চিমবুক, জলসা ও কারেন্ট বুক সেন্টার -কামরুল হাসান বাদল কবি ও সাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 21/05/2015-10:52am:    তারপরেও মানুষ আশাবাদী হয়। আশাবাদী হতে হয়। বর্তমান পুলিশ কমিশনার বেশ করিৎকর্মা বলেই মনে হয়। তার বক্তৃতা-বিবৃতি শুনে মনে হয় তিনি দৃষ্টান্তমূলক কিছু কাজ করতে চান। তার কর্মোদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলতে চাইণ্ড বিপণি বিতানের আশে-পাশে অন্তত দু-কিলোমিটার জায়গাকে মানুষ চলাচলের উপযুক্ত করে দিন। এই জায়গা পেরিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন তাদের প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। পুরুষের সাথে সাথে অনেক নারীকে কর্মস্থলে যেতে হয়। তাদের কথা একটু বিবেচনা করে এখানে হকারদের ব্যবসাকে একটি নিয়মের মধ্যে আনুন। আমি একেবারে উচ্ছেদের দাবি করছি না। একটি নিয়মের কথা বলছি। যেমন স্কুল ও অফিসগামী এবং সুশৃঙ্খলার প্রয়োজনে বিকেল পাঁচটার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর বাইরে এই সড়ক ও ফুটপাত রাখতে হবে নির্ঝঞ্ঝাট। যারা ফুটপাত থেকে কেনে তারা ওই সময়ের জন্য অপেক্ষা করবে। এটি কোনো নতুন নিয়ম নয়। বিশ্বের অনেক দেশে এ ধরনের নিয়ম আছে। কমিশনার মহোদয় নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগে পুলিশ সদস্যদের সাথে করে ঝাড়ুণ্ড হাতে নেমেছেন। তার এই কর্মোদ্যোগের প্রশংসা করি। তবে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলতে চাই যে, পুলিশের কাজ নগর পরিষ্কার করা নয়। নগরকে সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও সাধারণ মানুষের বাস উপযোগী রাখা। এটি সিটি কর্পোরেশনের কাজ। বিপণি বিতানের পশ্চিম পাশে। নিচে হার্ডওয়ার সামগ্রী ও কয়েকটি স্বর্ণের দোকান ছিল। তার উপরে দোতলায় একটি চমৎকার রেস্তোরাঁ ছিল। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিখ্যাত একটি পাহাড়ের নামে নাম চিমবুক। অবশ্য পাহাড়টির ‘চিম্বুক’ বানানেই বেশি পরিচিত। প্রশস্ত এই রেস্তোরাঁ বিখ্যাত ও জনপ্রিয় ছিল তার বিশেষ কয়েকটি খাবারের কারণে। আর সে সাথে ছিল একটি খোলা বারান্দার মত জায়গা। সন্ধ্যার পরে বিশ্ববিদ্যালয় বা উচ্চ শ্রেণিতে পড়ুয়া শিক্ষার্থী আর শিল্পী সাহিত্যিক ও নতুন লেখকদের আড্ডায় মুখর হয়ে থাকতো সে অঙ্গন। সময়টি গত শতকের সত্তর ও আশির দশক। নগর তখনও মানুষ ও যানবাহনে এমন ভারী হয়ে ওঠেনি। সন্ধ্যায় খোলা বারান্দায় খোলা হাওয়ায় দোল খেতে খেতে কত নব্য কবি তার প্রেয়সীর জন্য পঙক্তি রচনা করেছে, কত লেখক তার লেখার উপাদান খুঁজে পেয়েছে। কত প্রেম, কত বিরহ, কত আনন্দ বেদনার সাক্ষী ছিল এই চিমবুক রেস্তোরাঁ। বিপণি বিতানের ডায়মন্ড