সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা-কখনো কি সম্ভব -কামরুল হাসান বাদল-কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 18/02/2016-02:34pm:   
আধুনিক রাষ্ট্রভাবনা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা প্রায় সবটাই পশ্চিম থেকে ধার করা এটা স্বীকার করতে কোনো দ্বিধা থাকা বাঞ্ছনীয় নয়। রাষ্ট্রের সংজ্ঞা, রাষ্ট্রপরিচালনার নীতি, রাষ্ট্রের তিন অঙ্গ তথা-আইন, বিচার ও শাসন বিভাগ, মানবাধিকার, গণতন্ত্র এমন অনেক কিছুর সাথে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি ইত্যাদি। ভারত যখন বিভিন্ন রাজা-বাদশাহ কর্তৃক শাসিত হচ্ছিল তখনও পশ্চিমা বিশ্বে রাষ্ট্র পরিচালিত হচ্ছিল এবং কিছু কিছু রাষ্ট্র সুসংগঠিতভাবেই পরিচালিত হচ্ছিল।
আধুনিক রাষ্ট্র পরিচালনায় বিশ্বে সবচেয়ে জনপ্রিয় ও কার্যকর শাসন পদ্ধতি বলে স্বীকৃত যে গণতন্ত্র তা-ও পশ্চিমা দেশের অবদান। গণতন্ত্রের ধারণা, সংজ্ঞা ও তা চর্চার-শিক্ষাটি পশ্চিমা দেশ থেকে আহরিত। সেই গণতান্ত্রিক ও আধুনিক রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংবাদ মাধ্যমের (আগে সংবাদপত্র বলা হতো। এখন তার মাধ্যম বিস্তৃত হওয়ায় সংবাদমাধ্যম বলাই সঙ্গত) অবাধ স্বাধীনতার কথা স্বীকার করে বলা হয় গণতন্ত্র ও সমাজ বিকাশের স্বার্থে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা জরুরি। গণতন্ত্রের সূতিকাগার বলে খ্যাত ব্রিটিস পার্লামেন্টের গ্যালারিতে উপস্থিত সংবাদপত্রের প্রতিনিধিদের লক্ষ করে অ্যাডমন্ড বার্ক বলেছিলেন, ‘তারা এই রাষ্ট্রের ফোর্থ স্টেট।’ এই ফোর্থ স্টেট সম্পর্কে বলা হয়ে থাকে, ‘কদণ এমলর্রদ র্ণ্রর্টণ ধ্র টর্ ণরবর্ দর্ট ম্রের্ধধমভ্রর্ দণ রেণ্র্র ট্র ট তমলর্রদ ঠরটভডদ মত থমশণরভবণর্ভ টভঢ মভর্ দর্ট ধ্র ধবযমর্রটর্ভর্ ম ট তলভর্ডধমভধভথ ঢণবমডরটডহ’ অর্থাৎ আইন বিভাগ, বিচার বিভাগ ও শাসন বিভাগের বাইরে সংবাদ মাধ্যমকেও চতুর্থ অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে বিবেচনা করা হয়ে থাকে। এর অর্থ দাঁড়ালো একটি আধুনিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা অবশ্যই থাকতে হবে।
এখন প্রশ্ন হলো একটি আধুনিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আছে কি-না। এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজার আগে আগে জেনে নিই সংবাদ মাধ্যমের স্বাধীনতা কী এবং তা থাকা আদৌ সম্ভব কি-না। একটি সংবাদ মাধ্যম দুভাবে শাসিত হতে পারে। সব সময় সরকারই যে সংবাদ মাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন তা কিন্তু নয়। সংবাদ মাধ্যমের মালিক এবং কখনো কখনো কর্মরত সংবাদকর্মীরাও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ন্ত্রণ করে থাকেন। পশ্চিম যে রাষ্ট্রগুলো থেকে আমরা গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার তালিম নিয়েছি সেখানের অবস্থা কী? এই জায়গায় এসে কোনো জরিপের ফলাফল তুলে দিতে পারলে ভালো হতো কিন্তু তা-ও তাদের দেশের কোনো প্রতিষ্ঠানের হবে বলে দিতে ইচ্ছে হলো না। বরং সাম্প্রতিক কিছু উদাহরণ দিয়েই বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাই। আমরা বিশ্বের কিছু বাঘা বাঘা সংবাদ মাধ্যমের সাথে পরিচিত। যেমন বিবিসি, সিএনএন, দ্য নিউইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট, ইউ এস এ টুডে, রয়টার্স, এ এফপি, এপি, দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ, দ্য টাইমস ইত্যাদি। এ সংবাদমাধ্যমগুলো শুধু তাদের দেশেই নয় আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রেও এদের প্রভাব অপরিসীম। কিন্তু এরাও কি সবসময় নিরপেক্ষ ও স্বাধীনভাবে সংবাদ পরিবেশন করে থাকে? ইতিহাস বলে থাকেনি। আমরা স্নায়ুযুদ্ধের সময়কাল থেকে লক্ষ করে থাকব ন্যাটোজোটভুক্ত দেশগুলি ছিল ইঙ্গ-মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্বারা প্রভাবিত যা কার্যত পুঁজিবাদী সমাজব্যবস্থার ঘোরতর সমর্থক। স্নায়ুযুদ্ধকালে এসব সংবাদমাধ্যমের অন্যতম কাজই ছিল তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন, পূর্ব ইউরোপের সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র ও তাদের মিত্র রাষ্ট্রগুলোর বিরুদ্ধে নানা প্রকার অপপ্রচার করা। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙ্গে যাওয়ার পর ইঙ্গ-মার্কিন এইসব সংবাদমাধ্যমেরও চরিত্র বদল হয়। মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক মার্কিন নীতির পক্ষান্তরে যা যুদ্ধনীতি, তার অন্ধ সমর্থক হয়ে ওঠা। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক অন্যায়ভাবে ইরান ও ইরাকের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে নির্লজ্জভাবে সমর্থন করে গেছে পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো ‘ইরাকে পারমানবিক ও রাসায়নিক অস্ত্রের অস্তিত্ব ও মজুদ আছে’ এই অজুহাতে বছরের পর বছর সেদেশে অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য অবরোধ আরোপ করে কয়েককোটি নিরপরাধ ইরাকবাসীর জীবন দুর্বিষহ করেছে। এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে শিশুখাদ্যের অভাবে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যুও হয়েছে ইরাকে। শেষ পর্যন্ত যে মিথ্যা অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরাক আক্রমণ করে। ইরাকের প্রেসিডেন্ট সাদ্দাম হোসেনকে বিচারের নামে প্রহসন করে হত্যা করে। একটি অন্যায় ও অসম যুদ্ধ চাপিয়ে দিয়ে হাজার হাজার বছরের এই ঐতিহ্যময় দেশটিকে ধ্বংস করা হয়। পরবর্তীতে একই আচরণ করা হয় লিবিয়ায়। সেখানেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার নামে হত্যা করা হয় লিবিয়ার প্রেসিডেন্ট মোয়াম্মার গাদ্দাফিকে। সে দেশেও যুদ্ধ লাগিয়ে দিয়ে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে অন্যতম সমৃদ্ধ একটি দেশকে। সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটানোর লক্ষ্যে সিরিয়ায় বিদ্রোহীদের হাতে অর্থ ও অস্ত্র তুলে দিয়ে সেখানেও গৃহযুদ্ধ লাগিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই যুদ্ধের কারণে লাখ লাখ মানুষ উদ্বাস্ততে পরিণত হয়েছে। নারী-শিশুসহ অসহায় নিরপরাধ মানুষগুলো শুধু নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনাহার অর্ধাহারে প্রচণ্ড বৈরী আবহাওয়ায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশের সীমান্তে রাত কাটাচ্ছে। এইসব দেশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদেশ অর্থাৎ ন্যাটো যে অন্যায় অবিচার করেছে তার বিরুদ্ধে কি দুলাইন লিখেছে পশ্চিমা কোনো পত্রিকা? যুদ্ধের ভয়াবহতা, নৃশংসতার পাশাপাশি এই যুদ্ধ কার কারণে ও কাদের ইন্ধনে চলছে তা কি সাহস করে তুলে ধরতে পেরেছে কোনো টিভি মাধ্যম।
ইরাক যুদ্ধ ভুল ছিল বলে ব্রিটিশ সাবেক প্রধানমন্ত্রী ব্লেয়ারের স্বীকারোক্তির পর বিবিসি কি স্বীকার করেছে তাদের সংবাদ প্রচারে তারা নিরপেক্ষ থাকতে পারেনি? সিএনএন কি বুশের যুদ্ধরিতির সমালোচনা করতে পেরেছিল কখনো? ইরাক লিবিয়া এবং অধুনা সিরিয়ায় অন্যায় যুদ্ধের কারণে ওসব মিডিয়ায় কি কাউকে জবাবদিহির জন্য ডাকা হয়েছিল? বক্তব্য নেওয়া হয়েছিল? বর্তমানে মিডিয়ায় কী ঘটছে তার নিরপেক্ষ সংবাদ কি আমরা পাচ্ছি? ইঙ্গ-মার্কিন বার্তা সংস্থা ও বিভিন্ন টিভি চ্যানেল দাবি করছে একটি পরিষদের মাধ্যমে তারা সিরিয়ার যুদ্ধের খবরাখবর সংগ্রহ করে থাকে। এ নিয়ে যে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারে এর সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে। ইরাক-লিবিয়া আফগানিস্তানের পর সিরিয়ায় এসে ন্যাটো প্রথমবারের মতো চ্যালেঞ্জে পড়েছে রাশিয়ার হস্তক্ষেপে। সিরিয়ায় এই যুদ্ধ যুদ্ধ খেলায় জারিজুরী ফাঁস হয়ে গেল সেখানে রাশিয়ার নাক গলানোর কারণে। এখন পশ্চিমা গণমাধ্যমগুলো ফলাও করে প্রচার করে রাশিয়ার বিমান হামলায় কতজন বেসামরিক লোক মারা গেল তা নিয়ে।
এ বিষয়গুলো লিখলাম এ কারণে যে, যারা আমাদের গণতন্ত্র, মানবাধিকার, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদি বিষয়ে সবক দেয় তাদের নিজ দেশেও সংবাদমাধ্যম পুরোপুরি স্বাধীন নয়। এখন বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলি। বাংলাদেশে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা, স্বচ্ছতার প্রধান প্রতিপক্ষ হলো প্রথমে মালিক তারপরে সরকার। স্বাধীনতাপূর্ববর্তী কালে এ দেশে সংবাদপত্র বের করা হতো প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিকতা ও গণমানুষের কথা বলার প্রত্যয়ে। একটি লক্ষ ও আদর্শকে সামনে রেখে তখন সংবাদপত্র প্রকাশ করা হতো। তবে সে সময়ও কিছু কিছু সংবাদপত্র ছিল তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর পৃষ্ঠপোষকতায়। যেখানে ঘুরেফিরে সরকারের গুণগান করা হতো। ৬০ দশকে যখন মাওলানা ভাসানীর পৃষ্ঠপোষকতায় তফাজ্জল হোসেন মানিক মিঞা ইত্তেফাক বের করেন তখন পর্যন্ত এদেশের গণমানুষের পক্ষে বলার মতো তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো পত্রিকা ছিল না।
