বিপদাপন্ন বাংলাদেশ-বিপদাপন্ন মানবতা--কামরুল হাসান বাদল-কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 14/06/2016-11:00am:    ধারাবাহিক গুপ্তহত্যার সর্বশেষ শিকার হলেন (লেখার সময় পর্যন্ত) ঝিনাইদহের হিন্দু পুরোহিত আনন্দ গোপাল। চট্টগ্রামে এস পি বাবুল আক্তারের স্ত্রী ও নাটোরের বড়াইগ্রামে খ্রিস্টান মুদি দোকানিকে হত্যার ৪৮ ঘণ্টার মাথায় ঝিনাইদহে এই হত্যাকাণ্ড ঘটল। লেখাটি পাঠকরা যখন পড়বেন সে পর্যন্ত আরও কতজনের এমন মৃত্যু ঘটতে পারে তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয়। এমনকি আমি নিজেও সে পর্যন্ত বেঁচে থাকার সুযোগ পাবো কিনা তা-ও যখন নিশ্চিত নয়।
বাংলাদেশ একটি ভয়ংকর পরিস্থিতি অতিক্রম করছে। এমন পরিস্থিতি যে সৃষ্টি হতে পারে সে আশংকা অনেকে ব্যক্ত করেছিলেন আগে। এমনকি গত ৭/৮ বছর ধরে আমার অনেক লেখায় বহুবার আমি এমন পরিস্থিতি তৈরি হবে বলে আশংকা ব্যক্ত করেছিলাম। এবং তার জন্য প্রস্তুতি ও পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুত থাকার আহ্বানও জানিয়েছিলাম। বাংলাদেশের বহু লেখক, চিন্তক, বুদ্ধিজীবী ও অর্থনীতিবিদও এই আশংকা ব্যক্ত করেছিলেন।
বর্তমানে যা চলছে কিংবা এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে তা অনুধাবনের জন্য বিশেষ কোনো জ্ঞানের প্রয়োজন পড়ে না। সামান্য জ্ঞান বুদ্ধি যার আছে তিনি সহজেই বুঝতে পারবেন যে, জামায়াতের আমীর এবং জোট সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসি হয়েছে মাত্র কয়েকদিন আগে। বড় কোনো ঘটনা না ঘটলে জামায়াতের আরেক প্রভাবশালী নেতা মীর কাশেম আলীর ফাঁসির রায় কার্যকর হবে সপ্তাহ দুয়েকের মধ্যে। এমন সময় দেশের পরিস্থিতি জলের মতো ঠান্ডা থাকবে না। মতিউর রহমান নিজামী ও মীর কাশেম আলী আমাদের অনেকের চোখে যুদ্ধাপরাধী বা মানবতা বিরোধী অপরাধী হলেও জামায়াত বা সে শক্তির সমমনাদের কাছে এ দুজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্মানিত। এদেরই একজনের ফাঁসি হয়ে গেছে এবং অন্যজনের জন্য ফাঁসির মঞ্চ তৈরি হচ্ছে কাজেই বাংলাদেশ এখন স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে থাকতে পারে না। নিজামীর মৃত্যুর পর পাকিস্তানের প্রতিক্রিয়া ছিল একেবারেই নগ্ন, অভব্য এবং দুদেশের সুসম্পর্কের জন্য হানিকর। শুধু তাই নয় নিজামীর ফাঁসির রায় কার্যকর করার পর পাকিস্তানে সরকারি পর্যায়ে এর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা হয়েছে এবং পাকিস্তানের পাঞ্জাবের প্রাদেশিক পরিষদ নিজামীকে পাকিস্তানের সর্বোচ্চ বেসামরিক খেতাব ‘নিশান-ই-পাকিস্তান’এ ভূষিত করার প্রস্তাব পাশ করেছে। নিজামীসহ অন্যান্য জামায়াত নেতা যাদের মানবতাবিরোধী অপরাধে বাংলাদেশে সর্বোচ্চ সাজা হয়েছে তাদের সবার ক্ষেত্রেও পাকিস্তান একই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল। অবশ্য পাকিস্তানের এই ধরনের প্রতিক্রিয়া হওয়া স্বাভাবিক কারণ শেষ পর্যন্ত নিজামীরা পাকিস্তানকে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তান বানাতে চেয়েছেন।
চট্টগ্রামের আলবদর নেতা মীর কাশেম আলী জামায়াতের গুরুত্বপূর্ণ নেতা। স্বাধীনতার পর থেকে জামায়াত-শিবিরের অর্থের যোগানদাতা তিনি। তাঁর যোগাযোগ মধ্যপ্রাচ্যসহ আন্তর্জাতিক পর্যায়ে। বিভিন্ন দেশে যারা তাদের ভাষায় ইসলামী শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায় যেমন উপমহাদেশের জামায়াতে ইসলামী, মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকার মুসলিম ব্রাদারহুড এমন গোষ্ঠীর জন্য অর্থ সংগ্রহ ও তা দলের জন্য খরচ করার দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মধ্যে বাংলাদেশে মীর কাশেম আলী অন্যতম। তিনি আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্ষেত্র