বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে চলছে - মোঃ ওসমান গনি- সাংবাদিক ও কলামনিস্ট

পোস্ট করা হয়েছে 13/07/2015-09:25am:   
কুমিল্লাজেলা বিশেষ প্রতিনিধি
এক সময় বাংলাদেশ সারা বিশ্বে তলাবিহীন ঝুড়ি হিসাবে নিন্দিত হতো।যারা বাংলাদেশ কে তলাবিহীন ঝুড়ি বলতেন,তাদের হয়তো ধারনা ছিল যে বাংলাদেশ হয়তো আর কোন দিন উন্নত দেশে পরিনত হতে পারবে না।সাহায্যের জন্য বিশ্বের কাছে হ্যাঁ করে তাকিয়ে থাকতে হবে।তাদের সে ধারনা কে ভুল প্রমান করে,আমাদের স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশ আজ ক্রমান্বয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।এখন আর বাংলাদেশ সাহায্যের জন্য বিদেশের কাছে হ্যাঁ করে তাকিয়ে থাকে না।বঙ্গবন্ধু কন্যা বাংলাদেশের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার প্রজ্ঞা আর নিরলস পরিশ্রমের কারনে বাংলাদেশ আজ স্বনির্ভর দেশে পরিনত হয়েছে।
ঐ সময়ে যারা বাংলাদেশ কে তলাবিহীন ঝুড়ি বলেছিল আজ তারাই আবার বাংলাদেশ কে বিশ্বের উন্নয়নের মডেল হিসাবে জানে।দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুিজবুর রহমান শূন্য হাতে দেশ পরিচালনা শুরু করেছিল।দেশে তখন খাদ্য ঘাটতি ছিল।লোকসংখ্যা ছিল সাতকোটি।কিন্তু বর্তমানে আমাদের দেশে লোক সংখ্যা হলো ১৬কোটির ও বেশী।কিন্তু এখন আমরা আমাদের খাদ্য চাহিদা মিটিয়ে শ্রীলংকায় ৫০হাজার টন চাল রপ্তানি করে রপ্তানিকারক দেশের বনেদি তালিকায় যুক্ত হয়ে বাংলাদেশ।কৃষিবান্ধব সরকারের নীতি ও বিনিয়োগের কারনে দেশ আজ কৃষিতে স্বয়ংসম্পুর্নতা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছে।
শেখ হাসিনা বাংলার মাটি ও মানুুষের নেতা।তিনি স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের জ্যৈষ্ঠ কন্যা তার বাবা যেন বাংলার মানুষের স্বাধীনতার জন্য নিজের জীবন বিসর্জন দিয়ে আজ বাংলা তথা সারা বিশ্বের মানুষের মাঝে স্মরনীয় হয়ে আছেন তিনি ও ঠিক বাবার মতো পথ অবলম্বন করে এদেশের মানুষের ভোট ও ভাতের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন।তিনি বাংলার মাঝে বিভিন্ন সময়ে সভাসমাবেশ করে বলে থাকেন আমার চাওয়া পাওয়ার কিছু নাই।আমি চাই বাংলার মানুষের সুখ শান্তি।
বাঙালী ১৯৭১সালে স্বল্প সময়ে যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করে সারাবিশ্বে বীরের জাতি হিসাবে যে পরিচিতি লাভ করেছে সেই পরিচিতি ধরে রেখে যেন সামনের দিকে অগ্রসর হয়ে যেতে পারে। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিরের জ্যৈষ্ঠ সন্তান।তিনি ১৯৪৭সালের ২৮সেপ্টম্বর গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহন করেন।১৯৭৫সালের ১৫আগষ্ঠ কালোরাত্রিতে শেখ হাসিনা ও তার ছোট বোন শেখ রেহেনা জার্মানিতে অবস্থান করার কারনে প্রানে বেঁচে যান।সেই কালো রাতে শেখ মুজিব পরিবারের দুই বোন ছাড়া সকলকে গুলিকরে হত্যা করা হয়।সেই হত্যাকান্ডে অংশ নিয়েছিল বাংলার কতিপয় দুস্কৃতিকারী সেনা অফিসার।যাদের মধ্যে কয়েকজনকে জননেত্রী শেখ হাসিনা জনগনের ভোটে ক্ষমতায় এসে দেশের প্রচলিত আইনে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যু দন্ড কার্যকর করেছেন।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যাপর শেখ হাসিনা ইংল্যান্ডে চলে যান এবং সেখান থেকে ১৯৮০সালে স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন শুরু করেন।২০১৪সালের ৫জানুয়ারীর সংসদ নির্বাচনে জননেত্রী শেখ হাসিনাকে এদেশের জনগন বিপুল ভোটের ব্যবধানে আবার জয় লাভ করায় ।