বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র, দুর্নীতি আর ব্যর্থতার ইতিহাস - কামরুল হাসান বাদল কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 14/01/2016-12:22pm:   
তিন দশকেরও বেশি সময় ধরে চট্টগ্রামের শিক্ষা-সাহিত্য-সংস্কৃতি-কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার সুবাদে স্থানীয় শিল্পীদের সাথে আমার একটি হৃদ্যতাপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এর পেছনে আরও একটি কারণ আছে। ১৯৯৭ সাল থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত আমি বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে একজন চিত্রগ্রাহক হিসেবে কর্মরত ছিলাম। পেশাগত কারণে তখন থেকেই তাদের সাথে আমার সম্পর্ক গাঢ় হয়ে ওঠে। তারা আমার মতো এক সাধারণ মানুষকে ভীষণ ভালোবাসেন, অনেকে সমীহও করেন। চট্টগ্রামে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে সঙ্গীত পরিবেশনের জন্য তাঁদের যখনই ডেকেছি তারা অবলীলায় সাড়া দিয়েছেন। কোনো শিল্পী আজ পর্যন্ত কোনো অনুষ্ঠানের জন্য আমার কাছে তাদের সম্মানী দাবি করেননি। দিতে পারলে যা দিয়েছি তা-ই তারা গ্রহণ করে আমায় কৃতার্থ করেছেন। কাজেই তাদের যে কোনো সুবিধা-অসুবিধায় তারা আমায় ডাকলে আমিও সাড়া না দিয়ে পারি না। গত বছর শিল্পীদের সম্মানীর চেক-এজি অফিস থেকে দীর্ঘদিনেও ছাড় না দেওয়ায় কিছুটা সংকট তৈরি হয়েছিল বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে। তখন সে সমস্যা উত্তরণে শিল্পীদের নিয়ে আমি বেশ ক’বার এজি অফিসে গেছি। এবং শেষ পর্যন্ত সমস্যা সমাধানে সফল হয়েছি। গত মাস ছয়েক ধরে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে অনুষ্ঠান বণ্টন ও রেকর্ডিং নিয়ে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে। সদ্য বদলি হওয়া ডিজি জনাব আবদুল মান্নান ও এই কেন্দ্রে সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত জিএম জ্যাঁনেসার ওসমানের কিছু সিদ্ধান্তে চট্টগ্রামের শিল্পী সমাজের ভেতর অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সে বিষয়ে আলোচনা করার জন্য গত ৯ ডিসেম্বর বিকেলে চট্টগ্রাম বেতার ও টেলিভিশন শিল্পী কল্যাণ সংস্থার কর্মকর্তাদের সাথে সংস্থার উপদেষ্টা হিসেবে আমি বর্তমান জিএম সাহেবের কাছে যাই। আগে থেকে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেওয়া সে বৈঠকে সংস্থার সভাপতি সঙ্গীত শিল্পী কায়সারুল আলম, সাধারণ সম্পাদক আলাউদ্দিন তাহের ছাড়াও অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। উপদেষ্টা হিসেবে আমি ছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট সঙ্গীত শিল্পী নাজমুল আবেদীন চৌধুরী। তার কক্ষে বসার কিছুক্ষণ পর জিএম সাহেব আমাদের সাথে যোগ দিলেন। বৈঠকের শুরুতে সাধারণ সম্পাদক উপস্থিত সকলের পরিচয় তুলে ধরলেন তাঁর কাছে। এরপর তাঁকে জানানো হলো শিল্পীদের আজকের বৈঠকের আলোচ্য বিষয়। এর জবাবে জিএম জ্যাঁনেসার ওসমান একটি প্রিন্টেড ফোল্ডার টেবিলে ফেলে সরাসরি বললেন, আপনাদের অভিযোগ শোনার জন্য আমি চট্টগ্রামে আসিনি। আমাকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে। আপনাদের যা বলার তা ঢাকায় গিয়ে বলতে হবে। তাঁর এ বক্তব্যের প্রতিবাদ করে উঠলেন শিল্পী নাজমুল আবেদীন চৌধুরী। জনাব চৌধুরী বললেন, তাহলে আপনি কেন আছেন এখানে। সাথে সাথে ওসমান সাহেব নাজমুল আবেদীন চৌধুরীকে উদ্দেশ করে বললেন, ‘ননসেন্সের মতো কথা বলবেন না।’ একজন সিনিয়র শিল্পীর সাথে এমন অসৌজন্যমূলক আচরণের প্রতিবাদ জানালেন উপস্থিত শিল্পীরা। এ পরিস্থিতিতে আমি বললাম, জিএম সাহেব আপনি জেনারেল ম্যানেজার এবং আবদুল মান্নান সাহেব ডিজি হওয়ার জন্য এই টেলিভিশন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। চট্টগ্রামবাসীর দীর্ঘদিনের আন্দোলন সংগ্রামের ফসল এই কেন্দ্র। চট্টগ্রামের শিল্পীদের জন্য এই কেন্দ্র। আপনাকে শিল্পীদের কথা অবশ্যই শুনতে হবে।
