সাংবাদিকতাঃ নৈতিকতা বনাম বাণিজ্য- মোঃ ওসমান গনি/ সাংবাদিক,কলামিস্ট

পোস্ট করা হয়েছে 05/08/2015-07:39pm:   
সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা ।এ পেশার মুল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য থাকতে হবে মানব সেবা করা।পৃথিবীতে মানব সেবা করার যতগুলো পন্থা আছে তার মধ্যে লেখার সেবাই সবচেয়ে উবের্ধ।লেখনির মাধ্যম্যে যেভাবে এদেশের সকল মানুষের উপকার করা যায় অন্য ভাবে তা করা যায় না।তাই এ পেশার সাথে জড়িত সকল কে দলমত ,লোভ লালসার উবের্ধ উঠে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে।তাহলে এ পেশার সম্মান ও ইজ্জত রক্ষা হবে।দেশের সর্বশ্রেনীর মানুষ মিডিয়ার লোকদের কে দেখবে সম্মানের চোখে।বাণিজ্য মনোভাবটা মন থেকে পরিহার করতে হবে।নিজের নীতি নৈতিকতা নিজেকে রক্ষা করে চলতে হবে।গত ১৫জুন সকাল ৮টা।মোবাইল ফোন বাজছে।রিসিভ করেই বোজা গেল ওপার থেকে কেউ একজন কাঁদছেন।কি সর্বনাশ করলেন আপনারা।আমাগো এক্কেবারে মাইরা ফালাইছেন।এইটুকু শুনে হতবাক প্রতিবেদক।রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায় খালার বাড়িতে বেড়াতে এসে স্থানীয় সন্ত্রাসীদের হাতে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন যে গৃহবধু ফোনদাতা সেই হতভাগ্য নারীর স্বামী।১১জুন এই পৈচাশিক ঘটনা ঘটে।এ ধর্ষনকান্ডে সাংবাদিকতার নৈতিকতাকে বলী দিয়ে কতিপয় বাণিজ্য লোভী গণমাধ্যম এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করছে যে,সেই নারী ও তার স্বামীর পরিচয় ফাঁস হয়ে গেছে।এর ফলে পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ হয়ে দাড়িয়েছে তা সহজে অনুমেয় ধর্ষিতা সেই অষ্টাদশী গৃহবধুর স্বামীর আহাজারিতে ।কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি বলেন Ñ আপনারা (সংবাদকর্মী)যা যা জানতে চাইছেন সব কই^িছ,হাতে ধইরা শুধু অনুরোধ করছিলাম ,আমাগো পরিচয় যেন কেউ না জানে।কিন্তু কয়েকটি টিভি ও পত্রিকা আমার নাম, কই কাম করি,গ্রামের ঠিকানা ,খালার নাম তার ছবি ঠিকানা দিয়া দিছেন।এখন বিভিন্ন জায়গা থেইক্কা আতœীয়-স্বজন আমারে ফোন দিয়া নানা কথা কইতাছে।গ্রামে বইন-ভাতিজিগো বিয়া দিমু কেমনে?সমাজে কেমনে আমরা এহন মুখ দেহামু?আমরা শেষ হইয়া গেলাম।আতœহত্যা করন ছাড়া আমাগো আর কোন পথ খোলা রাখলেন না আপনারা।মনে ভীষন খেদ নিয়ে বেচারা বলেন ,ঘটনা প্রকাশ করার সময় আমি সব সাংবাদিক ভাইদের কাছে আমাদের নাম পরিচয় গোপন রাখার অনুরোধ করেছিলাম।তেমন আশ্বাস ও পেয়েছিলাম।কিন্তু কিছু গণমাধ্যম ভুক্তভোগীদের নাম ঠিকানা কর্মস্থল উল্লেখ করায় এখন আমার পুরো পরিবার বিপাকে পড়েছে।আমার খালার ছবিও টিভিতে দেখানো হয়েছে।