দেশে শিক্ষিত বেকার লোকের সংখ্যা বাড়ছে - মোঃ ওসমান গনি/ সাংবাদিক,কলামিস্ট

পোস্ট করা হয়েছে 26/08/2015-03:37pm:   
কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধিঃ
একটি দেশের মোট জনগোষ্ঠির বিশাল একটি অংশ বাদ দিয়ে জাতীয় উন্নয়ন আশা করা যায় না।একটি দেশের উন্নয়ন এর পূর্ব শর্ত হল ঐ দেশের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৯৫জন লোকের কর্মসংস্থান এর ব্যবস্থা করা ।দেশের জনসংখ্যার বিশাল অংশকে বাদ দিয়ে দেশের উন্নয়ন করা সম্ভব না।আমাদের দেশের মোটজনসংখ্যার একটি বিশাল অংশই বেকার।তার মধ্যে বর্তমানে শিক্ষিত বেকার লোকের সংখ্যাই বেশী। পুর্বে আমাদের দেশে অশিক্ষিত বেকার লোকের সংখ্যা ছিল বেশী।কালের বিবর্তনে সময়ের ব্যবধানে আস্তে আস্তে আমাদের দেশের শিক্ষার হার বেড়ে গেছে।শিক্ষার হার বাড়ার সাথে সাথে আমাদের দেশে বর্তমানে শিক্ষিত বেকার লোকের সংখ্যা ও বেড়ে গেছে।আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সংজ্ঞা অনুসারে , বিগত চার সপ্তাহ ধরে কাজ খুঁজছেন কিন্তু কাজ পাননি কিন্তু আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে কাজটি পেতে পারেন বা আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যেই বিদ্যমান মুজুরিতে কাজ শুরু করবেন এমন কর্মক্ষম মানুষকে বেকার বলা হয়।বাংলাশের পরিপ্রেক্ষিতে আইএলও র সংজ্ঞা নিয়ে প্রশ্ন ও বিতর্ক রয়ে গেছে ।তবে কর্মসংস্থান ও বেকারত্ব পরিস্থিতি নির্ধারনে বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরো এখন পর্যন্ত আইএলওর এই মানদন্ড অনুসরণ করা হচ্ছে। আমাদের দেশে কলেজ থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সর্বোচ্চ ডিগ্রীধারী শিক্ষিত বেকার লোকেরা চাকরি নামক সোনার হরিন ধরার জন্য দ্বারে দ্বারে ঘুরতেছে দীর্ঘদিন যাবত।দিন যতই যাচ্ছে শিক্ষিত বেকার লোকের সংখ্যা ও তত বাড়ছে।যে হারে উচ্চতর ডিগ্রী নিয়ে কর্মক্ষেত্রে প্রবেশ করার জন্য শিক্ষিত যুবক তৈরি হচ্ছে, সে হারে কর্মসংস্থানের কোন ব্যবস্থা হচ্ছে না।বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান উন্নয়ন অেেন্বষন গত বছরের শেষের দিকে এক প্রতিবেদনে বলেছে, দেশে বেকারত্ব বৃদ্ধিতে গত এক দশকের গড় হার যদি বজায় থাকে ,তাহলে চলতি বছর বাংলাদেশে বেকারের সংখ্যা ৩৩লাখে দাঁড়াতে পারে।বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর সর্বশেষ শ্রমশক্তি জরিপ অনুসারে ,২০১০সালে দেশে বেকার মানুষের সংখ্যা ছিল ২৬লাখ।আর ২০০০সালে ১৭লাখ।এসব তথ্য তুলে ধরার পাশাপাশি উন্নয়ন অন্বেষণের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে ,২০০০সাল থেকে ২০১০সাল পর্যন্ত বার্ষিক বেকার বৃদ্ধির গড় হার ছিল ৫দশমিক ২৯শতাংশ। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে বলা হয়েছে ,২০০৫থেকে ২০১০সালের মধ্যে দেশে বেকারত্ব বৃদ্ধির পাশপাশি আংশিক বেকারত্ব ,অনানুষ্ঠানিক খাতে কর্মসংস্থান ,যুব বেকারত্ব ও মোট শ্রমশক্তিতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে।আইএলও এর উপাত্ত বিশ্লেষন করে উন্নয়ন অন্বেষণ বলেছে,২০০০সাল থেকে ২০০৫সাল সময়ে দারিদ্র হ্রাসের হার ছিল ৯দশমিক৮শতাংশ।