যদি হ’তো ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার সাম্প্রতিক তিনটি-ঘটনা।- কামরুল হাসান বাদল-

পোস্ট করা হয়েছে 24/11/2016-08:44am:    ১। বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসির নগরে হিন্দুদের বাড়িঘর ও মন্দিরে হামলা, ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ। এই ঘটনা নিয়ে দেশে যখন প্রতিবাদ হচ্ছে এবং ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে ছবি শনাক্ত করে জড়িতদের গ্রেফতার করা হচ্ছে সে সময়ও কোনো কোনো হিন্দুবাড়িতে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছে। সেখানে এখনও পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে ওঠেনি।
২। গাইবান্ধা জেলার গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর আক্রমণ। তাদের বসতি থেকে উচ্ছেদ, অগ্নিসংযোগ। সেখানে পুলিশের গুলিতে তিন সাঁওতাল প্রাণ হারিয়েছেন। এখনও সেখানে সাঁওতালরা খোলা আকাশের নিচে অনাহার আর অর্ধাহারে জীবন অতিক্রম করছেন।
৩। ঘটনা মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের। সেখানে রোহিঙ্গা মুসলমানদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেওয়া হচ্ছে। হত্যা করা হচ্ছে। সে দেশের নিরাপত্তাবাহিনীর অত্যাচারের হাত থেকে নারী ও শিশুরাও রেহাই পাচ্ছে না। এ বিষয়ে মিয়ানমার সরকার নির্বিকারই শুধু নয় এই রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে পুশইন করার জোর প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।
এই তিনটি ঘটনা তিন স্থানে এমনকি একটি ঘটনা আরেকটি দেশে ঘটলেও ঘটনার সূত্রপাত, আক্রমণের লক্ষ-উদ্দেশ্য প্রায় এক ও অভিন্ন। এই তিন ঘটনার আক্রমণকারীদের শ্রেণি ও চরিত্রের যেমন সাজুয্য আছে তেমনি আক্রান্তদের মধ্যেও মিল আছে। তিনটি জায়গাতেই আক্রমণকারীরা ধর্মীয় সংখ্যাগুরু, আক্রান্তরা সংখ্যালঘু। তিনটি জায়গাতেই দুর্বলদের অধিকার ভূলুণ্ঠিত হয়েছে সংখ্যাগুরুর জোর ও ক্ষমতার কাছে।
তবে বাংলাদেশের এ দুটি ঘটনায় সমাজে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়িয়েছে। সারাদেশে প্রতিবাদ সমাবেশ হয়েছে। নির্যাতিতদের বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। সরকার ও সরকারি দলের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেওয়া হয়েছে। নাসিরনগরের ঘটনায় জড়িতদের মধ্যে অনেককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটি। সরকারের পক্ষ থেকে নির্যাতিতদের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। যদিও এর মধ্যে আরও কয়েকদফা অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। এলাকার সাংসদ ও মন্ত্রী ছায়েদুল হককে সংবাদ সম্মেলন করে ঘটনার ব্যাখ্যা দিতে হয়েছে। আক্রান্তদের সরকারি সাহায্য প্রদান করা হয়েছে।