২০১৪সালের ১২জানুয়ারী শেখ হাসিনা তৃতীয়বারের মত প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ বাক্যপাঠ করেন। এর আগে ২০০৯সাল থেকে ২০১৩সাল পর্যন্ত দ্বিতীয়বারের মতো এবং১৯৯৬সাল থেকে২০০১সাল পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীন দায়িত্ব পালন করেন।তিনি তিন টার্ম প্রধানমন্ত্রী থাকার সুযোগে দেশেরও দেশের জনগনের কল্যানে ব্যাপক উন্নয়নমুলক কাজ করেন।তিনি দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় দেশের মানুষের আশার চেয়ে অনেক বেশী উন্নয়ন করেছেন।তিনি ঢাকার সাথে অতি সহজে দেশের মানুষ যাতে যোগাযোগ করতে পারে তার জন্য ফোরল্যান রাস্তা নির্মান করে সারা বিশ্ববাসীর মঝে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন।যেটা বাংলাদেশের মতো গরীব দেশের পক্ষে করা সম্ভব না মনে করত বিশ্বের অনেক দেশ।তিনি ঢাকাকে যানজট মুক্ত করার লক্ষ্যে ঢাকাতে বেশ কিছু ফ্লাইওভার নির্মান করেছেন।
যার কারনে ঢাকার শহরের যানজট অনেটা কমে গেছে।এখন ঢাকার আশেপাশের জেলার লোকজন অতি সহজে যোগাযোগ রক্ষা করে চাকরি জীবিরা ঢাকা থেকে গিয়ে আবার অনেকে ঢাকায় গিয়ে চাকরি ও ব্যাবসা বানিজ্য করছেন।যেটা বাংলাদেশের মানুষ কখনো ও কল্পন্ াকরতে পারত না।তিনি দেশের দক্ষিন অঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে পদ্মা সেতুর নির্মান কাজ শুরু করেছেন।যে সেতু নির্মানে অনেক দাতা দেশ সাহায্য করতে গিয়ে বার বার পিছ পা হয়ে গেছেন।পরবর্তিতে শেখ হাসিনা নিজ দেশের অর্থ দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মান করার ঘোষনা দেন এবং নির্মান কাজ শুরু করেন।এটা ও বাংলাদেশ তথা সারা বিশ্বের কাছে মাইল ফলক হয়ে থাকবে।
এছাড়া ও তিনি দেশের অনেক জেলা শহরে ও ফ্লাইওভার নির্মান কাছ শুরু করেছেন।তথ্য প্রযুক্তির ক্ষেত্রে ও শেখ হাসিনা বয়ে এনেছেন বিশাল সাফল্য।তথ্য প্রযুক্তির উন্নয়নের ফলে দেশের প্রতিটা মানুষ এখন ঘরে বসে দেশ বিদেশে ইন্টারনেটের মাধ্যমে কথা বলা আর্থিক লেনদেন অতি সহজে করতে পারছে। ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টার শেখ হাসিনার একটি বিশাল অবদান।শিক্ষাক্ষেত্রে ও তথ্য প্রযুক্তি প্রসার ঘটানোর লক্ষ্যে সরকারের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রত্যেক ছাত্র/ছাত্রীর হাতে ডিজিটালাইজড বই (নোট বুক)দেয়ার চিন্তা রয়েছে। যাতে করে ছেলেমেয়েরা ছোট থেকে তথ্য প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারনা নিয়ে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে পারে। যার কারনে দেশের জনগন বারবার তাকে রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় বসায়।
২০০৯সাল থেকে ২০১৫(চলমান)পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রী থাকা কালে দেশের ব্যাপক উন্নয়নমুলক কাজের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশ হতে সম্মানজনক উপাধি লাভ করে এনেছেন দেশের জন্য।এটি আমাদের কথা নয় শেখ হাসিনার সততা ও নিষ্ঠা দেশকে উন্নতির সোপানে নিয়ে গেছে।জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন বলেন বিশ্ব শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভুমিকার প্রশংসা করে বলেন ,বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নদৃষ্ট সোনার বাংলা বাস্তবায়নে বাংলাদেশ অনেক এগিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সহকারী স্টেট সেক্রেটারি নিশা দিশাই বলেন ,যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের উন্নয়ন -সহযোগী হওয়ায় গর্বিত।