সংসদ নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ভাবনা মো.ওসমান গনি. লেখক-সাংবাদিক ও কলামিস্ট

পোস্ট করা হয়েছে 12/12/2018-08:21am:    দরজায় কড়া নাড়ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ফলে দেশজুড়ে শুরু হয়েছে নির্বাচনি আমেজ। ৩০ ডিসেম্বর ভোটের মাধ্যমে আগামী ৫ বছরের জন্য ৩০০ নতুন আইন প্রণেতা নির্ধারণ করবে জনগণ। রাজনৈতিক দলগুলো সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে এককভাবে সরকার গঠন করতে চায়। ইতোমধ্যে নানা কৌশলও গ্রহণ করেছে দলগুলো। তবে নির্বাচনে জয়-পরাজয়ে কৌশলের চেয়ে এবার তরুণ ভোটাররাই বেশি ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন তরুণ প্রজন্ম। তারা বলছেন, নানা অপ্রাপ্তির মধ্য দিয়ে এ প্রজন্ম বেড়ে উঠছে। দেশে
উল্লেখযোগ্যসংখ্যক তরুণ বেকার। নানা ইস্যুতে এবছর মাঠে ছিলো তরুণরা। তাই যে রাজনৈতিকদল তরুণদের চাহিদাকে প্রাধান্য দিতে পারবে, বিজয়ী হওয়ার ক্ষেত্রে তারাই এগিয়ে থাকবে।জানা যায়, জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এবছর ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে ১০ কোটি ৪১ লাখ ভোটার। এরমধ্যে আড়াই কোটির বেশি ভোটার তরুণ। নির্বাচন কমিশন বলছে, সর্বশেষ হালনাগাদ শেষে নতুন ভোটারের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৩ লাখের বেশি। যাদের জন্ম ১ জানুয়ারি ২০০০ সাল বা তার কিছু আগে। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও তরুণ রাজনীতিবিদরা মনে করেন, অধিকাংশ আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বীতার কারণে ২০১৪ সালের নির্বাচন ভোট ছাড়াই হয়েছে। ফলে নতুন যারা ভোটার হয়েছিলো,
প্রথমবারই তারা ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হয়। তাছাড়া প্রায় অর্ধকোটি তরুণ এ নির্বাচনেই প্রথম ভোট দেয়ার সুযোগ পাচ্ছে। তাই নির্বাচনের ফল অনেকাংশে তাদের ভোটে নির্ধারণ হবে।নির্বাচন কমিশনের তথ্য মতে, ২০১৪ সালে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় দেশে ভোটার ছিলো ৯ কোটি ১৯ লাখ ৬৫ হাজার ১৬৭ জন। ২০০৮ সালে ভোটার সংখ্যা ছিলো ৮ কোটি ১০ লাখ ৮৭ হাজার।
অর্থাৎ গত ১০ বছরে তরুণ ভোটার বেড়েছে ২ কোটি ২৫ লাখ। এদিকে তরুণ ভোটারদের আকৃষ্ট করতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলো। দলগুলো তাদের নির্বাচনের ইশতেহারে তরুণদের জন্য বিশেষ ঘোষণা রাখবে বলে জানা গেছে। বিশেষ করে, তথ্য-প্রযুক্তির সহজ লভ্যতা, শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন, বেকারত্ব দূরসহ তারুণ্যনির্ভর বেশকিছু ঘোষণা থাকবে ইশতেহারে। তরুণ প্রজন্মের ভোটই রাজনৈতিক দল বা জোটকে ক্ষমতায় আনতে ভূমিকা রাখবে। এ বছর প্রায় আড়াই কোটি তরুণ ভোটার ভোট দেবে। এদের ভোটটা অনেক গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রজন্ম ২০১৪ সালের নির্বাচনে ভোট দেওয়ার সুযোগ পায়নি।
তাই এ বছর উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়ে ভোট দেবে তারা। ফলে তরুণ ভোটাররাই নির্ধারণ করবে, কোন দল বা জোট ক্ষমতায় আসবে।এই মুহূর্তে দেশে বেকারত্ব প্রকট আকার ধারণ করেছে। তাই যারা কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারবে তরুণরা তাদেরই ভোট দেবে।আগামী নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা ভোটের ফলকে প্রভাবিত করবে; বিশেষ করে যারা প্রথম বারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছে।
আর এই মুহূর্তে তরুণসমাজের সবচেয়ে বড় সমস্যার জায়গা হলো কর্মসংস্থানের নিরাপত্তা। তাই যে দল বা জোট তরুণদের এই ক্ষেত্রে নিরাপত্তা দিয়ে তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারবে, তারাই নির্বাচনে ইতিবাচক ফল পাবে।’ বাংলাদেশের তরুণসমাজ সামগ্রিক অর্থে ঐক্যবদ্ধ না হলেও তাদের মধ্যে প্রচন্ড দেশপ্রেম, গণতন্ত্রের আঙ্খাকা আর দেশকে সত্যিকার সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার মানষিকতা তরুণদের রয়েছে। তাই তারুণ্যের ভোটই আসন্ন নির্বাচনে জয়-পরাজয় নিশ্চিত করতে পারে। সংখ্যা হিসেবে আড়াই কোটি তরুণ জনগণ বিরাট জনগোষ্ঠী। অন্যান্য দেশের তুলনায় আমাদের তরুণসমাজ ঐক্যবদ্ধ নয়। তাদের ভিতরে দ্বিধা-দ্বন্দ্ব কাজ করে। তারা কিছুটা হতাশও। এরপরও