গোবিন্দগঞ্জে সাঁওতালদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ হয়েছে সারাদেশে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সংগঠন এবং দেশের সুশীল শ্রেণি সাঁওতালদের পক্ষে অবস্থানও নিয়েছেন। তাদের ওপর পুলিশের নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়েছেন। দেশের সর্বোচ্চ আদালত সাঁওতালদের ভিটেমাটি রক্ষায় সরকারের ওপর রুল জারি করেছেন। অর্থাৎ বাংলাদেশে সংঘটিত ঘটনা দুটি নিন্দনীয় হলেও অন্তত এর জন্য সরকারকে জবাবদিহি করতে হচ্ছে। নির্যাতিতদের রক্ষায় ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হচ্ছে। এবারের ঘটনাই শুধু নয় অতীতেও এমন ঘটনায় সমাজে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। সমাজের সর্বস্তরের মানুষ এইসব প্রতিবাদে অংশ নিয়েছেন। কিন্তু শেষোক্ত ঘটনা অর্থাৎ মিয়ানমারে রোহিঙ্গা নির্যাতনের বিরুদ্ধে সেখানে কোনো ধরনের রাজনৈতিক বা সামাজিক প্রতিবাদ হয়েছে তেমন কোনো সংবাদ আমাদের কাছে নেই। মিয়ানমারে কোনো রাজনৈতিক দল, কোনো সংগঠন অসহায় রোহিঙ্গাদের নিরাপত্তা ও অধিকার নিয়ে কখনো কোনো কথা বলেছে বলে আমাদের জানা নেই। এমনকি মিয়ানমারের রাজনৈতিক দলের বাইরে বুদ্ধিজীবী বা সুশীল শ্রেণির অস্তিত্ব আছে বলে জানা নেই।
টেলিভিশনগুলোতে প্রতিবেদন দেখে এবং বিভিন্ন সংবাদপত্রে এ বিষয়ে লেখালেখির মাধ্যমে পাঠকরা রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে ইতিমধ্যেই অনেক কিছু জেনেছেন। সেখানে রোহিঙ্গাদের কোনো ভোটাধিকার নেই। এমনকি তাদের মিয়ানমারের নাগরিক বলেও কখনো স্বীকার করা হয়নি। সেখানে সাধারণ জনগণ থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত রোহিঙ্গাদের বিষয়ে চরম বিরূপ মনোভাব পোষণ করে। ফলে রোহিঙ্গাদের ওপর আক্রমণ হলে তাদের আশ্রয় দেওয়ার কেউ থাকে না। যে কোনো দেশের নাগরিক তাদের নিরাপত্তা ও সাহায্যের আশায় সংশ্লিষ্ট দেশের পুলিশ বা সরকারি বাহিনীর শরণাপন্ন হয়, মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের সে সুযোগও নেই। মিয়ানমার সরকার অনেক আগে থেকেই রোহিঙ্গাদের বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়ে রেখেছে। কিছুদিন পরপর নানা ঘটনা ঘটিয়ে তাদের বাংলাদেশে পুশইন করার চেষ্টা করে। সোজা কথায় বলতে গেলে মিয়ানমার সরকার তাদের দেশে রোহিঙ্গাদের বসবাস করতে দিতে চায় না। দীর্ঘদিনের সামরিক শাসনের অবসান ঘটিয়ে অং সান সু চি ক্ষমতায় আসার পর ধারণা করা হয়েছিল মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ওপর তাদের কঠোর ও নির্মম দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ঘটাবে। কিন্তু বাস্তবে তেমন ঘটেনি। বরং অং সান সুচির কিছু কিছু বক্তব্য এবং তার বর্তমান নির্বিকার অবস্থান স্পষ্ট করেছে রোহিঙ্গা প্রশ্নে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারও তার পূর্ববর্তী সামরিক জান্তার পদাঙ্ক অনুসরণ করবে । বিষয়টি মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ বিষয় হলেও এক্ষেত্রে বাংলাদেশ জড়িয়ে গেছে অনেক আগে থেকে ঐতিহাসিক কারণে। ফলে রাখাইন রাজ্যে দাঙ্গা শুরু হলে এর ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে বাংলাদেশের গায়ে। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের নির্বিকার থাকার উপায় নেই। ‘দেব না’ ‘দেব না’ করেও সরকার প্রতিবার বেশ কিছু রোহিঙ্গাদের প্রবেশ করতে দেয়। মানবতার কাছে হয়ত পরাজিত হয় আইনের কঠোরতা।
