এই ছাত্রলীগ লইয়া আমরা কী করিব --কামরুল হাসান বাদল-কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 31/03/2016-02:47pm:    ঘর থেকে বেরিয়েই মহা হাঙ্গামার মধ্যে পড়ে গেলাম। সড়কে কোনো গাড়ি নেই। মানুষ দলে দলে হাঁটছে। অফিস ও স্কুল-কলেজের ছুটির সময়। সবার চেহারায় উৎকণ্ঠা আর আতঙ্কের ছাপ। দু’একজন সাংবাদিককে দেখলাম বেশ দ্রুত গতিতে সিটি কর্পোরেশন ভবনের দিকে যাচ্ছেন। অনেকে মোবাইলে আত্মীয়-পরিজনের খবরাখবর নিচ্ছেন। অনেকের সন্তান বিভিন্ন স্কুল বা কোচিং সেন্টারে আটকা পড়ছে বলে দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও নিরাপত্তাহীনবোধ করছেন। আসলে ঘটনা কী তা জানার চেষ্টা করে পথচারী অনেককে থামিয়ে দিচ্ছেন। মোমিন রোড পেরিয়ে জামালখান সড়কের কাছাকাছি গেছি। চেরাগি পাহাড়ের পূর্ব পাশে দেখলাম জ্বালিয়ে দেওয়া টায়ারটা তখনও জ্বলছে। একজন ফটো সাংবাদিক বসে জুৎসই একটি ছবি নেওয়ার চেষ্টা করছেন। তা দেখে হয়ত তিনটি মোটর সাইকেল এসে দাঁড়ালো পাশে। দু’জন করে ছয় জন আরোহী ফটো সাংবাদিকের সাথে সাথে চারপাশে দাঁড়িয়ে থাকা, ছুটে চলা ও দোকানদারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করছেন। অনূর্ধ্ব বিশ বছরের এই তরুণদের চোখে-মুখে হিরো হিরো ভাব। যেন কোনো মারদাঙ্গা ছবির শ্যুটিংয়ে অংশ নিচ্ছেন তারা। পাশ কাটিয়ে একটু সামনে যেতেই স্লোগানের শব্দ পেলাম। সাথে সাথে দোকানের শার্টার বন্ধ করার শব্দও। দেখলাম একটি ছোটখাটো মিছিল। মিছিলে অংশগ্রহণকারী সবাই সদ্য কৈশোরত্তীর্ণ। অধিকাংশের হাতে লাঠি। মুখে স্লোগান। জয় বাংলা এবং তার সাথে অন্য স্লোগানও। আমি একটু আহত হলাম। জয় বাংলা স্লোগান শুনে লোকে ভয় পাবে, দোকানদার ভয়ে তার দোকানের শার্টার টেনে দেবে এ দৃশ্য ও বাস্তবতা আমার জন্য সুখকর নয়। অফিসে যাচ্ছি। প্রেস ক্লাবের কাছাকাছি যেতে মাইকের শব্দ পেলাম। সেখানে চট্টগ্রামের ‘প্রগতিশীল গণ-সংগঠন সমূহে’র মানববন্ধন চলছে সোহাগী জাহান তনুর ধর্ষণ ও হত্যার বিচারের দাবিতে। সমাবেশের একটু দক্ষিণে ফুটপাতে কয়েকজন লোক উত্তেজিত ভঙ্গিতে কথা বলছে। তাদের মধ্যে একজনের গলা বেশ স্পষ্ট শোনা যাচ্ছে, তিনি চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় তার ক্ষোভ প্রকাশ করছেন- ‘আঁর গাড়ির কাঁচচান ভাঁই দিইয়্যি বাই। আঁর কী দোষ? আঁর গাড়ি কী গজ্জিল। তোরা তোরা মারামারি গরিবি। গাড়ি ভাঙ্গিবিদি আঁরার না? গাড়ি-ঘোড়া ব’ন গরি মাইনষেরে কষ্ট দেওয়র। হেন হেডাম থাইলি চিটাং কলজত যাইয়েরে তো শিবিরের উাপোয়া মারির না ফারছ।’ (আমার গাড়ির কাঁচ ভেঙে দিয়েছে ভাই। আমার কী দোষ? আমার গাড়ির কী (দোষ) করেছিল। তোরা নিজেদের মধ্যে মারামারি করবি। গাড়ি ভাঙবি আমাদের? গাড়ি-ঘোড়া বন্ধ করে মানুষকে কষ্ট দিচ্ছিস। এমন হিম্মত (বা যোগ্যতা) থাকলে চট্টগ্রাম কলেজে গিয়ে শিবিরের একটি ছেলেকে মারতে পারিস না) জটলা থেকে একজন এর প্রতিবাদ করে বলল- ‘চিটাং কলেজত এখন শিবির নাই বেয়াক ছাত্রলীগ।’ (চট্টগ্রাম কলেজে এখন শিবির নেই সব ছাত্রলীগ) এবার গলা আরেকটু চড়িয়ে পূর্বের ভদ্রলোক বললেনণ্ড ‘আরে বেডা এয়্যুন বেয়াক শিবির, এখন ছাত্রলীগ হই গেইয়্যি দে। ছাত্রলীগর পোয়া রাইত হইলি মহসিন কলেজর ঢাক’দিও ন’ হাঁডে।’ (আরে বেটা এরা সবাই শিবির। এখন ছাত্রলীগ হয়ে গেছে। ছাত্রলীগের ছেলেরা রাত্রে মহসিন কলেজের পাশ দিয়েও হাঁটে না)। আমার দেরি করা সাজে না। মানববন্ধনে একটু হলেও দেখা দিতে হবে। আমি মিশে গেলাম মানববন্ধনে।
গত বুধবার বিকেলের ঘটনা এগুলি। তার আগে একটি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কে হবেন তা নিয়ে বিভক্ত দু’দল ছাত্রের মারামারিতে প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয় ওয়াসা ক্যাম্পাসে প্রাণ হারায় ওই বিশ্ববিদ্যালয়েরই এক শিক্ষার্থী। মারামারিতে লিপ্ত সব ছাত্ররাই ছাত্রলীগেরই কর্মী। একটি পক্ষ নিহত ছাত্রটিকে মেয়র আ.জ.ম নাছিরের অনুসারী বলে দাবি করে তার হত্যাকাণ্ডের জন্য মহিউদ্দিন চৌধুরীর গ্রুপকে দায়ী করে। নিষ্ঠুর এই হত্যাকাণ্ডের পরপরই বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় নেমে পড়ে। তাদের বিক্ষোভের মুখে বন্ধ হয়ে যায় যান চলাচল। তারা কিছু গাড়ি ভাঙচুর করে। এ সময় দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় দ্রুত। মোটর বাইকে করে শত শত তরুণ নেমে আসে রাস্তায়। তারা মহিউদ্দিন গ্রুপের কর্মীদের খুঁজতে থাকে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ঘটনায় অচল হয়ে পড়ে নগরী। পরিবহন সংকটে হাজার হাজার অফিস ফেরত ও শিক্ষার্থী অভিভাবকদের মহা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।
ছাত্রলীগের বিক্ষুব্ধ কর্মীরা প্রিমিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসেও ভাংচুর চালায়। মূলত দুপুরের পর অর্থাৎ এক ছাত্রলীগ কর্মীর মৃত্যুর সংবাদের পর চট্টগ্রাম নগরী কার্যত অচল হয়ে পড়ে। এই পর্যন্ত পাওয়া তথ্যমতে বিরোধের কারণ গুরুতর কিছু নয়। একটি নবীনবরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি কে হবেন তা নিয়ে বিরোধ যা পক্ষান্তরে ক্যাম্পাসে অধিপত্য বিস্তারের চেষ্টাও বটে। এ কথাটি আর গোপনীয় নয় যে, চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতি দু’ধারায় বিভক্ত। মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক ও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আ.জ.ম নাছিরকে কেন্দ্র করে এই গ্রুপ পলিটিক্স পারিচালিত হয়। নগরীতে আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম ও নগরীর ইউনিট কমিটি পর্যন্ত এই দুই ধারায় বিভক্ত।
চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গ্রুপিং বেশ পুরনো। স্বাধীনতাপূর্ব ও স্বাধীনতা পরবর্তীকালেও নগর রাজনীতি দু’ধারায় বিভক্ত ছিল। একটি ছিল এম.এ আজিজ-এম.এ হান্নান গ্রুপ, অন্যটি জহুর আহমদ চৌধুরী-এম.এ মান্নান গ্রুপ। মহিউদ্দিন চৌধুরী ছিলেন জহুর আহমদ চৌধুরীর অনুসারী। এরপর ৭০ দশকের পর চট্টগ্রামের রাজনীতি পরিচালিত হয় মূলত দু’জনের নেতৃত্বে। আওয়ামী লীগ থেকে ছাত্রলীগ সব সংগঠনই মহিউদ্দিন গ্রুপ ও বাবু গ্রুপে বিভক্ত ছিল। আ.জ.ম নাছির ছিলেন সে সময় আখতারুজ্জামান বাবুর দক্ষিণ হস্ত। নগর রাজনীতি গত কয়েক বছর ধরে নানা বাঁক পরিবর্তন করে এখন মহিউদ্দিন-নাছির গ্রুপে এসে ঠেকেছে। মাঝখানে নুরুল ইসলাম বিএসসি. ডা. আফসারুল আমীন, সিডিএ’র আবদুচ ছালাম গ্রুপ পলিটিক্স করার চেষ্টা করেও তেমন সফল হননি। এরা এখন যার যার প্রয়োজনে দু’নেতার স্মরণাপন্ন হয়ে থাকেন।
ছাত্রলীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলে একটি সম্ভাবনাময় তরুণকে প্রাণ দিতে হলো যখন বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্র এবং এর অবিসংবাদিত নেতা শেখ হাসিনা একটি দুঃসময় অতিক্রম করছেন। বিগত কয়েক মাসের কিছু কিছু ঘটনা সরকার ও সরকার প্রধানকে ভীষণ নাজুক পরিস্থিতিতে নিক্ষেপ করেছে। দেশ-বিদেশের নানা প্রকার চাপ উপেক্ষা করে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা, আন্তর্জাতিক ও দেশি জঙ্গিবাদকে মোকাবেলা করার মতো বিষয়গুলো খুব সহজ নয়। বিশেষ করে বর্তমানে মানবতাবিরোধী অপরাধে যে দু’জনের চূড়ান্ত রায় হতে যাচ্ছে-মতিউর রহমান নিজামী ও মীর কাশেম আলী এ দু’জন খুব সাধারণ যুদ্ধাপরাধী নন। জামায়াতের দীর্ঘকালীন আমীর ও বিগত জামায়াত-বিএনপি সরকারের সময়ে নিজামী গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী ছিলেন।
অন্যদিকে মীর কাসেম আলী জামায়াতে ইসলামীর মূল অর্থ সংগ্রাহক। সাম্প্রদায়িক ও মৌলবাদী রাজনীতির কারণে আন্তর্জাতিক মহলে যোগাযোগও তার বেশ ভালো। তাছাড়াও দুজন শীর্ষ জামায়াত নেতার রক্ষায় তারা কোটি কোটি টাকা দিয়ে বিদেশে লবিস্ট নিয়োগ করেছে। ওদের বিচার রহিত কিংবা এই বিচার ভন্ডুল করতে স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত ভীষণ সক্রিয় এখন।
বিশ্বের কোনো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে টাকা চুরির ঘটনা ঘটলো এবারই প্রথম। বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে হ্যাকিং করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে প্রায় সাড়ে আট শত কোটি টাকা। এর মধ্যে পদত্যাগ করেছেন ব্যাংকের গভর্নর। পুরো বিষয় নিয়ে সরকার ভীষণ বিব্রতকর পরিস্থিতিতে আছে। সৎ, যোগ্য ও মুক্তিযুদ্ধের প্রতি অবিচল থাকায় আবুল মাল আবদুল মুহিতকে তিনি অর্থমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দিয়েছিলেন। যোগ্য, মেধাবী ও সৎ মানুষ হিসেবে ড. আতিউর রহমানকে তিনি নিয়োগ দিয়েছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে। আতিউর রহমানের ব্যক্তিগত সততা নিয়ে কারো প্রশ্ন না থাকলেও তার সময়ে এ ধরনের অনিয়মে সরকার বর্তমানে চাপে