রেস্টুরেন্ট আর এই চিম্বুককে ঘিরে কত যে গল্প আছে এই শহরে। কত যে স্মৃতি আছে অনেকের বুকে। মাঝে মধ্যে ভাবি এ সব কিছুই যদি কথা বলে উঠতে পারতো, তবে হয়ত প্রলয় ঘটে যেত। তখন শহরে এখনকার মতো এত ঝলমলে অসংখ্য রেস্তোরাঁ ছিল না। শহরের বনেদি মার্কেট ছিল বিপণি বিতান। কাজেই এর আশেপাশেই গড়ে উঠেছিল বেশ কিছু প্রেক্ষাগৃহ। সিনেমা দেখার আগে বা পরে সচ্ছল পরিবারের সদস্যরা কিছু খেতে চাইলে এ দুটি রেস্তোরাঁকে বেছে নিতো। ব্রেকফাস্ট হিসেবে ডায়মন্ডের কলিজা ভুনা, ডাল ফ্রাই আর পরোটা ছিল বেশ জনপ্রিয়। চিম্বুকের কাটলেট, চপও ছিল তরুণদের প্রিয় খাবার। ’৯০ দশকের শুরুর দিকে চিম্বুক বন্ধ হয়ে গেল। বলছিলাম সিনেমা হলের কথা। চিম্বুকের কিছুটা উত্তরে ১৯৭৩ সালে প্রতিষ্ঠিত হলো জলসা সিনেমা হল। এই হলটির স্থাপত্য ও ইন্টেরিয়র ডিজাইনের নান্দনিকতায় মুগ্ধ হতেন সবাই। এমন কি রাজধানী থেকে বেড়াতে আসা অনেকেও। সম্পূর্ণ শীতাতপ এই হলটি শহরের অন্যতম জনপ্রিয় হল ছিল এবং এই হলে সিনেমা দেখা আভিজাত্যের প্রতীক হয়ে উঠেছিল। এর প্রতি তলায় একটি করে রেস্তোরাঁ ছিল। শো শুরুর আগে-পরে এবং ইন্টারভ্যাল বা বিরতির সময় ক্রেতায় পূর্ণ থাকতো রেস্তোরাঁগুলো। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই হলে ছবি দেখতো বেশি। ’৭০ ও ’৮০ দশক ছিল বাংলা চলচ্চিত্রের স্বর্ণালীকাল। সিনেমা হলের ব্যবসা তখন জমজমাট। কোন সপ্তাহে কোন ছবি চলবে তা জানিয়ে দেওয়া হতো আগাম। শহরের পরিবারের কে কোন সপ্তাহে কোন ছবি এবং কোন শো’টা দেখবে তা পরিকল্পনা করে রাখতো আগে থেকেই। তখন বিনোদনের অন্য কোনো মাধ্যমও ছিল না। টেলিভিশন কেবল জনপ্রিয় হতে যাচ্ছে। একই দশকে আরও দুটি সিনেমা হল স্থাপিত হলো। স্টেশন রোডে নূপুর ও মেলোডি। নূপুর ছিল বড়, মেলোডি ছিল ছোট হল। নূপুরে সাধারণত বাংলা ছবি এবং মেলোডিতে ইংরেজি ছবিই বেশি দেখানো হতো। তবে নূপুরেও বিখ্যাত ইংরেজি ছবিগুলো দেখানো হতো। নূপুর উদ্বোধন হয়েছিল ‘লর্ড জিম’ ছবিটি দেখানোর মাধ্যমে। বাংলা ছবির রমরমা ব্যবসার কথা বলছিলাম। শুক্রবারে ছবি মুক্তি পেলে কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ করা ছিল এক প্রকার দুঃসাধ্য। কোনো কোনো ছবির বেলায় এই পরিস্থিতি থাকতো সপ্তাহ জুড়ে। এই সুযোগে সিনেমার টিকেট কালোবাজারি হতো বর্তমান রেলের টিকেটের মতো। টিকেট ব্লাকারদের এতটাই দৌরাত্ম্য ছিল যে, নিরীহ দর্শকরা ওদের তাণ্ডবে তটস্ত থাকতো। ব্লাকারদের সাথে ছাত্রদের বিশেষ করে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদের সংঘাতও হতো অনেক সময়। সে সময় মারামারিতে ছুরি, চাকু, নানচাকু, লাঠি, ফান্টা, কোকাকোলার বোতল’ই ব্যবহার হতো বেশি। এখনকার মতো কথায় কথায় গোলাগুলি বা ককটেল ফাটাফাটি হতো না। জলসা