সুশীল শ্রেণির ভূমিকা ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা ঃ কামরুল হাসান বাদল কবিওসাংবাদিক

পোস্ট করা হয়েছে 08/01/2015-08:51am:    কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি সুশীল শ্রেণির একাংশ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও কিছু কিছু সংবাদ মাধ্যমের প্রত্যাশা আকাঙক্ষা পূরণ হয়েছে। দেশ আবার অস্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। শুরু হয়েছে আবার হরতাল-অবরোধ, জ্বালাও-পোড়াও বোমাবাজি, মানুষ হত্যা ও সম্পদ ধ্বংসের মহোৎসব। গত কয়েক মাসের সংবাদপত্রের পাতা কিংবা টিভি চ্যানেলগুলোর ফাইল ফুটেজ খুঁজে দেখলে পরিষ্কার হবে এমন একটি পরিবেশ সৃষ্টিরই যেন প্রচেষ্টা ছিল বেশ সুপরিকল্পিতভাবে। গত এক বছর ধরে দেশে কোনো সহিংস রাজনীতি বা রাজনৈতিক কর্মসূচি না থাকায় যারা পত্রিকা বা টিভিতে দেশে গণতন্ত্র নেই, গণতন্ত্র নেই বলে গলা ফাটিয়েছিলেন তাদের সেই গণতন্ত্র বা গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরে এসেছে বলে একটি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারেন তারা। তবে এ গোষ্ঠীর স্বস্তির নিঃশ্বাসের সাথে সাথে জনগণের যে নাভিশ্বাস উঠতে শুরু করেছে তার আলামত শুরু হয়ে গেছে দেশে। খুব বেশি আগে থেকে শুরু করব না। সপ্তাহ খানেক পেছনে যাব শুধু। দেশের রাজনীতিতে কার্যত কিছু করতে না পেরে অর্থাৎ জনগণের কল্যাণে কোনোরূপ কর্মসূচি গ্রহণে ব্যর্থ হয়ে বি এনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট আইনের দৃষ্টিতে যিনি পলাতক, তারেক রহমান বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ অর্থাৎ বাংলাদেশের মৌলিক ইতিহাস নিয়ে বিতর্কিত ও নিন্দনীয় বক্তব্য রেখে আসছিলেন বেশ কয়েক মাস থেকে। শেষের দিকে তার এসব বক্তব্য অত্যন্ত কুরুচিও বিদ্বেষপূর্ণ হয়ে উঠেছিল যা, যে কোনো অর্থে রাজনৈতিক শিষ্টাচার বহির্ভূত। তারেক রহমান জানতেন তার বিতর্কিত ও নিন্দনীয় বক্তব্যগুলো ইতিহাসের চরমতম বিকৃতি হলেও তার দ্বারা দেশে একটি হুলস্থূল প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করা যাবে। আলোচনা ও সংবাদ শিরোনামে তিনি ও তার দল বিএনপি ভালো কাভারেজ পাবে। তার এই অনুমান মিথ্যে হয়নি। তার অমার্জিত ও ক্ষমার অযোগ্য এসব বক্তব্যের কারণে সরকারি দল তথা মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে। বিলেতে পলাতক জীবন কাটানো সত্ত্বেও তারেক ঘুরে ফিরে রাজনৈতিক আলোচনার বিষয়ে পরিণত হন। তারেক জিয়ার উস্কানিতে বেশ কাজ হয়েছে। ছাত্রলীগ এই ঘটনার জন্য তারেকের ক্ষমা প্রার্থনা না করা পর্যন্ত দেশের কোথাও খালেদা জিয়াকে সমাবেশ না করতে দেওয়ার ঘোষণা দেয়। এরপর ২৭ ডিসেম্বর গাজীপুরে বিএনপির আহূত জনসভাস্থলে পাল্টা সমাবেশের ঘোষণা দেয় স্থানীয় ছাত্রলীগ। দুপক্ষের অনড় অবস্থানের কারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সেখানে