শীর্ষ সংবাদ

করোনা ভাইরাসের প্রতিরোধে জনগণের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর ৪ নির্দেশনা

আজ রোববার(২৯মার্চ)প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস মোকাবেলায় পরামর্শ ও আহ্বানে প্রধানমন্ত্রীর এই চারটি নির্দেশনা জনগণের কাছে পৌঁছে দেয়ার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আজ প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সুরথ কুমার সরকার এই বার্তাগুলো প্রচারের জন্য অনুরোধ জানান। প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ ও বার্তাগুলো হচ্ছে- ১)প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের হবেন না। বাইরে বের হলে মানুষের ভিড় এড়িয়ে চলুন। ২)যারা করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে বিদেশ থেকে ফিরেছেন, তারা ১৪ দিন সম্পূর্ণ আলাদা থাকুন। ৩)ঘন ঘন সাবান-পানি দিয়ে হাত ধুতে হবে। হাঁচি-কাশি দিতে হলে রুমাল বা টিস্যু পেপার দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে নিন। ৪)যেখানে-সেখানে কফ-থুথু ফেলবেন না। করমর্দন বা কোলাকুলি থেকে বিরত থাকুন। মুসলমান ভাইয়েরা ঘরেই নামাজ আদায় করুন। অন্যান্য ধর্মাবলম্বীরাও ঘরে বসে প্রার্থনা করুন। পরিবার, পাড়া-প্রতিবেশী এবং দেশের মানুষের জীবন রক্ষার্থে এ সব পরামর্শ মেনে চলা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, নিরাপদ থাকুন। স্বাস্থ্যকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে। পিপিইসহ পর্যাপ্ত পরিমাণ সুরক্ষা সরঞ্জাম সংগ্রহ করা হয়। করোনাভাইরাস পরীক্ষার জন্য পর্যাপ্ত কিট মজুদ রয়েছে। ঢাকায় ৪টি স্থানে এবং চট্টগ্রামে করোনাভাইরাস পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। অন্য ৬টি বিভাগে করোনাভাইরাস পরীক্ষাগার স্থাপনের কাজ চলছে। কেউ গুজব ছড়াবেন না। গুজব রটনাকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।করোনাভাইরাসে ভীত হবেন না করোনাবাইরাস দ্রুত ছড়ানোর ক্ষমতা রাখলেও ততটা প্রাণঘাতী নয়। এই ভাইরাসে আক্রান্ত সিংহভাগ মানুষই কয়েকদিনের মধ্যে সুস্থ হয়ে উঠে। নানা রোগে আক্রান্ত এবং বয়স্ক মানুষদের জন্য এই ভাইরাস বেশ প্রাণ-সংহারী হয়ে উঠেছে। আপনার পরিবারের সংবেদনশীল মানুষটির প্রতি বেশি নজর দিন। আতঙ্কিত হবেন না। আতঙ্ক মানুষের যৌক্তিক চিন্তা-ভাবনার বিলোপ ঘটায়। আপনি, পরিবারের সদস্যগণ এবং প্রতিবেশীরা যেন সংক্রমিত না হন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকুন। আপনার সচেতনতা আপনাকে, আপনার পরিবারকে এবং সর্বোপরি দেশের মানুষকে সুরক্ষিত রাখবে। করোনাভাইরাসের কারণে শুধু বাংলাদেশ নয়, গোটা বিশ্ব এক সংকটময় সময় অতিক্রম করছে। এ সময়ে আমাদের সহনশীল এবং সংবেদনশীল হতে হবে। বাজারে কোনো পণ্যের ঘাটতি নেই। দেশের অভ্যন্তরে এবং বাইরের সঙ্গে সরবরাহ চেইন অটুট রয়েছে। অযৌক্তিকভাবে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করবেন না। যতটুকু না হলে নয়, তার অতিরিক্ত কোনো ভোগ্যপণ্য কিনবেন না। সীমিত আয়ের মানুষকে কেনার সুযোগ দিন। অসহায় মানুষের সহায়তায় বিত্তবানদের এগিয়ে আসার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।

করোনা রোধের সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে: প্রধানমন্ত্রী