থেকে অর্থ-সংগ্রহ করতেন এবং তা দলের জন্য ব্যয় করতেন। জামায়াতের আর্থিক খাত দেখাশোনার দায়িত্ব ছিল কাশেম আলীর ওপর। দেশে জামায়াতের যতগুলি আর্থিক প্রতিষ্ঠান আছে তার সবগুলোতে অর্থায়ন হয়েছে এই ব্যক্তির মাধ্যমে। কাজেই মীর কাশেম আলী জামায়াতের রাজনীতির অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একজন ব্যক্তি। তার কিছু হলে জামায়াতের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় বিশাল সমস্যা তৈরি হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে গঠিত ট্রাইব্যুনালের বিরুদ্ধে বিদেশের মাটিতে যে অপপ্রচার চালানো হয়েছে এবং সে লক্ষে কোটি কোটি ডলার দিয়ে যেসব লবিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়েছে তার সমস্ত অর্থ যোগান দিয়েছেন মীর কাশেম আলী। এক কথায় মীর কাশেম আলী জামায়াতের আর্থিক মেরুদণ্ড। এটি ভেঙে গেলে বাংলাদেশে জামায়াত পরিচালিত প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্দশায় পড়বে। এমন দুজন ব্যক্তির বিচার করতে গিয়ে তথা যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়ে ট্রাইব্যুনাল গঠন করে এবং নিজামীর পর্যন্ত রায় বাস্তবায়ন করে জননেত্রী শেখ হাসিনা কত বড় ঝুঁকি নিয়েছেন তা বুঝতে গেলে অনেক কিছুই মাথায় রাখতে হবে। বিষয়টি এত সহজ নয়। এরা গালকাটা কামাল বা এরশাদ শিকদার নয় যে ফাঁসির সঙ্গে সঙ্গে সবকিছু চুকে বুকে যাবে। এদের এই বিচারের দায় এবং খেসারত বাংলাদেশকে কতদিন এবং কীভাবে পরিশোধ করতে হবে তা একমাত্র ভবিষ্যতই নির্ধারণ করতে পারে।
বর্তমান শেখ হাসিনার ও তাঁর সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের উদ্যোগ নিয়ে শুধু একটি ঝুঁকি নিয়েছেন তা বলা যাবে না। সে সাথে তিনি আরও অনেক শক্তিকে ক্ষেপিয়ে তুলেছেন যাদের স্বার্থরক্ষা করেছিল জামায়াত বিএনপি জোট তথা মুক্তিযুদ্ধ চেতনাবিরোধী শক্তিটি। যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করতে গিয়ে আজ তিনি বা তাঁর সরকার শুধু দেশের অভ্যন্তরেই নন আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রেও তাঁর শত্রু বৃদ্ধি করেছেন। তা কীভাবে এবং কোন কোন শক্তি তাঁর প্রতি বিরাগ হতে পারে এবং তাঁর ও তাঁর সরকারের পতন ঘটাতে তৎপর হতে পারে তার একটি চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করি।
প্রথমতঃ যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের এই কার্যক্রমে প্রথমেই নাখোশ হয়েছে পাকিস্তান। কাজেই পাকিস্তান এবং তার এদেশীয় অনুগতরা বর্তমান সরকারের পতন ঘটাতে নানা কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবে। ১৯৭৫ সালে জাতির জনককে হত্যার পর এদেশে পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা ‘আইএসআই’ এর কার্যক্রম বৃদ্ধি পেয়েছে। সেই সময় থেকে এখন পর্যন্ত সামাজিক অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে আইএস আইয়ের অবস্থান দৃঢ় থেকে সুদৃঢ় হয়েছে। ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’ এর তুলনায় পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা ‘আইএসআই’ যে কিছুটা হলেও দক্ষ তার কিছু কিছু প্রমাণ অতীতে আমরা প্রত্যক্ষ করেছি। বাংলাদেশে আইএসআইয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় সুবিধা এই যে, আমাদের সরকারি বিভিন্ন সংস্থা, দপ্তর থেকে শুরু করে সাধারণ্যে পর্যন্ত অনেকে আছেন যারা পাকিস্তানপন্থী। এদের দ্বারা পাকিস্তানের স্বার্থরক্ষা করা খুব কঠিন নয় বাংলাদেশে। বাংলাদেশে যারা পাকিস্তানপন্থী এবং একাত্তরে যারা পাকিস্তানের পক্ষে কাজ করেছিলো এবং ১৯৭৫ এর পরে যারা এদেশে পাকিস্তানের স্বার্থরক্ষা করে চলেছে এমন ব্যক্তি ও দলকে রক্ষা করা দায়িত্ব বলে মনে করে পাকিস্তান। এই দল বা গোষ্ঠীর দ্বারা পাকিস্তান ভারতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠনকে অর্থ ও অস্ত্র দিয়ে সাহায্য করতো। শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর গত সাড়ে আট বছর ধরে এ কাজ নির্বিঘ্নে করতে পারছে না পাকিস্তান বা আইএসআই। কাজেই এই সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার বিকল্প নেই তাদের হাতে।
