বায়োস্কোপের মজা দেখ, ঘোড়ার আগে গাড়ি দেখ -কামরুল হাসান বাদল-কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 17/09/2015-10:26am:    কামরুল হাসান বাদল
চট্টগ্রামের উন্নয়নের ব্যাপারে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিকতার অভাব নেই। লালদীঘির মাঠের জনসভায় তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ‘চট্টগ্রামের উন্নয়নের ভার আমিই নিলাম।’ শুধু লালদীঘির জনসভায় নয়। এরপরে বিভিন্ন জনসভা ও অনুষ্ঠানে তিনি এমন প্রতিশ্রুতি ও সদিচ্ছা ব্যক্ত করেছেন। খুব আনন্দের সাথে বলতে হয় তিনি তার প্রতিশ্রুতির মর্যাদাও রক্ষা করার চেষ্টা করেছেন। চট্টগ্রামের উন্নয়নের ব্যাপারে তাঁর কাছে যথাযথ দাবি ও পরিকল্পনা পেশ করলে তিনি তা বাস্তবায়নের আন্তরিক প্রচেষ্টাও গ্রহণ করেছেন। এর সাম্প্রতিকতম উজ্জল উদাহরণ হচ্ছে চট্টগ্রাম নগরে বেশ কয়েকটি উড়ালসেতু ও উড়াল পথের কাজ শুরু ও সমাপ্ত হওয়া। সিডিএ’র চেয়ারম্যান আবদুচ ছালাম নিয়োগ পাওয়ার পর থেকে নানা উন্নয়ন কর্মসূচির পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রী বরাবর পেশ করেছেন এবং প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার কারণে অনেক কাজ বাস্তবায়নের সুযোগও পাচ্ছেন। চট্টগ্রামে উড়ালপথের প্রয়োজন আছে কিনা তা নিয়ে নগর পরিকল্পনাবিদদের ভিন্নমত আছে। কিন্তু তবুও কাজটি ছালাম সাহেব করতে পারছেন, কারণ প্রধানমন্ত্রীর আগ্রহ আছে তাই। এতো গেলো সিডিএর চেয়ারম্যানের কথা। প্রধানমন্ত্রীর মনোনয়নে আ জ ম নাছির উদ্দিন মেয়র নির্বাচিত হয়েই বেকায়দায় পড়েছিলেন করপোরেশনের ফাণ্ড নিয়ে। কারণ প্রায় তিনশ কোটি টাকার দেনার দায় নিয়ে তাঁকে মেয়রের দায়িত্ব নিতে হয়েছিল। তিনি যখন দায়িত্ব নিচ্ছিলেন তখন ছিল ভরা বর্ষা। নগরীর প্রায় সমস্ত রাস্তাঘাটের অবস্থা হয়ে পড়েছিল সঙ্গীন করপোরেশনের অর্থাভাবে তিনি সড়কের মেরামত কাজ করতে পারছিলেন না। পরে তিনিও শরণাপন্ন হন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর। প্রধানমন্ত্রী তাঁকে দুইশ কোটি টাকা দিলেন জরুরি রাস্তা মেরামতের জন্য চট্টগ্রাম মহানগরীর উন্নয়নে শীর্ষ দুই প্রতিষ্ঠানের দুই প্রধান ব্যক্তির উদাহরণ দিলাম এ কথা বোঝাতে যে, প্রধানমন্ত্রীর কাছে চট্টগ্রামের সমস্যা ও উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরতে পারলে তিনি কখনো নিরাশ করেননি। ফজলে করিম এমপি রাউজানে ২০ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করতে পেরেছেন এই একই কারণে।
১৯৭৫ সালে ইতিহাসের কলঙ্কজনক ঘটনার মধ্য দিয়ে জাতির জনককে সপরিবারে হত্যার দীর্ঘ ২১ বছর পর অনেক চড়াই উৎরাই পেরিয়ে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসে ১৯৯৬ সালে। সে বছরের ১৯ ডিসেম্বর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি উদ্বোধন করেছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম টেলিভিশন কেন্দ্র বাংলাদেশ টেলিভিশন চট্টগ্রাম কেন্দ্র। শুরুর পর থেকে দু ঘণ্টার অনুষ্ঠান প্রচার করতে থাকে এই কেন্দ্র। এর মধ্যে আধঘণ্টার অনুষ্ঠান ঢাকা কেন্দ্র থেকেও সম্প্রচারিত হতো, যা দেখতে পেতো সারাদেশের দর্শকরা। ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর এই সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়।
