শীর্ষ সংবাদ

মিরসরাইয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

নূরনবি রাসেল মিরসরাই প্রতিনিধিঃআজ শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২ জন।আজ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মস্তাননগর ও বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কের ঘেড়ামারা ফরেস্ট অফিস এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। সূত্রে জানান,ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মস্তাননগর এলাকায় রাস্তা পার হওয়ার সময় দ্রুতগামী একটি গাড়ির ধাক্কায় পারভীন আক্তার (৪২) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন। পরভীন শাহেরখালী ইউনিয়নের মোল্লাপাড়া এলাকার শহীদ মেম্বারবাড়ির আবুল হাশেমের স্ত্রী। বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি সড়কে বালুবাহী পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় সিএনজিচালিত অটোরিক্সা যাত্রী নিহত হয়েছে। নিহত ব্যক্তির নাম আবদুল্লাহ আল নোমান (২৫)। তিনি ফটিকছড়ি উপজেলার বাগানবাজার ইউনিয়নের আবদুল করিমের ছেলে।এতে বারইয়ারহাট-খাগড়াছড়ি মহাসড়কে বালুবাহী পিকআপ সিএনজিচালিত অটোরিক্সাকে ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে এক যুবক নিহত হয়।ঘটনাস্থল থেকে নিহতের লাশ উদ্ধার করা হয়।

পটিয়ায় ১১টি বসতঘর পুড়ে ছাই

আজ শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) পটিয়া উপজেলার কুসুমপুরা ইউনিয়ের নুর আহমদ হাজির বাড়িতে অগ্নিকান্ড।বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হতে আগুন লেগে ১১টি বসতঘর পুড়ে গেছে। সূত্রে জানান,এতে অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে পটিয়া ফায়ার সার্ভিস দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রায় ১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে অগ্নিকান্ডকে নেভাতে সক্ষম হয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো হল- আবু আহমেদ, মনির আহমেদ, আব্দুল মান্নান, আব্দুল হান্নান, মো. ফোরকান, মো. সাহাবুদ্দিন, রবিউল হোসেন, আনোয়ার হোসেন, মোস্তাক আহমেদ, লোকমান, শাহ আজিজ, আব্দুল গনী ও মো. সেলিম। পটিয়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার জানান, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট হতে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে কি পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা তদন্ত সাপেক্ষে বলা যাবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সাথে কথা বলে জানা গেছে, তাদের কিছু অবশিষ্ট নেই। সব পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

ইসির নির্দেশনায় কাজ করবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

আজ শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) ঢাকার দুই সিটি নির্বাচনে ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাজ করবে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল । নির্বাচন ও পূজা একই দিন হওয়ায় সরকারের কিছু করার নেই বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, নির্বাচনের বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের। এখানে আমাদের কিছু করার নেই। তারা যেভাবে চাইবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেভাবে কাজ করবে। আজ রাজধানীর মধুবাগে শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান,নির্বাচন ও সরস্বতী পূজা একই দিন হলেও বিষয়টি নির্বাচন কমিশনের। এই সিদ্ধান্ত নেবে তারা।এতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হবে এমন কোনো কারণ নেই। আমরা মনে করি সবাই সবার গুরুত্বটা বোঝেন। নির্বাচন কমিশন যা বলবেন আমাদের আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সেই দিকে নজর রেখেই কাজ করবে। এর আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমরা যখন ২০০১ সালে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে ক্ষমতা হারিয়ে ফেলি, তারপর দেশের স্বাক্ষরতার হার একদম কমে যায়। ২০০৮ সালে ফের ক্ষমতায় ফিরে আসার পর এখন দেশের স্বাক্ষরতার হার ৭৩ ভাগে পৌঁছেছে। জোর গলায় বলতে পারি, দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে মানুষ তার সন্তানদের শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত করছেন না। কারণ প্রধানমন্ত্রী বছরের প্রথম দিন শিক্ষার্থীদের হাতে বিনামূল্যে বই পৌঁছে দেওয়ার ব্যবস্থা করেছেন। সব স্কুলে ইমারতসহ সবক্ষেত্রে সুন্দর ও উন্নত করা হয়েছে। এ কারণে আমরা সবস্তরে শিক্ষার সুফল পাচ্ছি। এছাড়া আমাদের জনগণ ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী অনেক দায়িত্ববান। কাজেই কোনো কিছুতে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয় এমন কোনো শঙ্কা নেই। নির্বাচন কমিশন আমাদের যে নির্দেশনা দিচ্ছে আমরা সেটাই করছি। এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনে যেসব ওয়াদা আমরা করেছিলাম একের পর এক তাতে সফল হচ্ছি। এই কারণে বাংলাদেশ আজ দুর্বার গতিতে এগিয়ে চলছে। শুধু শিক্ষার হার না, সবকিছুতে আমরা সফল থেকে সফলতর হচ্ছি। যা বলে শেষ করা যাবে না। সুবর্ণ জয়ন্তী উদযাপন কমিটির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার হাসানুজ্জামান টিপুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শের-ই-বাংলা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ ড. আব্দুস সাত্তার, প্রতিষ্ঠানটির গর্ভনিং বডির সভাপতি সুফি সুলতান আহমেদ প্রমুখ।

