প্রকৃত ছাত্রলীগ, আগাছা ছাত্রলীগ -কামরুল হাসান বাদল-কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 03/09/2015-12:54pm:   
আবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছে ছাত্রলীগ। ভুল বললাম, আবার বলতে মাঝখানে মোটামুটি একটি বিরতির দরকার। কাজেই আবার বলাটা ঠিক হয়নি মেনে নিচ্ছি। প্রায় প্রতিদিন ছাত্রলীগ সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে। অবশ্য ছাত্রলীগের মতো একটি প্রাচীন ও বৃহৎ ছাত্র সংগঠনতো প্রতিদিনেই সংবাদ শিরোনামে থাকার কথা। যে ছাত্র সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যে সংগঠনটির রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। যে সংগঠনের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ফসল আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সাথে যে সংগঠনের নাম জড়িত রয়েছে ওতপ্রোতভাবে। সে সংগঠনের নাম ও তাদের কার্যকলাপ সংবাদ শিরোনাম হলেতো দেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষের খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ঘটছে তার উল্টোটি। শিক্ষা বিষয়ক কোনো আন্দোলন সংগ্রাম, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার কোনো আন্দোলন সংগ্রাম কিংবা বর্তমান বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি জঙ্গিবাদ বিরোধী কোনো আন্দোলন সংগ্রামে এই দলের কোনো খবর নেই। তাদের কোনো ভূমিকা নেই। বরং যেখানে অনিয়ম, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী আর নিজ সংগঠনের কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ সেখানেই ছাত্রলীগের সরব উপস্থিতি। বিষয়টি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে সরকারকে বাধ্য হয়ে নিজ দলের ছাত্র সংগঠনের কর্মীকে ‘ক্রসফায়ার’ দিতে হচ্ছে।
আবার সংবাদ শিরোনাম হয়েছে ছাত্রলীগ। ভুল বললাম, আবার বলতে মাঝখানে মোটামুটি একটি বিরতির দরকার। কাজেই আবার বলাটা ঠিক হয়নি মেনে নিচ্ছি। প্রায় প্রতিদিন ছাত্রলীগ সংবাদ শিরোনাম হচ্ছে। অবশ্য ছাত্রলীগের মতো একটি প্রাচীন ও বৃহৎ ছাত্র সংগঠনতো প্রতিদিনেই সংবাদ শিরোনামে থাকার কথা। যে ছাত্র সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা স্বয়ং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যে সংগঠনটির রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। যে সংগঠনের দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রামের ফসল আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ। দেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের সাথে যে সংগঠনের নাম জড়িত রয়েছে ওতপ্রোতভাবে। সে সংগঠনের নাম ও তাদের কার্যকলাপ সংবাদ শিরোনাম হলেতো দেশের মুক্তিকামী সাধারণ মানুষের খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে ঘটছে তার উল্টোটি। শিক্ষা বিষয়ক কোনো আন্দোলন সংগ্রাম, শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষার কোনো আন্দোলন সংগ্রাম কিংবা বর্তমান বাংলাদেশের জন্য সবচেয়ে বড় হুমকি জঙ্গিবাদ বিরোধী কোনো আন্দোলন সংগ্রামে এই দলের কোনো খবর নেই। তাদের কোনো ভূমিকা নেই। বরং যেখানে অনিয়ম, চাঁদাবাজী, টেন্ডারবাজী আর নিজ সংগঠনের কর্মীদের সাথে সংঘর্ষ সেখানেই ছাত্রলীগের সরব উপস্থিতি। বিষয়টি এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে সরকারকে বাধ্য হয়ে নিজ দলের ছাত্র সংগঠনের কর্মীকে ‘ক্রসফায়ার’ দিতে হচ্ছে। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ও এক কালের ছাত্রলীগের সভাপতি ওবায়দুল কাদের হুঁশিয়ারী উচ্চারণ করে বলতে বাধ্য হয়েছেন, ‘অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে।’
