দরদ (ব্যথা) নেহি তো মরদ ক্যায়চা? নুরুল ইসলাম বি.এস-সি

পোস্ট করা হয়েছে 26/08/2014-11:30am:    দরদ (ব্যথা) নেহি তো মরদ ক্যায়চা? ব্যথা আছে বলেই জীবন উপভোগ করার মজা আছে। যদি শুধু সুখ আর সুখই থাকত তবে জীবনের উত্থান-পতনের মূল্য কি থাকত? সুখ-দুঃখের পার্থক্য কি বুঝা যেত?
গত সপ্তাহে আমার লেখায় অনেকে হতাশার বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন। এটা হতাশা নয়, জীবন সংগ্রামের অংশই সাধারণের কাছে প্রকাশ ছিল মাত্র। এটাই প্রকৃতির নিয়ম, এটাই প্রকৃতির কানুন।
আমি রাজনীতি করি, যে কোন শক্তি বা অপশক্তির মোকাবেলা করার সাহস রাখি। কিন্তু বাদ সাধে ভিতরের আর একটি মানুষ দীর্ঘদিন ধরে যাকে লালন করেছি। ওই ভিতরের মানুষটি কোন অন্যায় কাজের বাঁধা হয়ে দাঁড়ায়।
রাজনীতি করতে গেলে ভাল-মন্দ হাজারো মানুষের সাথে দেখা হয়। ভাল কি মন্দ বেছে নেওয়া একজন রাজনীতিবিদের কাজ। রাজনীতির জন্য মন্দ লোকের ব্যবহার রাজনীতিকে কলুষিত করে। মন্দ লোকের পরিহার করতে পারলে ভাল, আর নেহাত পরিহার করা মুস্কিল হলে, দূরে সরিয়ে দিলেই হয়। রাজনীতি বাঁচে, রাজনীতিও কলুষমুক্ত হয়। এখন যে যত বড় সন্ত্রাসী, সেই সবচেয়ে বড় নেতা। এটা প্রকৃতি বিরুদ্ধ, একদিন মহাকাল নেমে আসবে।
রাজনীতি মানুষের কল্যাণে, রাজনীতি মানুষের প্রয়োজনে। ওই রাজনীতিতে যখন নিজের স্বার্থসিদ্ধির কৌশল ঢুকে তখনই রাজনীতি হয়ে উঠে মানুষের ঘৃণার বস্তু। আজকাল যারা সমাজে একটু সম্মানে থাকতে চায়, এরা রাজনীতি থেকে দূরে সরে থাকতে চান।
রাজনীতি মানুষকে অনেক কিছুই দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু রাজনীতি না করলে কি বাংলাদেশ পেতাম অথবা স্বার্থসিদ্ধির জন্য রাজনীতি করলে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হয়ে বাংলাদেশের স্বার্থ জলাঞ্জলী দিতে পারতেন। কিন্তু না, তিনি জীবনের মায়া ত্যাগ করে বাঙালির স্বার্থের সাথে আপোষ করেননি। এখানে বঙ্গবন্ধুর সাথে অন্যান্য রাজনীতিবিদের পার্থক্য।
বর্তমান পর্যায়ে রাজনীতিকে আমরা যে পর্যায়ে নিয়ে গেছি, ওখান থেকে ফেরৎ আসতেই হবে। স্বার্থসিদ্ধির রাজনীতি, দখলবাজির রাজনীতি, সন্ত্রাসের রাজনীতি থেকে রাজনীতিকে মুক্ত করে মানুষের সমর্থন আদায়ে সক্ষম হতে পারলেই রাজনীতি আবার তার নিজস্ব জায়গায় ফেরৎ আসবে। মানুষের আস্থা অর্জনে সক্ষম হবে।
আমরা যাদের নেতা মানি, এরা কি সত্যিকার অর্থে রাজনীতিবিদ? যে যতবড় সন্ত্রাসী, সেই এখন বড় রাজনীতিবিদ। টিভির টকশো দেখে সেদিন মনে হয়েছে, আস্তিন গুটিয়ে কথা বলার নাম রাজনীতি। ভদ্রভাবে কথা বললে অনেক কিছুই উপস্থাপন করা যায়। এক আঙ্গুল দেখিয়ে দেখে নেওয়ার নাম রাজনীতি হতে পারে না।
রাজনীতিবিদের অনেক অনেক ধৈর্য্য ধরতে হয়। বঙ্গবন্ধুকে পাকিস্তানীরা প্রত্যেকটি জেলায় একটির পর একটি মামলা দিয়ে পর্যুদস্ত করতে চেয়েছিল। আজকে বরিশালে দিলে, কালকে চট্টগ্রাম, পরশু দিনাজপুরে, এভাবে মামলা খেয়েও তিনি দমে যাননি। নিজের ইচ্ছা শক্তির ও সাহসে ভর করে পাকিস্তানীদের মোকাবেলা করেছেন। নতুবা আজকের বাংলাদেশ কি আমরা পেতাম? সুতরাং জাতির পিতার অনুসারী হলে, কর্মীকে ধৈর্য্য ধরে এগুতে হবে। উত্তেজনার বশবর্তী হয়ে হঠাৎ কিছু করে ফেলা, মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করা কোন অবস্থায় শোভা পায় না। চলুন না আমরা বঙ্গবন্ধুর আদর্শ অনুসরণ করি। তার রেখে যাওয়া কাজগুলোকে নিয়ে বঙ্গবন্ধুর কন্যা এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আমরা সবাই মিলে সাধারণ মানুষের সাথে ভাল আচরণ করলে, বঙ্গবন্ধুর কন্যার হাতই শক্তিশালী হবে এবং দেশ এগিয়ে যেতে সক্ষম হবে। শেখ হাসিনা যত কাজ করছেন, দেশের মানুষের কল্যাণেই করছেন। জনতার সম্মুখে ধূমপান করে, সাংবাদিকদের নানা কথা বলে খামাকা উত্তেজনা বাড়ালে শত্রুদেরই লাভ হবে। শত্রুর হাতে পাথর দিয়ে নিজেদের মাথায় মারার কৌশলীরাই এখন জাতির ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সর্বশেষ সংবাদ