মেয়রের প্রথম রাতের বেড়াল / কামরুল হাসান বাদল কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 30/07/2015-05:00pm:   
প্রথম রাতে বেড়াল মারার গল্পটি বাঙালি সমাজে বেশ প্রচলিত ও জনপ্রিয়। কাজেই গল্পটি বিবৃত করা বাহুল্য হবে বৈকি। সবাই জানেন বাসর রাত ছাড়াও কোনো কিছু শুরু করার প্রথমেই শক্ত একটি বার্তা প্রদান বোঝাতেও এই প্রবাদটি ব্যবহৃত হয়। চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের নব নির্বাচিত মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিনের দায়িত্ব গ্রহণ কালে তাঁর কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েই মূলত আলোচনা করব আজ।
নির্বাচিত হওয়ার ২ মাস ২৮ দিন পর গত সোমবার নগর ভবনে ২৩৫ কোটি টাকা দেনার দায় নিয়ে মেয়রের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। দায়িত্ব গ্রহণকালে উপস্থিত সংবাদ মাধ্যমকর্মীদের কাছে তার কিছু সিদ্ধান্তের কথাও জানিয়েছেন। সেখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা বলেছেন নতুন মেয়র। জলাবদ্ধতার বিষয়ে জানতে চাইলে উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি জানান, অনেকে মনে করেন জলাবদ্ধতাই একমাত্র সমস্যা, তবে আমার কাছে মনে হয়েছে এ মুহূর্তে সিটি কর্পোরেশনের সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো প্রশাসনিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনা। তিনি বলেন, ‘যাদের নিয়ে নাগরিক সেবা নিশ্চিত, উন্নত ও বিস্তৃত করব তাদের অবস্থা যদি বেহাল থাকে তবে কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্বব হবে না।’
এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বলতে হবে তাঁর। কারণ তাঁর পূর্বে যিনি মেয়র হিসেবে প্রায় পাঁচ বছর সিটি কর্পোরেশন চালিয়েছেন তিনি প্রকৃতপক্ষে একজন দক্ষ প্রশাসক ছিলেন না। এম মনজুর আলম ব্যক্তিগতভাবে একজন সৎ, সজুন নির্ঝঞ্ঝাট ব্যক্তি। তাঁর ভদ্রতার সুযোগে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক শৃঙ্খলা এক প্রকার ব্যাহত হয়েছিল। অবশ্য এর জন্য আরও বহুবিধ কারণ আছে। তা বলতে গেলে লেখার কলেবর অনেক বৃদ্ধি পাবে। মহিউদ্দিন চৌধুরীর সময়ে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নগরীর প্রায় সড়ক/গলিগুলো নিয়মিত মেরামত করে যান চলাচল উপযোগী রাখা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যখাতে মান ও সেবা বাড়িয়ে দেশের অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনের কাছে মডেল হিসেবে বিবেচিত হয়েছিল। কিন্তু মেয়র মনজুর সাহেবের গত পাঁচ বছরে এর কোনোটির উন্নতিতো হয়-ইনি বরং মান কমেছে অনেক গুণ। মহিউদ্দিন চৌধুরীর ১৭ বছরের যে কোনো পাঁচ বছরের তুলনায় মনজু সাহেবের কাজের হিসাব অত্যন্ত অল্প। অতএব নতুন মেয়র তাঁর প্রথম কাজ হিসেবে প্রশাসনিক শৃংখলা ফিরিয়ে আনার যে পরিকল্পনার কথা বলেছেন তা নিঃসন্দেহে বাস্তব সম্মত।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন তিনি কাউন্সিলরদের উদ্দেশে। অকারণে সিটি কর্পোরেশনে ঘোরাঘুরি না করতে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেছেন, ‘আইন অনুযায়ী কাউন্সিলরদের যতটুকু অধিকার তারা ততটুকু ভোগ করতে পারবেন। নিজ নিজ ওয়ার্ডে কাউন্সিলরদের অফিস আছে সেখানে তারা অফিস করবেন। কোনো প্রয়োজন থাকলে সেটা মেয়রকে অবহিত করবেন। সাধারণ সভায় এলাকার প্রয়োজন তুলে ধরবেন। সরাসরি বিভাগীয় কর্মকর্তাদের কক্ষে যেতে পারবেন না। ঠিকাদারদের বিলে মূল্যায়ন স্বাক্ষর করার মাধ্যমে অবৈধ সুবিধা বন্ধ করার ঘোষণা দিয়ে তিনি বলেন, ‘এটি বন্ধ করা হবে। আমি সরাসরি প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার নিকট থেকে কাজ বুঝে নেব।’ নিজের ব্যাপারে বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন,’ ‘আমার সিদ্ধান্ত থেকে কেউ আমাকে সরাতে পারে না। গুলি করেও পারবে না। আমি কোনো সন্ত্রাসীকে ভয় পাই না।’