ইসি চাইলে ভোট পেছাতে পারে: সেতুমন্ত্রী

আজ শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি)নির্বাচন আগানো বা পেছানো ইসির এখতিয়ার বলে মন্তব্য করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডির রাজনৈতিক কার্যালয়ে সম্পাদক মন্ডলির মুলতবি বৈঠক শেষে এ কথা বলেন তিনি। সেতুমন্ত্রী জানান,নির্বাচন আগানো বা পেছানো ইসির এখতিয়ার। এ ব্যাপারে আমাদের সরকারের কোনো কিছু বলার বা করার ছিল না। এখানে সরকারকে দোষারোপ করা অযৌক্তিক।তিনি বলেন, হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব সরস্বতী পূজা। এ ধর্মীয় উৎসবের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের সঙ্গে ইসি আলাপ-আলোচনা করে একটা সমাধান করতে পারে। ইভিএম প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুলের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের জানান, সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতি নিয়ে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর যে মন্তব্য করেছেন তা বিভ্রান্তিকর। কারণ তিনি নিজেও ইভিএম পদ্ধতিতে এমপি নির্বাচিত হয়েছিলেন বগুড়া সদর আসন থেকে। সর্বশেষ ইভিএমে বগুড়া জেলার দুপচাঁচিয়া পৌরসভায় যে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে, তাতে বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে জয়লাভ করেছেন। এর চেয়ে প্রকৃষ্ট উদাহরণ আর কী হতে পারে?বিএনপি নেতারা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ দলের নেতাদের বিরুদ্ধে যেভাবে কথা বলছেন, অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করছেন, যখন যা খুশি তাই বলছেন, তার পরেও সরকার তাদের গ্রেফতার করেনি, মামলা করেনি, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি। কথা বলার বিষয়ে পৃথিবীর কোথাও এতো স্বাধীনতা নেই। তাহলে তাদের কণ্ঠরোধ করা হলো কীভাবে? হিউম্যান রাইটস ওয়াচ এ বিষয়ে যে মন্তব্য করেছে তা অযৌক্তিক এবং মন গড়া। নির্বাচনে কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে যারা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন তাদের উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের বলেন, অবিলম্বে তাদের প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হবে। অন্যথায় শৃঙ্খলা কমিটি তাদের চাপ প্রয়োগ করবে প্রার্থিতা প্রত্যাহারের বিষয়ে। সভায় অন্যা‌ন্যের ম‌ধ্যে আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হা‌নিফ, আ ফ ম বাহাউ‌দ্দিন না‌ছিম, সাংগঠ‌নিক সম্পাদক আহমদ হো‌সেন, অ্যাড‌ভো‌কেট আফজাল হো‌সেন, সাখাওয়াত হো‌সেন শ‌ফিক, কৃ‌ষি বিষয়ক সম্পাদক ফ‌রিদুন্নাহার লাইলী, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপ, সংস্কৃ‌তি সম্পাদক অসীম কুমার উ‌কিল, দফতর সম্পাদক ব্যা‌রিস্টার বিপ্লব বড়ুয়া, ‌বিজ্ঞান ও প্রযু‌ক্তি বিষয়ক সম্পাদক প্র‌কৌশলী আবদুস সবুর, ত্রাণ ও সমাজ কল্যাণ সম্পাদক সু‌জিত রায় নন্দী প্রমুখ উপ‌স্থিত ছি‌লেন।