পূর্ণাঙ্গ টেলিভিশন কেন্দ্র, আলাদা শিক্ষা বোর্ড আলাদা গ্যাস কোম্পানির দাবিতে চট্টগ্রামবাসী দীর্ঘদিন আন্দোলন সংগ্রাম করেছে, যার ফলে শিক্ষাবোর্ড, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির মতো চট্টগ্রামেও একটি টেলিভিশন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। কিন্তু শুরু থেকে এই কেন্দ্রের জন্য সুনির্দিষ্ট নীতিমানা না থাকায় খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলেছে এই কেন্দ্র। পর্যাপ্ত জনবল, যন্ত্রপাতির অভাব ও অবকাঠামোর সঠিক সদ্ব্যবহার করতে না পারার কারণে এই কেন্দ্র লক্ষ্য পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। এটি একটি আঞ্চলিক টেলিভিশন কেন্দ্র। দাবি এবং প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর উদ্দেশ্য ছিল এতদ্বাঞ্চলের বিশেষ করে বৃহত্তর চট্টগ্রামের শিল্প সাহিত্য-সংস্কৃতিকে পৃষ্ঠপোষকতাও তা তুলে ধরা। চট্টগ্রামের একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য আছে। এই নগরেই শত শত বছর ধরে পাশাপাশি বসবাস করে আসছে অন্যতম প্রধান চারটি ধর্মের মানুষ, যথা মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান। এ ছাড়া নগরী থেকে একশ কিলোমিটারের মধ্যেই পাহাড়ে আছে অন্তত ২০টি ক্ষুদ্র জাতিসত্ত্বার বসবাস। যাদের রয়েছে আলাদা ধর্ম, ভাষা, সংস্কৃতি, জীবনযাপন, পেশা ও ঐতিহ্য। মোটামুটি ব্যবসা-বাণিজ্য, পর্যটন ইত্যাদির অপচয় সম্ভাবনা সমৃদ্ধ চট্টগ্রামকে বিশেষ ভাবে তুলে ধরাই ছিল বিটিভি চট্টগ্রাম কেন্দ্র প্রতিষ্ঠার অন্যতম দাবি ও উদ্দেশ্য। কিন্তু তা হয়নি। পূর্বেই বলেছি সঠিক পরিকল্পনার অভাবে তা হয়ে ওঠেনি। ফলে এই কেন্দ্র না পেরেছে দর্শকদের চাহিদা মেটাতে, না পেরেছে শিল্পীদের খুশি করতে, না পেরেছে নির্মাতাদের আনন্দদায়ক কাজের পরিবেশ তৈরি করতে। শুরু থেকে এই কেন্দ্রে কর্মকর্তা-কর্মচারী পাঠানো হয়েছে ঢাকা কেন্দ্র থেকে। কারণ এই কেন্দ্রের জন্য আলাদা জনবল নিয়োগ দেওয়া হয়নি কখনো। ঢাকার কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে অধিকাংশকেই ‘পানিসমেন্ট ট্রান্সফার করা হয়েছে চট্টগ্রামে। কারো কারো নির্দিষ্ট করা তিন মাসের জন্য। এর ফলে এরা কেউ আন্তরিকভাবে কাজ করতে চায়নি। অন্যদিকে অস্থায়ী বদলির কারণে এবং সঠিক নজরদারি ও জবাবদিহিতার অভাবে দুর্নীতিও হয়েছে অবারিতভাবে। ‘যা পাই তাই নিয়ে যাই’ ধরণের মানসিকতার টাকার বিনিময়ে অনুষ্ঠান বণ্টন হয়েছে সব জি এমের আমলে। অন্তত এই একটি ক্ষেত্রে কারো সময়ে শিথিলতা দেখা যায়নি।