হেনরি কিসিঞ্জাররা একদা যেখানে বাংলাদেশের উন্নয়নের কোনো সম্ভবনাই দেখেননি ,সেখানে বর্তমানে তাদের উত্তরসুরিরা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ করতে পেরে নিজেদেরকে ধন্য মনে করেছেন।তার এই বিশাল সফলতার জন্য তিনি তার বাবার মতো সমগ্র বাঙালীর হৃদয়ে চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবেন ।তাতে কোন বিন্দু পরিমান সন্দেহ নাই।১৯৭৫সালে ১৫আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে স্বপরিবারে হত্যার আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতার বাহিরে ছিল।যার কারনে তৎসময়ে দেশের কোন উন্নয়নমুলক কাজ কর্ম হয়নি।তখন যারা দেশের রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় ছিল তারা দেশের ও দেশের মানুষের কল্যানে তেমন কোন কাজ করতে পারেননি।
এসময়ে তারা তাদের নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে ব্যস্তছিল।স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের সময় দেশে স্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। দীর্ঘ ২১বছর পর বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা শেখ পরিচালনা করার সুযোগ পায়।তিনি দেশের দায়িত্ব ভার গ্রহনের পর তার দলের নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে দেশের বিভিন্ন রকমের সমস্যার সমাধান করতে শুরু করেন।যার কারনে দেশের সকল পেশাশ্রেনীর মানুষ তার শাসনভারের প্রতি আস্থা অর্জন করতে থাকে।
তিনি দেশের জন্য কঠোর পরিশ্রম করে দেশের সাধারন মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছেন।১৯৮১সালে শেখ হাসিনা অনুউপস্থিতিতে তাকে সবসম্মতিক্রমে দলের সভাপতি নির্বাচিত করা হয়।সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার সময়ও তিনি দেশে ছিলেন না।সে সময় তিনি ছিলেন নয়াদিল্লিতে।১৯৮১সালের ১৭মে তিনি নিজ দেশে ফিরে আসেন। ১৯৭৩সালে শেখ হাসিনা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি লাভ করেন।তিনি সরকারি ইন্টারমিডিয়েট গার্লস কলেজের ছাত্র সংসদের সহ সভাপতি ছিলেন।তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের একজন সদস্য এবং ছাত্রলীগের রোকেয়া হল শাখার সাধারন সম্পাদক ছিলেন।তিনি ছাত্রজীবন থেকেই দেশের সব ধরনের আন্দোলনে সক্রিয় ভুমিকা পালন করেছেন।
১৯৮৬ সালের সাধারন নির্বাচনে তিনি তিনটি আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন এবং সংসদে বিরোধী দলের নেতা হিসাবে বলিষ্ঠ ভুমিকা পালন করেন।তিনি ১৯৯০সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদান করেন এবং সংবিধানের ৫১ ও ৫৬ ধারা অনুযায়ী ক্ষমতা হস্তান্তরের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার ঘোষনা প্রদান করেন।১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে শেখ হাসিনা পঞ্চম জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা নির্বাচিত হন।তখন তিনি রাস্ট্রপতি শাসিত সরকার ব্যসস্থা পরিবর্তন করে সংসদীয় সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের জন্য রাজনৈতিক দলসহ সকলকে সংগঠিত করেন।দেশে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য ১৯৯৪-১৯৯৫ সারে শেখ হাসিনা তত্ত্বাবধায়ক সরকার পক্রিয়া চালুর জন্য তীব্র আন্দোলন শুরু করেন।