বঙ্গবন্ধু যখন ৬ দফা ঘোষণা করেন তখন তফাজ্জল হোসেন মানিক মিঞা সিদ্ধান্ত নিয়েই ৬ দফার পক্ষে জনমত সৃষ্টিতে ইত্তেফাককে কাজে লাগান। আজ থেকে ৫৬ বছর আগেও এ অঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন পত্রিকা দৈনিক আজাদী প্রকাশ করেছিলেন ইঞ্জিনিয়ার আবদুল খালেক। নিজের উপার্জিত অর্থ দিয়ে তিনি একটি প্রেস প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। সে প্রেস থেকে একটি পত্রিকা বের করেছিলেন। গড়ে তুলেছিলেন কোহিনূর লাইব্রেরি নামে একটি বইয়ের দোকান। কোনো বাণিজ্যিক বা লাভের উদ্দেশে ইঞ্জিনিয়ার খালেক বা ইত্তেফাকের মানিক মিঞা পত্রিকা বের করেননি। মানিক মিঞা নামকাওয়াস্তে সম্পাদক ছিলেন না। ইত্তেফাকে তার কলাম ‘রাজনৈতিক মঞ্চ’ ছিল সে সময়ে এক জনপ্রিয় কলাম। যেখানে তিনি প্রচন্ড সাহসের মাধ্যমে তাঁর ‘ক্ষুরধার’ বক্তব্য তুলে ধরতেন।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার প্রধান অন্তরায় এখন মালিক পক্ষ স্বয়ং বলেছি এ কারণে যে এখন আর মানিক মিঞা, ইঞ্জিনিয়ার খালেক সাহেবদের মতো কেউ সংবাদ মাধ্যমে এগিয়ে আসছেন না। অবশ্য এখন একটি পত্রিকা বা টিভি চ্যানেল করতে এবং তা চালু রাখতে যে পুঁজির প্রয়োজন তা সকলের পক্ষে সংগ্রহ করা সম্ভবও নয়। এখন যেহেতু অনেক পুঁজির দরকার সেহেতু এসব গণমাধ্যমের মালিক হচ্ছে পুঁজিপতিরা। যারা নিজেদের পুঁজির স্বার্থে কোনো প্রকার ঝুঁকি নিতে রাজি নন।
বরং বর্তমানে গণমাধ্যম ‘ব্যবসায়’ আসছেন এমন কিছু শিল্পপতি যাঁরা নিজেদের ‘ঝুঁকিমুক্ত’ রাখতে প্রয়োজনে, এই মাধ্যমকে ব্যবহার করে নিজের প্রভাব বৃদ্ধি করতে চান। কাজেই সংবাদ প্রচারে তাঁর নিজেরই একটি সেন্সরশিপ তিনি আরোপ করে রাখেন তাঁর মিডিয়ায়। বর্তমানে বাংলাদেশে খুব কম শীর্ষ শিল্পগ্রুপ আছে যাদের নিজস্ব কোনো পত্রিকা বা টেলিভিশন চ্যানেল নেই। এসব প্রতিষ্ঠানেও মানিক প্রথমে যেহেতু ব্যবসায়ী সেহেতু তাঁর ব্যবসায়িক স্বার্থে তিনি তার মিডিয়ার প্রভাব চাইবেন এবং প্রয়োজনে অন্যকে ঘায়েল করতে নিজের মিডিয়াকে ব্যবহার করবেন। এক্ষেত্রে তার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সাংবাদিকদের করণীয় কিছু থাকে না। অর্থাৎ বর্তমানে একটি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতার প্রধান ও প্রথম অন্তরায় হয়ে ওঠেন প্রতিষ্ঠানের মালিকপক্ষই। এরপরে আসে সরকারের ভূমিকা। বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্র, যেখানে এখনো গণতন্ত্র পূর্ণ বিকাশ লাভ করেনি সেখানে গণমাধ্যমে সরকারি বিধি নিষেধ আরোপ করা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া বলেই গণ্যে হয়ে থাকে। এছাড়া বাংলাদেশের মতো মুসলিম রাষ্ট্র যেখানে ইসলামি মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদ বিকাশের প্রবল ঝুঁকি রয়েছে সেখানে গণ মাধ্যমের স্বাধীনতা ও জবাবদিহিতা আরও কঠিন হয়ে ওঠে। একটি বিষয় লক্ষ রাখা দরকার যে কোনো কিছুর স্বাধীনতার সাথে একটি দায়িত্ব ও মাত্রাবোধ জড়িত থাকে। স্বাধীনতা মানে যদি হয় স্ব+অধীনতা তাহলে মানতে হবে স্বাধীনতার অর্থ নিজের অধীনে নিজেকে রাখা। দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা গণমাধ্যমের স্বাধীনতার অন্যতম প্রধান শর্ত। একটি ভঙ্গুর, স্পর্শকাতর, রক্ষণশীল সমাজব্যবস্থায় কোন সংবাদ কতটুকু ও