আক্ষেপ করে তিনি বলেন,তবে নাম ঠিকানা প্রকাশ পাওয়ায় সামাজিকভাবে হেয় হওয়া ছাড়াও গ্রামের মানুষের কটুকথা শুনতে হবে।তারা আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে কিনা ,এমন প্রশ্নও রাখেন তিনি।দুঃখের বিষয় ।ভুক্তভোগী হওয়ার পরও সামাজিক অবস্তানের কথা বিবেচনা করে ধর্ষিতা নববধু সেই রাতে মারধরের কথা স্বীকার করলেও ধর্ষনের বিষয়টি খোদ স্বামীর কাছে গোপন রেখেছিলেন।পরে শারীরিকভাবে অসুস্থ্য হয়ে পড়লে খালার কাছে বষয়টি খুলে বলেন।এর পর স্বামীর কানে আসে খালার মাধ্যমে।খালাই তাকে হাসপাতালে নিয়ে যান,থানায় অভিযোগ করেন।সেখানে ভুক্তভোগীর স্বামীর মাধ্যমে ঘটনা জানতে পারেন সাংবাদিকরা।যে নারী ইজ্জতের ভয়ে এতো কষ্টের ঘটনা লুকাতে চেয়েছিলেন ,মিডিয়ার কারনে সেটি ফাঁস হয়ে গেল।এ আমাদের পুরো গণমাধ্যমের জন্যই লজ্জার। ভীষন লজ্জার।কোথায় চলছে আমাদের গনমাধ্যম –এই প্রশ্নও সামনে নিয়ে আসে এ ঘটনা। বিশুদ্ধ পানির যেমন গন্ধ ,বর্ণ,স্বাদ নেই, একজন বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকের অবস্তাটাও তেমন।প্রকৃতপক্ষে সাংবাদিক ও সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা ও নেশা।এটা কেউ বেছে নেয় পেশা হিসাবে। অনেকে আবার নেশা হিসাবে।পেশা এবং নেশা যাই থাকুক ,এ পর্ষদে থেকে পাঠাকে খাসী, গাধাকে হাতি ,স্বৈরতন্ত্রকে গণতন্ত্র ,গণতন্ত্র কে স্বৈরতন্ত্র ,তিলকে তাল, দুর্নীতিবাজকে সাধু ,কালাকে সাদা,অস্বচ্ছকে স্বচ্ছ, বলার কোনো সুযোগ এ পরিধারার গঠনতন্ত্রের ডিকসনারীতে নেই।তদুপরি কারো পাইরুবিও তোষামোদিতা করে ,কাহাকে ও আকাশসম প্রশংসায় তুলে নেয়া এবং কাহাকে ও দোষারোপের তলানিতে আটলান্টিকের তলদেশে নিয়ে যাওয়াটাও সাংবাদিকতার বৈশিষ্ট্য লঙ্ঘন ও অপসাংবাদিকতারই নামান্তর।অপসাংবাদিকতা ,হলুদ সাংবাদিকতা, বেপরোয়া সাংবাদিকতা,দিকভ্রান্ত সাংবাদিকতা,ও তোষামোদ মার্কা সাংবাদিকতার সংবাদ,সংবাদ প্রতিবেদন,ফিচার ,কলাম যখন কোন কাগজে বের হয় এবং এ নিয়ে যখন সমালোচনা ও প্রতিবাদের কন্ঠ উচ্চারিত হয়, তখন একজন নগণ্য তখন একজন সাংবাদিক ও কলাম লেখকের দুঃখ কষ্টের শেষ থাকে না।মুল কথা ও সাংবাদিকতার থিম হচ্ছে ভয়ভীতি,রাগ , অনুরাগ,বিরাগ, পায়রুবি ও তোষামোদগিরি উপেক্ষা করে সত্যের অনুসন্ধান, প্রতিফলন ও বেহুঁশকে জাগ্রত করণ।এ জায়গায় সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্যে মিশ্রিত করারও কোন সুযোগ নেই।একজন ভাল সাংবাদিক সব সময় সত্য উদঘাটন করতে প্রতিশ্র“তি বদ্ধ।এর বাহিরে যাওয়ার সুযোগ একবারেই অনাখাংকিত।দেশ বিদেশের কোন বড় মাপের লেখক, সাংবাদিক ও কলামিস্টকে এ নিয়মের বাহিরে যেতে তেমন একটা চোখে পড়েনি।যতোটুকু দেখা যায় সব কিছু থেকে তারা নিজেদেরকে আড়াল করে রাখতে চায়।