দ্বিতীয় : শেখ হাসিনার সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন যেমন উলফা তাদের কার্যক্রম পরিচালনায় বাধাগ্রস্ত হয়েছে। বাধাগ্রস্ত হয়েছে ভারতের ‘মাথাব্যথা’ বলে কথিত সেভেন সিসটারের বিচ্ছিন্নতাবাদী অন্যান্য আন্দোলনও। বিএনপি-জামায়াত সরকারের আমলে এই সব সংগঠন বাংলাদেশকে তাদের আশ্রয় ও প্রশিক্ষণের স্থান হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং সে সাথে তৎকালীন সরকারি সহায়তায় অস্ত্র ও গোলাবারুদ সংগ্রহ করেছে। শেখ হাসিনার কারণে বর্তমানে এ ধরনের কার্যকলাপ বন্ধ আছে।
তৃতীয়ত : প্রতিবেশি দেশের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলার সদিচ্ছার কারণে শেখ হাসিনার সরকার মিয়ানমারের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মির বিষয়ে কঠোর অবস্থান নিয়েছেন। বছরখানেক আগে যৌথবাহিনীর সাথে প্রচন্ড গোলাগুলিতে তাদের একজন নিহত হয়। এবং তাদের এক শীর্ষ নেতাকে মিয়ানমার সরকারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। বিএনপি-জামায়াত জোটের সময়ে বাংলাদেশ ছিল এ ধরনের সংগঠনের অভয়ারণ্য। শেখ হাসিনা এদের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করায় এদেরও টার্গেটে পরিণত হয়েছেন তিনি। একটি কথা মনে রাখা দরকার। বিশ্বের যেখানে বা যে দেশেই বিছিন্নতাবাদী আন্দোলন (রাষ্ট্রের ভাষায় আর তারা নিজেদের স্বাধীনতা আন্দোলনকারী মনে করে) চলুক না কেন তার সাথে অন্যদেশের আন্দোলনকারীদের একটি নিবিড় যোগাযোগ থাকে। যেমন উলফার সাথে আরাকান আর্মির।
চতুর্থ : বিশ্বব্যাপী এখন ইসলামী জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটছে। তালেবান আল কায়েদার পরে এখন আইএস বা ইসলামিক স্টেট মানবসভ্যতার জন্য হুমকি হিসেবে দেখা দিয়েছে। আইএস বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশ নিয়ে তাদের নিজস্ব পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছে। বাংলাদেশেও এদের সমর্থন করে এমন কিছু উগ্রদল প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশে আইএসের কার্যক্রম পরিচালনায় ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রধান অন্তরায়, কাজেই আইএস বা আন্তর্জাতিক ইসলামী জঙ্গিদের টার্গেটে আছেন শেখ হাসিনা ও তার সরকার।
পঞ্চমত : আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে। ভৌগোলিক কারণে বাংলাদেশ বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে নব্য পরাশক্তির দেশগুলোর কাছে। নব্য পরাশক্তি চীন এখন আমেরিকার অন্যতম মাথাব্যথার কারণ। ভারতের সাথে চীনের বৈরি সম্পর্ক বিদ্যমান থাকা স্বত্ত্বেও ভারত মহাসাগরে আমেরিকার শক্তি বৃদ্ধি ঠেকানোর বিষয়ে দু’দেশই একমত। ভারত একটি উদীয়মান পরাশক্তি। চীন ও ভারতকে বাগে রাখতে বঙ্গোপসাগরে আমেরিকার একটি শক্তি ঘাঁটি প্রয়োজন। যা বাংলাদেশের মাধ্যমে সম্ভব। বাংলাদেশে ভারতবিদ্বেষী ও আমেরিকার বশংবদ একটি সরকার প্রতিতিষ্ঠত হলে আমেরিকার স্বার্থসিদ্ধির সমস্যা হতো না। মুখে বা বিবৃতিতে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট থেকে মন্ত্রী যা-ই বলুক ভেতরে ভেতরে তারাও শেখ হাসিনা ও তার সরকারের ওপর নাখোশ। গত কয়েক দশক ধরে মার্কিন রাষ্ট্রদূতদের কার্যকলাপে আমরা সহজেই তা অনুধাবন করতে পারি। বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও জঙ্গিবিরোধী কার্যকলাপ নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য কিছু রাষ্ট্রের ভূমিকায় আমরা স্মরণ করতে পারি যে, মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়েও আন্তর্জাতিক এই শক্তি আমাদের বিরোধীতা করেছিল।
