যোগদানের রাজনীতি বনাম আদর্শের রাজনীতি-কামরুল হাসান বাদল কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 02/07/2015-06:08pm:   
জননেত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শি রাজনীতির কারণে আওয়ামী লীগ তৃতীয়বারের মতো রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার পর বর্তমানে এই দলে যোগদানের একটি হিড়িক পড়েছে বলে মনে হয়। প্রতিদিন দেশের কোথাও না কোথাও যাওয়া এমপি, মন্ত্রী বা প্রভাবশালী নেতাকে ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে বিএনপি-জামায়াতের কর্মী নেতারা আওয়ামীলীগে যোগদান করছেন। কোনো একটি দলে যোগদান করার বিষয়টি নতুন কিছু নয় রাজনীতিতে। অনেক সময় তা মঙ্গলজনকও হয় দেশের রাজনীতির জন্য। তবে কথা হলো কোন সময়ে, কারা, কোন দলে যোগদান করছে তা ভেবে দেখতে হয়। তাহলেই রাজনীতির সুবিধাবাদিতা বা কল্যাণকর রাজনীতির ধারাটি বোঝা সহজ হয়ে ওঠে। উপমহাদেশে মুসলিম লীগ গঠিত হওয়ার পরে ভারতের মুসলিম বিশেষ করে পূর্ব বঙ্গের মুসলমানরা প্রায় দলে মুসলিম লীগে যোগদান করেছিল। দ্বিজাতি তত্ত্বের বিভ্রমে তখন অনেকে ভেবেছিল এতে মুসলমানদের জন্য আলাদা একটি রাষ্ট্র হবে। চল্লিশ দশকে ভারত ভাগের ঊষালগ্নে পূর্ব বঙ্গে মুসলিম লীগের ডামাডোলে শেরে বাংলা বলে খ্যাত একে ফজলুল হকের কৃষক প্রজা পার্টির জনপ্রিয়তাও হ্রাস পেতে শুরু করেছিল। তারপরের ইতিহাস অর্থাৎ সে মুসলিম লীগে বাংলার মানুষের মোহভঙ্গ ও প্রথমে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন ও পরে আওয়ামী লীগের উত্থান, জনপ্রিয়তা এবং সে দলের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলার স্বাধীনতা লাভের কথা গত সপ্তাহের কলামে উল্লেখ করেছিলাম। গত শতকের ষাট দশকের মাঝামাঝিতে এসে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামীলীগ উজ্জীবিত হতে থাকলে তখনও মুসলিম লীগ ও অন্যান্য দল থেকে অনেকে আওয়ামী লীগে যোগদান করেছিলেন। ১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু ৬ দফা ঘোষণা করেন। তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ফিরে আসলে ঢাকায় তিনি আওয়ামী লীগের একাংশের প্রবল বিরোধীতার সম্মুখীন হন। দলীয় কাউন্সিলে আলোচনা না করে পশ্চিম পাকিস্তানে ৬ দফা ঘোষণার জন্য অনেকে বঙ্গবন্ধুকে দোষারোপ করেন। যে কারণে ৬ দফার পক্ষে তাঁকে প্রথম জনসভাটি করতে হয়েছিল চট্টগ্রামে। এবং এ জনসভা ও ৬ দফা কর্মসূচিকে সারা বাংলায় প্রচারের জন্য বঙ্গবন্ধুকে যিনি বেশি সহযোগিতা প্রদান করেছিলেন তিনি হলেন চট্টগ্রামের সন্তান, জননেতা এম.এ. আজিজ। যিনি এক সময়ে মুসলিম লীগ করতেন। সে সময়ে বঙ্গবন্ধু এম এ আজিজের মতো নেতাদের নিয়ে আওয়ামীলীগকে শক্তিশালী করতে এবং সে সাথে মুসলিম লীগকে দুর্বল করার উদ্দেশ্যে কিছু রাজনৈতিক কৌশল অবলম্বন করেছিলেন। তৎকালীন মুসলিম লীগের বড় বড় নেতাদের শিক্ষিত, তরুণ সন্তানদের আওয়ামীলীগে যোগদানের সে কৌশলে পরবর্তীতে বঙ্গবন্ধু সফল ও উপকৃত হয়েছিলেন। আজকের গণপূর্তমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার মোশারফ হোসেন, পরিচ্ছন্ন রাজনীতিক বলে খ্যাত, আওয়ামীলীগের সাবেক সংসদ সদস্য, রাষ্ট্রদূত ও দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য মরহুম আতাউর রহমান খান কায়সার বঙ্গবন্ধুর সে দূরদর্শি রাজনীতির ফসল। আজ আওয়ামীলীগের প্রবীন রাজনীতিক এমন আরও অনেকের নাম উল্লেখ করা যায় তবে লেখার পরিধি বৃদ্ধি পাবে বলে তা থেকে বিরত থাকলাম। মুসলিম লীগ পরিবার থেকে এলেও এঁরা পরবর্তীতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি তথা জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এখনো করছেন। স্বাধীনতা উত্তর সে যোগদান ছিল একটি মহৎ উদ্দেশ্যে। বাঙালির স্বাধীকার আন্দোলনে নিজেদের সম্পৃক্ত করার মানসে। প্রভাবশালী মুসলিম লীগ পরিবারের সন্তান হয়েও তারা বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়েছেন এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের আন্দোলনকে বেগবান করেছিলেন। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন দলে যোগদান করে নিজেদের নিরাপত্তা ও ক্ষমতার উত্তাপ নেওয়ার চেষ্টা করেননি।
স্বাধীনতার পরে যোগদানের রাজনীতিতে একটি আদর্শগত পার্থক্য তৈরি হয়েছে। এরপরে যোগদানের রাজনীতি আবর্তিত হয়েছে অধিকাংশ ক্ষেত্রে ক্ষমতার বলয়ে থাকার সুবিধার কথা বিবেচনা করে। আদর্শগত কারণে নয়। স্বাধীনতার পরে যোগদানের ইতিহাস বিবৃত করতে গেলে প্রথমে আসবে বঙ্গবন্ধুর দ্বিতীয় বিপ্লব বাকশালে যোগদানের হিড়িক পড়ার কথা। বঙ্গবন্ধু এক ঐতিহাসিক কারণে তার দ্বিতীয় বিপ্লব বাকশাল কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলেন। এই অবসরে একটু আলোচনা করা প্রয়োজন যে, বঙ্গবন্ধুর এই মহৎ কর্মসূচিটির শুধু একটি খণ্ডাংশকেই সবসময় আলোচনা করা হয় অর্থাৎ বাকশাল একদলীয় শাসন ব্যবস্থা ছিল তাই। এছাড়া বাকশালের অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও প্রশাসনিক কর্মসূচি নিয়ে আজ পর্যন্ত বিশদ আলোচনা কেউ করেননি। এমনকি আওয়ামীলীগ বা তার কোনো নেতাও জনগণ বা প্রচার মাধ্যমে সম্মুখে এসব তুলে ধরার চেষ্টা করেননি। যে কারণে অন্য দলগুলো যখন বাকশালকে প্রায় গালির মতো ব্যবহার করে আওয়ামীলীগ নেতাদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন তখন বেচারারা কাঁচুমাচু হয়ে পরিত্রাণের পথ খোঁজেন। তারা বলতে পারেন না, বঙ্গবন্ধু-বাকশাল কর্মসূচি অন্তত দশ বছর স্থায়ী হলে বাংলাদেশের ইতিহাস এখন অন্যভাবে লিখতে হতো। যাক সমস্ত দল নিয়ে বঙ্গবন্ধু যখন বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামী লীগ গঠন করেন তখনও এমন যোগদানের হিড়িক পড়েছিল। যারা বাকশালে যোগদানের জন্য সে সময় সবচেয়ে বেশি চেষ্টা-তদবির করেছিল বঙ্গবন্ধু হত্যার পর তারা তত বেশি বাকশালও বঙ্গবন্ধু বিদ্বেষী হয়ে উঠেছেন।
এমনকি জেনারেল জিয়াউর রহমান, যার দল কথায় কথায় বাকশাল শাসন, বাকশাল শাসন বলে গলা ফাটায় তিনিও বাকশালে যোগদান করার জন্য তোফায়েল আহমেদের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় এসে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ও সুযোগ সুবিধা ব্যবহার করে জিয়াউর রহমান যখন প্রথমে জাগদল ও পরে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন তখনও সে দলে যোগদানের একটি হিড়িক পড়েছিল। যার মধ্যে আবার অনেকেই পরবর্তীতে জেনারেল এরশাদের জাতীয় পার্টিতে যোগদান করেছিলেন। এদেরই আবার একটি অংশ পরবর্তী ১৯৯১ সালে খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যোগদানের কৌশল অবলম্বন করেন। এই যোগদানের রাজনীতি লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাবো ওদের সবাই সুবিধার কারণেই দল বদল করেছিলেন, কোনো আদর্শের কারণে নয়। অর্থাৎ এরা সব সময় ক্ষমতার বলয়ে থাকতে পছন্দ করেন। এক্ষেত্রে যোগদানের রাজনীতিতে মওদুদ আহমদ একজন ‘আদর্শ’ হিসেবে বাংলাদেশের রাজনীতির ইতিহাসে লিপিবদ্ধ থাকবেন।
বর্তমানেও আবার সে ধরনের চিত্র দেখতে পাচ্ছি। বিএনপি-জামায়াতের অসংখ্য নেতা-কর্মী আওয়ামী লীগের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ফুলের তোড়াসহ যোগদান করে নিজেদের নিরাপদ ও ক্ষমতার আশ্রয়ে থাকার চেষ্টা করছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীর কি আকাল পড়েছে দেশে যে হঠাৎ করে তাদের দলে অন্য দলের নেতা-কর্মীর প্রয়োজন হয়ে পড়ল। এমনকি রাজনীতিতে আদর্শিক দ্বন্দ্ব যাদের সাথে চরমে। এরা কি সত্যই আওয়ামী লীগের জন্য কোনো কল্যাণ বয়ে আনবে? নাকি স্বাধীনতার পরে জিয়া-এরশাদের আমলেই ডিগবাজী রাজনীতির আরেক দফা মহড়াই হবে শুধু।
আওয়ামী লীগ বর্তমানে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল। লক্ষ লক্ষ নেতাকর্মী এ দলের সারা দেশ জুড়ে। তৃণমূল অর্থাৎ গ্রাম পর্যায়েও এ দলের কমিটি আছে নতুবা কমিটি করার জনবল আছে। বরং এ দলের অসংখ্য নেতা-কর্মীই মাঝে-মধ্যে দলে অরাজকতার দায়ী হয়ে থাকে। আমি আওয়ামী লীগের এমন অনেক নেতাকে চিনি বঙ্গবন্ধুর আমল থেকে রাজনীতি করেও যারা জেলা বা মহানগর পর্যায়ের নেতৃত্ব আসতে পারেননি। শহরে ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতা হতেই এক জীবন রাজনীতি করে কাটিয়ে দিতে হয়েছে। অথচ এর পাশাপাশি বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন বা আসতে পেরেছেন যার-রাজনৈতিক ক্যারিয়ার দশ বছরও হয়নি। লুৎফুজ্জামান বাবর স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হওয়ার আগে বিএনপির কোন পর্যায়ের নেতা ছিলেন তা আজও কেউ জানে না। আওয়ামী লীগের অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের অনেক নেতার রাজনীতিই শেষ হয়ে গেছে বয়সের ভারে অথচ মূল দলের সদস্য হওয়ারও সুযোগ পাননি এমনও অনেককে আমি ব্যক্তিগতভাবে চিনি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে বিএনপি-জামায়াতের কর্মীদের দলে টেনে দলের পুরনো ত্যাগী নেতাদের বঞ্চিত করে রাখার এমন ভুল কৌশল কেন আওয়ামী লীগ নিতে যাচ্ছে। এটা কি শুধু স্থানীয় এম.পি, মন্ত্রী বা প্রভাবশালী নেতাদের ব্যক্তিগত লাভালাভের হিসাব না তাতে কেন্দ্রীয় কমিটির সায় আছে। অর্থাৎ আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরাও কি বিষয়টিকে অনুমোদন দিচ্ছেন?