কীভাবে প্রকাশ করা উচিত তা একজন সংবাদকর্মী দায়িত্বশীলতা ও মাত্রাবোধের মাধ্যমে নির্ধারণ করবেন। স্বাধীনতার নামে ইচ্ছে করা কিংবা লেখা গ্রহণযোগ্য নয়। এক্ষেত্রে আমরা স্মরণ করতে পারি দৈনিক আমার দেশ পত্রিকা ও তার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের কথা। সংবাদপত্রের খবরাখবর যারা সামান্য হলেও রাখেন তারা নিশ্চয়ই স্বীকার করবেন যে, একটি পত্রিকার সম্পাদক হয়েও তিনি আমারদেশ পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় প্রকাশিত নিজের ছবিসহ যা লিখতেন তা সাংবাদিকতার কোনো প্রকার নীতিমালায় পড়ে কিনা। একটি সংবাদ বা মন্তব্য প্রতিবেদন প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ভাবতে হবে এই লেখা বা মন্তব্যের কারণে সমাজে কোনো প্রকার অশান্তি কিংবা উত্তেজনা সৃষ্টি হয় কিনা। সমাজের শান্তি বিঘ্নিত হয় কিনা। রাষ্ট্রেরর কোনো ক্ষতি হয় কিনা। যে কোনো একজনের বিরুদ্ধে মনগড়া কিছু একটা লিখে তারপরে প্রতিবাদ এলে তা গুরুত্বহীন যে কোনো পৃষ্ঠায়, যে কোনোভাবে ছাপানো কোনো সাংবাদিকতা নয়।
স্বাধীনতা এক প্রকার সীমাবদ্ধতাও আরোপ করে। এই সীমাবদ্ধতা আসলে দায়িত্বশীলতা, সততা ও নৈতিকতা। আপনি স্বাধীন বলে যা ইচ্ছে হলো তাতো করতে পারেন না। প্রথমেই আপনাকে মনে রাখতে হবে আপনার স্বাধীনতা যেনো কোনো প্রকারে অন্যের স্বাধীনতার ওপর হস্তক্ষেপ না করে। এ গেল ব্যক্তি স্বাধীনতার কথা। সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার অর্থ আরও ব্যাপক। গত সপ্তাহের কিস্তি শেষ করেছিলাম এমন একটি বিষয় নিয়ে। একজন সংবাদকর্মী কোনো ক্রমেই মনগড়া কিছু লিখতে পারেন না। এমনকি নিউজ করার সময়েও নিজের মতামত ব্যক্ত করতে পারেন না। তাঁকে যা করতে হয় তা হলো ঘটনার সাথে জড়িত, প্রত্যক্ষদর্শী বা আইনশৃংখলা রক্ষা বাহিনীর মুখ দিয়ে ঘটনার কারণ আদায় করে নেওয়া। আর যে ঘটনার সময় কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে কেউ অভিযোগ করলে একজন দায়িত্ববান সংবাদকর্মীর কাজ হবে অভিযুক্ত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কোনো মুখপাত্রের মতামত নেওয়া। যে কেউ অভিযোগ করুক অভিযুক্তের সাথে কথা না বলে তার নাম প্রকাশ করা কখনোই দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা হতে পারে না। এটি সাংবাদিকতার নীতিমালায় পড়ে না। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি বর্তমানে দেশের হাতে গোণা কয়েকটি সংবাদমাধ্যম ছাড়া এমন নীতি কেউ মেনে চলেন না। বরং এখন কিছু কিছু সংবাদপত্র, টিভিও ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা কিছু অনলাইন নিউজ এজেন্সি বা পোর্টালের কাজই হলো কারো নামে মিথ্যা সংবাদ পরিবেশনের ভয় দেখিয়ে টাকা হাতিয়ে নেওয়া। অধিকাংশ সাংবাদিক সৎ ও স্বচ্ছ জীবনযাপন করলেও মুষ্টিমেয় কিছু অসৎ ও ভণ্ড সাংবাদিকের কারণে, সাংবাদিক সমাজেরই দুর্নাম হয়। সাধারণ জনগণ বিভ্রান্ত হয়ে গড়পরতা সাংবাদিকদের গালাগাল করেন। এক আড্ডায় আমার পরিচিত এক ভদ্রলোক একদিন বলেই ফেললেন, ‘ভাই এদেশের পুলিশ আর সাংবাদিকদের ৫০ ভাগ সৎ হলেও দেশের এই অবস্থা হতো না।’ আমি প্রতিবাদ জানিয়ে বললাম ৫০ ভাগের চেয়ে অনেক বেশি সৎ মানুষ সাংবাদিকতায় আছেন। এবং এঁদের জন্যই এখনো দেশটি বাসযোগ্য আছে। বরং বলুন আজ দু’দশক ধরে সংবাদমাধ্যমই প্রকৃত বিরোধীদলের ভূমিকা পালন করে দেশকে সঠিক পথে রেখেছে। আর অসৎ যারা তাদের সমাজের সবাই চেনেন। আপনিও চেনেন।’ ভদ্রলোক চুপ করে রইলেন। এই অসৎ সাংবাদিকদের একটি সিন্ডিকেট আছে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতায় এরাও একটি বড় অন্তরায়। কারণ এদের দৌড়াত্মে অনেক বড় বড় অনিয়মের সংবাদ জনগণের কাছে প্রকাশ পায় না। এমনকি প্রতিষ্ঠানের সিনিয়র সাংবাদিকের হস্তক্ষেপেও অনেক সময় অনেক খবর হাওয়া হয়ে যায়। অসৎ ব্যবসায়ী ও ব্যক্তিদের সিন্ডিকেটের স্বার্থে সাংবাদিকদের অসৎ সিন্ডিকেট কখনো কোনো ‘নিউজ’ যেমন ‘কিল’ করেন তেমনি করে কিছু কিছু ‘নিউজ’ তৈরিও করেন। এ ক্ষেত্রে একটি নতুন মাত্রাও যোগ হয়েছে। সাংবাদিক সিন্ডিকেট চাঁদা দিতে দিতে এখন অনেকে নিজেরাই গণমাধ্যমের মালিক হয়ে যাচ্ছেন। এতে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এর একটি প্রতিফলন দেখতে পাওয়া যায় ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমে। সংবাদ প্রধান টিভির প্রভাব যেহেতু বেশি সেহেতু বেশিরভাগ মালিকরা তাই করতে চান। যে কারণে দেশে বিনোদননির্ভর টিভি চ্যানেলের সংখ্যা অত্যন্ত কম। সংবাদনির্ভর হলে প্রতিপক্ষের সাথে সাথে সরকারকেও চাপে রাখার একটি উপায় থাকে বলে। আমি গত সপ্তাহের কিস্তিতে লিখেছিলাম, এক সময় জনসেবার জন্য, মানবাধিকারের জন্য, আদর্শের জন্য সমাজের নিবেদিতপ্রাণ মানুষরা পত্রিকা বের করতেন। আর যেসব পত্রিকায় সাংবাদিক হিসেবে যাঁরা কাজ করতেন তারা পত্রিকাটিকে নিজেদের করে ভাবতেন। পত্রিকার সবাই একে অন্যকে পরিবারের সদস্য হিসেবে মনে করতেন। সম্মান ও সমীহের সম্পর্ক বজায় রেখে মালিক থেকে সম্পাদক, সম্পাদক থেকে অফিসের পিয়নের পর্যন্ত সম্পর্ক ছিল পরম হৃদ্যতাপূর্ণ। সাংবাদিকতা থেকে অবসর নেওয়ার কোনো নিয়ম, প্রথা বা বিধান কখনো ছিল না। যতদিন শরীর কুলিয়েছে ততদিন পত্রিকায় চাকরির সুযোগ পেতেন সাংবাদিকরা। এখনকার মতো বিজ্ঞাপনের এমন রমরমা অবস্থা ছিল না বলে অধিকাংশ পত্রিকায় থাকত আর্থিক অসচ্ছলতা। ওসব পত্রিকার সম্পাদক বা মালিক আর্থিক অসচ্ছলতা ভার সবার সাথে ভাগ করে নিতেন। বর্তমান সম্পাদকদের মতো বিলাসী জীবন যাপন করতেন না বলে সম্পাদকের সাথে সংবাদকর্মীদের মানসিক দূরত্বও বেশি ছিল না। এখন সময় বদলেছে। গণমাধ্যমে এসেছে করপোরেট পুঁজি, করপোরেট কালচার। এখন অধিকাংশ গণমাধ্যমের মালিকরা পুঁজিপতি। আর সম্পাদকরা উচ্চ বেতনের কর্মচারী। তাঁদের গাড়ি-বাড়ি আর আয়েসী জীবন। বর্তমান সময়ের সাথে তাল মেলাতে পারলে ভালো না পারলে আজ এই পত্রিকাতো কাল ওই পত্রিকা। আজ এই চ্যানেলতো-কাল অন্য চ্যানেল।