শেষ পর্যন্ত ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। এর প্রতিবাদে জেলায় সকাল-সন্ধ্যা হরতাল আহ্বান করে বিএনপি। ২৭ ডিসেম্বর দেশের শীর্ষস্থানীয় দৈনিক, যারা বদলে যাওয়ার োগান দিয়ে থাকেন। প্রথম পৃষ্ঠায় একটি সংবাদ প্রকাশ করে যার শিরোনাম ছিল এমন গাজীপুরে আজ হরতাল, পিছু হটল বিএনপি। এ পত্রিকাটি ছাড়া আরও একটি দৈনিক লিখল ‘বিএনপির-পিছুটান’। শুধু তাই নয় প্রথমোক্ত পত্রিকাটি খালেদা জিয়ার সাত দফা কর্মসূচি ঘোষণার পরে দু কলাম জুড়ে প্রধান সংবাদ শিরোনাম করল, ‘খালেদা জিয়ার সাত দফা কৌশল না পিছু হটা। বিএনপির মতো অন্যতম একটি বিরোধী দলের আন্দোলন কৌশল এভাবে ব্যঙ্গ করে তাদের উত্তপ্ত করে তোলার কী উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এভাবে সংবাদের শিরোনাম করা এবং সংবাদের মধ্যে প্রতিবেদকের মন্তব্য জুরে দেওয়া কতটা দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা? ’ূণষ্র’ বা খবর পরিবেশিত হবে নির্জলা অবস্থায়। একজন সাংবাদিক তথা রিপোর্টার যা দেখেছেন, শুনেছেন অর্থাৎ যা ঘটেছে তাকে নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে উপস্থাপন করাই হচ্ছে ’ূণষ্র’। এখানে সংবাদদাতার কোনোরূপ মন্তব্য করার বা তার মনের রঙে রাঙিয়ে পরিবেশন করার সুযোগ নেই। যদি করা হয় তবে তা হতে পারে ফিচার, মন্তব্য প্রতিবেদন উপসম্পাদকীয় বা কলাম। সব ক্ষেত্রে একজন লেখক নিজস্ব মতামত, মন্তব্য ও সিদ্ধান্ত প্রদান করতে পারেন। কিন্তু শুধু সংবাদ বা ’ূণষ্র’ দিতে গিয়ে একজন সংবাদদাতা কী করে লিখতে পারেন পিছু হটল বিএনপি’ বা ‘কৌশল না পিছু হটা’। কৌশল হোক বা পিছু হটা হোক এটি বিএনপির সিদ্ধান্ত। একজন সংবাদদাতাতো শুধু সংবাদটুকুই পরিবেশন করবেন। তার কী অধিকার আছে বিএনপির রাজনীতি নিয়ে ব্যক্তিগত মন্তব্য করার। তবে তিনিও তা করতে পারেন তবে তা ’ূণষ্র’ এ নয়। তার নিজস্ব কোনো কলামে। এরপরে ৫ জানুয়ারি সন্ধ্যা বা রাতে টেলিভিশন সংবাদদাতাদের কর্মকাণ্ড দেশবাসী প্রত্যক্ষ করেছে। মাইক্রোফোন নিয়ে নেতানেত্রীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে তাদের কর্মসূচি ঘোষণায় বাধ্য করার কী প্রাণান্তকর প্রচেষ্টা। ‘অবরোধ না হরতাল” আমাদের সতীর্থ সাংবাদিকরাই আন্দোলনের পথ নির্দিষ্ট করে দিচ্ছেন দুটো থেকে কোনটা। যেন এছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। এদের কর্মকাণ্ড দেখে শুনে মনে হচ্ছে জ্বালাও পোড়াও না হলে এদের খবরের তৃষ্ণা মেটে না। এ প্রসঙ্গে আমাদের মনে পড়ে বিগত আন্দোলন বিশেষ করে ২০১৩ সালের শেষার্ধে বিএনপি-জামায়াত-হেফাজতের তাণ্ডবের সময় কোথায় কোথায় বোমা ফাটানো হবে, আগুন দেওয়া হবে তা টেলিভিশন সাংবাদিকদের কারো কারো কাছে ওুও দিয়ে আগাম জানিয়ে দেওয়া হতো। ওই সাংবাদিকরা না যাওয়া পর্যন্ত পিকেটাররা অপেক্ষা করতো। ক্যামেরা পৌঁছানোর পরে ক্যামেরা ট্রায়াল দিয়েই পিকেটাররা সটকে পড়তো আর