রাজনৈতিকদলগুলো তরুণদের আঙ্খাকার সাথে একাত্ম হয়ে যদি কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করে তাহলে তারা ভালো ফল পেতে পারে।তরুণরা একটি সুন্দর সমৃদ্ধ বাংলাদেশ দেখতে চায়। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী এবং আদর্শভিত্তিক রাজনীতির উন্নয়ন এবং আমাদের রাজনীতি যে ব্যবসায়ীদের হাতে চলে গেছে সেখান থেকে রাজনীতিকে সুস্থধারায় ফিরিয়ে আনতে তরুণরা ভূমিকা রাখবে।
তাই ভোটেও তাদের সে আশার প্রতিফলন হবে।বাংলাদেশের মোট জনসংখ্যারর তিন ভাগের এক ভাগ তরুণ। বাংলাদেশের সব বড় অর্জনের পেছনে তরুণদের ভূমিকাই প্রধান। আসন্ন নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা অনিবার্য নির্ধারণী ভূমিকা পালন করবে। তবে সংশয়ের কথা হলো, এখন পর্যন্ত সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে সব দলের অংশগ্রহণের জন্য প্রত্যাশিত লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি করা যায়নি। এটা তৈরি হলেই আসন্ন নির্বাচনে তরুণ ভোটারদের ভূমিকা কার্যকরী হবে।চলতি বছরে ঘটে যাওয়া কোটা আন্দোলন, সড়ক আন্দোলন, বয়সবৃদ্ধির আন্দোলনসহ তরুণদের এই অরাজনৈতিক আন্দোলনগুলো নির্বাচনে প্রভাবক হিসেবে কাজ করবে। তরুণরা নির্বাচনে একটা বড় ভূমিকা পালন করবে। এক্ষেত্রে কোটা আন্দোলন ও নিরাপদ সড়ক আন্দোলনের মতো বিষয়গুলো তাদের প্রভাবিত করবে। কেননা, সরকার এ আন্দোলনগুলোকে যেভাবে মোকাবিলা করেছে, তাতে তরুণসমাজের মাঝে খানিকটা আস্থাহীনতার তৈরি হয়েছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচন চাই। তরুণদের নেতৃত্ব চাই। আমি চাই, যে দলই ক্ষমতাই আসুক বিরোধীদলের প্রতি সহিংসপরায়ণ না হয়ে সবাই মিলেমিশে কাজ করবে।সব দল সমানভাবে প্রচারণার সুযোগ পেলে তরুণরা উৎসবমুখর আমেজ নিয়ে ভোট দিতে পারবে। এই আমেজ তৈরি করা গেলে তরুণরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিতে পারবে।
নির্বাচনের মাধ্যমে তরুণরা উঠে এলে ভালো হবে। কারণ তরুণরাই পারবে নতুন বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে বাংলাদেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে।তরুণ উদ্যোক্তাদের সহযোগিতা করার মনোভাব যাদের থাকবে তরুণরা আগামী নির্বাচনে তাদেরই ভোট দেবে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট দেবে আড়াই কোটির বেশি তরুণ। তাই যে দল তরুণদের ভোট বেশি পাবে তারাই জিততে পারবে। তাছাড়া তরুনরা নারীবান্ধব একটি সরকারও চায়। কারন তারা ভোট দেয়ার সময় চিন্তা করবে নারীর ক্ষমতায়ন এবং বেকার সমস্যা সমাধানের জন্য বেশি ভূমিকা রাখবে কোন দল। যারা তারুণ্যকে প্রাধান্য দেবে, তাদেরই ভোট দেবে তরুন সমাজ।কারন এখন তরুণরা অনেক বেশি সচেতন। এবছর নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ক্ষেত্রে তাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে আড়াই কোটি তরুণ ভোটার। তাই যে রাজনৈতিকদল তরুণদের চাহিদাকে প্রাধান্য দেবে নির্বাচনে জয়ী হওয়া তাদের জন্য বেশি সহজ হয়ে যাবে।

সর্বশেষ সংবাদ
গণমানুষের মাঝে গণসংযোগে নৌকার রেজাউল চট্টগ্রামের বিপ্লবী ও মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি বিজরিত সকল স্থাপনা রক্ষার তাগিদে মশাল মিছিল বইমেলার তারিখ নির্ধারণ হয়নি : সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ফেব্রুয়ারিতে খুলছে সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেচ খরচ হ্রাস ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়নে অভূতপূর্ব সাফল্য অর্জিত হয়েছে: কৃষিমন্ত্রী জয়ী হোক ও পরাজয়ী হোক পরবর্তী নির্বাচনে মনোনয়ন পাবে না প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত: সেতুমন্ত্রী খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ করেন ইসি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় চলচ্চিত্র নির্মাণের আহ্বান:প্রধানমন্ত্রী জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেলেন ৩৩ জন চসিকের কার্যক্রম চলমান রাখার নির্দেশনা প্রশাসকের