প্রাসঙ্গিক।। ভাষা ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা নীরব কেন? ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার

পোস্ট করা হয়েছে 29/01/2015-09:00am:    পৃথিবীতে বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যে দেশের নাগরিগরা রক্ত দিয়ে নিজ মাতৃভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করেছে। ভাষার মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য রক্ত দানের সূত্র ধরে আজ বিশ্বব্যাপী পালিত হয় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। অথচ এ দেশেই ভাষা ও সংস্কৃতির উন্নয়নে সুপরিকল্পনার ঘাটতি রয়েছে। সাম্প্রতিক বাংলাদেশী সংস্কৃতি ব্যাপক দূষণের কবলে পড়েছে এবং এই অসুস্থতা থেকে এ দেশের ভাষা ও সংস্কৃতিকে সুস্থ্য ধারায় ফিরিয়ে আনতে গঠনমূলক সরকারি পরিকল্পনা গৃহীত হচ্ছে না। শিক্ষা ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের এ ব্যাপারে কোনো সক্রিয়তা নেই। নতুন প্রজন্মের অনেকেই না জানছে ইংরেজি ভাষা, না পারছে শুদ্ধ বাংলা চর্চার যোগ্যতা অর্জন করতে। বাংলাদেশের স্যাটেলাইট টিভি এবং অনলাইন রেডিওর উপস্থাপকদের ‘বাংলিশ’ ভাষা শুনলে এই দূষণের মারাত্মকতা অনুভব করা যায়। কবর থেকে শ্রদ্ধেয় সালাম, রফিক, বরকতরা ওই ভাষা শুনলে হয়তো কপাল চাপড়ে বলতেন, হায় হায়, এই রকম বিকৃত বাংলা ভাষার জন্যই কি আমরা জীবন দিয়েছিলাম! সংস্কৃতির ক্ষেত্রে অসুস্থতা আরও ভয়াবহ। স্যাটেলাইট টেলিভিশনে স্বদেশী মূল্যবোধের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সাংস্কৃতিক উপাদান প্রদর্শিত হচ্ছে। ভারতীয় টিভি সিরিয়ালে বাংলাদেশী মা-বোনরা কেবল প্রভাবিত হননি, পুরোদস্তুর আসক্ত হয়ে পড়েছেন। অথচ এ সব সিরিয়াল থেকে এরা ইতিবাচক কিছু শিখতে পারছেন না। কারণ, ব্যাপকভাবে ধর্ম প্রভাবিত এ সব সিরিয়ালের বিষয়বস্তু হলো অধিকাংশক্ষেত্রেই পরকীয়া, কে কীভাবে কার ক্ষতি করবে, কে কার খাবারে কীভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে বিষ মেশাবে, কে কার সম্পদ আত্মসাৎ করবে, প্রভৃতি জাতীয় নেতিবাচক ঘটনা। এ সব সিরিয়ালের অভিনয় শিল্পীরা পারিবারিক পরিবেশেও জমকালোভাবে সেজেগুজে থাকেন। গহনা পরে ঠোটে লিপিস্টিক লাগিয়ে ঘুমাতে যান এবং ওই রকম সাজগোজ নিয়ে আবার ঘুম থেকে ওঠেন। হিন্দি সিরিয়ালগুলোর সঙ্গে সম্প্রতি পাল্লা দিয়ে ভারতীয় বাংলা সিরিয়ালগুলোর প্রতিও বাংলাদেশি গৃহবধূ ও যুবতী-কিশোরীরা আসক্ত হয়ে পড়েছেন। স্টার জলসার ‘বোঝে না সে বোঝে না’ সিরিয়াল দেখতে না দেয়ায় ২০১৪ সালে সাভার ও পাংশার দুই কিশোরী আত্মহত্যা করেছে। হিন্দি সিরিয়ালগুলোর কু-প্রভাব থেকে বাংলাদেশী বৌ-ঝিদের রক্ষা করার লক্ষ্যে আজ থেকে দশ বছর আগে ২০০৪ সালে জনপ্রিয় নাট্য ব্যক্তিত্ব জামালউদ্দিন হোসেন প্রথম আলো পত্রিকায় ‘দয়া করে হিন্দি চ্যানেলগুলো বন্ধ করে দিন’ শিরোনামে প্রবন্ধ লিখেছিলেন। এ লেখকও ওই সময় একই পত্রিকায় ‘কতটা খোলা থাকবে সংস্কৃতির আকাশ?’ শিরোনামে প্রবন্ধ লিখে সরকার ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়কে নিজস্ব সংস্কৃতিকে বিপথগামী না করার জন্য বহিরাগত সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ না করে উদারতা ও স্মার্টনেস দেখাবার আহাম্মকি না করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু দু:খের বিষয়, কোন সরকারই ওইসব পরামর্শ আমলে নেয়নি। বাংলাদেশী টিভি চ্যানেলগুলো ভারতে না দেখানো হলেও ভারতীয় অধিকাংশ স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে দেখাবার মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়ের বৈশিষ্ট্য প্রতিফলিত হয় না। পরিবর্তে, নিজস্ব সাংস্কৃতিক মূল্যবোধকে আহত করে এমন সংস্কৃতির একতরফা প্রবাহ অব্যাহত থাকায় বাংলাদেশী সংস্কৃতি এর নিজস্ব স্বকীয়তা হারাচ্ছে। হিন্দি সিরিয়ালের প্রভাবে মেট্রপলিটন এলাকায় বসবাসকারী ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা এখন বাংলার চাইতে হিন্দিতে কথা বলতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছে। বাংলাদেশে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিদ্যাদেবী স্বরসতীর পূজা উদযাপিত হওয়ার প্রচলন আছে। তবে সম্প্রতি ভারতীয় স্যাটেলাইট কালচারের একতরফা প্রভাবে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলায় হোলি খেলার প্রচলন শুরু হয়েছে (চারুকলার মেয়েদের হোলি খেলার দৃশ্যের জন্য দেখুন, যুগান্তর ২৯ মার্চ, ২০১৩)। ভারতীয় আকাশ সংস্কৃতির কু-প্রভাব থেকে আগামী প্রজন্মকে কীভাবে বাঁচানো যায় সে চিন্তায় যখন দেশবাসী ব্যকুল তেমন সময় মরার ওপর খাড়ার ঘা’র মত ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি সরকারের অনুমতি নিয়ে চলচ্চিত্র শিল্পী ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলোতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হিন্দি সিনেমা দেখানো শুরু করেছে। সরকার কী চিন্তা করে এ অনুমতি দিল সে বিষয়টি ভেবে দেখা প্রয়োজন। এ অনুমতি দেবার আগে সরকারের এ দেশের বিকাশমান চলচ্চিত্র শিল্পের কথা ্‌একবার ভেবে দেখা উচিত ছিল। প্রয়োজনে সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র অঙ্গনের বিশেষজ্ঞ ও আইকনদের সঙ্গে এ বিষয়ে সংলাপ-পরামর্শ করা উচিত ছিল। চলচ্চিত্র নির্মাণে হলিউড-বলিউডের চেয়ে ঢালিউড অনেক পিছিয়ে আছে। বাজেট, কলাকুশলী, প্রযুক্তি, পারফর্মিং, সব কিছু মিলিয়ে আমাদের চলচ্চিত্রের পশ্চাৎপদতা স্বীকার করতে লজ্জা নেই। তবে সম্প্রতি অভিনয়, প্রযোজনা ও পরিচালনায় অনেক নতুন মেধাবীদের আগমন ঘটায় চলচ্চিত্র শিল্প ঘুরে দাঁড়াতে চেষ্টা করছিল এবং দর্শকরাও ক্রমান্বয়ে হলমুখো হচ্ছিলেন। এমন সময় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এ ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটার সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ সময় একটি গোষ্ঠীহীন বাণিজ্যিক স্বার্থে বাংলাদেশী সিনেমা হলগুলোতে আমদানিকৃত ভারতীয় সিনেমা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে প্রদর্শনের আত্মঘাতী প্রচেষ্টা শুরু করেন। এ প্রসঙ্গে উল্লেখ্য, এ গোষ্ঠীটি ১৯৭২ সাল থেকে ভারতীয় চলচ্চিত্র আমদানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা মহাজোট আমলে ২০১০ সালের এপ্রিল মাসে প্রত্যাহার করিয়ে ভারতীয় সিনেমা আমদানির অনুমতি লাভ করলে সাংস্কৃতিক ও চলচ্চিত্র অঙ্গন প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিল। চলচ্চিত্র প্রযোজক পরিবেশক সমিতি, চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতি ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতাগণ সকল নায়ক-নায়িকা ও অভিনয় শিল্পীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধ প্রতিবাদ করে ওই প্রচেষ্টা রোধে সক্ষম হয়েছিলেন। তারা যেভাবেই হোক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বোঝাতে সমর্থ হয়েছিলেন যে বাংলাদেশী সিনেমা হলে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শিত হলে বিকাশমান স্বদেশী চলচ্চিত্র শিল্প মারা যাবে। সরকারকে বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ওই যাত্রায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে হিন্দি ছবি প্রদর্শন বন্ধ করা সম্ভব হয়েছিল। উল্লেখ্য, এ ঘটনার পর বাংলাদেশে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শনে আগ্রহী পক্ষটি চুপ করে বসে ছিলেন না। তারা আবারও চেষ্টা করে ২০১২ সালের ৩০ জুন ‘ওয়ান্ডেট’, ‘ডন টু’ ‘থ্রি ইডিঅটস’ এবং ‘তারে জামিন পার’ নামের চারটি ভারতীয় হিন্দি ছবি বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলোতে প্রদর্শনের জন্য আমদানি করতে সমর্থ হই। এবার এরা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি লাভ করে চলচ্চিত্র কর্মীদের প্রবল বাধার মুখে আমদানিকৃত সিনেমাগুলোর একটি (সালমান খান ও আয়েশা টাকিয়া অভিনীত ‘ওয়ান্ডেট’) প্রাথমিকভাবে ৫০টি সিনেমা হলে প্রদর্শন করে। উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর জাতীয় যাদুঘর মিলনায়তনে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদীনের জন্ম শতবার্ষিকী উদযাপন অনুষ্ঠানে নিজস্ব সংস্কৃতি চর্চার ওপর গুরুত্ব দিয়ে বক্তৃতা দানকালে ‘নিজের মনেই প্রশ্ন জাগে, বাঙালী জাতি কি তার সংস্কৃতির মূলধারা থেকে বিচ্যুত হচ্ছে’ বলে উদ্বেগ প্রকাশ করার মাত্র ২৪ দিন পর ২০১৫ সালের ২৩ জানুয়ারি বিকাশমান বাংলাদেশি চলচ্চিত্র শিল্পকে হুমকির মুখে ফেলে চলচ্চিত্র শিলপীদের প্রতিবাদ উপেক্ষা করে প্রথম বারের মত বাংলাদেশী সিনেমা হলে হিন্দি সিনেমা প্রদর্শিত হল। চলচ্চিত্র-সংশ্লিষ্ট ১৯টি সংগঠনের সমন্বয়ে গঠিত বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ঐক্য পরিষদ ২০ জানুয়ারি মানববন্ধন, ২১ জানুয়ারি কাফনের কাপড় গায়ে দিয়ে প্রতিবাদ মিছিল, ২২ জানুয়ারি মানববন্ধন এবং প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিয়ে প্রতিবাদ করে। এর সঙ্গে চলছিল কর্মবিরতি। একই দিন রাজধানীর অনেকগুলো প্রেক্ষাগৃহে প্রদর্শিত ভারতীয় ছবির পোস্টার ছিড়ে ফেলেও হিন্দি ছবি প্রদর্শন রোধ করতে পারেনি। ভারতীয় ছবি আমাদের সিনেমা হলগুলোতে অব্যাহতভাবে প্রদর্শিত হলে যে বাংলাদেশের বিকাশমান চলচ্চিত্র শিল্প মারা যাবে সে বিষয়টি জেনেও সুশীল সমাজ সদস্য এবং ভাষা ও সংস্কৃতিপ্রেমীদের বাণিজ্যিক ভিত্তিতে বাংলাদেশী সিনেমা হলগুলোতে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করার রহস্য উন্মোচন করা প্রয়োজন। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি ২৫ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলন করে বাংলাদেশের সিনেমা হলগুলোতে ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শনের পক্ষে যে যুক্তি উপস্থাপন করেন তা মেনে নেয়া যায় না। তারা বলেন, সিনেমা হলগুলো ক্রমান্বয়ে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে, দর্শকরা হলে আসছেন না। হলগুলোকে বাঁচাবার জন্য এবং দর্শকদেরকে হলমুখী করার জন্য ভারতীয় সিনেমা প্রদর্শনের প্রয়োজন আছে। এদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে কিছুসংখ্যক বিবেকহীন বর্ণচোরা বুদ্ধিজীবী বলিউড সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করেই ঢালিউড সিনেমাকে টিকে থাকতে হবে বলে যুক্তি দেন। তারা উন্নত প্রযুক্তির অধীনে বিশাল বাজেটে তৈরি বলিউড সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতা করে স্বল্প-উন্নত প্রযুক্তির ছোট বাজেটে নির্মাণ করা ঢালিউড ছবিকে প্রতিযোগিতায় নামাতে চান। এমন অসম প্রতিযোগিতায় যে ঢালিউড ছবি টিকতে পারবে না তা তারা ভাল করেই জানেন। বিগ বাজেটে নির্মিত সালমান, শাহরুখ সোনাক্ষী, কারিনা, ঐশ্বরিয়া অভিনীত ছবির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে স্বল্প বাজেটে নির্মিত শাকিব, আমিন, নীরব, শাবনূর, পূর্নিমাদের অভিনীত ছবি যে পরাস্ত হবে সে বিষয়ে তারা অবগত। এর পরও এরা সিনেমা হলে দর্শক আনার অজুহাতে ভারতীয় ছবি প্রদর্শনের আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। এর ফলে সিনেমা হলে দর্শক আসলেও তার বিনিময়ে আমাদের সিনেমা শিল্প ক্রমান্বয়ে গোরস্থানমুখী হবে। শাহরুখ-সালমান-সোনাক্ষীদের চাপে আমাদের শাকিব-রিয়াজ-পূর্ণিমারা ক্রমান্বয়ে অমাবশ্যায় মিলিয়ে যাবেন। সিনেমা হল বাঁচাবার নামে আমাদের সিনেমা শিল্পকে কবরে পাঠিয়ে ভারতীয় সিনেমা চালিয়ে হলে দর্শক আনার মধ্যে যে বড় রকমের আত্মঘাতী আহাম্মকি রয়েছে সে বিষয়টি সংস্কৃতিপ্রেমী সুশীল সমাজ সদস্যদের অনেকেই বুঝেও স্বীকার করছেন না। সুশীল সমাজ সদস্যরা যদি বিদেশি সিনেমা দেখানোকে সমর্থন না করে স্বদেশী সিনেমার উন্নয়নে সরকারি সহায়তা বৃদ্ধিসহ অন্যান্য পরামর্শ দিয়ে আমাদের সিনেমাকে কিছুটা উন্নত করে তারপর বিদেশি সিনেমার সঙ্গে প্রতিযোগিতার কথা বলতেন তাহলে তা শ্রুতিশোভন হতো। তবে ২৬ জানুয়ারি আন্দোলনরত চলচ্চিত্র ঐক্য পরিষদ নেতাদের তথ্যমন্ত্রী ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর হিন্দি এবং উর্দু ছবি আমদানি করা হবে না বলে আশ্বাস দিলে নেতারা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন। সরকারের উচিত আমাদের ভাষা, সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নের স্বার্থে সিনেমা হলগুলোতে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে আমদানিকৃত ভারতীয় সিনেমা দেখাবার আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত যত দ্রুত সম্ভব প্রত্যাহার করা। বাংলাদেশী সিনেমার উন্নয়নের জন্য চলচ্চিত্র ও সংস্কৃতি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে বিকাশমান চলচ্চিত্র শিল্পকে উন্নত করতে সম্ভাব্য সরকারি সাহায্য সহোযোগিতা বৃদ্ধি করা। এ ব্যাপারে গড়িমসি করলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের ভাষা, সংস্কৃতি ও মানসিকতায় অসুস্থতা ও বিকৃতি দেখা দেবে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির স্বদেশী সিনেমার উন্নয়নের উদ্যোগ না নিয়ে বিদেশী সিনেমা প্রদর্শনের মাধ্যমে সিনেমা হলে দর্শক এনে আমাদের চলচ্চিত্র শিল্পকে হত্যা করে সিনেমা হল বাঁচিয়ে রাখার আত্মঘাতী উদ্যোগকে কিছুতেই সমর্থন করা যায় না। সুস্থ বিবেকসম্পন্ন এবং দেশ, ভাষা ও সংস্কৃতিপ্রেমী প্রতিটি নাগরিকের এই আত্মঘাতী উদ্যোগের বিরুদ্ধে উচ্চকণ্ঠে প্রতিবাদ করা উচিত। অধ্যাপক, রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়। [email protected]

সর্বশেষ সংবাদ