বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনা এখনো অপরিহার্য কেন -কামরুল হাসান বাদল-কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 01/10/2015-12:54am:   
কামরুল হাসান বাদল
বাংলাদেশের রাজনীতি মূলত দুই ধারায় বিভক্ত। একটি ’৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে জেগে ওঠা বাঙালি জাতীয়তাবাদী চেতনায় একটি অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থার রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে অন্যটি আধা সামরিক, পুরো পাকিস্তানি ভাবধারায় সাম্প্রদায়িক ও লুটেরা শ্রেণীর রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পক্ষে। সৌভাগ্য কিংবা দুর্ভাগ্য হোক প্রথমটির নেতৃত্বে আছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ অন্যটির নেতৃত্বে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বা বিএনপি। এ পর্যন্ত পড়ে অনেক পাঠকের মনে প্রশ্ন জাগবে-আওয়ামী লীগ কি লুটেরা নয়? বা আওয়ামী লীগে কি সবাই ধোয়া তুলসী পাতা? এ বিষয়ে আমার সাফ জবাব হ্যাঁ এবং আছে। বিশদ আলোচনার আগে বিশ্ব বিখ্যাত আরব কবি কাহলিন জিবরানের একটি গল্প বলি। ছোট ছোট কয়েকটি বাচ্চা নিয়ে উপত্যকায় খাদ্য অন্বেষণ করছিল একটি মেষ। এমন সময় একটি বাজপাখি মেষ শাবককে আক্রমণ করতে উদ্যত হলে আরেকটি বাজপাখি এসে বাধা দেয়, ফলে যুদ্ধ লেগে যায় আকাশে দু’বাজপাখির মধ্যে। মেষ শাবকগুলো ভয় পেয়ে মায়ের কাছে ছুটে এসে বললো, ‘ঐ পাখি দুটো বুঝি আমাদের আক্রমণ করতে আসছে।’ শুনে মা বলল ‘‘তোমরা বুঝতে পারছোনা বাছা কোনটি আমাদের আক্রমণ করতে চায় কোনটি চায় বাঁচাতে।” ইঙ্গিতটি যাঁরা বুঝতে পেরেছেন তারা এখানেই পড়া বন্ধ না করে কলামটি দয়া করে শেষ পর্যন্ত পড়ুন। হাজার বছরের ইতিহাসে বাঙালির যে একটি স্বাধীন মাতৃভূমির প্রয়োজন এবং তা প্রতিষ্ঠা করাও সম্ভব এ বোধ ও সাহসটুকু জুগিয়েছিল ’৫২ এর সফল আন্দোলন। আমি পূর্বে অনেকবার বলেছি যে, ‘৫২ এর ভাষা আন্দোলন স্রেফ রাষ্ট্র ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলন ছিল না। এই দাবিতে আন্দোলন হয়েছে ঠিকই কিন্তু গভীরভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যাবে সেদিনের সেই আন্দোলন ছিল একাধারে ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি রক্ষার আন্দোলনও। যার কারণে ঐ আন্দোলনের মাধ্যমেই বাঙালির বুকে স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। পাকিস্তানের মতো একটি সাম্প্রদায়িক ও অগণতান্ত্রিক রাষ্ট্র থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশের জন্ম হয়েছিল একটি ধর্মনিরপেক্ষ, শোষণহীন ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য। স্বাধীনতার পরে বাংলাদেশ মূলত সে পথেই যাত্রা শুরু করেছিল। কিন্তু ’৭৫ এর মর্মান্তিক ও কলঙ্কজনক হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে সে যাত্রাপথকে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। দেশকে আবার পাকিস্তানি ভাবধারায় নিয়ে যাওয়ার সকল প্রকার চেষ্টা করা হয়েছে। কথাটি একজন কট্টর সমর্থকদের মতো শোনাবে তবুও বলতে বাধ্য হচ্ছি আওয়ামী লীগ ও তার নেতা বঙ্গবন্ধুর জন্ম না হলে বাঙালির স্বপ্ন, স্বাধীন মাতৃভূমির স্বাদ এখনো পূরণ হতো না। এবং ’৭৫ পরবর্তী বাংলাদেশকে যে অন্ধকারের পথে নিয়ে যাওয়া শুরু হয়েছিল তাও