আওয়ামী লীগের সাথে বিএনপি-জামায়াত ও অন্যান্য দক্ষিণপন্থি সাম্প্রদায়িক দলগুলোর পার্থক্য কী? শুধুই কি সরকারি ও বিরোধীদল হয়ে থাকা না কি আদর্শিক পার্থক্য আছে। যদি পার্থক্য থাকে তাহলে জামায়াতের কর্মীরা কী করে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করতে পারে। জামায়াতের একজন কর্মী কি মনে প্রাণে আওয়ামী লীগের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিকে মেনে নিতে পারে? কিংবা বিএনপির একজন কর্মী? যোগদান করা ব্যক্তিরা কি আদর্শিক কারণে যোগদান করেছে না কি বর্তমান সময়ে রাজনৈতিক চাপে পড়ে নিজেদের গা বাঁচাতে, মামলা মোকাদ্দমা থেকে রেহাই পেতে নিজেদের বঙ্গবন্ধুর সৈনিক করে তুলছে। এ ধরনের যোগদান করা ব্যক্তিরা কখনো দেশের জন্য জাতির জন্য রাজনীতির জন্য কল্যাণকর কিছু করেছেন কিনা তার নজির নেই।
২০১৩ সালে দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর রায়কে কেন্দ্র করে সারাদেশে বিএনপি-জামায়াত হেফাজত যে তাণ্ডব ও ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল তার সুষ্ঠু তদন্ত ও ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার ও বিচারের সুষ্ঠু ব্যবস্থা করতে পারেনি আওয়ামী লীগ সরকার। এদের বিচার করতে না পারার জন্যেও দায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকার আওয়ামী লীগ নেতা আর পুলিশের দুর্নীতি। অন্য জেলার কথা বাদই দিলাম। চট্টগ্রাম জেলার ফটিকছড়ি, বাঁশখালী, আনোয়ারা, সাতকানিয়া, দোহাজারী উপজেলায় জামায়াত-বিএনপি কর্মীদের অনেককে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনতে কিংবা মামলার এজাহার থেকে নাম বাদ দিতে কখনো অর্থপ্রাপ্তি কখনো আত্মীয়তা বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর এর সাথে পুলিশের গ্রেফতার বাণিজ্য বা চিরাচরিত ঘুষ-দুর্নীতির সংস্কৃতিতো আছেই। ২০১৩ সালে স্বাধীন বাংলাদেশের বুকে জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগী সংগঠনগুলোকে যে নির্মমতা ও ধ্বংসলীলা চালিয়েছিল তা এক কথায় দেশদ্রোহীতা। সে ঘটনার সাথে জড়িতদের সত্যিই যদি বিচার করা যেত তাহলে ২০১৪ ও ২০১৫ সালের নাশকতা অনেকটা কম হতে পারত।
আসলে আওয়ামী লীগ নেতারা এখনো নিজ দলের ক্ষমতা ও সম্ভাবনার বিষয়টি অনুধাবন করে উঠতে পারলো না। বাংলাদেশের প্রাচীন ও বৃহৎ এ রাজনৈতিক দলটির সদিচ্ছা থাকলে এবং সে সাথে দলের সামর্থ্যকে পুরোপুরি ব্যবহার করতে পারলে আগামী ১০ বছরে বাংলাদেশ বদলে যেতে পারে। আবারও উল্লেখ করতে হয় তৃণমূল পর্যন্ত বিস্তৃত এত বড় রাজনৈতিক দল দ্বিতীয়টি আর বাংলাদেশে নেই। এ দলের অপার একটি সম্ভাবনার কথা এখানে উল্লেখ করতে চাই।
