সামাজিক পরিবর্তনের পদধ্বনি শিক্ষায় দুর্ভাবনার কাহিনি- খন রঞ্জন রায়,লেখক ও সংগঠক

পোস্ট করা হয়েছে 19/04/2016-08:09am:    গেল কিছুদিন থেকে সামাজিক পরিস্থিতি আর পিপলস্ সেন্টিেেন্টর দিকে একটু খেয়াল করলে দেখা যায় একটা বিষয় ক্রমেই পরিষ্কার হয়ে উঠছে, তা হলো সামাজিক সচেতনতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। বাস্তবতার নিরিখেই সব চাইতে সম্ভাব্য এবং যুক্তিগ্রাহ্য সমাধান হচ্ছে-একটি সামাজিক পরিবর্তন বা সামাজিক বিপ্লব। বিপ্লবের মূল লক্ষ্য হলো বিশ্বাস ও আদর্শের ভিত্তিতে সমাজকে গড়ে তোলা। ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানসমূহ যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে এবং যে সামষ্টিক ভাবধারায় উদ্বুদ্ধ তাকে সম্পূর্ণ ভিন্নতরভাবে গঠন ও পরিচালনা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। রাষ্ট্রকেই সমাজের লোকদের জীবন-মান-সম্মান-সম্ভ্রম ও ধন-মালের নিশ্চয়তা বিধান করতে হয়। পারস্পরিক বিবাদ-বিসম্বাদের সুষ্ঠু মীমাংসা ও ন্যায়বিচার প্রাপ্তির নিশ্চয়তা বিধানের জন্য প্রশাসনিক প্রভাবমুক্ত একটি নিরপেক্ষ ব্যবস্থা গঠন করতে হয়। জনগণের বৈষয়িক জীবনের সুষ্ঠুতার জন্য একটি অর্থ ব্যবস্থা চালু করতে হয়, যার দ্বারা প্রতিটি নাগরিক অর্থনৈতিক নিরাপত্তা লাভ করবে এবং জীবিকা উপার্জনের জন্য চেষ্টা-প্রচেষ্টা চালাতে পারবে সকল প্রবঞ্চনা ও শোষণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত থেকে। সমাজের লোকদের প্রতিভা স্ফুরণ ও বিকাশ সাধনের জন্য ভদ্র, শিষ্ট, মানবিক জীবন যাপনের যোগ্য বানানোর জন্য এবং ভবিষ্যৎ বংশধরদের উন্নতমানে গড়ে তোলার জন্য একটি কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ও সাংস্কৃতিক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ও চালু রাখতে হয়। এ সবই একটি সমাজের পূর্ণত্বের জন্য অপরিহার্য অনুসঙ্গ।
ইতিহাস তার আদি অবস্থান হতে নানা রূপ রূপান্তরের মধ্য দিয়ে ক্রমাগত ধাবমান। জ্ঞান বিজ্ঞানের প্রসার ইতিহাসের যুগান্তর ঘটিয়েছে। ঐতিহাসিক এই প্রগতির পথে মানব সমাজেও পরিবর্তনের নানা দোলা এসে লেগেছে। সামাজিক এই অনুবর্তন কিন্তু খুব সহজভাবে আসেনি। এর পেছনে রয়েছে গ্রহণ ও বর্জনের নানা ছন্দময় ঘটনা। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে হিটলারের পরাজয়ের পর জার্মানি ছিল আক্ষরিক অর্থেই একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত দেশ। ভৌগোলিকভাবে দুটুকরো হয়ে যায় জার্মানি। সোভিয়েত সমাজতান্ত্রিক শিবিরে থাকে পূর্ব জার্মানি জার্মান ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক বা জিডিআর। পশ্চিম-ফেডারেল রিপাবলিক অব জার্মানি থাকে পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক দেশগুলোর সঙ্গে। কিন্তু দেশটির আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক অবস্থা ছিল সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত। সেই বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে শিক্ষা ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানো হয়। মাধ্যমিক শিক্ষা সমাপনের পরই বাধ্যতামূলকভাবে ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি করার সুযোগ সৃষ্টি করা হয়। ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীর প্রকৃত অর্থে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট কর্মক্ষম হয়। মিত্র শক্তির বোমার আঘাতে ধ্বংসপ্রাপ্ত শিল্প কারখানাগুলো স্বল্প সময়ের মধ্যে সচল হয়। আমদানী নির্ভর জাতির পরিবর্তে রপ্তানীমুখী জাতিতে পরিণত হয়। জার্মানি ভাষায় বেকার শব্দ নির্বাসনে যায়। জাতীয় ডিপ্লোমা শিক্ষা বোর্ড তৃণমূলে পেশা ও পণ্যভিত্তিক ডিপ্লোমা শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে। অধিক জনসংখ্যার দেশ জার্মানের জনমানুষ অভিশাপ না হয়ে আর্শীবাদে পরিণত