প্রথম রাতে মেয়র সাহেব কেমন বেড়াল মারলেন তা বোঝাতে কিঞ্চিত উল্লেখ করলাম তাঁর বক্তব্যের। মনে হলো তিনি ভালোই একটি বার্তা দিয়েছেন সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তা-কর্মচারী, কাউন্সিলর, ঠিকাদার ও সন্ত্রাসীদের। আমরা যারা সাধারণ মানুষ, বিশেষ কিছু বুঝি না মেয়রের এমন কথাবার্তায় বেশ উদ্বেলিত হয়েছি, আশাবাদী হয়েছি। এখন শুধু তাঁর এসব উক্তি, সিদ্ধান্ত ও নির্দেশের বাস্তবায়ন দেখার আশায় আছি।
এসবের ভেতর তিনি অতিশয় গুরুত্বপূর্ণ আরও কিছু কথা বলেছেন। এ বার সেসব নিয়ে বলি নাগরিক সেবা নিশ্চিত না হলে চসিকের স্বাস্থ্য বিভাগ বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি। এ সময় তিনি শিক্ষা বিভাগের ভর্তুকি কমিয়ে আনতে শিক্ষার্থীদের বেতন বাড়িয়ে দেওয়ার কথাও বলেন।
পাঠকবৃন্দ নিশ্চয়ই অবগত আছেন অন্তত দুটি ক্ষেত্রে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন অনন্য ভূমিকা পালন করে থাকে। যা দেশের অন্য কোনো কর্পোরেশন সাধারণত করে না। একটি হচ্ছে শিক্ষা ও অন্যটি স্বাস্থ্য। এত স্কুল, কলেজ ও ক্লিনিক হাসপাতাল অন্য কোনো কর্পোরেশনের নেই। অবশ্য সিটি কর্পোরেশনের যে কাজ তার মধ্যে এ দুটির উল্লেখও নেই। তবুও দীর্ঘদিন ধরে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন তা করে এসেছে। অবশ্য কর্পোরেশন হওয়ার আগে যখন পৌরসভা ছিল তখনও অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করতো পৌর সভা তবে তা বর্তমানের সময় এত বেশি ছিল না।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভার শিক্ষা কার্যক্রম নতুন কিংবা কয়েক দশকের নয়। এর পেছনে এক মহান ব্যক্তির অবদান মনে রাখতে হবে। এই উপমহাদেশের মধ্যে চট্টগ্রাম পৌরসভা ছিল প্রথম যেখানে প্রথমবারের মতো প্রাথমিক শিক্ষাকে অবৈতনিক ঘোষণা করা হয়েছিল। আর এই মহান কর্মটি সাধন করেছিলেন মরহুম নূর আহমদ চেয়ারম্যান। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ১৯১৬ সালে ইতিহাসে এম.এ ডিগ্রি লাভ করেছিলেন চ্যান্সেলর স্বর্ণপদকসহ। ১৯১৮ সালে তিনি পৌরসভার কাউন্সিলর ও ১৯২১ সালে চট্টগ্রাম মিউনিসিপ্যালিটির চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এবং ১৯৫৪ সাল পর্যন্ত একটানা ৩৩ বছর দায়িত্ব পালন করেন। ১৯২৭ সালে তিনি চট্টগ্রাম পৌর এলাকায় অবৈতনিক প্রাথমিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করেন। এর পরের বছর তা মেয়েদের জন্যও বাধ্যতামলূক করে প্রতি এলাকায় প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা গ্রহণ করেন। তিনি পৌরসভায় স্কুল পরিদর্শক নিয়োগ দেন। তাঁর প্রচেষ্টায় এ সময় অভিভক্ত বাংলায় চট্টগ্রাম পৌর এলাকায় শিক্ষার হারে সর্বোচ্চ স্থান লাভ করে। তাঁর সময়ে প্রায় ৬২টি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা হয়। ১৯৬২ সালে তৎকালীন পৌর প্রশাসক আলকরণ পৌর প্রাথমিক বিদ্যালয়কে নিম্ন মাধ্যমিক স্কুলে পরিণত করে তা নূর আহমদ চেয়ারম্যানের নামে নামকরণ করেন। সে থেকে চট্টগ্রাম পৌরসভা শিক্ষা বিস্তারের বিস্তৃত পরিসরে প্রবেশ করে। এরপরে শিক্ষা বিস্তারে মহৎ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেন