আইএস ‘আছে’ ‘নেই’ এর মাঝখানে আমরা---কামরুল হাসান বাদল-কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 29/04/2016-03:35pm:    উদার, প্রগতিশীল ও মানবিক-বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যার তালিকায় সর্বশেষ যোগ হলো রাজশাহী বিশ্ববিদ্যলয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক রেজাউল করিম সিদ্দিকীর নাম। নিরহংকারী, সংস্কৃতিমনা, উদার ও নিবেদিতপ্রাণ এই শিক্ষক কোনো ধরনের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ক্যাম্পাসে শিক্ষক রাজনীতিও করতেন না। তবে নিয়মিত ক্লাস নিতেন বলে শিক্ষার্থীদের কাছে তিনি ছিলেন অত্যন্ত প্রিয়। তিনি সংস্কৃতিবান মানুষ ছিলেন। দলাদলী, রেষারেষি থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখতেন। একটি ছোটকাগজ বের করতেন নিজের সম্পাদনায়। বেহালা বাজাতেন। তাঁর গ্রামের শিশুদের মনোবিকাশের স্বার্থে সেখানে প্রতিষ্ঠা করেছিলেন একটি গানের স্কুল। নিজের বাড়ির পাশে বেড়া ও টিনে ছাউনি দেওয়া এই গানের স্কুল গড়ে তোলেন গত বছরে। সেখানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা মাত্র ১০ জন। এর মধ্যে ২ জন তাঁর নিজ গ্রাম দরগামাড়িয়ার বাকী আটজন পাশের গাঙপাড়া গ্রামের। এখানে প্রতি শুক্রবার বিকেল ৪ টা থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নজরুল রবীন্দ্র ও দেশাত্মবোধক গান শেখানো হতো।
গানের স্কুলের বিরোধিতা করে স্থানীয় ফোরকানিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক। রায়হানুই ইসলাম নামে আটক হওয়া এই শিক্ষক একটি জাতীয় পত্রিকার সংবাদদাতার কাছে এই স্কুলে যেতে শিক্ষার্থীদের বাধা দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশে আজ যে সাম্প্রদায়িকতা, মৌলবাদ, ধর্মান্ধতা, দুর্নীতি, অসততা, হানাহানি, হিংসা ইত্যাদির ভয়ানক উত্থান ঘটেছে তার জন্য প্রথমে দায়ী করতে হয় দেশে শুদ্ধ সংস্কৃতির চর্চার পথ রুদ্ধ হওয়াকে। রাজনীতি থেকে যেদিন সংস্কৃতি বিযুক্ত হয়েছে সেদিন থেকে রাজনীতি হয়ে উঠেছে অমানবিক, হিংস্র, নীতি ও আদর্শহীন। সমাজে শুদ্ধ সংস্কৃতিচর্চার অভাবের প্রভাব পড়েছে। আমাদের সমাজ দিনদিন অনগ্রসরতার দিকে ধাবিত হচ্ছে, অন্ধকার কুসংস্কার, নীতিহীনতা আদর্শহীনতা ও মিথ্যার দিকে ঝুঁকে পড়ছে। সমাজ বাসযোগ্যতা হারাচ্ছে। মানুষ হয়ে উঠছে হিংস্র, দানব, এককেন্দ্রিক ও স্বার্থপর। ভেঙে পড়ছে আমাদের চিরকালীন সামাজিক বন্ধনগুলো। মানবতাবোধ লোপ পেতে পেতে সমাজ এবং সমাজের লোকজন এখন এক একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপে পরিণত হয়েছে। একদিকে ধর্মের প্রভাব বৃদ্ধি পেয়েছে (সকল ধর্মের ক্ষেত্রে) অন্যদিকে সমাজে অত্যাচার, অসত্য, দুর্নীতি পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। লোপ পেয়ে গেছে লোকলজ্জা, চক্ষুলজ্জা। কৃতজ্ঞতাবোধ, সৌহার্দ্যবোধ, ভ্রাতৃত্ববোধ বলতে সমাজে এখন কিছু নেই। সমাজকে এই পথ থেকে ফেরাতে চেয়েছিলেন অধ্যাপক রেজাউল করিম। শিক্ষকতা করতেন একটি সর্বোচ্চ বিদ্যাপিঠে। কিন্তু স্কুল করে তুলেছিলেন নিজ গ্রামে, শিশুদের জন্য। তা-ও আবার সঙ্গীতের স্কুল। তিনি দেশের অন্যতম মৌলিক সমস্যাটিকে চিহ্নিত করতে পেরেছিলেন। তিনি ঠিকই বুঝেছিলেন সমাজ থেকে এই অন্ধকার দূর করতে হলে-তাঁকে আলো জ্বালাতে হবে, সে আলো জ্ঞানের আলো, সঙ্গীতের আলো, সংস্কৃতির আলো, মানবিকতার আলো। তিনি ঠিক কাজটিই করেছিলেন। তিনি মূলে হাত দিয়েছিলেন। আর সেই কারণেই তিনি টার্গেট হয়েছে।