জিএম আসে জিএম যায়। প্রযোজক আসে প্রযোজক যায় টেলিভিশনের মানের কোন উন্নতি আর হয়নি। এর জন্য শুধু যে দুর্নীতি দায়ী তাও কিন্তু নয়। এই কেন্দ্রের এতই সীমাবদ্ধতা যে, বিশ্বের একজন সেরা প্রোডিওসারকে এনে দিলেও তিনি দুদিনে পালাবেন। আসলে শুরু থেকে এই কেন্দ্র অবহেলা, অনিয়ম, দুর্নীতি, অযোগ্যতাকে নিয়ে সমান্তরালভাবে চলেছে। আর এর জন্য দায়ী বিটিভির বিভিন্ন সময়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা তথা মহাপরিচালক, উপমহাপরিচালকসহ নীতি নির্ধারণীর কর্তাব্যক্তিরা। এদের আন্তরিকতার অভাবেই এই কেন্দ্রটি চট্টগ্রামবাসীর আশা পূর্ণ করতে পারেনি। এমনকি বর্তমান মহাপরিচালক জনাব আবদুল মান্নানও এই অভিযোগ থেকে মুক্ত নন। এই কেন্দ্রের আরেকটি ট্র্যাজেডি হচ্ছে যারা ভুল উচ্চারণে উপস্থাপনা করেন, মানহীন অনুষ্ঠান করেন, টাকার বিনিময়ে অনুষ্ঠান করেন তারাই আবার এসবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন, বিবৃতি দেন। গত ২০১০ সালে তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু তথা শাহ আমানত সেতুর উদ্বোধন করতে এসে সেই সমাবেশে নিজে উদ্যোগী হয়ে প্রধানমন্ত্রী এই কেন্দ্রকে পূর্ণাঙ্গ টিভি সেন্টার করা ও এর সম্প্রচার ৬ঘণ্টা এবং তা টেরিস্টিরিয়ান ও স্যাটালাইটের মাধ্যমে প্রচারিত করার ঘোষণা দিয়েছিলেন। তিনি এ বিষয়ে দায়িত্ব দিয়েছিলেন তৎকালীন বন ও পরিবেশমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদকে। দাযিত্ব পেয়ে জনাব হাছান মাহমুদ তাঁর নির্বাচনী এলাকা অর্থাৎ রাঙ্গুনিয়ার আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদেরসহ টিভি ভবনে দুতিনটি বৈঠক করেছিলেন। তারপর আর তাঁর কোনো তৎপরতা দেখা যায়নি। প্রধানমন্ত্রীর উৎসাহ ও নির্দেশ সত্ত্বেও তিনি কেন কিছু করতে পারেননি তার কোনো সদোত্তর চট্টগ্রামবাসীর জানা নেই। এর পরে কেটে গেছে প্রায় চার বছর। এখন আবার প্রধানমন্ত্রীর তাড়া খেয়ে তৎপর হয়ে উঠেছেন বর্তমান ডিজি অর্থাৎ মহাপরিচালক আবদুল মান্নান। গত ১৩ সেপ্টেম্বর টিভি ভবনে এক পরামর্শ সভায় তিনি ঘোষণা করেছে। আগামী ১ নভেম্বর থেকে এই কেন্দ্রের ৬ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচার করা হবে টেরিস্টিরিয়ান ও স্যাটেলাইটের মাধ্যমে। এ সময় তিনি প্রচণ্ড আত্মপ্রত্যয় নিয়ে বলেছেন, বাস্তবায়ন হলে বেসরকারি চ্যানেলের বদলে দর্শক আমাদের অনুষ্ঠানই দেখবে।
এটি যদি বাস্তবে ঘটে তাতো ভালোই হবে। তবে জনাব আবদুল মান্নান কোন বাস্তবতায় এমন কথা বললেন তা একটু খতিয়ে দেখা যাক।