সাংবাদিক ভাইয়েরা একটি গুরুত্বপূর্ণ ফুটেজ সংগ্রহের অনাবিল আনন্দ নিয়ে বার্তা কক্ষে ফিরে আসতেন। এ সংবাদ প্রচারের পর দেশের অন্যান্য স্থানের পিকেটার অর্থাৎ দৃষ্কৃতকারীরা উৎসাহিত হয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ত আর অন্যদিকে সাধারণ জনগণের জীবন আরও দুর্বিষহ হয়ে উঠত। সবাইতো আর দায়িত্বজ্ঞানহীন সাংবাদিক নন। ফলে ওই সময়েই এ ধরনের কার্যকলাপের বিরুদ্ধে অনেকে সোচ্চার হয়েছেন এবং পরে পরে এমন দুষ্কর্মের মাত্রাও কমে গিয়েছিল। যাক নিজেদের ক্ষমতায় যাওয়ার প্রয়োজনে হোক বা এমন চাপাচাপির কারণেই হোক বিএনপিও তার নেতৃত্বাধীন জোট এদের আবদার রেখেছেন। লাগাতার অবরোধ আহবানসহ জ্বালাও-পোড়াও শুরু করে দিয়েছে। এর ফলে ৫ তারিখেই চারজন মারা গেছে। ৫ জানুয়ারি শুধুই কি একটি তারিখ। অথবা একটি সাধারণ নির্বাচন হয়েছিল এমন একটি তারিখ। এ ছাড়া কি এর অন্য কোনো তাৎপর্য নেই? যদি না থাকে তবে তাকে নিয়ে দু পক্ষের এত হানাহানি কেন? নিশ্চয়ই আছে। তা বলার আগে একটু ভেবে নেওয়া যাক ৫ জানুয়ারি নির্বাচন না হলে দেশে কী হতো। এখনও আমরা কী রূপ পরিস্থিতিতে থাকতাম। আপাত দৃষ্টিতে বলা যায় এই নির্বাচন না হলে দেশে একটি সাংবিধানিক অচলাবস্থা সৃষ্টি হতো। ফলে দেশ একটি গভীর সংকটে উপনীত হতো। ব্যস এ টুকুই? বিরোধীজোটের সে আন্দোলনের গতি প্রকৃতি বিশ্লেষণ করলে আমরা দেখতে পাবো সে আন্দোলন, প্রকৃতপক্ষে যা ছিল ‘নৈরাজ্য’ তার মূল চালিকাশক্তি ছিল দেশের উগ্রবাদী দল জামায়াত ও তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবিরের হাতে। আর শিবিরের ও জামায়াতের পেছনে ছিল দেশের উগ্রবাদী জঙ্গি গোষ্ঠী। একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে অভিযুক্ত ও সাজাপ্রাপ্ত নিজদলীয় নেতাদের যে কোনোভাবে মুক্ত করা ও সে সময়ের সরকারকে উৎখাত করে রাষ্ট্র ক্ষমতা দখল করে তার আগের পাঁচ বছরের সকল অগ্রগতি ও অর্জনকে ধুলিসাৎ করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য। তাদের উদ্দেশ্য ছিল নির্বাচন পণ্ড করে একটি অরাজক পরিস্থিতি তৈরি করে নির্বাচিত সরকারকে ফেলে দিয়ে যে কোনো একটি শক্তিকে ক্ষমতায় আনা। তারা জানে আওয়ামী লীগ সরকার ছাড়া অন্য কোনো সরকার যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দায় নেবে না। শেষ পর্যন্ত জামায়াতের প্ররোচনায় বিএনপি নির্বাচনে যায়নি। যদি সেদিন নির্বাচিত সরকারের বদলে কোনো অপশক্তি ক্ষমতায় আসতো কিংবা ২০ দলীয় জোটও যদি ক্ষমতায় আসতো তাহলেও বাংলাদেশের পরিস্থিতি এমন থাকতো না। আমাদের মনে রাখা দরকার সে সময়ে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকার ক্ষমতায় এলেও ক্ষমতায় মূল চাবিকাঠি থাকতো জামায়াতের হাতেই। আর একবার এদেশে জঙ্গি সমর্থিত কোনো রাজনৈতিক শক্তি ক্ষমতায় গেলে বাংলাদেশের পরিস্থিতি পাকিস্তান-আফগানিস্তানের মতোই হতো। যা থেকে খুব সহজে পূর্বাবস্থায় অর্থাৎ আজকের বাংলাদেশে ফিরে আসা সম্ভব হতো না। এ কথাটা যে আমাদের সুশীল শ্রেণির একটি অংশ বোঝেন না তা কিন্তু নয়। তবুও তারা এই নির্বাচন অবৈধ বা দেশে গণতন্ত্র নেই, সংসদ নেই বলে দিনরাত হাহাকার করেন কেন? তারও একাধিক কারণ আছে এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার হিসাব মেলাতে না পারা। যে যত কথাই বলুক দীর্ঘদিন ক্ষমতার স্বাদ না পেয়ে এবং সরকারের শীর্ষ ব্যক্তির কাছ থেকে তাদের প্রত্যাশিত গুরুত্ব না পেয়ে প্রবল সরকার বিরোধীর ভূমিকা নিয়েছেন। এর মধ্যে কেউ আছেন ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন না পাওয়ার যাতনায় কারও আছে আত্মীয়তায় সূত্রে সরকার বিরোধী অবস্থান নেওয়া। একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের সংবিধানের অন্যতম প্রণেতা ও স্বাধীন রাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েও তার ঘর থেকেই যদি মুক্তিযুদ্ধের মৌলিক বিষয়ে বিতর্ক উস্কে দেওয়া এবং চলমান আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বিতর্কিত কথা বলার লোক থাকেন তার পক্ষেতো সঙ্গত কারণেই বর্তমান সরকার অস্বস্তিকর হয়ে উঠবে। তাঁর হাতে রচিত হওয়া সংবিধান যেখানে স্পষ্টভাবেই ত্রিশ লাখ শহীদের সংখ্যা উল্লেখ করা আছে তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপনকারী তাঁর আত্মীয়কে তিনি কোন বিবেচনায় মার্জনা করেন এবং তার পক্ষেই অনড় থাকেন তা বিস্ময়কর বৈকি। ৫ জানুয়ারির নির্বাচন কার্যত সকল দুঃসময়, ধ্বংস, নৈরাজ্য থেকে জাতিকে রেহাই দিলেও তাতে একটি শ্রেণির সুশীল খুশি হতে পারেন নি। তারা কার্যত যা চান একটি খিস্তিখেউরপূর্ণ জাতীয় সংসদ, বিরোধীদলের অবিরাম সংসদ বর্জন ও রাজপথে আন্দোলনের নামে নৈরাজ্য সৃষ্টি করা। এখন এসবের কিছু না থাকায় তারা গণতন্ত্রকে খুঁজে পাচ্ছেন না। ১৯৯১ থেকে এ পর্যন্ত একটি সংসদও কার্যকর না হওয়া এবং এ থেকে পরিত্রাণের পথ খোঁজার চেয়ে বরং তারা সে ধরনের সংসদই পছন্দ করছেন। গত সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত সরকারের এক বছরের সাথে ১৯৯১ থেকে নির্বাচিত প্রতিটি সরকারের প্রথম এক বছরে তুলনামূলক বিচার করলে বর্তমান সরকারই বেশি নম্বর পাবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। পূর্বেই একটু বলার চেষ্টা করেছিলাম গত এক বছরের সরকারের সমস্ত অর্জন, দেশের সমূহ অগ্রগতির কথা কোনোরূপ বিবেচনায় না রেখে বিএনপির চেয়েও কয়েক ধাপ এগিয়ে কেউ কেউ মধ্যবর্তী নির্বাচন, বিএনপি জোটের সাথে সমঝোতা বা সংলাপের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছেন। এমনকি ড. কামাল হোসেন জামায়াতের সঙ্গেও সরকারকে আলোচনায় বসতে বলেছেন। তবে (তাঁর ভাষায়) জামায়াত যদি ধর্মনিরপেক্ষ নীতিকে মেনে নেয়। কী আশ্চর্য কুঁজোকে চিৎ হয়ে শুতে বলার মতো। যে দলটির নামই জামায়াতে ইসলামণ্ড নীতি আদর্শের কথা বাদই দিলাম, সে দল না কি ধর্মনিরপেক্ষ নীতি মেনে