বাংলাদেশের জনসংখ্যা এখন প্রায় ১৬ কোটি। এ দেশের জন্য একটি সুখবর হলো এর জনসংখ্যায় প্রায় ৫০ ভাগের অধিকের বয়স ৩৫ বছরের কম। বিশ্বের খুব কম দেশেই আছে এত বিশাল তরুণ শক্তি। একটি সাধারণ হিসাব আমরা করতে পারি। মোট জনসংখ্যার অর্ধেক যদি যুবশক্তি হয় তাহলে তার সদস্য দাঁড়ায় আট কোটি। এ আট কোটি থেকে তরুণকে আমরা বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিভাজনের সহজ হিসাবে ৫০=৫০ ভাগ করে নিতে পারি। অর্থাৎ ৫০ ভাগ আওয়ামী লীগ বা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পক্ষে বাকি ৫০ শতাংশ বিএনপি, জামায়াত ও অন্যান্য দক্ষিণপন্থি দল। তা হলে তার সংখ্যা দাঁড়ায় ৪ কোটি। দারিদ্র, পেশাগত ব্যস্ততা, রাজনীতির প্রতি অনীহা ও অন্যান্য কারণে এ ৪ কোটি থেকে ৫০ শতাংশ আমরা বাদ দিতে পারি। তাহলে বাকি থাকে ২ কোটি।
ইউরোপের অনেক দেশের জনসংখ্যাও নেই ২ কোটি। প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত এই বিপুল যুব শক্তি। যার সংখ্যা প্রায় দুই কোটি তারা ইচ্ছা করলে একটি দেশ বা জাতির ভাগ্য বদল করে দিতে পারে খুব সহজে। এই বিপুল যুবশক্তির অধিকাংশই ছাত্র ও যুবলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত। সুষ্ঠু রাজনৈতিক শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, শৃঙ্খলা আনুগত্য দেশপ্রেম ও মানবতাবোধের মাধ্যমে এই বিপুল যুবশক্তিকে ইতিবাচক পথে অগ্রসর করে নেওয়া যায়। এর জন্য প্রয়োজন যোগ্য নেতৃত্ব ও দলের নীতি নির্ধারকদের সদিচ্ছা। অন্য দলকে থেকে ভাগিয়ে আনার চেষ্টা না করে কিংবা অন্যদলের সুবিধাবাদিদের দলে ঠাঁই দিতে গিয়ে প্রকৃত, সৎ, ত্যাগী নেতা-কর্মীদের বঞ্চিত না করে আওয়ামী লীগ নেতৃত্ব তার নিজ দলের এ অপার শক্তি ও সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারে। সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারে। ছাত্রলীগকে নিজেদের মধ্যে মারামারি সংঘাত বন্ধ করিয়ে, যুবলীগের চাঁদাবাজী টেন্ডারবাজী রোধ করে প্রয়োজনে এমন কর্মীদের দল থেকে বহিষ্কার করে ছাত্রলীগ, যুবলীগকে নতুন প্রাণ, নতুন জীবন ও নতুন উদ্দীপনা প্রদান করা যেতে পারে।
জননেত্রী শেখ হাসিনা, তারপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয় এবং মন্ত্রিসভার অনেকের প্রচেষ্টা আছে দল ও দেশকে আগামী ২০ দশকে পরিবর্তন করে দিতে। ২০২১, ২০৩০ বা ২০৪১ সালের যে বাংলাদেশের স্বপ্ন শেখ হাসিনা ও তার দলের তরুণ নেতারা দেখছেন তা অসম্ভব, দুরূহ হয়ে উঠবে না যদি এ দুই কোটি যুব শক্তিকে সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায়।
আমি মনে করি সময় বদলেছে। এখনকার আওয়ামী লীগ ১৯৪৯, ১৯৬৬, ১৯৭০, ১৯৭১, ১৯৭৫, এমনকি ১৯৯৬ সালের আওয়ামী লীগও নয়। একুশ শতকের এ আওয়ামী লীগকে পরিচালনা ও এই দলের মধ্যে নতুন রক্ত সঞ্চালনের জন্যে রাজনৈতিক কৌশল পাল্টাতে হবে। জিয়া এরশাদের মতো সামরিক বাহিনীর রাজনীতিকদের মতো যোগদানের সংস্কৃতি থেকে আওয়ামী লীগকে বের হয়ে আদর্শের রাজনীতিকে পাকাপোক্ত করতে হবে।
এ ছাড়া আওয়ামী লীগে অন্য কোনো উপায় নেই।
[email protected]

সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধান করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান কক্সবাজার রেড জোন,শনিবার থেকে আবারো লকডাউন এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।