প্রতিশ্রুতি,বেতনের অপেক্ষা, অতঃপর শ্রমিকেদের ঈদ সপ্তম তলায়! [প্রকৌশলী বিজয় চক্রবর্তী] ।

পোস্ট করা হয়েছে 31/07/2014-11:11pm:    ঈদের দিন সারা বাংলাদেশ থেকে একটু ভিন্নই ছিল উত্তর বাড্ডার, হোসেন মার্কেটের সপ্তম তলার তোবা গ্রুপের শ্রমিকেদের ঈদ উদযাপন।তারা কেউ দাড়িয়ে,কেউ আজ বেতন নিয়ে হয়ত কাল বাড়ী যেতে পারবে এই আসায় অপেক্ষা করছিল তখন ও।ঈদের আগের দিন ২৮ জুলাই থেকে তোবা গ্রুপের শ্রমিকরা আমরণ অনশনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। তুবা গ্রুপের শ্রমিকেরা গত মে,জুন,জুলাই তিন মাসের বেতন পায়নি।ঘামের টাকার দাবিতে তারা রাস্তায় নেমেছে, পুলিশের মার খেয়েছে, রাবার বুলেটে আহত হয়েছে, বিজিএমইএ ঘেরাও করেছে, শ্রম মন্ত্রণালয়েও গিয়েছে। অনেক কিছুর ভিড়ে হয়ত হারিয়ে গেছে তাদের এত সব আরজি।তারপর ও বেতন পাবে এই আশায় কাজ করে যাচ্ছিল শ্রমিকেরা। কিন্তু প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি দিয়েও তাদের সঙ্গে শেষ পর্যন্ত প্রতারণা করা হয়েছে। এর জবাবে কারখানা দখল করে আমরণ অনশনে বসা ছাড়া অন্য কোন উপায় কি ছিল শ্রমিকেদের? অঙ্গীকার অনুযায়ী, মে মাসের মজুরি ৩ জুলাই এর মধ্যে, জুন মাসের মজুরি ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে এবং ঈদ বোনাস ও জুলাই মাসের ১৫ দিনের মজুরি ২৬ জুলাইয়ের মধ্যে প্রদান করা হবে।গার্মেন্টস শ্রমিকদের নায্য এই টাকা গুলো দিতে নাকি তোবা গ্রুপের কারখানা ভবনের ফ্লোর বিক্রি করে কিংবা টিনশেড কারখানা বিক্রি করে শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু ক্রেতা না পাওয়ায় মজুরি পরিশোধ করা নাকি সম্ভব হচ্ছে না। যাদের ঘামের টাকায় দেশের অর্থনীতির চাকা সচল তারায় যখন ঘামের নায্য মজুরি পায়না তখন কি একথা বলা খুব বেশী ভুল হবে, তাদের বেতন পরিশোধের চেষ্টা ঈদের আগে করা কি উচিত ছিল না? সবাই মিলে এই প্রশ্ন গুলোর উত্তর খোজা ছাড়া আর কি কিছু করার আছে? তারপর ও আশা করায় যায় আসমা,রেনুরা হয়ত বেতন নিয়ে শেষ পযন্ত ঈদ করতে না পারলেও অন্তত ঘরের বকেয়া ভাড়াটুকু পরিশোধ করতে পারবে। লেখকঃ প্রকৌশলী,সাংবাদিক।

সর্বশেষ সংবাদ