বর্তমানে এই কেন্দ্রে আছেন একজন জেনারেল ম্যানেজার, প্রকৃতপক্ষে যিনি একজন সিনিয়র প্রযোজক, দুএকজন প্রোগ্রাম ম্যানেজার পর্যন্ত হতে পেরেছিলেন। দুজন প্রযোজক, বাস্তবে যাঁরা সহযোগী প্রযোজক। এর মধ্যে যে কোনো একজন নিয়মিত অনুপস্থিত থাকেন। এ ছাড়া দু থেকে তিনজন প্রযোজনা সহযোগী, অনুষ্ঠান সহযোগী। আছেন একজন ইঞ্জিনিয়ারিং ম্যানেজার বা ই এম এবং তাঁর অধীনে কয়েকজন ডিপ্লোমা প্রকৌশলী এবং তাঁদের সহযোগী ও সহকারীবৃন্দ। একজন সৃজনশীল মননশীল ও সৃস্টিশীল কাজ বোঝার কথা নয় (তাঁর)। টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবে যোগদানের পূর্বে তিনি টেলিভিশনের স্টুডিও ভালোভাবে দেখেছেন কিনা তা নিয়েই সন্দেহ আছে। টেলিভিশন বিশেষ করে বাংলাদেশ টেলিভিশন ‘প্রোগ্রাম অরিয়েন্টেড’ প্রতিষ্ঠান। এর সংবাদের বিশেষ গুরুত্ব না খাকলেও এর অনুষ্ঠানের গুরুত্ব অনেক। এখনো দেশের বেশিরভাগ দর্শক বিটিভি দেখেন। গত কয়েক বছর ধরে এর অনুষ্ঠান বিটিভি ওয়ার্ল্ডের মাধ্যমে প্রবাসী বাংলাদেশিরাও দেখার সুযোগ পাচ্ছেন।
১ নভেম্বর থেকে ছয় ঘন্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচার করার পরিকল্পনা থাকলে তার কয়েকমাস আগে থেকে অনুষ্ঠান নির্মাণ শুরু করার কথা। এবং তার জন্য নীতিমালাসহ প্রয়োজনীয় লোকবল ও যন্ত্রপাতিসহ অবকাঠামো তৈরি করার কথা। এতসব প্রস্তুতি বাদ দিয়ে হুট করে তিনি নভেম্বর থেকে অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ঘোষণা দিলেন। তার অর্থ কি এই যে, এতদিন মানহীন যে অনুষ্ঠান শুধুমাত্র চট্টগ্রামবাসীদের বাধ্য হয়ে হজম করতে হতো এখন তা দেশবাসীসহ বিদেশেও দেখানো হবে। এতে চট্টগ্রামের মান বাড়বে না কমবে। আমাদের দৈন্যকে এভাবে প্রকাশ করে তিনি কি চট্টগ্রামবাসীকে অপমানিত করতে চান?
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বিটিভির মহাপরিচালক আবদুল মান্নান বলেছেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের প্রতি অত্যন্ত আন্তরিক। এর জন্য পর্যাপ্ত লোকবল নিয়োগ দক্ষ প্রশাসন শিল্পীদের সম্মানী, যন্ত্রী যন্ত্রাংশসহ নিশ্চিতকরণ, অডিশনের মাধ্যমে নিপীড়দের তালিকাভুক্তকরণ কর্মীদের প্রশিক্ষণ প্রদান ইত্যাদি নানা ব্যাপারে নীতিমালা রয়েছে। প্রশ্ন হলো যদি এমন নিদ্দিষ্ট নীতিমালা থেকেই থাকে তাহলে তা বাস্তবায়নের আগে তিনি ছয়ঘন্টা অনুষ্ঠানের ঘোষণা দিলেন কী করে। ওপরে নীতিমালার যে অংশবিশেষ উল্লেখ করেছি তা বাস্তবায়নের জন্য ন্যূনতম কতদিন লাগতে পারে তা পাঠকরাই আন্দাজ করে নিন। আমি আর কী লিখব? তবে বুঝতে পারছি
কেমন দক্ষ(!) মানুষের হাতে বিটিভি পরিচালনার ভার দেওয়া হয়েছে।
আমার জানা মতে গত ২০ বছরে বিটিভিতে ছোটখাটো পদ ছাড়া প্রয়োজনীয় লোক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। এ ২০ বছরে অন্তত ৪০ শতাংশ কর্মচারি-কর্মকর্তা অবসরে গেছেন বিভিন্ন পদ থেকে। অন্যদিকে বিটিভির কর্মপরিধি বৃদ্ধি পেয়েছে বিটিভি ছাড়াও বিটিভি ওয়ার্ল্ড, সংসদ টিভি এ জনবল দিয়েই চালানো হয়। ফলে বেশ কিছু পদে অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়ে চালাতে হচ্ছে। এর মধ্যে বেশ কজন তথ্যমন্ত্রী ও মহাপরিচালক বদল হলেও বিটিভির প্রয়োজন নিয়ে কেউ বর্তমানের মতো অতীতেও মাথা ঘামায়নি। বর্তমানে অনেকের চাকরির মেয়াদ ফুরিয়ে এসেছে, তাঁরাও অবসরে গেলে বিটিভি কীভাবে চলবে সে ভাবনাও বর্তমান প্রশাসনের আছে কি না জানা নেই।