সিনেমা হলের প্রবেশ পথের উত্তর দেওয়াল ঘেঁষে ছিল একটি বিখ্যাত বইয়ের দোকান। ‘ছিল’ কেন বলছি তার বর্ণনা পরে দিচ্ছি। ১৯৫১ সালে মুসলিম হাই স্কুলের পাশে একটি ছোট্ট বইয়ের দোকান খুললেন ঝালকাঠি জেলার বাসিন্দা বর্তমানে প্রয়াত মোহাম্মদ আমিন সাহেব। জলসা হল নির্মাণের পরে লাইব্রেরিটি তিনি এখানে নিয়ে আসেন ১৯৬৭ সালে সে দশক থেকে শতাব্দির শূন্য দশক পর্যন্ত এই কারেন্ট বুক সেন্টারটি ছিল চট্টগ্রামের শিল্পী, লেখক, বুদ্ধিজীবী ও জ্ঞান অন্বেষকদের মিলনমেলা। জহুর হকার মার্কেটের প্রবেশ পথের বাম পাশে কো-অপারেটিভ বুক সোসাইটির সামনে একটি বড় বইয়ের দোকান ছিল। সেটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর কারেন্ট বুক সেন্টারই ছিল চট্টগ্রামের বৃহৎ বইয়ের দোকান। চট্টগ্রাম ছাড়াও সারাদেশ থেকে প্রকাশিত লিটলম্যাগের ঠিকানা ছিল আমিন সাহেবের এই লাইব্রেরিটি। চট্টগ্রামের জ্ঞানের আলো বিতরণে এই প্রতিষ্ঠানটির ঋণ অপরিসীম। ছিমছাম চট্টগ্রাম নগরীর সবচেয়ে সুন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ছিল এটি। আজ সময়ের আবর্তনে নগরীর সবচেয়ে জঞ্জালপূর্ণ এলাকায় পরিণত হয়েছে তা। চিমবুক রেস্তোরাঁ বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়ে গেছে নূপুর, মেলোডি ও জলসা সিনেমা হল। বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে কারেন্ট বুক সেন্টার। হল ভেঙে অপরিকল্পিত মার্কেট নির্মাণ আর হকারদের দৌরাত্ম্যে এ এলাকা এখন মার্কেটের বস্তিতে পরিণত হয়েছে। ত্রিশ বছর আগে এ এলাকার চিত্র কেমন ছিল আজকের কোনো তরুণ তা কল্পনাও করতে পারবে না। সমস্ত ফুটপাত দখল করে এখন সড়কের ৫০ ভাগ জায়গাও হকারদের দখলে। হকারদের দৌরাত্ম্যের সাথে চলে মানুষ ঠকানো আর পকেটমারার মহোৎসব। কারেন্ট বুক সেন্টার এখনো কোনো প্রকারে টিকে আছে। আমিন সাহেবের বইপ্রেমী সন্তানদের কারণে দোকানটি প্রদীপ জ্বেলে রাখলেও হকারদের ঠেলে সেটি খুঁজে পাওয়া এক প্রকার দুষ্কর বৈ কি। অন্তত দু’দশক ধরে ক্রমে ক্রমে এই বিড়ম্বনা বৃদ্ধি পেলেও নগর পুলিশ বা চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এদের বিরুদ্ধে কার্যকরী কোনো পদক্ষেপ নিতে পারেনি। হকারদের এ ধরনের অবৈধ ব্যবসার সাথে রাজনৈতিক দলের কিছু কিছু প্রভাবশালী নেতার সখ্য ও স্বার্থ থাকায় বারবার উদ্যোগ ব্যর্থ হয়েছে। নগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে এমন নৈরাজ্য কী করে বছরের পর বছর চলতে পারে তা ভাবতে গেলে বিস্মিত হতে হয়। বিশ্বের প্রায় বড় বড় নগরীতে ফুটপাতে দোকান আছে। বাংলাদেশে নতুন কিছু নয়। তবে সে সব নগরে হকাররা বসে একটি নিয়ম মেনে, সময় মেনে। সব সড়কের ফুটপাতে হকাররা ব্যবসা করতে পারে না