পাঠান-ব্রাদার্সের এক পাঠান রবিবার নিজাম শহরে নাইটদের ‘নিজাম’ হয়ে উঠলেন ।

পোস্ট করা হয়েছে 19/05/2014-11:27am:    অনেকদিন ধরে রান পান না৷‌ সমালোচনার চোরাস্রোত চলতে থাকে দলের অভ্যম্তরেই৷‌ সদ্য ‘বাবা’ হওয়ার পরে এবার স্বমহিমায় তিনি৷‌ পাঠান-ব্রাদার্সের এক পাঠান রবিবার নিজাম শহরে নাইটদের ‘নিজাম’ হয়ে উঠলেন৷‌ তাও আবার নিজের ‘আদরের’ ভাইয়ের দলের বিরুদ্ধেই৷‌ ইউসুফ পাঠান শুধু রান করলেন না, দুরম্ত ফিল্ডিং করলেন হায়দরাবদের উপ্পলে! দুটো ক্যাচ, একটা রান আউট এবং দলের কঠিন পরিস্হিতিতে ব্যাট হাতে নেমে ২৮ বলে অপরাজিত ৩৯৷‌ ইউসুফের সঙ্গী হিসেবে ব্যাট হাতে অসাধারণ সহযোগিতা রায়ান টেন দুসখাতের৷‌ শেষ ওভারে ভুবনেশ্বর কুমারের বলে ছয়টা নাইটদের প্লে-অফে যাওয়ার ‘স্বপ্ন’কে বাঁচিয়ে রাখল৷‌ শেষ চারে ঢুকে পড়ল নাইট রাইডার্স৷‌ ১২ পয়েন্ট নিয়ে৷‌ ১৪৩ রান তাড়া করে ৭ উইকেটে জিতল নাইট৷‌ থামল ১৪৬৷‌৩-এ৷‌ টানা ৪টি ম্যাচ জিতে কলকাতা আসার আগে আবেগ আরও বাড়িয়ে দিল৷‌ ইডেনে নিশ্চয় এবার টিকিট বিক্রির হার বাড়বে৷‌ যা ক’দিন ধরে অনুপস্হিত৷‌ এবার ফিরে যাই ম্যাচের ময়নাতদম্তে৷‌ নাইট ওপেনারদের দুটো আউট ম্যাচের রঙ বদলে দিল৷‌ না, কোনওভাবেই আউট ছিলেন না ডেইল স্টেনের বলে ‘প্লে অ্যান্ড মিস’ হওয়া নাইট-নেতা গৌতম গম্ভীর৷‌ কোনও ব্যাখ্যাতেই তিনি আউট নন৷‌ কিন্তু আম্তর্জাতিক আম্পায়ার নাইজেল লং কেন হাত তুললেন তা বোধগম্য হল না৷‌ সত্যিই এই সময় কমেন্ট্রি বক্সে এক ভদ্রলোকের অভাব বড়ই অনুভূত হল৷‌ তিনি সানি গাভাসকার৷‌ তিনি যে ভাষায় বলতেন তা শুনে যে কোনও ক্রিকেটপ্রেমী ভাবতেন আধুনিক ক্রিকেটের আধুনিকীকরণে আরও কী কী করা দরকার৷‌ সানি নেই৷‌ তা কেন সেটা তো এখন সবাই জানেন৷‌ আম্পায়ারের ভুল সিদ্ধাম্তে আউট হয়ে ডাগআউটে ফিরে যাওয়ার পথে গম্ভীরের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন হয়ত উঠবে৷‌ কিন্তু এমন গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে এ ধরনের ‘সিদ্ধাম্ত’ যে কতটা ‘ফ্যা’র’ হয়ে উঠতে পারে তা আবার দেখিয়ে দিয়ে গেল রবিবারের নিজামের শহর৷‌ আরেকটা আউটের কথা বলি৷‌ নাইটদের আরেক ওপেনার রবিন উথাপ্পার রান আউট৷‌ ব্যাটটা হাত থেকে না পড়লে রবিন আউট হতেন না৷‌ সত্যিই ‘দুর্ভাগ্যজনক’ আউট৷‌ প্রথম থেকেই ‘প্রতিরোধ’ গড়ে তুলতে কোনও কার্পণ্য করেনি নাইট৷‌ বিপক্ষের ‘কমলা ঝড়ের’ সামনে যেভাবে প্রতিরোধ করা দরকার সেটাই করল গৌতম গম্ভীরের দল৷‌ টসে হেরে কোনওরকম না কেঁপে নাইটরা উপ্পলে যেভাবে ম্যাচ বার করে নিয়ে গেল তা মনে রাখার মত৷‌ ৭ উইকেটে ম্যাচ জেতার পর নাইট-নেতা বলেই দিলেন, ‘আমরা এই ম্যাচ নিয়ে অনেক দিন ধরেই ভেবেছি৷‌ কারণ, ম্যাচটা সমান গুরুত্বপূর্ণ ছিল দুটো দলের কাছেই৷‌ এই ম্যাচটা জেতা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল৷‌ জিতলামও৷‌ এবার তো ঘরের মাঠে যাওয়ার পালা৷‌ আশা করছি এবার আমাদের জন্য মাঠ ভর্তি থাকবে৷‌ আমরা সমর্থন পাব ইডেনে৷‌ কঠিন ম্যাচ বার করতে আমরা সবাই খুব খুশি৷‌ ধন্যবাদ দেব বোলার এবং ব্যাটসম্যানদের৷‌ সম্মিলিত প্রচেষ্টায় জয় এল৷‌’ সানরাইজার্স ইনিংসের শুরুতেই অ্যারন ফিঞ্চের যে ক্যাচটি