তবুও তাদের বাহ্যিক আচার আচরন, খাওয়া-দাওয়া, বেশভূষা ,ও চলাফেরায় ও দেখা যায়নি তেমন কোন অহংকারের ভাব।যদিও সাংবাদিকতার এ সাইনবোর্ডের অপব্যবহার করে অনেক কিছূ করার মতো সুযোগ থাকে তাদের।আমার সাংবাদিকতার জীবনে দেশের অনেক বড় মাপের সাংবাদিকের সঙ্গে অনেকবার ওঠাবসার সুযোগ হয়েছে। তাদের মধ্যে দেখতে পেয়েছি তাদের সুন্দর ও অভূতপূর্ব পারফরম্যান্স, স্বচ্ছতা ও নিয়মানুবর্তিতা।বর্তমানে আমাদের দেশে সাংবাদিকতা শব্দটির সাথে যোগ হয়েছে হলুদ সাংবাদিকতা, অপসাংবাদিকতা, ও তোষামোদ সাংবাদিকতা।১৯৯১সালে দৈনিক আজকের কাগজ ,দৈনিক বাংলার বাণী সহ আরও কয়েকটি পত্রিকার থানা প্রতিনিধি হিসাবে কাজ করে এবং সম্প্রতি একজন নগণ্য কলাম লেখক হিসাবে আজ ও কোথায়ও গিয়ে নিজেকে জাহির করতে লজ্জা হয়।যদি কেহ অকপটে জেনে যায় ,সেটা অন্য কথা।যদি এ ব্যাপারে কেহ জিজ্ঞাসা করে ,তবে যতোটুকু পারি নিজেকে চাপিয়ে যাই।অনেক সময় চুপ করে থাকি।রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান সহ যেকোন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকতার পরিচয় দিয়ে কোনদিনই চেষ্টা করি না কর্তৃপক্ষের একটি পাস সংগ্রহ করে তা বুকে ঝুলিয়ে নিজেকে জাহির করার।যদিও প্রায় অনেক দিন যাবত পত্রিকার সাথে জড়িত।এতদিন যাবত বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করে আসলেও তা বলতে তেমন একটা আগ্রহ হয় না।অনেক সময় মন চায় নিজের নামে না লিখে অনেকের মতো ছদ্মনামে লিখি। কিন্তু এতদিন ধরে স্বনামে লিখছি বলেই তা যেন রদবদল করতে বিবেক সাড়া দেয়নি।এ ব্যাপারে গুনগ্রাহী ,স্বজন ,বন্ধবান্ধব, লেখক কলামিস্ট ও দেশের পথিতযশা বেশ কয়েকজন সাংবাদিকের সাথে কথাও বলেছি।তাতে কেউ সাড়া না দিয়ে বলছেন দেশ বিদেশের অনেকেই তা নিজ নামে লিখছেন।দেশের জেলা উপজেলা বা যে কোন স’ানে ভিভিআইপি মর্যাদার কেউ সফরে আসলে প্রিন্টও ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক আগ থেকেই নির্ধারিত হয়ে থাকে। তন্মধ্যে বিটিভি ও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস)তো কথাই নেই।তাদের সহযোগিতা করার জন্য স্থানীয় কিছু প্রিন্ট মিডিয়ার সাংবাদিকদের তাদেরই পরামর্শে নিউজ কভারের জন্য জানানো হয়ে থাকে।এ সময় লক্ষ্য করলে দেখা যায় ,জেলা ও উপজেলায় কোন গুরুত্বপূর্ন ভিভিআইপির আগমনের সংবাদ পেয়ে একশ্রেনীর সাংবাদিক কর্তৃপক্ষের পাসের জন্য নাওয়া খাওয়া ছেড়ে ঘুর ঘুর করতে থাকে। এ যেন অবস্থাদৃষ্টে সোনার হরিনের মতোই মনে হয়।এতে অনেকেই হয়তো ভাবেনা তাদের নিজেদের ভাবমূর্তি ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক, সাংবাদিকতা,ও সংশ্লিষ্ট কাগজটিকে কোথায় নিয়ে দাঁড় করাচ্ছেন। প্রায় সময় শোনা নিজের বা আত্মীয়স্বজনদের মামলা মোকদ্দমা এবং অন্যান্য স্বার্থ সংক্রান্ত ব্যাপারে সাংবাদিকতার পরিচয় পত্রটি এমন জায়গায় প্রদর্শন করা হয় যা নিয়ে নাকি কর্তৃপক্ষের হাসি তামাশার উদ্রেগ হয়।