পুঁজিবাজার উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ৬ নির্দেশনা

দেশের চলমান পুঁজিবাজারের ধস ঠেকাতে এবার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। এ লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিষয়টি দেখভাল করা হচ্ছে। বাজারের উন্নয়নে ইতিমধ্যে ৬টি পদক্ষেপ নেয়ার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) মাধ্যমে পদক্ষেপের কথা এ জানান। ওই বৈঠক থেকে পুঁজিবাজারের এই অবস্থার উত্তরণে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, সহজ শর্তে ঋণের ব্যবস্থাসহ এসব নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোও নতুন করে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাজার উন্নয়নে সর্বোচ্চ সক্রিয় ভূমিকা রাখবে মার্চেন্ট ব্যাংক। এছাড়া কারসাজির সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশনা এসেছে। সরকারি সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক সময়ে বাজারে বড় বিপর্যয় হয়েছে। এতে বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ারের দাম তলানিতে নেমে এসেছে। বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে উঠে আসায় সরকারের নির্ধারণী মহল থেকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। পুঁজিবাজারকে গতিশীল ও উন্নয়নের লক্ষ্যে স্বল্প ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে স্বল্পমেয়াদি কিছু পদক্ষেপ অচিরেই বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।এদিকে সরকারি এসব পদক্ষেপে ইতিবাচক প্রভাব পড়েছে বাজারে। দেশের দুই পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) এবং চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বৃহস্পতিবার মূল্যসূচক ও বাজারমূলধন বেড়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, সরকার প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করলে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে। ওইসব পদক্ষেপের মধ্যে রয়েছে- পুঁজিবাজারে ব্যাংক ও ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ বাড়ানো। মার্চেন্ট ব্যাংকার ও প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের জন্য সহজ শর্তে ঋণ সুবিধার ব্যবস্থা করার কথা বলা হয়। সরকারি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান আইসিবির বিনিয়োগ সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। নির্দেশনায় আরও রয়েছে, দেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা ও দেশীয় বাজারে আস্থা সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে উদ্যোগ গ্রহণ এবং বাজারে মানসম্পন্ন আইপিও বাড়াতে বহুজাতিক ও সরকারি মালিকানাধীন লাভজনক কোম্পানিকে তালিকাভুক্ত করা। এ বিষয়ে সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে যথাযথ ব্যবস্থা নেয়া হবে। এছাড়া পর্যায়ক্রমে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা চিহ্নিত করে সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ফিজির দিকে ধেয়ে আসছে দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়

ফিজি তিন সপ্তাহের কম সময়ের ব্যবধানে দ্বিতীয় ঘূর্ণিঝড়ের হুমকির মুখে থাকায় প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের এ দ্বীপ রাষ্ট্রে আজ বৃহস্পতিবার দুর্যোগ মোকাবেলা দলকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে। উত্তরাঞ্চলীয় রটুমা দ্বীপে প্রবল বাতাস ও প্রচন্ড বৃষ্টিপাতের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ফিজি আবহাওয়া সংস্থা জানান, ঘূর্ণিঝড়টি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ আঘাত হানতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, ঝড়টি শুক্রবার দ্বিতীয় বৃহত্তম দ্বীপ ভানুয়া লেভু অতিক্রম করতে পারে। জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের মাধ্যমে অবহিত হওয়ার পর এক বিবৃতিতে সরকার জানায়, ‘আমরা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। এতে ক্ষতির মুখে পড়া ফিজির প্রত্যেক নাগরিককে সহায়তায় আমরা প্রস্তুত রয়েছি।’ ‘ফিজিতে ঘূর্ণিঝড়ের সতর্কতা জারি করা হয়েছে। এতে প্রত্যেককে প্রস্তুত থাকতে বলা হয়েছে এবং নিজেদের এবং নিজের পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রত্যেককে সাবধান থাকতে বলা হয়ছে।’ উল্লেখ্য, বড়দিনের পরপরই ফিজিতে গ্রীষ্মমন্ডলীয় ঘূর্ণিঝড় সাড়াই আঘাত হানে। এতে দু’জনের প্রাণহানি ঘটে এবং আড়াই হাজারের বেশি লোক জরুরি আশ্রয় কেন্দ্রে অবস্থান নেয়।

