গাজায় গণহত্যা, নির্বিকার পরাশক্তি / ফকির ইলিয়াস

পোস্ট করা হয়েছে 31/07/2014-09:27pm:    বিশ্বে এখন একক পরাক্রমশালী শক্তি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। তারা গাজায় গণহত্যা বিষয়ে খুবই নির্বিকার। যেন কিছুই হচ্ছে না। অথচ শিশু, নারী, বৃদ্ধ মানুষের রক্তে রঞ্জিত ফিলিস্তিন। কোথায় জাতিসংঘ? তারা কথা বলছেন- খুব ধীরে। কাজেও খুব ধীরগতি। নিহতের সংখ্যা এই লেখার সময় পর্যন্ত ছয় শতেরও বেশি। গত ১৯ জুলাই শনিবার রাত থেকে ইসরায়েল, ফিলিস্তিনে স্থল অভিযান আরো জোরদার করেছে। একই সঙ্গে নিহতের সংখ্যাও বাড়ছে সমানতালে। রোববার পূর্বাঞ্চলের সুজাইয়া জেলায় ৫০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। বিবিসি জানিয়েছে, বহু ফিলিস্তিনি বিধ্বস্ত বাড়িঘরের নিচে চাপা পড়েছেন। তাদের উদ্ধার তৎপরতায় বাধা দিচ্ছে ইসরায়েল। ওই অঞ্চলে অ্যাম্বুলেন্সও প্রবেশ করতে দিচ্ছে না তারা। প্রচ- হামলার মুখে দিগ্বিদিক পালাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। ইসরায়েল দাবি করেছে, হামাসের হামলায় তাদেরও সাত সেনার মৃত্যু হয়েছে। জানা গেছে, দুপক্ষ দুই ঘণ্টার মানবিক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। এরই মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যের কাতার সফরে এসেছেন জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন। সেখানে তার ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে। ইসরায়েলের সহিংসতা বন্ধে একটি পথ খুঁজে পেতেই বৈঠকে বসছেন তিনি। এর আগে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, দুঃখের সঙ্গে জানাতে হচ্ছে যে, আমাদের যুদ্ধবিরতির আহ্বানে কেউ সাড়া দেয়নি। আরো বেশি বেসামরিক মানুষের হতাহতের আশঙ্কায় আমারা উদ্বিগ্ন। জাতিসংঘ বলছে, স্থল অভিযান শুরুর পর দ্বিগুণ সংখ্যক ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। গাজায় নৃশংস এ অভিযান বন্ধের দাবিতে বিশ্বব্যাপী প্রতিবাদ অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন দেশে ইসরায়েলের দূতাবাসের সামনে সমাবেশ করছেন বিক্ষোভকারীরা। তারা এটাকে ‘গণহত্যা’ বলে আখ্যায়িত করছেন। বিক্ষোভ হয়েছে ভারত, দক্ষিণ কোরিয়া, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে। কিন্তু এতে টনক নড়ছে না ইসরায়েলের; বরং আরো কঠোর অবস্থানে গিয়ে বেঞ্জামিন নেতানেয়াহু বলেছেন, স্থল অভিযান বিস্তৃত, আরো বিস্তৃত করা হবে। ফিলিস্তিনের গাজায় কান্না আর আর্তনাদ থামছে না। শহরের পর শহর উজাড়, জনশূন্য হয়ে পড়ছে। লাখ লাখ মানুষ ইসরায়েলের আকাশ, স্থল ও নৌপথে চালানো হামলায় ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে। নৃশংস স্থল অভিযানে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। বাবাকে ছেলের লাশ, মাকে মৃত নবজাতক সামনে নিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে বের হয়ে আসছে মৃত ফিলিস্তিনিদের গলিত লাশ। লোমহর্ষক এ ঘটনার পরও মন গলছে না ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানেয়াহুর। তিনি আরো কঠোর ও বিস্তৃত স্থল অভিযান চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না বিশ্বমোড়ল যুক্তরাষ্ট্রও। স্থল অভিযানে ১৩তম দিন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা ৪০০ ছাড়িয়েছে। ইসরায়েলি ট্যাংকের গোলা আর বিমান হামলায় কার্যত ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে গাজা। চারদিকে ভবন ধসে পড়ার শব্দ। আল জাজিরার খবরে জানা গেছে, হামলা এড়াতে গাজার পূর্বাঞ্চল থেকে পালিয়ে যাচ্ছেন লাখ লাখ ফিলিস্তিনি। পূর্বাঞ্চলের সুজাইয়া, আল-শাফ ও আল-তুফা শহর প্রায় মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। প্রাথমিকভাবে বিমান হামলা চালানো হলেও স্থল অভিযানে হতাহতের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা এএফপি জানায়, নিহতের সংখ্যা ৪১০; আহত হয়েছেন ৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। এই গণহত্যার প্রতিবাদ হচ্ছে বিশ্বজুড়ে। কিন্তু যারা প্রতিবাদ করছেন- তাদের ক্ষমতা কম। যাদের ক্ষমতা বেশিÑ তারা জোরালো কোনো ভূমিকা নিচ্ছেন না। তুরস্কের প্রধানমন্ত্রী রিসেপ তাইয়েপ এরদোগান ইসরায়েলকে জার্মানির নাৎসি নেতা হিটলারের চেয়েও বর্বর বলে মন্তব্য করেছেন। গাজায় ইসরায়েলের চলমান স্থল হামলার প্রসঙ্গ টেনে তুরস্কে এক নির্বাচনী সমাবেশে তিনি এ মন্তব্য করেন। এ সময় ফিলিস্তিন শাসিত গাজায় ইসরায়েল অসমশক্তি প্রয়োগ করছে বলেও অভিযোগ করেন প্রধানমন্ত্রী এরদোগান। তিনি বলেন, এই বর্বর অভিযানের কারণে তুরস্ক ও ইসরায়েলের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার প্রচেষ্টা ব্যাহত হচ্ছে। সম্প্রতি ইসরায়েলের গাজা অভিযানের বিরুদ্ধে তুরস্কের আঙ্কারা ও ইস্তাম্বুল শহরে ইসরায়েলি কূটনৈতিক মিশনের বাইরে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। বিক্ষোভ হয়েছে আমেরিকায়ও। কিন্তু তাতে কি? কার্যকর ভূমিকা নেবে কে? আমরা জানি, গেলো পাঁচ বছরে এই তৃতীয়বারের মতো ফিলিস্তিনে গণহত্যা ঘটাচ্ছে ইসরায়েল। মূলত ইসরায়েল চাইছে বিশ্বে একক কর্তৃত্ব নিতে। তারা চাইছে, এভাবে অন্যায় আক্রমণ করে হামাসকে উসকে দিতে। যাতে বলা যায়Ñ মুসলিমরাই সন্ত্রাসী। অথচ ইতিহাস খুঁজলে দেখা যাবে এই ইসরায়েলিদেরকে আশ্রয় দিয়েছিল ফিলিস্তিনিরা। যে তিনজন ইসরায়েলি কিশোর হত্যাকে কেন্দ্র করে ইসরায়েল ঝাঁপিয়ে পড়েছেÑ সে বিষয়ে দুজন সাংবাদিকের কথোপকথন শোনা যাক। কিভাবে তিনজন ইহুদি কিশোরকে হত্যার ঘটনাকে কাজে লাগিয়ে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তার জনগণকে প্রভাবিত করে ফিলিস্তিনে গণহত্যা চালাচ্ছে তা উঠে এসেছে আলি আবুনিমাহ এবং ম্যাক্স ব্লুমেনথাল আলোচনায়। আলি আবুনিমাহ হচ্ছেন ‘ইলেকট্রনিক ইনতিফাদা’র সহপ্রতিষ্ঠাতা এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক। তিনি ‘দ্য ব্যাটল ফর জাস্টিস ইন প্যালেস্টাইন’ বইয়ের লেখক। ম্যাক্স ব্লুমেনথাল যিনি একজন পুরস্কার বিজয়ী সাংবাদিক এবং একটি বেস্ট সেলার বইয়ের লেখক। তার সর্বশেষ বই হচ্ছে ‘গোলিয়াথ : লাইফ এন্ড লোদিং ইন গ্রেটার ইসরায়েল’। গত ১১ জুলাই দুজনের গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাটি প্রচার করেছে কানাডার বাল্টিমোর থেকে পরিচালিত ডেইলি ভিডিও