‘ভারত বিরোধিতা একটি অকার্যকর অ্যান্টিবায়োটিক’/ কামরুল হাসান বাদল কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 05/06/2015-12:29pm:   
আগামী ৬ জুন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাংলাদেশ সফর নিয়ে নানা কৌতূহল, ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ ও লাভ-ক্ষতির চুলচেরা হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। প্রতিদিন সংবাদপত্রের পাতায় টেলিভিশনের পর্দায় আর অনলাইন মিডিয়ায় বিভিন্ন জনের বক্তব্য, মন্তব্য ও বিশ্লেষণ প্রচারিত হচ্ছে। গুরুত্বপূর্ণ কোনো দেশের রাষ্ট্র বা সরকার প্রধানের সফরকে কেন্দ্র করে এমন আগ্রহ, হিসাব-নিকাশ হতে পারে। তা দোষণীয় নয়। সব দেশেই এমন হয়ে থাকে। তবে ভারতকে নিয়ে বাংলাদেশের রাজনীতি আবর্তিত হওয়ায় ভারতের ক্ষেত্রে তা বরাবর বেশি মাত্রায় হয়। ভারত আমাদের প্রতিবেশি রাষ্ট্রই শুধু নয়। আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধে এই দেশের সহযোগিতা ও ত্যাগ কখনো ভুলে যাওয়ার মতো নয়। তারা যে, আমাদের এক কোটি শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছিল তা নয়, অর্থ, অস্ত্র দিয়ে এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনেও বিশাল ভূমিকা পালন করেছিল। আমাদের ভুলে গেলে চলবে না আমাদের সে মহান মুক্তিযুদ্ধে দশ হাজারের মতো ভারতীয় সৈন্য প্রাণ ত্যাগ করেছিল।
মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে গড়ে ওঠা দু’দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক সব সময় মধুর হয়ে থাকেনি। স্বাধীনতার পর থেকেই বাংলাদেশে ভারত বিরোধী একটি প্রচারণা শুরু হয়েছিল এবং তা গত শতকের শেষ পর্যন্ত বেশ জোরালো ভাবেই চলেছিল। এই ভারত বিরোধিতা কখন থেকে এবং কী ভাবে শুরু হয়েছিল তা একটু স্মরণ করলে পাঠকদের বুঝতে সুবিধা হবে।
১৯৪৭ সালে এই উপমহাদেশ ভাগ হয়েছিল মূলত একটি প্রতিক্রিয়াশীল মতবাদের ভিত্তিতে। দ্বিজাতি তত্ত্বের মাধ্যমে মুসলমান ও হিন্দুদের জন্য আলাদা দুটি রাষ্ট্রের প্রবক্তা যে-ই- হোন না কেন তৎকালীন রাজনীতিকদের অপরিণামদর্শিতা ও কারো কারো দ্রুত ক্ষমতা গ্রহণের উদগ্র বাসনা থেকে একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হয়েছিল। ফলে শুরু থেকেই একে অন্যের প্রতি বৈরী আচরণ করতে কুণ্ঠাবোধ করেনি। ১৯৪৭ সালের পর তৎকালীন পাকিস্তানি শাসকরা যে কাউকে বিশেষ করে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের স্বার্থের পক্ষে বলা লোকদের ভারতের দালাল এবং ভারতকে পাকিস্তানের একমাত্র শত্রু বলে প্রচার শুরু করে। যে কোনো কিছুর জন্য ভারতকে দায়ী করা এবং কথায় কথায় ভারত জুজুর ভয় দেখানো পাকিস্তানিদের একটি ‘কালচার’এ পরিণত হয়। ১৯৬৫ সালের পাক-ভারত যুদ্ধের পর সে প্রপাগাণ্ডা চরম আকার ধারণ করে। বুঝতে অসুবিধা হয় না যে, পাকিস্তানের সে ভারতবিরোধী ভূমিকা অনেকে পছন্দও করতেন। কারণ ততদিনে তা মুসলিম লীগ ও পাকিস্তানপন্থীদের একটি বড় অস্ত্রে পরিণত হয়ে গিয়েছেল। ব্যাপারটি তখন এমন একটি পর্যায়ে গিয়েছিল যে, বঞ্চিত বাঙালিদের পক্ষে যারাই কথা বলতেন তদেরকেই ভারতীয় চর আখ্যা দিতে পাশ্চিম পাকিস্তানী শাসক ইতস্তত করেনি। তাদের এই অভিযোগ থেকে মাওলানা ভাসানী, হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কেউ-ই বাদ যাননি।
তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে যে সব রাজনৈতিক দল যেমন মুসলিম লীগ (৩টি গ্রুপ) নেজামে ইসলাম, জামায়াতে ইসলাম ইত্যাদি দলগুলোর সমর্থকরাও পাকিস্তানের এই অপপ্রচারকে মনে প্রাণে বিশ্বাস করত। এবং স্বাধীনতার পরপর এ পক্ষ থেকেই ভারত বিরোধিতার পুনঃসূত্রপাত হয়। এখানে একটি কথা আমি স্পষ্ট করতে চাই। বাংলাদেশের অনেকেই বলে থাকেন মুষ্টিমেয় কিছু লোক ছাড়া সারাদেশের মানুষ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে ছিল, কথাটি সঠিক নয়। প্রকৃত পক্ষে একটি উল্লেখযোগ্য অংশ মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে ছিল। এই সত্যটি মেনে নেওয়ার মধ্যে কোনো গ্লানি আছে বলে আমি মনে করি না।
তবে হ্যাঁ, এই সত্যটি জিয়াউর রহমান মেনে নিয়েছিলেন। অর্থাৎ তার ক্ষমতাকে দীর্ঘস্থায়ী করার ক্ষেত্রে তিনি এই হিসাবটিকে কাজে লাগিয়েছিলেন এবং সফলও হয়েছিলেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালেই মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে ‘ভারত পর্যাপ্ত অস্ত্র, গোলবারুদ দিচ্ছে না, ঠিক মতো সহযোগিতা করছে না’ এ ধরনের প্রচারণা অব্যাহত ছিল। এই প্রচারণাটি মুক্তি বাহিনীর উপ-প্রধান এ.কে. খন্দকারও যে বিশ্বাস করেছিলেন তা তার স্মৃতিচারণমূলক ‘গ্রন্থ ১৯৭১ ঃ ভেতরে বাইরে’ প্রমাণ পাওয়া যায়। স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধুর অনুরোধে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী যখন ভারতীয় সৈন্য ফিরিয়ে নিয়ে গেলেন তখন প্রচারণা চালানো হয়েছিল যে, পাকিস্তানী সৈন্যরা আমাদের যে ক্ষতি করেনি ভারতীয় সৈন্যরা তার চেয়ে বেশি ক্ষতি করেছে। আমরা খুব বিস্মৃতপ্রবণ না হলে স্মরণ করতে পারব যে,তৎকালীন জাসদ এই ভারত বিরোধীতার ক্ষেত্রে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিল। এবং স্বাধীনতার পর নিষিদ্ধ ঘোষিত হওয়ায় সাম্প্রদায়িক দল অর্থাৎ মুসলিম লীগ, নেজামে ইসলাম, জামায়াতে ইসলাম ইত্যাদি দলগুলো জাসদের ছত্রছায়ায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পেয়েছিল। তৎকালীন জাসদ সভাপতি মেজর জলিল, যিনি পরবর্তীতে একটি সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক দলে যোগদান করেছিলেন, তাকে প্রচণ্ড ভারতবিরোধী “বীর” হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টাও করা হয়েছিল। জাসদ এবং জাসদের অভ্যন্তরে ঘাপটি মেরে থাকা স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি ছাড়াও চীনাপন্থী দলগুলোও ভারত বিরোধীতা করত। চীন যেহেতু আমাদের মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করেছিল সেহেতু এ দেশের চীনাপন্থীরাও পক্ষান্তরে আমাদের স্বাধীনতার বিপক্ষে ছিল। বাংলাদেশ স্বাধীন হলেও এবং সে স্বাধীনতা প্রাপ্তিতে ভারতের বিশাল অবদান থাকা সত্ত্বেও এই রাজনৈতিক শক্তি বরাবর ভারত বিরোধিতা করে রাজনৈতিক ফায়দা লুটতে চেয়েছে। পাকিস্তান আমলে শুরু হওয়া ভারতের ফারাক্কা বাঁধের ব্যাপারে সে সময় উচ্চকিত না হলেও ১৯৭৬ সালে ফারাক্কা মার্চের আয়োজন করে মাওলানা ভাসানী ভারত বিরোধী শিবিরকে বেশ চাঙ্গা করে দিয়েছিলেন।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের অন্যতম বেনিফিশিয়ারি জেনারেল জিয়াউর রহমান ক্ষমতাকে পাকাপোক্ত করার মানসে এই সেন্টিমেন্টকে কাজে লাগিয়েছিলেন। যে কারণে তিনি প্রবল রাজাকার শাহ আজিজ এবং প্রবল চৈনিক মশিউর রহমান যাদুমিঞাকে বুকে টেনে নিয়েছিলেন। একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করলে বুঝতে সুবিধা হবে যে, পাকিস্তানের মতো স্বাধীন বাংলাদেশে ভারতবিরোধীতাও ছিল স্রেফ রাজনৈতিক ধাপ্পাবাজী। যার সাথে দেশ বা জাতীয় স্বার্থ জড়িত নয়। সময়টি ১৯৭৭ সাল। ভারতে তখন আমেরিকান লবির মোরারজি দেশাই ক্ষমতায়। