্লাহ সাহেব মামলা করেছেন ৭ জুন বরিশাল মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে। মামলা প্রত্যাহারের পর এর কারণ জানতে চাইলে বাদী ওবায়েদ উল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, প্রথমে আমি বুঝতে পারিনি এটা কোনো শিশুর আঁকা ছবি। এই ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছিল দেশে। পাঠকরা জানেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই তারিক সালমনের প্রশংসা করে তাঁর বিরুদ্ধে মামলার জন্য অসন্তোষ ও বিরক্তি প্রকাশ করেছিলেন। ঘটনার মোড় ঘুরে যায় প্রকৃতপক্ষে সে সময় থেকে। অথচ ওবায়েদ উল্লাহ বলছেন, ‘পরে যখন বুঝতে পারি তখন ভুল ভাঙে এবং মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিই।’ ‘প্রথমে বুঝতে না পেরে’ একজন প্রথম শ্রেণির সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা যায়? উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মতো একজনের বিরুদ্ধে মামলা করার আগে বিষয়টি ভালোভাবে খতিয়ে দেখার প্রয়োজনই বোধ করেননি আইনজীবী মহোদয়। বিষয়টি এতই হালকা? কিছু না ভেবেই আচমকা তিনি এই কাজ করেছিলেন? যদি তাই হয় মামলার দিন ৫০ আইনজীবী কিভাবে জামিনের বিরোধিতা করেছিলেন? ১৯ জুলাই তারিক সালমন রিকশা করে একাই আদালতে হাজিরা দিতে গিয়েছিলেন? এদিন তাঁর পক্ষে কাজ করতে কোনো আইনজীবী রাজি ছিলেন না। তিনি যখন আদালতের কাঠগড়ায় দাঁড়ান তখন অন্তত ৫০ জন আইনজীবী একসঙ্গে জামিনের বিরোধিতা করেছিলেন। ওই আইনজীবীদের মধ্যে একজন স্থানীয় সাংসদও ছিলেন। আদালতে এই পরিস্থিতিতে খুব অসহায় অবস্থায় ছিলেন সালমন তা তাঁর বক্তব্যে ও টেলিভিশন ফুটেজে স্পষ্ট হয়েছে। এ বিষয়ে সালমন একটি গণমাধ্যমে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘আদালতের নির্দেশ শুনে আমি খুবই অবাক হই, হতভম্ব হয়ে যাই।’ তিনি বলেন, ‘আমি কল্পনা করিনি যে, আমার জামিন না মঞ্জুর করা হবে। একটি জামিনযোগ্য ধারায় মামলাটি করা হয়েছে এবং যথাযথভাবে আদালতের সামনে আমার বক্তব্য উপস্থাপন করেছে আমার আইনজীবী। জামিন না মঞ্জুর করার পর আমাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। আমি খুবই অপমানিত বোধ করি। বিচারকের ভূমিকা নিয়ে প্রথমেই যে প্রশ্নটি মাথায় আসে তা হলো মামলার ধারাটি জামিনযোগ্য। মামলায় যাকে আসামি করা হয়েছে তিনি একদম সাধারণ কেউ নন। তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। পালিয়ে যাওয়ার প্রশ্নই আসে না তাঁর। মামলাটি গ্রহণ করে আরও বিস্তারিত ব্যাখ্যার আদেশ না দিয়ে অথবা মামলার ‘মেরিট’ বিচার না করে তিনি একজন উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাকে তড়িঘড়ি কারাগারে পাঠাতে উৎসাহী হয়ে উঠলেন কেন? এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করার অনুমতিও ছিল না। অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম অমিত কুমার দে মামলার বাদীর কাছে জানতে চেয়েছিলেন মামলা দায়েরের জন্য বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসকের অনুমতি আছে কি না? বাদী ওবায়েদ উল্লাহ আদালতকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বলেছেন, অনুমতি আছে। তিনি তা পরে দেখাবেন। একটি স্পর্শকাতর মামলায় বিচারক তাঁর মুখের কথাকে বিশ্বাস করে মামলা গ্রহণ করে ফেললেন? তাঁর কি একবারও মনে হয়নি বিষয়টি অধিকতর মনোযোগের দাবি রাখে। পুলিশের আচরণও কি সেদিন স্বাভাবিক ছিল? ইউএনও কি দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার মতো মানুষ যে তাঁর হাতে হাতকড়া পরাতে হবে? একজন নির্বাহী কর্মকর্তাকে হেনস্থা করতে এঁরা