জানা যায় এমনি ভাবে অনেকেই তাদের নিজেদের স্বার্থ উদ্ধার করে থাকে।যেটা একজন ভালমানের সাংবাদিকের পক্ষে কোন ভাবেই সম্ভব না।আবার অনেকেই বিভিন্ন অফিস আদালতে যায় ।তাদের কাধে ঝুলানো থাকে ক্যামারা।বড় বড় কর্মকর্তাদের সামনে গিয়ে কিছু কিছু ইংরেজী ও বলার চেষ্টা করে থাকে।তাদের ইংরেজীর ভুল উচ্চারন শুনে অফিসের কর্মকর্তারা হতভম্ব হয়ে যাওয়া ছাড়া তাদের কোন উপায় থাকে না।তাদের অনেকেরই কোন উচ্চ শিক্ষা নেই। তারা টাকা পয়সা দিয়ে পত্রিকা অফিসকে ম্যানেজ করে কোন রকমে একটি আইডি কার্ড সংগ্রহ করেছেন।তারা অনেকেই কোন প্রকার নিউজ লেখতে পারেন না।স্ব স্ব স্থানের অভিজ্ঞ সাংবাদিক কে টাকা পয়সা নিয়ে নিউজ লেখান।তাদের তেমন কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকার কারনে তাদের চলাফেরায় অনেক সমস্যা হয় ।তাই কোন পত্রিকা তাদের প্রতিনিধি কে আইডি কার্ডটি দেওয়ার আগে তার পড়ালেখা ,পারফরম্যান্স,যাচাই করে নেওয়াটা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন দেশের অভিজ্ঞ সাংবাদিক মহল।তা হলে প্রকৃত বাস্তব নির্ভর ও সৃজনশীল সাংবাদিক হিসাবে পরিচয় দেয়াটা অনেক সময় লজ্জার কারন হয়ে দাড়ায়।এতে করে ঐপত্রিকার মানসম্মান ও নস্ট হয়।তাছাড়া অনেক সময় দেখা যায় কোন বড় কর্মকর্তার ব্যাপারে প্রশংসাসূচক কাজের কোর সংবাদ ছাপিয়ে সেই সাংবাদিক গুনধর কর্মকর্তার নিকট কাগজ নিয়ে হাজির হয়ে এমন তোয়াজ ও অভিব্যক্তি করতে দেখা যায় যা দেখে এ পেশা ও এ নেশা থেকে সরে দাঁড়ানোটাই উত্তম বলে অনেকেরই মন্তব্য শোনা যায়। এ কাজ করে তো সে নিজেই হেয় হচ্ছে না।সে পুরো সাংবাদিক সমাজকে হেয়প্রতিপন্ন করেছে।এ বিষয়টি সংবাদপত্র প্রকাশনার সাথে জড়িত সকলকে গুরুত্ব সহকারে দেখা একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করেন দেশের বিজ্ঞমহল।ব্রিটিশের ২০০বছরের গোলামীর জিঞ্জির থেকে ১৭৪৭সালের ১৪আগস্ট পাকিস্তান,১৫আগস্ট ভারতের স্বাধীনতা লাভ এবং ১৯৭১সালের স্বাধীনতা যুদ্ধে দেশপ্রেমিক সাংবাদিকরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যে অবর্ণনীয় এবং অমানবিক কষ্ট করেছেন তাদের ত্যাগ ও আজ ও দেশের মানুষ গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতার সাথে স্মরন করে থাকে।সত্য ও বাস্তব সংবাদ পরিবেশন করতে গিয়ে অনেক সাংবাদিক ফাঁসির কাষ্ঠের রজ্জু থেকে রেহাই পায়নি।১৯৭১সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সয়ম ও অনেক জ্ঞানী গুণী সাংবাদিক কে প্রাণ দিতে হয়েছে পাকিস্তানী বর্বরদের হাতে।