ন আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন এবং খুন হয়েছেন ওইসব শক্তির দ্বারা যারা সমাজকে অন্ধকারে রাখতে চায়, মানবসভ্যতাকে আদিযুগে ফিরিয়ে নিতে চায়। আর তাদের এই উদ্দেশ্য সাধনের জন্য প্রয়োজনে রক্তের বন্যা বইয়ে দিতে চায়। অধ্যাপক রেজাউল করিম একটি গানের স্কুল প্রতিষ্ঠা না করে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের আশেপাশে বা রাজশাহী শহরে যদিএকটি কোচিং সেন্টার খুলতেন তবে তাকে খুন হতে হতো না। তিনি যদি সে কোচিং সেন্টার থেকে পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁস করতেন তবে তাকে খুন হতে হতো না। কিংবা গ্রামে একটি সঙ্গীত শিক্ষার স্কুল প্রতিষ্ঠা না করে যদি একটি কিন্ডারগার্টেন ধরনের স্কুল, ইংরেজি মাধ্যম স্কুল প্রতিষ্ঠা করতেন তবে তাঁকে খুন হতে হতো না। অন্ধকারে যেমন তেলাপোকারা বেরিয়ে আসে। অন্ধকারে হঠাৎ আলো জ্বালালে তেলাপোকারা যেমন ছটফট করে তেমনি তাঁর নিজ গ্রাম দরগামাড়িয়ার অন্ধকারের প্রাণীরা অনেকে ভয় পায়। আলো তাদের সহ্য হয় না। তারা ছটফটিয়ে পালিয়ে যায়। তবে তারা তেলোপোকার মত নিরস্ত্র নয়। তারা হিংস্র, খুনী ও ভয়ানক। এই অন্ধকারের প্রাণীরা শুধু দরগামাড়িয়ায় নয় পুরো ছাপ্পান্ন হাজার বর্গমাইল জুড়ে সক্রিয়। অধ্যাপক রেজাউল করিমের অপরাধ তিনি সমাজে আলো জ্বালাতে চেয়েছিলেন আর আলোকে ভয় পায় যারা তারা অধ্যাপক রেজাউলের বাতিটি ভালো করে জ্বলে ওঠার আগেই তাঁকে খুন করেছে। অধ্যাপক রেজাউল করিমদের মতো লোকদের হত্যার পরিকল্পনা প্রথম নেওয়া হয়েছিল ১৯৭১ সালে আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়। যুদ্ধে যখন বাংলাদেশ নিশ্চিত জয়ের পথে সে সময় ডিসেম্বরে পাক হানাদার বাহিনী তাদের এ দেশীয় দোসর জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন তৎকালীন ইসলামী ছাত্র সংঘের মাধ্যমে গড়ে তোলা আলবদর বাহিনীর নেতৃত্বে দেশের প্রগতিশীল, মানবিক ও উদারনৈতিক বুদ্ধিজীবীদের হত্যার নীল নকশা চরিতার্থ করে। এর দীর্ঘ চারদশক পরে একই শক্তি এখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গড়ে ওঠা বিভিন্ন চরমপন্থিদের অর্থ ও অস্ত্রের সহযোগিতায় আবার বুদ্ধিজীবী ও মুক্তমনা ব্যক্তিদের হত্যার উৎসবে মেতেছে। শুধু তাই নয় এই সাথে তারা ধর্মীয়, গোষ্ঠীগত সংখ্যালঘু ও ভিন্নমতাবলম্বীদের লক্ষ করে একের পর এক আক্রমণ-গুপ্তহত্যা শুরু করেছে। এর মাধ্যমে তারা দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরিরও পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ১৯৭১ সালে শুধু পাকিস্তানি হানাদারদের সহযোগিতা পেলেও এবারের পরিকল্পনায় তারা আন্তর্জাতিক জঙ্গি গোষ্ঠী আইএস ও আল কায়েদার মতাদর্শের প্রচারকে কাজে লাগাচ্ছে। বিভিন্ন নামে ও সংগঠনে পরিচিত হলেও তারা আদর্শগত দিক থেকে একাত্তরের অবস্থানেই আছে। এবং এরাই বিভিন্ন বিবৃতি ও কাজের মাধ্যমে আইএস ও আল কায়েদার আদর্শকে তুলে ধরার চেষ্টা করে। গত ১৪ মাসে এই জঙ্গি গোষ্ঠী ৩৪টি হামলা পরিচালনা করেছে। এসব হামলায় নিহত হয়েছেন ৩৫জন। আহত ব্যক্তির সংখ্যা অন্তত ১২৯। এসব ঘটনার মধ্যে ১৫টির দায়স্বীকার করেছে মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক জঙ্গি সংগঠন আইএস আর ৮টির ‘দায় স্বীকার’ করেছে আল কায়েদার ভারতীয় উপমহাদেশের কথিত বাংলাদেশ শাখা আনসার-অব ইসলাম। পুলিশের