নেবে। অবাস্তব, অপরিণামদর্শী কথা তারাই ভালো বলেন যারা কার্যত জনগণ ও জনগণের দ্বারা আন্দোলন-সংগ্রাম থেকে বিছিন্ন থাকেন। রাজনৈতিক দল হিসেবে গত নির্বাচনে অংশ না নেওয়া ছিল বিএনপির একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। অন্য দিকে এমন নির্বাচনের পরেও দেশে বিদেশে খুব বেশি প্রশ্ন উত্থাপিত না হওয়ায় বর্তমান সরকার এক প্রকার উৎরে যায়। এসব ধাক্কা সামলিয়ে বিএনপি থিতু হওয়ার আগেই বাংলাদেশের এক শ্রেণির সংবাদ মাধ্যম, বুদ্ধিজীবীর মধ্যবর্তী নির্বাচনের ব্যাপারে সোচ্চার হওয়া দেখে মনে হয়, ‘যার বিয়া তার খবর নাই, পাড়াপড়শির ঘুম নাই’ অবস্থার কথা। জামায়াতের সখ্য ছেড়ে গত নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেয়নি। বরং নির্বাচন ঠেকানোর নামে হত্যা আর ধ্বংসের উৎসবে মেতেছিল তারা। এখনও বিএনপির সমাবেশস্থলের সামনের কাতারে থাকে যুদ্ধাপরাধীদের মুক্তির দাবি সংক্রান্ত ব্যানার-ফেস্টুন। এখনও বিএনপি আন্দোলন সংগ্রামকে সহিংস রূপ দিতে সহযোগী বন্ধুর ভূমিকা পালন করে জামায়াত শিবিরিের সশস্ত্র কর্মীরা সেখানে বিএনপিকে কতটুক গণতান্ত্রিক দল হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে। আর গণতন্ত্র মানে যদি এখন সে অগণতান্ত্রিক শক্তিকে ক্ষমতায় আনা, গণতন্ত্র মানে যদি হয় একটি জঙ্গি ফ্যাসিস্ট দল, যারা গণতন্ত্র তথা পরমত সহিষ্ণুতায় বিন্দুমাত্র বিশ্বাসী নয় তাদের ক্ষমতায় বসানো, গণতন্ত্র মানে যদি হয় কিছু ধর্মান্ধ উম্মাদদের হাতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণভার তুলে দেওয়া তাহলে জনগণকে ভাবতে হবে সে গণতন্ত্র বাংলাদেশের জন্য প্রয়োজন আছে কি না। যারা এখনও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কনভেনশন বা কমিউনিটি হলে রাজনৈতিক সমাবেশ করেন তারা কীভাবে জনগণের নাড়ির খবর জানবেন বা রাখবেন। যাদের ডাকে ২০০ মানুষ জড়ো হয় না, যারা নিজেরাই নিজেদের দলে বছরের পর বছর একই পদে থেকে যান তারা কি করে অন্যদলের ভেতর গণতন্ত্র চর্চার কথা বলেন। এসব ভূমিকা যেমন প্রকৃত সৎ ও দেশপ্রেমিক সুশীল শ্রেণির লক্ষণ নয় তেমনি নিউজকে নিজের মনের মাধুরী দিয়ে সাজিয়ে তোলা বা একটি রাজনৈতিক শক্তিকে ক্ষেপিয়ে দিয়ে পরিবেশকে সংঘাতময় করে তোলা। বোমা ফাটাতে বলে বা আগুন দিতে বলে তার ক্যামেরায় ধারণ করে প্রচার করাও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নয়। কাজেই আইনের কাছে পলাতক বিকৃত মানসিকতার কোনো ব্যক্তির উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রচারের পরে কোনো টেলিভিশন চ্যানেল বন্ধ করা হলে তার প্রতিবাদের ভাষা ক্ষীণ হয়ে যায় প্রকৃত সাংবাদিকদের কাছে। (যদিও বন্ধ হয়নি) জাতির জনক ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে চরম আপত্তিকর বক্তব্য প্রদানের পরে তাদের সাথেই যারা সরকারকে আলোচনার টেবিলে বসার প্রস্তাব দেন তাদের মানসিক সমস্যা আছে