বাণিজ্যে পোশাক খাতের জায়গা নেবে তথ্যপ্রযুক্তি: জয়

আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি উপদেষ্টা সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয় জানান, বাংলাদেশে খুব শিগগিরই রফতানি বাণিজ্যে তৈরি পোশাক খাতের জায়গা নেবে তথ্যপ্রযুক্তি। আজ সোয়া ১১টার দিকে রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে (বিআইসিসি) ৩ দিনের ডিজিটাল মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।জয় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধ শেখ মুজিবুর রহমানকে শ্রদ্ধা ভরে স্বরণ করেন। এরপর জয় বলেন, ১১ বছর আগে আমরা ডিজিটাল বাংলাদেশের অভিযান শুরু করি। বাংলাদেশে প্রযুক্তির উন্নয়নে প্রতিনিয়ত আমি নতুন জিনিস নিয়ে ভাবি। দেশে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হচ্ছে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা’। প্রযুক্তির মহাসড়কে ফাইভ-জির বিস্ময়কর প্রভাবের প্রদর্শনী দেশে এই প্রথমবারের মতো হচ্ছে। মেলার উদ্বোধন করেন সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়। এর আগে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, বাঙালি জাতির ইতিহাসের মহানায়ক জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের বছর ২০২০ সালে ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলার এই আয়োজন অত্যন্ত সময়োচিত কর্মসূচি। ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলার প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার প্রযুক্তির মহাসড়ক। ডিজিটাল সংযুক্তি হচ্ছে ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণের অন্যতম ভিত্তি। আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, মেলায় ১৩টি সেমিনার অনুষ্ঠিত হবে। সেমিনারে দেশি ও বিদেশি অভিজ্ঞ বক্তারা বর্তমানের প্রযুক্তি ও আগামী দিনে প্রযুক্তির গন্তব্য নিয়ে কথা বলবেন। ট্যালেন্ট গ্যাপ, ডিজিটাল অর্থনীতি, ডিজিটাল গ্রোথ, স্মার্ট সিটি, এসডিজির অ্যাচিভমেন্ট ইত্যাদি বিষয়ে বক্তারা কথা বলবেন। মেলার আয়োজক ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ। এ আয়োজনে সার্বিকভাবে সহযোগিতা করছে দেশে ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর সংগঠন আইএসপিএবি।