সর্বশেষ : শর্ষের মধ্যে যদি ভূত থাকে তো সে ভূত তাড়ানো কঠিনই হবে। ১৯৭৫ এরপর থেকে দীর্ঘকাল রাষ্ট্র পরিচালিত হয়েছে মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী রাজনৈতিক শক্তি দ্বারা। এই দীর্ঘ সময়ে রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও অন্যন্য ক্ষেত্রে এই শক্তিটি পোক্ত হয়ে গেড়ে বসেছে। সরকারি বিভিন্ন পদে বেছে বেছে তাদের লোক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে অনেকেই এখন বিভিন্ন বিভাগ ও দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন। এ ছাড়া আমরা যদি একটি সহজ হিসাব করি যেমন দেশের জনসংখ্যার প্রায় আধা আধি আওয়ামী লীগ ও বিএনপিতে বিভক্ত। অর্থাৎ একটি অংশ একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা তথা বায়ান্নের চেতনা, তথা বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনা, তথা ধর্মনিরপেক্ষ চেতনায় বিশ্বাসী। আরেকটি অংশ পাকিস্তান তথা উগ্র ধর্মীয়, তথা সাম্প্রদায়িক তথা জঙ্গিবাদে বিশ্বাসী। খুব সাধারণ এই হিসাবটি যদি সর্বক্ষেত্রে প্রয়োগ করি অর্থাৎ সরকারি বিভিন্ন বাহিনী থেকে দপ্তর, উচ্চ পদস্থ থেকে নিম্ন পদস্থ তাহলে একই অবস্থা কি পাওয়া যাবে না? তার মানে বর্তমান সরকারের সব বিভাগের সবাইকে বর্তমানে শেখ হাসিনার উদার, মানবিক ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রের স্বার্থরক্ষায় কাজ করছেন আন্তরিকভাবে তার কি কোনো নিশ্চয়তা আছে? যে বাহিনী জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রম পরিকল্পনা করছে সে বাহিনীর সবাই কি মনে-প্রাণে জঙ্গিবিরোধী? সরকারের সবাই কি মনে প্রাণে দেশে এই জঙ্গিবিরোধী কার্যক্রমের সফলতা চান? কিংবা সরকারি দল আওয়ামী লীগের? আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ এদের মধ্যে সবাই কি জঙ্গি দমনে এবং বাংলাদেশকে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের শোষণহীন, বঞ্চনাহীন অসাম্প্রদায়িক দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে শেখ হাসিনার মতো আন্তরিক?
চট্টগ্রামে এসপি বাবুল আক্তারের স্ত্রীকে খুন করার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কিছু কর্মকর্তাকে নিয়ে নানা প্রশ্নের জন্ম নিয়েছে। এই খুনের সুষ্ঠু তদন্ত যদি হয় তাহলে কিছু কিছু প্রশ্নের উত্তর হয়তো মিলবে। এর ফলে জঙ্গি দমনে পুলিশের ব্যর্থতায় কিছু তথ্যও হয়তো মিলবে তখন। আমরা সে পর্যন্ত অপেক্ষা করবো। নিরুপায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যতই বলুন এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। জনগণ তা বিশ্বাস করে না। বহুদিক, বহু শক্তি দ্বারা আক্রান্ত আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি এখন বিপদাপন্ন। যতই অভিমান করি, যতই হতাশা ব্যক্ত করি বিপদাপন্ন মাতৃভূমির পক্ষে দাঁড়াতে হবে আমাদের। ভেঙে পড়লে চলবে না। মনে রাখতে হবে জ্ঞান-বিজ্ঞানে বিশ্বের আজ এই যে অগ্রগতি হয়েছে তার জন্য লক্ষ লক্ষ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ মানুষকে ত্যাগ স্বীকার করতে হয়েছে। ন্যায় ও সত্য প্রতিষ্ঠা করতে গিয়ে লক্ষ লক্ষ মানুষকে আত্মদান করতে হয়েছে। অসভ্য, বর্বর, সমাজ থেকে একটি সভ্য পৃথিবী গড়ে উঠেছে অসংখ্য অসংখ্য প্রাণের ত্যাগের বিনিময়।
অমানবিকতা অসভ্যতা, বর্বরতার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধের অনল জ্বালিয়ে না রাখলে অন্ধকার গ্রাস করে নেবে মানবিক বিশ্বকে।
Email: [email protected]

সর্বশেষ সংবাদ