এতোটা উৎসাহী ছিলেন কেন? আইন, বিচার ও শাসন বিভাগ এই তিনটির সমন্বয়ে একটি সরকার পরিচালিত হয়। তিনটি বিভাগই সমান গুরুত্বপূর্ণ। একে অপরের পরিপূরক। এই তিনটি বিভাগের মধ্যে অনৈক্য, বিভাজন, অবিশ্বাস সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে। উন্নয়ন কাজসহ সামগ্রিক পরিস্থিতির বিঘ্ন ঘটায়। প্রকৃতপক্ষে রাষ্ট্রেরই ক্ষতি হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এই বিষয়ে সজাগ। তিনি বহুবার বহু জায়গায় এমনকি প্রধান বিচারপতির উপস্থিতিতেও সরকারের তিনটি বিভাগের মধ্যে সমন্বয় এবং পারস্পরিক সমঝোতা বজায় রাখার তাগিদ দিয়েছেন। তিনি এমনও ইঙ্গিত দিয়েছেন ‘যেন কোনো বিভাগ অন্য বিভাগকে ছোট করে নিজেদের বড় ও সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে না করে’। কেউ কাউকে বাগে পেলে না ছাড়ার প্রবণতা থাকলে দেশের উন্নতি ব্যাহত হবে, জনগণ কাঙিক্ষত সেবা থেকে বঞ্চিত হবে। ইউএনওকে হেনস্থা করার পেছনে যদি এমন কোনো উদ্দেশ্য থেকে থাকে তাহলে সরকারের নীতি নির্ধারকদের সতর্ক হতে হবে। কারণ নির্বাচনের আগে আগে এমন ঘটনা ক্ষমতাসীন দলেরই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। একটি দল যখন দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকে তখন সে দলের এবং দলের ক্ষমতাবানদের চারপাশে কিছু জঞ্জাল জমতে থাকে। যারা দলের জন্য ভয়ংকর ক্ষতির কারণ হয়ে ওঠে। আমরা অতীতেও দেখেছি আওয়ামী লীগের ক্ষতির কারণ হয়েছে আওয়ামী লীগ নামধারী কতিপয় লোকেরাই। একটি ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালনের লক্ষ ও উদ্দেশ্যেই এই দলের জন্ম হয়েছিল। এই দলটি এই ভূ-খণ্ডের সকল আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছে। এই দলের নেতৃত্বেই দেশে মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়েছে। এই দলের নেতা বঙ্গবন্ধুর যোগ্য নেতৃত্বে বাঙালি তাদের প্রথম স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেছে। শুরু থেকে এই দলের বিরুদ্ধে নানা প্রকার ষড়যন্ত্র পাকানো হয়েছে। কিন্তু বাইরের কোনো শত্রু এই দলের এতটা ক্ষতি করতে পারেনি, যতটা এই দলের হয়ে ষড়যন্ত্রকারী ও বিশ্বাসঘাতকরা করেছে। ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যার পর যে সরকার গঠিত হয়েছিল তা ছিল আওয়ামী লীগের ভেতর ঘাপটি মেরে থাকা প্রতিক্রিয়াশীল ও বিশ্বাসঘাতকদের সমন্বয়ে। জনগণসহ বিশ্ববাসীকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল নতুন সরকারটি আওয়ামী লীগেরই। এই ‘ক্যামোফ্লেক্সের’ কারণে জনগণ বিভ্রান্ত হয়েছিল সেদিন। আজ আওয়ামী লীগের কিছু নেতার ভূমিকা ও ভুলভ্রান্তি নিয়ে সমালোচনা করলে অনেকে তেড়ে আসেন। তাদের মনে রাখা দরকার আওয়ামী লীগ তথা জাতির সবচেয়ে ক্ষতি করা লোক খন্দকার মোশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুররা শুধু দলের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন না, তারা সরকারের মন্ত্রীও ছিলেন। ভুলে গেলে চলবে না, শফিউল আলম প্রধান, যিনি স্বাধীন দেশে প্রথম ছাত্রনেতা হত্যাকারী, তিনি ছাত্রলীগের সভাপতি ছিলেন। কাজেই এখন সরকার বা দলে খন্দকার মোশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুর বা শফিউল আলম প্রধানরা নেই তা মনে করার কোনো কারণ নেই। সাম্প্রতিক একটি ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে বিপুল সমালোচনার সূত্রপাত করেছে। সাতকানিয়ার সংসদ সদস্যের স্ত্রী ও জামায়াত নেতা মুমিনুল হক চৌধুরীর মেয়ে রিজিয়া রেজা চৌধুরী ওরফে রিজিয়া নদভীকে মহিলা আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য