নতুবা এ দেশ নিয়ে তাদের নতুন কোনো খেলার পরিকল্পনা আছে। বর্তমান সময় বা বর্তমান সরকারকে যতই অগণতান্ত্রিক একনায়ক সুলভ ইত্যাদি বলে চিত্রিত করার অপচেষ্টা করা হোকনা কেন একটি রাষ্ট্রকে জঙ্গিমুক্ত করতে অসাম্প্রদায়িক ও সত্যিকার অর্থে মানবিক করে তুলতে এ সরকার ও সরকার প্রধানের ভূমিকা ইতিহাসবিদদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ও প্রয়োজনীয় বলেই প্রতিভাত হবে তাতে কোনো সন্দেহ নেই। আর সরকারের বর্তমান আচরণকে একটি পুরনো প্রবাদ ‘যেমনি বুনো ওল তেমনি বাঘা তেঁতুল’ দিয়েই বিচার করব। Email:[email protected]

সংবাদের সূত্রঃ

চ্যানেল আই | সময় টিভি | একাত্তর টিভি | চ্যানেল ২৪ | ইনডিপেনডেন্ট টিভি | মাছরাঙা টিভি | বাংলাদেশ টেলিভিশন | রেডিও ভূমি | বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা | ইউএনবি | দৈনিক যুগান্তর | দৈনিক সমকাল | দৈনিক কালের কণ্ঠ | দৈনিক আমাদের সময় | দৈনিক নয়া দিগন্ত | দৈনিক জনকণ্ঠ | দৈনিক ইনকিলাব | দৈনিক ইত্তেফাক | দৈনিক যায় যায় দিন | দৈনিক আজাদী | দৈনিক পূর্বকোণ | সুপ্রভাত বাংলাদেশ | আলোকিত বাংলাদেশ | বাংলাদেশ প্রতিদিন | বণিক বার্তা | মানব জমিন | ভোরের কাগজ | আনন্দ আলো | অন্যদিন | আনন্দ ধারা | ক্যানভাস | BDNews24.com | BanglaNews24.com | Dhakatimes24.com | arthosuchak.com | Poribartan.com | NatunBarta.com | RisingBD.com | Priyo.com | BBC Bangla | Techtunes | ICTNews | Probasha Protidin | JustNewsBD.com


সম্পাদনা প্যানেলঃ
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকঃ শিব্বির আহমেদ বাহাদুর
সহ-সম্পাদকঃ প্রকৌশলী শাহিনুর আহসান
সহ-সম্পাদকঃ বায়েজিদ ভূইয়া
সহ-সম্পাদকঃ সায়মন সাহাদাত চৌধুরী
সহ-সম্পাদকঃ ফয়সাল মাহমুদ
সহ-সম্পাদকঃ প্রকৌশলী বিজয় চক্রবর্তী
আইটি সম্পাদকঃ প্রকৌশলী আবীর চৌধুরী
সেন্ট্রাল ডেস্ক সহ-সম্পাদকঃ মোঃ হেলাল উদ্দিন
ফটোগ্রাফারঃ আলমগীর শাহরিয়া
আইনী পরামর্শকঃ ব্যারিস্টার মুন তাসির উদ্দিন আহমেদ
ভিজিটর কাঊন্টঃ    4118821
আমাদের অনুসরণ করুনঃ           
পাওয়ার্ড বাইঃ     

আলোরকন্ঠ২৪.নিউজ একটি স্বতন্ত্র ইন্টারনেট মিডিয়া। আমাদের দৈনন্দিন জীবনের আলোকিত বিষয়গুলোকেই তুলে আনার চেষ্টা করছি এখানে। পাশাপাশি আপনিও লিখতে পারেন এই সাইটে। যারা লিখতে চান, তারা লেখা পোস্ট করার নিয়মাবলী একটু পড়ে নিন।


আমাদের ঠিকানাঃ
চট্টগ্রাম অফিসঃ বঙ্গবন্ধু ভবন, চেরাগীপাহাড়, চট্টগ্রাম।
প্রকাশনা অফিসঃ জি.এ ভবন (৫ম তলা),আন্দরকিল্লা,চট্টগ্রাম।
ফোনঃ ০৩১-৬১৫৯৮৮, ০১৬৭০ ১৯০৯৮৪, ০১৬৮১ ০৭৮৮৮১
ঢাকা অফিসঃ ২৫৮/বি, বড় মগবাজার, ঢাকা।
মোবাইলঃ ০১৬৭০ ০৮৯৫৯০, ০১৭২০ ৬৯১৪৩৪
ই-মেইল: [email protected]

তথ্য: [email protected] , সংবাদ: [email protected],
সম্পাদকঃ [email protected], বিজ্ঞাপন: [email protected]


© ২০১১, সকল স্বত্ব alorkantho24.news কর্তৃক সংরক্ষিত