ভাষ্যমতে আইএসের নামে দেশীয় সংগঠন জামায়াতুল মুজাহিদিন বাংলাদেশ (জেএমবি)র একটি অংশ এসব হামলা ও গুপ্ত হত্যা পরিচালনা করছে। আর আল কায়েদার নামে ঘটনাগুলোতে জড়িত আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা আনসার আল ইসলাম। এই গোষ্ঠী সর্বশেষ গত সোমবার রাজধানীতে দিনে-দুপুরে ঘরে ঢুকে কুপিয়ে আলহাজ্ব মান্নান ও মাহবুব তনয় হত্যার ‘দায় স্বীকার’ করেছে। লেখক অভিজিৎ রায়কে হত্যার মধ্য দিয়ে আলোচনায় আসা আনসারুল্লাহ বাংলা টিম বা আনসার আল ইসলাম একে একে হত্যার ‘দায় স্বীকার’ করে ব্লগার ওয়াশিকুর রহমান, অনন্ত বিজয় দাস, নীলদ্রী চট্টোপাধ্যায়, প্রকাশক ফয়সল দীপন, জগন্নাত বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নাজিম এবং সর্বশেষ জুলহাস ও তনয় হত্যার।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের পর বিভিন্ন বক্তৃতা ও সাক্ষাৎকারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেছেন, জঙ্গি তৎপরতা দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের অংশ। আইএসের নামে জঙ্গিরা এদেশে এসেছিল দু’একবার। কিন্তু তারা ঘাঁটি গড়তে পারেনি। এদের বিরুদ্ধে সরকারের অবস্থান কঠোর। হয় তারা গ্রেপ্তার হবে নয় দেশ থেকে পালাতে হবে। বাংলাদেশে কোনো জঙ্গি থাকতে পারবে না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন একটি জাতীয় পত্রিকার সাথে সাক্ষাৎকারে।
সেখানে তিনি বলেন, ‘অস্বীকার করার উপায় নেই যে অপরাধীরা যেসব প্রযুক্তি ব্যবহার করে সে তুলনায় পুলিশের ঘাটতি রয়েছে, দক্ষতার অভাব রয়েছে। আমরা প্রশিক্ষণের জন্য তাদের বিভিন্ন স্থানে পাঠাচ্ছি। অভিজ্ঞদেরও এসব কাজে লাগাচ্ছি। পুলিশ এখন অনেক তৎপর।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একই সাথে এসব ঘটনার ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ বের করে ফেলেছেন বলে দাবি করেছেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একদিকে বলেছেন জঙ্গিদের তুলনায় প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগতভাবে পুলিশ দুর্বল আবার অন্যদিকে বলছেন এসবের মধ্যে ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ঘটনা বের করে ফেলেছেন। যদি তাই হয় তাহলে তা দৃশ্যমান হচ্ছে না কেন। ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ঘটনার কী বের হয়েছে। এর সাথে কারা বা কোন ব্যক্তি ও সংগঠন জড়িত এবং তাদের বর্তমানে কী অবস্থা তা জনগণ জানতে পারছে না কেন? তবে একটি কথা মানতে হবে এসব ক্ষেত্রে সরকারের দোদুল্যমনতা, পুলিশের গাফিলতি কিংবা সীমাবদ্ধতা এবং বিচার না হওয়া ইত্যাদি কারণে জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। সে সাথে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।
বাংলাদেশে এসব জঙ্গি তৎপরতা নিয়ে কিছু কিছু আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণ ও প্রচার মাধ্যমেরও ভূমিকা বেশ রহস্যজনক। বাংলাদেশ সরকার কৌশলগত কারণে কিংবা বাস্তবতার নীরিক্ষণে যতবার বলার চেষ্টা করেছে যে, দেশে আইএসের মতো আন্তর্জাতিক জঙ্গিগোষ্ঠীর অস্তিত্ব বা আস্তানা নেই ততবার বিভিন্ন সংস্থা প্রমাণ করার চেষ্টা করে দেশে আইএসের অস্তিত্ব আছে। লক্ষ করার বিষয় যে বাংলাদেশে ঘটনা ঘটার কিছুক্ষণের মধ্যে সাইট ইন্টেলিজেন্ট গ্রুপ নামের একটি প্রতিষ্ঠান দাবি করে যে, এই ঘটনার সাথে আইএস জড়িত। বাংলাদেশে জঙ্গি-তৎপরতার সাথে সাথে আইএসের মতো একটি ভয়ংকর জঙ্গিগোষ্ঠীকে জড়িত করার লক্ষ বা উদ্দেশ্য নিয়ে এদেশের অনেকের সন্দেহ আছে। অর্থাৎ ‘বাংলাদেশে আইএসের ঘাঁটি বা অস্তিত্ব আছে’ এমন অজুহাত তুলে তৃতীয় কোনো দেশ কি বিশেষ কোনো লক্ষ বা উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে চায়। ইরাক, আফগানিস্তান ও লিবিয়ার পর কি বাংলাদেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযান পরিচালনা করতে চায় কোনো কোনো শক্তিধর রাষ্ট্র।
