পরিস্থিতি কোন দিকে গড়াচ্ছে -কামরুল হাসান বাদল-কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 28/08/2015-11:15am:    বিরোধীদলকে সামলানো গেলেও নিজ দলকে সামলানো কঠিন বলেই মনে হয় সরকারের পক্ষে। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা নিঃসন্দেহে সরকারের জন্য বিব্রত ও অস্বস্তিকর হয়ে উঠেছে। র‌্যাব-পুলিশের কথিত ‘এনকাউন্টার’, প্রকাশ্যে গণপিটুনিতে মানুষ হত্যা, নিজ দলের অন্তর্কলহে নেতা-কর্মী হত্যা, দুর্বৃত্তের দ্বারা আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মী হত্যা এবং মন্ত্রীদের মধ্যে পরস্পরবিরোধী ও কোনো কোনো ক্ষেত্রে অনাকাঙিক্ষত বক্তব্যে সরকার ও সরকার সমর্থিত দলের মধ্যে অস্থিরতা সৃষ্টি হয়েছে এবং সে সঙ্গে বিশ্বাসহীনতাও তৈরি হচ্ছে। ২১ আগস্ট জননেত্রী শেখ হাসিনার সন্ত্রাসবিরোধী জনসভায় গ্রেনেড হামলার বার্ষিকীকে কেন্দ্র করে নতুন কিছু বিতর্ক তৈরি হয়েছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ২১ আগস্ট ঘটনার সঙ্গে খালেদা-তারেক জড়িত থাকার অভিযোগ করার পরে বিএনপির এক সংবাদ সম্মেলনে বর্তমানে সেই দলের মুখপাত্র আসাদুজ্জামান রিপন এ ঘটনার সাথে বিএনপির জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে ঘটনা তদন্তের দাবি করে বলেছেন, তৃতীয় কোনো শক্তি বড় দু’দলের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি ও দূরত্ব তৈরি করছে। এরপর আওয়ামী লীগের একটি অনুষ্ঠানে শেখ সেলিম বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে বলতে গিয়ে জাসদের তৎকালীন ভূমিকাকে দায়ী করেন। সে অনুষ্ঠানে তিনি সাবেক সেনা প্রধান কে.এম শফিউল্লাহকে নিয়েও ‘কঠোর’ মন্তব্য করেন। আসাদুজ্জামান রিপনের বক্তব্যের সঙ্গে শেখ সেলিমের বক্তব্যের একটি আপাত ‘মিল’ পরিলক্ষণ করেছেন অনেকে। তাতে অনেকে বিস্ময়ও প্রকাশ করেছেন। এরপর থেকে রাজনীতির মাঠে এখন এটাই আলোচ্য বিষয়। বিরোধীদলের কোনোরূপ ভূমিকা আপাতত পরিলক্ষিত হচ্ছে না। জাসদ এই সরকারের অংশীদার হওয়ায় এবং দলের সভাপতি সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী হওয়ার কারণে এই ধরনের অভিযোগ, অভিযোগকারী মন্ত্রী না হলেও প্রধানমন্ত্রীর আত্মীয় হওয়ার সুবাদে বেশ প্রভাবশালী। সরকারকে বিব্রতকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে তা মানতে হবে।
এছাড়া পুলিশ ও র‌্যাব কর্তৃক সরকারদলীয় কর্মী নিহত হওয়ার ঘটনায় দেশজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হওয়ার সাথে সাথে দলীয় অনেক নেতাকর্মী প্রশ্ন ও চাপের মুখে পড়েছে সরকারি দল ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। এ নিয়েও সরকারে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। সরকারের প্রভাবশালী মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের যখন একদিকে বলছেন, ‘অ্যাকশন শুরু হয়ে গেছে’ তখন হাজারিবাগের এক জনসভায় সরকারের প্রভাবশালী সাংসদ ফজলে নূর তাপস হত্যার নিন্দা জানিয়ে র‌্যাবের বিচার দাবি করেছেন। শেষ পর্যন্ত র‌্যাবের হাতে নিহত ছাত্রলীগ কর্মী নেতা আরজু মিঞার ভাই হাইকোর্টে র‌্যাবের বিরুদ্ধে অভিযোগ করলে আদালত বিচারবিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। অবশ্য এর আগে র‌্যাবের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে ‘ক্লোজড’ করা হয়েছে।
শেখ সেলিমের পরে মাহবুবুল হক হানিফও জাসদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন। তিনি জাসদের সাথে তৎকালীন ন্যাপকেও যুক্ত করেছেন। এ ছাড়া জিএসপি সুবিধা নিয়ে গওহর রিজভীর বক্তব্যও অনেকটা দল ও সরকারের মতের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলেও মনে করেছে অনেকে। যা হোক সরকারের মন্ত্রী সভায় ক্রমেই একটু অস্থিরতা তৈরি হচ্ছে।
যে অস্থিরতা এতদিন সমাজে বিরাজ করছিল তা এখন সরকারে গিয়ে ঠেকেছে। অথচ সরকারের এ অবস্থা হওয়ার কথা নয়। বর্তমানে সরকার দেশ পরিচালনা করছে রাজপথে আন্দোলন-সংগ্রামহীনভাবে। বিএনপি-জামায়াতের মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়াতে আরও বেশ সময় লাগবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর মৌলবাদী ও জঙ্গি সংগঠনও যে খুবই ভালো অবস্থানে আছে তা আপাতত বলা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র পরিচালনায় খুব বেশি বেগ পাওয়ার কথা নয়। (যদিও বাংলাদেশের মতো সব মুসলিম দেশই এখন জঙ্গি তৎপরতার সম্ভাবনা বিদ্যমান)। তরপরেও কেন দলকে দলের বিরুদ্ধে লড়তে হচ্ছে। সরকারকে সরকারের বিরুদ্ধে? সে প্রশ্ন থেকে যায়। জাসদের রাজনীতি যারা প্রত্যক্ষ করেছেন কিংবা জাসদের রাজনীতি নিয়ে যারা কিছুটা হলেও অধ্যয়ন করেছেন তারা সবাই মেনে নেবেন যে, সদ্য স্বাধীন ও যুদ্ধবিধ্বস্ত একটি দেশে জাসদ যে রাজনীতির প্রচলন করেছিল তা ছিল ভুল ও বিপজ্জনক। জাতির জনককে হত্যার পরিবেশ তৈরির দায় থেকে জাসদ নিজেকে কখনো মুক্ত করতে পারে না। তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাসভবন ঘেরাও ভারতীয় রাষ্ট্রদূতকে অপহরণের চেষ্টা ও গণবাহিনী তৈরি করে হাজার হাজার আওয়ামী ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর মৃত্যুর দায় থেকে জাসদ অব্যাহতি পেতে পারে না। দেশ স্বাধীনের পর সাম্প্রদায়িক দল নিষিদ্ধ ঘোষিত হলে তারা তৎকালীন জাসদের ছত্রছায়ায় আশ্রিত ছিল। এ সব দলের স্বাধীনতার পর সংগঠিত হওয়ার সুযোগ তৈরি করেছিল জাসদই। কর্নেল তাহেরকে জিয়া ফাঁসি না দিলে জাসদের বিশাল একটি অংশ জিয়ার আমলেই বিএনপিতেই বিলীন হয়ে যেত। অবশ্য শাজাহান সিরাজের নেতৃত্বে দলের একটি অংশ খালেদা জিয়ার বিএনপিতে ভিড়ে গিয়েছিল। সে জাসদ নিয়ে শেখ সেলিমের বক্তব্য মিথ্যা বা বানোয়াট নয়। কিন্তু প্রশ্ন হলো হঠাৎ এ সময়ে কেন তিনি এমন একটি বক্তব্য দিতে গেলেন যখন পরস্পর দু’সরকারেই জাসদের একটি অংশ বিদ্যমান এবং দলীয় প্রধান সরকারের মন্ত্রী। দুটো বিষয় মাথায় রাখা দরকার। প্রথমত হচ্ছে, কিছু বিষয় আছে তা দলীয় ফোরামে বলা সঙ্গত। প্রকাশ্য জনসভায় নয়। জাসদকে নিয়ে কী হবে তা দলীয় ফোরামে আলোচিত হওয়া বাঞ্ছনীয়। দল যদি মনে করে জাসদের যাকে (হাসানুল হকের নেতৃত্বে) যুগপৎ আন্দোলন সংগ্রাম ও সরকার গঠন পর্যন্ত করা যায় তবে তা দলের সবাইকে মেনে নেওয়া উচিৎ। মেনে নেওয়া সম্ভ না হলেও তা দলীয় ফোরামেই আলোচিত হওয়া উচিত। দ্বিতীয়; জাসদে যারা ছিলেন সবাই যে স্বাধীনতা বিরোধী দলকে পছন্দ করতেন কিংবা বঙ্গবন্ধুর হত্যা চেয়েছিলেন এমনতো নয়। অনেকে তৎকালীন আওয়ামী লীগের অনেক নেতার দুর্নীতির প্রতিবাদকরতে গিয়েও জাসদে যোগদান করেছেন। অনেকে ‘বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র’ আর সমাজ বিপ্লবের স্বপ্নেও জাসদ রাজনীতি করেছেন।
অন্যদিকে ‘সরকার বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চায় না বলার পরও বছরের পর বছর বিচার বহির্ভূত হত্যাকাণ্ড কীভাবে এবং কার নির্দেশে চলছে তা নিয়ে একটি রহস্য আছে বরাবর। দেশের সুশীল সমাজ, বিরোধীদল, আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মহল র‌্যাব-পুলিশের ‘ক্রসফায়ার’ সমর্থন না করলেও দেশের সাধারণ মানুষ এক প্রকার খুশী এ ধরনের হত্যাকাণ্ডে। আমার নিজস্ব একটি ধারণা, অন্যদের সাথে মিলবে কিনা জানি না; এ মুহূর্তে এ বিষয়ে গণভোট নিলে ‘ক্রসফায়ারের’ পক্ষেই ভোট বেশি পড়বে বলে মনে হয়। কিন্তু বিষয়টিতো কোনো সুস্থ আধুনিক সমাজের লক্ষণ নয়। পরিস্থিতি আজ এমন পর্যায়ে গেছে যে, শুধু র‌্যাব-পুলিশ নয় অনেক সময় জনতাও পিটিয়ে মানুষ হত্যা করছে। যে কোনো অভিযোগে এখন গণপিটুনিতে মানুষ হত্যা করা যায়। অর্থাৎ প্রচলিত বিচার ব্যবস্থার প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা কমে যাচ্ছে। অনেক আগে কমে গেছে পুলিশের ওপর আস্থা। র‌্যাব গঠিত হওয়ার পর কিছু কিছু ক্ষেত্রে স্বস্তি ফিরে এলেও ক্রসফায়ারের মতো ঘটনা র‌্যাবের ভাবমূর্তিকে দারুণভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে এভাবে দিনদিন র‌্যাব বা পুলিশ যদি জবাবদিহিতার উর্ধ্বে উঠে যায় তখন পরিস্থিতি সামলাবে কে। ‘কুইনিন জ্বর-সারাবে বটে কিন্তু কুইনিন সারাবে কে’। ক্রসফায়ার ছাড়াও নানাভাবে র‌্যাব বিতর্কিত হয়ে উঠছে।