গণমাধ্যমের এই পরিবর্তনের যাঁতাকলে নিষ্পেষিত হয় কিছু নিরীহ ধরনের সাংবাদিক। বলা কওয়ার ছাড়া হঠাৎ একদিন বেকারের জীবন বেছে নিতে হয় তাদের। তৈরি পোশাক শিল্প কারখানার শ্রমিকদের দু’তিন মাসের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকলে তারা শহর অচল করে দিতে পারে, সে সংবাদ প্রচার করে যে সাংবাদিকরা তাদের বেতন-ভাতা বন্ধ থাকলে তাদের পক্ষে এমন সংগ্রাম করা সম্ভব হয় না। পূর্বের কিস্তিতে এই কথাটিই বলেছিলাম, আজাদী, ইত্তেফাক, সংবাদ এর মতো পত্রিকা যা একটি নির্দিষ্ট আদর্শ থেকে প্রকাশ করা হয়েছিল সে প্রবণতা এখন আর নেই। অনেকে সম্পাদক হওয়ার লক্ষে আসেন, অনেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সামাজিক প্রভাব বৃদ্ধি করতে আসেন। এদের ভীড়ে এখন প্রকৃত সম্পাদক, সাংবাদিক বিরল হয়ে উঠরেছন।
বাংলাদেশের বাস্তবতায় গণমাধ্যমের স্বাধীনতা আরও কঠিন। মনে রাখতে হবে এদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো পূর্ণ বিকাশ লাভ করেনি। স্বাধীনতার মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় একজন নির্বাচিত রাষ্ট্রপতি, যিনি জাতির জনক তাঁকে সপরিবারে হত্যা করার মাধ্যমে সামরিক শাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই সামরিক শাসন সুদীর্ঘ বছর টিকে থাকায় জনগণের মধ্যেও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ জাগ্রত হতে পারেনি। আর তা ছাড়া বাংলাদেশ একটি মুসলিম প্রধান দেশ হওয়ায় এবং বর্তমানে একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় থাকায় দেশ পরিচালনা করতে হচ্ছে অত্যন্ত সতকর্তার সাথে। বিশ্বের অধিকাংশ মুসলিম দেশে ধর্মী হানাহানি ও সাম্প্রদায়িক আচরণ বৃদ্ধি পাওয়ায় জন্ম নিচ্ছে বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠী। এ থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। বাংলাদেশ এই সময় জঙ্গিবাদ উত্থানের প্রবল ঝুঁকির মধ্যে আছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘ দিন পর স্বাধীনতা বিরোধী ও মানবতাবিরোধীদের বিচার প্রক্রিয়া। স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপির সহযোগিতায় রাষ্ট্রীয় আনুকূল্যে অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে অনেক বেশি শক্তিশালী। মানবতাবিরোধীদের বিচার ও রায় কার্যকর করাকে কেন্দ্র করে বিগত সাড়ে তিন বছর দেশে যে অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করেছে তারা তার জন্য দেশে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা হুমকির মধ্যে পড়েছে।
দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান ঠেকাতে, সন্ত্রাসীদের তাণ্ডব থেকে জনগণের জানমালের হেফাজতের লক্ষ্যে সরকার দিন দিন কঠোর হবে। কঠোর হতে গিয়ে ব্যবহার করবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে। আর তাতে দিন দিন সংকুচিত হবে মানুষের অধিকার। এ সময় সংবাদমাধ্যমকেও গঠনমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। এই একটি প্রসঙ্গে কেউ প্রশ্ন তুলতে পারেন, এ পরিস্থিতিতে সংবাদমাধ্যমের ভূমিকা কেমন হবে? উত্তরটা খুব সোজা। যে শক্তি গণতন্ত্রের ধার ধারে না, মানবাধিকারের ধার ধারে না, আইনশৃঙ্খলার ধার ধারে না, নিজেদের মতবাদ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে হাজার হাজার