আমি আপাতত এই তিনটি ঘটনার একটি ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে চাই। প্রথমত এই তিনটি ঘটনার পেছনে ধর্ম কি একটি প্রধান ইস্যু হিসেবে কাজ করেছে? অর্থাৎ ধর্মীয় সংখ্যালঘু হওয়ার কারণেই কি এই আক্রমণগুলো হয়েছে বা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে? যদি তারা মুসলিম হতো? যেমন সাঁওতালরা যদি মুসলিম হতো তাহলে কি তাদের ওপর এমন নির্যাতন করার সাহস পেতো অন্যরা? রোহিঙ্গারা যদি বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী হতো তাহলে কি এসব ঘটনা ঘটতো? তাদের দেশ ছাড়া হতে হতো? বাংলাদেশ থেকে তো কোনো মুসলিম ভারতে চলে যায় না বা যেতে বাধ্য হয় না। হিন্দুদের কেন যেতে হয়? তার মানে আমাদের রাষ্ট্রগুলো নিজ ধর্মীয় চেতনার বাইরে গিয়ে তার সকল নাগরিকের হতে পারছে না? রাষ্ট্রটি মানবিক হতে পারছে না। রাষ্ট্রের চরিত্রটি বদলাচ্ছে না? তবে কি এই এক বিংশ শতকে এসেও রাষ্ট্র বৈরী হয়ে থাকবে তার বিশাল এক শ্রেণির নাগরিকের প্রতি, যারা ওই রাষ্ট্রের অধিকাংশ জনগণের ধর্মটি পালন করে না বলে? রাষ্ট্রটি নিজেই ধর্ম যাযকের ভূমিকা নিয়ে তার স্বধর্ম প্রচার, প্রসার ও প্রতিষ্ঠার চেষ্টা চালাবে? তবে তো বিশ্ব মানববসতির যোগ্য থাকবে না। দেশে দেশে ধর্মীয় হানাহানি লেগে থাকবে। মিয়ানমার তাড়াবে মুসলমানদের। বাংলাদেশ তাড়াবে হিন্দু-বৌদ্ধদের, ভারত তাড়াবে মুসলমানদের, পাকিস্তান তাড়াবে সকল অমুসলিমদের, ইউরোপ তাড়াবে অখ্রিস্টানদের। শুধু কি রাষ্ট্র ব্যবস্থায়ই এই বিভাজন? আমাদের মধ্যে অর্থাৎ সাধারণ জনগণের মধ্যে কি তাই বিদ্যমান নয়। সাম্প্রতিক ঘটনাবলী নিয়েই একটি উদাহরণ দিই। নাসিরনগর ও গোবিন্দগঞ্জের ঘটনায় ফেসবুক জুড়ে তুমুল বাদ-প্রতিবাদ হয়েছে। অনেকে তীব্র ভাষায় এই ঘটনার নিন্দা জানিয়েছেন। প্রতিদিন ফেসবুকে শত শত পোস্ট দেখা গেছে। এর কয়েকদিন পর যখন মিয়ানমারে রোহিঙ্গা হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনা ঘটল তখন দেখা গেল নাসিরনগর ও গোবিন্দগঞ্জের ঘটনায় যারা আশ্চর্য নীরবতা পালন করেছিলেন তারা প্রচণ্ড সরব হয়ে উঠেছেন। যারা এতদিন নিজ দেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অধিকারের প্রশ্নে একেবারে বধিরের অবস্থান নিয়েছিলেন তারাই মিয়ানমারের সংখ্যালঘু অধিকার ও নিরাপত্তার প্রশ্নে বিপ্লবী বনে গেছেন। তাদের অনেকেই এ বিষয়ে রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতাকে দায়ী করে অং সান সুচির নোবেল পুরস্কার ফিরিয়ে নেওয়ার দাবি তুলেছেন। আরেকটি অংশ যারা নাসিরনগরের ঘটনায় তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে প্রতিদিন তিন চারটি পোস্ট দিয়েছেন তাদের অনেকেই মিয়ানমারের ঘটনায় নিশ্চুপ থেকেছেন। এদের মধ্যে অনেকেই ইতিমধ্যে প্রকাশিত রাখাইন রাজ্যের সহিংসতার ছবিগুলোকে বানোয়াট বলেছেন। অর্থাৎ এদের কেউ কেউ হিন্দুদের পক্ষে কেউ কেউ মুসলমানের পক্ষে বলে চিহ্নিত হয়েছেন। আর এর বাইরে তৃতীয় যে অংশ তারা তিনটি ঘটনারই সমান নিন্দা জানিয়েছেন। তাদের কাছে হিন্দু-মুসলমানের এই হত্যা নির্যাতন মানবতার বিপক্ষে বলে এর প্রতিবাদ করছেন। এদের প্রতিবাদের ক্ষেত্র, দেশ, কান, ধর্ম নির্বিশেষে সকল নির্যাতিত মানুষের জন্য।