আজ রোববার (২৯ মার্চ)করোনার সঙ্গে লড়াই করার সক্ষমতা বাংলাদেশের আছে এবং সংক্রমণ রোধে প্রয়োজনে অন্য দেশকেও সহায়তা করতে প্রস্তুত আছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আজ গণভবনে এ সব কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন,আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের খাদ্যে কোনো সমস্যা হবে না।আমরা আমাদের চালাতে পারব, পাশাপাশি আমরা অনেককে সহযোগিতা করতে পারব। তিনি জানান,আমাদের কাছে বন্ধুপ্রতীম দেশ, যারা সহযোগিতা চেয়েছে আমরা তাদের সহযোগিতা করতে পারব। সেই সক্ষমতা আমাদের আছে। মানবিক কারণেই আমরা সেটা করব। শুধু নিজের দেশই নয়, অন্যদেরও যদি কোনো কিছুর প্রয়োজন হয় আমরা সেদিকে বিশেষভাবে দৃষ্টি দেব। প্রধানমন্ত্রী আরোও বলেন,বাঙালি কখনো হারেনি, আমরা কখনো হারব না। এ আত্মবিশ্বাস সবাইকে রাখতে হবে। তিনি বলেন, নিজেকে একটু সুরক্ষিত রাখতে হবে, অন্যকেও সুরক্ষিত রাখতে হবে। অন্যদের প্রতিও আমাদের একটা দায়িত্ববোধ আছে। সেই দায়িত্ব বোধ নিয়ে চললে দ্রুতই আমরা এ অবস্থা থেকে উত্তরণ করতে পারব। দেশে এখন করোনা পরিস্থিতি ভালো অবস্থায় আছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন কোনো করোনা রোগী শনাক্ত হয়নি। গতকালও আমরা সেটা দেখেছি। এটা একটা ভালো লক্ষণ। এ অবস্থাটা আমাদের বজায় রাখতে হবে।

নগরীতে তিন দিনে ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা

চট্টগ্রাম নগরীতে তিন দিনে ১৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়। কারোও দেহে নভেল করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব মেলেনি। শনিবার বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকসাস ডিজিজ (বিআইটিআইডি) পরিচালক অধ্যাপক এম এ হাসান চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, “এর আগে আটজনের নমুনায় করোনার অস্তিত্ব মেলেনি। পরবর্তীতে করা আরও সাতজনের দেহের রক্তের নমুনার পরীক্ষায়ও ফল নেগেটিভ এসেছে।” বাংলাদেশে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় ঢাকায় আইইডিসিআরের বাইরে আরও যে স্থানে এখন সন্দেহভাজন কোভিড-১৯ রোগীর নমুনা পরীক্ষা হচ্ছে, তার মধ্যে চট্টগ্রামের বিআইটিআইডি একটি। অন্যদিকে চট্টগ্রামের হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা শনিবার কমে ৯৪৭ জনে নেমেছে বলে জানান জেলা সিভিল সার্জন সেখ ফজলে রাব্বী মিয়া।

চট্টগ্রাম নগরীতে নিম্ন আয়ের মানুষের মাঝে জেলা প্রশাসনের ত্রাণ বিতরণ

আজ রোববার (২৯ মার্চ)করোনাভাইরাসের প্রতিরোধে চট্টগ্রাম নগরীতে সৃষ্ট পরিস্থিতিতে অসহায়, দুস্থ ও নিম্ন আয়ের ২৮০টি পরিবারের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসন। আজ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এলাকার ২৪ নং মুহুরীপাড়া এলাকায় গিয়ে এসব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেন। জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট তৌহিদুল ইসলাম বলেন,২৮০টি পরিবারের মাঝে শুকনা খাবার বিতরণ করা হয়। এতে এর মধ্যে রয়েছেপরিবারপ্রতি ১০ কেজি চাল, ২ কেজি চিড়া, ১ কেজি ডাল, ১ কেজি লবণ, ১ কেজি চিনি, ১ লিটার সয়াবিন তেল ও আধা কেজি নুডুলস। এছাড়া ত্রাণ বিতরণ শেষে জেলা প্রশাসক নগরের খুলশী এলাকায় কোয়ারেন্টাইনে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশি ও বিদেশি নাগরিকদের খোঁজ খবর নেন। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম জেলায় বর্তমানে মোট ৯৪৭ জন কোয়ারেন্টাইনে আছেন। এর মধ্যে খুলশী এলালায় আনুমানিক ৭০ জনের মতো হোম কোয়ারেন্টাইনে রয়েছেন।