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পরে বাংলাদেশকে পুনরায় পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে বা আরেকটি পাকিস্তান বানাতে রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে, বিলবোর্ড, সাইনবোর্ড ও দেয়ালে কোরআন ও হাদিসের আয়াত ও বাণী উৎকীর্ণ করা হয়েছিল। মোরারজি দেশাইয়ের বাংলাদেশ সফর উপলক্ষে সে সময় এ ধরনের বিলবোর্ড ঢেকে দেওয়া হয়েছিল। দেয়াল লিখন মুছে ফেলা হয়েছিল। সে সময়ের পত্র-পত্রিকায় এ সংবাদ বেশ গুরুত্ব সহকারে ছাপা হয়েছিল। বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক দলগুলোও তাদের অপপ্রচারে বিভ্রান্ত জনগণের সমর্থন লাভের আশায় বিএনপি এই প্রকাশ্যে ভারত বিরোধিতা আর গোপনে বা অপ্রকাশ্যে ভারততোষণ নীতি এখনও ধরে রেখেছে। যদিও বাংলাদেশে ভারতবিরোধী বক্তব্য দিয়ে রাজনীতি করার সুদিন প্রায় ফুরিয়ে এসেছে। বরং আমরা দেখতে পাই বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামে যে রাজনৈতিক দলটির নেতৃত্বে বাংলাদেশের প্রায় সবকিছুই অর্জিত হয়েছে এমনকি ভারতের সাথে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়সহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে বা আওয়ামী লীগের নেতৃত্বের কারণে।
গত নব্বই দশকের শেষের দিকে ২১ বছর পর ক্ষমতায় এসে আওয়ামী লীগ যখন পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তিচুক্তি করছিলেন তখন বেগম খালেদা জিয়া বিভিন্ন জনসভায় বলে বেড়াচ্ছিলেন যে, এই চুক্তির ফলে পার্বত্য চট্টগ্রামতো বটেই এমনকি ফেনী জেলাসহ ভারতের অংশ হয়ে যাবে। খালেদার এই চুক্তির বিরোধিতা করার কারণ আছে। সে কারণটি হলো ওই চুক্তিটি এই অঞ্চলে শান্তি স্থাপনে একটি বিশাল মাইল ফলক। দুটি শান্তিকামী সৎ প্রতিবেশি রাষ্ট্রের যা করণীয় সেদিন বাংলাদেশ-ভারত তা-ই করেছিল।
বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে বাংলাদেশে পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই ও সিআইএ’র প্রভাব বৃদ্ধি পায়। এবং আইএসআই’এর প্রভাবে বিএনপি সরকার ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বাংলাদেশে আশ্রয়প্রশ্রয়সহ সকল প্রকার সহযোগিতা প্রদান করে। দেশের অনেক স্থানে ‘উলফা’র মতো সংগঠনের ট্রেনিং ও তাদের সংগঠিত হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়। ১৯৯৭ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বাংলাদেশে ভারতীয় বিচ্ছিন্নতাবাদীদের আশ্রয় না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি প্রদান ও তা কার্যকরের মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি বাহিনীর ওপর থেকে ভারতীয় আশীর্বাদ প্রত্যাহারের সুযোগ তৈরি করেছিলেন। এবং এর ফলে শান্তি বাহিনী চুক্তি সম্পাদনে বাধ্য হয়েছিল।
বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলোর ভারত বিরোধিতা এমন পর্যায়ে পৌঁছে ছিল তা সভ্যতার সকল রীতি-নীতি ভঙ্গ করে সাম্প্রদায়িক উস্কানিতে পরিণত হয়েছিল। আওয়ামী লীগকে ভোট দিলে দেশে ইসলাম থাকবে না। মসজিদে আযান নয় উলুধ্বনি শোনা পাবে ইত্যাদি ধরনের অশালীন প্রচারও চালানো হয়েছে। এর বিপরীতে বাস্তবতা হচ্ছে জিয়ার আমলে পরে ফারাক্কার পানির পরিমাণকে ৩৪ হাজার কিউসেক থেকে ৬৮ হাজার কিউসেক, মামলায় লড়ে ভারত থেকে সমুদ্রসীমা অর্জন, ১৯৪৭ সাল থেকে অমিমাংসিত স্থল সীমান্ত-সমস্যার সমাধান শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই অর্জিত হয়েছে। অর্থাৎ এখানেও আওয়ামী লীগের ‘পজিটিভ’ রাজনীতির কাছে বিএনপির ‘নেগেটিভ’ রাজনীতি পরাজিত হয়েছে।