নিউজ ও প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি) প্রচারের সংবাদ সংস্থা ‘দ্য রিয়েল নিউজ নেটওয়ার্ক’ এর ওয়েবসাইট ‘দি রিয়েলনিউজ’ ডটকম। আবুনিমাহ এবং ম্যাক্স ব্লুমেনথালথের আলোচনায় সঞ্চালক ছিলেন দ্য রিয়েল নিউজ নেটওয়ার্ক-এর প্রযোজক এন্টন ওরোনজাক। ঐ আলোচনায় ম্যাক্স ব্লুমেনথাল বলেছেন- ‘গাজা উপত্যকায় যেসব ফিলিস্তিনি বসবাস করছে তাদের প্রায় ৮০ শতাংশই শরণার্থী। ১৯৪৭ ও ১৯৪৮ সালে যেসব ফিলিস্তিনিকে সরিয়ে বর্তমান ইসরায়েল হয়েছে তাদের উত্তরসূরি এসব শরণার্থী। এখন তাদেরকে বলা হচ্ছে এখান থেকেও সরে যাওয়ার জন্য। তাদের যাওয়ার কোনো জায়গা নেই। বোমার আক্রমণ থেকে বাঁচার জন্য কোনো আশ্রয় কেন্দ্র নেই গাজাতে। এই শরণার্থীদের কোথাও পালানোরও জায়গা নেই। মিসরে সেনা অভ্যুত্থোনের মাধ্যমে যারা ক্ষমতায় এসেছে তারা রাফাহ ক্রসিং দিয়ে মিসরে প্রবেশ করতেও দেবে না। তাই এটা আরেকটা মানব বিপর্যয় হতে যাচ্ছে যেটা ইসরায়েল প্রতি দুবছর পরপরই এই গাজা উপত্যকায় ঘটিয়ে থাকে। সামরিক আগ্রাসনের ব্যাপারে অনেক তর্জন গর্জন শুনেছি। শোনা যায় ১০ হাজার সৈন্য নিয়ে স্থলপথে আক্রমণ করবে ইসরায়েল। ইসরায়েলি জোট সরকারের ডানপন্থী অংশটি আক্রমণ করার জন্য নেতানেয়াহুকে উসকে দিচ্ছে। তারা এটাকে প্রতিশোধের সুযোগ হিসেবে নিচ্ছে এবং এর মাধ্যমে তাদের নির্বাচনী এলাকায় জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে। ওইসব ইসরায়েলি তাদের ফেসবুকে মৃত্যুর বদলা নেয়ার জন্য পোস্ট দিয়ে যাচ্ছে এবং টুইটারেও একই অবস্থা। সামরিক গোয়েন্দা বাহিনী গাজা থেকে হামাসের রকেট নিক্ষেপ দমন করতে চাচ্ছে এবং যতো সম্ভব উচ্চপদস্থ হামাস নেতাদেরকে হত্যা করতে চাচ্ছে। এটা দেখে মনে হচ্ছে সামরিক বাহিনীগুলো ফিলিস্তিনের ওপর হামলার পক্ষেই অবস্থান করছে।’ ওরোনজাক প্রশ্ন করেছিলেন, “আচ্ছা ম্যাক্স, আক্রমণের উসিলা যেটা এখন আর উচ্চারিত হচ্ছে না সেটা হলো তিন ইসরায়েলি কিশোর হত্যাকা- যার পেছনে হামাস জড়িত রয়েছে বলে দাবি করছে ইসরায়েল। এটা নিয়ে প্রথমদিকে ইসরায়েলি মিডিয়া ও সরকার হিজিবিজি খেলেছে। এটা নিয়ে কিছু বলুন।” এর উত্তরে ব্লুমেনথাল বলেন- “এটা সংক্ষেপে বলছি। মূলধারার গণমাধ্যমগুলো এমনভাবে ঘটনাগুলো সম্প্রচার করছিল যেন ঘটনাটি হাওয়া থেকে ঘটেছে এবং হামাসই এসব কিছুর উসকানিদাতা। তিন ইসরায়েলি কিশোরের কিডন্যাপের ঘটনা ঘটেছে ১২ জুন। তখন নেতানেয়াহুর ওপর অনেক চাপ যাচ্ছিল। হামাস আর ফাতাহের মধ্যে ঐক্যের চুক্তিটি ভাঙতে চাচ্ছিলেন নেতানেয়াহু। হামাস ও ফাতাহর চুক্তিটি নেতানেয়াহু ও তার কাছের মহলের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায় যেটা যুক্তরাষ্ট্রও লক্ষ করেছে। গত ১৫ মে দুজন ফিলিস্তিনি তরুণ খুন হয় বেইতুনিয়াতে। যেটা সিসিটিভি ক্যামেরা ও সিএনএন-এর ক্যামেরায় ধরা পড়ে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচডগ এটাকে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে অভিহিত করে এবং রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টি করে। নেতানেয়াহু আলোচনার বোল পাল্টাতে চাইলেন। এর মধ্যে ইসরায়েলি কিশোরদের অপহরণ করা হলো। পুলিশের