চট্টগ্রামকে বিদায় করে ফাইনালে রাজশাহী

আন্দ্রে রাসেলের ব্যাটিং তাণ্ডবে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে অবিশ্বাস্য জয়ে ফাইনালে উন্নিত রাজশাহী রয়েলস। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ২ উইকেটে হারিয়ে বিপিএল সপ্তম আসরের ফাইনাল নিশ্চিত করল রাজশাহী। আগামী ১৭ জানুয়ারি মিরপুর শেরেবাংলায় ফাইনাল ম্যাচে রাজশাহীর প্রতিপক্ষ খুলনা টাইগার্স। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ১৬৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৩৪ রানে আফিফ হোসেন, লিটন কুমার দাস ও অলক কাপালির উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় রাজশাহী। এরপর চতুর্থ উইকেটে শোয়েব মালিকের সঙ্গে ৪৬ রানের জুটি গড়েন ইরফান শুক্কর। ৩ উইকেটে ৮০ রান করা রাজশাহী। এরপর আবারও নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারায়। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্দ্রে রাসেল যখন ব্যাটিংয়ে নামেন তখন রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল ৪০ বলে ৮৩ রান। ব্যাটিংয়ে নেমে উইকেটে সেট হওয়ার আগেই দলকে জয় উপহার দিতে তাণ্ডব শুরু করেন। জয়ের জন্য শেষ ৩০ বলে রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল ৭৬ রান। ১৬তম ওভারে দুই ছক্কা আর এক চার হাঁকিয়ে রুবেল হোসেনের কাছ থেকে ১৯ রান আদায় করে নেন রাসেল ও মোহাম্মদ নওয়াজ। ঠিক পরের ওভারে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান নওয়াজ ছক্কা হাঁকিয়ে ওভার শুরু করলেও তৃতীয় বলে আউট হন। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ছক্কা হাঁকিয়ের পরের বলে আউট হন ফরহাদ রেজা। জয়ের জন্য শেষ ১৮ বলে রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল ৩৭ রান। চলতি বিপিএলে দুর্দান্ত বোলিং করা মেহেদী হাসান রানা ১৯তম ওভারে খরচ করেন ২৩ রান। তার বলে দুটি ছক্কা ও দুটি চার হাঁকান রাসেল। শেষ ৬ বলে জয়ের জন্য রাজশাহীর দরকার ছিল মাত্র ৮ রান। গুনারত্নে প্রথম দুই বলে কোনো রান দেননি। তৃতীয় বলে দেন ওয়াইড। ঠিক পরের বলে নো বল দেন আর সেই বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন আন্দ্রে রাসেল। দলের জয়ে মাত্র ২২ বলে ৭টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা আর দুই চারের সাহায্যে অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন আন্দ্রে রাসেল। এর আগে ক্রিস গেইলের ফিফটিতে ভর করে ৯ উইকেটে ১৬৪ রান করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন গেইল। বুধবার সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৩ ওভারে ২২ রানে ওপেনার জিয়াউর রহমানের উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন নিয়ে উদ্বোধনীতে খেলতে নামেন জিয়াউর রহমান। ক্রিস গেইলের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি জাতীয় দলে ‘সাবেক’ হয়ে যাওয়া দেশের এ তারকা অলরাউন্ডার। পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ ইরফানের করা বলটি জিয়ার ব্যাটে লেগে স্ট্যাম্পে আঘাত হানে। ১২ বলে ৬ রানে ফেরেন জিয়া। তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে গেইলের সঙ্গে ২৩ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল কায়েস। জিয়া-ইমরুল ফিরলেও ব্যাটিং তাণ্ডব অব্যাহত রাখেন গেইল। মাত্র ১৮ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় বিপিএল চলতি আসরের চতুর্থ ম্যাচে প্রথম ফিফটি তুলে নেন চট্টগ্রামের এ ক্যারিবীয় ওপেনার। তবে ফিফটির পর নিজের ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি গেইল। আফিফ হোসেনের করা ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকান গেইল। ঠিক পরের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বিভ্রান্ত হন। তার স্ট্যাম্প ভেঙে যায়। ২৪ বলে ৫টি ছক্কা আর ৬টি চারের সাহায্যে ৬০ রান করে ফেনের গেইল। ২ উইকেটে ৯৭ রান করা চট্টগ্রাম এরপর খেই হারিয়ে ফেলে। এরপর মাত্র ২৭ রানের ব্যবধানে গেইল-মাহমুদউল্লাহ-নুরুল হাসান সোহান এবং চাঁদউইক ওয়ালটনের উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে যায় চট্টগ্রাম। দলীয় ৯৭ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে গেইল আউট হওয়ার পর দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেননি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সাজঘরে ফেরার আগে মাত্র ১৭ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৩ রান করে ফেরেন রিয়াদ। শেষদিকে ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একাই প্রতিরোধ গড়েন চট্টগ্রামের শ্রীলংকান ক্রিকেটার অ্যাশলে গুনারত্নে। ইনিংস শেষ হওয়ার ৭ বল আগে সাজঘরে ফেরার আগে ২৫ বলে ৩১ রান করেন তিনি। ৯ উইকেটে ১৬৪ রানে থামে চট্টগ্রাম। রাজশাহীর হয়ে দুটি করে উইকেট নেন দলটির দুই পাকিস্তানি বোলার মোহাম্মদ ইরফান ও মোহাম্মদ নওয়াজ। সংক্ষিপ্ত স্কোর চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ২০ ওভারে ১৬৪/৯ (গেইল ৬০, মাহমুদউল্লাহ ৩৩, গুনারত্নে ৩১; নওয়াজ২/১৩, ইরফান ২/১৬/)। রাজশাহী রয়েল: ১৯.২ ওভারে ১৬৫/৮ (রাসেল ৫৪*, ইরফান শুক্কর ৪৫)। ফল: রাজশাহী রয়েলস ২ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: আন্দ্রে রাসেল (রাজশাহী রয়েলস)।

‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা ২০২০’ শুরু হচ্ছে আজ।

তথ্যপ্রযুক্তি ও টেলিযোগাযোগভিত্তিক প্রযুক্তি প্রদর্শনী ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা ২০২০’ শুরু হচ্ছে আজ। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আজ বৃহস্পতিবার শুরু হচ্ছে তিন দিনের এ মেলা। ডাক ও টেলিযোগযোগ বিভাগের আয়োজনে এ মেলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, আইওটি, রোবটিক্স, বিগডাটা, ব্লকচেইনের পাশাপাশি ফাইভজি প্রযুক্তি প্রদর্শিত হবে। এ বিষয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘ডিজিটাল প্রযুক্তি উদ্ভাবন, উপযোগী মানবসম্পদ সৃষ্টি, ডিজিটাল প্রযুক্তির আধুনিক সংস্করণের সঙ্গে জনগণের সেতুবন্ধ তৈরি এবং ডিজিটাল বাংলাদেশ কর্মসূচি বাস্তবায়ন অগ্রগতি তুলে ধরাই ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ মেলা’র মূল লক্ষ্য।’ তিনি আরও জানান, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের বছরে প্রথমবারের মতো এ মেলা আয়োজিত হচ্ছে। মেলার প্রতিপাদ্য ‘বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলার প্রযুক্তির মহাসড়ক’। প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয় মেলা উদ্বোধন করবেন। মোস্তাফা জব্বার বলেন, ‘বর্তমান সরকার ২০০৯ সালে দায়িত্ব গ্রহণকালে বাংলাদেশের টেলিডেনসিটি ছিল ৩০ শতাংশের মতো। মার্চ ২০১৯ পর্যন্ত এ হার ৯৮ দশমিক ৪৬ শতাংশে উন্নীত করা সম্ভব হয়েছে। ২০২০ সালের মধ্যে এ হার শতভাগে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। মেলায় ২৮টি প্যাভিলিয়ন, ২৯টি মিনি প্যাভিলিয়ন এবং ২৬টি স্টলে ডাক ও টেলিযোগাযোগ সম্পর্কিত সরকারি প্রতিষ্ঠান ছাড়াও ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতা, নেটওয়ার্কিং পণ্য নির্মাতা ও পরিবেশক, ‘মেইড ইন বাংলাদেশ’ ট্যাগযুক্ত স্মার্টফোন ও ল্যাপটপ নির্মাতা কোম্পানি, অনলাইন শিক্ষা ও চিকিৎসা সম্পর্কিত প্রতিষ্ঠান অংশ নিচ্ছে। মেলা উপলক্ষে রাজধানীর পাঁচটি রুটে শাটল বাস সার্ভিস চালু করেছে আয়োজকরা। রাজধানীর উত্তরা, মালিবাগ, মতিঝিল, আজিমপুর ও মিরপুর থেকে প্রতিদিন সকাল ১০টা ও দুপুর ১টায় বাসগুলো মেলার উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। মেলা শেষে দর্শনার্থীদের নিয়ে রাত ৮টায় বাসগুলো আবার নিজ নিজ রুটে ফিরে যাবে। সবার জন্য উন্মুক্ত মেলা প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে।

চসিক নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে (সিইসির )সভায় আহ্বান

চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি নিতে কমিশন সভায় আহ্বান করেছে। আগামী মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) সভাপতিত্বে তার সভাকক্ষে কমিশনের ৫৮তম সভা অনুষ্ঠিত হবে। ইসির উপসচিব (সংস্থাপন) মো. শাহেদুন্নবী চৌধুরী স্বাক্ষরিত সভার এক নোটিশে বলা হয়েছে। আলোচ্য সূচিতে রয়েছে গণপ্রতিনিধিত্ব আইন-২০২০ এর খসড়া বিল অনুমোদন, জাতীয় সংসদের গাইবান্ধা-৩, ঢাকা-১০ ও বাগেরহাট-৪ শূন্য আসনে উপনির্বাচন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের প্রস্তুতি, ভোটার তালিকা হালনাগাদ কর্মসূচি-২০১৯ এর খসড়া প্রকাশের তারিখ নির্ধারণ, সংশোধনকারী কর্তৃপক্ষ নিয়োগ, খসড়ার ওপর দাবি/আপত্তি গ্রহণ, নিষ্পত্তি, সন্নিবেশকরণ এবং চূড়ান্ত প্রকাশনার তারিখ নির্ধারণ