করোনা ভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ালে কঠিন ব্যবস্থা: আইজিপি

আজ রোববার (২৯ মার্চ) করোনাভাইরাস সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব রটালে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে হুঁশিয়ার করেন বাংলাদেশ পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারী। তিনি বলেন, বাংলাদেশ পুলিশ নিয়মিত ফেসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মনিটর করছে। ইতোমধ্যে করোনাভাইরাস নিয়ে গুজব ছড়ানোকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশ পুলিশকে ওভারসিস চায়নিজ অ্যাসোসিয়েশন ইন বাংলাদেশ (ওসিএআইবি) কর্তৃক করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সুরক্ষা সামগ্রী (পিপিই), মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, স্যানিটাইজার ইত্যাদি হস্তান্তর অনুষ্ঠান শেষে এ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তিনি।করোনাভাইরাস প্রতিরোধে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি প্রতিপালন করে ঘরে থাকার জন্য সকলের প্রতি আহ্বানও জানান আইজিপি। তিনি বলেন, বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে যাবেন না। অতি জরুরি প্রয়োজনে ঘরের বাইরে বের হতে হলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে। আইজিপি জানান,জনগণের সাথে পেশাদার, সহিষ্ণু ও মানবিক আচরণ করার জন্য পুলিশ সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।পুলিশ সদস্যদের করণীয়-বর্জনীয় সম্পর্কে নির্দেশনা তৈরি করা হয়েছে।করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে বাংলাদেশ পুলিশের প্রতিটি ইউনিট শুরু থেকেই একযোগে কাজ করছে। যে সকল পুলিশ সদস্য করোনাভাইরাসে মৃত ব্যক্তিদের জানাজা ও দাফনে অংশ নিচ্ছেন তাদের বিশেষ পিপিইসহ অন্যান্য সুরক্ষা উপকরণ সরবরাহ করা হয়েছে। করোনা রোধে সচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে দেশব্যাপী ব্যাপক প্রচার প্রচারণা চালাচ্ছে। এ কাজে মাইকিং করা হচ্ছে। প্রয়োজনে মসজিদের মাইকও ব্যবহার করা হচ্ছে। স্থানীয় ক্যাবল টিভির মাধ্যমেও প্রচারণা চালানো হচ্ছে। প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক ও অনলাইন মিডিয়ায় নিয়মিত জরুরি নির্দেশনা প্রচার করা হচ্ছে। তাছাড়া পুলিশ বিদেশ ফেরতদের তালিকা সংশ্লিষ্ট এসপিদের কাছে প্রেরণ করে নিয়মিত মনিটরের আওতায় নিয়ে এসেছে। বিদেশ ফেরতদের বাড়িগুলো চিহ্নিত করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে বাংলাদেশ পুলিশের সার্বিক কার্যক্রম মনিটর করার জন্য পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে সার্বক্ষণিক মনিটরিং সেল কাজ করছে। আইজিপি আশা প্রকাশ করে বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আমরা করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়ী হবো।