এত বড় বর্ণনাটি দিতে হলো এই কেন্দ্রের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার আচরণ কেমন তা পাঠকদের জানানোর জন্য। এবার মূল বিষয়ে আসি।
কয়েকবার তারিখ পেছানোর পর গত ৩ জানুয়ারি তথ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হারুনুর রশিদের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল চট্টগ্রাম কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। এ সময় প্রকৌশল শাখার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ৬ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে গেলে যে সব সমস্যা দেখা দেবে তা তুলে ধরেন। তাঁদের জানানো হয় বর্তমান চট্টগ্রাম কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ২ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হয়ে থাকে। ৬ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচার করতে হলে চট্টগ্রাম অঞ্চলে ৬ ঘণ্টার বিটিভির ঢাকা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখতে হবে। কারণ হিসেবে বলা হয়, একই সময়ে দুটি কেন্দ্রের অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য আলাদা ট্রান্সমিটার নেই। কাজেই চট্টগ্রামের দর্শকরা ৬ ঘণ্টা বিটিভি ঢাকা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন। (এই আশংকাটিই আমি কয়েক সপ্তাহ আগে এই কলামে ‘বায়োস্কোপের কাণ্ড দেখো, ঘোড়ার আগে গাড়ি দেখো’ শিরোনামে লিখেছিলাম। অর্থাৎ অবকাঠামো ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং জনবলের ব্যবস্থা না করে সদ্য বিদায়ী ডিজি আবদুল মান্নানের ডেট লাইন ঘোষণা দেওয়া ঠিক হয়নি বলে উল্লেখ করেছিলাম।) তার মানে নয় মণ তেলও পুড়লো না, রাধাও নাচলো না। এখন প্রশ্ন হলো ডিজি আবদুল মান্নান ও জিএম জ্যাঁনেসার ওসমানের এত দৌড়াদৌড়ি এত লম্প-ঝম্পা, এত সাংবাদিক সম্মেলন, এত প্রতিশ্রুতি এত অর্থ ব্যয়, এত অনিয়ম, এত দুর্নীতির কী হবে তবে।
প্রকৃত পক্ষে বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্রে ৩৬ কোটি টাকার আধুনিকায়ন প্রকল্পের অনিয়ম আড়াল করতে প্রয়োজনীয় অর্থ, জনবল, এবং কোনো ধরনের প্রস্তুতি ছাড়াই ৬ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচারের তোড়জোড় শুরু করেছেন সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা। দীর্ঘ ১৯ বছরেও রাজস্বখাতভুক্ত না হওয়া এই কেন্দ্রে বিটিভির থোক বরাদ্দ ও ঢাকা কেন্দ্র থেকে সংযুক্ত করা জনবল দিয়ে কতদিন ৬ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা যাবে তা নিয়েও সংশয় দেখা দিয়েছে। অন্যদিকে এই কেন্দ্র থেকে ৬ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হলে চট্টগ্রাম,কক্সবাজার এবং পাবর্ত্য চট্টগ্রামের দর্শকরা বিটিভির ঢাকা কেন্দ্রের অনুষ্ঠান দেখা থেকে বঞ্চিত হবেন। কারণ চট্টগ্রাম-উপকেন্দ্রসহ ১৬টি উপকেন্দ্রে রিলে করার জন্য একটি করে ট্রান্সমিটার রয়েছে। এখন একই সাথে চট্টগ্রামের অনুষ্ঠান রিলে করতে হলে প্রতিটি উপকেন্দ্রে আরও একটি ট্রান্সমিটার স্থাপন করতে হবে। কিন্তু উপকেন্দ্রগুলোতে নতুন করে ট্রান্সমিটার স্থাপনে বিটিভির আপাতত কোনো পরিকল্পনা নেই। অন্যদিকে পাঁচ মাস ধরে স্যাটেলাইটে পরীক্ষামূলক সম্প্রচার চলছে বলে দাবি করা হলেও অনুষ্ঠান প্রচারের জন্য ডাউনলিংকয়ের সিগনাল পাচ্ছেনা ক্যাবল অপারেটররা।
