ভারতের দ্বিতীয় তাজমহল!

পোস্ট করা হয়েছে 01/04/2015-08:05am:    আন্তর্জাতিক ডেস্ক : আগ্রায় তাজমহলকে জানি সবাই। মোগল সম্রাট শাহজাহান স্ত্রী বেগম মমতাজ মহলের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত অপূর্ব রাজকীয় সমাধি সকলের কাছেই সমান আকর্ষণের। এর বাইরেও ভারতের আরেকটি তাজমহল রয়েছে, যা অনেকেরই অজানা। এই তাজমহলটির অবস্থান বিহারের রোহতাস জেলার সাসারামে। এটি হচ্ছে, সম্রাট শের শাহ সুরির সমাধিস্থল। চার চারদিকেই পরিখা ঘেরা। সম্প্রতি এই দ্বিতীয় তাজমহলটি আলেচনায় এসেছে একাদশ শ্রেণির দুজন ছাত্রর কারণে। শের শাহ সুরির সমাধিস্থলের চারপাশটি দূষণ মুক্ত করতে চেয়ে তারা আর্জি জানিয়েছে রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে। আর্বজনা ভরা পরিখার পানি যে ভাবে দূষণ ছড়াচ্ছে তা দূর করতেই তাদের এই আর্জি। রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে এই দুই ছাত্রের চিঠির উত্তরও এসেছে। ১৫৪৫ সালে সাসারামে তৈরি শের শাহের সমাধিস্থল প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের অধীনে ‘হেরিটেজ সাইট’ হিসেবে ইতিমধ্যেই ঘোষিত। সাসারামের এই ভূমিপুত্রের মৃত্যুর পর জন্মস্থান সাসারামেই তাকে সমাধিস্থ করা হয়। শের শাহ সুরি এর সমাধি ভারতের সেভেন ওয়ান্ডার্সে অন্তর্ভূক্ত।এই সমাধিটি ভারতে পাঠান স্থাপত্যের একটি মহান নমুনা। ভারতের ‘দ্বিতীয় তাজমহল’ হিসেবে পরিচিত এই পরিখা ঘেরা সমাধিস্থলটি দেখার জন্য প্রতি বছর ভিড় করেন দেশি এবং বিদেশি পর্যটকরা। গত বছরও এখানে পা পড়েছে আড়াই লক্ষ পর্যটকের। এমন এক আকর্ষনীয় পর্যটন কেন্দ্রকে ঘিরে গড়া পরিখার পানি এখন দুর্গন্ধ এবং দূষণের আঁতুড়ঘরে পরিণত হয়েছে। তার থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় একটি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের দুই ছাত্র বিনীত প্রকাশ এবং মণিরাজ সিংহ শেষ পর্যন্ত গত ডিসেম্বরে রাষ্ট্রপতির হস্তক্ষেপ চান। রাষ্ট্রপতি এবং প্রধানমন্ত্রীকে লেখা চিঠিতে স্থানীয় প্রশাসনের উদাসীনতাকে দায়ি করে দ্রুত এই সমস্যা সমাধানের আর্জি জানায় তারা। রাষ্ট্রপতি ভবন তাদের চিঠিতে সাড়া দিয়ে কেন্দ্রের কলা সংস্কৃতি মন্ত্রককে বিষয়টি দেখার জন্য ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে। মাত্র পাঁচ বছরের শাসনকালে শের শাহ বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে তিনি বড় মাপের প্রশাসক। শের শাহ সুরি কেবলমাত্র একজন মেধাবী রণকৌশলবিদই ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন দক্ষ প্রশাসক ও যোগ্য সেনানায়ক। ১৫৪০ থেকে ১৫৪৫ সালের মধ্যবর্তী সময়ে তার পাঁচ বছরের স্বল্পকালীন রাজত্বে তিনি নাগরিক ও সামরিক প্রশাসনের এক নতুন ধারার সূচনা ঘটিয়েছিলেন। তিনি প্রথম রুপিয়া নামক মুদ্রার প্রচলন করেন, যা বিংশ শতাব্দী অবধি চালু ছিল। তিনি মোহর নামে ১৬৯ গ্রেইন ওজনের স্বর্ণমুদ্রা ও দাম নামে তাম্রমুদ্রাও চালু করেছিলেন। শের শাহ সুরি একজন সাধারণ সেনাকর্মচারী হয়ে নিজের কর্মজীবন শুরু করে পরবর্তীকালে তিনি মোগল সম্রাট বাবরের সেনাবাহিনীর সেনানায়কের পদে উত্তীর্ণ হন। শেষপর্যন্ত তাকে বিহারের শাসনকর্তা নিযুক্ত করা হয়। ১৫৩৭ সালে নতুন মোগল সম্রাট হুমায়ুন যখন অন্যত্র অভিযানে ব্যস্ত ছিলেন, সেই সময় শের শাহ সুরি বাংলা জয় করে সুরি সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করেন এবং নিজেকে নতুন সম্রাট ঘোষণা করেন। কথিত আছে, তিনি কোনো এক ভারতীয় জঙ্গলে একটি পূর্ণবয়স্ক বাঘকে সম্পূর্ণ খালি হাতে হত্যা করেছিলেন। গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড (সড়ক-এ-আজম) শের শাহ সুরির অমর কীর্তি। আজও ভারত ও পাকিস্তান রাষ্ট্রে এই সড়ক অন্যতম প্রধান রাস্তা। এর ভারতীয় অংশটি বর্তমানে স্বর্ণ চতুর্ভূজ প্রকল্পের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ১৫৪৫ সালে চান্দেল রাজপুতদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের সময় কালিঞ্জর দুর্গে বারুদের বিস্ফোরণে শের শাহ সুরির মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর পুত্র জালাল খান ইসলাম শাহ সুরি নাম গ্রহণ করে সুরি সাম্রাজ্যের সিংহাসনে বসেন। সাসারামে একটি কৃত্রিম হ্রদের মাঝখানে তার ১২২ ফুট উঁচু নয়নাভিরাম সমাধিসৌধটি নির্মাণ করেন।

সর্বশেষ সংবাদ