লাইভ টিভি

ওয়ার্ড পরিক্রমা

আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিশিষ্ট বিদ্যুৎসাহী সমাজকর্মী, স্কাউট আন্দোলন এর কর্ণধার ও আলোর কণ্ঠের প্রতিষ্ঠাতা ও বসুন্ধরা শিশু কিশোর সংগঠন এর উপদেষ্টা আবু তাহের সর্দারের ১ম মৃত্যুবার্ষিকী আজ বিনম্র শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা, প্রিয় স্যারের প্রতি আবু তাহের সর্দার স্মরণ সভা কমিটির উদ্যোগে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। কবি ও সাংবাদিক কামরুল হাসান বাদল, বলেন আবু তাহের সর্দার সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকবেন। জন্মিলে মরিতে হবে এটি চিরন্তন সত্য। তবুও মানুষ তাঁর সৎকর্মের মাধ্যমে চিরকাল স্বরণীয় হয়ে থাকতে পারে। সেজন্য যাঁরা কীর্তিমান তাঁরা তাঁদের সেবামুলক কাজের মাধ্যমে মানবসমাজে বেঁচে থাকেন বহু যুগ যুগ ধরে। তিনি বলেন, এ নশ্বর পৃথিবীতে সবই ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। অর্থাৎ, কোনো মানুষই পৃথিবীতে চিরকাল বেঁচে থাকতে পারে না। সেজন্য দেশ ও মানবকল্যাণে নিঃস্বার্থভাবে কাজ করে যাওয়ার মধ্য দিয়েই আবু তাহের সর্দার অমর হয়ে থাকবেন এ রাষ্ট্র সমাজে। এ জনসমাগম স্মরণ সভা থেকে তা বুঝ যায় তিনি কতবড় ত্যাগী মানুষ ছিলেন। তিনি দীর্ঘ ৬৩ বছর এ রাষ্ট্র সমাজের জন্য শ্রম দিয়েছেন। অসাম্প্রদায়িক চেতনার মুক্ত মনের বিস্ময় প্রতিভা মানুষ ছিলেন আবু তাহের সর্দার। বক্তরা বলেন, মানুষের দুঃখ-দুর্দশাকে লাঘব করতে আবু তাহের সর্দারের প্রচেষ্টা অতুলনীয়; সমাজের আলোক বর্তিকা হয়ে তিনি সমুজ্জ্বল। আবু তাহের সর্দারের কর্মজীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে সমাজ বিনির্মানে তরুনদের এগিয়ে আসার শপথ নিতে হবে। অন্যান্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন আবুল হাসেম, বখতিয়ার উদ্দীন সহ মরহুমের শুভানুধ্যায়ীরা।