চট্টগ্রামের প্রতি, চট্টগ্রামের উন্নয়নের প্রতি জননেত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার প্রকাশ হিসেবে তিনি নিজে থেকে এই কেন্দ্রকে আলাদা ও এখান থেকে ১২ ঘণ্টার অনুষ্ঠান প্রচার করার ঘোষণা দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার আলোকে বিটিভি প্রশাসন চট্টগ্রাম কেন্দ্রের আধুনিকায়নের জন্য ৩৮ কোটি টাকার প্রকল্প তৈরি করে অনুমোদনের জন্য তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠায়। তথ্য মন্ত্রণালয় ২ কোটি টাকা কমিয়ে ৩৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা ব্যয় সাপেক্ষ এই প্রকল্পের অনুমোদন দেয়। ২০১২ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৫ সালের জুন পর্যন্ত সাড়ে তিন বছর মেয়াদী প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় এখন তড়িঘড়ি করে ৬ ঘণ্টার অনুষ্ঠান শুরু করার তোড়জোড় চালিয়ে আসছে। গত ১৭ জুন তথ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো নিজের স্বাক্ষর করা এক চিঠিতে মহাপরিচালক আবদুল মান্নান প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়েছে বলে উল্লেখ করে ৬ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচারের জন্য অনুমোদন চেয়েছেন। এই কেন্দ্র থেকে একটি অনুষ্ঠান সূচিও পাঠানো হয় মন্ত্রণালয়ে। তাতে দেখা যায় বিকেল ৪টায় শুরু হয়ে রাত ১০-৫ মিনিটে অনুষ্ঠান শেষ হবে। ৬ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচারের প্রস্তুতি দেয়ার জন্য সদ্য বিদায়ী ডিজি আবদুল মান্নান অন্তত ২০ বার এক কেন্দ্র পরিদর্শন করে গেছেন। এখন প্রশ্ন করতে ইচ্ছা হয় তিনি আসলে কী পরিদর্শন করেছিলেন। রাজস্ব খাতভুক্ত না হওয়ায় অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুকূলে অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয় না। প্রতি তিন মাস অন্তর ৬ লাখ টাকা করে বিটিভি থেকে থোক বরাদ্দ দেয়া হয়। তা দিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের অনুষ্ঠানের শিল্পী সম্মানী ও চুক্তিভিত্তিক নিয়োজিত অস্থায়ী কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতনভাতা পরিশোধ করা হয়। এর আগে চট্টগ্রাম কেন্দ্র চালু হওয়ার পর ১৯৯৭ সালের নভেম্বরে এক বছর মেয়াদী প্রকল্প সমাপ্ত হলে ১৯৯৮ সালের জানুয়ারি থেকে ২০০০ সালের জুন পর্যন্ত অর্থ বরাদ্দ না থাকায় শিল্পী সম্মানী বকেয়া রয়ে যায়। পরবর্তীতে ২০০০-২০০১ অর্থ বছরে ২০০০ সালের জুলাই থেকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জন্য বিটিভি থেকে থোক বরাদ্দ দেয়া শুরু হয়। সেই থেকে ১৭ বছর ধরে চট্টগ্রাম কেন্দ্র চলছে বিটিভির থোক বরাদ্দের মাধ্যমে।
আধুনিকায়ণ প্রকল্পে নানা অনিয়ম যাতে ধামাচাপা দেয়া যায় সেজন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যেমন করেই হোক ৬ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচার শুরু করতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। এজন্য প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ইতোমধ্যে বিটিভির ঢাকা কেন্দ্র থেকে অনুষ্ঠান শাখার দু’জন প্রযোজক ও দু’জন প্রযোজনা সহযোগীকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রে সংযুক্ত করে অফিস আদেশ দেয়া হয়েছে এবং আরো কয়েকজন কর্মকর্তা কর্মচারিকে সংযুক্ত করার জন্য তালিকা তৈরির কাজ চলছে।