আছে। অন্যদিকে মীর কাসেমের আপিলের রায়ের আগে সৃষ্ট কিছু বিতর্কে সরকারের দুজন মন্ত্রীর প্রধান বিচারপতিকে নিয়ে কিছু মন্তব্যে দেশ জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। শেষমেশ উচ্চ আদালতের রায়ে এই দুই মন্ত্রী দোষী সাব্যস্ত হলে প্রত্যেককে ৫০,০০০ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে সাতদিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রায় একই সময়ে ঘটেছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রী সোহাগী জাহান তনুর ধর্ষণ ও হত্যাকান্ডের বিষয়টি যা দেশজুড়ে প্রচন্ড ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে। প্রতিদিন এর বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষের আন্দোলন তীব্র থেকে তীব্রতর হয়ে উঠছে। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে ২০১৩ সালের মতো আরেকটি গণজাগরণ বুঝি সৃষ্টি হওয়ার পথে।
আমি ভীষণ অবাক হই ছাত্রলীগের কর্মকান্ডে। দেশের এতসব ঘটনা কিছুই কি তাদের স্পর্শ করে না? তনু হত্যাকান্ড নিয়ে সারাদেশ বিক্ষোভে ফেটে পড়েছে কই সেখানে তো ছাত্রলীগের তেমন কোনো ভূমিকা নেই। দেশের শিক্ষার্থী ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এত এত সমস্যা সেসব নিয়ে ছাত্রলীগকে সক্রিয় হতে তো কখনো দেখা যায় না। তাদের মুখে তো কোনো সার্বজনীন স্লোগান নেই। পোষ্টার, প্ল্যাকার্ড নেই। আছে ‘অমুক ভাইয়ের ছবি সম্বলিত পোস্টার-প্ল্যাকার্ড। আর মুখে ‘অমুক’ ভাই এগিয়ে চলো আমরা আছি তোমার পিছে। ২০০৯ থেকে দেশ শাসনে শেখ হাসিনার সমস্ত অর্জনকে ম্লান করে দিচ্ছে ছাত্রলীগ নামের এই সংগঠনের কিছু নেতা-কর্মী। গত মঙ্গলবার বিকেলে জয় বাংলা স্লোগান শোনার পর পর যেভাবে সাধারণ মানুষ আতঙ্কিত হয়ে উঠেছেন। যেভাবে দোকানপাট সহসা বন্ধ করা হচ্ছিল তা দেখে আমি অপমানিত হয়েছি। বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির সৃষ্টির পেছনে যে স্লোগান ছিল জাদুমন্ত্রের মতো সে স্লোগান শুনে মানুষ তটস্থ হচ্ছে আতঙ্কিত হচ্ছে, এর চেয়ে লজ্জা আর গ্লানী কী হতে পারে। অপমান আর কী হতে পারে। ছাত্রলীগ নামের যে সংগঠনটির নাম জড়িয়ে আছে দেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে অত্যন্ত গৌরবের সাথে সে সংগঠনের কর্মীদের দেখে মানুষ ভয় পাবে তা দেখে ও ভেবে অপমানিতই হতে হয়। যে সংগঠনটির জন্ম দিয়েছেন স্বয়ং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। পাকিস্তানের দুঃশাসনকালে এ দেশের সকল প্রগতিশীল ও ন্যায় সঙ্গত আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছে যে সংগঠন তার এই দূরাবস্থা দেখে হতাশ হওয়া ছাড়া আর কোন উপায় নেই। আমার এই মূল্যায়ন শুধু মঙ্গলবারের ঘটনাটির জন্য নয়। বিগত অন্তত বিশ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি।