আওয়ামী লীগ না হলে ঠেকানো যেত না। খোলাসা করে বললে বলতে হয় এখনো বাংলাদেশ যতটুকু বাংলাদেশ আছে তা সম্ভব হয়েছে এখনো আওয়ামী লীগ আছে বলেই। নতুবা এতদিনে এটির পরিণামও পাকিস্তান কিংবা আফগানিস্তানের মতই হতো। ’৭৫ এ বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে এদেশে বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগের নাম নেওয়া যখন নিষিদ্ধ প্রায় তখনও অনেকে বঙ্গবন্ধু ও তার আদর্শকে বুকে লালন করে শুভ দিনের প্রত্যাশা করেছে। জেলে চার জাতীয় নেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যেও ছিল আওয়ামী লীগকে নেতৃত্ব শূন্য করা। তা করা গেলে আরেকটি পাকিস্তান তৈরির পথ অনেকটা সুগম হবে তা বুঝতে ভুল করেনি ’৭৫ এর ঘাতকরা। তাদের সেই অভিপ্রায় সফল ও হতো যদি শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন না করতেন এবং দলের হাল না ধরতেন। ’৭৫ থেকে ’৮২ এই ক’বছরেই নানা ষড়যন্ত্রে, নানা মতবাদে নানা নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ একটি ভঙ্গুর রাজনৈতিক দলে পরিণত হতে যাচ্ছিল। ’৭৫ পরবর্তী হতাশ, বিভক্ত, কোণঠাসা ও দুর্বল আওয়ামী লীগকে আজকের এই পর্যায়ে আনার পেছনে শেখ হাসিনার অবদান কম নয়। তা যেমন তার নেতৃত্বের কারণে তেমনি জাতির জনকের রক্ত সম্পর্কের কারণেও। বাংলাদেশে প্রগতিশীল রাজনীতিতে এখনো আওয়ামী লীগের বিকল্প গড়ে না ওঠার দায় আওয়ামী লীগের নয়। এই ব্যর্থতা বাম গণতান্ত্রিক দলগুলোর। কারণ শুধু ক্ষমতার রাজনীতির জন্যে, লুটপাটে অংশ নেয়ার জন্যে যারা আজ আওয়ামী লীগে ভিড়েছে এবং যাদের জন্যে আওয়ামী লীগ আজ বিতর্কিত ও নিন্দিত হচ্ছে তাদের উত্থান ঠেকানো যেত যদি এদেশে একটি দেশপ্রেমিক গণতান্ত্রিক শক্তির উত্থান ঘটতো। অতীতের মতো এখনো দেখতে পাই আওয়ামী লীগকে চাপে রাখতে, সঠিক পথে পরিচালিত করতে ১৪ দলের মতো রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজন আছে। আমরা এখনো দেখতে পাই বর্তমান মন্ত্রিসভায়ও উজ্জ্বল, সফল ও ব্যতিক্রম ব্যক্তিরা কোন একটি সময়ে বাম ঘরানার রাজনীতি করেছেন নতুবা কোন না কোনভাবে যুক্ত ছিলেন। তারপরেও বলতে হয় এদেশে জঙ্গিবাদ ঠেকাতে, সাম্প্রদায়িক শক্তির উত্থান ঠেকাতে আওয়ামী লীগের বিকল্প এখনো নেই। এবং সে আওয়ামী লীগকে একতাবদ্ধ করতে, সুদৃঢ় ও শক্তিশালী করতে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। ১/১১ এর ঘটনা থেকেই আমরা শিক্ষা পেয়েছি হাসিনাবিহীন আওয়ামী লীগকে যোগ্য নেতৃত্ব দেয়ার একক কোন নেতা নেই। আর আওয়ামী লীগ দুর্বল হলে, দ্বিধা বিভক্ত হলে, এদেশে সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীরই শক্তি বৃদ্ধি হবে। এখন প্রশ্ন উঠতে পারে এটি কোন গণতান্ত্রিক দেশের একটি গণতান্ত্রিক দলের সুস্থ রাজনৈতিক ধারা কিনা? আমি নি:সন্দেহে বলবো তা নয়। এমন পরিস্থিতি কাম্যও নয়। কিন্তু বাংলাদেশের মতো তৃতীয় বিশ্বের রাজনীতির ধারাতো তাই। বাংলাদেশ ছাড়া পার্শ্ববর্তী মায়ানমার, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা এমনকি খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জন এফ কেনেডির জনপ্রিয়তাকে পুঁজি করে তার পরিবারের অন্য সদস্যরাও রাজনীতি করেছেন দীর্ঘদিন। ভাল হোক আর মন্দ হোক এই পারিবারিক রাজনীতির আবর্তেই চলছে এদেশগুলোর রাজনীতি। তা থেকে বাংলাদেশও মুক্ত নয়। যাক সে কথা, এবার অন্য শক্তিটির