মনোনীত করা হয়েছে। গত শনিবার মহিলা আওয়ামী লীগের ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। সদস্যদের তালিকায় রিজিয়া নদভীর নাম রয়েছে ৬৮ নম্বরে। এরপর থেকে সমালোচনা শুরু হয়। আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের অনেকেই এই ঘটনায় দুঃখ ও হতাশা ব্যক্ত করে বিভিন্ন ধরনের পোস্ট দিয়েছেন ফেসবুকে। আওয়ামী লীগ করেন না কিন্তু মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে ধারণ করেন তারাও প্রচন্ডভাবে মর্মাহত হয়েছে এই সংবাদে। সমালোচনার জবাব দিতে গিয়ে রিজিয়া নদভী তাঁর ফেসবুক স্ট্যাটাসে লিখেছেন, তিনি আগে থেকেই তার পিতার রাজনীতির বিরুদ্ধে ছিলেন এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। আমরা যারা এখনো চট্টগ্রামে বসবাস করি এবং রাজনীতির অল্প বিস্তর খোঁজখবর রাখি তাদের কাছে বানোয়াট গল্প ফেঁদে লাভ নেই। তাঁর এলাকা পৈতৃক সূত্রে বাঁশখালী, বৈবাহিক সূত্রে সাতকানিয়ার কেউ তাঁকে আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার পক্ষে সাক্ষ্য দেয়নি। বরং চলতি বছরের শুরুতে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের কমিটিতেও সাংগঠনিক সম্পাদক হিসেবে তাঁর নাম এসেছিল। প্রবল সমালোচনার মুখে পরে তাঁকে সে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সমালোচনার বিষয়ে মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহমুদা বেগম বলেছেন, ওনার (রিজিয়া নদভী) বিয়ে হয়েছে ১২ কি ১৩ বছর বয়সে। স্বামীর সঙ্গে সংসার করছেন ৩০ বছর। স্বামী একজন সংসদ সদস্য। উনি (রিজিয়া নদভী) কি এখনো আওয়ামী লীগ হতে পারেন নি?’
রাজধানী ঢাকায় বসবাসকারী মাহমুদা বেগম সম্ভবত জানেন না, চট্টগ্রামে এমনকি তাঁর নির্বাচনী এলাকার মানুষ নদভী সাহেবকে আওয়ামী লীগার মনে করে না বলে দাবি করেন তাঁর নির্বাচনী এলাকার বহু নেতাকর্মী। তিনি মনোনয়ন পেয়েছেন, দলের সংসদ সদস্য হিসেবে এলাকায় কাজ করছেন। এসব কিছুই ঠিক আছে। আওয়ামী লীগে নেতাকর্মীর অভাব নেই। আমি বহু নেতাকে দেখেছি আওয়ামী লীগের রাজনীতি করে জীবন সায়াহ্নে উপনীত হয়েছেন কিন্তু জেলা এমন কি উপজেলা পর্যায়ের নেতাও হতে পারেন নি। শহরে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা হতে অনেকের এক জীবন পাড়ি দিতে হয়েছে। এমন অসংখ্য নেতাকর্মীর চোখের সামনে ত্যাগী ও যোগ্য নেতাদের ডিঙ্গিয়ে কেউ কেউ সরাসরি কেন্দ্রীয় কমিটিতে চলে যাবে তা ন্যায় বিচার নয়। তাতে ত্যাগী, আদর্শবান নেতাকর্মীদের মধ্যে হতাশা বাড়ে। অাখেরে যা দলেরই ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবে। প্রত্যক্ষ করেছি অন্য দল বা আদর্শ থেকে এসে আওয়ামী লীগের সরকারের মন্ত্রী-এমপি হওয়া যায় বটে কিন্তু নেতা হওয়া যায় না। এই দলের নেতা পর্যায়ে মোশতাক তাহের প্রধানরা থাকতে পারে কিন্তু মাঠ পর্যায়ে যাঁরা থাকেন তাঁরা বুকে চেতনাকে ধারণ করে থাকেন। শেখ হাসিনার সরকারকে গত ১১ বছর প্রকৃতি আনুকূল্য দিয়েছে। সত্যিকার অর্থে গোলা ভরা ধান আর পুকুর ভরা মাছ দিয়েছে। এবার সে প্রকৃতি রুদ্র হয়ে উঠেছে। শেখ হাসিনাকে সামনে প্রকৃতি, রাজনীতি, প্রশাসন সবকিছুকে আয়ত্ত করে নির্বাচনী বৈতরণী পার হতে হবে। যেটি খুব কঠিন বলে মনে হয়। তারপরও বলতে হবে যে কঠিনকে জিততে হবে শেখ হাসিনার। নতুবা জাতিটা হেরে যাবে।
[email protected]

সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধান করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান কক্সবাজার রেড জোন,শনিবার থেকে আবারো লকডাউন এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।