১৫ বিশিষ্ট ব্যক্তিকে চসিকের একুশে সম্মাননা পদক

পোস্ট করা হয়েছে 22/02/2020-11:24am:    বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য নগরীর ১৫ গুণিজনকে মহান একুশে স্মারক সম্মাননা পদক ও সাহিত্য পুরস্কার-২০২০ প্রদান করে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক)। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আজ শুক্রবার এমএ আজিজ স্টেডিয়ামের সিজেকেএস জিমনেসিয়ামে মুজিব বর্যে বঙ্গবন্ধুকে নিবেদিত অমর একুশে বইমেলা-২০২০ চট্টগ্রাম মঞ্চে এচসিক মেয়র আলহাজ্ব আ জ ম নাছির উদ্দীন সম্মাাননা প্রাপ্তদের হাতে এ সম্মাননা পদক তুলে দেন। ভাষা আন্দোলনে আবু তালেব চৌধুরী (মরণোত্তর), শিক্ষায় অধ্যক্ষ এএফএম মোজাফফর আহমদ (মরণোত্তর), চিকিৎসাসেবায় প্রফেসর সৈয়দা নুরজাহান ভূঁইয়া (মরণোত্তর), স্বাধীনতা আন্দোলনে শহীদ হারুনুর রশীদ (মরণোত্তর), মুক্তিযুদ্ধে মোহাম্মদ হারিছ, সাংবাদিকতায় আখতার-উন-নবী (মরণোত্তর), সংগঠক প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন, সংগঠক বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, ক্রীড়ায় সিরাজ উদ্দিন মো. আলমগীর, সংগীতে ওস্তাদ স্বপন কুমার দাশ, সমাজসেবায় সন্ধানী চমেক ইউনিটকে একুশে সম্মাননা স্মারক এবং কথাসাহিত্যে (অনুবাদ) ড. মাহমুদ উল আলম, প্রবন্ধ গবেষণায় অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন, কবিতায় ওমর কায়সার ও শিশুসাহিত্যে আকতার হোসাইনকে সাহিত্য পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। মরণোত্তর সস্মাননা স্মারক প্রাপ্তদের পক্ষে তাদের প্রতিনিধি এবং মুক্তিযোদ্ধা হারিছ, প্রকৌশলী মো. দেলোয়ার হোসেন, বিএফইউজের সহ-সভাপতি রিয়াজ হায়দার চৌধুরী, সিরাজউদ্দিন মো. আলমগীর, ওস্তাদ স্বপন কুমার দাশ, ড.মাহমুদ উল আলম, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নুরুল আমিন, কবি ওমর কায়সার ও আকতার হোসাইন প্রমুখরা উপস্থিত থেকে সিটি মেয়রের হাত থেকে স্মামননা স্মারক ও পুরস্কার গ্রহন করেন। এই উপলক্ষে আয়োজিত সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন চসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সামসুদ্দোহা। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন চসিক প্যানেল মেয়র কাউন্সিলর চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, অমর একুশে বইমেলার আহ্বায়ক কাউন্সিলর নাজমুল হক ডিউক এবং চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি আলী আব্বাস। সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন চসিকের প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা সুমন বড়ুয়া। প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিটি মেয়র বলেন আমি এই শহরের আদিবাসি। আমার পিতা,দাদা এ শহওে জম্ম গ্রহন করেন। আমার জম্মও এ শহরে। সম্ভবত: ১১৮০ সালে আমার পূর্ব পুরুষেরা এ শহরে এসেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় আামি এই শহরের অনেক ভালো-মন্দের সাথে পরিচিত। বঙ্গবন্ধুর রাজনীতিতে অনুপ্রাণিত হয়ে স্কুলজীবনে ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে জড়িত হই। অনেক চড়াই -উতরাই পেরিয়ে আজকের এ অবস্থানে আসা। আমি এদেশের মাটি ও মানুষকে অন্তরে ধারণ করে রাজনীতি করি। আমৃত্যু এটি থাকবে। এ নগরবাসীর সঙ্গে ছিলাম, আছি এবং আগামীতেও থাকবো। এ নগরবাসীর কাছে আমি অনেক বেশি ঋণী। বেঁচে থাকলে, এ ঋণ শোধ করার চেষ্টায় থাকবে বলে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।সিটি মেয়র বলেন, আগামী ৪ আগস্ট মেয়র হিসেবে মেয়াদ শেষ হবে আমার। গত মেয়র নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আমাকে মেয়র পদে মনোনয়ন দিয়েছেন। জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। তাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যার প্রতি আমি চিরঋণি। তিনি বলেন এবার বইমেলায় গতবারের চেয়ে দ্বিগুণ স্টল হয়েছে। গতবারের ভুল ত্রুটি দূর করে এবারের বইমেলা সাজানো হেেয়ছে। আগামীতেও জিমনেশিয়ার প্রাঙ্গনে এই মেলা আয়োজনের কথা উল্লেখ করে সিটি মেয়র এব্যাপারে তার সর্বাত্মক সহযোগিতা থাকবে বলে উল্লেখ করেন। এক্ষেত্রে নতুন মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরও যেন ফেরুুয়ারিতে চট্টগ্রামে সম্মিলিত বইমেলার ধারাবাহিকতা থাকে সেব্যাপারে চসিক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানান সিটি মেয়র । তিনি বলেন, একুশ বাঙালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটিয়েছে। এটি চির অম্লান হয়ে থাকবে। এ ভাষা যত বেশি অন্তরে ধারণ করবো, লালন করবো আন্তর্জাতিক ভাবে ততবেশী গ্রহণযোগ্যতা, সম্মান ও মর্যাদা বাড়বে। নগরীর ঝুপড়ি দোকানে ইংরেজি সাইনবোর্ড , সামাজিক অনুষ্ঠানে ইংরেজীতে নিমন্ত্রণপত্র ছাপানোকে বিকৃত মানসিকতা বলে মন্তব্য করে মেয়র । কবি ওমর কায়সার বলেন, পঁচাত্তরের পনেরোই আগস্টের পর দেশের মানুষ ছিল স্তব্ব । কথা বলতে পারছিলো না। তখন কয়েকজন তরুণ চট্টগ্রামের রাজপথে জয় বাংলা সেøাগান দিয়েছিলেন। সেই শ্লোগান দাতাদের মধ্যে একজন হলেন মেয়র নাছির। চট্টগ্রামের মেয়র পদবীটা ছোট্ট একটি স্টেশন। এই ছোট্ট স্টেশনের গন্ডি পেরিয়ে মেয়র নাছির অনেক দূরে যাবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করেন। রিয়াজ হায়দার চৌধুরী বলেন, পদকের জন্য আমি নিজেকে যোগ্য মনে করি না। কম বয়সে আমাকে এ স্বীকৃতি দেওয়া হলো। আমি চসিকের কাছে কৃতজ্ঞ।

সর্বশেষ সংবাদ