খেলা

চট্টগ্রামকে বিদায় করে ফাইনালে রাজশাহী আন্দ্রে রাসেলের ব্যাটিং তাণ্ডবে শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচে অবিশ্বাস্য জয়ে ফাইনালে উন্নিত রাজশাহী রয়েলস। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সকে ২ উইকেটে হারিয়ে বিপিএল সপ্তম আসরের ফাইনাল নিশ্চিত করল রাজশাহী। আগামী ১৭ জানুয়ারি মিরপুর শেরেবাংলায় ফাইনাল ম্যাচে রাজশাহীর প্রতিপক্ষ খুলনা টাইগার্স। চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ১৬৫ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ৩৪ রানে আফিফ হোসেন, লিটন কুমার দাস ও অলক কাপালির উইকেট হারিয়ে বিপাকে পড়ে যায় রাজশাহী। এরপর চতুর্থ উইকেটে শোয়েব মালিকের সঙ্গে ৪৬ রানের জুটি গড়েন ইরফান শুক্কর। ৩ উইকেটে ৮০ রান করা রাজশাহী। এরপর আবারও নিয়মিত ব্যবধানে উইকেট হারায়। ষষ্ঠ ব্যাটসম্যান হিসেবে আন্দ্রে রাসেল যখন ব্যাটিংয়ে নামেন তখন রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল ৪০ বলে ৮৩ রান। ব্যাটিংয়ে নেমে উইকেটে সেট হওয়ার আগেই দলকে জয় উপহার দিতে তাণ্ডব শুরু করেন। জয়ের জন্য শেষ ৩০ বলে রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল ৭৬ রান। ১৬তম ওভারে দুই ছক্কা আর এক চার হাঁকিয়ে রুবেল হোসেনের কাছ থেকে ১৯ রান আদায় করে নেন রাসেল ও মোহাম্মদ নওয়াজ। ঠিক পরের ওভারে পাকিস্তানি ব্যাটসম্যান নওয়াজ ছক্কা হাঁকিয়ে ওভার শুরু করলেও তৃতীয় বলে আউট হন। এরপর ব্যাটিংয়ে নেমে ছক্কা হাঁকিয়ের পরের বলে আউট হন ফরহাদ রেজা। জয়ের জন্য শেষ ১৮ বলে রাজশাহীর প্রয়োজন ছিল ৩৭ রান। চলতি বিপিএলে দুর্দান্ত বোলিং করা মেহেদী হাসান রানা ১৯তম ওভারে খরচ করেন ২৩ রান। তার বলে দুটি ছক্কা ও দুটি চার হাঁকান রাসেল। শেষ ৬ বলে জয়ের জন্য রাজশাহীর দরকার ছিল মাত্র ৮ রান। গুনারত্নে প্রথম দুই বলে কোনো রান দেননি। তৃতীয় বলে দেন ওয়াইড। ঠিক পরের বলে নো বল দেন আর সেই বলেই ছক্কা হাঁকিয়ে দলের জয় নিশ্চিত করেন আন্দ্রে রাসেল। দলের জয়ে মাত্র ২২ বলে ৭টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কা আর দুই চারের সাহায্যে অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন আন্দ্রে রাসেল। এর আগে ক্রিস গেইলের ফিফটিতে ভর করে ৯ উইকেটে ১৬৪ রান করে চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৬০ রান করেন গেইল। বুধবার সন্ধ্যায় মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে দলীয় ৩ ওভারে ২২ রানে ওপেনার জিয়াউর রহমানের উইকেট হারায় চট্টগ্রাম। ব্যাটিং অর্ডারে প্রমোশন নিয়ে উদ্বোধনীতে খেলতে নামেন জিয়াউর রহমান। ক্রিস গেইলের সঙ্গে ওপেন করতে নেমে সুবিধা করতে পারেননি জাতীয় দলে ‘সাবেক’ হয়ে যাওয়া দেশের এ তারকা অলরাউন্ডার। পাকিস্তানি পেসার মোহাম্মদ ইরফানের করা বলটি জিয়ার ব্যাটে লেগে স্ট্যাম্পে আঘাত হানে। ১২ বলে ৬ রানে ফেরেন জিয়া। তিন নম্বর পজিশনে ব্যাটিংয়ে নেমে গেইলের সঙ্গে ২৩ রানের জুটি গড়ে সাজঘরে ফেরেন ইমরুল কায়েস। জিয়া-ইমরুল ফিরলেও ব্যাটিং তাণ্ডব অব্যাহত রাখেন গেইল। মাত্র ১৮ বলে ৫টি চার ও ৪টি ছক্কায় বিপিএল চলতি আসরের চতুর্থ ম্যাচে প্রথম ফিফটি তুলে নেন চট্টগ্রামের এ ক্যারিবীয় ওপেনার। তবে ফিফটির পর নিজের ইনিংসটা লম্বা করতে পারেননি গেইল। আফিফ হোসেনের করা ওভারের প্রথম বলে ছক্কা হাঁকান গেইল। ঠিক পরের বলে ছক্কা হাঁকাতে গিয়ে বিভ্রান্ত হন। তার স্ট্যাম্প ভেঙে যায়। ২৪ বলে ৫টি ছক্কা আর ৬টি চারের সাহায্যে ৬০ রান করে ফেনের গেইল। ২ উইকেটে ৯৭ রান করা চট্টগ্রাম এরপর খেই হারিয়ে ফেলে। এরপর মাত্র ২৭ রানের ব্যবধানে গেইল-মাহমুদউল্লাহ-নুরুল হাসান সোহান এবং চাঁদউইক ওয়ালটনের উইকেট হারিয়ে কোণঠাসা হয়ে যায় চট্টগ্রাম। দলীয় ৯৭ রানে তৃতীয় ব্যাটসম্যান হিসেবে গেইল আউট হওয়ার পর দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে পারেননি অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সাজঘরে ফেরার আগে মাত্র ১৭ বলে ৩ চার ও ৩ ছক্কায় ৩৩ রান করে ফেরেন রিয়াদ। শেষদিকে ব্যাটসম্যানদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একাই প্রতিরোধ গড়েন চট্টগ্রামের শ্রীলংকান ক্রিকেটার অ্যাশলে গুনারত্নে। ইনিংস শেষ হওয়ার ৭ বল আগে সাজঘরে ফেরার আগে ২৫ বলে ৩১ রান করেন তিনি। ৯ উইকেটে ১৬৪ রানে থামে চট্টগ্রাম। রাজশাহীর হয়ে দুটি করে উইকেট নেন দলটির দুই পাকিস্তানি বোলার মোহাম্মদ ইরফান ও মোহাম্মদ নওয়াজ। সংক্ষিপ্ত স্কোর চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্স: ২০ ওভারে ১৬৪/৯ (গেইল ৬০, মাহমুদউল্লাহ ৩৩, গুনারত্নে ৩১; নওয়াজ২/১৩, ইরফান ২/১৬/)। রাজশাহী রয়েল: ১৯.২ ওভারে ১৬৫/৮ (রাসেল ৫৪*, ইরফান শুক্কর ৪৫)। ফল: রাজশাহী রয়েলস ২ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: আন্দ্রে রাসেল (রাজশাহী রয়েলস)।

সর্বশেষ সংবাদ