মহিউদ্দিন চৌধুরী। তাঁর আমলে সিটি কর্পোরেশনের স্কুলের শিক্ষার মান বৃদ্ধি পায়। এক সময় ‘বালতি স্কুল’ বলে যে সব স্কুলকে ব্যঙ্গ করা হতো মহিউদ্দিন চৌধুরী সে সব স্কুলের বদনাম, দৈন্য, অচলাবস্থা ঘুচিয়ে মান সম্পন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেন। তাঁর সময়ে বহু বিদ্যালয় অন্তর্ভুক্ত হয়েছে সিটি কর্পোরেশনে। অনেক বিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসে কলেজ প্রতিষ্ঠা করেছেন এবং নিম্ন মাধ্যমিক পরিবারের আর্থিক সঙ্গতিপূর্ণ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেছেন। বর্তমানে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৯০ হাজার।
স্বাস্থ্য সেবাও চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন ভূমিকা অনন্য তা পূর্বেও বলেছি। বিশেষ করে মহিউদ্দিন চৌধুরীর মেয়রকালীন ছিল তার স্বর্ণযুগ। মহিউদ্দিন চৌধুরীর প্রচেষ্টা ও আন্তরিকতায় নগরে বিশেষ করে মাতৃসদন হাসপাতালগুলো সেবার ক্ষেত্রে অনন্য নজির স্থাপন করেছিল। মেমন মাতৃসদন হাসপাতালের মান চট্টগ্রামের যে কোনো প্রাইভেট ক্লিনিকের চেয়েও উন্নত মানের ছিল। সরকারি স্বাস্থ্য সেবার পাশাপাশি চসিকের স্বাস্থ্য সেবা সমান্তরাল হয়ে উঠেছিল এই নগরে। বলা বাহুল্য মহিউদ্দিন চৌধুরীর মেযরকালীন শিক্ষা বিভাগের মতো স্বাস্থ্য বিভাগও যথেষ্ট সুনাম ও আস্থা অর্জন করেছিল। এবং সে সাথে দুঃখজনক হলেও বলতে বাধ্য হচ্ছি যে, এম মনজুর আলম তাঁর পাঁচ বছরের মেয়াদে এই ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে পারেননি।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের অধীনে বর্তমানে ১টি জেনারেল হাসপাতাল, ৬টি মাতৃসদন হাসপাতাল, ২০টি দাতব্য চিকিৎসালয়, ৩৬টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, ১০টি হোমিওপ্যাথি দাতব্য চিকিৎসা কেন্দ্র, ১টি হোমিওপ্যাথি মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, ১টি ইনস্টিটিউট অব হেলথ টেকনোলজি, ১টি মিডওয়াইফারি ইনস্টিটিউট, ৭টি ইপিআই জোন ও খৎনা সেন্টার রয়েছে। বর্তমানে এসব প্রতিষ্ঠানে ১১০৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরিতে নিয়োজিত আছেন।
সিটি কর্পোরেশনের বহুল প্রশংসিত এ দুটি খাতে বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হয়। মেয়র বলেছেন, প্রতি বছর এত বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে এই দুটি বিভাগ চালানো সম্ভব নয়। নাগরিক সেবা নিশ্চিত না হলে তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। অন্যদিকে শিক্ষাখাতে ভর্তুকি কমাতে শিক্ষার্থীদের বেতনবৃদ্ধি করার কথাও বলেছেন তিনি। সাধারণত কোনো প্রতিষ্ঠান বিশেষ করে সিটি কর্পোরেশনের প্রতি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলো দিন দিন তাদের সেবার বিস্তার ঘটান ও তার মান বৃদ্ধির চেষ্টা করে থাকে। ‘সেবার মান নিশ্চিত না হলে’ এ কথার মাধ্যমে মেয়র মহোদয় তাঁর অবস্থান বা ঘোষণারই বিপরীত কথা বললেন। সেবার মান নিশ্চিত করতে পারা তো তাঁরই দায়িত্ব। তিনি মেয়র থাকা অবস্থায় এর ব্যর্থতায় দায়তো তাঁকেই নিতে হবে। তিনি যদি ‘প্রশাসনিক শৃংখলা’ ফিরিয়ে আনতে পারেন তাহলে সেবার মান নিশ্চিত হবে না কেন? সিটি কর্পোরেশনের ভর্তুকি বলতে সিটি মেয়র কী বোঝালেন? স্কুল-কলেজ-হাসপাতাল অর্থাৎ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য বিভাগ কি বাণিজ্যিক বিভাগ বা প্রতিষ্ঠান যে, এখান থেকে সিটি কর্পোরেশন লাভের আশা করবে। দুদিন পরে মেয়র মহোদয় কি বলবেন, ভর্তুকি দিয়ে দিয়ে প্রতি বছর নালা-খাল পরিষ্কার রাখা যাবে না। বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। কাজেই মাসে একবার ময়লা পরিষ্কার করা হবে।