এ কথা বলতে দ্বিধা নেই যে, ভারত সব সময় বাংলাদেশের সাথে সৎ প্রতিবেশিসূলভ আচরণ করেনি। নদীর উজানে বাঁধ দিয়ে এক তরফা পানি প্রত্যাহার, সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা, ভারতের বাজারে বাংলাদেশি পণ্য প্রবেশে বাধা সৃষ্টিসহ নানাবিধ কারণেও বাংলাদেশে একটি ভারত বিরোধী মনোভাব আছে।
সে সাথে এ কথাও স্মরণ রাখতে হবে যে সব দিক থেকেই বৃহৎ এই প্রতিবেশি রাষ্ট্রটির সাথে কখনো আবেগ কখনো কৌশল দিয়ে সম্পর্ক বজায় রাখতে হবে। ওই দেশের বিচ্ছিন্নতাবাদীদের জন্য রাষ্ট্রীয় ‘সহযোগিতায় অস্ত্র সরবরাহ করে সে রাষ্ট্রের কাছ থেকে সৎ ও বন্ধুত্বপূর্ণ আচরণ আশা করা যায় না।
একদিন প্রচণ্ড তাচ্ছিল্যের সাথে ভারতের রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু প্রণব মুখার্জীর সাথে দেখা করার প্রোগ্রাম বাতিল করেছিলেন বেগম খালেদা জিয়া। মনমোহনের স্থলে আজ নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেসের স্থলে আজ বিজেপি। ভারতে নির্বাচনে বিজেপির জয়লাভের সংবাদে সবচেয়ে খুশি হওয়া বেগম খালেদা জিয়া ও তার দল বিএনপি টেলিফোনে বিজেপি প্রধানের সাথে কথা বলার নাটক ফ্লপ করার পর এই প্রথম বিজেপির কোনো বড় নেতা এবং যিনি ভারতের প্রধানমন্ত্রী, তাঁর সাথে দেখা করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। যদি রাষ্ট্রীয় প্রটৌকল অনুযায়ী সে সম্ভাবনা খুব একটা প্রবল নয়।
নরেন্দ্র মোদির এই সফরে ভারতের সাথে বাংলাদেশের করিডোর চুক্তি হতে পারে। অবশ্য এর নাম যা-ই হোক না কেন। এ ব্যাপারে বিএনপি সমর্থক ‘কথক’রা বেশ দেশপ্রেমের ধূয়ো তুলছেন। যদিও এই আপত্তি ধোপে টিকবে না। বিশ্ব রাজনীতি, আঞ্চলিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ও দেশে দেশে জঙ্গি ঠেকানোর কৌশল হিসেবে সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার দ্রুত যে পরিবর্তন সাধিত হতে যাচ্ছে তাতে বাংলাদেশ ইচ্ছে করলেও বিযুক্ত থাকতে পারবে না। শুধু ভারত, নেপাল বা ভুটান নয়, ভবিষ্যতে এ ধরনের চুক্তিতে যুক্ত হবে মিয়ানমার, থাইল্যান্ড থেকে চীন পর্যন্ত। খালেদা জিয়ার অপটিক্যাল ফাইবার চুক্তিতে সই না করে যে ভুল করেছিলেন সে ধরনের ভুল শেখ হাসিনা করবেন না।
অ্যান্টিবায়োটিক একটি যুগান্তকারী আবিষ্কার। চিকিৎসা বিজ্ঞানকে অনেকদূর অগ্রসর করে দিয়েছে অ্যান্টিবায়োটিকের আবিষ্কার। ব্যাক্টেরিয়া জনিত রোগ প্রতিরোধে এই ওষুধ প্রয়োগ করা হয়। তবে এর একটি বিপদও আছে। এই ওষুধের ভুল, মাত্রাহীন, অতিরিক্ত ও অপর্যাপ্ত প্রয়োগের ফলে শরীরের অ্যান্টিবায়োটিকের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। শরীরে আর অ্যান্টিবায়োটিক কাজ করে না। ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগের চিকিৎসায় এই পরিস্থিতি বিপজ্জনক বটে। বিএনপি ও তার সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর দীর্ঘদিনের ভারত বিরোধিতায় এত বেশি, অতি ও ভুল মাত্রায় হয়েছিল যে, সমাজে এর একটি রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়েছে। ফলে আগের মতো ভারত বিরোধী োগান তেমন জাগরণ তুলতে পারছে না।
বেগম খালেদা জিয়া ভারতে গিয়ে পানি চুক্তির কথা বলতে ভুলে গেলেও রাষ্ট্রীয় ও জাতীয় স্বার্থে এক ও অভিন্ন ভারতীয় নেতার কাছে তারা কী নালিশ জানাতে চায় তা জানার ভীষণ আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছি। আর বেগম খালেদা জিয়ার সাথে নরেন্দ্র মোদির দেখা না হলে হয়ত তা জানাও হবে না।
Email : [email protected]



সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধান করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান কক্সবাজার রেড জোন,শনিবার থেকে আবারো লকডাউন এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।