মানুষের পাশে দাঁড়ান, গুজবে কান দেবেন না :সেতুমন্ত্রী

আজ রবিবার (২৯ মার্চ) আমরা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সমাজের ধনী ও বিত্তবানদের আহ্বান জানাই— মানবিক বিপর্যয়ের এই দিনে আপনারা যার যার অবস্থান থেকে জনগণের পাশে দাঁড়ান, সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে বলে জানানক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ’র সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।’ আজ আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ আহ্বান জানান। সারাদেশের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন স্তরের মানুষ যারা জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন, তাদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এদেশের জনগণের সুখ-দুঃখ আবেগকে ধারণ করেই রাজনীতি করে। বৈশ্বিক এই সংকট মোকাবিলায় আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সার্বক্ষণিকভাবে সব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন। গ্রহণ করছেন স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কর্মসূচি। যতদিন এই সংকট থাকবে শেখ হাসিনার সরকার ও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা ততদিন জনগণের পাশে থাকবেন এবং সরকারের গৃহীত কার্যক্রম সারাদেশে অব্যাহত থাকবে।’ এ সময় সেতুমন্ত্রী জানান,করোনাভাইরাসের কারণে থমকে গেছে সব ধরনের স্বাভাবিক কার্যক্রম। তবে ইতিহাস মানবসভ্যতার অগ্রযাত্রা অবশ্যম্ভাবী। এই মানবিক বিপর্যয়ের মুখে করোনাভাইরাস প্রতিরোধে আওয়ামী লীগের সচেতনতামূলক ও সামাজিক কর্মসূচি সারাদেশে চলমান রয়েছে।স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সারাদেশে সাধারণ মানুষের মাঝে করোনা প্রতিরোধ সামগ্রী বিতরণ ও খেটে খাওয়া অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘কোনও দুর্যোগের কাছেই তারা পরাজিত হয়নি। আপনারা কোনও প্রকার গুজবে কান দেবেন না। মারাত্মক করোনা ভাইরাস সংক্রমণ প্রতিরোধে আমাদের ঐক্যবদ্ধভাবে সতর্ক থেকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।ধৈর্য ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে সরকার নির্দেশিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে হবে।’ এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মতিয়া চৌধুরী, দফতর সম্পাদক ব্যারিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকায় খোলা থাকবে হোটেল-বেকারি

রাজধানীতে অবস্থানরত নাগরিকরা করোনা সংকটের সময় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাফেরা করতে পারবেন। এছাড়া হোটেল ও খাবারের দোকানও খোলা থাকবে। এ সম্পর্কে কিছু নির্দেশনা ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জানিয়েছেন পুলিশ কমিশনার শফিকুল ইসলাম। মাঠপর্যায়ে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের পাঠানো এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়। পুলিশ কমিশনার বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে ঢাকায় একজন নাগরিক যেকোনো মাধ্যম ব্যবহার করে চলাফেরা করতে পারবেন। হোটেল ও বেকারিগুলো খোলা থাকবে। কারণ বহু মানুষের রান্নার ব্যবস্থা নেই। হোটেল ও বেকারি সচল রাখার জন্য যাঁরা সেখানে কাজ করেন, তাঁদের স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার সুযোগ দিতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রীর দোকান খোলা থাকবে, তাঁদের কর্মীদেরও কাজ করার সুযোগ দিতে হবে। ডিএমপি কমিশনার আরো বলেন, যেকোন অবস্থাতেই পুলিশ তার পেশাদারিত্ব বজায় রাখবে। দায়িত্ব পালনের সময় তারা সামাজিক দূরত্ব মেনে চলবে। কাজ করার সময় এমন বিষয়গুলো মাথায় রাখতে হবে। যেন কোন একটি ভুল কাজে পুরো ডিপার্টমেন্টের ওপর দুর্নাম না আসে।

সিলেটে নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ও জীবানুনাশক স্প্রে বিতরণ

বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে দিনব্যপী বিভিন্ন আবাসিক এলাকায় জীবানুনাশক স্প্রে কার্যক্রম পরিচালনা করে এম এম ইসপাহানী গ্রুপ এর জেরিন চাগান, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাব, সেতুবন্ধন হোয়াটসআপ গ্রুপ ও সবুজবাগ দূর্বার যুব সংঘ। এদিকে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় সরকারের পক্ষ থেকে ঘরবন্দি দরিদ্র মানুষকে দেয়া হয় চাল ডাল ও অনান্য নিত্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী। অন্যদিকে হোম কোয়ারেন্টাইনে থাকা মানুষেরা যেন ঘর থেকে বের না হন সেজন্য কড়া পাহারায় রয়েছে র‌্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্প এর অধিনায়ক এ এস পি আনোয়ার হোসেন শামীম। তারা গ্রামে গঞ্জে গিয়ে মাইকিং করে জনগনকে সচেতন করছেন। আর দোকানে দোকানে গিয়ে ৩ ফুট দুরত্বে থেকে জিনিশ ক্রয় করার জন্য সাদা রং দিয়ে ঘর করে দিচ্ছেন শ্রীমঙ্গল সহকারী কমিশনার ভুমি মাহমদুর রহমান মামুন। এ ছাড়াও স্থানীয় সংসদ সদস্য উপাধ্যক্ষ ড. মো. আব্দুস শহীদ এর পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকর্মীদের দেয়া মাস্ক। এ সকল কার্যক্রমে অংশ নেন মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক নাজিয়া শিরিন, শ্রীমঙ্গল উপজেলা চেয়ারম্যান রনধীর কুমার দেব, শ্রীমঙ্গল সহকারী কমিশনার ভুমি মাহমুদুর রহমান, জেরিন চা বাগানের ব্যবস্থাপক সেলিম রেজা, শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক বিকুল চক্রবর্তী। এ ছাড়াও আরো উপস্থিত ছিলেন সাংবাদিক কবি লুৎফুর রহমান, সুমন বৈদ্য, এসকে দাশ সুমন, বিক্রমজিৎ বর্ধন, রাজু দেব রিটন, সঞ্জয় কুমার দে , সব্যসাচি পুরকায়েস্থ মিথুন, জহিরুল ইসলাম সুহেল, সংস্কৃতিকর্মী বিজয় দেবনাথ, তনুজ পাল ও জীবন দেব।