তার আন্দোলনের ফলে সৃষ্ট তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত ১২জুন ১৯৯৬সালের সাধারন নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হিসাবে নির্বাচিত হয় এবং ২৩জুন ১৯৯৬সালে শেখ হাসিনা প্রধানমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেন।শেখ হাসিনার সরকার বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে অসাধারন সাফল্য অর্জন করেন।সে সময়কার তার সরকারের উল্লেখযোগ্য সাফল্যের মধ্যে রয়েছে ঐতিহাসিক গঙ্গার পানি বন্টন চুক্তি,পার্বত্য চট্রগ্রামে শান্তিচুক্তি ,যমুনা নদীর উপর বঙ্গবন্ধু সেতু উদ্বোধন সর্বোচ্চ পরিমান খাদ্যশস্য উৎপাদন ও নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদির দাম জনসাধানের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখা।
শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী যিনি তাঁর ৫বছরের মেয়াদপূর্তির পর ২০০১সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের নিকট ক্ষমতা হস্তান্তর করেন।২০০১সালের সাধারন নির্বাচনের পর তাঁর দলের নেতাকর্মী এবং দেশের সাধারন মানুষ নির্বিচারে হত্যা, নির্যাতন ও হয়রানির শিকার হয়।তৎসময়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা তাঁর দলীয় নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন এবং তাদের প্রতি সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেন।সাথে সাথে তিনি সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ও শান্তির পক্ষে দেশে জনমত গড়ে তোলেন।শেখ হাসিনাকে বার বার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। কিন্তু তিনি আল্লাহর অষেশ রহমতে দেশের জনগনের দোয়ায় সৌভাগ্যক্রমে বেঁচে যান।তার ওপর সবচেয়ে ভয়ংকর হামলাটি হয়েছিল ২০০৪সালের ২১শে আগষ্ট।সে দিন ঢাকার বঙ্গবন্ধু এভিনিউয়ে শেখ হাসিনার জনসভায় বৃষ্টির মতো এক ডজনের ও বেশী শক্তিশালী গ্রেনেড নিক্ষেপ করা হয়েছিল।এ সুপরিকল্পিত হামলার ফলে তাঁর দলের ২৪জন নেতাকর্মী নিহত হন এবং ৫০০জনের ও বেশী আহত হন।শেখ হাসিনা নিজেও কানে মারাত্নক ভাবে আহত হন।২০০৭সালের ১৬ই জুলাই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যমূলক মামলা দিয়ে শেখ হাসিনা গ্রেফতার করে জেলে পাঠানো হয়।
প্রায় এক বছর জেলে থাকার পর দেশ ও দেশের বাইরের প্রবল জনমতের কারনে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকার ১১জুন ২০০৮সালে শেখ হাসিনা কে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়।শেখ হাসিনা কে ১৯৯৭সালের ৬ফেব্র“য়ারী যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি ডক্টর অব ল-ডিগ্রি প্রদান করে।জাপানের ওয়াসেদা ইউনিভার্সিটি ১৯৯৭সালের ৪জুলাই তাঁকে সম্মানসূচক ডক্টর অব ল- ডিগিতে ভূষিত করে।এছাড়া ইউনিভার্সিটি অব লিবারটি এবং যুক্তরাজ্যের ডানডি ইউনিভার্সিটি ১৯৯৭সালে তাকে ফিলসফি ইন লিবারেল আর্টস -এ সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।
১৯৯১সালের ২৮জানুয়ারি পশ্চিমবঙ্গের বিশ্ব ভারতী তাকে দেশিকোত্তম সম্মানে ভূষিত করে। দেশ ও সমাজে শান্তি ও গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের কারনে অস্ট্রেলিয়ার ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি ১৯৯৯সালের ২০অক্টোবর ডক্টর অব ল ডিগ্রি প্রদান করে।শান্তি ,গনতন্ত্র ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁর অসাধারন অবদানের জন্য ব্রাসেলসের বিশ্ববিখ্যাত ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি তাঁকে ২০০০সালে ৪ঠা ফেব্র“য়ারী সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।২০০০সালের ৫সেপ্টম্বর যুক্তরাষ্ট্রের ব্রিজপোর্ট ইউনিভার্সিটি শেখ হাসিনাকে মানবাধিকার বিষয়ে সম্মানসূচক ডক্টরেট ডিগ্রি প্রদান করে।
