বাংলাদেশের রাজনীতিতে কি হচ্ছে, কি হতে পারে--ফকির ইলিয়াস : কবি ও সাংবাদিক।

পোস্ট করা হয়েছে 12/02/2016-08:39pm:    যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ প্রতিনিধিঃ ----- সদ্য অবসরপ্রাপ্ত একজন বিচারপতির কর্মকাণ্ড নিয়ে আবার সরব মিডিয়া। তিনি নজরুল ইসলাম চৌধুরী। এই অবসরে যাওয়া বিচারপতি একজন যুদ্ধাপরাধী মীর কাশেম আলীর পক্ষে ওকালতি করতে কোর্টে গিয়েছিলেন। এ ধরনের কর্মকাণ্ডকে নৈতিকতাবিরোধী বলেছেন রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। শুনানিতে বিচারপতি নজরুলের উদ্দেশে প্রধান বিচারপতি বলেছেন, ‘সরকারী সুযোগ-সুবিধা নেয়া অবস্থায় অবসরপ্রাপ্ত ও বর্তমান বিচারপতিদের আদালতের প্রথা ও নিয়মকানুন মেনে চলা উচিত।’
অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরী মীর কাশেমের দ্বিতীয় দিনের আপিল শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের সপ্তম আপিলে অবসরপ্রাপ্ত কোন বিচারপতি অংশ নিলেন এই প্রথম। বিচারক হওয়ার আগে সুপ্রীমকোর্ট আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত প্যানেল থেকে নির্বাচন করে সমিতির সম্পাদকও হয়েছিলেন এই নজরুল ইসলাম চৌধুরী।
দেখা যাচ্ছে, এক এক করে অনেকের খোলসই চেরিয়ে পড়ছে। এর আগে দেশের একজন নামকরা সাংবাদিক মাহফুজ আনাম ওয়ান ইলেভেনের সময়ে তার মিডিয়ায় সংবাদ প্রকাশ সঠিক ছিল না বলে মন্তব্য করেছিলেন। এবিষয়ে কিছু কথা বলা দরকার। ওয়ান ইলেভেন বাংলাদেশকে জঙ্গীবাদ মুক্ত হতে সাহায্য করেছে। হাওয়া ভবনের ভুত সরানোর জন্য এর কোনো বিকল্প ছিল না। গণতন্ত্র না মুক্তিযুদ্ধের চেতনা- এই প্রশ্নে একটি কথাই সেসময় প্রশ্ন ছিল কাকে নিয়ে গণতন্ত্র? যারা এই দেশে গণহত্যা করেছিল- যারা মা-বোনের ইজ্জত হরণ করেছিল, তাদেরে সাথে নিয়ে গণতন্ত্র?
এই দেশে ওয়ান ইলেভেন এসেছিল বলেই, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার হচ্ছে। এই দেশে ওয়ান ইলেভেন এসেছিল বলেই গণজাগরণ মঞ্চ লাখো মানুষের প্লাটফর্ম হয়েছে। এই দেশে ওয়ান ইলেভেন এসেছিল বলেই, আজ কোটি তরুণ জানতে পারছে সঠিক ইতিহাস। এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর পুত্র ও তার উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় বলেছেন, ‘একটি প্রধান সংবাদপত্রের সম্পাদক সামরিক বিদ্রোহে উসকানি দিতে যে মিথ্যা সাজানো প্রচারণা চালায় তা রাষ্ট্রদ্রোহিতা। তিনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে দেয়া এক স্ট্যাটাসে এ দাবি জানান। জয় লিখেছেন, ‘মাহফুজ আনাম, দ্যা ডেইলি স্টার সম্পাদক, স্বীকার করেছেন যে তিনি আমার মা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি অপবাদ আরোপ করতেই তার বিরুদ্ধে মিথ্যা দুর্নীতির গল্প ছাপিয়েছিলেন। তিনি সামরিক স্বৈরশাসনের সমর্থনে আমার মাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিতে এই কাজ করেছিলেন।’
জয় ওই স্ট্যাটাসে লিখেছেন ‘১১ মাস তিনি জেলে কাটিয়েছেন। আমি বিচার চাই। আমি চাই মাহফুজ আনাম আটক হোক এবং তার রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিচার হোক।’
সাংবাদিক হিসেবে মাহফুজ আনামের দায়িত্ব পালনের কোনো অধিকার নেই জানিয়ে জয় লেখেন, ‘তিনি অব্যাহতভাবে রাজনীতিকদের বিরুদ্ধে তাদের অনৈতিকতা এবং দুর্নীতিগ্রস্ত হবার কথা লেখেন। তার নিজের স্বীকারোক্তি মতে তিনি নিজেই পুরোপুরি অনৈতিক এবং একজন মিথ্যাবাদী। তার অবশ্যই একজন সাংবাদিক হিসেবে থাকার কোনো অধিকার নাই, সম্পাদক তো অনেক দূরের বিষয়। তার কার্যক্রম দুর্নীতিকেও ছাড়িয়ে গিয়েছে; যা দেশপ্রেমহীন এবং বাংলাদেশ বিরোধী।’
মাহফুজ আনামের ‘মিথ্যা গল্পের উসকানি’ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করিয়েছে উল্লেখ করে জয় ওই স্ট্যাটাসে লিখেছেন ‘১১ মাস তিনি জেলে কাটিয়েছেন। আমি বিচার চাই। আমি চাই মাহফুজ আনাম আটক হোক এবং তার রাষ্ট্রদ্রোহিতার বিচার হোক।’ এসব নিয়ে বিষয়গুলো কোন দিকে যাচ্ছে- তা বুঝা মুশকিল। গুজব বেরিয়েছে, তারেক রহমান দেশে ফিরছেন! এসে তিনি আইনী মোকাবেলা করবেন। তা তিনি করতেই পারেন। এর ফল কি হতে পারে? খালেদা জিয়া কিংবা তারেক রহমান কে কি নির্বাচনে অনপযুক্ত করার মতো কোনো আইনী রায় হয়ে যেতে পারে?