হতাশার মাঝে আশা জাগিয়ে পাঁচ মিনিটেই করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট

করোনায় বিশ্ব পরিস্থিতি নাজুক। আতঙ্ক আর ভয়ের মধ্যে কাটছে মানুষের দিন। ঘর বন্দি মানুষের চোখে-মুখে শুধুই হতাশা। কিন্তু এরই মধ্যে কিছু মানুষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এই ভয়াবহ পরিস্থিতি পাল্টে দিয়ে মানুষকে স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে। যুক্তরাষ্ট্রের একটি পরীক্ষাগার এমন একটি বহনযোগ্য পরীক্ষা পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে, যার মাধ্যমে পাঁচ মিনিটেই করোনা পরীক্ষার রিপোর্ট পাওয়া সম্ভব। অ্যাবট ল্যাবরেটরিজ নামের ওই প্রতিষ্ঠান এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানিয়েছে বলে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে। সংস্থাটির দাবি অনুযায়ী, ছোটো টোস্টারের আকারের এই নতুন যন্ত্রটি মলিকিউলার টেকনোলজির সাহায্যে কাজ করবে। যন্ত্রটি আকারে ছোটো হওয়ায় সহজেই এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া যাবে। অ্যাবটের প্রেসিডেন্ট এবং প্রধান অপারেটিং অফিসার রবার্ট ফোর্ড বলেন, যন্ত্রটি ছোটো হওয়ায় এটি হাসপাতাল ভবনের মধ্যে রাখার প্রয়োজন হবে না। ভবনের বাইরে রেখেই কাজ করা যাবে। এফডিএ এখনো এই পদ্ধতির অনুমোদন দেয়নি। শুধু জরুরিভাবে ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কোভিড-১৯ কে শুরুতেই শনাক্ত করতে পারলে বিস্তার অনেকটা ঠেকানো সম্ভব হতে পারে। জার্মানি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোতে এই পরীক্ষা পদ্ধতি ভালো হওয়ায় বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায় ওই দুটি দেশে করোনা সংক্রমণের সংখ্যা ও মৃত্যু হারও কম। অন্যদিকে ভালো পরীক্ষা পদ্ধতির অভাবে এখন লাফিয়ে লাফিয়ে করোনা সংক্রমণ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালিতে। উল্লেখ্য, ভাইরাসিটতে বর্তমানে ভুগছেন বিশ্বের ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪০ মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে প্রাণ গেছে ৩০ হাজার ৮৭৯ জনের। একইসঙ্গে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ১৮৩। করোনার ভয়াবহতা রুখতে হিমশিম খাচ্ছে উন্নত থেকে শুরু করে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশসমূহ। বিশ্বখ্যাত পরিসংখ্যান বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৫২০ জন। যা এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু। অপরদিকে, প্রতি মিনিটে হু হু করে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও।