এই বাহিনী গঠিত হয়েছিল বিএনপির শাসনামলে। যদিও বর্তমানে ওই দল এই বাহিনীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার। আগেও বলেছি পুলিশের ভাবমূর্তি যখন ভীষণ ঋণাত্মক। সাধারণ মানুষের সম্পূর্ণ আস্থাহীন হয়ে পড়েছিল পুলিশ বাহিনী তখন র‌্যাব নামের এই এলিট বাহিনীর সৃষ্টি। এ পর্যন্ত র‌্যাবের ক্রসফায়ারে কতজন মৃত্যু বরণ করেছে তার পরিসংখ্যান আমার কাছে নেই। তবে একথা বলা যায় যে, এভাবে ‘ক্রসফায়ার’ দিয়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কোনোরূপ উন্নতি হয়নি। অপরাধের মাত্রা কমানো যায়নি। তবে হ্যাঁ কিছু কিছু অপরাধীর মৃত্যুতে সাধারণ মানুষ উল্লাস প্রকাশ করেছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মিষ্টিও বিতরণ করেছে। এটিও হয়েছে নেতিবাচক ধারণা থেকে। কারণ দেশের মানুষ বিচারহীনতার সংস্কৃতি প্রত্যক্ষ করেছে বছরের পর বছর। তারা দেখেছে অপরাধীদের কোনো সাজা হয় না। শনিবার পুলিশ গ্রেপ্তার করলে সোমবারে জামিন নিয়ে চলে আসে এবং প্রবল বিক্রমে আগের চেয়েও বেশিমাত্রায় অপকর্ম চালাতে থাকে। এদের বিরুদ্ধে পুলিশ যথাযথভাবে চার্জশিট দেয় না। অনেক সময় চার্জশিট দিলেও সাক্ষীরা ভয়ে সাক্ষ্য দিতে যায় না। আবারও বলতে হয় তাই বলে ‘ক্রসফায়ারের’ মতো ঘটনা কখনোই কাম্য নয়। এটি কোনো দীর্ঘমেয়াদী সুফলও দেবে না। এই ক্রসফায়ার নিয়ে অন্য আরেকটি অভিযোগ আছে। ক্রসফায়ারে মৃত ব্যক্তিদের তালিকা খুঁজলে দেখা যাবে সেখানে ইসলামী ছাত্র শিবির বা জঙ্গি গ্রুপের দুর্ধর্ষ তেমন কারও নাম পাওয়া যাবে না। বোমা গ্রেনেড হামলার দায়ে গ্রেফতার হওয়া তেমন কাওকে নিয়ে অন্য আসামিদের ধরতে যাওয়া এবং সে সময় আগে থেকে ওঁৎ পেতে থাকা অন্যান্য সহযোগীদের সাথে এই বাহিনীর কখনো বন্দুকযুদ্ধ হয়েছে বলে জানা যায়নি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে র‌্যাবের সাফল্য আছে। সে জন্য তাদের সাধুবাদও জানাতে হবে। আসল কথাটি হচ্ছে দেশে যে কোনো প্রকারে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে হবে। অপরাধীকে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। দেশের মানুষের মধ্যে আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি শ্রদ্ধা ও আস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। চোর বলে কাউকে গণপিটুনি দেওয়া কিংবা নাস্তিক-মুরতাদ আখ্যা দিয়ে কাউকে হত্যার পথ প্রশস্ত করা বন্ধ করতে হবে।
কিছু কিছু গণমাধ্যম ও ব্যক্তি বর্তমান পরিস্থিতিকে ১৯৭৫ এর ১৫ আগস্ট পূর্ববর্তী ঘটনাবলী ও বাস্তবতার সাথে তুলনা করতে চান। আমরা খুব সাধারণ মানুষ। এত কিছু বুঝি না। আমাদের অবস্থা ঘরপোড়া গরুর মতো, যারা সিঁদুরে মেঘ দেখলে ভয় পায়। সরকারে অস্থিরতা কেন? মন্ত্রীদের মধ্যে বাহাস কেন? এসবের উত্তর আমরা জানি না। আমরা জানি না শেখ হাসিনার মন্ত্রিসভায় কে কে খোন্দকার মোশতাক, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, শাহ মোয়াজ্জেম। কারা কারা তাজউদ্দিন আহমেদ, সৈয়দ নজরুল ইসলাম, এম. মনসুর আলি, এইচ এম কামরুজ্জামান। আমরা জানি না ছাত্রলীগে কারা কারা শফিউল আলম প্রধান। আমরা শুধু