কাছে কিশোরদের করা ফোনকলের রেকর্ড থেকে গুলির আওয়াজ শোনা যায়। এটা মোটামুটি পরিষ্কার অপহরণের সঙ্গে সঙ্গেই ওই ইসরায়েলি কিশোরদের হত্যা করা হয়েছিল। নেতানেয়াহু এই সুযোগটাই গ্রহণ করলেন তাদের প্রোপাগান্ডার জন্য। হামাস তিন কিশোরকে অপহরণ করেছে, তিন কিশোরই জীবিত আছে এমন মিথ্যা কথা বলেছে কিশোরদের পরিবারের সঙ্গে। এতে হামাসের প্রতি ঘৃণা পুঞ্জীভূত হয়েছে। এদিকে অপহরণের সত্যি খবর প্রচার করা থেকে ইসরায়েলি মিডিয়াদেরকে বিরত রেখেছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ও শিন বেট গোয়েন্দা সংস্থা। এই হত্যাকা-ের বিস্তারিত তদন্ত প্রকাশ না করে ইসরায়েলি জনগণকে এটা বুঝাতে সক্ষম হয়েছে যে ওই কিশোররা তখনো জীবিত আছে। এদিকে ইসরায়েলি বাহিনী পশ্চিম তীরে তন্ন তন্ন করে ১৫ হাজার ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর তল্লাশি করেছে। কোনো ধরনের অভিযোগ ছাড়াই ৫৬০ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে এবং ৬ ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে। ইসরায়েলিরা মনে করছিল উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এদিকে নেতানেয়াহু ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা এই প্রোপাগান্ডা চালিয়ে গেছে যে তারা তাদের ছেলেদেরকে উদ্ধার করছে যেখানে এটা নিশ্চিত জানতো যে তারা অনেক আগেই মারা গেছে। তারা ইসরায়েলি জনগণকে প্রতিশোধ স্পৃহায় উন্মাদ করে তোলে। যখন ছেলেদের লাশ পাওয়া গেলো তখন ইহুদি ইসরায়েলিরা চরম প্রতিক্রিয়া দেখালো। উচ্ছৃঙ্খল জনতা জেরুসালেমের রাস্তায় এসে স্লোগান দিতে লাগলো ‘আরবদের মৃত্যু হোক’। এই স্বতঃস্ফূর্ত বর্ণবাদী র‌্যালিতে তরুণদের একটি দল দখলকৃত পূর্ব জেরুসালেমে গেলো তরুণ ফিলিস্তিনিদের অপহরণ করার জন্য। তারা ১৭ বছরের মোহাম্মদ আবু খোদায়েরকে পেলো এবং তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারলো। তাকে প্রথমে গ্যাসোলিন খেতে বাধ্য করলো এবং তারপর আগুন ধরিয়ে দিলো। এরপর জঙ্গলে লাশ ফেলে দিয়ে গেলো। তারপর থেকে অবস্থার অবনতি ঘটতে লাগলো। নেতানেয়াহু সবকিছুর জন্য হামাসকে দোষী ঘোষণা করলো এবং একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে তাদেরকে ‘মানব পশু’ বলে অভিহিত করলো। সেই বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে প্রতিশোধের কথা ঘোষণা করলো। এখন গাজাতে চলমান হত্যাযজ্ঞের শুরু এভাবেই। আরেকটা পয়েন্ট হলো, মোহাম্মদ আবু খোদায়েরের সন্দেহভাজন তিন খুনিকে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলিদের সঙ্গে কোনো অপরাধের জন্য কোনো সন্দেহভাজন ফিলিস্তিনিদের কখনো ছেড়ে দেয়া হয় না। ইসরায়েল তার সমন্বিত শাস্তি দেয়ার নীতি পুনস্থাপন করেছে এবং সন্দেহভাজন প্রত্যেকটি স্থাপনায় আক্রমণ চালাচ্ছে। এরকম একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা দিয়ে শুরু হয়েছিল। আজ রক্তবন্যায় ভেসে যাচ্ছে ফিলিস্তিন। এর সুরাহা দরকার। এর একটা নীতিগত সমাধান দরকার। যদি বড় শক্তিগুলো এ নিয়ে না ভাবে- তাহলে এই রক্তপাতের রেশ এসে লাগবে অনেকের গায়েই। বিষয়টি নিয়ে ভাবা দরকার জরুরিভাবে।

সর্বশেষ সংবাদ