করোনায় মৃতের সংখ্যা ৩০ হাজার

বিশ্বব্যাপী বেড়েই চলেছে প্রাণঘাতি করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতের সারি। বিশ্বের দুইশতকেরও বেশি দেশে জনজীবন বিপর্যস্ত হওয়ার পাশাপাশি থমকে গেছে বিশ্ব অর্থনীতির চাকা। বর্তমানে ভুগছেন বিশ্বের ৬ লাখ ৬৩ হাজার ৭৪০ মানুষ। আক্রান্তদের মধ্যে প্রাণ গেছে ৩০ হাজার ৮৭৯ জনের। একইসঙ্গে সুস্থ হয়ে ঘরে ফেরার সংখ্যা ১ লাখ ৪২ হাজার ১৮৩। করোনার ভাইরাসের ভয়াবহতা হিমশিম খাচ্ছে উন্নত থেকে শুরু করে উন্নয়নশীল ও অনুন্নত দেশসমূহ। বিশ্বখ্যাত পরিসংখ্যান বিষয়ক ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডওমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় ভাইরাসটিতে প্রাণ হারিয়েছেন ৩ হাজার ৫২০ জন। যা এখন পর্যন্ত একদিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক মৃত্যু। গত বিশ্বজুড়ে একদিনে সংক্রমিত হয়েছেন সাড়ে ৬৬ হাজারেরও বেশি মানুষ। আক্রান্ত ও প্রাণহারাদের অধিকাংশই ইউরোপীয় ও আমেরিকান নাগরিক। চীনে প্রাদুর্ভাব ভাইরাসটিতে সবচেয়ে বেশি আক্রান্তের সংখ্যা যুক্তরাষ্ট্রে।দেশটিতে সংক্রমণের সংখ্যা লাখ ছাড়িয়ে যায়। এতে করে চীন ও ইতালিকেও অতিক্রম করে ট্রাম্পের দেশ। বর্তমানে সেখানে করোনা রোগীর সংখ্যা ১ লাখ ২৩ হাজার ৭৫০ জন। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষ। অপরদিকে,কোনো প্রতিষেধক না থাকায় দীর্ঘ হয়েই চলেছে লাশের সারি। গত ২৪ ঘণ্টায় একদিনে সর্বোচ্চ ৫৩১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এতে করে প্রাণহানির সংখ্যা ২ হাজার ২২৭ জনে দাঁড়িয়েছে। সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে নিউ ইয়র্ক অঙ্গরাজ্য। আগামী ৪ মাসে যুক্তরাষ্ট্রে ৮৫ হাজার মানুষ ভাইরাসটিতে প্রাণ হারাতে পারেন বলে মনে করছেন গবেষকরা।পরিস্থিতি মোকাবিলোয় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২ ট্রিলিয়ন ডলারের করোনা ভাইরাস রিলিফ বিলে স্বাক্ষর করেছেন। করোনা ভাইরাসের কারণে আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে উঠতেই মূলত এ বিল পাশ করা হয়েছে। একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যুর প্রাণহানির রেকর্ড নিয়ে তালিকায় সবার শীর্ষে ইউরোপের দেশ ইতালি। সেখানে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে গত ২৪ ঘণ্টায় দেশটিতে প্রাণ হারান ৮৮৯ জন। এ নিয়ে সেখানে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০ হাজার ২৩ জন। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৯২ হাজার। যুক্তরাষ্ট্র ও ইতালির ভয়াবহ সময় পার করছে ইউরোপের আরেক দেশ স্পেন। দেশটিতে করোনায় মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৯৮২ জনে, আক্রান্ত ৭৩ হাজারেরও বেশি। স্পেনে লকডাউনের মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দেয়া হয়েছে। লকডাউন চলছে ইতালিতেও। তবুও লাশের লাইন ছোট হচ্ছে না। লকডাউন চলছে ফ্রান্সেও। গত একদিনে সেখানে ৩১৯ জনের মৃত্যুর পর সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ হাজার ৩১৪ জনে। ইউরোপের আরেক কেন্দ্রবিন্দু যুক্তরাজ্যও। সেখানে জারি করা হয়েছে লকডাউন। তারপরও প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন থেকে শুরু করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দ্বিতীয় এলিজাবেথও করোনার প্রকোপ থেকে মুক্তি পাননি। এতে করে থমকে গেছে গোটা ব্রিটেন। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ২৬০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। এ নিয়ে দেশটিতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ১৯ জনে দাঁড়িয়েছে। যেখানে ৮ বাংলাদেশিও রয়েছেন। আক্রান্তের সংখ্যা ১৭ হাজার ছাড়িয়েছে। ব্যাপকভাবে বিস্তার ছড়ানো দেশগুলোর তালিকায় রয়েছে জার্মানির নামও। দেশটিতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে ৫৭ হাজারেরও বেশি। তবে আক্রান্ত অর্ধলক্ষের বেশি হলেও মৃত্যু হয়েছে ৪৩৩ জনের—যা ইউরোপের অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক কম।এ নিয়ে দেশটিতে করোনায় মৃত্যুর তালিকায় নাম উঠেছে ২ হাজার ৫১৭ জনের। আক্রান্ত প্রায় সাড়ে ৩৫ হাজার। এছাড়া ইউরোপের অন্যান্য দেশগুলোতেও শত শত মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে নেদারল্যান্ডসে ৬৩৯, বেলজিয়ামে ৩৫৩, সুইজারল্যান্ডে ২৬৪, সুইডেনে ১০৫, পর্তুগালে ১০০, অস্ট্রিয়ায় ৬৮, ডেনমার্কে ৬৫ এবং আয়ারল্যান্ডে ৩৬, রোমানিয়ায় ৩৭ এবং গ্রিসে ৩২ জনের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে করোনা।কানাডায় মৃত্যু হয়েছে ৬০ জনের এবং ব্রাজিলে সেই সংখ্যাটা ১১৪। দক্ষিণ কোরিয়ায় প্রকোপ শুরু হলেও দেশটি তা নিয়ন্ত্রণ করেছে ভালোভাবেই। তবে সেখানেও ১৫২ জন করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ায় ১০২ এবং জাপানে ৫২ জন করোনায় মারা গেছেন। ভারতে করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা হাজারের কাছাকাছি। মৃত্যুর সংখ্যা গিয়ে ঠেকেছে ২৪ জনে। দেশটি এখন ২১ দিনের লকডাউনে আছে। এছাড়া পাকিস্তানে আক্রান্তের প্রায় দেড় হাজার। আক্রান্তদের মধ্যে ১২ জন মারা গেছেন। ফিলিপাইনে করোনায় প্রাণ হারিয়েছেন ৬৮ জন; আক্রান্ত হাজারেরও বেশি। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত করোনা ভাইরাসে সংক্রমিত সংখ্যা ৪৮ জনে, যার মধ্যে মারা গেছেন ৫ জন। সংক্রমণ রোধে সারাদেশে সকল ধরনের যোগাযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে চীন থেকে আনা হয়েছে কিট। যা ইতিমধ্যে প্রয়োগ শুরু হয়েছে।