চট্টগ্রাম টিভি কেন্দ্রে জনবল সংকট চলছে দীর্ঘদিন ধরে। কর্মকর্তা কর্মচারীদের অধিকাংশ পদ শূন্য। প্রথম থেকে চতুর্থ শ্রেণির কর্মকর্তা কর্মচারির অনুমোদিত ১শ’ ২৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত আছে ৮৬ জন। ৮ মাস ধরে হিসাব শাখায় সহকারি পরিচালক নেই। ২০১৪ সালের ডিসেম্বরে সহকারি পরিচালক (অর্থ) অবসর প্রস্তুতিমূলক ছুটিতে যাবার পর এই পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। প্রশাসন শাখার সহকারি পরিচালককে অতিরিক্ত দায়িত্ব দিয়ে হিসাব শাখার কাজ চালিয়ে নেয়া হচ্ছে। এর ফলে একই ব্যক্তিকে দুটি গুরুত্বপূর্ণ শাখার দায়িত্ব দেয়ায় দাপ্তরিক কাজেও ধীরগতি নেমে এসেছে। গত ১২ আগস্ট বাংলাদেশ প্রতিদিন-এ আধুনিকায়ন প্রকল্পের নানা দুর্নীতির সংবাদ প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে সংশ্লিষ্টরা। এরপর তড়িঘড়ি করে বার্তা কক্ষে একটি শীতাতপ যন্ত্র বসানো হয়। কিন্তু এটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ দেয়া হয়নি। সংবাদ প্রকাশের পর ৩টি ক্যামেরা, প্রকল্পের আওতায় কেনা একটি পিকআপ এবং ১০টি এইচডি ভিটিআর পাঠানো হয়। তবে মেমোরি কার্ড সরবরাহ না নেয়ায় ভিটিআরগুলো ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না বিধায় স্টোররুমে ফেলে রাখা হয়েছে।
বর্তমানে জিএম হিসেবে যিনি দায়িত্বরত আছেন তার বিরুদ্ধেও অভিযোগের কমতি নেই। তার খামখেয়ালি, অনিয়ম ইত্যাদির কারণে শিল্পীদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ সঞ্চারিত হচ্ছে। এ বিষয়ে দ্রুত কোনো পদক্ষেপ নেওয়া না হলে পরিস্থিতি অস্বস্তিকর হয়ে উঠতে পারে। ৬ ঘণ্টার অনুষ্ঠান নির্মাণের কারণ দেখিয়ে বর্তমানে তিনি যে সব কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন তার পিছনের কাহিনী খতিয়ে দেখা উচিত বলে মনে করে শিল্পীরা।
প্রতিষ্ঠার পর থেকেই অনিয়ম অব্যবস্থাপনা আর দুর্নীতিই এই কেন্দ্রের নিয়তি হয়ে উঠেছে। এই উনিশ বছরে শেখ রিয়াজউদ্দিন বাদশা জিএম থাকা কালিন কিছুটা হলেও নিয়মশৃংখলার মধ্যে চলেছিল। এ ছাড়া বরকতউল্লাহ ও আবদুল কাইয়ুম সাহেব ছাড়া সবার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ আছে। তবে বর্তমানের অনিয়ম ও দুর্নীতি সকল রেকর্ড ভঙ্গ করেছে বলে মনে হয়।
একটি গল্প দিয়ে আজকের লেখাটি শেষ করতে চাই। এই গল্পের সাথে কোনো ঘটনার মিল খুঁজে পেলে তা পাঠকের নিজস্ব ব্যাপার, তার জন্য এই অধম লেখক বিন্দুমাত্র দায়ী নয়।
এক গ্রামে এক ছিঁচকে চোর ছিল। নিজের গ্রামসহ আশেপাশের দুচারটি গ্রাম থেকেও সে চুরি-চামারি করতো। তবে সে চুরি-করতো ছোট-খাটো জিনিস যেমন- কারো লুঙ্গী, ডেকচি, বদনা, মাছ ধরার জাল ইত্যাদি। একটি সময়ে চোরটি বৃদ্ধ হলো। মৃত্যুশয্যায় একদিন তার ছেলেকে ডেকে বলল, বাবা আমিতো মারা যাবো বোধহয়। খুব বেশিদিন বাঁচব না। তোমার কাছে আমার একটি অনুরোধ। বেঁচে থাকতে চুরি-টুরি করতে গিয়ে গ্রামের মানুষকে অনেক জ্বালিয়েছি। আমি মারা গেলে তুমি এমন কাজ করবা, গ্রামের মানুষ যেনো আমার নাম করে। একদিন লোকটি মারা গেল। এরপরে তার ছেলেটি শুরু করলো ডাকাতি। আশে-পাশের গ্রামের মানুষ তার অত্যাচারে অতিষ্ঠ। তারপর এক সময় গ্রামের মানুষই বলাবলি শুরু করলো, ‘ইশ ওর বাবাটি অনেক ভালো লোক ছিল, ছোটখাটো চুরিই শুধু করতো। ডাকাতি করতো না, মানুষ মারতো না।
Email:[email protected]

সর্বশেষ সংবাদ