মুসলিম বিশ্বে ঈদ কি হবে ফিলিস্তিনিদের/ হাসান আকবর ॥

পোস্ট করা হয়েছে 28/07/2014-01:56pm:    ঈদ আনন্দে বিশ্ব মুসলমানরা উদ্বেলিত হলেও গাজার মুসলমানদের সেই আনন্দ নেই। তারা আতঙ্কিত। জীবন বাঁচানোর তাগিদে দিকবিদিক ছুটোছুটি করতে হচ্ছে। বাবা খুঁজছেন তার আদরের সন্তানটিকে। কিংবা বোমাহত সন্তান হাসপাতালে খুঁজছেন তার মা-বাবাকে। সন্তানটি হয়তো জানে না এ পৃথিবীতে এখন সে একা হয়ে গেছে। ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে মুসলিম বিশ্ব যেখানে প্রস্তুতি নিচ্ছে সেখানে গাজার মুসলমানদের চোখে পানি। এদিকে ঈদুল ফিতরের দিন ২৪ ঘণ্টা অস্ত্রবিরতি পালনে হামাসের ঘোষণা প্রত্যাখ্যান করেছে ইসরাইল। কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে দেশটির প্রভাবশালী পত্রিকা হারেৎজ এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে ঈদুল ফিতর ও সাধারণ মানুষের বিষয়টি বিবেচনায় ২৪ ঘণ্টার অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করে ফিলিস্তিনের গাজার প্রতিরোধ সংগঠন হামাস। এ কেমন ঈদ! ঈদ অর্থ খুশি- কিন্তু ঈদের দিন চোখে পানি কেন! গাজার হাসপাতালে যে শিশু মা-বাবা হারিয়ে, ভাই-বোনকে হারিয়ে বা বোন ভাইকে হারিয়ে ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রয়েছে- বিশ্ব গণমাধ্যমে আসা এ ছবিগুলো কাঁদিয়ে তুলছে পুরো বিশ্ব মানবতাকে। তাহলে কি ঈদ অর্থ কান্না! ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে যে নীল বাঁকা ঈদের চাঁদ উঠেছে- তা যেন বেদনার্তের। গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলা ও বর্বরতার শিকার হচ্ছে নিরীহ মানুষ বিশেষ করে শিশু-মহিলারা। ফিলিস্তিনিদের পক্ষে মুখ খুলে কথা বলছে না বিশ্ব নেতৃত্ব। তারা যেন মুখে কুলুপ এঁটেছেন। সবাই যেন ইসরায়েলি শিকলে বন্দি। বিশ্বের মুসলিম দেশেগুলো ইসরায়েলের এ বর্বরতা বা হামলার জন্য চুপ কেন? ওআইসি বা মুসলিম বিশ্বও এর প্রতিবাদ করছে না। ১৯৪৮ সালে প্যালেস্টাইন দখল করে ইসরায়েলি রাষ্ট্র গঠনের ঘোষণার পর থেকে এ অঞ্চলের মুক্তিকামী মানুষকে যেভাবে তাদের ভিটেমাটি ছাড়া করা হচ্ছে, যেভাবে হত্যা, নির্যাতন, লাঞ্ছনা প্রাত্যহিক ঘটনায় পরিণত হয়েছে। ১৯৭১-এর ২০ নভেম্বর শনিবার-পাকিস্তানি হানাদারদের অত্যাচার আর নিপীড়নে বিপর্যস্ত সারা বাংলা।স্বাধীনতার জন্যে পাকিস্তানি নরপশুদের সঙ্গে লড়াই করছে বীর বাঙালি- পাকিস্তানি ঘৃণিত সেনাবাহিনী ও তাদের নরাধম দোসর রাজাকার-আলবদর, আলশামস, আল মুজাহিদ বাহিনী বাঙালির ওপর চালিয়ে যাচ্ছে নির্মম নির্যাতন। সেই মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে বর্ষপঞ্জির স্বাভাবিক নিয়মে বাঙালির জীবনে একটি অনাকাঙ্খিত অপ্রত্যাশিত ঈদ এসেছিল- যে ঈদের চাঁদ ছিল বেদনার্ত নীল রংয়ের-এরকম বেদনার্ত ঈদের চাঁদ বাংলার মানুষ কখনো দেখেনি। বাংলার মানুষ কি ভুলে গেছে একাত্তরের সেই নীল চাঁদ উঠা বেদনার্ত ঈদের কথা! একাত্তরের মতো ফিলিস্তিনের গাজার সতের লাখ মানুষের মনে ঈদ আনন্দ নেই। কোন শান্তি নেই। সন্তানের লাশ দাফনে ব্যস্ত গাজার ঘরে ঘরে চলছে মাতম। এবড়ো থেবড়ো রক্তাক্ত শহরে গাজার মানুষ পালিয়ে বেড়াচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিশতম দিন গতকাল অতিবাহিত হয়েছে। মানুষ মরছে। নারী মরছে। শিশু মরছে। মরছে মানবতা। লাশের মিছিল ক্রমাগত বাড়ছে। মৃতের সংখ্যা প্রতিদিন বাড়ছে। ইসরায়েলি সেনারা ফিলিস্তিনের শিশুদের খুঁজে খুঁজে হত্যা করছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যম এবং সামাজিক যোগাযোগের ওয়েব সাইটগুলোতে শিশুদের লাশের সারি বিবেকবান মানুষের বিবেকে নাড়া দিচ্ছে। কিন্তু আরব লীগ, ওআইসি কিংবা জাতিসংঘসহ পশ্চিমা বিশ্বের কার্যকর কোন পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না। গতকাল চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে কথা বলে উপরোক্ত বক্তব্য পাওয়া গেছে। চট্টগ্রামের বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষ ইসরাইলি আগ্রাসনের নিন্দা জানিয়েছেন। গতকাল দুপুরে নগরীর জিইসি মোড়ে কথা হচ্ছিল কলেজের শিক্ষক মহিউদ্দিনের সাথে। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, এটি কোন ধর্মীয় ব্যাপার নয়। কোন জেহাদ বা ক্রুসেড নয়। ফিলিস্তিনে মানবতা ভূলণ্ঠিত হচ্ছে। ইসরাইল যা করছে তা পৃথিবীর কোন বিবেকবান মানুষ সমর্থন করতে পারে না। অথচ তারা অবলীলায় করে যাচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ এবং পৃথিবীর শক্তিধর দেশগুলো কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় ইসরাইল দিনে দিনে বেপরোয়া হয়ে উঠছে বলেও অধ্যাপক মহিউদ্দিন মন্তব্য করেন। ব্যবসায়ী মোহাম্মদ মাহমুদ ক্ষোভ প্রকাশ করলেন এভাবে যে, মুসলিম বিশ্বের অনৈক্যের সুযোগ নিয়ে ইসরাইল যা ইচ্ছে করছে। পশ্চিমা বিশ্ব বিভিন্ন বিষয়ে মানবাধিকারের কথা বলে। গণতন্ত্রের কথা বলে। অথচ কি আজব ব্যাপার। পুরো গাজা জনশূন্য করে দেয়া হচ্ছে। ক্ষত বিক্ষত করা হয়েছে। অথচ কারো যেন কিছু বলার নেই।ব্যাংকার মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বললেন, ‘পৃথিবী ক্ষমতার কাছে যে কত অসহায় তা দেখতে হচ্ছে গাজায়। পবিত্র রমজান মাসে গাজায় যা চলছে তা একমাত্র অমানুষের পক্ষেই সম্ভব।’ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে গাজার সমর্থনে ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে। গাজার প্রতি সমর্থন জানানো হচ্ছে। গাজার নির্যাতিত মায়েদের আকুতি ভরা ছবি পোস্ট করা হচ্ছে। শিশুদের সারি সারি লাশের ছবি পোস্ট করা হচ্ছে। হাসান তারেক গত কয়েকদিন ধরে এই ধরনের প্রচারণা চালিয়ে আসছেন। গতকাল টেলিফোনে তিনি বলেন, গাজায় যা হচ্ছে একজন সাধারণ মানুষ হিসেবে তার নিন্দা জানানোর দায়বোধ থেকেই এসব করছি। আমরা সাধারণ মানুষ। আমাদের কিছু করার নেই। তবে প্রতিবাদ করার আছে। আজ গাজায় ঈদ। অথচ সেখানে ঈদের জামাত হবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন হাসান তারেক। ইসরাইল ঈদের জামাতে বোমা হামলা করতে পারে বলে মন্তব্য করে তিনি বলেন, কত জঘন্যতম হামলা করা যায় তার নজির ইতোমধ্যে বিশ্ববাসী ইসরাইলের কাছ থেকে দেখেছে। হাসপাতালে বোমা হামলা চালিয়ে ডাক্তার এবং রোগীদের একযোগে হত্যা করে ইসরাইল যেই নিকৃষ্টতম নজির স্থাপন করেছে তার নিন্দা জানানোর ভাষা পৃথিবীর কোন অভিধানে নেই বলেও তারেক ক্ষোভ প্রকাশ করেন। নগরীর জিইসি মোড়ে কথা হলো রিক্সা চালক মহসীনের সাথে। কুমিল্লার মহসীন টিভিতে গাজার আগ্রাসনের খন্ডিত নানা ছবি দেখেছেন। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বললেন, এভাবে মানুষ মারা হচ্ছে। অথচ কেউ কিছু বলছে না। মধ্যপ্রাচ্যের সৌদি আরব, ইরানসহ মুসলিম বিশ্ব যদি এক হয়ে এই আগ্রাসনের জবাব দিতো তাহলে ইসরাইল কিংবা আমেরিকা এরূপ করতে সাহস করতো না। মধ্যপ্রাচ্যে আজ ঈদ। অথচ গাজায় ঈদের কোন চিহ্ন নেই। রক্তাক্ত গাজায় শোকের মাতম চলছে। আর নিত্যদিনের ইসরাইলী আগ্রাসনে মাতম করার মানুষও যেন ফুরিয়ে যাচ্ছে।

সর্বশেষ সংবাদ
স্বাস্থ্যসেবা সংক্রান্ত যেকোনো অনিয়ম দুর্নীতি অনুসন্ধান করা হবে: দুদক চেয়ারম্যান কক্সবাজার রেড জোন,শনিবার থেকে আবারো লকডাউন এবার ঘরে বসে তৈরি করুন জিভে জল আনা কাঁচাআমের জুস সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের সফল অস্ত্রোপচার, দোয়া কামনা চট্টগ্রামের -১৬ বাঁশখালীর এমপিসহ পরিবারের ১১ সদস্য করোনা আক্রান্ত সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিমের শারীরিক অবস্থার অবনতি দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্র্ধ্বগতিতে জনদুর্ভোগ এখন চরমে আজ বছরের দ্বিতীয় চন্দ্রগ্রহণ পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হওয়ার নি‌র্দেশ আইজিপি’র  তথ‌্যমন্ত্রী  ড. হাছান মাহমুদ এমপি র  শুভ জন্মদিনে শুভ কামনা।