লাইভ টিভি

ওয়ার্ড পরিক্রমা

আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশিষ্ট বিদ্যুৎসাহী সমাজকর্মী, স্কাউট আন্দোলন এর কর্ণধার ও আলোর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা ও বসুন্ধরা শিশু কিশোর সংগঠন এর উপদেষ্টা আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা, প্রিয় স্যারের প্রতি আবু তাহের সর্দার স্মরণ সভা কমিটির উদ্যোগে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, বলেন আবু তাহের সর্দার সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকবেন। জন্মিলে মরিতে হবে এটি চিরন্তন সত্য। তবুও মানুষ তাঁর সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকতে পারে। সেজন্য যাঁরা কীর্তিমান তাঁরা তাঁদের সেবামুলক কাজের মাধ্যমে মানবসমাজে বেঁচে থাকেন বহু যুগ যুগ ধরে। তিনি বলেন, এ নশ্বর পৃথিবীতে সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ, কোনো মানুষই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে না। সেজন্য দেশ ও মানবকল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়ার মধ্য দিয়েই আবু তাহের সর্দার অমর হয়ে থাকবেন এ রাষ্ট্র সমাজে। এ জনসমাগম স্মরণ সভা থেকে তা বুঝ যায় তিনি কতবড় ত্যাগী মানুষ ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৬৩ বছর এ রাষ্ট্র সমাজের জন্য শ্রম দিয়েছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মুক্ত মনের বিস্ময় প্রতিভা মানুষ ছিলেন আবু তাহের সর্দার। বক্তরা বলেন, মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে লাঘব করতে আবু তাহের সর্দারের প্রচেষ্টা অতুলনীয়; সমাজের আলোক বর্তিকা হয়ে তিনি সমুজ্জ্বল। আবু তাহের সর্দারের কর্মজীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ বিনির্মানে তরুনদের এগিয়ে আসার শপথ নিতে হবে। অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসেম, বখতিয়ার উদ্দীন সহ মরহুমের শুভানুধ্যায়ীরা।