এবার সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে আবার সংবাদ শিরোনামে এসেছে ছাত্রলীগের নাম। গত রোববার এই বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যকে কার্যালয়ে ঢুকতে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে আন্দোলনরত শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করেছে ছাত্রলীগ। উপাচার্যের বিরুদ্ধে কয়েকজন শিক্ষকের সাথে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ এনে তার পদত্যাগের দাবিতে গত ১২ এপ্রিল থেকে ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ’ ব্যানারে আন্দোলন করে আসছেন শিক্ষকদের একাংশ। গত রোববার সকালে বিশ্ববিদ্যালয় একাডেমিক কাউন্সিল ও বোর্ড অব অ্যাডভান্সড স্টাডিজের বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এই দুটি বৈঠককে প্রতিহত করতে উপাচার্যবিরোধী শিক্ষকরা সকাল নয়টা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত ভিসির কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। একটি সময় কার্যালয়ে ঢুকতে চাইলে ভিসিকে বাধা দেয় আন্দোলনকারী শিক্ষকরা। আর এ সময় আগে থেকে উপস্থিত ছাত্রলীগের কিছু কর্মী ভিসির সমর্থনে এগিয়ে এসে তাঁকে কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এখানেই এক পর্যায়ে তারা শিক্ষকদের লাঞ্ছিত করে। তাদের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছেন ড. জাফর ইকবালের স্ত্রী ও একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. ইয়াসমিন হক ও আরো দশ শিক্ষক।
ছাত্রদের দ্বারা শিক্ষক লাঞ্ছিত হওয়ার ঘটনায় সারাদেশে নিন্দার ঝড় উঠেছে। বিবেকবান প্রতিটি মানুষকে স্পর্শ করেছে ঘটনাটি। বোধহয় সরকারের উচ্চ পর্যায়েও বিব্রতকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগ ঘটনার পরপর এর দায় অস্বীকার করলেও কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক বিচারের আশ্বাস দিয়েছেন। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত অর্থাৎ মঙ্গলবার রাত পর্যন্ত তিনজনকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
প্রশ্নটি আবারও তুলতে হয়। ছাত্রলীগের কাজটি কী? যে ঘটনার সাথে তারা জড়িত হয়েছে তা তাদের বিষয় নয়। আন্দোলনটি শিক্ষকদের। সে বিষয়ে তাদের জড়িত হওয়ার কারণ কী? উপরন্তু তারা জড়িত হয়েছে বা পক্ষ নিয়েছে এমন এক শিক্ষক বা উপাচার্যের পক্ষে যার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগ আছে। তাছাড়া উপাচার্যের বিরুদ্ধে যারা আন্দোলন করছেন তারা বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত শিক্ষক সংগঠন নয়। তারা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষেরই শিক্ষক। তারা গায়ে হাত তুলেছে ড. ইয়াসমিন হকের যাঁর স্বামী একজন বরেণ্য শিক্ষক, লেখক ও মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের এক অবিচল কলমযোদ্ধা। যিনি এক শহীদ পরিবারের সন্তান। শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে যারা অধ্যয়ন করেন মানতে হবে তারা দেশের মেধাবী শিক্ষার্থী। এই মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত কিংবা সেদিনের শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় জড়িত তাদের কেউ কি এসব তথ্য জানতো না? তারা কি জানত না শুধু