ছাত্রলীগ প্রায়ই সংবাদ শিরোনাম হয়ে আসে। তবে তার অধিকাংশই নেতিবাচক। চাঁদাবাজী, মারামারি হাইজ্যাক, টেন্ডারবাজী ইত্যাদি। মারামারি তা-ও আবার নিজেদের মধ্যে। ছাত্রলীগের হাতে ছাত্রলীগ খুন হওয়ার সংখ্যা বোধহয় অন্য সংগঠনের দ্বারা নিহতের বেশি হতে পারে। এক সময় ছাত্রলীগ করতেন বা এখন করলেও পরিচ্ছন্ন রাজনীতি করতে চান এমন অনেকের সাথে আমার পরিচয় আছে। ছাত্রলীগের নেতিবাচক কোনো কর্মকান্ডের পর তাদের অনেকেই আমাকে ব্যক্তিগতভাবে টেলিফোনে বা ফেসবুকের মেসেজ বক্সে কিছু লিখতে অনুরোধ করেন। আমি তাদের বেদনা বুঝতে পারি। তাদের প্রিয় এই সংগঠনের বিচ্যুতি, বিভ্রান্তি ও অপরাজনীতি নিয়ে তাদের হৃদয়ের রক্তক্ষরণের ব্যথা অনুভব করি। তাই মাঝে মধ্যে দুকলম লিখিও। যদিও জানি এসব লেখালেখিতে কিছুই অর্জিত হবে না। মৌলিক কোনো পরিবর্তন হবে না। কারণ ছাত্রলীগের আজকের যে সমস্যা তা আমাদের জাতীয় রাজনীতিরই প্রতিফলন।মূল রাজনীতি পরিশুদ্ধ হলে শাখা রাজনীতিও পরিশুদ্ধ হতে বাধ্য। ছাত্রলীগের রাজনীতি যদি শুধু ছাত্ররাই করতো। ওদের নেতা নির্বাচনের ভার যদি ওরাই করতে পারতো। টাকা দিয়ে যদি পদ বেচা-কেনা না হতো। আওয়ামীলীগের নেতারা যদি তাদের ওপর প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা না করতেন। স্থানীয় প্রভাবশালী আওয়ামী নেতারা যদি তাদের রাজনীতি ও ক্ষমতার জন্য তাদের ব্যবহার না করতেন। যদি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর ছাত্র সংসদ নির্বাচন নিয়মিত হতো। যদি কর্মীদের রাজনৈতিক ক্লাস দেওয়া হতো। যদি ‘অমুক’ ভাই রাজনীতি বন্ধ করা যেতো তাহলে ছাত্রলীগের রাজনীতি আপনা থেকেই শুদ্ধ হয়ে উঠত। এই সংগঠনটি ফিরে পেতো তার হারানো গৌরব আর মর্যাদা। যারা নিজেদের ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে প্রতিপত্তি বৃদ্ধি করতে বিশ্ববিদ্যালয়ে নিজেদের পদ ও লাভ বজায় রাখতে ছাত্রদের ব্যবহার করেন তারা পরিশুদ্ধ হলে ছাত্রলীগও পরিশুদ্ধ হতো। যে তরুণটি আজ হত্যাকান্ডের শিকার হলো এবং যারা এই হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তারা সবাই আমাদের নষ্ট, ভ্রস্ট আর অপরাজনীতির বলি। এসব বন্ধ হওয়া দরকার।
শেখ হাসিনা আজ নিঃসঙ্গ শেরপার মতো একাই দেশকে পরিচালিত করছেন। সকল বাধা ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে বাংলাদেশকে টিকিয়ে রেখেছেন। আওয়ামীলীগ, ছাত্রলীগসহ তাদের বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের উচিত তাঁকে সহায়তা করা। তাঁকে যদি দলের কারণে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়তে হয় তবে তা হবে অত্যন্ত দুঃখজনক। সম্প্রতি ফরচুন তাদের নির্বাচনে বিশ্বের সেরা রাষ্ট্রনায়কদের তালিকায় শেখ হাসিনাকে দশ নম্বরে রেখেছে। বিশ্বের অনেক বাঘা বাঘা নেতাকে পেছনে ফেলে শেখ হাসিনা এই গৌরব অর্জন করেছেন। শেখ হাসিনার মূল্যায়ন যেভাবে বিদেশে হচ্ছে আমার মনে হয় তার মূল্য খোদ তাঁর দলই বুঝতে পারছে না।
Email: [email protected]

সর্বশেষ সংবাদ