কয়েক গজ দৌড়ে জোরে বোলার মরনি মরকেল বাউন্ডারি লাইনে শরীর ছুঁড়ে ধরলেন তা এবারের আই পি এলে নিঃসন্দেহে অন্যতম সেরা হিসেবে চিহ্নিত হয়ে রইল৷‌ প্রথম থেকেই এভাবে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করছিল নাইট রাইডার্স৷‌ কারণ, রবিবার হায়দরাবাদের উপ্পলে জিততে পারলে শেষ চারে আরও ভালভাবে পৌঁছে যাওয়ার রাস্তা তৈরি হয়ে যাবে৷‌ হায়দরাবাদে যে ম্যাচটি দু’দলের কাছেই খুব গুরুত্বপূর্ণ৷‌ কোয়ালিফায়ারে পৌঁছতে হলে জিততেই হবে যে৷‌ টসে জিতে এবারের আই পি এলে প্রথমবার নেতৃত্ব দেওয়া সানরাইজার্স হায়দরাবাদের ড্যারেন সামির আগে ব্যাট করার সিদ্ধাম্তে কোনও চমক ছিল না৷‌ কারণ, নাইট-নেতা গৌতম গম্ভীর টসে জিতলে আগেই ব্যাট করতে পাঠাতেন সানরাইজার্সকে৷‌ নাইট এখন রান তাড়া করতে করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করে৷‌ সে-কারণেই আগে বোলিং করতে কোনও অসুবিধার কথা স্বীকার করেননি নাইট-নেতা৷‌ উপ্পলের বাইশ গজ নিয়ে শুরুর দিকে যে একটা ধোঁয়াশা ছিল সেটা কিন্তু বাস্তবে খানিকটা দেখাও গেল৷‌ বল ব্যাটে এল ঠিকই কিন্তু আবার নিচুও হল৷‌ গোটা স্টেডিয়াম জুড়ে কমলা রঙের ঢেউ৷‌ যা এখন গোটা দেশ জুড়েই বইছে৷‌ সানরাইজার্সদের ব্যাট যখন চলল তখন উপ্পলের রঙ শুধুই কমলা৷‌ কিন্তু নাইট-নেতার বিশ্বস্ত স্পিনারত্রয়ী মাটি কামড়ে লড়াই করতে পিছুপা নন৷‌ অ্যারন ফিঞ্চ শুরুতেই ফিরে যেতে ম্যাচটা ধরার চেষ্টা করে ছিলেন শিখর ধাওয়ান ও নমন ওঝা৷‌ কিন্তু নাইটদের সেই তুরপের তাস সুনীল নারাইনকেই সক্রিয় হতে হল শিখরের উচ্চতা আরও বাড়তে না দেওয়ার ক্ষেত্রে৷‌ ধাওয়ান স্পিনের ফাঁদে জড়িয়ে গেলেন (১৯ রান ১৪ বলে)৷‌ গম্ভীরের আরেক ভরসার বোলার সাকিব ফেরালেন বিপজ্জনক হয়ে উঠতে থাকা নমন ওঝাকে৷‌ দুরম্ত ক্যাচ নিলেন ইউসুফ পাঠান৷‌ নমন (২২) ফিরে যেতে সানরাইজার্সদের মুখে হাসি ফোটানোর কাজটা নিলেন অজি বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ডেভিড ওয়ার্নার৷‌ তাঁর এবং লোকেশ রাহুলের জুটি যখন মাথা তুলে দাঁড়ানোর চেষ্টা করল তখনই লেগ স্পিনার পীযূষ চাওলা প্রতিরোধ তৈরি করলেন৷‌ ভাঙলেন রাহুলের (১৪) ডিফেন্স৷‌ উপ্পলের বাইশ গজে নাইট স্পিনাররা আবাব ভেল্কি দেখালেন৷‌ ১৩ ওভার শেষে ড্যারেন সামির দল ৪ উইকেট হারিয়ে ১০০ রানে পৌঁছল৷‌ কিন্তু সানরাইজার্স দলের সবচেয়ে হতাশাজনক মুহূর্ত তৈরি হল ১৪ ওভারেই ত্রাস হয়ে উঠতে থাকা ডেভিড ওয়ার্নারকে ফিরিয়ে দিলেন জোরে বোলার উমেশ যাদব৷‌ সহজ ক্যাচ ধরলেন আবার সেই ইউসুফ পাঠান৷‌ ওয়ার্নার ফিরে গেলেন ১৮ বলে ৩৪ রান করে৷‌ ম্যাচে নাইট অধিনায়ক গৌতম গম্ভীর দারুণ নেতৃত্বের পরিচয় দিলেন৷‌ সাহসী অধিনায়কত্ব৷‌ বারবার বোলার বদলে সানরাইজার্স ব্যাটসম্যানদের মাথা তুলে দাঁড়াতে দিলেন না৷‌ বোলাররাও দারুণভাবে সাহায্য করলেন গম্ভীরকে৷‌ পরে যেভাবে ব্যাটসম্যানরা ম্যাচ বার করলেন তাও উল্লেখযোগ্য৷‌ উথাপ্পা (৪০) ও মণীশ পান্ডে (৩৫) জয়ের অন্যতম কারিগর হিসেবে থাকলেন৷‌ আগেই লিখেছি, ম্যাচটা জেতালেন কিন্তু ইউসুফ পাঠান ও রায়ান দুসখাতে৷‌ যদিও ম্যাচের সেরার সম্মান পেলেন নাইট বোলার ৩ উইকেট নেওয়া উমেশ যাদব!

সর্বশেষ সংবাদ