পার্বত্য চট্রগ্রামে সুদীর্ঘ ২৫ বছরের গৃহযুদ্ধ অবসানের জন্য শেখ হাসিনার অসামান্য অবদান রয়েছে।এই শান্তি প্রক্রিয়ায় তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদানের জন্য ১৯৯৮সালে ইউনেসকো তাঁকে হফোয়েট -বোজনি শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করে।রাজনৈতিক ,অর্থনৈতিক ও মানবাধিকারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাহসিকতা, ও দূরদর্শিতার জন্য ও যুক্তরাষ্ট্রের রানডলপ ম্যাকন উওমেনস কলেজ ২০০০সালের ৯ এপ্রিল মর্যাদাসূচক চবধৎষ ঝ.ইঁপশ’৯৯ পুরস্কারে ভূষিত করে।
জাতিসংঘের বিশ্বখাদ্য কর্মসূচি তাঁর ক্ষুধার বিরুদ্ধে আন্দোলনের অকদানের স্বীকৃতি স্বরূপ শেখ হাসিনাকে সম্মানজনক সেরেস (ঈঊজঊঝ)মেডেল প্রদান করে।সর্বভারতীয় শান্তিসংঘ শেখ হাসিনাকে ১৯৯৮সালে মাদার তেরেসা পদক প্রদান করে।বাংলাদেশে তৃণমূল পর্যায়ে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও গনতন্ত্র প্রসারে তাঁর অবদানের জন্য নরওয়ের অসলোতে অবস্থিত মহাত্মা মোহনদাস করমচাঁদ গান্ধী ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে গান্ধী পদক প্রদান করে।১৯৯৮সালে আন্তর্জাতিক রোটারি ফাউন্ডেশন শেখ হাসিনাকে চধঁষ ঐধৎরং ফেলোশিপ প্রদান করে।আন্তর্জাতিক লায়নস ক্লাব তাকে ১৯৯৬-১৯৯৭সালে গবফধষ ড়ভ উরংঃরহপঃরড়হপদক ও ১৯৯৬-৯৭সালে ঐবধফ ড়ভ ঝঃধঃবপদক প্রদান করে।
এ ছাড়া তিনি বৃটেনের গ্লোবাল ডাইভারসিটি পুরস্কার এবং দুই বার সাউথ সাউথ পুরস্কারে ভূষিত হন। শেখ হাসিনা বেশ কয়েকটি গ্রন্থ রচনা করেছেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে- ওরা টোকাই কেন?, বাংলাদেশে স্বৈরতন্ত্রের জন্ম, দারিদ্র্য বিমোচন , কিছু ভাবনা, আমার স্বপ্ন, আমার সংগ্রাম, আমরা জনগনের কথা বলতে এসেছি ,সামরিকতন্ত্র বনাম গনতন্ত্র।তিনি বেশ কয়েকবার পবিত্র হজ্ব ও ওমরাহ পালন করেছেন। তিনি জাতির জনক শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্টের সভাপতি।তিনি গনতন্ত্র ,ধর্মনিরপেক্ষতা , সামগ্রিক প্রবৃদ্ধি ও অগ্রগতিতে বিশ্বাসী এবং দারিদ্র্র্য বিমোচনে নিজেকে আত্মনিয়োগ করেছেন।প্রযুক্তি , রান্না , সঙ্গীত এবং বই পড়ার প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ রয়েছে।তাঁর স্বামী আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন পরমানু বিজ্ঞানী ড. এম ওয়াজেদ মিয়া ২০০৯সালের ৯ মে তারিখে ইন্তেকাল করেন।
শেখ হাসিনা জ্যেষ্ঠ পুত্র সজীব ওয়াজেদ একজন তথ্য প্রযুক্তি বিশারদ। তাঁর একমাত্র কন্যা সায়মা হোসেন ওয়াজেদ একজন মনোবিজ্ঞানী এবং তিনি অটিস্টিক শিশুদের উন্নয়নে কাজ করছেন।শেখ হাসিনা নাতি- নাতনির সংখ্যা পাঁচ জন।পরিশেষে একটি কথা বলতে চাই ,তা হলো আমরা দেশের মানুষ আমাদের কে আগে দেশের স্বার্থ দেখতে হবে। দেশের স্বার্থ হলে দেশের প্রতিটা মানুষ উপকৃত হবে।কোন ক্ষমতা লোভ লালসার দিকে না তাকিয়ে দেশের উন্নয়নের দিকে তাকিয়ে আমাদের দেশের সরকার প্রধান হতে শুরু করে দেশের প্রতিটা মানুষ দেশ গড়ার কাজে মনোনিবেশ করতে হবে।দেশের রাজনৈতিক দাঙ্গা হাঙ্গামা বন্ধ করতে হবে।
যাকে ক্ষমতায় রাখলে দেশের ও দেশের মানুষের উপকার হবে তাদের কে আমাদের রাস্ট্রীয় ক্ষমতায় বসাতে হবে।দেশের প্রতিটি নাগরিক কে বিষেশ করে রাজনৈতিক নেতারা তারা তাদের ব্যক্তি স্বার্থ বাদ দিয়ে রাজনীতি করতে হবে।ক্ষমতায় যেতে হবে দেশের স্বার্থে দেশের উন্নয়ের স্বার্থে ।দেশের উন্নয়নের ধারা কে অব্যাহত রাখতে হবে।উন্নয়নের ধারা ব্যাহত হলে দেশ মুখ থুবরে পড়বে।দেশের মানুষের মাঝে নেমে আসবে হতাশা আর অন্ধকার।সে ব্যাপারে আমাদের কে আগ থেকে প্রস্তুত থাকতে হবে।জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশকে উন্নয়ন রোল মডেল হিসাবে অভিহিত করেছেন।যা বাংলাদেশের জন্য বিরল অর্জন।
লেখক পরিচিতি সাংবাদিক ও কলামনিস্ট

সর্বশেষ সংবাদ