নিরপরাধ মানুষ খুন করতে পারে তাদের জন্য গণতন্ত্রের দরজা খুলে দেওয়া, তাদের মানবাধিকারের পক্ষে বলা কতটা যুক্তিযুক্ত। যারা ক্ষমতায় এলে গণতান্ত্রিক কোনো আচরণই করবে না, গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে তাদের ক্ষমতায় বসানো কতটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। এ ক্ষেত্রে সিদ্ধান্ত নিতে হবে গণমাধ্যমকেই। বাংলাদেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একদম নেই সে কথা আমি মানতে পারি না। অন্তত রাতের বেলা বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে টক শো দেখে এবং তাতে সরকারকে তুলোধূনো করার দৃশ্য দেখে আমার তা মনে হয় না। আমি বিভিন্ন টিভি চ্যানেলে দেখি আলোচনার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে এনে নাস্তানাবুদ করতে। মৌলবাদ-জঙ্গিবাদকে উস্কানি দেওয়ার মতো ঘটনা না ঘটলেও বক্তব্য না দিলে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো টিভি চ্যানেলকে চাপ দেওয়া হয়েছে বলে শুনিনি। আর সরকার, মন্ত্রী, সাংসদ ও সরকারদলীয় নেতা কর্মীদের দুর্নীতি বা নানা অপকর্মের কথাতো আমরা প্রতিদিনের সংবাদপত্রের পাতা থেকেই পাচ্ছি। আমার মনে হয় না পশ্চিমা দেশেও এর চেয়ে বেশি স্বাধীনতা ভোগ করে সংবাদমাধ্যম। সেটা কীভাবে তা পূর্বের কিস্তিতে বিশদ লিখেছিলাম। একটি রাষ্ট্রের মৌলিক ও মিমাংশিত বিষয় নিয়ে ধূম্রজাল ও বিভ্রান্তি সৃষ্টির পাঁয়তারা করলে সরকার সেখানে হস্তক্ষেপ করতে বাধ্য হয়। ইরাক বা লিবিয়ার পক্ষে, ইঙ্গ-মার্কিন কোনো সংবাদমাধ্যম কি কিছু লিখতে বা বলতে পারবে। সিরিয়ায় রাশিয়ার নীতি নিয়ে কি ইতিবাচক কিছু ন্যাটোজোটভুক্ত দেশের সংবাদমাধ্যম লিখতে পারবে? কাজেই সংবাদমাধ্যমেও স্বাধীনতা বলতে ব্যাপক যে অর্থটি বোঝানো হয় তা কখনো সম্ভব নয়। না বাংলাদেশে না বৃটেনে। বা অন্য কোথাও। রাশিয়া, চীন, উত্তর কোরিয়ায় কি সরকারি আদেশ ছাড়া কিছু প্রকাশ করা সম্ভব? আমেরিকা এতদিন মধ্যপ্রাচ্যে কী করেছে, আইএস সৃষ্টির পেছনে কোন রাষ্ট্রের প্রত্যক্ষ মদদ আছে তা কি মার্কিন সংবাদপত্র প্রকাশ করতে পারে? সে সব গণমাধ্যমতো প্যান্টাগনের কথামতোই বুলি আউড়ে যায়। রাশিয়ার বোমা নিক্ষেপে কতজন বেসামরিক মানুষ মারা গেল সে সংবাদই তারা ফলাও করে প্রচার করে। অন্যদিকে পুঁজি ও কৌশলের অভাবে রাশিয়া থেকে কোনো সংবাদ সাধারণ বিশ্ববাসী পর্যন্ত পৌঁছায় না। বর্তমানে পত্রিকা ও টিভি চ্যানেল পরিচালনার জন্য কোটি কোটি টাকার লগ্নি প্রয়োজন। এই বিপুল পরিমাণ লগ্নি খাটাতে পারে বৃহৎ করপোরেট হাউজগুলো। কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করে তারা কেন গণমানুষের প্রকৃত স্বার্থের কথা ভাববে নিজেদের লাভের কথা না ভেবে। অন্যদিকে এত বিপুল পুঁজি খাটানোর সামর্থ যেহেতু গণমানুষের নেই সেহেতু তাদের কোনো গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা সম্ভবও নয়। ফলে গণমানুষের পক্ষে প্রকৃত সত্য বলা এবং প্রকৃত স্বাধীন সংবাদমাধ্যম পাওয়া সোনার হরিণই থেকে যাবে।
Email: [email protected] LikeCommentShare

সর্বশেষ সংবাদ