কথা বলি। অর্থাৎ ধর্মভিত্তিক ও ধর্মকে ব্যবহার করে রাজনীতি করা দল ও সামরিক ছত্রছায়ায় জন্ম নেয়া দলগুলোর কথা যদি ধরি। আরেকটু খুলে বললে আওয়ামী লীগ বিরোধী শক্তির কথা যদি ধরি সেখানে নেতৃত্বের কোন সংকট নেই। প্রগতিশীল শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির নেতৃত্বে আজ খালেদা জিয়াও যা নিজামীও তা কিংবা তা যেকোন ব্যক্তি,তাকে শিখন্ডি করে এই শক্তির তৎপরতা চলতে কোন বাধা নেই। স্বাধীনতার পরে যে কোনভাবেই হোক জনগণের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ আওয়ামী লীগের বিরোধীতা করে এসেছে। এবং দীর্ঘদিন রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় ভুল ও মিথ্যা ইতিহাস শুনিয়ে প্রজন্মের পর প্রজন্ম তৈরি করা হয়েছে। তারা আওয়ামী লীগ বিরোধী যেকোন শক্তিকে সমর্থন দেবে, নেতৃত্বে যারাই থাকুক না কেন। একটি মুসলিম প্রধান দেশে ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে পরিণত করা সহজ সাধ্য নয়। এছাড়া বাংলাদেশ বিশ্বে অন্যতম মুসলিম দেশ যেখানে গণতন্ত্রের চর্চা আছে। (প্রকৃত গণতন্ত্র অবশ্য এখনো সুদূর পরাহত)। অন্তত ভোটাধিকার সহ রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ কিছুটা হলেও আছে। এই ধর্মনিরপেক্ষতা ও প্রগতিশীলতার বিরুদ্ধে একটি শক্তি বাংলাদেশে সর্বদাই সক্রিয়। এরা রাজনৈতিকভাবেই শুধু চিহ্নিত নয়। সমাজের বিভিন্ন স্তরে এরা সক্রিয়। এরা মুখে উদারতা ও প্রগতিশীলতার কথা বললেও কার্যত আক্রমণ ও ক্ষতি করেন প্রগতিশীল শক্তির।
বিশ্বে বর্তমান সরকার প্রধানদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশে মৌলবাদী ও জঙ্গিগোষ্ঠী, যুদ্ধাপরাধীদের সমর্থক, প্রধান বিরোধি দল, (২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তৎকালিন সরকারের সময়ে শেখ হাসিনার ওপর গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল। অভিযোগ আছে এই ঘটনার সাথে তৎকালিন জোট সরকারের সংপৃক্ততা ছিল) পার্শ্ববর্তী মায়ানমারের আরকানি মুসলিমদের জঙ্গিগোষ্ঠী, আসামের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফাসহ বেশ কিছু উগ্রগোষ্ঠীর আক্রমণের লক্ষ্যবস্তু এখন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনার জীবন বিপন্ন হওয়া মানে মৌলিক বাংলাদেশ, উদার বাংলাদেশ ও ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ বিপন্ন হওয়া।
তাই, অনেক সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও বাংলাদেশের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাকে এখনো অপরিহার্য বলেই মনে হয়। আজকে দেশে অনেক বুদ্ধিজীবী যখন নিরপেক্ষতার দোহাই দিয়ে হাসিনা-খালেদা কিংবা আওয়ামী লীগ-বিএনপিকে একই পাল্লায় মাপার চেষ্টা করেন এবং আওয়ামী লীগের বিকল্প হিসেবে বিএনপিকে ভাবেন তখন বিস্মিত হই। ওরা হয় অপরিণামদর্শী নতুবা জ্ঞানপাপী। শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারি, হলমার্ক কেলেঙ্কারির মতো ঘটনার জন্যে সরকার সমালোচিত, নিন্দনীয় হতে পারে। পদ্মা সেতু নিয়ে সরকারের সিদ্ধান্তহীনতা ও কালক্ষেপণ সমালোচনার বিষয় হতে পারে কিন্তু তা কোনক্রমেই সরকার পতনের কারণ হতে পারেনা। এটি ভাববার কোন যুক্তিযুক্ত কারণ নেই যে,আওয়ামী লীগ সরকারের ওসব ব্যর্থতা বা বিতর্কিত কাজের জন্যে আগামীবার বিএনপি-জামাত জোটকে পুনরায় ক্ষমতায় আনা প্রয়োজন। আওয়ামী লীগ ১০০ ভাগ সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি বটে কিন্তু তাই বলে যে কাজ বিএনপি-জামাত জোটের পক্ষে করা সম্ভব তা ধারণা করা বা মনে করা চরম বোকামি ছাড়া কিছু নয়।