এখানে সমস্যাটি তৈরি করেছে ধর্ম। রাষ্ট্র যখনই একটি বিশেষ ধর্মের হয়ে ওঠে তখন রাষ্ট্র আর মানবিক। সভ্য ও সকলের বাসযোগ্য থাকে না। ধর্ম মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়। রাষ্ট্রকে ওখানে হতে হবে নিরপেক্ষ ও নির্মোহ। তবেই মানুষের অধিকার ও মুক্তি সম্ভব। যে জন্য বলা হচ্ছে ‘ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার। এই নীতি যদি বিশ্বের সকল দেশ মান্য করে তাহলে ধর্মের কারণে আর মানুষ হত্যা হতো না। নিজেদের পৈত্রিক নিবাস ছেড়ে উদ্বাস্তু হতে হতো না। আমরা জানি স্বাধীনতার আগে অর্থাৎ পাকিস্তান শাসনামলে এদেশে উর্দুভাষী বিহারীরা বাঙালিদের কীভাবে নির্যাতন করতো। এমন কি আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় এদেশে থেকে এদেশের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করে, পাকিস্তানি সৈন্যদের সাথে এদেশে গণহত্যায় অংশ নিয়েও আজ কয়েক লাখ বিহারী বাংলাদেশে পড়ে আছে বছরের পর বছর। আমি আগেও বলেছি কয়েকবার এই বিহারীরা যদি মুসলমান না হতো তাহলে এতদিন কি তারা এদেশে থাকতে পারতো? মিয়ানমার সরকার ও সে দেশের জনগণ রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করে যাচ্ছে তার অপরাধে রেহিঙ্গাদের দেশত্যাগ করতে হয় কারণ তারা সেদেশের সংখ্যাগুরু জনগণের ধর্মীয় পরিচয় বহন করে না বলে। আর রোহিঙ্গাদের ওপর কথিত অভিযোগের চেয়ে বেশি করে বিহারীরা এদেশে এখনো বেশ ভালোই আছে। (আমি ক্ষমা চাইছি এই উদাহরণ দিচ্ছি বলে। কারণ কোনো জনগোষ্ঠীর প্রতি ঘৃণা বা বিদ্বেষ ছড়ানোর লক্ষ্যে উদাহরণটি দিই নি। এখন বিহারীদের দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মরা বাস করছে বাংলাদেশে যাদের অনেকে মুক্তিযুদ্ধ দেখেওনি। বর্তমানে এমন একটি সময় আমরা অতিক্রম করছি যা মানব সভ্যতা ও মানবতাবোধের সম্পূর্ণ অন্তরায়। দেশে দেশে আজ উগ্রতাই প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। সে উগ্রতা কখনো ধর্মীয়, কখনো জাতিগত কখনো ভাষাগত। মানুষের মধ্য থেকে হারিয়ে যাচ্ছে মানবতাবোধ, শুভবোধ, মমত্ববোধ। মানবতার বিপক্ষে যে ঝড় সৃষ্টি হয়েছে তার প্রতিফলন পড়তে শুরু করেছে দেশ থেকে দেশে। জাতি থেকে জাতিতে। আজ সবকিছু ছাপিয়ে ধর্মীয় পরিচয়টাই যেন জীবন ও মৃত্যুর কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। কিন্তু এভাবেতো বিশ্বসভ্যতা টিকে থাকবে না। বিশ্বের যে কোনো দেশে যে কোনো ধর্মের মানুষের বসবাসের অধিকার থাকতে হবে। আর ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে রাষ্ট্র তার সকল নাগরিকের সম অধিকার ও মর্যাদা রক্ষা করবে। ভারত হিন্দুদের, বাংলাদেশ মুসলমানদের, মিয়ানমার বৌদ্ধদের হয়ে থাকতে পারে না। রাষ্ট্রে যদি ভিন্ন মতের, ভিন্ন ধর্মের একজন লোকও থাকে তার মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করতে হবে বাদবাকি মানুষের মতো।
নিজের দেশের সংখ্যালঘুদের জীবন নিরাপত্তাহীন রেখে, অধিকারহীন রেখে শুধু ধর্মীয় কারণে অন্যদেশের সংখ্যালঘুর নিরাপত্তার দাবি করা হাস্যকর ও অন্তসারশূন্য। আগে নিজ দেশে সকল মানুষের সম মর্যাদা ও অধিকার সুনিশ্চিত করতে হবে তবেই অন্যদেশের ব্যাপারে প্রতিবাদ করা যুক্তিযুক্ত হবে। আগে নিজেকে মানতে হবে ‘ধর্ম যার যার রাষ্ট্র সবার’ তবেই তা প্রতিবেশীকে মানতে বাধ্য করতে পারি।

সর্বশেষ সংবাদ