যা ২০০৫-২০১০সময়ে ৮দশমিক ৫শতাংশে নেমে আসে।এই হারে দারিদ্র হ্রাসের হার পরবর্তী বছরগুলোতে কমতে থাকলে তা বেকারত্ব পরিস্থিতির অবনতি ঘটতে ভুমিকা রাখতে পারে।উন্নয়ন অন্বেষণ আরো বলেছে ,পূর্ণকালীন কাজ পাওয়া কঠিন হয়ে ওঠায় আংশিক কর্মসংস্থানে (বাংলাদেশে সপ্তাহে ৩৫ঘন্টার কম)অংশ গ্রহন বাড়ছে।দেশে ২০১০সালে প্রায় এক কোটি ১০লাখ মানুষ আংশিক কর্মসংস্থানের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করছে।যা দেশের মোট কর্মজীবী শ্রমশক্তির ২০দশমিক ০১শতাংশ।আমাদের দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় একজন লোক স্নাতকোত্তর পাশ করতে সময় লেগে যায় ২৭ থেকে ২৮বছর। পাশ করার পর তার হাতে চাকরির সময় থাকে ২/৩বছর।এই সময়ের মধ্যে তাকে সরকারি চাকরি নিতে না পারলে তার জন্য বড় ধরনের ক্ষতি হয়ে যায়। তাকে সংসার হতে কোন টাকা পয়সা দিতে চায় না।আর টাকা পয়সা না দেওয়ার কারনে সে চাকরি জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে পারে না। তাছাড়া বর্তমানে চাকরির জন্য হউক সরকারি আর বেসরকারি দরখাস্ত করতে গেলে যে কোন লোক কে দরখাস্তের আনুসঙ্গিক খরচ বাবত টাকা লাগে ৪০০থেকে ৫০০।যা একটা বেকার লোকের জন্য বিশাল একটি বোজা।একজন বেকার লোক এত টাকা খরচ করে চাকরির দরখাস্ত করা কষ্ট হয়ে যায় ।তাও আবার চাকরির কোন নিশ্চয়তা নেই। আবার অনেক সময় ইন্টারভিউ কার্ড পর্যন্ত আসে না।যদি একজন বেকার লোক কে প্রতিমাসে ৩/৪টি দরখাস্ত করতে হয় তাহলে তার মাসে খরচ হবে নিম্মে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।যা একটা বেকার লোকের পক্ষে অসম্ভব।যার জন্য শিক্ষিত বেকার লোকেরা লেখাপড়া শেষ করে যখন তারা কোন চাকরি পায়না তখণ তারা বাধ্য হয়ে অপরাধ জগতে পা বাড়ায়।এক সময় তারা হয়ে যায় দেশের অপরাধ জগতের নায়ক। বর্তমানে আমাদের দেশে যে সমস্ত বড় বড় ডাকাতি সংগঠিত হচ্ছে এদের মধ্যে দেখা যায় অনেকেই বিশাল শিক্ষিত লোক।আরও একটি জিনিস সেটা হল বিভিন্ন চাকরি দাতা প্রতিষ্ঠান চাকরির বিজ্ঞপ্তিতে লিখে দেয় দরখাস্তের সাথে যে কাগজ পত্র দিতে হবে তা অবশ্যই প্রথম শ্রেনীর গেজেটেড কর্মকর্তার দ্বারা সত্যায়িত হতে হবে।কিন্তু বেকার লোকেরা যখন কাগজ পত্র নিয়ে কোন গেজেটেড কর্মকর্তার নিকট যায় সত্যায়িত করার জন্য তখন গেজেটেড কর্মকর্তা কাগজ পত্র সত্যায়িত করতে চান না। আবার অনেক সময় করলেে তাকে টাকা দিতে হয়।নতুবা বলে আমার সময় নাই। অথবা আপনাকে আমি চিনি না।অন্য সময় আসেন।বিভিন্ন টালবাহানা করে থাকে।কিন্তু এদিকে চাকরির দরখাস্ত ও করতে হবে।তখন তারা বাধ্য হয়ে বিভিন্ন সীলের দোকান থেকে ভঁয়া সীল তৈরি করে নিজেরা তাদের কাগজপত্র সত্যায়িত করে ফেলে।চাকরি দাতা প্রতিষ্ঠানের ধরার কোন সুযোগ নেই।তাদের নাই চাকরি কিন্তু হয়ে গেল গেজেটেড কর্মকর্তা।উচ্চশিক্ষা লাভের পর অধিকাংশ শিক্ষার্থীর স্বপ্ন থাকে বিসিএস ক্যাডার হওয়ার।বিসিএস থেকে শুরু করে অধিকাংশ মন্ত্রনালয়ের প্রথম ও দ্বীতিয় শ্রেনীর চাকরিতে নিয়োগে প্রার্থী বাছাইয়ের পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশন(বিপিএসসি)বিগত বছরগুলোতে বিসিএস পরীক্ষার জন্য ধার্যকৃত ফি ছিল পাঁচশ টাকা।৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় তা বাড়িয়ে করা হয়েছে সাতশ টাকা(প্রতিবন্ধী ও উপজাতি বাদে)। যে সব শিক্ষার্থীর নিজস্ব কমপিউটার ও ইন্টারনেট সুবিধা নাই তাদের আবেদন পক্রিয়া সম্পন্ন করতে খরচ হয়েছে কমপক্ষে আটশ টাকা।এবছর বিসিএস পরীক্ষায় অংশগ্রহন করার জন্য আবেদন করে ২লাখ ৪৪হাজার ১০৭জন শিক্ষার্থী।আবেদন কারীদের মধ্যে যদি প্রতিবন্ধী,উপজাতি শিক্ষার্থীর সংখ্যা আনুমানিক ১০হাজার ১০৭জন হয় ,তাহলে সাধারন শিক্ষার্থীর সংখ্যা ২লাখ ৩৪হাজার।সাধারন শিক্ষার্থীদের প্রতিজনের কাছ থেকে পরীক্ষার ফি বাবত টাকা নেয়া হয়েছে সাতশ টাকা।এ হিসাবে টাকার পরিমান দাড়ায় ১৬কোটি ৩৮লাখ টাকা।কমিশন কর্তৃক অন্যান্য মন্ত্রনালয়ের জন্য প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেনীর (নন-ক্যাডার)পার্থী বাছায়ের ক্ষেত্রে পরীক্ষার ফি বাবদ তিনশ এবংফরম বাবদ একশ টাকা পরিশোধ করতে হয়।যা কোন শিক্ষিত বেকার লোকের পক্ষে সম্ভব না।তাই দেশের সরকারি ও বেসরকারি যে সব প্রতিষ্ঠান লোক নিয়োগ করে তারা যদি বেকার লোকদের দিকে সুদৃষ্টি না দেয় তাহলে তারা দেশের জন্য কোন কাজ করতে পারবে না।শিক্ষিত বেকার লোকদের মধ্যে এমন ও বেকার লোক রয়েছে যারা সুযোগ পেলে দেশের উন্নয়নে বিশাল ভূমিকা রাখতে পারবে। তারা কোন সুযোগ পায় না বিধায় তারা তাদের মেধাকে দেশের কাজে লাগাতে পারছে না।অপর দিকে চাকরিতে চেইন সিষ্টেম বাদ দিতে হবে।অর্থাৎ বাপ চাকরি করলে সেখানে ছেলে মেয়েরা অগ্রাধিকার পাবে তা হতে পারে না।যে ছেলে মেয়ের বাপ নেই তাদের জন্য কি অগ্রাধিকার এর ব্যবস্থা আছে?বাপ তার যোগ্যতা বলে চাকরি করছে ভালো কথা ।তার জন্য তার ছেলেমেয়েরা চাকরি তে অগ্রাধিকার পাবে তাহলে দেশের অন্য মেধাবীদের কি অবস্তা হবে।সব শেষ বলতে চাই দেশে যে হারে শিক্ষিত বেকার লোকের সংখ্যা বাড়ছে সে হারে চাকরি না হলে ছেলেমেয়েদের মনমানসিকতা নষ্ট হয়ে যাবে।তাদের অভিভাবকরা তাদের ছেলেমেয়ের আর লেখাপড়ার প্রতি আগ্রহী করে তোলবে না।দেশের কথা দেশের শিক্ষিত বেকার লোকদের কথা চিন্তা করে শিক্ষিত লোকেরা যাতেসহজে চাকরি পেতে পারে সে ব্যবস্থা করতে হবে।দেশে কর্মসংস্থানের অভাবে আমাদের শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা আস্তে আস্তে তারা অপরাধ জগতের দিকে চলে যাচ্ছে।অবসর থাকলে মানুষের মনে বিভিন্ন রকমের খারাপ চিন্তাভাবনা আসে।পৃথিবীর অনেক দেশে বেকার লোকদের জন্য বেকার ভাতার ব্যবস্থা আছে।বেকার লোকের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হলে বেকার ভাতা বন্ধ হয়ে যায়। তাই যেহেতু আমাদের দেশ গরীব সেহেতু আমাদের যেমন বেকার ভাতার ব্যবস্থা নেই সেক্ষেত্রে আমাদের যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কর্মের ব্যবস্থা করতে হবে।
লেখকঃ মোঃ ওসমান গনি,সাংবাদিক,কলামিস্ট

সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধান করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান কক্সবাজার রেড জোন,শনিবার থেকে আবারো লকডাউন এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।