গত ২৮ এপ্রিল দেশের তিনটি সিটিকর্পোরেশন নির্বাচনের সময় ও অনেক সাংবাদিক আহত হয়েছে।এমনি ভাবে দেশ বিদেশে দায়িত্ব পালন করতে যেয়ে অহরহ বিভিন্ন স্তরের সাংবাদিকরা যেমনি আহত হচ্ছে ,তেমনি সত্য ঘটনার সংবাদ প্রচার হয়ে যাওয়ায় আগাম রোষানলে পড়ে নির্যাতিত ও নিহত হচ্ছে সাগর রুনির মতো অনেকেই।দেশ প্রেমিক রাজনৈতিক নেতাদের মতো মানুষ আজো স্মরন করে থাকে দৈনিক আজাদের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক মাওলানা আকরাম খাঁ,কবি নজরুলের কারারই লৌহ কপাট ,লাথি মার ভাঙরে তালা ,যতো সব বন্দি শালা আগুন জ্বালা,এ সমস্ত বিদ্রোহী কবিতা যারা ব্রিটিশের ফাঁসির রজ্জ কে তুচ্ছ করে সংবাদপত্রে প্রকাশ করেছিলেন তাদের কে।যুগবদলের সন্ধিক্ষনে আজও মানুষ স্মরন করে সাংবাদিক তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া ,এবিএম মুসা(মরহুম),কাজী শাহেদ আহমেদ,নিউ এজ সম্পাদক নুরুল কবিরসহ অনেককেই।সাংবাদিকতা তোষামোদ নয়,সত্যের অনুসন্ধান ,প্রতিফলন ও বেহুঁশদের জাগ্রত করণ।সাংবাদিক নামের সাংঘাতিক,তোষামোদ ও পায়রুবীকারিরা সত্যিকারের শিক্ষা গ্রহন না করলে চট্রং ভডং হওয়ার সম্ভবনাই বেশি।এ চটংভডং অন্যদেরকেও প্রভাবিত করার সুযোগ থেকে যায়।অবষেশে বলতে চাই আমরা যারা সাংবাদিকতা করি আমাদের সকলকে সাংবাদিকতার মুল পথে থেকে কাজ করে এগিয়ে যেতে হবে।সাংবাদিকতা মহৎ পেশা ।তোষামোদ করা কোন ভালমানের সাংবাদিকের কাজ নয়।তোষামোদ করে সাংবাদিকতা করতে গেলে নিজে যেমন সমাজের কাছে হেয়প্রতিপন্ন হতে হয় মিডিয়া জগতের সকলেই একজনের জন্য তাদের মান ইজ্জত নষ্ট হয়।তাই তোষামোদী সাংবাদিকতা পরিহার পরিহার করতে হবে।এতে করে সকল সাংবাদিকের মানসম্মান রক্ষা হবে।সাংবাদিকতা পেশাকে কখনও বাণিজ্যিকভাবে নেওয়ার চিন্তা করা যাবে না।যে সমস্ত সাংবাদিক ব্যবসা বাণিজ্য করার চিন্তা ভাবনা নিয়ে সাংবাদিকতায় আসছেন বা আসতে চাইছেন তারা এ থেকে দুরে থাকাই ভালো হবে।সাংবাদিকের লেখার কারনে কোন জাতি, কোন পরিবার, দুনিয়া থেকে চলে যেতে হবে এধরনের সাংবাদিকতার দরকার নেই।লেখার প্রথমে ও বলেছি এখনও বলছি যারা মানব সেবা ,সমাজসেবা করার উদ্দেশ্য নিয়ে সাংবাদিকতা করতে আগ্রহী শুধু মাত্র তারাই এ পেশায় আসা উচিত।টাকার জন্য সংবাদ লিখে কোন জাতি, কোন পরিবার, কোন ব্যক্তি কে ধবংস করে দেয়া হবে এটা সাংবাদিকতা হতে পারেনা।নিয়মনীতির মধ্যে থেকে সাংবাদিকতার কলম চালিয়ে যেতে হবে।কালো কে কালো আর সাদাকে সাদা বলার মতো সাহস থাকলে এ পেশায় আসা উচিত।
লেখক পরিচিতি সাংবাদিক,কলামিস্ট

সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধান করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান কক্সবাজার রেড জোন,শনিবার থেকে আবারো লকডাউন এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।