খেলা

তামিম-লিটনের রেকর্ড জুটিতে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে লিটন দাস ও তামিম ইকবালের বিশ্ব রেকর্ড গড়া জুটির ম্যাচে হোয়াইটওয়াশ জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট দল। তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে ৩-০ ব্যবধানে হেরে গেল জিম্বাবুয়ে।এর আগে একমাত্র টেস্টে ইনিংস ও ১০৬ রানের ব্যবধানে হেরে যায় সফরকারী জিম্বাবুয়ে। আগামী ৯ ও ১১ মার্চ মিরপুর শেরেবাংলায় টাইগারদের বিপক্ষে দুই ম্যাচ সিরিজের টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে অতিথিরা। হারলেই হোয়াইটওয়াশ। এমন সমীকরণের ম্যাচে টস জিতে বাংলাদেশকে প্রথমে ব্যাটিংয়ে আমন্ত্রণ করে জিম্বাবুয়ে। সিলেট আন্তজার্তিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে রীতিমতো তাণ্ডব চালান তামিম ইকবাল ও লিটন কুমার দাস। বিকাল চারটায় বৃষ্টি শুরু হওয়ার আগে ৩৩.২ ওভারে ১৮২ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়েন তামিম-লিটন। দুই ঘণ্টা বন্ধ থাকার পর ফের যখন খেলা শুরু হয় তখন ম্যাচ নির্ধারণ হয় ৪৩ ওভারে। ব্যাটিংয়ে ঝড় তোলেন লিটন দাস। বৃষ্টির আগে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি তুলে নেয়া লিটন ছাড়িয়ে যান দেশ সেরা ওপেনার তামিম ইকবালকে। সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে নিজের আগের গড়া ১৫৪ রানের ইনিংসের রেকর্ড ভেঙে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ১৫৮ রানের ইনিংস খেলেছিলেন তামিম। দুই দিনের ব্যবধানে তার সেই রেকর্ড ভেঙে দেন লিটন দাস। শুক্রবার ইনিংস শেষ হওয়ার ১৩ বল আগে একের পর এক বাউন্ডারি হাঁকাতে গিয়ে ক্যাচ তুলে দেন লিটন। সাজঘরে ফেরার আগে ১৪৩ বলে ১৬টি চার ও ৮টি ছক্কার সাহায্যে ১৭৬ রানের ইনিংস খেলেন লিটন। ওয়ানডেতে সর্বোচ্চ রানের এই ইনিংস খেলার পথে শুধু তামিম ইকবালকেই নয়, কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান ব্রায়ান লারা, রিকি পন্টিং ও কুমার সাঙ্গাকারার মতো তারকা ব্যাটসম্যানদের ছাড়িয়ে যান লিটন। লিটনের বিদায়ের আগেই ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ১৩তম এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ২৩তম সেঞ্চুরি করেন তামিম ইকবাল। ইনিংসের শুরুতে ওপেন করতে নেমে শেষ বল পর্যন্ত খেলে যান তামিম। আগের ম্যাচে ১৩৬ বলে ১৫৮ রান করা তামিম এদিন খেলেন ১০৯ বলে ৭টি চার ও ৮টি ছক্কায় ১২৮ রানের ইনিংস। লিটন-তামিমের জোড়া সেঞ্চুরিতে ৪৩ ওভারে ৩ উইকেটে ৩২২ রানের পাহাড় গড়ে বাংলাদেশ। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে সিকান্দার রাজার ৬১ আর ওয়েসলি মাধেভার ৪২ রানের ইনিংসে ভর করে ৩৭.৩ ওভারে ২১৮ রানে অলআউট হয়। ১২৩ রানের সহজ জয় পায় বাংলাদেশ।

সর্বশেষ সংবাদ