বাংলাদেশের মানবিক-রাজনৈ‌তিক মূল্যবোধ একেবারেই তলানীতে। তা নতুন করে বলার কিছুই নাই। মৃত শিশুকে ভর্তি রেখে টাকা আদায় করছে হাসপাতাল! এর চেয়ে আর কত নীচে নামতে পারে একটি জাতির বিবেক! খুঁজলে দেখা যাবে ওসব ব্যবসায়ী হাসপাতালওয়ালাদের হাত অনেক লম্বা। রাজনীতির উচ্চস্তরে তাদের স্বজনরা বসে আছেন! দেশ চলছে। মানুষ পরিত্রাণ চাইছে। কিন্তু আইনি শাসন?
সাগর-রুনী হত্যা মামলার চারবছর চলে গেল। কথা ছিল ৪৮ ঘন্টার মাঝে খুনি বের হবে। কোথায় সেই খুনি? কেন পাওয়া গেল না? অভিজিৎ রায়ের খুনীরা কোথায়? তাকে হত্যার একবছর হয়ে গেল? ফয়সাল আরেফিন দীপনের পিতা কি মিথ্যা বলেছিলেন? অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হক বলেছিলেন- বিচার চাই না। তা নিয়ে কত রাজনীতি হলো। বলা হলো কেন চাইবেন না বিচার? খুনিদের কি বাঁচাতে চাইছেন ওই পিতা? আমরা জানতে চাই- সেসব রাজনীতিক এখন কোথায় ? কেন নিজেদের মুখ তারা রক্ষা করতে পারলেন না?
দেশের পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ বিস্তর। একজন চাওয়ালা বাবুলকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়েছে।পুলিশকে চাঁদা না দেয়ায় অগ্নিদগ্ধ হয়ে প্রাণ দিতে হলো তাকে। প্রকাশিত খবরে জানা যায়- মিরপুরের শাহ আলী থানা সংলগ্ন কিংশুক মাঠের পাশে অবস্থিত বাবুল মাতব্বরের চায়ের দোকানে সোর্সসহ চাঁদা চাইতে যায় পুলিশ। বাবুল চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে দু’পক্ষের কথোপকথনের এক পর্যায়ে কেরোসিনের চুলায় লাঠি দিয়ে আঘাত করে পুলিশ। পরে স্টোভের আগুন থেকে বাবুলের শরীরে আগুন ধরে যায়। সাপ্তাহিক চাঁদা না দেয়ায় ইচ্ছে করেই এ ঘটনা ঘটানো হয়। এরপর আশঙ্কাজনক অবস্থায় বাবুলকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের(ঢামেক)বার্ন ইউনিটে নিয়ে আসা হয়। চিকিৎসকরা জানান, বাবুলের শ্বাসনালীসহ শরীরের ৯৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। এরপর তার মৃত্যু হয়।
মাহফুজ আনামের মতো মানুষেরা তাদের এজেন্ডা হাসিলের জন্য তৎপর ছিল- কিংবা আছে রাষ্ট্রপালিত সন্ত্রাসী একটি দেশকে উন্মুক্ত দেউলিয়াত্বপনার দিকে ঠেলে দেয়। এটা বড় খারাপ লক্ষণ। বিষয়গুলো আজ সরকার প্রধানকে ভাবতে হবে। মনে রাখতে হবে, এদেশে নজরুল ইসলাম চৌধুরী কিংবা মাহফুজ আনামের মতো মানুষেরা তাদের এজেন্ডা হাসিলের জন্য তৎপর ছিল- কিংবা আছে। তাই, যা করার তা সরকারকেই করতে হবে। দেশে আইনের শাসন ও সাংবিধানিক সুরক্ষা ধরে রাখতে না পারলে অনেক অর্জনই বিফলে যেতে পারে।
নিউইয়র্ক/ ১১ ফেব্রুয়ারি ২০১৬
ফকির ইলিয়াস : কবি, লেখক, কলামিস্ট।

সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধান করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান কক্সবাজার রেড জোন,শনিবার থেকে আবারো লকডাউন এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।