হয়। ডিপ্লোমা শিক্ষায় শিল্প বিপ্লব, সংস্কৃতিক বিপ্লব, অর্থনৈতিক বিপ্লব, সামাজিক বিপ্লব, রাজনৈতিক বিপ্লবকে ফলপ্রসু করে শিক্ষাকে সামাজিক অগ্রগতির প্রদান শক্তি হিসাবে গণ্য করা হয়। স্বাধীন বাংলাদেশে একটি আধুনিক যুপোপযোগী ও প্রযুক্তিমুখী শিক্ষা ব্যবস্থার স্বপ্ন সকলেই লালন করছিল। প্রথম থেকেই স্বাধীন বাংলাদেশে পথ হারায় গোটা শিক্ষা ব্যবস্থা। তাকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার আন্তরিক কোন চেষ্টাই কখনও লক্ষ্য করা যায়নি। শিক্ষার নামে গত সাড়ে চার দশকে চালু করা নানা কিসিমের ব্যবস্থায় শুধু ধনী ও ক্ষমতাবানদের সন্তানদেরই শিক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। চরম বৈষম্যমূলক এক শিক্ষা ব্যবস্থা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের ঘাড়ে। বৈষম্যমূলক কর্মপ্রাপ্তির নির্ভরশীল ডিপ্লোমা শিক্ষা ব্যবস্থা দিনে দিনে আরও প্রকট আকার ধারণ করেছে। শিক্ষা যদি মানবিকতা ও দক্ষতা বিকাশের সোপান বলে স্বীকৃত, তবে স্বীকার করা উচিত আমরা আছি তা থেকে যোজন যোজন দূরে। কথাটি তিক্ত, কারও কারও কাছে অগ্রহণযোগ্য, বিশেষত গলাবাজি আর তোষামোদিতে ওস্তাদ যারা তাদের কাছে; কিন্তু নিষ্ঠুর সত্য। আমরা না পেরেছি শিক্ষার মাধ্যমে মানবিকতার বিকাশ ঘটাতে, না পেরেছি দক্ষ জনসম্পদ তৈরি করতে। চোখ বন্ধ করলে প্রলয় বন্ধ হয় না। উচ্চ শিক্ষা নিয়ে সাম্প্রতিক গবেষণার ফল তাই বলে। øাতকোত্তর ৬০ শতাংশ শিক্ষিত বেকার জীবন যাপন করে। অথচ বাংলাদেশে এখন সবচেয়ে দামি পণ্য হলো শিক্ষা। মৌলিক অধিকার থেকে নাগরিকরা বঞ্চিত। দেশের সাধারণ মানুষের জন্য চালু করা হয়েছে এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা, যা কোনো শিশুকে না নৈতিকতা শেখায়, না তাদের দক্ষ জনসম্পদে রূপান্তরিত করে। দেশপ্রেমিক না করে এই শিক্ষা তাদের গড়ে তোলে দেশবৈরী এমন এক শ্রেণী হিসেবে, যারা লুটপাটের মাধ্যমে ধনী হওয়ার স্বপ্ন দেখে এবং সে স্বপ্ন বাস্তবায়নে সামাজিক অস্থিরতা সৃষ্টিতে সহায়ক সকল ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়। ব্রিটিশ বাংলায় প্রচলিত সনাতন শিক্ষা ব্যবস্থাকে ভেঙে ফেলে পুননির্মাণের কোনো প্রচেষ্টাই গ্রহণ করা হয়নি। একটি আধুনিক রাষ্ট্র হিসেবে বিকাশের জন্য শ্রেণী বৈষম্য সৃষ্টিকারী শিক্ষা ব্যবস্থা কখনোই সহায়ক হতে পারে না। শিক্ষা নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে জোর আলোচনা চলছে। ঠিক এ মুহুর্তে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আছে শিক্ষকদের সুবিধার বিষয়টি। প্রতিদিনই দেশের কোন না কোন স্থানে সভা, সেমিনার, সেম্পুজিয়াম সম্মেলন আয়োজন করা হচ্ছে। কিভাবে শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে জনসম্পদের মাধ্যমে দেশকে সমৃৃদ্ধ করা যায়। আমরা ১৯৫২ সালে ভাষার জন্য জীবন দিয়েছি। ১৯৭১ এ বুকের তাজা রক্ত দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ গড়েছি। তবে কেনো আমরা আজ সোনার বাংলাদেশ গড়তে পারবো না? অবশ্যই পারবো, আমরাই পারবো, আমাদেরকে এটা পারতেই হবে। একটি নতুন উন্নত বাংলাদেশ আমাদেরকেই গড়তে হবে পরবর্তী প্রজন্মের জন্য। এজন্য দরকার সমন্বিত প্রযুক্তি কল্যাণমুখী কর্মপ্রাপ্তির শিক্ষা। ব্রিটিশ পাকিস্তানীদের স্বার্থে গড়া শিক্ষা ব্যবস্থার বিরুদ্ধে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। প্রতিষ্ঠা করতে হবে বিভাগভিত্তিক ডিপ্লোমা শিক্ষা পরিচালন প্রতিষ্ঠান। আর তা সম্ভব হলেই শিক্ষার্থীরা সম্পদে পরিণত হবে। সম্পদসুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আমরা আমাদের কাক্সিক্ষত লক্ষ্য, উন্নতির শীর্ষ শিখর হাতছানি দিবে।

সর্বশেষ সংবাদ
এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।  তথ‌্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি মহোদয়ের শুভ জন্মদিন আজ করোনায় পোশাক কারখানায় ৫৫ শতাংশ কাজ কমে গেছে: রুবানা হক