সন্দেহ বা আশঙ্কাটি অমূলক নয়। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের সামাজিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক অর্জনও অবস্থানের বিপরীতে বিশ্ব রাজনীতির মেরুকরণ লক্ষ করলে বিষয়টি পাকিষ্কার হতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশে একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার। রায় কার্যকর, জঙ্গিবাদবিরোধী সরকারের কঠোর অবস্থান সবকিছু মিলিয়ে বাংলাদেশ এক নাজুক সময় অতিক্রম করছে। সরকারের কিছু কিছু সিদ্ধান্তের কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্কের ওঠা-নামা। সরকারের পূর্ব বিশ্ব নীতি। রাশিয়া, চীন, জাপানের সাথে সম্পর্কন্নোয়নে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কিছুটা নাখোশ হওয়া ইত্যাদি ঘটনা তো আছেই। বিষয়টি এখন এমন পর্যায়ে গেছে বলে মনে হয়, দেশে এমন অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি করে আইএসের অস্তিত্বের ছুঁতো ধরে কোনো রাষ্ট্র দেশকে ইরাক-আফগানিস্তান-লিবিয়া বানাতে চায়। আর সরকার বারবার অস্বীকার করে তা প্রতিহত করতে চায়।
কিন্তু সমস্যা হলো আমাদের সাধারণ জনগণের। সরকার আইএসের অস্তিত্ব স্বীকার না-ই করুক। কিন্তু ঘটনা যারাই ঘটাক তাদের প্রতিহত করার। বিচার করার উদ্যোগ দ্রুত করছে না কেন? সরকার যদি বোঝাতে চায় আইএসের অস্তিত্ব স্বীকার করে নিলে আন্তর্জাতিকভাবে বেশ চাপে পড়বে দেশ। তাহলে এইসব ঘটনা রোধে তৎপর হচ্ছে না কেন সরকার। পুলিশের আইজি বলেছেন, প্রতিটি ব্যক্তির নিরাপত্তা দেওয়া একটি রাষ্ট্রের পক্ষে সম্ভব নয়। আমরাও মেনে নিচ্ছি সে কথা। জানি তা সম্ভব নয়। বিশ্বের কোথাও তা নেই। কিন্তু একটি সভ্য, আধুনিক শান্তিবাদী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সফল রাষ্ট্র যা করে তা হলো দোষীদের দ্রুত শনাক্ত ও বিচার করা। এবং তা দৃষ্টান্তমূলক। একটি সমাজে যখন ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়। প্রতিটি অপরাধের বিচারের নিশ্চয়তা যখন প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সে সমাজে অপরাধ হ্রাস পায়। বিচারহীনতার সংস্কৃতির দেশে, বিলম্বিত বিচারের দেশে কিংবা বিচারের নামে প্রহসনের দেশে অপরাধীরা নিশ্চিন্তে অপরাধ করার সাহস পায়। প্রেরণা পায়।
বাংলাদেশকে বিচারহীনতার পথ পরিহার করে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় মনোযোগী হতে হবে। এবং সে সাথে জঙ্গিবাদ, সাম্প্রদায়িকতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও মানবিক সমাজ প্রতিষ্ঠার সর্বক্ষেত্রে অকপট, স্বচ্ছ ও ন্যায়ানুগ হতে হবে। নতুবা এ পরিস্থিতি চলতেই থাকবে।

সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধান করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান কক্সবাজার রেড জোন,শনিবার থেকে আবারো লকডাউন এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।