সেখানে। নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে এবং নির্দিষ্ট সময়ের আগে ও পরে তারা ব্যবসা চালাতে পারে না। ব্যাংককের ফুটপাত বা ভারতের ফুটপাতেও দোকান বসে। খাবারের দোকানও বসে। তবে তা নিয়ম মেনে। সাধারণত বিকেল থেকে ফুটপাতের দোকানগুলো বসতে থাকে। মধ্যরাতে তারা গুটিয়ে চলে যায়। সকালে কেউ বুঝতে পারবে না এখানে রাতের বেলা কেমন জমজমাট ব্যবসা ছিল। বিপণি বিতানের আশেপাশে বিশৃঙ্খলভাবে স্থাপিত হকারদের দোকানগুলো প্রায় স্থায়ী রূপ পেয়ে গেছে। সারা বছর সকাল থেকে রাত পর্যন্ত তারা ফুটপাত থেকে রাস্তার অর্ধেক পর্যন্ত দখল করে ব্যবসা করে। এত ভিড় ঠেলে আর হেনস্থা উপেক্ষা করে একজন পুরুষই হাঁটতে পারে না সেখানে নারী-শিশুরা হাঁটবে কী করে। একটি আধুনিক নগরে কি এমন দৃশ্য কল্পনা করা যায়? বছরের পর বছর অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে এ ধরনের অবৈধ ব্যবসা শুধু এ দেশেই সম্ভব বোধ হয়। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে কয়েকবার এসব হকার উচ্ছেদের প্রচেষ্টা নেওয়া হয়েছিল তবুও সফল হওয়া যায়নি। অবশ্য সফল না হওয়ার পেছনে কারণও আছে। প্রথমত অর্থনৈতিক চাঁদা হিসেবে প্রতিমাসে বিপুল পরিমাণ অর্থ সংগৃহীত হয় এখান থেকে; যার একটি বিশাল অংশ পুলিশের কাছে যায়। দ্বিতীয়ত রাজনৈতিক- যেহেতু এই বিপুল চাঁদার বৃত্তটি নিয়ন্ত্রণ করেন যখন যে দল ক্ষমতায় থাকে সে দলের প্রভাবশালী নেতারা। সেহেতু রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে এবং চাঁদার ভাগ-বাটোয়ারার বিশাল অংকের লোভ সংবরণ করে পুলিশের পক্ষে এই হকার উচ্ছেদ সম্ভব হয় না আর। তারপরেও মানুষ আশাবাদী হয়। আশাবাদী হতে হয়। বর্তমান পুলিশ কমিশনার বেশ করিৎকর্মা বলেই মনে হয়। তার বক্তৃতা-বিবৃতি শুনে মনে হয় তিনি দৃষ্টান্তমূলক কিছু কাজ করতে চান। তার কর্মোদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলতে চাইণ্ড বিপণি বিতানের আশে-পাশে অন্তত দু-কিলোমিটার জায়গাকে মানুষ চলাচলের উপযুক্ত করে দিন। এই জায়গা পেরিয়ে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে প্রতিদিন তাদের প্রতিষ্ঠানে যেতে হয়। পুরুষের সাথে সাথে অনেক নারীকে কর্মস্থলে যেতে হয়। তাদের কথা একটু বিবেচনা করে এখানে হকারদের ব্যবসাকে একটি নিয়মের মধ্যে আনুন। আমি একেবারে উচ্ছেদের দাবি করছি না। একটি নিয়মের কথা বলছি। যেমন স্কুল ও অফিসগামী এবং সুশৃঙ্খলার প্রয়োজনে বিকেল পাঁচটার পর থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত অনুমতি দেওয়া যেতে পারে। এর বাইরে এই সড়ক ও ফুটপাত রাখতে হবে নির্ঝঞ্ঝাট। যারা ফুটপাত থেকে কেনে তারা ওই সময়ের জন্য অপেক্ষা করবে। এটি কোনো নতুন নিয়ম নয়। বিশ্বের অনেক দেশে এ ধরনের নিয়ম