দেশকে ভালোবেসে, দেশের জন্য কল্যাণকর কিছু করার মানসে ড. জাফর ইকবাল ও তাঁর স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক আমেরিকার অনেক বেতন ও সুবিধাজনক চাকরি ফেলে দেশে ফিরে এসেছিলেন। যেখানে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষক সরকারি স্কলারশিপ নিয়ে বিদেশে পড়াশোনা শেষ করে আর দেশে ফেরে না। অনেক শিক্ষক নিজে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস না নিয়ে বছরের পর বছর বিশ্ববিদ্যালয়ের বেতন গ্রহণ করে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস নিয়ে থাকেন। তারা জানে, অবশ্যই জানে। একই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়ে না জানার তো কথা নয়। তবু কেন তারা এই অপকর্ম করতে গেল। সে উত্তর খুঁজতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য স্মরণ করতে হয়। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে গত সোমবার রাজধানী বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত ছাত্রলীগের একটি প্রকাশনার মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘তোমরা যদি কারও কাছ থেকে ভালোবাসা পাও তাহলে তোমাদেরও উচিত তাকে ভালোবাসা দেওয়া। তুমি কী পেলে, সেটা কোনো বিষয় নয়।’ এ সময় তিনি ছাত্রলীগে অনেক আগাছা জন্মেছে উল্লেখ করে ছাত্রলীগকে আগাছামুক্ত করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, আগাছা এক সময় মূল গাছকেও গ্রাস করে ফেলে।
আমার ধারণা ছাত্রলীগে এখন বোধহয় মূল গাছের অস্তিত্ব আছে সামান্যই। প্রায় পুরো গাছটিই আগাছা খেয়ে ফেলেছে। মাঝে মধ্যে মূল গাছের অস্তিত্ব টের পাওয়া যায। দু’একটি সবুজ পাতা আগাছার ভেতর থেকে প্রাণপণে উঁকি দেয় তখন দর্শকরা বিমোহিত হয়। একদিন যারা পুরো গাছটি দেখেছিলেন, একদিন যারা এই গাছের অংশ ছিলেন, একদিন যারা এই গাছের ছায়ায় আশ্রয় নিয়েছিলেন তারা স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন। কেউ কেউ বেদনাহত হয়ে পড়েন। কেউ কেউ দুঃখভারাক্রান্ত মনে ভাবেন অনেক আগে যদি আগাছা দূর করা যেত। অনেক আগে যদি আগাছা কেটে ফেলা যেত।
ছাত্রলীগকে নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে অনেক আগে থেকেই। সরকারের মন্ত্রী থেকে শুরু করে স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী পর্যন্ত বহুবার বলেছেন যে, ছাত্রলীগ আওয়ামী লীগে জামায়াত-শিবিরের লোক ঢুকে গেছে। ছাত্রলীগের সাবেক অনেক নেতাও এ ধরনের অভিযোগ করে আসছেন আগে থেকে। বিষয়টি গুরুতর হলেও যথার্থ ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি এখনও। অর্থাৎ ছাত্রলীগের যে কর্মীরা অপকর্মের সাথে জড়িত তাদের বিরুদ্ধে সব সময় কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। স্বীকার করতে হবে বিষয়টি খুব সহজ নয়। তবে সামান্য কঠিন হলেও একেবারে অসম্ভব নয়। ছাত্রলীগ একটি বৃহৎ সংগঠন। সারাদেশের লাখ লাখ কর্মী। কোন কর্মী কখন, কীভাবে কার মাধ্যমে এই সংগঠনের সদস্য হয়ে গেল তার কোনো রেকর্ড সংগঠনের কারও কাছে নেই। পাড়ার কোনো উঠতি নেতার পেছনে তার পক্ষে োগান দিতে দিতে ছাত্রলীগের কর্মী বনে যায়। সে না বোঝে দলের আদর্শ। না বোঝে দলের গঠনতন্ত্র। সে পাড়ার ওই পাতি নেতার হাত ধরে রাজনীতিতে আসে। সে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাতি নেতার হাত ধরে রাজনীতিতে আসে অধিকাংশ সময় পাড়ায় বা কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাব বিস্তারে আগায় আসে। যেহেতু অধিকাংশ সময় কর্মীরা আসে প্রভাব প্রতিপত্তির আশায় সেহেতু তার রাজনৈতিক লক্ষ্যও থাকে তা হাসিল করার। সংগঠনের ইতিহাস, লক্ষ্য, আদর্শ জেনে সংগঠন করতে আসা কর্মীর সংখ্যা অত্যন্ত কম। দীর্ঘদিন এই প্রক্রিয়া চলায় উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও বৃহৎ এই ছাত্র সংগঠনটি আগাছায় ছেয়ে গেছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কার না করায় মূল বৃক্ষটি এখন বিলীনের পথে।