বিগত জোট সরকারের শাসনকালে, এমন কি নির্বাচনে জেতার পরদিন থেকে শুরু হওয়া সংখ্যালঘু নির্যাতন, সারাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান, ৬৩ জেলায় একযোগে বোমা হামলা, সিনেমা হল ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে বোমা হামলা, ব্রিটেন রাষ্ট্রদূতের ওপর গ্রেনেড হামলা, দশ ট্রাক অস্ত্র চালান, ২১ আগস্ট বিরোধী দলের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা, আদালতে বোমা ফাটিয়ে বিচারক হত্যা, বাংলা ভাইয়ের উত্থান, সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ.এম এস কিবরিয়া হত্যা প্রায় প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও জঙ্গি হামলার মতো অসংখ্য ঘটনার পরে এখনো যারা মনে করেন আওয়ামী লীগের বিকল্প বিএনপি-জামাত নেতাদের মানসিক সুস্থ্যতা নিয়ে প্রশ্ন জাগ্রত হয়। আমি বরং মনে করি সত্যিকার দেশপ্রেমিক বাম ও গণতান্ত্রিক মোর্চাগুলো ঐক্যবদ্ধ ও শক্তিশালি হোক। দর কষাকষি করার মত সংসদে আসন লাভ করুক এবং বৃহৎ রাজনৈতিক শক্তি আওয়ামী লীগকে প্রগতিশীল,ধর্মনিরপেক্ষ ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার পথে চাপে রাখুক। একটি তৃতীয় বিশ্বের দেশের সরকার প্রধান হয়ে শেখ হাসিনা জাতিসংঘে প্রদত্ত ভাষণে জাতিসংঘ, বিশ্ব ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সংস্কারের যে দাবি করে চরম সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। চার দশক আগে যে দশকে তলাবিহীন ঝুড়ি বলে অপমানিত করা হয়েছিল সে দেশের একজন প্রধানমন্ত্রী সেই দেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে যখন এই দাবি করেছিলে-তখন তাঁর এই স্পর্ধা একজন বাঙালি হিসেবে আমাকে জাগিয়ে তুলেছে ফের। লক্ষণীয় ইতোমধ্যে বিশ্ব ব্যাংক সংস্কারের কথা নিজেই বলেছেন সংস্থাটির প্রধান। সম্প্রতি একটি পত্রিকায় অগ্রজ সাংবাদিক নাসিরুদ্দিন চৌধুরী ‘সংকট বুর্জোয়া রাষ্ট্র ব্যবস্থার, মন্ত্রীর নয়” শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। আমি তাঁর লেখার সাথে একমত। বস্তুত ব্যক্তির নয় সংকট ব্যবস্থার। ব্যবস্থার কারণেই বঙ্গবন্ধু সফল হতে পারেননি। আর সীমাহীন আন্তরিকতা ও ব্যক্তিগত সততা থাকা সত্ত্বেও শেখ হাসিনা রাষ্ট্র পরিচালনায় হোঁচট খাচ্ছেন বার বার। আমরা নিজেরা বর্তমান বুর্জোয়া রাষ্ট্র ব্যবস্থা পরিবর্তনের তাগিদ অনুভব করছি বটে। কিন্তু তার জন্যে একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তুলতে ব্যর্থ হচ্ছি। এ তাগিদ শুধু আজ বাংলাদেশেই নয় ভেনিজুয়েলায় শ্যাভেজের চতুর্থবারের বিজয় কিংবা ল্যাটিন আমেরিকাসহ তৃতীয় বিশ্বের দেশে দেশে তরুণদের মধ্যে বিপ্লবী বীর চে’ গুয়েভারাকে নিয়ে আগ্রহ বৃদ্ধি সে ইঙ্গিতই প্রদান করে। বর্তমান লুটেরা শ্রেণীর শাসন থেকে মুক্তির জন্য আমাদেরও বিপ্লব ও সে বিপ্লবে নেতৃত্ব দেয়ার জন্যে একজন চে’র প্রয়োজন। কিন্তু সে সম্ভাবনা ও বাস্তবতা তৈরি না হওয়া পর্যন্ত আর যাই করি না কেন জঙ্গি সমর্থিত একটি সাম্প্রদায়িক শক্তিকে দেশের রাষ্ট্র ক্ষমতায় পুনরার আসীন করতে পারি না।
লেখকঃ কবি, সাংবাদিক ও কলাম লেখক

সর্বশেষ সংবাদ