আছে। কমিশনার মহোদয় নগরীকে পরিচ্ছন্ন রাখার উদ্যোগে পুলিশ সদস্যদের সাথে করে ঝাড়ু হাতে নেমেছেন। তার এই কর্মোদ্যোগের প্রশংসা করি। তবে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে বলতে চাই যে, পুলিশের কাজ নগর পরিষ্কার করা নয়। নগরকে সুশৃঙ্খল, নিরাপদ ও সাধারণ মানুষের বাস উপযোগী রাখা। এটি সিটি কর্পোরেশনের কাজ। যার কাজ তাকেই করতে দেওয়া উচিত। যেমন এই এলাকা থেকে হকার উচ্ছেদ করবে তার নেতৃত্বে পুলিশ বাহিনী। আর এরপরে সিটি কর্পোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মী এসে জায়গাটি পরিষ্কার করে দেবে। এর চেয়ে সাদামাটা কথাতো বোধ হয় আর হতে পারে না। নগরীর নতুন মেয়র নির্বাচিত হয়েছেন আ.জ.ম নাছির উদ্দিন। নির্বাচনের আগে ও পরে তিনি অনেক প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এখনো প্রতিদিন দিচ্ছেন। আশা করি তা পূর্ণ করবেন। তিনি বিচক্ষণ ও জ্ঞানী মানুষ। নগরীর সব সমস্যা তার জানা আছে। এ সমস্যাও তিনি ভালোই অবলোকন ও অনুধাবন করেন যখন তিনি তার দলীয় কার্যালয়ে যান। তাকে কোনোরূপ অনুরোধ করার সাহস পাচ্ছিনা। গত সপ্তাহে ‘সংবর্ধনা নয়, সুষ্ঠু পরিকল্পনা নিন’ শীর্ষক একটি কলাম লিখেছিলাম। অনেক পাঠক তার জন্য আমাকে গালমন্দ করেছেন। আমি ওই কলাম লেখার কারণে না কি সংবর্ধনার মাত্রা আরও বেড়ে গেছে। আমি বিষয়টির জন্য ভীষণ লজ্জিত হয়েছি। “জলাবদ্ধতার বিষয়টি মিডিয়া বাড়িয়ে লেখে” নবনির্বাচিত মেয়রের এমন উক্তি শোনার পর আমার মনে হলো গত সংখ্যায় কলামটি লেখা উচিত হয়নি। কারণ তিনি শুধু সংবর্ধনা নিচ্ছেন না, নিশ্চয়ই সুষ্ঠু পরিকল্পনাও নিচ্ছেন। সাবেক দু’মেয়র মহিউদ্দিন চৌধুরী ও মনজুর আলম মঞ্জুর প্রতি মিডিয়া অবিচার করেছে বলে আমার দুঃখ হচ্ছে। আমি অভয় পেলে নব নির্বাচিত মেয়র মহোদয়কে অনুরোধ জানাতাম তিনি দায়িত্ব বুঝে নেয়ার পর ওই এলাকার বিষয়টি যদি একবার ভাবার সময় পেতেন। আমার ধারণা তাতে চট্টগ্রাম নগরবাসী উপকৃত হতো, কয়েক হাজার হকারের জন্য কয়েক লাখ মানুষ কষ্ট পাবে তাতো হয় না। ভোটের রাজনীতিতেও তা মেলে না। আমি আশাবাদী মানুষ। আমার ধারণা এবার একটা কিছু হবে। নগরবাসীর জন্য কিছু একটা করতে উন্মুখ হয়ে আছেন পুলিশ কমিশনার। অন্যদিকে নতুন মেয়র নগরকে আধুনিক করে গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কাজেই একটি সুন্দর সকালের জন্য অপেক্ষা করছি। যেদিন দেখবো জায়গাটি হকারমুক্ত হয়েছে। সুশৃঙ্খল হয়েছে। [email protected]



সর্বশেষ সংবাদ
এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।  তথ‌্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ এমপি মহোদয়ের শুভ জন্মদিন আজ করোনায় পোশাক কারখানায় ৫৫ শতাংশ কাজ কমে গেছে: রুবানা হক