আমরা চাই সস্তা জনপ্রিয়তা হাসিলের চেষ্টা না করে বিটিভির প্রকৃত চিত্র প্রধানমন্ত্রী বরাবর তুলে ধরা হোক। প্রধানমন্ত্রী যে আন্তরিকতা নিয়ে চট্টগ্রাম কেন্দ্রের উন্নয়ন করতে চান তার যথাযথ বাস্তবায়ন হোক। আমার লেখার শুরুতে উল্লেখ করেছি প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রকৃত সত্য ও বাস্তবতা তুলে ধরলে তিনি তা পূরণের চেষ্টা করেন। স্বাধীন বাংলার প্রথম টেলিভিশন কেন্দ্র যা প্রধানমন্ত্রী স্বয়ং উদ্বোধন করেছিলেন তার প্রতি তাঁর নিশ্চয়ই দরদ আছে। প্রধানমন্ত্রীর এ সদিচ্ছাকে পূর্ণাঙ্গ সম্মান জানানো হোক।
সে সাথে আরেকটি দাবি করা অযৌক্তিক হবে না যে, টেলিভিশনের মহাপরিচালক হিসেবে উদ্যোমী, ত্যাগী এবং মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের প্রতি অবিচল এমন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে নিয়োগ দেওয়া হোক যাঁরা সংস্কৃতির খুঁটিনাটি বোঝেন ও খবর রাখেন। বিটিভির বেশ কিছু মেধাবী প্রযোজক আছেন যাঁরা অবসরে গিয়েছেন বা এখনো কোনো কোনো বেসরকারি টেলিভিশনে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রাখছেন। প্রয়োজনে এমন কাউকে ডিজি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হোক। আর চট্টগ্রাম কেন্দ্রের জন্য লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে এমন যোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করা হোক যাদের সাথে এ অঞ্চলের নাড়ির সম্পর্ক আছে। যেহেতু এটি আঞ্চলিক একটি কেন্দ্র সেহেতু চট্টগ্রামের বাসিন্দা ও পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব রাখা হোক যাঁরা এতদাঞ্চলের সংস্কৃতির সাথে যুক্ত, যাঁরা এ সম্পর্কিত অনুষ্ঠানে নির্মাণের ভূমিকা রাখতে পারবেন। প্রয়োজনে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগও দেওয়া যেতে পারে।
এসব কিছুর ব্যবস্থা আগে থেকে না করে হুট করে ৬ ঘণ্টার অনুষ্ঠান সম্প্রচারের ঘটনা ঘোড়ার আগে গাড়ি জুড়ে দেওয়ার সামিল যা কখনোই ফলপ্রসু ও মঙ্গলজনক হবে না বলেই মনে হয়।
পুনশ্চ- প্রায় শুরু থেকে এ কেন্দ্রের সাথে যুক্ত হয়েছিলাম চাকরির সুবাদে। বিএনপি-জামায়াত ও রাজাকার বিরোধী লেখালেখির কারণে ২০০১ সালে বিএনপি-জামায়াত জোট ক্ষমতায় আসার পর আমাকে অপমানজনকভাবে টেলিভিশন থেকে বিতারিত করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর অনেকে অনুরোধ করলেও আমি চাকরির জন্য পুনরায় চেষ্টা করিনি। বর্তমানে অনুষ্ঠান উপস্থাপনা ও গ্রন্থনা করে থাকি শুধু এ লেখাটি প্রকাশের পর সে সুযোগটিও বন্ধ হবে বোধহয়।
Email [email protected]

সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধান করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান কক্সবাজার রেড জোন,শনিবার থেকে আবারো লকডাউন এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।