মেয়র একজন রাজনীতিবিদ। ছাত্র রাজনীতি থেকে ক্রমে ক্রমে তাঁর আজকের অবস্থান। তিনি কি জানেন না শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুবিধা জনগণের অধিকার। পাঁচটি মৌলিক অধিকারের মধ্যে এ দুটিও অন্যতম যা প্রতিটি নাগরিকের জন্য নিশ্চিত করতে হয় রাষ্ট্রকে। আর শিক্ষা ক্ষেত্রে ভর্তুকির যে কথা তিনি বলেছেন তা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিভঙ্গির বিপরীত। সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করতে গিয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজেই অনেকবার বলেছেন, শিক্ষাখাতে ব্যয় নয়, এটি ভবিষ্যতের জন্য ‘ইনভেস্টমেন্ট’।
দেশের স্বাস্থ্য সেবা যখন বাণিজ্যপ্রবণ হয়ে উঠছে, সাধারণ, বিত্তহীন ও নিম্নবিত্তদের কাছে চিকিৎসা সেবা যখন কঠিন হয়ে পড়ছে সে সময় চালু স্বাস্থ্য সেবা বন্ধ করার ঘোষণা কতটা যৌক্তিক, মানবিক ও দূরদর্শীসম্পন্ন তা ভাবতে হবে। সিটি কর্পোরেশন এলাকায় এখন প্রায় ৫০ লাখ মানুষ বাস করে। এর বিপরীতে সরকারি স্বাস্থ্য সেবা এই নগরে অত্যন্ত সীমিত। এ ক্ষেত্রে চসিকের স্বাস্থ্যসেবা নগরবাসীর বিশেষ করে গরিব ও নিম্নবিত্তদের কাছে একমাত্র অবলম্বন ছিল।
স্বাধীনতার পরে নতুন করে সরকারি কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হয়নি চট্টগ্রামে। সে সাথে পূর্বের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আসন সংখ্যাও তেমন বৃদ্ধি করা সম্বব হয়নি। এই প্রতিষ্ঠান কিছু স্কুল কলেজ চালায় বলে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থী কম খরচে পড়া লেখার সুযোগ পাচ্ছে। মেয়রের প্রস্তাবিত বেতন বৃদ্ধি অভিভাবকদের যেন নাভিশ্বাস না তোলে সেদিকে খেয়াল রাখা উচিত। মেয়র মহোদয় যদি বন্ধ করার কথা না বলে তার মান বৃদ্ধির কথা বলতেন নাগরিকদের মধ্যে স্বস্তির উদয় হতো।
আরেকটি বিষয় না বলে পারছি না। দায়িত্ব গ্রহণকালে এই প্রতিষ্ঠানের অন্যতম দুটি খাত স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগ নিয়ে তাঁর এই উপলব্ধি বা সিদ্ধান্তের কথা তো তাঁর নির্বাচনী ইশতেহারে ছিল না। নির্বাচনের আগে তিনি তো কোথাও বলেন নি, নির্বাচিত হলে এমন সিদ্ধান্ত তিনি নিতে পারেন। যারা ‘প্লোপিপল লিডার’ তাঁরা এমন কথা বলেন না। এমন সিদ্ধান্তও নেন না।
আমার মতো ছাইপাশ লিখনেওয়ালাদের একটু ঝামেলাও আছে। ফোনে সাক্ষাতে, কিংবা বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে অনেকে অনুরোধ করেন, ভাই এই বিষয় নিয়ে লিখুন, ওই বিষয় নিয়ে লিখুন। কিন্তু আমি তো জানি এসব লেখালেখিতে খুব বেশি কিছু হয় না।
আ.জ.ম নাছির সাহেব মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরের সপ্তাহে লিখেছিলাম, ‘সংবর্ধনা নয়, সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিন’। কলামটি যখন লিখেছিলাম তখন পর্যন্ত সম্ভবত তিনি ৬টির মতো সংবর্ধনা গ্রহণ করেছিলেন। আর লেখাটি প্রকাশ হওয়ার পর এবং দায়িত্ব গ্রহণের আগ পর্যন্ত তিনি আরও ৬০টি সংবর্ধনা গ্রহণ করে নতুন নজির স্থাপন করেছেন। প্রথমদিন তিনি বলেছেন নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে তিনি বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা ভেবেছেন। হতে পারে তবে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা বিভাগ নিয়ে তাঁকে নতুন করে ভাবতে হবে বলে মনে করি।
[email protected]

সর্বশেষ সংবাদ