অথচ সময়মতো সংস্কার করলে, শুশ্রূষা করলে কী অপার সম্ভাবনাই না ছিল সংগঠনটির। যে সংগঠনটির রয়েছে এক স্বর্ণালী অতীত। যে সংগঠনের রয়েছে এক গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস, সে সংগঠনের বর্তমান হাল দেখে হতাশ হওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না।
প্রবল, প্রচণ্ড প্রতিকূলতার মধ্যে শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসেছেন। শুধু ক্ষমতায় এসেছেন তা-ই নয় দেশকে বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা করেছেন। আমি বহুবার উল্লেখ করেছি বর্তমানে বাংলাদেশ যতটুকু বাংলাদেশ আছে, যতটুকু অসাম্প্রদায়িক আছে, যতটুকু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আছে তা সম্ভব হয়েছে আওয়ামী লীগের কারণে। আর আওয়ামী লীগ এখনও বৃহৎ সংগঠন হিসেবে টিকে আছে শেখ হাসিনার কারণে। দেশি-বিদেশি অনেক ষড়যন্ত্র প্রতিহত করে, প্রবল জঙ্গিবাদকে মোকাবেলা করে তিনি এখনও বাংলাদেশকে টিকিয়ে রেখেছেন। এই বাস্তবতা যদি ছাত্রলীগ বৃঝতে পারতো, এই বাস্তবতা যদি আওয়ামী লীগের সকল নেতাকর্মী বুঝতে পারতো তা হলে এমন দৃশ্য, এমন অপকর্ম দেশবাসীকে দেখতে হতো না।
আমি এখনও মনে করি ছাত্রলীগের মতো একটি বৃহৎ সংগঠনের অপার সম্ভাবনা আছে। দেশের এত বড় ছাত্র সংগঠন আর কোনো রাজনৈতিক দলের নেই। আর এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে এর আগাছা এখনই কেটে ফেলতে হবে। মৃতপ্রায় গাছটিকে বাঁচাতে হবে। কারণ ভবিষ্যতে মৌলবাদ ও জঙ্গিবাদকে প্রতিহত করতে তরুণদের মধ্যে অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক চেতনার প্রসার ঘটাতে হবে। তবে আগাছার অভিযোগ থেকে মূল দল আওয়ামী লীগও মুক্ত নয়। আওয়ামী লীগের আগাছা শেকড় এখন মন্ত্রিসভা পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে। শুধু ছাত্র সংগঠন নয়, মূল দলের আগাছাও পরিষ্কারের উদ্যোগ নিতে হবে দল ও সরকার প্রধানকে।
রাজনৈতিক আগাছার বাইরে আমাদের বিভিন্ন ক্ষেত্রেও আগাছার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। বিশেষ করে পেশাজীবীদের ক্ষেত্রে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা যেভাবে দলাদলীতে লিপ্ত থাকেন এবং নিজ স্বার্থে ছাত্রদের বিশেষ করে সরকারের কৃপা ও ধান্ধাবাজীর স্বার্থে সরকার দলীয় ছাত্র সংগঠনের নেতাদের তোয়াজ ও ব্যবহার করেন তা দেখে যে কোনো সুস্থ মানুষের মনে এঁদের প্রতি শ্রদ্ধার পরিবর্তে ঘৃণার উদ্রেক হবে। উপাচার্যের পদ পাওয়ার লোভে এবং পাওয়ার পরে সে পদ টিকিয়ে রাখার স্বার্থে তারা সরকারদলীয় ছাত্র সংগঠনের আগাছাদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন। এদের ব্যবহার করেন। কখনও কখনও নিজ সহকর্মীদের বিরুদ্ধে ছাত্রদের ব্যবহার করেন। শুধু ছাত্রদের দোষ দিয়েও লাভ নেই। কিছু কিছু শিক্ষক দ্বারা তারাও প্ররোচিত হয়ে থাকে।
আসলে দেশের রন্ধ্রে রন্ধ্রে আজ আগাছার প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। সবুজ ও প্রকৃত বৃক্ষ বাঁচাতে হলে আগাছা নির্মূল সত্যিই জরুরি।
Email: [email protected]

সর্বশেষ সংবাদ