জানি শেখ হাসিনা আজ এক নিসঙ্গ শেরপা। তাঁকে রক্ষা করতে হবে যে কোনো প্রকারে। আমরা জানি তার হাতে যতদিন দেশ, পথ হারাবে না বাংলাদেশ। আমরা জানি আজ যতটুকু বাংলাদেশ আছে, যতটুকু মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বজায় আছে, আজ যতটুকু বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক, ধর্মনিরপেক্ষ, উদার ও প্রগতিশীল, তার পেছনে বড় শক্তি বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ। আর এই আওয়ামী লীগের প্রাণভোমরা শেখ হাসিনা। হাসিনা বিহীন আওয়ামীলীগের পরিণতি হবে ১৯৭৫ এর পরের মতো। আর আওয়ামীলীগ দুর্বল হলে এ দেশ হবে জঙ্গিদের অভয়ারাণ্য। তালেবানি একটি রাষ্ট্র।
অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে, দেশি-বিদেশি অনেক ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে শেখ হাসিনা দেশকে একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছেন। তাঁর সাত বছরের শাসনামলে-ব্যর্থতার চেয়ে সফলতার পাল্লা অনেক বেশি ভারী। অনেক ক্ষেত্রে দেশ এগিয়ে গেছে এই ক’বছরে। এ সময়ে নিজেদের মধ্যে কামড়াকামড়ি করে পরিবেশ প্রতিকূল করে তোলা কোনোভাবেই কাম্য নয়, মঙ্গলজনকও নয়। দীর্ঘদিনের বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে তিনি দেশকে উদ্ধার করছেন। আমার বিশ্বাস শত বাধার মুখে যিনি বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার করেছেন। যেভাবে যুদ্ধাপরাধীদের কঠিন বিচার চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁর পক্ষে দেশের আইন শৃঙ্খলা রক্ষা করাও সম্ভব। তাঁকে সবাই সহযোগিতা করলে একটি ‘গুড গভর্ননেন্স’ দেওয়া তাঁর পক্ষেই সম্ভব। তাঁর ‘আত্মীয় স্বজন’রা যদি বাধা হয়ে না দাঁড়ায় তবে তার জন্যে এ কাজটি কঠিন হবে না। (তাঁর পরিবার ব্যতিত। প্রধানমন্ত্রী অনেকবার বলেছেন তাঁর নিজের ও শেখ হাসিনার সন্তানরা ছাড়া তাঁর পরিবারের সদস্য কেউ নয় এবং ওঁরা কোনো প্রকার বিতর্কেও নেই।) আমরা নিয়ন্ত্রণহীন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে বলি। আমরা টেন্ডারবাজির বিরুদ্ধে কঠোর হতে বলি। আমরা পেট্রোল বোমাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করি। কিন্তু সে দাবি পূরণ হবে কীভাবে। পুলিশ সাধারণত সরকারি দলের কাওকে ঘাটাতে চায় না। অন্যদিকে র‌্যাব ধরলে ‘এনকাউন্টার’। উপায়টি কী হবে? উপায়টি আওয়ামী লীগকেই ঠিক করতে হবে। তার জন্যে খুব বেশি কিছু করতে হবে না। শুধু শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করতে হবে। তার পক্ষে ও নেতৃত্বে পূর্ণ আস্থা জ্ঞাপন করে নিজেদের লোভকে সামলাতে হবে। তাদের মনে রাখা উচিত শেখ হাসিনা সফল হলে তারাও সফলতার ভাগ পাবেন। ব্যর্থ হলে ভাজ ভাঙা পাঞ্জাবীর অস্তিত্ব টিকে থাকবে না।
Email: [email protected]

সর্বশেষ সংবাদ